ডুমুরিয়ায় মাদকদ্রব‍্য অপব‍্যবহার রোধ কল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

//ডুমুরিয়া সংবাদদাতা//

ডুমুরিয়ায় মাদকদ্রব‍্য অপব‍্যবহার রোধ কল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বিষয়ে এক কর্মশালা  ৪ জুলাই  সোমবার সকালে উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারন প্রশাসনিক ভবনে  অনুষ্ঠিত হয।

জেলা মাদকদ্রব‍্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের আয়োজনে কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব‍্য দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম‍্যান এজাজ আহম্মেদ গাজী, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাদকদ্রব‍্য নিয়ন্ত্রন খুলনার উপ পরিচালক  মো: মিজানুর রহমান,  বক্তব‍্য দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মামুনুর রশিদ, উপজেলা পরিষদের  ভাইন্স চেয়ারম‍্যান গাজী আ: হালিম, ডুমুরিয়া থানা অফিসার্স ইনচার্জ সেখ কনি মিয়া, হরিনটানা থানার এসআই দ্বৈপায়ন বিশ্বাস, উপজেলা স্বাস্থ‍্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা  ডাক্তার আবু সুফিয়ান রস্তম, প্রমুখ।

সভায়  উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম‍্যান, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক ও সমাজের  সুধী জনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত  ছিলেন।

 

 

ভারত সরকারের লাইন অফ ক্রেডিটের আওতায় রূপসা সেতুর কাজ সম্পন্ন

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

খুলনা-মংলা বন্দর রেল লাইন প্রকল্পের অধীন রূপসা সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ভারত সরকারের লাইন অফ ক্রেডিট (এলওসি) -এর আওতায় এই সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

ভারতীয় ইপিসি ঠিকাদার মেসার্স এলএন্ডটি এই ৫.১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রড-গেজ সিঙ্গেল-ট্র্যাক রূপসা রেল সেতু নির্মাণ করে, যা খুলনাকে মংলা বন্দরের সাথে রেল লাইনের মাধ্যমে সংযুক্ত করেছে। গত ২৫ জুন এই সেতুর কাজ শেষ হয়। ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ একথা জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সেতুটি উত্তাল রূপসা নদীর ওপর নির্মিত হয়েছে এবং প্রকৌশলগত দিক থেকে এটি একটি অনন্য কীর্তি কারণ এটির পাইলিংয়ের জন্য বেস গ্রাউটিং নামক একটি বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ভায়াডাক্ট সেকশনে ৮৫৬টি পাইল ফাউন্ডেশন নির্মাণ করা হয়েছে এবং ৭২টি পাইল ফাউন্ডেশন স্টিল ব্রিজ সেকশনের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে যার গড় পাইল দৈর্ঘ্য ৭২মিটার।

এছাড়া, নদীতে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সেতুটির রয়েছে অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য যেমন, নেভিগেশন ফেন্ডারপাইল, যা রয়েছে পায়ারের নিচের দিকে। মূল সেতুর নেভিগেশনাল ক্লিয়ারেন্স স্ট্যান্ডার্ড হাই-ওয়াটার লেভেল থেকে ১৮ মিটারেরও বেশি। স্টিলের তৈরি এই সুপারস্ট্রাকচার সেতুটির নির্মাণসামগ্রী ভারত থেকে সড়ক, সমুদ্র ও আভ্যন্তরীণ নদীপথে আমদানি করা হয়েছিল।

হাইকমিশন জানিয়েছে, রূপসা রেলওয়ে সেতু এবং খুলনা-মংলা বন্দর রেললাইনটি পণ্য পরিবহণে ব্যাপক সুবিধা সৃষ্টি করবে। মংলা বন্দরের সাথে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এই অঞ্চলের কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষি পণ্যসহ অনায়াসেই স্থানীয় বাজারগুলোতে ব্যবসা করার সুযোগ পাবে। এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিশিষ্ট স্থানগুলিতে পর্যটনকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ভারত সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৭.৮৬২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের চারটি লাইন অফ ক্রেডিট দিয়েছে। এই লাইন অফ ক্রেডিট -এর আওতায় এখন পর্যন্ত ৪২টি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে, যার মধ্যে ১৪টি প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকিগুলো বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। ২০২২ সালের মার্চ মাসে ভারতের অর্থবছর শেষের হিসেবে এই লাইন অফ ক্রেডিটগুলোর অধীনে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদানের মাইলফলক স্পর্শ করেছে এবং ৩০ জুন ২০২২-এ বাংলাদেশের অর্থবছরের শেষের হিসাবে সেটা ১,১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত পৌঁছবে।

 

পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের রেকর্ড

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

দেশের সর্ববৃহৎ স্থাপনা পদ্মা সেতুতে টোল আদায়ের রেকর্ড হয়েছে। একদিনে ৩ কোটি ১৬ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে।

শুক্রবার এই টোল আদায় করা হয়। ২৬ জুন পদ্মা সেতুতে যান চলাচল চালুর পর এটাই টোল আদায়ের রেকর্ড। এদিন সেতু দিয়ে যানবাহন পারাপার করেছে ২৬ হাজার ৩৯৮টি।

এর আগে ২৬ জুন চালুর পর ১ দিনে ৬১ হাজারের বেশি যানবাহন চলাচল করেছিল। আর টোল আদায় হয়েছিল প্রায় পৌনে তিন কোটি টাকা। তবে ওই দিন পার হওয়া যানবাহনের ৭৫ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল। ২৭ জুন থেকে সেতু দিয়ে মোটরসাইকেল পারাপার বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এদিকে পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়কে শুক্রবার থেকে টোল আদায় শুরু হয়েছে। সড়ক ও জনপথ সূত্র জানায়, প্রথম দিনে ৬৯ লাখ ৮১ হাজার ৮৮০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। এর মধ্যে যানবাহন পারাপার করেছে মোট ৪১ হাজার ৭১৪টি।

এর মধ্য ধলেশ্বরী সেতুর কাছের টোল প্লাজা দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ২৬ হাজার ৬৪। টোল আদায় হয়েছে ৪৫ লাখ ৭৭ হাজার ২৪০ টাকা। আর ভাঙা দিয়ে যানবাহন পারাপার করেছে ১৫ হাজার ৬৫০টি। টোল আদায় করা হয়েছে ২৪ লাখ ৪ হাজার ৬৪০ টাকা।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্ত দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১৩ হাজার ৮০১টি। টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬৫ লাখ ৪২ হাজার ১০০ টাকা। জাজিরা দিয়ে যানবাহন পারাপার হয়েছে ১২ হাজার ৫৯৭টি। টোল আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৫১ লাখ ১১ হাজার ১০০ টাকা।

পুলিশের এসআই নিয়োগ// উত্তীর্ণদের তালিকা প্রকাশ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

পুলিশের ক্যাডেট উপ-পরিদর্শক (এসআই, নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ ২০২১ এর লিখিত, মৌখিক ও বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরে থেকে বার্তায় বলা হয়েছে, বিগত ২০২১ সালের ক্যাডেট উপ-পরিদর্শক (এসআই- নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত লিখিত, মৌখিক ও বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, ২০২১ সালের ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত লিখিত, মৌখিক ও বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় (Aptitude Test and Viva-voce) উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মধ্যে মেধারভিত্তিতে প্রযোজ্য বিধি-বিধান পরিপালনের শর্তে ৮৭৫ জন প্রার্থীকে  একবছর মেয়াদী মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সিলেকশন বোর্ড সাময়িকভাবে সুপারিশ করেছে।

বার্তায় আরও বলা হয়, পুলিশ সদর দপ্তরে থেকে আরও বলা হয়, চূড়ান্ত ফলাফল www.police.gov.bd ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।সুপারিশকৃত প্রার্থীদের ঢাকা কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নির্ধারিত তারিখ ও সময়সূচি অনুযায়ী স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যোগ্য এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনে সন্তোষজনক বলে বিবেচিত হলেই এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ গ্রহণের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত করা হবে।

উত্তীর্ণদের রোল নাম্বার নিচের তালিকায় দেখুন-

তালিকা:

 

করোনাভাইরাস // ২ হাজার  ৮৭ জন শনাক্ত, মৃত্যু ৩

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

দেশে দিন যত যাচ্ছে ফের করোনার প্রকোপ ততই বাড়ছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে আজও দৈনিক শনাক্ত দুই হাজার ছাড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে ২ হাজার  ৮৭ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬১ জনে।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো করোনাবিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মারা যাওয়ার সংখ্যা বেড়ে ২৯ হাজার ১৪৫ জনে দাঁড়িয়েছে। মারা যাওয়া দুজন চট্টগ্রামের এবং একজন ঢাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে দুজন নারী, একজন পুরুষ।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১৩ হাজার ৪৮৯টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার বিপরীতে শনাক্তের হার ১৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ২০০ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ১৯ লাখ ৭ হাজার ৬৭ জন।

দেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০২০ সালের ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ওই বছরের ১৮ মার্চ দেশে প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই বছর সর্বোচ্চ মৃত্যু হয়েছিল ৬৪ জনের।

ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়ায় গত বছর জুন থেকে রোগীর সংখ্যা হু হু করে বাড়তে থাকে। ২৮ জুলাই একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ হাজার ২৩০ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছিল।

২০২১ সালের ৭ জুলাই প্রথমবারের মতো দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ৫ ও ১০ আগস্ট ২৬৪ জন করে মৃত্যু হয়, যা মহামারির মধ্যে একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু। এরপর বেশকিছু দিন ২ শতাধিক মৃত্যু হয়।

এরপর গত ১৩ আগস্ট মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ এর নিচে নামা শুরু করে। দীর্ঘদিন শতাধিক থাকার পর গত ২৮ আগস্ট মৃত্যু ১০০ এর নিচে নেমে আসে।

গত ২০ এপ্রিল করোনায় মৃত্যুর খবর দিয়েছিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর টানা ৩০ দিন করোনায় মৃত্যুশূন্য দিন পার করে বাংলাদেশ। সম্প্রতি করোনায় মৃত্যু বেশি না হলেও আক্রান্তের সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে।

Daily World News

পদ্মা সেতু চালু হলেও শিমুলিয়া-মাঝিরঘাটে ফেরি চলবে: নৌ প্রতিমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনে রূপসায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত

// আ: রাজ্জাক শেখ//

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন  উপলক্ষে খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতি ইউনিয়নের মিল্কি দেয়াডা  ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক আনন্দ মিছিল ও আলোচনা সভা ২৫জুন বিকালে অনুষ্ঠিত হয়। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউপি সদস্য আলহাজ্ব শেখ মো: আনিসুর রহমান মিঠুর নেতৃত্বে  এক মিছিল ইউনিয়নের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মিল্কি দেয়াড়া বাজার মোড় এলাকায় এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সভায় বক্তৃতা করেন জেলা কৃষক লীগের সদস্য মোশারফ হোসেন কুটি,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ আসলাম শেখ,ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ রিপন,  উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদ খান রাসেল, ইউপি সদস্য মিরাজ মল্লিক, আবুল বাশার, আবুল কালাম আজাদ, রুহুল আমিন।

এ সময়  শহীদুল ইসলাম, মোঃ রফিকুল ইসলাম, আকাশ ঢালী,  বাবু,শামীম ওসমান, রিপন, নূরনবী, বাবু কাজী, মিজান মোড়ল, সোহাগ হোসেন, আরিফ, সজল খান, আনোয়ার হোসেন, শুকুর, হাসান, সোহেল, নুরজাহান  শিউলি. রেশমা, আসমা,রোজিনাসহ শত শত নারী পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন// খুলে গেল স্বপ্নের দ্বার

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

অবশেষে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। যেদিনের অপেক্ষায় ছিলেন দেশের সর্বস্তরের মানুষ। স্বপ্নের পদ্মা সেতুর দ্বার শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া কেন্দ্র করে প্রমত্তা পদ্মার দুই পারে চলছে মহাকর্মযজ্ঞ। এই মাহেন্দ্রক্ষণে যুক্ত হলেন ‘পদ্মাকন্যা’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার বেলা ১২টায় পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করেন তিনি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে গত তিন দিন ধরেই পদ্মাপার এলাকা সেজেছে বর্ণিল রূপে। নানা রঙ-বেরঙের ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে পদ্মাপার। পদ্মা বহুমুখী সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রমত্তা পদ্মায় লাল-সবুজের ৮০টি নৌকা প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে শনিবার সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার নেতৃত্বে আমরা এই বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি। জাতীয় তিন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। ‘৭৫-এর ১৫ আগস্টের ঘাতকের বুলেটে নিহত হয়েছেন তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।

পদ্মা সেতু নির্মাণসংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সেতু নির্মাণের সময় আমাদের অনেক ষড়যন্ত্র পোহাতে হয়েছে। অনেক যন্ত্রণা পোহাতে হয়েছে। আমার ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, শেখ রেহানা, রেদোয়ান মুজিব, সাবেক যোগাযোগমন্ত্রী আবুল হোসেনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।

শেখ হাসিনা এ সময় দেশবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, যারা এই পদ্মা সেতুর জন্য জমি দান করেছেন, তাদের এ ত্যাগের জন্য ধন্যবাদ জানাই।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন কেন্দ্র করে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করতে যেন দম ফেলার ফুরসত নেই এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে শুধু তাই নয়, কেরানীগঞ্জ থেকে শুরু করে মাওয়া এবং ওপারের শরীয়তপুর-মাদারীপুরের আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের রঙ-বেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন জানান দিচ্ছে শনিবারের প্রস্তুতির।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক থেকে শুরু করে আশপাশের সংযোগ সড়ক কোথাও বাদ নেই যেখানে পড়েনি ব্যানার-ফেস্টুনের ছোঁয়া।

শুধু রাজনীতিবিদই নয়, বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানও পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে ঘিরে নিজেদের আনন্দের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।

সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক পদ্মা সেতু:  বিরোধীদলীয় নেতা

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ এমপি বলেছেন, দেশের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। পদ্মা সেতু শুধু একটি অবকাঠামো নয়, এটা দেশের সক্ষমতা ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। আত্মমর্যাদা সম্পন্ন বাঙালির গর্বের আরেকটি নতুন সংযোজন পদ্মা সেতু। প্রত্যাশা ও প্রতিজ্ঞার মেলবন্ধন পদ্মা সেতু।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে এত সমস্যা মোকাবিলা করে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এ সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক লাইফ লাইন রূপে কাজ করবে। বাণিজ্য, আঞ্চলিক বাণিজ্য, দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ, শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা, কৃষি সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতু বাঙালির আত্মমর্যাদা এবং আত্মনির্ভরতার এক অনন্য সোপান উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন ও বহু কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু আজ আর স্বপ্ন নয়। তিনি বলেন, নিঃসন্দেহে এটা আমাদের অনেক বড় অর্জন, অনেক বড় সফলতা এবং অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। এই অর্জনের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং অগ্রগতির নতুন যুগে প্রবেশের দারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ আজ নতুন এক পরিচয়ে পরিচিত। যে পরিচয় সম্মানের গৌরবের সফলতায় এবং সক্ষমতার। খরস্রোতা পদ্মার বুকে পদ্মা সেতু আজ বাস্তবতা। এটা আমাদের অহংকার।

বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, বহু বিস্ময় ও রেকর্ডের জন্ম দেওয়া সেতুটির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরবে। এর ফলে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ প্রত্যক্ষভাবে উপকৃত হবে আর পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে দেশের মানুষ। পদ্মা সেতুর মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাফল্যের মুকুটে যুক্ত হোক নতুন পালক, এ প্রত্যাশা করেন রওশন এরশাদ।

Daily World News

রাত পোহালেই উদ্বোধন স্বপ্নের সেতু পদ্মা, দুর্ভোগ কমবে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

রাত পোহালেই উদ্বোধন স্বপ্নের সেতু পদ্মা, দুর্ভোগ কমবে খুলনাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল

//আ. রাজ্জাক শেখ//

পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনা থেকে রাজধানীতে যেতে সময় কম লাগবে। ফেরিঘাটে আর অপেক্ষা করতে হবে না ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ফলে সেই দুর্ভোগও আর থাকবে না। রপ্তানিকারকরা আগ্রহী হবে মোংলা বন্দরের প্রতি। ফলে আরও গতিশীল হবে বন্দরটি। আর এর সুবিধা পাবেন খুলনার চিংড়ি ও পাটশিল্প রপ্তানিকারকরা। এ ছাড়া খুলনা, মোংলা ও আশপাশে গড়ে উঠবে নতুন নতুন শিল্পকারখানা।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান জানান, খুলনার মানুষ এখন সড়কপথে দৌলতদিয়া অথবা মাওয়া ঘাট দিয়ে বাসে রাজধানীতে যান। কিন্তু ফেরির জন্য ঘাটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। খুলনা থেকে রাজধানীতে যেতে সময় লাগে ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা। ঈদের সময়, শীতকালে কুয়াশায় কিংবা বৈরী আবহাওয়া থাকলে ফেরিঘাটের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। খুলনা থেকে ট্রেনে ঢাকায় যেতেও প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তিনি জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনা থেকে বাসে ঢাকায় যেতে সময় লাগবে মাত্র চার ঘণ্টা। এর ফলে সময় কমার পাশাপাশি খুলনার মানুষের দুর্ভোগও কমে যাবে। এ ছাড়া খুলনা থেকে মাঝে মধ্যে গুর“তর রোগী অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার ক্ষেত্রে যে বিড়ম্বনা ছিল, তা আর থাকবে না।
আশরাফ উজ জামান বলেন, খুলনার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সবজি ঢাকায় পাঠাতে অনেক দেরি হতো। অনেক সময় রাস্তায় ট্রাকেই সবজি নষ্ট হয়ে যেত। সেই সমস্যাও নিরসন হবে।
বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা থেকে বেশিরভাগ বাস এখন যশোর ও দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকায় যায়। মাওয়া দিয়ে ঢাকায় যাওয়া বাসের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম।
খুলনা মোটর বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবদুল গফফার বিশ্বাস জানান, পদ্মা সেতু চালু হলে খুলনার বেশিরভাগ মানুষই এই রুটে ঢাকায় যাওয়া-আসা করবে। সে কারণে মাওয়া রুটে বাসের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। দৌলতদিয়া হয়ে ঢাকা রুটে খুলনা থেকে বাসের সংখ্যা কমে যাবে।
মোংলা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি সড়ক যোগাযোগ না থাকায় আগে মোংলা বন্দরের প্রতি রাজধানীর গার্মেন্টস মালিকরা আগ্রহী হতো না। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন পণ্য আমদানিকারকরাও চট্টগ্রাম বন্দরের প্রতি ঝুঁকত।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানীর সঙ্গে মোংলার দূরত্ব কমে যাবে, যোগাযোগ সহজ ও সময় সাশ্রয় হবে। তখন রাজধানীর আমদানি-রপ্তানিকারকরা এই বন্দরের প্রতি আগ্রহী হবে। মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাড়বে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দরে কাজের ক্ষেত্রে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য এরই মধ্যে বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ক্রেনসহ আধুনিক বেশ কয়েকটি যন্ত্রপাতি কেনা হয়েছে। নতুন করে জেটি তৈরি ও পশুর চ্যানেল ড্রেজিং করা হচ্ছে। ড্রেজিং সম্পন্ন হলে ৯ মিটার গভীরতার জাহাজ এই বন্দরের জেটি পর্যন্ত আসতে পারবে।
মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২০-২১ অর্থবছরে মোংলা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসে ৯৭০টি। চলতি অর্থবছরের এপ্রিল পর্যন্ত ৭৭৬টি জাহাজ এসেছে। শিগগিরই এই সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
মোংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা বন্দর আরও গতিশীল হলে খুলনা অঞ্চলের অর্থনীতিও গতিশীল হবে। মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।
বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএ) সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী জানান, বর্তমানে তাঁরা কাঁচা পাট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করেন। কিন্তু ফেরিঘাটের সমস্যার কারণে খুলনা থেকে কাঁচা পাট চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। পদ্মা সেতু চালু হলে সময় ও অর্থ সাশ্রয়ের পাশাপাশি দুর্ভোগও কমবে।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি হুমায়ূন কবীর জানান, তাঁরাও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুলনা থেকে হিমায়িত চিংড়ি চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করেন। পদ্মা সেতু চালুর পর চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠাতে আগের বিড়ম্বনাগুলো নিরসন হবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বুলু বিশ্বাস জানান, পদ্মা সেতু চালুর পর খুলনা, মোংলা ও আশপাশের এলাকায় নতুন নতুন শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে।

কচুয়ায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভা

কচুয়া(বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয শীর্ষক আলোচনা সভা  অনুষ্ঠিত  হয়েছে।

বৃহস্পতিবার উপজেলা ইসলামিক ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে উপজেলা পর্যাযে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধে করণীয় শীর্ষক আলোচনা সভায়  উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া থানার ইনচার্জ মনিরুল ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার ইসলামিক ফাউন্ডেশন অলিউর রহমান, মডেল কেয়ারটেকার খান এমদাদুল হক, অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাধারণ কেয়ারটেকার মোঃ এরশাদ আলী, সাধারণ কেয়ারটেকার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সহ সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।