বাগেরহাটের কচুয়ায় অবৈধ ইট ভাটা ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে নিভিয়ে দিয়েছে

//কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি//

কচুয়ায় অনুমতি বিহীন ইট ভাটায় জালানি কাঠদিয়ে ইট পোড়ানোর সময় কচুয়া ফায়ার সার্ভিস পানি দিয়ে নিভিয়ে দিয়েছে।

সোমবার বিকালে উপজেলা ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামের রশিদ মল্লিকের পুত্র সেলিম মল্লিকের (কেএলওয়াই) নামক অনুমতি বিহীন ইট ভাটায় জালানি কাঠ দিয়ে ইটা পোড়ানোর সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার জীনাত মহল ভ্রম্যমান আদাল পরিচালনা করে কচুয়া ফায়ার সার্ভিস দিয়ে ইটের পাজার আগুন নিভিয়ে বিনষ্ট করে দিয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়ায়  বি- ২৮ জাত ধানের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডূমুরিয়া সংবাদদাতা//

খুলনা-বগেরহাট-সাতক্ষীরা- গোপালগঞ্জ- পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় জমিতে সুষম মাত্রায় সার প্রয়োগের মাধ্যমে বোরো ধান উৎপাদনের উপর মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার ২৫ এপ্রিল   জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়নের ভেলকামারি বিলে বৈশাখী  টেলিভিশনের খুলনা প্রতিনিধি  শেখ হেদায়েতুল্লাহর জমিতে চাষকৃত বিআর ২৮ জাতের ধান কর্তন  ও মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,  গোপালগঞ্জ-খুলনা-বগেরহাট-সাতক্ষীরা পিরোজপুর কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও খুলনা মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অমরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস।

প্রকল্প পরিচালক  বলেন, আমাদের দেশে প্রতিবছর আবাদি জমির পরিমাণ কমছে। জলবায়ু পরিবর্তনন জনিত কারণে জমিতে লবণাক্ততার পরিমান বাড়ছে। তাই ফসল উৎপাদনে মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পরিমাণ মত সুষম সার কীটনাশক প্রয়োগ করলে ফসলের ফলন অনেকটাই বাড়বে। তিনি আরো বলেন, আবাদি জমির পরিমান কমলেও জনসংখ্যা বাড়ছে তাই খাদ্যের চাহিদাও বাড়ছে এজন্য আমাদের রকমারি ফসল উৎপাদনের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বিআর-২৮ জাতের ফলনে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রকল্পের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শামসুন নাহার রত্না, মৃত্তিকা সম্পদ ইন্সটিটিউটের শেখ রফিকুল ইসলাম । মাঠদিবসে ভেলকামারি বিলের প্রায় ৫০জন বোরো ধান চাষী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

পূর্ণাঙ্গ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের দাবিতে তালতলীতে মানববন্ধন ও স্মারক লিপি প্রদান

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলার ফকিরহাটে ইলিশ পাইকারী বিক্রির জন্য পূর্ণাঙ্গ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সহস্রাধিক মৎস্যজীবীরা। বিগত ১৮ এপ্রিল ফকিরহাটে উপ-মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হিসেবে উদ্বোধন করা হয়।

সোমবার (২৫ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার ফকিরহাটে উপ-মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের অফিসের সামনের রাস্তায় কয়েক হাজার মৎস্যজীবীসহ বিভিন্ন সেচ্ছাসেবী সংগঠনের নারী-পুরুষ মানববন্ধনে অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধন শেষে  তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এর মাধ্যমে বিএফডিসি চেয়ারম্যান বরাবরে পূর্ণাঙ্গ মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ দাবির সঙ্গে একাত্বতা প্রকাশ করেন তালতলীর উপজেলা শ্রমিক ইউনিয়ন, ফকিরহাট মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতি, মৎস্য বাজার ঘাট শ্রমিক ইউনিয়নসহ একাধিক সেচ্ছাসেবী সংগঠন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ফকিরহাট মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি ও সোনাকাটা ইউপি চেয়ারম্যান সুলতান ফরাজী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির আকন, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক মারুফ রায়হান তপু, মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক মজিবর রহমান ফরাজী, উপজেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠু, উপজেলার সেচ্ছাসেবি সংগঠণের আহবায়ক জিয়াউল হক রুবেল ও সাংবাদিক ফোরামের সম্পাদক হাইরাজ মাঝী প্রমুখ।

বক্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী এলাকা এখানের মৎস্যজীবীদের সুবিধার্থে এবং দেশের রাজস্বের স্বার্থে বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি) ফকিরহাট উপ-মৎস্য অবতরণ ও পাইকারী মৎস্য বাজার স্থাপন করেন। এই ফকিরহাট মৎস্য অবতরণ দেশের বড় একটি অর্থনীতির ভূমিকা রাখছে এখানকার মৎস্যজীবীরা। ফকিরহাটের জেলেরা বঙ্গোপসাগরসহ তৎসংলগ্ন বলেশ্বর, বিষখালী ও পায়রা নদী থেকে আহরিত করে সামুদ্রিক মাছ বিক্রি করা হচ্ছে পাথরঘাটা বিএফডিসিতে। এতে জেলেদের ও আড়তদার মালিকদের অনেক টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। এই ফকিরহাটে পূর্ণাঙ্গ বিএফডিসি মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হলে প্রতি বছর সরকার এখান থেকে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব আহরণ করতে পারবে।

English Dainikbiswa

ছাত্র-নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সংঘর্ষে নাহিদ হত্যায় জড়িত ৬ছাত্র শনাক্ত

ফের তেলের দাম বেড়ে কততে গিয়ে দাড়ালো…!

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ফের ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাম অয়েলের সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ইন্দোনেশিয়া রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণায় বাজারে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে। একদিনের ব্যবধানে সয়াবিনের দাম প্রতি লটারে ২০ টাকা এবং পাম অয়েলের দাম প্রতি লিটারে ২৫ টাকা বেড়েছে। সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও তেল মিলছে না। এমনকি বাজারে সয়াবিনের সরবরাহও কমে গেছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দামও বাড়ছে। এ কারণে মিল মালিকরা আবারও ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু সরকার এ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলছে-ঈদের পর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠক করে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে ঈদ সামনে রেখে ভোজ্যতেলের চাহিদা বাড়ায় বাজারে এখন সয়াবিনের সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। মিল মালিকরা সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলে খুচরা ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন। তবে মিল মালিকরা বলছেন তারা চাহিদা অনুযায়ী তেলের জোগান দিয়ে যাচ্ছেন। সরবরাহ কমানো হয়নি।

ইন্দোনেশিয়া নিজেদের বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কমাতে ও জোগান বাড়াতে শনিবার পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হবে। এখন যেসব তেল রপ্তানির জন্য জাহাজীকরণের পাইপলাইনে রয়েছে, সেগুলো রপ্তানি করা যাবে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। এরপর থেকে আর তেল রপ্তানি করা যাবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে। বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া থেকে যেসব পাম অয়েল আমদানির এলসি খোলা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে যেসব এলসির অর্থ পরিশোধ করা তা দেশে আনার জন্য ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করছেন। তবে এখন আর নতুন এলসি খোলা হচ্ছে না। একই সঙ্গে নতুন করে এলসির অর্থ পরিশোধও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিশ্বব্যাপী পাম অয়েলের ৩৯ শতাংশই রপ্তানি করে ইন্দোনেশিয়া। মালয়েশিয়া করে ২৭ শতাংশ। বাকি পাম অয়েল রপ্তানি করে অন্যান্য দেশ। তবে মালয়েশিয়া এখনো পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করেনি। দুটি দেশই পাম অয়েল উৎপাদন সোয়া ৫ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া উৎপাদন করবে ৪ কোটি ৭১ লাখ টন এবং মালয়েশিয়া করবে ১ কোটি ৮৯ লাখ টন।

ইন্দোনেশিয়ার পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করার ঘোষণার পর একদিনের ব্যবধানে রোববার দেশের বাজারে খোলা সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। অথচ সরকার নির্ধারিত মূল্য হচ্ছে ১৩৬ টাকা। কোথাও এই দরে তেল পাওয়া যাচ্ছে না। বাড়তি মুনাফার আশায় ব্যবসায়ীরা বাজার থেকে সয়াবিন তেল উধাও করে ফেলেছেন। তারা মনে করছেন একদিনে আটকে রাখতে পারলেই দাম বেশি পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে সরকার প্রতি লিটার খোলা পাম অয়েলের দাম ১৩০ টাকা নির্ধারণ করে। কিন্তু ওই দামে বাজারে পাম অয়েল পাওয়া যায়নি। এক মাস আগে ছিল ১৪০ টাকা লিটার। এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৫০ টাকা। দুই দিন আগে ছিল ১৬০ টাকা। রোববার বাজারে প্রতি লিটার পাম অয়েল বিক্রি হয়েছে ১৭৫ টাকা।

বাজার তদারকি সংস্থা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, তেল নিয়ে যাতে ঈদের আগে নতুন করে নৈরাজ্য না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দাম বেড়ে যাওয়ার তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। আমরা ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করব। কোনো দেশ এখন যদি রপ্তানি বন্ধ করে, এতে দেশের বাজারে এখনই দাম বেড়ে যাওয়ার কথা নয়। কারণ এই প্রভাব বাজারে পড়তে সময় লাগবে। আমরা তা খতিয়ে দেখছি। পাশাপাশি ভোজ্যতেল নিয়ে যাতে কোনো ধরনের কারসাজি বা কৃত্রিম সংকট না করতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত নজরদারি করা হচ্ছে। মিল থেকে শুরু করে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মিলে কী পরিমানে মজুত আছে, সে হিসাব নেওয়া হচ্ছে। কী দরে আমদানি করা হয়েছে, সেদিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। এছাড়া ব্যবসায়ীরা তেলের দাম বাড়াতে প্রস্তাব দিয়েছে। ঈদের পর সভা করে দাম বাড়ানো হবে কি না, এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত দেবে। পরিস্থিতি যা হোক, তেল নিয়ে আর নৈরাজ্য হতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ গোলাম মাওলা বলেন, ইন্দোনেশিয়ার এ নিষেজ্ঞার কারণে সব ধরনের ভোজ্যতেলের দাম বাড়বে। এরই মধ্যে বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বেড়েছে, সামনে আরও বাড়বে।

সূত্র জানায়, দেশে বছরে শিল্প ও খাদ্য মিলে সাড়ে ২৪ লাখ টন ভোজ্যতেলের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ টন ব্যবহৃত হয় খাদ্য হিসাবে। বাকি ৪ লাখ টনের বেশি ব্যবহৃত হয় শিল্প খাতে। দেশে মোট চাহিদার ৬৭ শতাংশই পাম অয়েল দিয়ে মেটানো হয়। এর মধ্যে খাদ্যের চাহিদা ৫৮ শতাংশ। ৩৭ শতাংশ মেটানো হয় সয়াবিন তেল এবং বাকি ৫ শতাংশ অন্যান্য তেল দিয়ে। সয়াবিনের চেয়ে পাম অয়েলের আমদানি বেশি হলেও বাজারে বেশি পাওয়া যায় সয়াবিন তেল। অনেক সময় সয়াবিনের নামে পাম অয়েল বিক্রি করার অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিশ্বের বৃহত্তম পাম অয়েল উৎপাদনকারী দেশ ইন্দোনেশিয়া। মোট চাহিদার ৩৯ শতাংশই তারা রপ্তানি করে। এর পরেই মালয়েশিয়ার অবস্থান। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চীন, শ্রীলংকা সীমিত আকারে পাম অয়েল উৎপাদন করে। বাংলাদেশ প্রতিবছর গড়ে ১৬ লাখ টন পাম অয়েল এবং সাড়ে ৮ লাখ টন সয়াবিন তেল আমদানি করে। অর্থাৎ সয়াবিনের প্রায় দ্বিগুণ পাম অয়েল আমদানি হয়। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৭৪ কোটি ডলারের ৯ লাখ টন এবং মালয়েশিয়া থেকে ১৮ কোটি ডলারের ২ লাখ টন পাম অয়েল আমদানি করে। এছাড়া সিঙ্গাপুর থেকে বাণিজ্যিকভাবে ৬৬ লাখ ডলারের ৭ হাজার টন, চীন থেকে আড়াই লাখ ডলারের ২৭০ টন পাম অয়েল আমদানি হয়।

দেশের মোট চাহিদার ৭২ শতাংশ পাম অয়েল ইন্দোনেশিয়া থেকে আমদানি হয়। এখন ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করলে ভোজ্যতেলের বাজারে বড় সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের পাশাপাশি পাম অয়েলের দামও বাড়তে শুরু করেছে। ইন্দোনেশিয়া তেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞার কারণে পাম অয়েলের দাম আরও বেড়েছে। সয়াবিন তেল এক বছর আগে প্রতি টন বিক্রি হয়েছে ১ হাজার ১০ ডলারে। এর দাম বেড়ে গত সপ্তাহে ২ হাজার ৫ ডলারে ওঠে। পরে কিছুটা কমে ১ হাজার ৮৮৬ ডলারে নেমে এসেছে। ইন্দোনেশিয়া পাম অয়েল রপ্তানি বন্ধ করার পর শনিবার থেকে এর দাম আবার বাড়তে শুরু করেছে। ওইদিন গড়ে ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৯০০ ডলারে উঠেছে। রোববার তা আরও বেড়ে ১ হাজার ৩০ ডলারে উঠেছে। এদিকে এক বছর আগে প্রতি টন পাম অয়েলের দাম ছিল ৯৬০ ডলার। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ ডলার। রোববারও বন্ধের মধ্যেই পাম অয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। ওইদিন প্রতি টন ১ হাজার ৭৬৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজার পুরো চালু হলে এর দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ড. গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বাড়লে দেশের বাজারেও এর প্রভাব পড়বে-এটাই স্বাভাবিক। তবে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ে ৩০ শতাংশ ভ্যাট মওকুফ করা হয়েছে। সে মোতাবেক তদারকি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজার পর্যালোচনা করতে হবে। যদি দাম বাড়াতে হয়, তবে সরকারের পক্ষ থেকে ভোক্তার স্বার্থ বিবেচনায় আর কীভাবে সহায়তা দেওয়া যায়, তা পর্যালোচনা করে যৌক্তিক দাম নির্ধারণ করতে হবে। তেল নিয়ে যাতে নৈরাজ্য না হয়, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে। পাশাপাশি টিসিবির মজুত বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের কাছে ভর্তুকি মূল্যে সরবরাহ বাড়াতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ একটু হলেও স্বস্তিতে থাকতে পারবে।

সূত্র জানায়, দেশে সয়াবিন ও পাম অয়েলের চাহিদার চেয়ে বেশি মজুত রয়েছে। যে পরিমাণ অপরিশোধিত তেল আমদানি হয়েছে, সেগুলো দিয়ে কমপক্ষে আরও তিন মাস চলবে। এদিকে বাড়তি দামে যেসব তেল আমদানি হবে, সেগুলোর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে পাম অয়েল দেশে আসতে ২ মাস সময় লাগবে। এগুলো পরিশোধিত হয়ে খুচরা বাজারে আসতে আরও ২ মাস সময় লাগবে। সব মিলিয়ে আরও ৪ মাস সময় লেগে যাবে। অন্যদিকে সয়াবিন তেল আমদানি হয় ব্রাজিল, কানাডা, ইউক্রেন, চীন থেকে। এসব দেশ থেকে বাড়তি দামে সয়াবিন আসতে কমপক্ষে তিন মাস সময় লাগবে। সেগুলো পরিশোধিত হয়ে বাজারে আসতে সময় লাগবে আরও ২ মাস।

কিন্তু মিল মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার অজুহাতে এখনই দাম বাড়াতে চাচ্ছে। অথচ এসব তেল কমপক্ষে তিন মাস আগে আমদানি করা হয়েছে। তখন সয়াবিনের দাম ছিল প্রতি টন ১ হাজার ৬০০ ডলার এবং পাম অয়েলের ১ হাজার ১৬০ ডলার। কম দামে তেল আমদানি করে বেশি দামে বিক্রির জন্য একটি সিন্ডিকেট উঠেপড়ে লেগেছে। তারা সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করে দাম বাড়াতে চাচ্ছে। এদিকে সরকার দাম না বাড়ালেও মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আমদানি করা পাম অয়েলের মধ্যে সাড়ে ৪ লাখ টন শিল্প খাতে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে রুটি, বিস্কুট, তৈজসপত্র রয়েছে। বেশি দামে পাম অয়েল আমদানির কারণে এগুলোর দামও বাড়বে।

জানা যায়, বিশ্বে সবচেয়ে বেশি পাম অয়েল আমদানি করে ভারত। দ্বিতীয় স্থানে চীন, তৃতীয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চতুর্থ স্থানে পাকিস্তান। বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষ ১০ আমদানিকারক দেশের মধ্যে রয়েছে।

এদিকে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে তেলবীজ উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পাম উৎপাদনে এখন বেশি নজর। কেননা পাম অয়েলে লাভ বেশি। এক একরে পাম চাষ করে মাসে এক লাখ টাকা আয় করা সম্ভব। প্রতি গাছে মাসে ১ হাজার টাকা আয় হয়। একটি পরিবারের সারা বছরের চাহিদা মেটাতে দুটি গাছই যথেষ্ট। একবার বিনিয়োগ করলে ৬০-৭০ বছর আয় করা যায়। রোপণের ৩-৪ বছর থেকেই ফল দিতে শুরু করে। অন্যান্য গাছের চেয়ে ১০ গুণ বেশি অক্সিজেন দেয়।

দেশে বর্তমানে ৭ লাখ ২৪ হাজার একর জমিতে পাম চাষ করা হয়। এ চাষাবাদ আরও ১৫-২০ শতাংশ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ২০ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ করা সম্ভব। পাম ফল সিদ্ধ করে পিষে তেল বের করা যায়। মেশিনেও করা যায়। টঙ্গীর মাজুখানে ইতোমধ্যে পাম অয়েল পরিশোধন কারখানা স্থাপন করা হয়েছে। কুমিল্লায়ও পাম চাষ শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে পাম অয়েল থেকে তেল পরিশোধনের যন্ত্র আবিষ্কার করেছে। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে এখন পর্যন্ত ২০ লাখ পামচারা রোপণ করা হয়েছে। যুগান্তর

.English Dainikbiswa

বরিশালে জমি সংক্রান্তের জের ধরে পুলিশ সদস্য পরিবারের উপর হামলা

বাগেরহাটের কচুয়ায় গৃহ প্রদাণের লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের প্রেস ব্রিফিং

কচুয়া, (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥

‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ প্রদান’ কার্যক্রমের উদ্বোধন  উপলক্ষে কচুয়া উপজেলা প্রশাসন প্রেস ব্রিফিং করেছে।

রবিবার বিকাল ৩টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে প্রেস ব্রিফিং এ উপজেলা নির্বাহী অফিসার জীনাত মহলের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা সরোয়ার। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) মাহেরা নাজনীন, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ শিকদার,তাসলিমা বেগম সহ উপজেলায় কর্মরত সাংবাদিক বৃন্দ।

২৬ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের পর ২৩টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি এবং গৃহ হস্তান্ত করাহবে।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার সভাপতি অখিল ও মহাসচিব রব্বানী নির্বাচিত

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থার (বিসিক) কর্মকর্তা সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক অখিল রঞ্জন তরফদার এবং মহাসচিব নির্বাচিত হয়েছেন হিসাব ও অর্থ বিভাগের নিয়ন্ত্রক জি. এম. রব্বানী তালুকদার।

সোমবার বিসিক কর্মকর্তা সমিতি নির্বাচন-২০২২ উপলক্ষ্যে গঠিত নির্বাচন কমিশন এক দাপ্তরিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ফলাফল ঘোষণা করেছে।

গত ১১ এপ্রিল এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিসিক প্রধান কার্যালয়সহ সারাদেশের ২১টি ভোটকেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বিসিক কর্মকর্তারা।

পরিকল্পনা ও গবেষণা বিভাগের পরিচালক নেপাল চন্দ্র কর্মকার প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এবং সহকারী নির্বাচন কমিশনার হিসেবে এ.এম. বজলুর রশীদ, উপমহাব্যবস্থাপক (অব:) ও বশীর আহমেদ, মহাব্যবস্থাপক (অব:) এই নির্বাচন পরিচালনা করেন।

 

১১টি মহিষ চুরি হওয়ায় অশ্রু ঝরছে তালতলীর রাখাইন নারী লাক্রোনের

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ অশ্রু জল গড়িয়ে পরছে নিজের ১১ টি মহিষ চুরি হওয়া তালতলীর উপজাতীয় নারী লাক্রোন (৪৫) এর।লাক্রোন নিজের নারীর ১১টি মহিষ চুরির বিষয়ে অভিযোগ করেন তার সাবেক স্বামী অংচান (৫০), ম্যথুজ (৪৭) সহ নুরু আলম (৪০) নামে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।

সোমবার (১৮ এপ্রিল) তালতলীতে রাখাইনদের নববর্ষ উৎসব জলকেলি শুরু হলেও তার ছিলনা কোন উৎসবের আমেজ।সকলে যখন উৎসবের আনন্দে তখন লাক্রো কান্না জড়িত অশ্রুজলে তার চুরি হওয়া ১১টি মহিষের বিষয়ে সংবাদ মাধ্যমের কাছে এমন অভিযোগ করেন।

লাক্রোন তালুকদারের অভিযোগ,তার সাথে পারিবারিক ভাবে তালতলী পাড়ার একই এলাকার মৃত চথ অং এর ছেলে অংচানের সাথে প্রায় ২২ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর বিভিন্ন নারী সহ জুয়া নেশায় আসক্ত হওয়ায় ১৬ বছর আগেই স্বামীকে তালাক দেন। এরপর থেকেই লাক্রোনকে তার স্বামী বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে।

তিনি বলেন,আমার সাবেক স্বামী পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আমার ১১টি মহিষ চুরি করে নিয়ে গেছে।চুরি হওয়া ১১টি মহিষের দাম প্রায় ৩০ লাখ টাকা কিন্তু আমার সাবেক স্বামী সাড়ে ৬ লাখ টাকায় বিক্রী করে দিয়েছে। আমি মহিষগুলো উদ্ধারের দাবি করছি।

এ বিষয় তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাখাওত হোসেন তপু বলেন,লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মুক্তিযুদ্ধের পর রাশিয়া বাংলাদেশের বন্দর চালু করতে কিকি করেছিল

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

মুক্তিযুদ্ধের ঠিক পর পরেই সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ জটিল এক সমস্যার মুখোমুখি হয়।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটিতে আমদানি-রপ্তানি শুরু করা দরকার। কিন্তু চট্টগ্রাম ও চালনা (এখনকার মোংলা) বন্দর চালু করা যাচ্ছিল না, কারণ পাকিস্তানি বাহিনী অসংখ্য মাইন ফেলে রেখেছে।

মাইন ছাড়াও গেরিলা বাহিনীর অভিযান ও ভারতের হামলায় ডুবে যাওয়া ছোট-বড় অসংখ্য জাহাজ কর্ণফুলী নদীর মোহনায় ডুবে ছিল। ফলে বন্দরে কোন জাহাজ ভেড়ানো যাচ্ছিল না।

সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে নৌপথে আমদানি-রপ্তানি চালু করতে না পারায় ব্যবসা-বাণিজ্য আটকে গিয়েছিল।

বাংলাদেশের প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বিবিসি বাংলার মোয়াজ্জেম হোসেনকে বলেছেন, ”চিটাগাং পোর্ট তখন বন্ধ, কারণ পাকিস্তানিরা মাইন ফেলে রেখেছে। সেটাকে ডি-মাইন (মাইন মুক্ত) করতে হবে। আমাদের সব ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। সেটা ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।”

“আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য তখন পুরোপুরি বন্ধ, কারণ বন্দর ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বঙ্গবন্ধু আমাকে বললেন, আপনি জাতিসংঘের সাথে আলাপ করুন। তিনি চাননি বন্দর মাইন মুক্ত করার কাজে কোন বৃহৎ শক্তি জড়িত হোক। কারণ দেশের নিরাপত্তা নিয়ে তার মধ্যে উদ্বেগ ছিল,” বলছিলেন নুরুল ইসলাম।

মুক্তিযুদ্ধের পর রাশিয়া বাংলাদেশের বন্দর চালু করতে কিকি করেছিল
১৯৭১ সালে চট্টগ্রামে মোতায়েন করা রাশিয়ান টাস্কফোর্স

 

কিন্তু চট্টগ্রাম বন্দর মাইন মুক্ত করার কাজে জাতিসংঘের সাহায্য পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ থেকে জাতিসংঘের সহায়তা চাওয়া হলে তারা জানায়, যেহেতু সংস্থাটি অনুদান নিয়ে চলে, তাই অর্থ সংগ্রহ, সরঞ্জাম সংগ্রহ ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান তৈরিতে সময় লাগবে।

তবে এ ব্যাপারে সাহায্য এসেছিল সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকেই।

প্রথম পরিকল্পনা কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, ”ওরা (সোভিয়েত ইউনিয়ন) এই ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। বললো, তোমরা কেন চট্টগ্রাম বন্দর চালু করছো না, তোমাদের তো ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ। ”

”উনি (শেখ মুজিবুর রহমান) কিন্তু সেটায় তাড়াতাড়ি রাজি হননি। কারণ বিগ পাওয়ার, কি করে না করে। উনি জাতিসংঘের সহায়তার জন্য চেষ্টা করতে বললেন। আমি সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে একটু সময় নিলাম। ”

এরপর বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান যখন তার প্রথম বিদেশ সফরে মার্চ মাসে সোভিয়েত ইউনিয়নে যান, তখন আবার এই প্রসঙ্গটি ওঠে।

যে বৈষম্যের কারণে বাঙালিরা পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়

যেভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছিল ‘অপারেশন সার্চলাইট’

অধ্যাপক নুরুল ইসলাম বলছিলেন, “বঙ্গবন্ধু যখন তার প্রথম সফরে সোভিয়েত ইউনিয়নে গেলেন, তখন আমি সাথে ছিলাম। তখন ওরা বললো, কি ব্যাপার, তোমরা এটা চাইছো না। তোমাদের তো পোর্ট চলছে না। আমি বঙ্গবন্ধুকে বললাম, কি করবো?

”তিনি বললেন, একটু সময় চান। নিউইয়র্কে (জাতিসংঘে) আবার ফোন করেন। ওরা (জাতিসংঘের কর্মকর্তারা) বললো, কোন মতে বন্দোবস্ত করতে পারছি না, টাকা-পয়সা নেই। তোমাদের অন্য ব্যবস্থা দেখতে হবে, না হলে আমাদের সময় দিতে হবে। সময় দিলে তো আমাদের পোর্ট চলবে না। তখন আমি বঙ্গবন্ধুর কথা মতো রাজি হলাম, তোমরা করো।”

এরপর দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই মাসেই একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় রাশিয়া।

”এরপর ভ্লাদিভস্তক থেকে ওরা বিরাট দল পাঠালো চট্টগ্রামে। কাজটা ওরা বেশ দ্রুতই শেষ করেছিল”, বলছিলেন অধ্যাপক নুরুল ইসলাম।

ওই অভিযানে ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছে ঢাকায় রাশিয়ার দূতাবাস। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৭২ সালের ২১শে মার্চ সোভিয়েত নৌবাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে।

ভাইস অ্যাডমিরাল সের্গেই যুয়েঙ্কোর নেতৃত্বে এক হাজার নাবিকের একটি বিশেষ টাস্কফোর্স মাইন অপসারণের কাজ শুরু করে। ওই অভিযানে অংশ নিয়েছিল ২৪টি জাহাজ।

 

মুক্তিযুদ্ধের পর রাশিয়া বাংলাদেশের বন্দর চালু করতে কিকি করেছিল
মাইন এবং ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণ করে পুরো কাজ শেষ করতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সময় লেগেছিল ১৯৭৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

এসব জাহাজের মধ্যে ছিল ভাসমান ওয়ার্কশপ, মাইন সুইপার, দ্রুতগামী নৌকা, সমুদ্রগামী টাগ, একটি ট্যাঙ্কার, একটি এএইচটিএস জাহাজ, একটি ক্রেনবাহী বার্জ, একটি হাইড্রোগ্রাফিক সাউন্ডিং সিস্টেম সম্বলিত জাহাজ, ক্রুদের বহনকারী জাহাজ, স্টর্ম বোট, মোবাইল ডাইভিং স্টেশন এবং একটি ভাসমান গুদাম৷

তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনী বঙ্গোপসাগর থেকে মাইন অপসারণের কাজ শুরু করেছিল এপ্রিল মাসে। যদিও জুলাই মাসের মধ্যে জাহাজ চলাচলের একটি প্রণালি বের করে ফেলেছিল টাস্কফোর্স, কিন্তু মাইন এবং ডুবে থাকা জাহাজ অপসারণ করে পুরো কাজ শেষ করতে বিশেষ টাস্কফোর্সের সময় লেগেছিল ১৯৭৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত।

ঢাকায় রুশ দূতাবাসের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময় বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়া ২৬টি জাহাজ উদ্ধার করে এই টাস্কফোর্স। তার মধ্যে যুদ্ধের সময় ডুবে যাওয়া জাহাজ যেমন রয়েছে, তেমনি উনিশ শতকে ডুবে যাওয়া জাহাজও পাওয়া গেছে।

ওই অভিযানে কাজ করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন ইউরি রেডকিন নামের রাশিয়ার একজন নাবিক। তাকে পতেঙ্গায় বাংলাদেশ ন্যাভাল অ্যাকাডেমিকে কবর দেয়া হয়, যে জায়গাটি রেডকিন পয়েন্ট নামে পরিচিত।

ভাইস অ্যাডমিরাল সের্গেই যুয়েঙ্কো এবং তার দলকে ২০১২ সালের ২৭ মার্চ ‘মুক্তিযুদ্ধে বিদেশি বন্ধু’ হিসাবে সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সূত্র: বিবিসি

English Dainikbiswa

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ আইন।। জাল দলিল ও জবরদখলের সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছর জেল

৬১ টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সরকার

৬১ টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে সরকার

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

দেশের ৬১টি জেলা পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এসব জেলা পরিষদ বিলুপ্ত করেছে সরকার।

বিলুপ্ত করা জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের আগ পর্যন্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

রোববার উপসচিব মোহাম্মদ তানভীর আজম ছিদ্দিকী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী দেশের ৬১টি জেলা পরিষদের মেয়াদ প্রথম সভার তারিখ থেকে ৫ বছর উত্তীর্ণ হওয়ায় পরিষদগুলো বিলুপ্ত হয়েছে। এমতাবস্থায় জেলা পরিষদ আইনের ধারা ৮২ অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসক নিয়োগের আগ পর্যন্ত আইনের ধারা ৭৫-এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে প্রত্যেক জেলা পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা পরিচালনার জন্য প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা/ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে।

দেশের ৬১ জেলায় ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো জেলা পরিষদ নির্বাচন হয়। ২০১৭ সালের ১১ জানুয়ারি নির্বাচিতরা শপথ নেন। ওই বছরের জানুয়ারি মাসেই জেলা পরিষদগুলোর প্রথম বৈঠক হয়। ফলে পরিষদের ৫ বছরের মেয়াদ গত জানুয়ারিতেই শেষ হয়েছে।

জেলা পরিষদ আইন অনুযায়ী, পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার ১৮০ দিন আগে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

English Dainikbiswa

জগন্নাথপুরে বিকল্প ব্রীজের দাবীতে মেয়রের সাথে ব্যবসায়ী সমিতির সাক্ষাৎ

রাশিয়ার গ্যাস ইউক্রেন দিয়েই ইউরোপে সরবরাহ করবে গ্যাজপ্রম

খুলনার ডুমুরিয়ায় বিনামূল‍্যে সার বীজ বিতরণ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া  সংবাদদাতা//

‘ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি দপ্তরের আয়োজনে ১৭ এপ্রিল  রোববার বিকেলে খরিপ -১ মৌসুমে আউশ চাষবাদে প্ররোদনা কর্মসূচীর আওতায়  ক্ষদ্র ও প্রান্থিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল‍্যে বীজ সার বিতরন করা হযেছে। অফিসাস ক্লাব মিলানযতন অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব  করেন  সহকারী কমিশনার ভূমি মামুনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব‍্য দেন সাবেক মৎস‍্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি। আরো বক্তব‍্য কৃষি অফিসার মোচাদ্দেক হোসেন, উপজেলা  আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ  সম্পাদক শাহানেওয়াজ হোসেন,, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো: ওয়ালিদ হোসেন, সম্প্রসারণ  কর্মকতা সিফাত আল মারুফ, কৃষক হানিফ মোড়ল, রফিকুল ইসলাম প্রমুখ। প্রধান অতিথি কৃষি আবাদ করতে পারলে আমাদের দেশ  অর্থনীতি ভাবে ঘুরে দাড়াবে।

সরকার বিভিন্নভাবে সহায়তা দিযে কৃষক ও কৃষিজীবি মানুষদের পাশে দাড়িয়েছে।