অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

যশোরের অভয়নগর উপজেলার সুন্দলী এসটি স্কুল এন্ড কলেজে ২ মার্চ শনিবার অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতির ১১ তম বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয়েছে |

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু হয় । সকল শহীদদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি  অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ এর সভাপতিত্বে এবং সহকারি অধ্যাপক চিনময় কুমার বিশ্বাসের সঞ্চালনায়  সম্পাদকীয় পাঠ করেন কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক তাপস কুমার বিশ্বাস,বার্ষিক আয় ব্যয়ের প্রতিবেদন পেশ করেন ভবদহ ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মো: ইকবাল হোসেন,গঠনতন্ত্র পড়ে শোনান পল্লীমঙ্গল কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল বাশার ।

গঠনতন্ত্রের নিয়মাবলী সাধারণ সভায় অনুমোদন বা পাস হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সহকারি অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক সহকারি অধ্যাপক সেলিম হোসেন, হোসেন আলী, সুন্দলী কলেজের সভাপতি স্বপন সরকার, প্রয়াত সহকারি অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের স্ত্রী আঞ্জুমান আরা, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন,প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার বিশ্বাস ।

এছাড়া মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন নওয়াপাড়া মডেল কলেজের  অধ্যক্ষ মহিদুল ইসলাম খান,পায়রাহাট ইউনাইটেড কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম ইকবাল,শেখ আব্দুল ওহাব মডেল কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম,মহাকাল পাইলট স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো: ফাইসাল রশিদ,ভৈরব আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ পিযুষ হীরা এবং ধোপাদী এস এস কলেজের অধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম, সহকারি অধ্যাপক সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ইমাদ উদ্দিন, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি নজরুল ইসলাম প্রমূখ।

লাঞ্চের পূর্বে পল্লীমঙ্গল আদর্শ কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল বাশারকে সভাপতি, গাবখালি ইউনাইটেড কলেজের সহকারি অধ্যাপক সেলিম হোসেনকে সাধারণ সম্পাদক এবং পায়রাহাট কলেজের সহকারি অধ্যাপক মাসুম হোসেন কে কোষাধ্যক্ষ্ করে ১৪ সদস্যের ২০২৪ সালের কার্যকরী কমিটি গঠন করা হয়।

অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের কে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। আন্ত:কলেজ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় রানার্সআপ এবং চ্যাম্পিয়ন দলের কলেজ অধ্যক্ষের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।  অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতির  শিক্ষকদের ছবি ও বায়োডাটা সম্বলিত স্মরণিকা প্রত্যয়ের মোড়ক স্মরণিকা প্রস্তুত কমিটির আহবায়ক অধ্যক্ষ খায়রুল বাশারের নেতৃত্বে উন্মোচন করেন অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতির উপদেষ্টামন্ডলী অভয়নগর এর বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষবৃন্দ।

দুপুরে লাঞ্চের পর কবিতা আবৃতি গান এবং শিক্ষকদের মধ্যে রেফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।  পরিশেষে কমিটির সফল সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

রামপালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় ভোটার দিবস পালন

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

“সঠিক তথ্যে ভোটার হবো, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো” এই স্লোগানে রামপালে বর্ণাঢ্য আয়োজন জাতীয় ভোটার দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (০২ মার্চ) সকাল ১০ টায় রামপাল উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের করা হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর সভাপতিত্বে র্যালী শেষে পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো, আব্দুস সাত্তার, উপজেলা দুদক প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মো. আকবর আলী, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা, মো. ফোরকান বিল্লাহ প্রমুখ।

এ দিনে দিনব্যাপী নতুন করে ভোটার হওয়ার যোগ্য নাগরিকদের আবেদন গ্রহণ করা হয়। কি পদ্ধতিতে ভোটার হওয়া যাবে এবং কি কারণে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা হারাবেন সে বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ভোটার হতে জাতীয় পরিচয় পত্র বা নাগরিকত্বের সনদপত্র, যথাযথ কর্তৃপক্ষের ইস্যুকৃত ১৭ ডিজিটের অনলাইন জন্ম সনদ, সনাক্তকরারীর এনআইডি নম্বর, ইউটিলিটি বিল ও শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদপত্র প্রয়োজন হয়।

একাধিকবার একাধিক স্থানে ভোটার হওয়া দন্ডনীয় অপরাধ বলেও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা সভায় উপস্থিত সকলকে অবহিত করেন।

ডুমুরিয়ায় জাতীয় ভোটার দিবস পালিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ  প্রতিনিধি//

সঠিক তথ‍্যে  ভোটার হবো ‘ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলবো ‘ এবারে এ প্রতিপাদ‍্যকে সামনে রেখে ২রা মার্চ  শনিবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলা  নির্বাচন অফিসের আয়োজনে জাতীয় ভোটার দিবস পালিত হয়েছে।

সকাল ১০ টার উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে র‍্যালী বের হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন করে পরিষদের হলরুমে  এক  আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।   সহকারী নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রহিম সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব‍্য দেন উপজেলা   নির্বাহী অফিসার শেখ নুরুল আলম,আরো বক্তব‍্য দেন  উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম, ইন্সট্রাক্ট্রর মোঃ মনির হোসেন  প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর  আলম, সাধারন সম্পাদক শেখ মাহাতাব হোসেন, প্রকল্প বাস্তবায়ন দপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী রাসেল আহম্মেদ, নির্বাচন অফিসের ডাটা এন্টি অপারেটর  মাহবুর রহমান,সহ শিক্ষক ও গন মাধ‍্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘাস মারা বিষ শুধু ক্ষেত নয় এটা সর্বব্যপি সর্বনাশ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ফসলের মাঠ, রাস্তার ধারের জঙ্গল, খেতের বা পুকুরের আলে গজানো ঘাসগুলোকে মেরে ফেলতে চিন্তাভাবনা ছাড়াই ‘বিষ’ ব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যবহারের কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় দোকানদারেরা সাধারণ পণ্যের মতো পৌঁছে দিচ্ছেন পরিবেশঘাতী এই বিষাক্ত পদার্থ। ‘ঘাস মারা বিষ’ নিয়ে লিখেছেন গওহার নঈম ওয়ারা।

খুলনা–বাগেরহাট আসা–যাওয়ার পথে সুযোগ পেলে ভ্যাট্টেপাড়ায় (ভাটিয়াপাড়া) বিরতি নেওয়ার চেষ্টা করি। সেখানে এক প্রবীণ চা বিক্রেতা খুব আদর করে চা পরিবেশন করেন। চায়ের চেয়ে মন টানে তাঁর কথায়। কত খবর যে জমা থাকে তাঁর বুকে!! শুধু খেই ধরিয়ে দিলেই হলো। তিনিও জানতে চান, ‘কী ধান্দায় কোথায় মেলা করছি। কত দিনের সফর? ফেরার পথে রাত হবে কি না? তাড়া থাকলে একটা মিসড কল মাইরে দেবেন। সর (দুধের সর) উঠায়ে রাখব মালাই চা খাইয়ে যাবেন।’

এবার ফেরার পথে দেখি, সন্ধ্যার আগেই তাঁর দোকানের ঝাঁপ নামানো। খোঁজ নিতেই জানা গেল, তাদের গ্রামের একজন বিষ খেয়েছে, তাকে নিয়ে ছোটাছুটি চলছে। দোকান বন্ধ করে ছোটাছুটির দলের নেতৃত্ব দিতে গেছেন প্রবীণ চা বিক্রেতা। আমার মিসড কলের সূত্র ধরে রাত ১১টার দিকে ফোন করলেন প্রবীণ। তিনি তখনো রোগীর সঙ্গে মেডিকেলের পথে।

ফোনে তিনি জানালেন, ‘আমরা পদ্মা সেতুতে। মালা (ছদ্মনাম), পড়াশোনা না করে মোবাইল হাতড়াইতে ছিল। তাই বাবায় তারে বকা দেয়। আর তাতেই রাগ করে মালা ঘাস মারার বিষ গিলে ফেলে। মুমূর্ষু মালাকে নিয়ে এখন যমে মানুষের টানাটানি চলছে। অবস্থা কেরোসিন (আশঙ্কাজনক)। কচি বেডিডা বাঁচবে কি না কওয়া যাচ্ছে না।’

মুরব্বি প্রবীণ সাধারণত মুখ খারাপ করেন না। এবার করলেন, ধমকও দিলেন। তাঁর বোধে আসে না আমরা কী ‘ফ্যালাইতাছি’। আবার তাড়া দিলেন ‘ধান্দাবাজি’ না করে মানুষ ও মানুষের সমস্যা নিয়ে লেখার জন্য। তিনি প্রথম আলোর একজন গুণমুগ্ধ কিন্তু ছেড়ে কথা না বলা পাঠক।

প্রবীণের ধমক খেয়ে মনে পড়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেফ্রোলজি বিভাগের ডা. মো. সাদ্দাত হোসেনের কথা। একটি জাতীয় দৈনিকে গত ১০ জুন ২০২৩ প্রকাশিত এক লেখায় তিনি বলেছিলেন,‘আগেও খেতে পোকামাকড় মারার বিষ (ইনসেক্টিসাইড) খেয়ে মানুষ আত্মহত্যা করার চেষ্টা করত।

ঘাস মারা বিষ শুধু ক্ষেত নয় এটা সর্বব্যপি সর্বনাশ

বিশ্বাস করুন, যারা পোকামাকড় মারার বিষ খেয়ে আসত, তারা যদি কোনো হাসপাতালে পৌঁছাতে পারত, তবে তাদের শতকরা ৯৯ ভাগ রোগী ভালো হয়ে যেত। কিন্তু এই ঘাস মারার বিষ খেয়ে যারাই ভর্তি হচ্ছে, এটা এতটাই বিষাক্ত যে ওদের কাউকেই বাঁচানো সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি মানবদেহে এই বিষের প্রতিক্রিয়া ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘প্রথম দিকে এর প্রতিক্রিয়া তেমন অনুভূত হয় না। শুধু জিহ্বায় কিছু ঘা দেখা দেয়। এরপর আস্তে আস্তে অন্যান্য অঙ্গ বিকল হতে থাকে। প্রথমে কিডনি, তারপর লিভার, তারপর ফুসফুস। একপর্যায়ে এসে শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। শেষ মুহূর্তে লাইভ সাপোর্ট দেওয়া লাগে। লাইভ সাপোর্ট দেওয়ার পরও রোগীকে বাঁচানো যায় না। কারণ, ফুসফুস আক্রান্ত হয়ে ফাইব্রোসিস হয়ে যায়, যা আর কোনো চিকিৎসাই ভালো করা যায় না।’

শুধু মানুষ নয় গবাদি প্রাণীও বেঘোরে মারা যাচ্ছে

ঘাস মারা বিষের যথেচ্ছ ব্যবহারে গবাদি প্রাণীর মৃত্যু সংবাদের মর্যাদা হারিয়ে নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত বছরের (২০২৩) সেপ্টেম্বরে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের যুগীর ভিটা গ্রামে ছয়টি ছাগল ঘাস খেতে খেতে মারা যায়। কাউকে না জানিয়ে পুকুরের পাড়ে ঘাসে কীটনাশক ছিটিয়ে দিয়েছিলেন পুকুরের মালিক রিন্টু মিয়া। সেই ঘাস খেয়ে ছাগলগুলো মারা যায়। ঘাস খাওয়ার একপর্যায়ে ছাগলগুলো হঠাৎ নিস্তেজ হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন ছাগলগুলো বাড়িতে নিয়ে এলে চারটি ছাগল মারা যায়। আর দুটি ছাগল দ্রুত জবাই করা হয়।

এর আগে ঝিনাইদহের শৈলকূপার ভুলুন্দিয়া গ্রাম থেকে বিষাক্ত ঘাস খেয়ে গরু মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। শুধু ভুলুন্দিয়া গ্রাম নয়, দিন পনরোর ব্যবধানে পার্শ্ববর্তী কয়েক গ্রাম মিলে কমপক্ষে ১২টি গরু মারা যায়।

মানুষ ও গবাদি প্রাণীর অকাল মৃত্যুর চেয়ে এই ঘাস মারা বিষ প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্টের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নাম না–জানা এক তরুণ কৃষক সব দেখেশুনে ছড়া বেঁধেছেন—

ঘাস মারা বিষ,

পাখিরা দেয় না শিস।

মারা যায় মাটির সব পতঙ্গ, কীট

বেঁচে থাকার অনুষঙ্গ সকল জীব।

সারা দেশে কৃষিজমিতে আগাছানাশকের ব্যবহার বাড়ছে। জমি প্রস্তুত করার আগে আগাছা দমন করা জরুরি। ফসলের মাঠ, রাস্তার ধারের জঙ্গল, খেতের বা পুকুরের আলে গজানো ঘাসগুলোকে মেরে ফেলতে চিন্তাভাবনা ছাড়াই এটি ব্যবহার করছে। ফলে জমির উর্বরতা কমে যাচ্ছে।

আগে আগাছা দমন করে সেগুলো খেতের পাশে স্তূপ করে রাখা হতো। পরে চাষের সময় সেগুলো মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হতো। ফলে ফসলের জমির উর্বরতা ও অণুজীবের সংখ্যা বৃদ্ধি পেত। বর্তমানে আগাছা দমনে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সময় ও খরচ কমার সঙ্গে সঙ্গে মাটির ভৌত গুণাগুণ হ্রাস পাচ্ছে, আশঙ্কাজনক হারে কমে যাচ্ছে মাটিতে অণুজীবের সংখ্যা, যা মাটির স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

এসব কারণে মাটির উর্বরতা কমছে দিনের পর দিন। ফলে অনেক চেষ্টা করেও ফসলের কাঙ্ক্ষিত ফলন মিলছে না। মাঠে গবাদিপশুর জন্য কাঁচা ঘাস বিষের আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে গোচারণভূমি। যখন বিষ দেওয়া হচ্ছে, তখন পাখি, পোকামাকড় যা-ই এই বিষের ওপর বসুক না কেন বা খাবার গ্রহণ করুক না কেন, তারই মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে। নিস্তার নেই জলজ ও স্থলজ জীবন চক্রের ছোট–বড় পাখিজাতীয় প্রাণীর।

হাজারো কীটপতঙ্গ আছে, যারা উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকে আর সাপ, ব্যাঙ, শিয়াল, বনবিড়ালসহ আরও নানা রকম প্রাণী আবার এসব ছোট কীটপতঙ্গ খেয়ে বেঁচে থাকে। তাই ঘাস যদি হারিয়ে যায়, তাহলে এসব প্রাণীর সংখ্যাও দিন দিন হারিয়ে যাবে। কেঁচো, শামুকের মতো উপকারী অনেক প্রাণীর বেঁচে থাকার আশ্রয় ক্রমেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। মাটিতে এই বিষ অধিক মাত্রায় ব্যবহার করার ফলে যেসব পাখি নানা রকম ঘাসের বীজ খেয়ে ও লতা বা গুল্মের ফল খেয়ে জীবন ধারণ করে থাকে, তাদেরও খাদ্যের সংকট দেখা দিতে পারে।

আমাদের দেশীয় ও পরিযায়ী পাখি নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এই বিষক্রিয়ার ফলে। বন্য প্রাণীদের খাদ্যের সংকট দেখা দেওয়ার পাশাপাশি তাদের বাসস্থানের ক্ষেত্রেও সংকট দেখা দেবে। কারণ, এসব প্রাণী ছোট ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে বা ঝোপের নিচে গর্ত করে বসবাস করে। কিন্তু বিষ প্রয়োগের ফলে ঝোপের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে, যার ফলে বন্য প্রাণীও পড়ছে বাসস্থানের সংকটে।

হারিয়ে যাচ্ছে প্রাকৃতিক খাদ্যভান্ডার

দেশের অনেক মানুষ এখনো প্রকৃতিতে কুড়িয়ে পাওয়া শাক, নানা রকম সবজি শস্যদানা সংগ্রহ করে খাদ্য ও পুষ্টির চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। অনেকে, বিশেষ করে প্রান্তিক নারীরা এগুলো সংগ্রহ করে হাটবাজারে বিক্রি করেন। জীবিকার এটাও একটা পথ। কিন্তু এই বিষ ব্যবহারের ফলে সেসব পথ ক্রমেই রুদ্ধ হয়ে যাচ্ছে। প্রাকৃতিক এসব খাদ্যভান্ডার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজারো মানুষ। এতে দেখা দেবে পুষ্টির ঘাটতিও।

প্রকৃতিতে কুড়িয়ে পাওয়া খাদ্য শুধু মানুষের খাবার হিসেবে নয়, বরং এর নানান ঔষধিগুণের কারণে গ্রহণ করে থাকেন। কিন্তু রাস্তার ধারেই হোক বা পুকুরের পাড়েই—সব জায়গায় এখন বিষ ছিটানো হচ্ছে। ফলে ‘দুষ্প্রাপ্য’ হয়ে পড়ছে এসব নিখরচার অমূল্য খাদ্যসামগ্রী।

তারপরও এই বিষ কেন এত জনপ্রিয়

ফসলের জন্য জমি তৈরির আগে আগাছা দমন করা জরুরি। জমিতে ধান কাটার পরে প্রচুর পরিমাণে আগাছা জন্মায়। হাল আমলে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধি ও শ্রমিকের অভাবের কারণে কৃষকেরা আগাছানাশক ব্যবহারে ঝুঁকছে। এক বিঘা জমির আগাছা দমন করতে হলে এলাকাভেদে ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিক লাগে। সেখানে ১৮০ টাকার বিষ দিলেই আগাছা পুড়ে যাচ্ছে। সকালে বিষ দিলে বিকেলেই মরে যাচ্ছে আগাছা। ফলে কম খরচে আগাছা দমনের সুযোগ কেউ হাতছাড়া করতে রাজি নন।

কৃষক জানেন, আগাছা হাতে তুলে মাটিতে পুঁতে দিলে মাটির উর্বরতা বাড়ে, তবে তাতে খরচ বেশি। যেভাবেই হোক খরচ তাকে কমাতে হবে। সবকিছুর খরচ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জমির মালিকের আগাম বায়নার হার। আগে যে জমি এক সনের জন্য পাঁচ হাজার টাকা আগাম দিতে হতো, এখন সেখানে দিতে হয় ১৫ হাজার টাকা। উর্বরতার জন্য জমির ‘কান্না’ তাই এখন আর কৃষককে নাড়া দেয় না। কৃষক জানেন, ধানখেতে আগে যে রকম মাছ পাওয়া যেত, এখন আর পাওয়া যায় না। কমে গেছে ব্যাঙ প্রজাতি, হারাচ্ছে জলজ প্রাণীও।

জনপ্রিয়তার দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে এই বিষের দারুণ কার্যকারিতা। মানে এই বিষ ব্যবহার করলে সব ধরনের উদ্ভিদ খুব সহজে মারা যায়। এমনভাবে মারা যায় যে খুব দ্রুত এই মারা যাওয়া উদ্ভিদ গজাতেও পারে না। ঝোপজাতীয়, লতানো বা ছোট গাছ সব ধরনের উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সমানভাবে কার্যকরী এই বিষ। তাই ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ নিধনের জন্য আলাদা আলাদা কোনো ব্যবস্থা নিতে হয় না। এর ফলে কৃষকেরা এই বিষ ব্যবহারে আরও উৎসাহী হয়ে উঠছেন।

তৃতীয় কারণ হচ্ছে সহজলভ্যতা। এই বিষ খুবই সহজে পাওয়া যায় যেকোনো হাটবাজারে। ব্যবহারের কোনো বিধিনিষেধ না থাকায় দোকানদাররা মানুষের কাছে সাধারণ পণ্যের মতো পৌঁছে দিচ্ছেন পরিবেশঘাতী বিষাক্ত পদার্থ।

বিষ থেকে বাঁচার উপায় কী

শ্রীলঙ্কাসহ পৃথিবীর ৩১টি দেশে এটি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা সবাই সচেতন হয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মাধ্যমে এই ঘাস মারার বিষ ব্যবহার বন্ধ করে দিতে পারি। ঘাস মারার বিষ বেচাকেনা নিষিদ্ধ করলে সস্তায় আগাছা মারার পথ বন্ধ হবে, কিন্তু লাভটা হবে অনেক। সেই সঙ্গে বিকল্প পথে আগাছা নিরোধের সনাতন পদ্ধতিগুলো গবেষণার মাধ্যমে জনপ্রিয় করার ব্যবস্থা করতে হবে।

আগাছার প্রাকৃতিক শত্রু বিভিন্ন রোগ, পোকা অথবা অন্যান্য প্রাণীর মাধ্যমেও আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। দুধিকানি, বিছুটি, ঘেঁটু হলদের মতো ফসলের ক্ষতিকর আগাছাকে মোজাইক ভাইরাস জব্দ করতে পারে।

বিশেষ এক শ্রেণির স্পাইডার মাইট খেতের আগাছা উত্তম উপায়ে দমন করতে সক্ষম। বাজারেও বিভিন্ন রকমের জৈব আগাছা নিয়ন্ত্রণ আজকাল পাওয়া যাচ্ছে। সেগুলো ব্যবহার করেও সফলতার সঙ্গে আগাছা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

লাঙল, উইডার, কালটিভেটর ইত্যাদির মাধ্যমেও আগাছা নিয়ন্ত্রণ করা যায়। জৈব ও অজৈব দুই ধরনের উপাদান দিয়ে মালচিং করেও আগাছার প্রকোপ থেকে রেহাই পাওয়া যেতে পারে। জৈব উপাদান যেমন খড়, কচুরিপানা, শুকনা পাতা, তুষ, ভুসি ইত্যাদি ও অজৈব উপাদানের মধ্যে প্লাস্টিক ফিল্ম ও বিভিন্ন রঙের পলিথিন দিয়েও মালচিং করা হয়ে থাকে। বিষ থেকে দেশকে রক্ষাটা সবচেয়ে জরুরি।

গওহার নঈম ওয়ারা লেখক ও গবেষক

Daily World News

তীব্র লবনাক্ততার মধ্যেও রামপালে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

১৩৪ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেফতার মালয়েশিয়ায়

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেলেন পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ (বিপিএম)

তীব্র লবনাক্ততার মধ্যেও রামপালে বোরোর বাম্পার ফলনের আশা

 জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

তীব্র লবনাক্ততার মধ্যেও রামপালে চলতি বোরো চাষ মৌসুমে ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। ভালো আবহাওয়া, মাঝে মধ্যে বৃষ্টিপাত হওয়ায় ও সঠিক সময়ে আবাদ করায় এবং কৃষি দপ্তরের নজরদারি থাকায় আশানুরূপ ফলন হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগ।

রামপাল উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর চলতি বোরোধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমি। এরমধ্যে হাইব্রিড ৩ হাজার ৯১২ হেক্টর ও উফশী জাতের ৮৯০ হেক্টর জমি বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। গত ২০২২-২৩ অর্থ বছরে একই সময়ে আবাদ হয়েছিল ৪ হাজার ৬০০ হেক্টর জমিতে এবং ২০২১-২২ অর্থ বছরে আবাদের লক্ষমাত্রা অর্জিত হয়েছিল ৪ হাজার ৩৬০ হেক্টর জমিতে। এ বছর আরও ২০০ হেক্টর জমিতে বেশি আবাদ হয়েছে বলে কৃষি অফিস জানিয়েছে।

রামপালের ১০ টি ইউনিয়নের মধ্যে গৌরম্ভা ইউনিয়নে হাইব্রিড ৪৫০ ও উফশী জাতের ১০৯ হেক্টর, উজলকুড় ইউনিয়নে ২ হাজার ২৭০ হেক্টরে হাইব্রিড ও ৩৩২ হেক্টরে উফশী, বাইনতলা ইউনিয়নে ৭৩৩ হেক্টরে হাইব্রিড ও উফশী ২০৮ হেক্টর, রামপাল সদর ইউনিয়নে হাইব্রিড ৩১০ ও উফশী ১৯৬ হেক্টর, রাজনগর ইউনিয়নে ৬৫ হেক্টরে হাইব্রিড ও উফশী ১৮ হেক্টরে, হুড়কা ইউনিয়নে হাইব্রিড ২ হেক্টর ও উফশী ২ হেক্টরে, পেড়িখালী ইউনিয়নে হাইব্রিড ২ হেক্টর ও উফশী ১ হেক্টরে, ভোজপাতিয়া ইউনিয়নে হাইব্রিড ৮ হেক্টর ও উফশী ৩ হেক্টরে, মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নে ৬৫ হেক্টরে হাইব্রিড ও উফশী ১৫ হেক্টরে ও বাঁশতলী ইউনিয়নে হাইব্রিড ৭ হেক্টরে ও উফশী জাতের ৬ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

রামপাল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো.ওয়ালিউল ইসলাম জানান, রামপাল উপজেলা বাংলাদেশের একটি উপকূলীয় উপজেলা। জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে এবং এখানে অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষের কারণে মাটিতে লবনাক্ততার মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। মাটি ও পানির লবণাক্ততা, খার ও অম্লত্বের পরিমাণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জমির গুনাগুন দারুণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। যে কারণে কৃষকগণ কাঙ্ক্ষিত ফসল ফলাতে পারছেন না। সরকারিভাবে বিকল্প চাষ বৃদ্ধি ও লবণ সহিষ্ণু জাতের উন্নত জাতের ধান চাষ শুরু করার কারণে আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ছাড়াও কৃষিতে যান্ত্রিকীকরণ, কৃষকদের প্রশিক্ষণ, বীজ, সার বিনামূল্যে বিতরণ এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষকরা সুফল পাচ্ছেন। সরকার কৃষক ও কৃষিতে সুরক্ষা দিতে নানান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে মাটি ও পানির গুনাগুন পরীক্ষা করে জমিতে উর্বরতা বৃদ্ধির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম।

বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় মামলা, পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ

আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি:

বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রতবিচার আইনে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে বৃহস্পতিবার সকালে দ্রতবিচার আদালতে বরগুনা প্রেসক্লাবের পক্ষে এ অভিযোগ (মামলা নং ১৮/২৪) দায়ের করেন সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন হাওলাদার। অভিযোগ আমলে নিয়ে বরগুনা সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গণ্য করে পিবিআইকে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছে আদালত। বরগুনার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. শরিয়তউল্লাহ বৃহস্পতিবার সকালে এ আদেশ দেন।

মামলার বিবরণীতে সাধারণ সম্পাদক জাফর হোসেন হাওলাদার উল্লেক করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বরগুনায় অপসাংবাদিকতার মাধ্যমে চাদাবাজিসহ নানা অপকার্যকলাপ চালিয়ে আসছিলো। তাদের এসব অপকর্মকান্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় বরগুনা প্রেসক্লাবের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তারা বরগুনা প্রেসক্লাবে এ হামলা চালায়।

মামলার বিবরণীতে আরও জানা যায়,গত ১৯ ফেব্রæয়ারি বরগুনা প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সদস্য যখন শিক্ষা সফর উপলক্ষে কোলকাতা প্রেসক্লাবের সদস্যদের সাথে মতবিনিময় করছিলেন তখন পূর্বপরিকল্পিতভাবে ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি দল বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলা চালায়। এসময় তারা প্রেসক্লাব দখলে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবে পৌঁছালে প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি লেখক, সাংবাদিক ও আইনজীবী সোহেল হাফিজসহ ঘটনাস্থলে ছুটে আসা একাধিক সদস্য ও সহযোগী সদস্যকে লাঞ্ছিত করে হামলাকারীরা। বরগুনা সদর উপজেলার ১০ নং নলটোনা ইউনিয়ন পরিষদের একজন ইউপি সদস্য ও সাংবাদিক পরিচয়দানকারী মাসুদ তালুকদার, বরগুনা প্রেসক্লাব থেকে বারবার বহিস্কৃত সদস্য মুশফিকুল ইসলাম আরিফ এবং হারুন অর রশীদ রিঙ্কুর নেতৃত্বে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন, সগির হোসেন (৪০), শাজনুস শরীফ (২৫), আল আমিন (৩২), জাফরুল হাসান রুহান (৪০), রাকিবুল ইসলাম রাজন (২৮), মো. মিরাজ (৩৪), আনোয়ারুল ইসলাম (৫০), সানাউল্লাহ (৩০), জহিরুল ইসলাম (৩৮), জুয়েল মোল্লা (৩৬), রিমন (৩৮), জুলহাস (৪২), রিমন (৪০) এবং রাশেদ আহমেদ বশির (৪৯)।

এ বিষয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এটিএন বাংলা, এটিএন নিউজ ও দৈনিক জনকণ্ঠের বরগুনা প্রতিনিধি অ্যাড. গোলাম মোস্তফা কাদের বলেন, সারাদেশের প্রেক্ষাপটে যেসব প্রেসক্লাবগুলো স্বকীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক রীতি নীতির চর্চা করে আসছে তাদের মধ্যে বরগুনা প্রেসক্লাব অন্যতম প্রধান। শহরের প্রাণকেন্দ্রে বরগুনা প্রেসক্লাবের তিনতলা নিজস্ব ভবন রয়েছে। ভবনের দ্বিতীয় তলা বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। তৃতীয়তলায় বরগুনা প্রেসক্লাবের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। স্থানীয় উন্নয়নে সকল অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সূচণালগ্ন থেকে গুরুত্বপূর্ন ভ‚মিকা রেখে চলেছে বরগুনা প্রেসক্লাব। তিনি আরও বলেন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সদস্যভুক্তির ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান শর্ত আবেদনকারীকে ন্যুনতম স্নাতক বা সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে।

অ্যাড. গোলাম মোস্তফা কাদের আরও বলেন, বরগুনা প্রেসক্লাব থেকে সাংগঠনিক শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে বহিস্কৃত দু’জন সদস্যকে সাথে নিয়ে বরখাস্তকৃত একজন সদস্য মুশফিকুল ইসলাম আরিফ এবং মাসুদ তালুকদার নামের একজন বিতর্কিত ইউপি সদস্য বরগুনা প্রেসক্লাবের সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুন্ন করার অসৎ উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ হামলার ঘটনা ঘটায়। ঘটনার পরে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সরাসরি লাইভ দিয়ে এবং বিচ্ছিন্নভাবে বরগুনা প্রেসক্লাবের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে সাধারণ জনগনের মাঝে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে।

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও প্রবীণ সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন মনোয়ার বলেন, ‘বরগুনা প্রেসক্লাবের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর কখনই ঘটেনি। তিনি বলেন,পেছনের দরজা দিয়ে প্রবেশ করে কোন পেশিশক্তির মাধ্যমে বরগুনা প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়া যায় না। যারা এ প্রচেষ্টা চালিয়েছে তারা অন্যায় করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। আনোয়ার হোসেন মনোয়ার আরও বলেন,  বরগুনা প্রেসক্লাবের রয়েছে সুদীর্ঘ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য। কোন অপশক্তির কাছে বরগুনা প্রেসক্লাব মাথা নোয়াবে না।’

বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও খেলাঘর কেন্দ্রিয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য বিশিষ্ট লেখক, সাংবাদিক ও গবেষক চিত্ত রঞ্জন শীল বলেন, চর দখলের মত করে প্রেসক্লাব দখলের এ অপচেষ্টায় আমরা আহত, ব্যথিত। শিক্ষা সফর উপলক্ষে প্রেসক্লাবের অধিকাংশ সদস্য যখন ইন্ডিয়ায় অবস্থান করছিলো তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটায় হামলাকারীরা। খবর পেয়ে প্রেসক্লাব রক্ষায় ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন বরগুনা প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. সোহেল হাফিজ। এসময় তারা সোহেল হাফিজসহ অন্যান্য সদস্যদের উপরে চড়াও হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে সোহেল হাফিজসহ প্রেসক্লাব সদস্যদের উদ্ধার করে। তিনি আরও বলেন, পরিকল্পিতভাবে তারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনার পরে ফেসবুকে বরগুনা প্রেসক্লাব নিয়ে সুকৌশলে নানা আপপ্রচার চালিয়ে স্থানীয় জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে চাক্রান্তকারীরা। খবর

এদিকে বরগুনা প্রেসক্লাবে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বরগুনা জেলা আইনজীবী সমি সভাপতি ও সম্পাদকসহ স্থানীয় বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব, কুয়াকাটা প্রেসক্লাব,পটুয়াখালী প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পেলেন পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ (বিপিএম)

//আঃ রাজ্জাক শেখ//

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য চট্টগ্রাম জেলার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ্ (বিপিএম) কে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম) পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ পদক পরিয়ে দেন।  এছাড়া ২০২৩ সালে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার অভিযানে সারাদেশের মধ্যে ‘ক’ গ্রুপে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ প্রথম স্থান, অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযানে দ্বিতীয় স্থান এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সার্বিক কার্যক্রম মূল্যায়নে দ্বিতীয় স্থান অধিকারের গৌরব অর্জন করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ।

সম্মাননা দেওয়ার পরে পুলিশ সুপার এস এম শফিউল্লাহ (বিপিএম) বলেন, কর্মক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তার এ প্রাপ্তিতে কর্মউদ্দীপনা ও দায়িত্ববোধ আরো বাড়িয়ে দিবে। সবার দোয়া চাই, এই পুরস্কার যেন আরো ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রেরণা জোগায়।

এর আগে ঘুষ, দুর্নীতি মুক্ত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব পুলিশ উপহার দিয়ে খুলনা থেকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হয়েছিলেন এসএম শফিউল্লাহ (বিপিএম)। গাজীপুর ও খুলনা জেলায় দায়িত্ব পালন করার সময় জনবান্ধব পুলিশ গড়তে নানান পদক্ষেপ নেন তিনি। তার আগে খুলনা থাকাকালীন, পুলিশ সুপার এস.এম. শফিউল্লাহ সততা, নিষ্ঠা, ও সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ দমন, মাদক নির্মূল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি প্রতিরোধ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন ও সার্বিক আইন শৃংঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ‘‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা)’’ এ ভূষিত হন। এছাড়া গাজীপুর জেলায় দায়িত্ব পালন কালে ৮ বার ঢাকা রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ পুলিশ সুপার নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৭০ সালের ১৫ মার্চ গোপালগঞ্জ জেলার সদর থানার ঘড়ইগাতি গ্রামে জম্নগ্রহণ করেন পুলিশ সুপার এস.এম. শফিউল্লাহ (বিপিএম)। এস.এম. শফিউল্লাহ্ ২৪ তম বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে ২০০৫ সালের ০২ জুলাই এএসপি হিসেবে যোগদান করেন। তিনি এএসপি হিসেবে ১ম আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়ন, মহালছড়ি, খাগড়াছড়ি, ডিএমপি, ঢাকা, সিআইডি, ঢাকা যশোর জেলায় ক-সার্কেল, নারায়ণগঞ্জ জেলার বি-সার্কেলে দক্ষতার সাথে কর্তব্য পালন করেন। তিনি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ), খুলনা হিসেবে প্রায় ৬ বছর ও পুলিশ সুপার হিসাবে আড়াই বছর দায়িত্ব পালন করেন। এস.এম. শফিউল্লআহ্ (বিপিএম) দেশ-বিদেশে অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি ইতিপূর্বে অনন্য সাধারণ কৃতিত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ “আইজিপি গুড সার্ভিস ব্যাজ” অর্জন করেন তিনি। অপরাধের বিরুদ্ধে তাঁর অবিরাম সংগ্রাম।

অন্য দিকে চট্টগ্রাম জেলার পুনাকের সভানেএী মিসেস শারমিন আক্তার পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উপলক্ষে সারা দেশের মধ্যে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে।

ডুমুরিয়ায় উপজেলা দিবস উপলক্ষে সচেতনতা মূলক কৈশোর মেলা অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ  প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় জাগরনী ফাউন্ডেশন আয়োজনে উপজেলা দিবস উপলক্ষে ২৮ ফেব্রুয়ারি  বুধবার সকালে স্থানীয় যুব সংঘ মাঠে এক সচেতনতা মূলক কৈশোর মেলা ও আলোচনা সভা, সাংষ্কতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জাগরনী চক্রের ডুমুরিয়া শাখার ম‍্যানেজার মোঃ ইয়াছির আরাফাত হোসেনের সভাপতিত্বে আনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব‍্য দেন উপজেলা  মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রীনা রানী মজুমদার, বিশেষ অতিথির বক্তব‍্য দেন জাগরণী চক্রের এরিয়া ম‍্যানেজার মোঃ মিজানুর রহমান, জেসিএফ কৈশোর কর্মসূচীর দায়িত্বপাপ্ত কর্মকর্তা জোবায়ের আহম্মেদ, সম্মননা অতিথি শেখ জামিল আক্তার লেলিন, এ‍্যাড নজরুল ইসলাম, অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত  ছিলেন কৈশোর কর্মসূচি উপজেলা প্রেগ্রাম অফিসার তাছলিমা আক্তার, অমিত দাশ ,অনিতা ও মোছাঃ সাজেদা খাতুনসহ অভিভাবক বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষকগন উপস্থিত ছিলেন। ।

উপজেলার ১৪টা ইউনিয়নের কিশোর -কিশোরী ক্লাাবের সদস‍্যদের উপস্থিতে সকালে মিনি ম্যারাথুন,কৈশোর মেলা,নাচ,গান,ও ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া  বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান রাখার ব‍্যাক্তিত্বদের সম্মননা ও সাংস্কৃতিক এবং ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরন করা হয়। ডুমুরিয়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক,ও ক্রীড়া সংগঠক  শেখ জালির আক্তার লেলিন, সাংস্কৃতিক বিষয়ক শিল্পী এ্যাড মোঃ নজরুল ইসলাম বিশ্বাস ও  দৈনিক পূর্বাঞ্চলের ডুমুরিয়া প্রতিনিধি সাংবাদিক জাহিদুর রহমান বিপ্লব কে সম্মননা প্রদান করা হয়।

বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার যুদ্ধ করতে চাচ্ছে অনেক আগে থেকেই: র‌্যাব মহাপরিচালক

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

র‌্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘মিয়ানমার অনেক আগে থেকেই চাচ্ছে বাংলাদেশের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য, অনেক আগে থেকেই। রোহিঙ্গা ঢোকানো থেকে শুরু করে পায়ে পাড়া দিয়ে…। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ়চেতা মনোভাব ও প্রজ্ঞা; উনি কখনো যুদ্ধে জড়াবেন না। কারণ, আমি এখন যুদ্ধে জড়ানো মানে দেশটা শেষ হয়ে যাওয়া।’

আজ শনিবার দুপুরে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব প্রধান এই মন্তব্য করেছেন। কাশিয়ানীর এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজ মাঠে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

মিয়ানমার সরকারের যুদ্ধে জড়ানোর কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে র‌্যাব প্রধান এম খুরশীদ হোসেন বলেন, ‘মিয়ানমারে এখন সামরিক সরকার রয়েছে। তাঁরা এখন চাচ্ছে যে যুদ্ধ বাধাতে পারলে ও (মিয়ানমারের জান্তা সরকার) সেফ (বেঁচে যাবে) হবে। কারণ ওর দেশে যে অবস্থা তৈরি হয়েছে ওর দেশের আরাকান আর্মি ওর বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন জায়গা দখল করছে। সরকার (মিয়ানমারের জান্তা সরকার) বাঁচার জন্য উসকানি দিচ্ছে।’

মিয়ানমার এখন মাদক চোরাচালানের বড় রুট উল্লেখ করে র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, মাদক এখন মিয়ানমার থেকে বেশি আসছে। এটি পরিকল্পিতভাবে পাঠানো হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ। যেকোনো মূল্যে এ রুট বন্ধ করা হবে। মাদক হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ব্যবসা। রাতারাতি ধনী হওয়ার ব্যবসা। কারা এ ব্যবসা করেন, তা জনপ্রতিনিধিসহ সবাই জানে। কিন্তু সবাই সবকিছু জানলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করে না। কোনো একক বাহিনীর পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব না। মাদক নির্মূল করতে হলে সবাই মিলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

এম খুরশীদ হোসেন আরও বলেন, পরবর্তী প্রজন্মের কাছে যদি মাদক চলে যায়, তাহলে দেশ হুমকির মুখে পড়বে। ভারতীয় সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করা হলেও মিয়ানমার থেকে ইয়াবা, আইসসহ বিভিন্ন মাদক সমানে পাচার হচ্ছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘অল আউট অ্যাকশনে’ যেতে হবে। গডফাদার, কিশোর গ্যাং কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

খুরশীদ হোসেন বলেন, নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে শুধু বই-খাতা দিলে হবে না। এই বাস্তবতা কিন্তু এখন আর নেই। তাই বাচ্চাদের শৈশব থেকে শেখাতে হবে। নীতি-নৈতিকতা পরিবার থেকেই শিখতে হয়। শুরু থেকেই বাচ্চাদের গড়ে তুলতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজে পড়ে এসব শিখতে পারবে না। মূল নীতি–নৈতিকতা পরিবার থেকে শিখতে হবে, এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের মূল ভূমিকা রয়েছে ও এরপর শিক্ষকদের।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, আপনাদের মডেল হতে হবে। কারণ, পরিবারের পরেই আপনাদের স্থান। আপনাদেরই সঠিক শিক্ষা দিতে হবে। আর ছেলেমেয়েকে স্কুল–কলেজে পাঠিয়ে ঘরে বসে থাকলে হবে না। খবর রাখতে হবে মাদকের সহজলভ্যতা সন্তানটিকে শেষ করে দিচ্ছে কি না।

দেশে অভিজ্ঞ লোকের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে খুরশীদ আরও বলেন, এখনকার প্রত্যেকটি ক্যাডারে মধ্যে পেশাদারির খুব ঘাটতি রয়েছে। যেমন লেখাপড়ায় ঘাটতি রয়েছে, পেশাদারিতে ঘাটতি রয়েছে, শৃঙ্খলায় ঘাটতি রয়েছে। এটাকে পূরণের চেষ্টা এখন থেকেই করতে হবে। যাতে পরবর্তী প্রজন্ম অবাধ্য না হয়ে যায়।

এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত সংবধর্না অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব-৬–এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফিরোজ কবির। আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম, এম এ খালেক ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ কে এম মাহাবুব, ভাটিয়াপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক জাহিদুর রহমান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদার, পুলিশ সুপার (অপারেশন) কাজী মাহাবুবুল আলম প্রমুখ।

আলোচনা সভা শেষে ২০২৩ সালের কাশিয়ানী উপজেলার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১০৯ শিক্ষার্থীদের হাতে ক্রেস্ট ও জন প্রতি ১০ হাজার করে বৃত্তির টাকা তুলে দেন খুরশীদ হোসেন।

বরগুনার আমতলীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে ডাঃ রিয়াজ মৃধার উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

দিনব্যাপী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের পূর্ব চিলা গ্রামে তার পিতা মাতার নামে (প্রস্তাবিত) রফিক-নুরজাহান হসপিটাল তার নিজ বাড়ীতে আটজন ডাক্তার দ্বারা রোগীদের সেবা প্রদান করা হয়।

ফ্রী এ মেডিকেল ক্যাম্পে রোগীদের ডাক্তারের পরামর্শ, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, উচ্চ রক্তচাপ নির্ণয় ও ডায়াবেটিস নির্ণয় করা হয়। এতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসকের স্বাস্থ্যসেবা পান পূর্বচিলা, হলদিয়া. ধানখালী , আমতলী সদর ইউনিয়নের প্রায় একহাজার রোগী। উক্ত ক্যাম্পে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্র এলাকার লোকজনকে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পে অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডা. রিয়াজ মৃধা, চর্ম ও যৌন বিভাগের ডা. ফাইজুর রহমান, শিশু বিভাগের ডা.শোয়েব এইচ খান, স্ত্রী রোগ প্রসূতি ও গাইনী বিভাগের ডা. ডলি বিনতে হক, স্ত্রী রোগ প্রসূতি ও গাইনী বিভাগের ডা. লুনা বিনতে হক, মেডিসিন বিভাগের ডা. মাসুদ পারভেজ, চক্ষু বিভাগের ডা. এস এম শামসুল আরেফিন, বক্ষব্যাধি, হৃদরোগ, হরমোন মেডিসিন ও ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. ইশতিয়াক আহমেদ তালকদার সহ আগত বেশ কয়েকজন ডাক্তার প্রায় একহাজার রোগীদের সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অত্র এলাকার লোকজনকে ফ্রি চিকিৎসা প্রদান করেন।

ডাঃ মো.রিয়াজ মৃধা বলেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও আমার বাবা-মায়ের নামে প্রস্তাবিত হসপিটাল প্রাঙ্গণে এই ক্যাম্প করা হয়েছে। সকলে আমার পিতা মাতার জন্য দোয়া করবেন। এভাবে যেন মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারি।