প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের চিঠি

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তাতে তিনি বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থনের পাশাপাশি একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় ঢাকার সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস আজ রোববার সকালে পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের কাছে এই চিঠি হস্তান্তর করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো চিঠিতে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র–বাংলাদেশ অংশীদারত্বের পরবর্তী অধ্যায় শুরুর পর্বে আমি বলতে চাই, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও জ্বালানি, বৈশ্বিক স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা, বিশেষ করে রোহিঙ্গা শরণার্থীসহ আরও অনেক ইস্যুতে আমাদের প্রশাসন একসঙ্গে কাজ করার ঐকান্তিক ইচ্ছা আমি তুলে ধরছি।’

জো বাইডেন লিখেছেন, ‘সমস্যা সমাধানে একসঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে আমাদের দীর্ঘ ও সফল ইতিহাস রয়েছে। আর আমাদের এই সম্পর্কের ভিত্তি হচ্ছে দুই দেশের জনগণের শক্তিশালী সম্পর্ক।’

প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন তাঁর চিঠিতে বলেছেন, ‘বাংলাদেশের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে সমর্থন এবং একটি অবাধ ও মুক্ত ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন স্বপ্ন পূরণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

খুলনার তিন উপজেলার সাংবাদিকদের বেসিক জার্নালিজম ট্রেনিং ঢাকায় সম্পন্ন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা, খুলনা//

তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রণালয় অধীনে সাংবাদিকদের জন্য বেসিক জার্নালিজম ট্রেনিং (আবাসিক) গত ২৯ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত, ঢাকা প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এ ট্রেনিং এ অংশগ্রহণ করে খুলনা জেলার রূপসা, ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার কর্মরত ২৮ জন সাংবাদিক।

প্রশিক্ষণ সমাপনী ও সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- ভূমি মন্ত্রণালয় মন্ত্রী, নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (এমপি)। তিনি বলেন, সংবাদমাধ্যম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রর চতুর্থ স্তম্ভ বর্ণনা করে উপস্থিত সাংবাদিকদের দায়িত্বশীল কলম সৈনিক হিসেবে কাজ করার আহবান জানান।

খুলনার তিন উপজেলার সাংবাদিকদের বেসিক জার্নালিজম ট্রেনিং ঢাকায় সম্পন্ন

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। সমাজের অনিয়ম ও দুর্নীতি তুলে ধরে সমাজের ন‍্যায় প্রতিষ্ঠা করে। সাংবাদিকদের কাছ থেকে স্বচ্ছ- সংবাদ, সকলে আমরা আশা করি। সংবাদ মাধ্যম ছাড়া একদিনও দেশ চলতে পারে না। সাংবাদিকের মান সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে হবে। সাংবাদিকদের সুনাম রক্ষার্থে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার সাংবাদিক বান্ধব সরকার বলে মন্ত্রী এ সময় মতামত ব্যক্ত করেন। পরে মন্ত্রী সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সাংবাদিকদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন।

এ সময় সভাপ্রধান ছিলেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ। তিনি সভা প্রধানের বক্তব্যে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে সাংবাদিকদের গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রয়েছে। একারণে সরকার পিআইবি’র মাধ্যমে দেশের সকল সাংবাদিকদের বিষয় ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষ করে তুলছে। পিআইবি আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বেসিক জার্নালিজম ট্রেনিং (আবাসিক)’ সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে  তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক বান্ধব ব্যক্তিত্ব। এজন্য তিনি সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মাধ্যমে সাংবাদিকদের সহযোগিতা করছেন। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশিক্ষণের কোন বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণ হচ্ছে- বেশি ব্যবহারে ভোতা হওয়া অস্ত্রকে শান দেয়ার মতো। পিআইবি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের ঝিঁমুনি দূর করার চেষ্টা করছে- অভিজ্ঞতা শেয়ার করছে। পিআইবি ইতোমধ্যে ডেটা সাংবাদিকতার বিষয়ে কাজ শুরু করেছে, দ্রুতই তা মাঠ পর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া হবে।

বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিআইবি পরিচালক, (অধ্যয়ন ও প্রশিক্ষণ) (চলতি দায়িত্ব) শেখ মজলিশ ফুয়াদ।

প্রথম দিন ট্রেনিং এ প্রশিক্ষক ছিলেন- বিআইবি প্রশিক্ষক- পারভীন সুলতানা রাব্বী। জিটিভি, নির্বাহী প্রযোজক- মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন। বাংলাভিশন, সিনিয়র বার্তা সম্পাদক- রুহুল আমিন রুশদ।

দ্বিতীয় দিন ছিলেন- চ্যানেল আই, সিনিয়র নিউজ এডিটর- মীর মাশরুর জামান। পিআইবি প্রশিক্ষক- মোহাম্মদ শাহ আলম সৈকত।

সমাপনী দিন প্রশিক্ষক ছিলেন- বৈশাখী টেলিভিশন স্ট্রিংগার, নিউইয়কর্ টাইমস পরিকল্পনা পরামর্শক- জুলফিকার আলী মাণিক। পিআইবি সহকারী প্রশিক্ষক- জিলহাজ নিপুণ।

রূপসা থেকে প্রশিক্ষণার্থী সাংবাদিকরা ছিলেন ১৮জন। তাঁরা হলেন- দৈনিক বিশ্ব ও দৈনিক ফলাফল পত্রিকার ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি- এম মুরশীদ আলী। দৈনিক প্রবর্তন পত্রিকার ফ,ম আইয়ুব আলী। দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার ষ্টাফ রিপোর্টার এম এ আজিম। দৈনিক মুক্তির লড়াই পত্রিকার খুলনা প্রতিনিধি নাহিদ জামান। দৈনিক রাজপথের দাবী পত্রিকার আব্দুল মজিদ শেখ। দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার শাহরিয়ার মানিক। দৈনিক খুলনা পত্রিকার বি.এম শহিদুল ইসলাম। বৈশাখী টেলিভিশ এর খুলনা প্রতিনিধি সুদীপ দাস। ডেলি নিউজ টুডে পত্রিকার ইউশা মোল্লা। রূপসাঞ্চল পত্রিকার মুন্সি রায়হান। আমার প্রাণের বাংলাদেশ পত্রিকার নাজিম সরদার। ইবি-নিউজ এর মাসুম সরদার। নব বানী পত্রিকার মিলন মোল্লা। আশ্রয় প্রতিদিন পত্রিকার মো. আজিজুল ইসলাম। দৈনিক বাংলার দূত পত্রিকার জাহাঙ্গীর মোল্লা। দৈনিক গণতদন্ত পত্রিকার আ: মান্নান শেখ। দৈনিক আজকের সারাদেশ পত্রিকার জাফরিন মোড়ল প্রমূখ।

ফুলতলা থেকে ৫ জন। তারা হলেন- দৈনিক স্পন্দন পত্রিকার প্রতিনিধি- শিক্ষক তাপস কুমার বিশ্বাস। দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকার শেখ মনিরুজ্জামান। দৈনিক সময়ের খবর পত্রিকার মো. নেছার উদ্দিন। সমকাল পত্রিকার শামসুল আলম খোকন। দৈনিক ভোরের পাতা পত্রিকার আনন্দ কুমার প্রমূখ।

ডুমুরিয়া থেকে ৫ জন। তারা হলেন- দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার আব্দুল লতিফ মোড়ল। দৈনিক প্রবাহ পত্রিকার সুজিত মল্লিক। দৈনিক জন্মভূমি পত্রিকার এস রফিকুল ইসলাম। দৈনিক পূর্বাঞ্চল ও দৈনিক বিশ্ব পত্রিকার জাহিদুর রহমান বিপ্লব। দৈনিক মানব জমিন পত্রিকার সুমন ব্রক্ষ্ম প্রমূখ।

সাংবাদিক- বুদ্ধদেব হালদার জুয়েল ও প্রবাসী- আ: জব্বার শেখের সার্বিক তত্বাবধায়নে ঢাকায় বিআইবি প্রশিক্ষনে যায় এ সকল সাংবাদিকরা। তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও ধন্যবাদ জানান।

কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি নিয়াজ বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদের জেলা কমিটির আহ্বায়ক নির্বাচিত

//শুভঙ্ককর দাস বাচ্চু, কচুয়া বাগেরহাট প্রতিনিধি//

বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ এর বাগেরহাট জেলা কমিটিতে কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার নিয়াজ ইকবালকে আহ্বায়ক নির্বাচিত। শুক্রবার দুপুরে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মো.সোলায়মান মিয়া ও মহাসচিব মো.শফিকুল ইসলাম বাবু স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান মো.সোলায়মান মিয়া ও মহাসচিব মো.শফিকুল ইসলাম বাবু  ও বাগেরহাট জেলা কমিটির নব-নির্বাচিত আহবায়কসহ সকল সদস্যকে অভিনন্দন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, কচুয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সমির বরন পাইক,সাধারন সম্পাদক কাজী ছাইদুউজ্জামান সাইদ, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক শুভংকর দাস বাচ্চু, অর্থ সম্পাদক রথীন সাহা, নির্বাহী সদস্য তুষার রায় রনি, সুপার্থ কুমার মন্ডল, খান সুমন, প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডল, সদস্য নকীব মিজানুর রহমান, পার্থ চক্রবর্তী, মোঃ মঈনুল ইসলাম, মোঃ রুম্মান, আজমির আলম খান, ফরিদুর রহমান শামিম, শেখ সাইদ, শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

১৬ই ডিসেম্বর বাংলাদেশর বিজয় দিবস হলেও মিরপুর স্বাধীন হয় ৪৫ দিন পর… ৩১জানুয়ারী, কেন…?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের একেবারে শেষ দিকের ঘটনা এটি। বাংলাদেশর মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক এমএজি ওসমানী এবং একেএম শফিউল্লাহ একদিন দুপুরে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যান। সেখানে তখন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ব্যাটালিয়ন অবস্থান করছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন মইনুল হোসেন চৌধুরী।

তিনি পরবর্তীতে মেজর জেনারেল হিসেবে সামরিক বাহিনী থেকে অবসরগ্রহণ করেন এবং ২০০১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

প্রয়াত মেজর জেনারেল (অব.) মইনুল হোসেন চৌধুরী তার “এক জেনারেলের নীরব সাক্ষ্য: স্বাধীনতার প্রথম দশক” বইতে তিনি বর্ণনা করেন, “ওসমানী আমাকে বলেন, বিহারী, রাজাকার ও তাদের সহযোগীদের গ্রেফতারের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী মিরপুর ১২ নং সেকশনে যাবে। পাকিস্তান বাহিনীর সহযোগীদের একটা লিস্টও তারা তৈরি করেছে। তিনি পুলিশকে সৈন্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। “

জেনারেল ওসমানীর আদেশ পেয়ে, তৎকালীন ক্যাপ্টেন হেলাল মোর্শেদের (পরে মেজর জেনারেল এবং বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান) নেতৃত্বে সৈন্যদের মিরপুরে পাঠানো হয়।

ঢাকার বাসিন্দারা তখন বিজয়ের আনন্দে আত্মহারা হলেও শহরের উপকণ্ঠে মিরপুর তখনো ‘স্বাধীন’ হয়নি। বিষয়টি তখন এরকম ছিল যে মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই সেটিকে স্বাধীন বাংলাদেশে ‘এক টুকরো পাকিস্তান’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, বাংলাদেশ স্বাধীন হবার ৪৫ দিন পরে ঢাকার উপকণ্ঠে মিরপুর ‘শত্রু মুক্ত’ হয়েছিল তীব্র এক যুদ্ধের মধ্যে দিয়ে। বিহারীদের সাথে সে যুদ্ধে ৪৮জন সেনা সদস্য এবং ৫৩ জন পুলিশ সদস্য নিহত হয়।

মিরপুর মুক্ত হতে দেরি হলো কেন?

ঢাকার মিরপুর এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় বিহারী এবং উর্দুভাষী মানুষ বেশি বসবাস করতো। এদের মধ্যে মোহাম্মদপুর এলাকায় থাকতো উর্দুভাষীদের শিক্ষিত, বড় ব্যবসায়ী এবং চাকরিজীবী শ্রেণী। অপরদিকে মিরপুরে বসবাস করতো উর্দুভাষীদের মধ্যে যারা শ্রমিক শ্রেণীর।

ঢাকার মিরপুর এবং মোহাম্মদপুর ছাড়াও দেশের আরো কয়েকটি জায়গায় উর্দুভাষী জনগণের বসবাস ছিল। এর মধ্যে রয়েছে নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর, খুলনার খালিশপুর, চট্টগ্রামের হালিশহর ও পাহাড়তলি। ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে পাকিস্তানে আসা বিহারী মুসলমানদের জন্য মিরপুরের আবাসিক এলাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল।

মেজর জেনারেল (অব.) মুহাম্মদ ইব্রাহিম তার ‘সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে আটাশ বছর’ বইতে লিখেছেন, ” মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে উর্দুভাষী বিহারী মুসলমানরা বিনা দ্বিধাতেই পাকিস্তানকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয়। তাদের অনেক যুবক রাজাকার বাহিনীতে যোগ দেয়। বিশেষ করে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে পাক কর্তৃপক্ষ তাদের মধ্যে প্রচুর অস্ত্র বিতরণ করে।”

কিন্তু যুদ্ধ যতো শেষের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল বিহারীদের মাঝে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছিল। যুদ্ধ পরবর্তী ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত হয়ে উঠে বিহারীরা।

মিঃ ইব্রাহিম তাঁর বইতে উল্লেখ করেন, “তাদের উপর মুক্তি বাহিনীর পক্ষ থেকে যদি কোন আক্রমণ আসে তা থেকে বাঁচার জন্য নিজেদের সশস্ত্র ও সংগঠিত করে তোলে।”

প্রয়াত মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরীর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় বাঙালি ইপিআর, আর্মড পুলিশ এবং পুলিশ সদস্যরা পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণে নিহত কিংবা পালিয়ে যুদ্ধে যোগ দেবার কারণে প্রায় ২০ হাজার বিহারীকে অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে সিভিল আর্মড ফোর্স গঠন করা হয়।

এছাড়া ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানী বাহিনী আত্মসমর্পন করলেও বিহারীদের নিয়ে গঠিত সিভিল আর্মড ফোর্স আত্মসমর্পণ করেনি। উপরন্তু তারা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মিরপুরে আশ্রয় নেয়।

এছাড়া পাকিস্তানী বাহিনী যখন পিছু হটছিল তখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় বসবাসকারী বিহারীরা মিরপুর এবং মোহাম্মদপুর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছিল বলে উল্লেখ করেন জেনারেল মইনুল হোসেন।

স্বাভাবকিভাবেই মিরপুর হয়ে ওঠে বিহারীদের শক্ত ঘাটি।

১৬ ডিসেম্বর থেকেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় বাহিনী। ঢাকার মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকার দায়িত্বে ছিল ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিহার রেজিমেন্টের। তখন মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে ভারতীয় বাহিনীর ১০০০ সৈন্য ছিল, যারা ১০ বিহার রেজিমেন্ট হিসেবে পরিচিত ছিল।

ভারতীয় বিহার রেজিমেন্টের সৈনিকদের সাথে বিহারীদের ভাষা ও সংস্কৃতির মিল ছিল। এ দুটো জায়গায় ভারতীয় বাহিনীর অবস্থান থাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কিংবা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধারা এসব জায়গা নিয়ে মাথা ঘামায়নি।

১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেল পাঁচটা নাগাদ ঢাকা শহরে ঢোকেন মোখলেসুর রহমান। তখন তিনি ২য় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্য, যিনি পরবর্তীতে ওয়ারেন্ট অফিসার হিসেবে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পর বিভিন্ন জায়গায় মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অস্ত্র জমা নেয়া হচ্ছিল। কিন্তু টাঙ্গাইলে কাদের সিদ্দিকীর কাছ থেকে তখনো অস্ত্র জমা হয়নি। ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি অর্থাৎ বাংলাদেশ স্বাধীন হবার একমাস পরে কাদের সিদ্দিকীর কাছ থেকে অস্ত্র জমা নিয়ে পাঠানো হয় একটি দলকে।

“আমরা অর্ডার পাইলাম টাঙ্গাইল যাওয়ার জন্য। কাদের সিদ্দিকীর কাছে গেলাম। তখন কাদের সিদ্দিকী বললো, আমরা বঙ্গবন্ধু ছাড়া অন্য কারো কাছে অস্ত্র জমা দেবনা।

“তখন কাদের সিদ্দিকী বললেন যে মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরে বিহারীরা কোন অস্ত্র জমা দেয় নাই। সে অস্ত্র আপনার রিকভার করেন, তারপর আমাকে স্মরণ কইরেন “

মিঃ সিদ্দিকী এ কথা বলার পর সবার নজর গেল মিরপুর এবং মোহাম্মদপুরের দিকে। তখন বিষয়টা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানকে জানানো হলো।

মোখলেসুর রহমানের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২৪শে জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমান নির্দেশ দেন যে সেনাবাহিনী এবং পুলিশের সমন্বয়ে একটি দল গিয়ে মিরপুরে অস্ত্র জমা নেবে।

সে সময় সবাই ঈদ-উল-আযহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ২৬শে জানুয়ারি ঈদ থাকায় ২৭শে জানুয়ারি মিরপুরে যাবার সিদ্ধান্ত হয়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২৭শে জানুয়ারি বিকেলে দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এবং পুলিশ সদস্যরা মিরপুরের প্রবেশ মুখে অবস্থান নেয়। এরপর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেন দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট।

মিরপুরের যেসব জায়গায় ভারতীয় সৈন্যরা ছিল সেসব জায়গা পরিদর্শন করে ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা।

বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অণুরোধে ভারতীর সৈন্যরা সেখান থেকে সরে আসেন। তখন মিরপুরের দায়িত্ব নেয় দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট।

মোখলেসুর রহমান বলেন, “বিহার রেজিমেন্টকে ধোঁকা দিয়ে রাখছে বিহারীরা। যেহেতু একই ভাষার লোক। তাদেরকে ভুলায়া রাখছে।”

তিনি বলেন, মিরপুরের প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে আঁচ করতে পারেনি ভারতীয় সৈন্যরা।

“তারা (ভারতীয় বাহিনী) আমাদেরকেও ভুল ইনফরমেশন দিছে। আমরা যখন তাদেরকে জিজ্ঞাসা করি তখন তারা বলছে যে দুই-চারটা অস্ত্র থাকতে পারে, রাতে গোলাগুলির আওয়াজ হয় প্রতিদিনই। সেটা ব্যাপক নয়। আপনারা চাইলেই তারা অস্ত্র দিয়ে দেবে।”

জহির রায়হান ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সুপরিচিত চলচ্চিত্র পরিচালক। বাংলাদেশের বিজয় অর্জনের মাত্র দুইদিন আগে জহির রায়হানের ভাই সাংবাদিক শহিদুল্লাহ কায়সারকে ঢাকার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় আলবদর বাহিনী।

জহির রায়হানের বিশ্বাস ছিল তার ভাই শহিদুল্লাহ কায়সারের খোঁজ হয়তো মিরপুরে পাওয়া যাবে।

সেজন্য ১৬ই ডিসেম্বরের পরে জহির রায়হান মিরপুরে যেতে দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের শরণাপন্ন হন।

তখন সেখানে উপস্থিত হন চলচ্চিত্র পরিচালক জহির রায়হান। মোখলেসুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৭২ সালের ৩০শে জানুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা নাগাদ আরো তিনজন সহযোগী নিয়ে জহির রায়হান সেখানে উপস্থিত হন।

“জহির রায়হান আমাদের বললো যে শহিদুল্লাহ কায়সার মিরপুরে আছে। তাকে খুঁজতে আমরা আপনাদের সাথে যাব।

তখন দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের অবস্থান ছিল মিরপুরের প্রবেশদ্বার টেকনিক্যাল নামক জায়গায়। এটি কল্যাণপুর পার হয়ে মিরপুরে ঢোকার মুখে। দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের তরফ থেকে শুধু জহির রায়হানকে তাদের সাথে নিতে সম্মত হয়। বাকিদের ফেরত পাঠানো হয়।

তখন ঢাকার পুলিশ সুপার জিয়াউল হক লোদির গাড়িতে চড়েন জহির রায়হান। মিরপুর অভিযানে মিঃ লোদিও নিহত হন।

মোখলেসুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০শে জানুয়ারি বেলা ১১টার দিকে বিহারীরা যখন অতর্কিতে গুলি চালানো শুরু করে তখন গুলিতে জহির রায়হান নিহত হন।

মিঃ রহমান বিবিসি বাংলাকে বলেন, মিরপুর ১২নং পানির ট্যাংকের কাছে তিনি জহির রায়হানের গুলিবিদ্ধ দেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন। একই ভাষ্য পাওয়া যায় মিরপুর অভিযানের নেতৃত্বে থাকা মেজর জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী বই থেকে।

তিনি লিখেছেন, “প্রাথমিক তদন্তের সময় সাড়ে ১১ নং সেকশনে মোতায়েন সৈন্যদের কয়েকজন জানান, সকাল সাড়ে নয়টা থেকে দশটার দিকে তাঁরা হালকা-পাতলা গড়নের একজন বেসামরিক লোককে সাড়ে ১১ এবং ১২ নং সেকশনের মাঝামাঝি রাস্তায় হাঁটতে দেখেন জহির রায়হানের ছবি দেখার পর সৈন্যদের কয়েকজন ওই রকম গড়নের একজনকে সেখানে দেখেন বলেও জানান।”

জেনারেল মইনুল হোসেন চৌধুরী ভাষ্যমতে, বিহারীদের অতর্কিত আক্রমণে জহির রায়হানও নিহত হন। তবে ঠিক কোন জায়গায় নিহত হয়েছেন সেটি কখন কেউ বলতে পারেনি বলে তিনি লিখেছেন।

জেনারেল চৌধুরীর ভাষ্যে বলা হয়, নিহত ৪২ জন সেনা সদস্যদের মধ্যে তিন-চারজনের মৃতদেহ পাওয়া যায়। জহির রায়হানসহ বাকি কারো মৃতদেহ পাওয়া যায়নি। ৩০শে জানুয়ারি রাতেই সম্ভবত বিহারীরা সেগুলো সরিয়ে ফেলে।

দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট যখন মিরপুর অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল তখনো তারা ধারণা করতে পারেননি যে তাদের সামনে কতটা কঠিন প্রতিরোধ অপেক্ষা করছে। সকাল সাতটায় সেনাবাহিনী এবং পুলিশ অভিযান শুরুর প্রস্তুতি নেয়।

পুলিশ এবং সেনা সদস্যরা মিরপুর ১২ নম্বর পানির ট্যাংক এলাকায় অবস্থান নেন। সে অভিযানে অংশ নেয় দ্বিতীয় ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ৮৬ জন সৈন্য এবং ৬৩ জন পুলিশ সদস্য।

সে অভিযানে অংশ নেয়া সেনা সদস্য মোখলেসুর রহমান বলেন, “আমরা ওখানে গিয়ে পজিশন নিলাম। পুলিশ মাইকিং করে বললো,যাদের কাছে অস্ত্র আছে জমা দাও।”

বিহারী এলাকা নিরস্ত্র করার জন্য অভিযান হতে পারে, এমন আশংকার কারণে সেখানকার প্রতিটি ঘরের দেয়ালে ছিদ্র করে অস্ত্র তাক করে রাখে বিহারীরা।

বেলা এগারোটার দিকে আকস্মিকভাবে একযোগে গুলি আসতে থাকে বিহারীদের বাড়ি থেকে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে যায় সেনা এবং পুলিশ সদস্যরা।

কিছুক্ষণের মধ্যেই সেনা এবং পুলিশ সদস্যদের যোগাযোগের জন্য ওয়্যারল্যাস সিস্টেম ধ্বংস করে ফেলে বিহারীরা। “আমাদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং আমাদের কমান্ড লেবেলের বেশিরভাগ আহত নিহত হয়ে গেলেন।”

সেনা এবং পুলিশ সদস্যদের উপর বিহারীরা এমনভাবে চাড়াও হলো যে পরিস্থিতি মোকাবেলা তাদের জন্য কঠিন হয়ে গেল। ৩০ শে জানুয়ারি বেলা এগারোটা থেকে শুরু করে ৩১শে জানুয়ারি সকাল ১০টা পর্যন্ত একটানা গোলাগুলি চলে। এসময় তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে বিহারীরা। সন্ধ্যার পর থেকে শক্তি বৃদ্ধি করে সেনাবাহিনী। এসময় তারা মর্টার ও আর্টিলারি ব্যবহার করে বলে জানান মোখলেসুর রহমান।

মোখলেসুর রহমান বলেন, “৩১ তারিখ একটা ভয়াবহ যুদ্ধ হইছে যেটা অকল্পনীয়। নয় মাসের যুদ্ধে এটা আমরা কখনো ফেস করি নাই কোথাও।” তীব্র যুদ্ধের পর ৩১শে জানুয়ারি সকাল সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে আত্মসমর্পন করে বিহারীরা। সেদিন ১১ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধার করা হয় বিহারী অধ্যুষিত এলাকা থেকে। সূত্র: বিবিসি

সেতু নির্মাণে স্পেন প্রতিনিধি দলের সাথে সালাম মূর্শেদী এমপির বৈঠক

 //আ: রাজ্জাক শেখ,খুলনা ব‍্যুরো//

খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নের আড়ুয়া ফেরিঘাটে আতাই নদীর উপর সেতু নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে আজ সোমবার (২৯ জানুয়ারি) খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর সাথে ঢাকার এনভয় টাওয়ারে সাক্ষাৎ করেন স্পেন দূতাবাসের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক অফিসের প্রধান কর্মকর্তা এস্তের পেরেস তায়োসেস, ‘স্পেনের সেনচুনিয়ন এস এ’ কোম্পানির বিজনেস ডেভেলপমেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ড আলেজান্দ্রো ভিদাউরেটা, প্রজেক্ট ম্যানেজার রদ্রিগো ফার্নান্দেজ এবং কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টটেটিভ সোহেল খান।

সেতু নির্মাণে স্পেন প্রতিনিধি দলের সাথে সালাম মূর্শেদী এমপির বৈঠক

বৈঠকে স্পেনের প্রতিনিধি দল সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সহ বাংলাদেশ সরকারের সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর , সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সাথে বৈঠকের অগ্রগতির বিষয়ে জনাব আব্দুস সালাম মূর্শেদীর কাছে তুলে ধরেন।

স্পেনের সেনচুনিয়ন এস এ কোম্পানির বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেজান্দ্রো ভিদাউরেটা বলেন, স্পেন সরকার ও বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে এই প্রথম অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহারের মাধ্যমে একটি দৃষ্টিনন্দন সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেতু নির্মাণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সাথে আমাদের বৈঠকগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং এই প্রকল্পে অর্থায়ন জন্য স্পেন সরকার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাবনা চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

এই বিষয়ে সালাম মূর্শেদী এমপি বলেন,  যে কোনো দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের জন্য একান্তভাবে অপরিহার্য যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা। যোগাযোগ ব্যবস্থা যদি ভালো হয় একটা দেশের বা অঞ্চলের উন্নয়ন শুরু হয়ে যায়। খুলনা-৪ আসনের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে তৃতীয় বারের মতো আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছে রুপসা, তেরখাদা ও দিঘলিয়াবসী। আমি এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য বদ্ধপরিকর। এই আতাই সেতুটি নির্মাণ হলে দিঘলিয়া থেকে ঢাকার দুরত্ব অনেকাংশে কমবে এবং অত্র এলাকার জীবনমানের উন্নয়নসহ আর্থ সামাজিক উন্নয়ন হবে। সেতুটির কাজ যাতে দ্রুত শুরু হয় সেই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে যোগাযোগ করবো।

উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের দশম অধিবেশনে জনাব আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি তার নির্বাচনী এলাকা দিঘলিয়া উপজেলার উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার লক্ষে বারাকপুর ইউনিয়নের আড়ুয়া ফেরিঘাটে আতাই নদীতে একটি সেতু নির্মাণের উপর গুরুত্বারোপ করে সংসদে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এই দাবির প্রেক্ষিতে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টিগোচর হয় এবং তাঁরই আন্তরিকতার ফলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয় থেকে স্পেনের সেনচুনিয়ন এস এ কোম্পানিকে সেতুটির প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুরোধ করে চিঠি দেওয়া হয়। বাংলাদেশ সরকারের এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি সেতুটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্পেনের একটি প্রতিনিধি দল আতাই নদীর উভয় পাড়ে সরেজমিনে সেতু এলাকা পরিদর্শন করে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেন। পরবর্তিতে সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সাথে বৈঠক করে অর্থ সহায়তা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়।

সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবেঃ বিভাগীয় কমিশনার

//আঃ রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

 খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ বলেছেন,  সকলে মিলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে  দেশের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্ন দেখে ছিলেন দারিদ্রতা ও শোষন মুক্ত  একটি স্বাধীন স্বনির্ভরশীল রাস্ট্রের। এজন্য তিনি গোটা বাঙ্গালী জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে ৩০ লক্ষ শহীদ ও ২ লক্ষ মাবোনের সম্ভ্রমের বিনিময় অর্জিত একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাস্ট্র আমাদের জন্য রেখে গেছেন।

 তিনি আরো বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার কারণে শিশুদের মেধার বিকাশ হচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে আজকের বিজ্ঞান মনোস্ক শিশুরাই আগামীতে অগ্রনায়কের ভুমিকায় থাকবে।

তিনি রূপসায় উপজেলায় ৪৫তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন কালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ ইয়াসীর আরেফীন। গতকাল ২৯ জানুয়ারি (সোমবার) বিকেল ৩ টায়   উপজেলা প্রসাসন আয়োজিত ২দিনব্যাপী মেলায় সভাপতিত্ব করেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনূর জাহান। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী, বয়রা মহিলা কলেজের অধ্যাপক ফারহানা বিনতে আজিজ, বিভাগীয় কমিশনারের সহধর্মিণী মোছাঃ মেহেরুন নেছা জুই, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, সহকারী কমিশনার (ভুমি) আব্দুল্লাহ আল বাকী।

 উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় বক্তৃতা করেন  সহকারী কমিশনার ভুমির সহধর্মিণী মোছাঃ হাবিবা সুলতানা, সমাজসেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমান,পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা তারেক ইকবাল আজিজ প্রমুখ।

বাংলাদেশের সিইসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণে যাবেন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে যাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল। সেখানে একটি সম্মেলনেও অংশ নেবেন তিনি।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানায়, আগামী ১২ থেকে ১৯ মার্চের মধ্যে সিইসির রাশিয়া সফর করার কথা রয়েছে। এই সফরে সিইসির সঙ্গে থাকবেন তাঁর একান্ত সচিব মো. রিয়াজ উদ্দিন। সফরের সময় তাঁদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় বহন করবে রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন।

সফরে সিইসি ‘নির্বাচনী সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক মান’ শীর্ষক একটি সম্মেলনে অংশ নেবেন।

রাশিয়ার ১৫ থেকে ১৭ মার্চ অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের প্রার্থী হিসেবে নিবন্ধিত হওয়ার তথ্য আজ সোমবার দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করেছে। কমিশনের বরাত দিয়ে রুশ বার্তা ইন্টারফ্যাক্সের প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।

নতুন আরেক দফায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট হয়ে ছয় বছরের মেয়াদকাল পূর্ণ করলে পুতিন একটি রেকর্ড গড়বেন। সে ক্ষেত্রে তিনি ১৮ শতকের পর রাশিয়ার সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের শাসক হবেন।

সবার উপরে মানুষ সত‍্য তাহার উপরে নাই। জীবের প্রেম করে যে জন  সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভূমি মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

 ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন সবার উপরে মানুষ সত‍্য তাহার উপরে নাই। জীবের প্রেম করে যে জন  সেই জন সেবিছে ঈশ্বর। লেখাপড়া শিখে পরিবারের ইচ্ছায় শিক্ষক হয়েছি পাশাপাশি   মানুষের  সেবার মনোভাব নিয়ে রাজনীতি করেছি।

 ৫ বার সংসদ   সদস‍্য নির্বাচিত হয়ে এলাকার উন্নযন  মুলক কাজ করেছি। এলাকায় নেই কোন মন্ত্রান, চাাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী বাহিনী।  আর্দশ নিয়ে চলেছি বলে মানুষ আমাকে  ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। জীবনের চাওয়া পাওয়ার কিছু নেই জীবনসায়াহ্নে এসে দেশকে  কিছু দিয়ে যেতে চাই। ভূমিসেবা থেকে অনিয়ন দুর্নীর্তি মুক্ত করে মানুষের সেবায়পরিনত করতে   চাই। তিনি আরো বলেন যারা মুখে গনতন্তের কথা বলে মানুষকে বিভ্রান্ত করতে  চায় তাদের উদ‍্যেশে বলেন ট্রেন চলছে ছিটে বসার জন‍্য ষ্টেশনে অপেক্ষায়  থাকলে কেউ ছিট দেবে না ট্রেন তার আপন গতিতে চলে যাবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়সহ দপ্তর গুলো দূনীতিতে জিরোটরান্স ঘোষনা করছি। দেশের স্বাধীনতার জন‍্য মানুষ জীবন  আত্ম উৎসর্গ করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান  দেশকে নিয়ে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তারই সুযোগ‍্য কন‍্যা   প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  সেই স্বপ্ন বাস্তবে রুপ দিয়েছেন। সোনার বাংলাকে আগামী দিনের স্বপ্ন সারথি পথ উজ্জল করতে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান ২৭ জানুয়ারি  শনিবার  বিকেলে ডুমুরিয়া  উপজেলার শোভনা ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি’র বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

ইউপি চেয়ারম‍্যান সুরজিৎ বৈধ‍্য’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে  বক্তব‍্য দেন উপজেলা  আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি  আবু সাঈদ সরদার, আওয়ামী লীগ নেতা মোল‍্যা সোহেল রানা, যুবলীগের আহবায়ক প্রভাষক গোবিন্দ্ ঘোষ, কৃষকলীগের অরিন্দম মল্লিক, ইউপি সদস‍্য দেবব্রত সরদার, সাধন সরদার,  ইউপি সদস‍্য ও মহিলা নেত্রী লতিতা সরদার, ছাত্রলীগের খান আবুল বাশার, প্রমুখ।   এসময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত  ছিলেন।

JN-1 VIRUS/ জেএন.১ সংক্রমণ এবং বাংলাদেশ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

দেশে করোনাভাইরাসের নতুন উপধরন জেএন.১-এর সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত এক মাসে সংক্রমণের হার বেড়েছে চার গুণের বেশি। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, শীত কমলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে করোনা সংক্রমণ আরো কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯১ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৩৪ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ৮.৭০ শতাংশ। শনাক্ত রোগীদের ৩২ জনই ঢাকা মহানগরের এবং একজন করে কক্সবাজার ও চাঁদপুরের। এই সময়ে আক্রান্তদের মধ্যে কারো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিদপ্তর যে শনাক্তের হার দেখাচ্ছে, প্রকৃত হার এর চেয়ে অনেক বেশি।

সংক্রমিত ব্যক্তি সাধারণ জ্বর, ঠাণ্ডায় কভিড-১৯ শনাক্তের পরীক্ষা করাচ্ছে না। তাই শনাক্তও হচ্ছে না। যারা পরীক্ষা করাচ্ছে তারা কোনো জরুরি প্রয়োজনে করাচ্ছে। হয় সার্জারি করার আগে, নয়তো বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছরে করোনা শনাক্ত হওয়া ৬৪৩ জনের মধ্যে ৬২৪ জনই ঢাকা মহানগরের। অর্থাৎ মোট শনাক্তের ৯৭ শতাংশ রোগী ঢাকার। এই সময়ে মৃত চারজনের দুজন ঢাকা মহানগরের ও দুজন চাঁদপুরের।

অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বর্তমানে ২৯ জন কভিড রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। এর মধ্যে সাধারণ শয্যায় ছয়জন, আইসিইউতে ২২ জন ও এইচডিইউ শয্যায় একজন।

নতুন রোগীদের নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত কভিড রোগীর সংখ্যা ২০ লাখ ৪৬ হাজার ৯৩৫। মৃত্যু হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জনের। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছে ২০ লাখ ১৪ হাজার ৩০৩ জন।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা মুশতাক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, সাধারণত শীতকালে বাংলাদেশে করোনা রোগী কম থাকে। বর্তমানে করোনার নতুন উপধরন জেএন.১-এর কারণে সংক্রমণের হার কিছুটা বেড়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, শীত কমলে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি রোগীর সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

মুশতাক হোসেন বলেন, নতুন উপধরন মারাত্মক না হলেও এর সংক্রমণের হার অনেক বেশি। যাঁরা মেডিক্যাল বা হাসপাতালে কাজ করেন, যাঁদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা কোমরবিডিটি আছে, তাঁদের জন্য এখনো করোনা ঝুঁকিপূর্ণ। মনে রাখতে হবে, এসব ব্যক্তির জন্য কডিভ মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

তিনি বলেন, এখন যেহেতু টিকার কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যারা টিকা নেয়নি তাদের টিকা নেওয়া জরুরি। এ ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ স্থান, যেমন—হাসপাতাল, গণপরিবহন বা যেখানে লোকসমাগম বেশি সেখানে মাস্ক পরা নিরাপদ।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সে বছর শনাক্ত হয় পাঁচ লাখ ১৩ হাজার ৫১০ জন। মৃত্যু হয় সাত হাজার ৫৫৯ জনের।

পরের বছর ২০২১ সালে শনাক্ত হয় ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৯ জন। মৃত্যু হয় ২০ হাজার ৫১৩ জনের। ওই বছরে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জন শনাক্ত হয় ২৮ জুলাই। ২০২২ সালে শনাক্ত হয় চার লাখ ৫১ হাজার ৫৮৬ জন। মৃত্যু হয় এক হাজার ৩৬৮ জনের। ২০২৩ সালে শনাক্ত হয় ৯ হাজার ১৮৯ জন। মৃত্যু হয় ৩৭ জনের।

ডুমুরিয়ায়  উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় ভূমিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

ভৃমি মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন মানবিক মূল‍্যবোধ,জাতিয়তাবাদী, আর্দশ  ও দেশ প্রেম একটি জাতির মুল চালিকাশক্তি।  আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে হবে। বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর রহমান এর হাত ধরে বাংলাদেশ  স্বাধীন হয়েছে তারই সুযোগ‍্য কন‍্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার জন‍্য বাংলাদেশ উন্নযন হয়েছে। যারা গনতন্তের কথা মুখে বলে তারা কি করেছে তাহা সকলের অজানা নয়।

বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবুর  রহমান সহ পরিবারের সদস‍্য এবং জতিয় চার নেতাকে হত‍্যা করে জাতিকে কংলকিত করেছে। দেশের  মানুষ এখন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত কিন্ত কতিপয় মানুষের মানসিকতা  মূল‍্যবোধ আমাদেরকে হতাশ করে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ডুমুরিয়া  উপজেলা  প্রশাসনের আয়োজনে   উপজেলা পর্যায়ের সকল কর্মকর্তা, কর্মচারী ও জনপ্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শেখ নুরুল আলমের সভাপতিত্বে ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায়  প্রধান অতিথি  সরকারি কমাকর্তা কর্মচারীদের উদ‍্যেশে বলেন আমরা ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি মানুষের অধিকার সেবা পাওয়া তার অধিকার। একজন ক্ষুদ্রতম মানুষ হলে রাষ্ট্রর কাছে তিনি সেবা প্রত‍্যাশী। তাকে সম্মান করতে হবে এটাই বঙ্গবন্ধুর  চেয়েছিলেন। দূনীতিমুক্ত মড়েল উপজেলা  হিসেবে  কাজ করতে সকলকে আহবান জানান।  বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য দেন  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ,

 আরো বক্তব্য দেন  উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি আশিষ মোমতাজ,  মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শারমিন পারভিন রুমা,  থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি)সুকান্ত সাহা, ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার  কর্মকর্তা ডাক্তার কাজল সরকার , উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ রবিউল ইসলাম,সাংবাদিক কাজী আব্দুল্লাহ,

 বান্দা কলেজিয়েট স্কুল এন্ড কলেজের অধ‍্যক্ষ সৌরেন্দ্র নাথ মন্ডল,ডুমুরিয়া মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ভারপ্রাপ্ত মনিরুল ইসলাম   ও চুকনগর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ‍্যক্ষ মনিরুল ইসলাম ব্রাউন,    উপজেলা  আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক শাহানেওয়াজ হোসেন জোয়াদার, আওয়ামী লীগ নেতা মোল্ল‍্যা সোহেল রানা,মজিদিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মহিবুর রহমান,

 ইউপি চেয়ারম‍্যান গাজী তৌহিদুজ্জামান ও সুরজিৎ বৈধ‍্য , গাজী হুমাউন কবির বুলু

উপস্থিত ছিলেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল আলম,কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ ইনসাদ ইবনে আমিন, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আবুবকর সিদ্দিক, সমাজসেবা অফিসার সুব্রত বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিনা মজুমদার, সোনালী ব্যাংক ম্যানেজার মোঃ রুহুল্লা, আনসার ভিডিবি কর্মকর্তা মিশু দে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী মোঃ শাহাঙ্গীর আলম,   পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডুমুরিয়া জোনাল অফিসের ডি জি এম আব্দুল মতিন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম,ডুমুরিয়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সক্টার র মোঃ মনির হোসেন,  ষ্টোশন কর্মকর্তা মোঃ শরিফুল ইসলাম,মহিলা স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলাম,

ইউপি চেয়ারম‍্যান  শেখ দিদারুল হোসেন, গোপাল চন্দ্র দে, মোঃ জহুরুল হক, শেখ রবিউল ইসলাম রবি, মনোজিৎ বালা, রফিকুল ইসলাম হেলাল, মোল্ল‍্যা মাহাবুর রহমান সহ সুশীল সমাজের মানুষেরা।