ডুমুরিয়ার শোভনায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর স্বশরীরে উপস্থিতি মাধ্যমে লাইভ ভেরিফিকেশন অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

সাবেক মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন ক্ষুদা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলা আজ স্বপ্ন নয় বাস্তবে রুপান্তিত হতে চলেছে। বঙ্গবন্ধুর  সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পর দেশের প্রতিটি ক্ষেত্রে অভূতপূর্ব উন্নয়ন যার সুফল জনগন ভোগ করছে। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল হিসাবে প্রশাংশিত।

জননেত্রী শেখ হাসিনার  ভিশন উন্নত রাষ্ট্রে পরিনত করা । আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির যুগে দেশ যে ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। উন্নয়নের পাশাপাশি সরকার অসহায়, দুস্থ, মাতৃত্বভাতা, বয়ষ্কভাতা ও প্রতিবন্ধীভাতা ও বিধবাভাতা প্রদান করছে। যা অতীতের কোন সরকারের আমলে ছিল না। সরকার বছরের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেন উপবৃত্তি ব্যবস্থা করেন।

তিনি আরো বলেন খুলনা ৫ আসনে দুটি  উপজেলার ব্যাপক  উন্নয়নমুলক কাজ হয়েছে। সরকার মসজিদ, মন্দির, খেলার মাঠ, কবর স্থান, শ্মশান ঘাট, হাট বাজার, ব্রীজ কালভার্ট, রাস্তা নির্মাণ, জলাবদ্ধতা নিরসনে নদী-খাল খনন, স্কুল কলেজের ভবণ নির্মানের ফলে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান পরিবর্তন ঘটেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলার শোভনা ইউনিয়ন পরিষদ চত্তরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগীর স্বশরীরে উপস্থিতি মাধ্যমে লাইভ ভেরিফিকেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায়  এ কথা বলেন।

শোভনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুরঞ্জিত কুমার বৈদ্য’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আলোকিত  অতিথির বক্তৃতা করেন  উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান, বিশেষ অতিথি’র বক্তব্য দেন সমাজ সেবা কর্মকতা সুব্রত বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুল গফফার বাওয়ালী, সিনিয়র সহ-সভাপতি নওশের আলী বাগাতি, আশোক সরকার শেখ কামরুজ্জামান টিপু, এপিএস সমীর দে গোরা, ইউপি সদস্য দেবব্রত সরদার, শেখর চন্দ্র মল্লিক, শিক্ষক মাইকেল মল্লিক, জিল্লুর রহমান প্রমুখ। প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দ কদমতলা খেয়াঘাট এলাকায় প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান ব্রীজের নির্মাণ কাজ পরিদর্শন করেন । দুপুরে উপজেলা পরিষদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ব শেখ হাসিনার ত্রান তহবিলে অসহায় এবং অসুস্থদের মাঝে আর্থিক চেক বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে চেক বিতরন করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান, উপজেলা প্রানিসম্পদ অফিসার ডাঃ আশরাফুল আলম, উপজেলা  প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান প্রমুখ।

উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার দুস্থদের মাঝে ঢেউটিন ও টাকা বিতরণ করেন

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে দুস্ত ও গৃহহীনদের মাঝে নগদ টাকা ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।

বুধবার (৯ আগষ্ট) বেলা ১২ টায় উপজেলা পরিষদের চত্তরে বন পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার এমপি উপস্থিত থেকে এ সব সামগ্রী বিতরণ করেন।

এ সময় ৩৫ জন দুস্তকে ২ বান্ডিল করে মোট ৭০ বান্ডিল ঢেউটিন ও নগদ ৩ হাজার টাকা করে মোট ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে।

ওই সময় উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান, উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন, ছাত্রলীগ সভাপতি মো. হাফিজুর রহমান প্রমুখ।

এবারেও রামপালে ১০০ ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পেল জমিসহ ঘর

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে বাগেরহাটের রামপালে ১০০ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবার পেল জমিসহ ঘর। শোকের মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে সারাদেশের ২২ হাজার ১০১ টি পরিবারের মাঝে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর প্রদান অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন।

এবার রামপালেও ১০০ টি পরিবারের মাঝে জমির দলিল ও ঘরসহ চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে। বন, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার উপস্থিত থেকে এসব পরিবারের মাঝে জমির দলিল, আধাপাকা ঘর ও চাবি হস্তান্তর করেন। রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলমের সভাপতিত্বে উপজেলা অডিটোরিয়ামে সকাল সাড়ে ৯ টায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন। ওই সময় স্বাগত বক্তব্য দেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ সালাউদ্দীন দিপু। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আরিফুল ইসলাম, সহকারী পু্লিশ সুপার (মোংলা সার্কেল) মুশফিকুর রহমান তুষার, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল, রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম, কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, উপজেলা প্রকৌশলী মো. গোলজার হোসেন, রামপাল সরকারী কলেজের প্রভাষক ও সাংবাদিক মোস্তফা কামাল পলাশ প্রমুখ। সার্বিক সহযোগীতা করেন উপজেলা বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান।

ওই সময়ে উপস্থিত ছিলেন, রামপাল উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপকারভোগী, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ।

বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় ছিলেন সজাগ এবং দূরদর্শী: সালাম মূশের্দী এমপি

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনা-৪আসনের সংসদ সদস‍্য আব্দুস সালাম মূশের্দী বলেছেন, মহীয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ছিলেন বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একজন যোগ্য ও বিশ্বস্ত সহচর এবং বাঙালির মুক্তিসংগ্রামের সহযোদ্ধা।

মনোবল, সর্বংসহা ও দূরদর্শিতার অধিকারী ছিলেন এবং আমৃত্যু দেশ ও জাতি গঠনে অসামান্য অবদান রেখে গেছেন তিনি।

জাতির পিতার রাজনৈতিক, সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে সর্বক্ষণের সহযোগী ও অনুপ্রেরণাদাত্রী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় ছিলেন সজাগ এবং দূরদর্শী: সালাম মূশের্দী এমপি

দেশের স্বাধীনতার জন্য তিনি জাতির পিতার সঙ্গে একই স্বপ্ন দেখতেন। এ দেশের মানুষ সুন্দর জীবন পাক, ভালভাবে বাঁচুক এই প্রত্যাশা নিয়েই তিনি বাঙালির অধিকার আদায়ের সংগ্রামে সবসময় ছিলেন সজাগ এবং দূরদর্শী।

তাইতো একজন সাধারণ বাঙালি নারীর মতো স্বামী-সংসার, আত্মীয়-স্বজন নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও বাংলাদেশের মহান সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে তিনি অনন্য ভূমিকা রেখে গেছেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে গৃহবন্দী থেকে এবং পাকিস্তানে কারাবন্দী স্বামীর জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে গভীর অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা সত্ত্বেও তিনি সীমাহীন ধৈর্য, সাহস ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।

তিনি বলেন, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব  দেশ ও জাতির জন্য তার অপরিসীম ত্যাগ, সহযোগিতা ও বিচক্ষণতার কারণে জাতি তাকে যথার্থই ‘বঙ্গমাতা’ উপাধিতে ভূষিত করেছে।

বঙ্গমাতার যে আদর্শ ও দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন তা যুগে যুগে বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবনী চর্চার মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে।

বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন, বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অনেক অজানা অধ্যায় সম্পর্কে জানতে পারবে প্রত্যাশা করে তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এমপি আব্দুস সালাম মূশের্দীর আয়োজনে খুলনাস্থ দলীয় কার্যালয়ে মঙ্গলবার ৮ আগস্ট সন্ধ‍্যায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯৩তম জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা ও  দোয়া মাহফিল  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

জেলা আওয়ামীলীগে সদস‍্য ফ ম আ:সালাম এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল,  তেরখাদা উপজেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শারাফাত হোসেন মুক্তি, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস‍্য আ: মজিদ ফকির, রূপসা উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আরিফুর রহমান মোল্লা,  সৈয়দ মোরশেদুল আলম বাবু।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মো:  মোতালেব হোসেন এর পরিচালনায় বক্তৃতা করেন  সাবেক অধ্যক্ষ আওয়ামী লীগ নেতা সরদার ফেরদৌস আহমেদ,  ভাইস চেয়ারম্যান  ফারহানা আফরোজ মনা, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম হাবিব,ইউপি চেয়ারম্যান মো:জাহাঙ্গীর শেখ,  মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান, কামাল হোসেন বুলবুল, ইসহাক সরদার, উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আকতার ফারুক, আওয়ামীলীগ নেতা শ,ম জাহাঙ্গীর, মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক, রবিউল ইসলাম বিশ্বাস, সরদার মিজানুর রহমান,  কৃষকলীগের  আঃ মান্নান শেখ, বাছিতুল হাবিব প্রিন্স, স্বেচ্ছাসেবক লীগের  রাজিব দাস,  দেলোয়ার হোসেন, আরমান মিয়া ,প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান মিঠু, জেলা মহিলা লীগের রিনা পারভিন, সাবিনা ইয়াসমিন,   প্রধান শিক্ষক আজীজা সুলতানা, উপজেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি আকলিমা খাতুন তুলি,সাধারণ সম্পাদক  শারমিন সুলতানা রুনা, উপজেলা যুবলীগের  সদস্য শামসুল আলম বাবু, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মোঃ মইন উদ্দিন,  আবদুল্লাহ আল মামুন, মোঃ ফরিদ শেখ, মামুন শেখ, নাজির শেখ,ফরিদ আহমেদ, শেখ আসাদুজ্জামান,  লেলিন শেখ,ইউপি সদস‍্য রাবেয়া বেগম,  ফকির সাইফুল ইসলাম, মাসুম সরদার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জামিল মোরশেদ মাসুম, তারেক আজিজ,রবিউল ইসলাম,

সাধারণ সম্পাদক খায়রুজ্জামান সজল, সাইফুল ইসলাম শাওন, কেএম তহিদুল ইসলাম, মাহাবুবুর রহমান, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা মো:  ইমলাক মল্লিক, গফফার মল্লিক, নাজিম মোড়ল,  সরদার নুর ইসলাম, আ: জব্বার,  যুবলীগের হারুন মোল্লা,  আশিষ রায়, সরদার জসিম উদ্দিন, খলিলুর রহমান,  এহতেশামুল হক অপু, ছাত্রলীগের  শেখ রিয়াজ,  শেখ রাসেল, নোমান,জুয়েল সরদার,সাব্বির হোসেন, আকাশ ঢালীসহ দলীয় নেতৃবৃন্দ   উপস্থিত ছিলেন।

দোয়া মোনাজাত করেন  আওয়ামীলীগ নেতা প্রভাষক মো: অহিদুজ্জামান।

Daily World News

বাগেরহাটের কচুয়ায় বঙ্গমাতার ৯৩তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

ডুমুরিয়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৪র্থ পর্যায়ে (২য় ধাপ) জমি ও গৃহপ্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং

বাগেরহাটের কচুয়ায় সরকারী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহনে মতবিনিময় সভা

//বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট//

কচুয়ায় সরকারী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের অংশগ্রহনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে কচুয়া প্রেসক্লাবের মীর সাখাওয়াত আলী দারু মিলনায়তনে প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মো.জাকির হোসেন।

ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ কচুয়া এপির আয়োজনে প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক কাজী ছাইদুজ্জামান সাইদের সঞ্চালনায় এসময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ওয়ার্ল্ডভিশন বাংলাদেশ কচুয়া এপি ম্যানেজার তপন কুমার মন্ডল, প্রোগ্রাম অফিসার সমর মন্ডল,  কচুয়া প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি সমির বরণ পাইক, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক শুভংকর দাস বাচ্চু, অর্থ সম্পাদক রথিন্দ্র নাথ সাহা, নির্বাহী সদস্য সুপার্থ কুমার মন্ডল, খান সুমন, প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডল।পরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা মুলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

বাগেরহাটের কচুয়ায় বঙ্গমাতার ৯৩তম জন্ম বার্ষিকী পালিত

//বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট//

কচুয়ায় বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন নেছা মুজিব এর ৯৩তম জন্ম বার্ষিকী পালিত হয়েছে।এ উপলক্ষে আলোচনা সভা,দোয়া,সেলাই মেশিন বিতরণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মো.জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান নাজমা সরোয়ার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মনোয়ারা খানম এর সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন, থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মনিরুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা শিকদার হাবিবুর রহমান, কচুয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল, সদর ইউপি চেয়ারম্যান শিকদার হাদিউজ্জামান হাদিজ প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৪র্থ পর্যায়ে (২য় ধাপ) জমি ও গৃহপ্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে প্রেস ব্রিফিং

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব,বিশেষ প্রতিনিধি//

মাননীয় প্রধানমনত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে ৪র্থ পর্যায়ে (২য় ধাপ) জমি ও গৃহপ্রদান কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের এ প্রেস বিফিং অনুষ্ঠিত হয়।

৮ই আগস্ট মঙ্গলবার  বেলা ১১টায় পরিষদ  কমপ্লেক্স এর হল রুমে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিং উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম‍্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা চন্দ্র কান্ত তরফদার, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষকরা আন্দোলনে কেন, শিক্ষানীতি কোথায়?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের (সরকারীকরণ) দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে ১১ জুলাই থেকে এই কর্মসূচি চলছে।

গত দুই সপ্তায় যারাই প্রেসক্লাবের সামনে গিয়েছেন, তারা দেখেছেন ক্লাসরুমের শিক্ষকরা রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ থেকে শুরু করে কঠোর হওয়ার কথা জানালেও সাড়া দেননি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, এবার জাতীয়করণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত, কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এর আগে আন্দোলনরতদের ফেরাতে ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা প্রতিদিন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা গেছে। বাতিল করা হয়েছে গ্রীস্মকালীন ছুটিও। কিন্তু তবু শিক্ষকদের টলানো যায়নি।

আন্দোলনের ১৬তম দিনে ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উদ্দেশে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করে আপনি যেভাবে উসকে দিচ্ছেন, দয়া করে আর কোনো অস্তিত্বে আঘাত না দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। না হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে যাবো না।’

তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। ১৯ জুলাই তিনি আন্দোলনরত শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে (জাতীয়করণ) আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। তবে জাতীয়করণের যৌক্তিকতা আছে কি নেই, সেটাসহ শিক্ষা, শিক্ষকদের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি কমিটি জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান্নোয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে গবেষণা করবে। আরেকটি কমিটি আর্থিক বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। গবেষণাভিত্তিক এই দুই কমিটির প্রতিবেদনের পর এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ১৫ দিন অনশন করেছিলেন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকেরা। ওই সময়ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ কয়েক দফা দাবিতে শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের নামে। কিন্তু কেন বারবার এই জাতীয়করণের আন্দোলন?

প্রায় দুই বছর করোনার অতিমারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখা-পড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষকেরা ক্লাসরুমের বদলে কেন রাজপথে? জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো প্রতিশ্রুতি পেতেই কী এই চাপ? আর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজশিক্ষক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও কেন সুযোগ সুবিধার জন্য এখানে আন্দোলন করতে হয়?

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ১ লাখ ৯০ হাজার ২২। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬৮৪টি। বাকিগুলো বেসরকারি। মোট শিক্ষক আছেন পৌনে তিন লাখের মতো। বেসরকারি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই এমপিওভুক্ত। এর মানে হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনের মূল অংশসহ কিছু ভাতা পান। তবে সার্বিকভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা খুবই কম।

সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পড়ান। কিন্তু তাঁদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা এক নয়। এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকার থেকে মূল বেতন পুরোটাই পান। কিন্তু বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল ফারাক।

সরকারি শিক্ষকেরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা পান মাত্র এক হাজার টাকা। সরকারি শিক্ষকেরা উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের সমান। বেসরকারি শিক্ষকেরা পান মাত্র ২৫ শতাংশ। চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। তাদের কোন পেনশন নেই, বদলি নেই।

এ তো গেল শুধু মাধ্যমিকের কথা। মাধ্যমিকের প্রায় ২০ হাজার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নয় হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত যেখানে এক লাখেরও বেশি শিক্ষক আছেন। কলেজ আছে অন্তত চার হাজার। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৪০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষক একই ধরনের বৈষম্য নিয়ে আছেন। এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, সরকার এমপিওভুক্তি বাবদ এখন বছরে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা দেয়। জাতীয়করণ করলে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু এর বিপরীতে শিক্ষার্থীর ফি থেকে শুরু করে নানাভাবে যে আয় আসবে তাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। সরকার নিশ্চয়ই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।

এটি সত্যি, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে বরাদ্দ যেমন কম, তেমনি কম শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও। এসব কারণেই এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবীরা এখন শিকক্ষতা পেশায় আসেন না, বিশেষ করে বেসরকারিতে। তবে বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটাও যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। বিশেষ করে এমপিওভুক্তির নামে অনিয়মের উদাহরণ তো ভুরি ভুরি। এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কথাগুলো মনে করা যেতে পারে।

২০১৮ সালের ২৭ জুলাই তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ”আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্যে এমপিওভুক্তি চরমভাবে দায়ী। এমপিওভুক্তি যতটা না উপকার করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে অপকার। গণহারে স্কুল তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়নি। কতটুকু মান অর্জন করলে সরকার বেতন ভাতা দেবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দরকার ছিল। সেটি না করায় এর কুফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।”

এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সময় এসেছে এমপিওভুক্তি কতোটা অবদান রেখেছে তা নিয়ে গবেষণা জরুরী। বেতন ও সুযোগ সুবিধা কমন সেটা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর মান কেমন? কতোগুলো প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, লাইব্রেরি, বা গবেষণাগার আছে?

একই প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যন্ত জন্য। শিক্ষার মান নিয়ে তো প্রশ্নের শেষ নেই। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কারিগরী শিক্ষা বা দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ার বদলে শুধুমাত্র জিপিএ-৫ নির্ভর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগুজে সনদ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা কতোটা জরুরী? এমপিওভুক্তি, সারাদেশের কলেজগুলোতে গণহারে অনার্স চালুর পর এখন আবার জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা কতোটা সঠিক তা নিয়ে গবেষণা জরুরী।

মুক্তিযুদ্ধের পর কথা ছিল বাংলাদেশের শিক্ষা হবে একমুখী,সর্বজনিন ও অবৈতনিক। ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেও তা উল্লেখ ছিল। অথচ দেশে নানামুখী শিক্ষাব্যবস্থা। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। আর মাধ্যমিক স্তর হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এ জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষানীতির এসব আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছিল। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ১৩ বছর হতে চলল। এগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে যে আইন করার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। বরং জোড়াতালি দিয়ে সব চলছে।

প্রশ্ন হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, কারা শিক্ষক হবেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কী হবে, কোন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতি আগাবে সেসব নির্ধারণ জরুরী। সবাইকে বিশ্ববিদ্যাালয়ে পড়তে হবে, সবাইকে সনদ নিতে হবে, এই ধারণা থেকে এখন বেরিয়ে আসা জরুরী। এখন সনদ নয় বরং দক্ষতাই জরুরী। কারিগরি, ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশ আগাতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশ লাখ লাখ ছেলেমেয়ে সনদ নিয়ে বের হচ্ছে যারা একটা চাকুরির জন্য হাহাকার করছে।

গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের বছর দুয়েক আগের এক জরিপে উঠে এসেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বেকার। ফলে চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থান কম থাকায় শিক্ষিতদের বড় একটি অংশ হতাশায় ভুগছেন। অনেকে আবার আত্মহননের মতো ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন।

তথ্য বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ২০ লাখের মতো, আর সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অধিভুক্ত কলেজ আছে ২ হাজার ১৫৪টি। এগুলোর মধ্যে ২৭৯টি সরকারি কলেজ। সম্মান পড়ানো হয় এ রকম সরকারি-বেসরকারি কলেজের সংখ্যা ৫৫৭।

শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশে প্রতিনিয়ত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। ১০ বছর আগেও বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরির বাজারে যুক্ত হতেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে চার-পাঁচ লাখে উন্নীত হয়েছে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী শহর ও শোভন কাজ করতে চান। কিন্তু শহরে যত চাকরিপ্রার্থী প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে, সেই পরিমাণ চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। দেশে প্রতিবছর শ্রমশক্তিতে যোগ হচ্ছে ২০ লাখ মানুষ। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। কাজেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের সত্যিকারভাবে ভাবতে হবে। শুধুমাত্র সনদধারী গ্রাজুয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা শিক্ষায় যতটা উন্নত, তার চেয়ে বেশি উন্নত যুগোপযোগী শিক্ষায়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায়। সুইজারল্যাণ্ড, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ায় অধিকাংশ মানুষ আমাদের মতো মূল ধারার বদলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ। অথচ বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ১৪ শতাংশ। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বাড়াতে গেলে সমাজে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যে সামাজিক ট্যাবু আছে সেটি ভাঙতেই হবে।

জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা যদি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হয় এরপর কারিগরী শিক্ষার দিকে একটা বড় অংশ চলে যেতে পারে। এখানেও দক্ষ শিক্ষক জরুরী। দক্ষ শিক্ষক থাকলে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম তৈরি হবে যারা দেশে ও বিদেশে সব জায়গাতেই নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন।

এখানে প্রবাসী কর্মীদের বিষয়টি চলে আসে। বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি লোক প্রবাসে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই অদক্ষ। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করে বাংলদেশিরা। অন্যদিকে তুলনামূলক দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। ভারতের মতো বাংলাদেশও যদি দক্ষ লোক পাঠাতে পারতো তাহলে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আসতে পারে যেটি এখন ২০ থেকে ২২ বিলয়নে আটকে আছে।

আবার দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির পাশাপাশি দক্ষ উদ্যোক্তাও তৈরি করতে হবে যাতে একজন উদ্যোক্তা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। এ জন্যও যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। আসলে সত্যিকারের শিক্ষক বা প্রশিক্ষক না থাকলে উন্নত জাতি গড়ে তোলা কঠিন। আর দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক পেতে হলে ভালো বেতন-ভাতা দিতে হবে যেন সবাই শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হয়। এখানে যদি নানা ধরনের বৈষম্য থাকে আর সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা ক্লাসরুমের বদলে রাজপথে থাকবেন যেটি দেশ জাতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

শিক্ষাকে বলা হয় একটা জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড ভালো না হলে দেশের অগ্রগতি কঠিন। কাজেই একটা দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরী বা উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, কতো ধরনের শিক্ষা একসঙ্গে চলবে নাকি একমুখী শিক্ষা হবে, কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হবে, তাদের বেতন কাঠামো কেমন হবে এগুলো ঠিক করা জরুরী।

অবার গণহারে মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এমপিওভুক্তি কিংবা জাতীয়করণে কী লাভ হয়, কলেজে কলেজে অনার্স আর জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা জরুরী নাকি কারিগরী শিক্ষা, গণহারে জিপিএ-৫ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাগুজে সনদ কোনটা জরুরী সেগুলো ভাবতে হবে। সার্বিকভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষার একটা টেকসই কাঠামো না দাঁড়ালে এমন সংকট চলতেই থাকবে। সবমিলিয়ে সরকারের এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে শিক্ষকদের কয়েক বছর পর আবার রাজপথে নামতে না হয়। আবার মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষকেরও কথাও ভাবতে হবে। এই দুটোই যে পরষ্পরের পরিপূরক!

শিক্ষামন্ত্রী জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে যে গবেষণার কথা বলেছেন তাতে নিশ্চয়ই বিষয়গুলো উঠে আসবে। তবে এই মুহুর্তে সবার আগে জরুরি শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরানো। আর সেই দায়িত্ব তো সরকারকেই নিতে হবে! সূত্র: ডিডাব্লিউ

Daily World News

১১ বছর/ মামলার ১০০তম ধার্য তারিখ আজ: সাগর-রুনী হত্যা

ডুমুরিয়ায়  দলিত-এর উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদৈর সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

রামপালে নবাগত জেলা প্রশাসক খালিদ হোসেন’র মত বিনিময় সভা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাট জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন রামপাল উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে এক মত বিনিময় সভা করেছেন।

রবিবার (৬ আগষ্ট) বিকাল ৩ টায় উপজেলা অডিটোরিয়ামে নির্বাহী কর্মকর্তা নাজিবুল আলম এর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বাগেরহাটের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ সালাউদ্দীন দিপু, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নূরুল হক লিপন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, রামপাল থানার অফিসার ইন-চার্জ এস, এম আশরাফুল আলম, মুক্তি যোদ্ধা কমান্ডার শেখ মোজাফ্ফর হোসেন, বাশতলী ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল, ভাগা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ শেখ খালিদ আহম্মেদ, সাংবাদিক হাওলাদার আ. হাদি, সাংবাদিক এ এইচ নান্টু, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ সাদি, সাংবাদিক সরদার মহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সভায় রামপাল উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যয়ের কর্মকর্তা, বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণ, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, সাংবাদিকগণ, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সুধী সমাজের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তাগণ অবকাঠামোগত সমস্যা ও উন্নয়ন, আইন শৃঙ্খলার উন্নতি এবং সম্ভবনার বিষয়সহ নানান বিষয় তুলে ধরে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

এ সময় জেলা প্রশাসক মোহা. খালিদ হোসেন বলেন, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত জাতি হিসাবে গড়ে তুলতে হলে মাদক মুক্ত রাখতে হবে, বাল্যবিবাহ বন্ধ করে সন্তানদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করাতে হবে। সকল অভিভাবকদের একটি বিষয়ে মনে রাখতে হবে, আপনার সন্তান কি করছে ? কোথায় যাচ্ছে সেটি খেয়াল রেখতে হবে, কোন অবস্থায় যেন মাদকের সাথে যুক্ত না হতে পারে। সরকার উদ্যোগ নিয়েছে প্রকুত ভূমিহীন বাছাই করে তাদের ঘরসহ পুনর্বাসন করছে। কমিউনিটির নাগরিকদের বাড়ীর কাছে স্বাস্থ্য সেবা পৌছে দেয়া হয়েছে।

বয়স্ক ভাতার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে, তার মৃত্যুর পরে তার পোশ্যদের ৩ মাস ভাতা নিশ্চিত করতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ নিশ্চিতে সরকারের সকল প্রকার সেবা অনলাইনে করা হচ্ছে। ভূমি সংক্রান্তসহ থানায় জিডি সহজিকরণ করা হয়েছে। সেবা প্রত্যাশীদের সমস্যা সমাধানের জন্যে তাদের কথা শুনতে হবে, তাদের দ্রুত সেবা প্রদান করতে হবে।

জনপ্রতিনিধিদের সাথে নাগরিকদের আরও যোগসূত্র বাড়াতে হবে। মাছ চাষ বাড়াতে সকল প্রকার সহযোগীতা করা হবে। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেন।

কচুয়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের উদ্বোধন

//বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাচন অফিসের আয়োজনে শনিবার সকাল ১১ টায় উপজেলার শেখ তন্ময় মিলনায়তনে  উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ জাকির হোসেন এর সভাপতিত্বে এ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব  অশোক কুমার দেবনাথ।

এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এর প্রকল্প পরিচালক আইডিইএ প্রকল্প (২য় পর্যায়) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল হাসমত মোহাম্মদ সায়েম(বিজিবি এম এসএএফডাব্লিউসি পিএসসি এমফিল), খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির, বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা  ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আরিফুল ইসলাম।

কচুয়া প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সমির বরণ পাইকের সঞ্চালনায় এসময়ে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিকদার ফিরোজ আহম্মেদ, কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার হিমাংশু প্রকাশ বিশ্বাস। এসময় উপজেলার সকল দপ্তরে প্রধানগণ ও ইউপি চেয়ারম্যান বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।