এএমআর হতে পারে  করোনার চেয়েও ধ্বংসাত্মক, জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারির চেয়ে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আরও ধ্বংসাত্মক হবে যা সঠিকভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলে খাদ্য সুরক্ষা এবং উন্নতির পাশাপাশি ভৌগলিক অবস্থানসহ প্রতিটি জীবকে বিপন্ন করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোভিড-১৯ মহামারিটি আমাদের সময়ের সংজ্ঞায়িত জনস্বাস্থ্য সংকট যা ইতোমধ্যে ৩০ লাখেরও বেশি লোকের জীবন নিয়েছে। তবে অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) আকারে আসন্ন মহামারীটি বিশ্বস্বাস্থ্যের আরও বেশি ক্ষতি সাধন করবে।

মঙ্গলবার ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ‘অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স অন ওয়ান হেলথ গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপ’ এর প্রথম সভার উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে ধারণকৃত ভাষণটি অনুষ্ঠানে সম্প্রচারিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব নেতাদের সতর্ক করেন যে, অ্যান্টি ড্রাগ প্রতিরোধ কেবল মানব, প্রাণী এবং উদ্ভিদের স্বাস্থ্যকেই বিপন্ন করবে না, পাশাপাশি তা খাদ্য সুরক্ষা এবং এসডিজি (টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য) অর্জনের অগ্রগতির জন্যও হুমকি স্বরূপ।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, অ্যান্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্স ভৌগলিক অবস্থান এবং আর্থ-সামাজিক অবস্থা নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী এএমআর নিয়ন্ত্রণ এবং সংক্রমণ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ (আইপিসি) ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গ্লোবাল অ্যাকশন প্ল্যান-২০১৫ এবং এএমআর-তে জাতিসংঘের রাজনৈতিক ঘোষণা-২০১৬ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এটি সম্ভব।

এএমআর-তে গ্লোবাল লিডার্স গ্রুপের সহ-সভাপতি শেখ হাসিনা বার্বাডোসের প্রধানমন্ত্রী মিয়া আমোর মোটোলি এবং অন্যান্য বৈশ্বিক নেতাদের সাথে এএমআর এর হুমকির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একত্রে কাজ করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী এএমআরের আসন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য বিশ্বব্যাপী কৌশলগুলো কার্যকর ও সহযোগিতামূলক পদ্ধতির মাধ্যমে কার্যকর করার জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও), এফএও (খাদ্য ও কৃষি সংস্থা) এবং ওআইই (পশুর স্বাস্থ্যের জন্য বিশ্ব সংস্থা) এর চলমান প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন। বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আসন্ন এএমআর মহামারি পটভূমির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী কার্যকরভাবে এএমআর নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তাদের ধ্বংস কার্যকর করার জন্য বিশ্বের সামনে সাতটি পরামর্শ রেখেছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার প্রথম প্রস্তাবে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স কন্টেইনমেন্ট-এআরসির লক্ষ্য অর্জনের জন্য বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং সমীক্ষা তদারকির পাশাপাশি প্রতিবেদনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি তার দ্বিতীয় এবং তৃতীয় প্রস্তাবে কার্যকর এবং অন্তর্ভুক্ত এএমআর নজরদারি এবং ক্ষমতা বৃদ্ধি নিশ্চিত করার জন্য অ্যান্টিমাইক্রোবায়ালগুলোর যথাযথ ব্যবহার এবং বৈজ্ঞানিক জ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন স্তরে নীতি ও নীতি বিকাশের পরামর্শ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তার চতুর্থ প্রস্তাবনায় প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মালিকানা ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যের এবং কার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক এবং অন্যান্য চিকিৎসা সুবিধাগুলোতে ন্যায়সঙ্গত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।

তিনি তার পঞ্চম প্রস্তাবনায় স্বল্প ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিশেষ মনোযোগ দিয়ে এএমআর-নির্দিষ্ট এবং এএমআর-সংবেদনশীল কর্মের জন্য পর্যাপ্ত এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করার পক্ষে মতামত দিয়েছেন।

ষষ্ঠ ও সপ্তম প্রস্তাবনায় এএমআর প্রতিরোধে বিনিয়োগের জন্য সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের প্রয়োজনীয়তার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক, সাশ্রয়ী এবং টেকসই সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কভারেজের ওপর জোর দিয়েছেন বাংলাদেশ সরকারপ্রধান।

বাংলাদেশের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার দেশীয় স্তরে কার্যকর অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল ব্যবহার নিশ্চিত করতে ছয় বছরের জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা এবং এআরসিতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনার আওতায় অসংখ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানব স্বাস্থ্য, গবাদি পশু, মৎস্য ও কৃষি খাতে অ্যান্টিমাইক্রোবায়ালের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পরিকল্পনাটি তৈরি করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার সরকার ২০১৪ সাল থেকে ডাব্লিউএইচও গ্লাস প্ল্যাটফর্মে এএমআর ডেটা সরবরাহ করে আসছে এবং অ্যান্টিমাইক্রোবায়াল প্রতিরোধের বিষয়ে গণমানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে মিডিয়াকে জড়িত করার জন্য কাজ করছে।

// অনলাইন ডেস্ক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ক্ষতিগ্রস্থ দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মধ্যে আর্থিক সহায়তা

 

টয়লেট থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি: গবেষকের দাবী

 

টয়লেট থেকেই করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি এক ভারতীয় গবেষক দাবি করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা আটলান্টিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক সিদ্ধার্থ বর্মা সম্প্রতি এ নিয়ে গবেষণা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশকিছু পাবলিক টয়লেট নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন তিনি।

সিদ্ধার্থ জানিয়েছেন, ৩ ঘণ্টা ধরে প্রায় ১০০ বার বোতাম টিপে পানি ঢালার সময়ে টয়লেটগুলোর বাতাস তারা পরীক্ষা করেছেন। দেখা গেছে, ফ্লাশ করার সঙ্গে সঙ্গে বাতাসে জীবাণুর পরিমাণ বেড়ে গেছে। শুধু তাই নয়, জীবাণুরা প্রায় ৫ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উঠে সেখানে ২০ সেকেন্ড ধরে ভেসে থাকতে পেরেছে।

এই তথ্য থেকে অনেকের দাবি, ভারতের মতো দেশে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পেছনে এই ধরনের পাবলিক টয়লেটগুলোর বড় ভূমিকা রয়েছে। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার।

‘ফিজিক্স অব ফ্লুইড’ নামক জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণাপত্রে সিদ্ধার্থ দাবি করেছেন, সাধারণ টয়লেটের মতোই যে সব টয়লেটে শুধুমাত্র পুরুষদের পেশাবের জায়গা থাকে, সেগুলোর বাতাসেও ৩ মাইক্রোমিটারের চেয়ে ছোট মাপের জলকণা ভেসে বেড়ায়।

এগুলো আকারে এতটাই ছোট, যে এরা সহজেই বহুক্ষণ ভেসে থাকতে পারে। এর ফলে ইবোলা থেকে করোনাভাইরাস- সব ধরনের জীবাণুরই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা অনেকটা বেড়ে যায়।

//অনলাইন ডেস্ক//

Corona Virus News..

PDF ও Photoshop উদ্ভাবক চার্লস গ্যাসকি মারা গেছেন

 

 সফটওয়্যার কোম্পানি Adobe সহপ্রতিষ্ঠাতা চার্লস গ্যাসকি মারা গেছেন। ১৬ এপ্রিল,২০২১ইং শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় তার মৃত্যু হয়েছে।

 তার বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। ১৯৮২ সালে তিনি এডোবির প্রতিষ্ঠা করেন। Portable Document Format  বা PDF উদ্ভাবনেও সহায়তা করেন গ্যাসকি।

তবে বছর দশেক পরে তিনি পত্রিকার খবরের শিরোনাম হন। তখন বন্দুকের নলের মুখে তাকে অপহরণ করে নিয়ে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

যদিও চার দিনের অগ্নিপরীক্ষার পর তিনি অক্ষত ফিরে আসতে সক্ষম হন।

Adobeর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শান্তানু নারায়ন বলেন, ডেস্কটপ প্রকাশনায় তিনি বিপ্লব এনে দিয়েছেন। তার মৃত্যু পুরো এডোবি পরিবার ও প্রযুক্তি শিল্পের জন্য বড় ক্ষতি। গত কয়েক দশক ধরে তিনি ছিলেন এ জগতের নির্দেশক ও নায়ক।

তিনি আরও বলেন, গ্যাসকি ও জন ওয়ারনক এমন সফটওয়্যার উদ্ভাবন করছেন, যা সবকিছু বদলে দিয়েছে। মানুষের যোগাযোগের ক্ষেত্রে যা বিপ্লবী ভূমিকা রেখেছে।

PDF, Acrobat, Illustrator, Premiere Pro ও Photoshop এর  মতো Software উদ্ভাবনে তারা ভূমিকা রেখেছেন।

২০০৯ সালে গ্যাসকি ও ওয়ারনককে জাতীয় প্রযুক্তি মেডেল দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

গ্যাসকির স্ত্রী ন্যান বলেন, তিনি ছিলেন খুবই বিনয়ী একজন মানুষ। তার সফলতার জন্য তিনি গর্বিত।

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

সাবধান! আপনার ফোন নম্বর হ্যাক হতে পারে যেকোন সময়

বর্তমান এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে হ্যাকাররা খুব সহজেই অন্যের ব্যক্তিগত ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিজের আয়ত্তে নিতে পারে। আপনাকে টাকা দেয়ার লোভ দেখানোর জন্য হ্যাকারের কাছে উপায়ের অভাব নেই। তবে এর জন্য মূল যে জিনিসটি দরকার সেটি আপনার ফোন নম্বর। চলুন জেনে নেই যেসব উপায়ে আপনার ফোন নম্বর হ্যাক হতে পারে-

 

১. বেশ কিছু ওয়েবসাইট রয়েছে যা অর্থের বিনিময়ে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য যে কারো কাছে সরবরাহ করতে পারে। প্রথমত এই ওয়েবসাইটগুলো আপনার তথ্য কিনে আপনার ফোন নম্বরসহ হ্যাকারের কাছে বিক্রি করবে। এতে আপনার নাম ঠিকানা, পরিবারের সদস্যদের নাম ঠিকানা, আপনার অপরাধমূলক রেকর্ড ইত্যাদির মত জিনিস অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। আর এই তথ্যগুলোর মাধ্যমে ব্ল্যাক হ্যাকাররা আপনাকে ব্ল্যাকমেইল, লাঞ্ছনা, হেনস্তা করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করার চেষ্টা করতে পারে।

 

২. হ্যাকারের পক্ষে আপনার ফোন প্লান সরবরাহকারীর সন্ধান করা বেশ সহজ। এজন্য প্রথমে তারা আপনার ফোন প্লান সরবরাহকারীকে আপনার বেশ ধরে কল দিবে এবং আপনার নাম্বারটি তাদের ফোনে পুনর্নির্দেশ করে নিবে। অতঃপর একজন হ্যাকারের পক্ষে আপনার ই-মেইল অ্যাকাউন্ট অ্যাক্সেস করা খুবই সহজ হবে। যদিও আপনার পাসওয়ার্ড তাদের কাছে থাকবে না। কারণ তাদের কাছে যেহেতু আপনার নম্বরটাই আছে তখন তারা খুব সহজেই ফরগট পাসওয়ার্ড দিয়ে পাসওয়ার্ড রিসেট করে নিতে পারে। এভাবে তারা আপনার ই-মেইল নিজের আয়ত্তে আনতে পারলে সেখান থেকে অন্য যেকোন অ্যাকাউন্টের আয়ত্ত নেয়া খুবই সহজ হবে।

৩. স্পুফিং এর মাধ্যেমে। স্পুফিং অর্থ হলো কেউ আপনার ফোন নম্বরটি নকল করতে পারে। যদি কোন হ্যাকারের কাছে আপনার নম্বর থেকে থাকে তবে তারা খুব সহজেই আপনি সেজে আপনার বাবা-মা বা ছেলে-মেয়ে অথবা আপনার পরিচিতজনদের কে কল দিয়ে টাকা চাইতে পারে।

 

৪. ধরুন আপনি আপনার ব্যাংক অথবা আপনার চিকিৎসকের কাছ থেকে আপনার ফোনে কোনো বার্তা অর্থাৎ টেক্সট ম্যাসেজ পেলেন যেখানে আপনাকে কিছু তথ্য পূরণ করতে বলা হয়েছে বা তাদেরকে কিছু অর্থ প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে স্ক্যামার বা হ্যাকাররা আপনার বিশ্বাসযোগ্য কেউ হওয়ার ভান করে থাকে এবং আপনার বিভিন্ন তথ্য যেমন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ক্রেডিট কার্ড বিবরণ ইত্যাদি তাদেরকে প্রদানের জন্য নানা কলাকৌশল চালাতে থাকে।

সূত্র: ঢাকা টাইমস

//দৈনিক বিশ্ব অনলাইন ডেস্ক//

চালু হচ্ছে “ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল”

 

বৈশ্বিক মহামারী করোনার ঢেউ বাংলাদেশে টর্ণেডোর মতো বিধ্বংসীরূপ ধারণ করেছে। প্রতিদিন মৃত্যু ও আক্রান্তের যে বিভৎস্যরূপ তাতে দেশের জনগণ যতটা না শঙ্কিত তার থেকে অধিক শঙ্কিত সরকার ও স্বাস্থ্যসেবার সাথে জড়িত কর্মকর্তাসহ ডাক্তার ও নার্সরা।

একদিকে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে তাতে সাধারণ হাসপাতালের বেড, পর্যাপ্ত অক্সিজেন অক্সিজেনের সরবরাহের সীমাবদ্ধতার সাথে জড়িত হয়েছে আইসিইউ-এর প্রকট সংকট।

আর এই সংকটের কথা বিবেচনায় নিয়ে ১৮ এপ্রিল -২০২১ রোজ রবিবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের সর্ববৃহৎ করোনা হাসপাতাল। ১০০০ বেডের এই হাসপাতালের নাম দেওয়া হয়েছে “ ডিএনসিসি ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতাল। ”

এখানে ১০০ শয্যার আইসিইউ এবং ১১২ টি এইচডিইউ স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহেরও ব্যবস্থা রয়েছে।এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা দিতে ৫০০ চিকিৎসক,৭০০ নার্স, ৭০০ স্টাফ এবং ওষধ সরঞ্জামের ব্যবস্থা করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

হাসপাতালটি পরিচালনা করবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

করোনাভাইরাস বায়ুবাহিত দাবি করে ১০ টি বৈজ্ঞানিক কারণ প্রকাশ করেন গবেষকরা

 

কোভিড-১৯-এর জন্য দায়ী সার্স-কোভ-২ ভাইরাস বায়ুবাহিত নয় বলে এত দিন দাবি করে আসা হয়েছে। কিন্তু সেই দাবি নস্যাৎ করে দিয়ে একটি রিপোর্ট প্রকাশিত হলো আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ ল্যানসেট’-এ।

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডার ছয় গবেষক যুক্ত আছেন এই গবেষণায়। নিজেদের দাবির পেছনে অন্তত ১০টি কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিজ্ঞানীরা।

তাদের বক্তব্য, জীবাণুটি বায়ুবাহিত হওয়ার পক্ষেই প্রমাণ বেশি।

এই ছয় বিজ্ঞানীর দেখানো দশটি বৈজ্ঞানিক কারণ হলো:

১) সুপার-স্প্রেডার ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে মানুষের আচরণ, কোন পরিসরে ঘটেছে, ঘরের ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা, এসব খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে স্পষ্ট শ্বাসপ্রশ্বাসে নির্গত জলকণা বা ড্রপলেটসের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়ানো অসম্ভব।

২) পাশের ঘরে ছিলেন, সংক্রমিতের মুখোমুখি হননি, তাও করোনা আক্রান্ত হন।

৩) আক্রান্তদের ৩৩ থেকে ৫৯% উপসর্গহীন। সে ক্ষেত্রে কীভাবে ছড়াচ্ছে?

৪) বাইরের তুলনায় ঘরের ভেতরে বেশি সংক্রমণ ঘটছে।

৫) হাসপাতালের কর্মীরা পিপিই পরেও আক্রান্ত হচ্ছেন।

৬) কোভিড আক্রান্তের ঘরের বাতাসে ভাইরাস মিলেছে।

৭) কোভিড হাসপাতালের এয়ার ফিল্টারে ভাইরাস পাওয়া গেছে।

৮) খাঁচা-বন্দি প্রাণীরা সংক্রমিত হয়েছে এয়ার ডাক্ট থেকে।

৯) কোনো গবেষণায় এ পর্যন্ত ভাইরাসটি বায়ুবাহিত না হওয়ার পক্ষে প্রমাণ নেই।

১০) ড্রপলেটসে ভাইরাস ছড়ানোর প্রমাণ বিশেষ নেই।

হাজার এর ইংরেজী ‘Thousand’ কে সংক্ষেপে T না বলে ‘K’ কেন ব্যবহার করা হয়…?

Internet এর প্রভাবেই সম্ভবত প্রচলনটা  জোড়ালো হয়েছে। এখন তো আমরা নিত্যদিনের কাজেও হাজার বোঝাতে ইংরেজি হরফ ‘K’ ব্যবহার করে ফেলি! যেমন আপনার কোনো বন্ধুকে বেতন জিজ্ঞেস করেছেন। তার বেতন যদি ৩৫ হাজার টাকা হয়, তাহলে কিন্তু টপ করে লিখে ফেলবে ‘৩৫k’।

কিন্তু কোথা থেকে কিভাবে এল এই ‘K’? সেটা জানতে গেলে সময় সারণীতে সাঁতার কেটে আমাদের একটু  অতীতেন দিকে যেতে হবে।

সেই ১৭৯৫ সালের কথা। সেখানে গ্রিক শব্দ ‘কিলিওই’ (Chilioi) অফিসিয়ালি স্বীকৃতি পেল হাজার অর্থে। কিন্তু ১০০০ বোঝানোর জন্য গ্রিকরা ‘কিলিওই’ ব্যবহার করতেন আরও অনেক আগে থেকে। পরে এই এককটি ব্যবহার করতে শুরু করেন ফরাসিরাও। ফরাসিদের হাতে এসে গ্রিক শব্দ ‘কিলিওই’ বদলে হয়ে যায় ‘কিলো’ (Kilo) তে।

মেট্রিক পদ্ধতি বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে ‘কিলো’কে ১০০০ হিসাবে লিখতে শুরু করেন ফরাসিরা।

ব্যবসা-বাণিজ্য প্রসারের সঙ্গে বিশ্বব্যাপী এই ১০০০ এর গুরুত্ব বাড়ে, সবার কাছে ১০০০ প্রচলিত হয়ে যায়। ১০০০ লিটার, ১০০০ গ্রামের বদলে ক্রমে প্রচলিত হয়ে ওঠে কিলোলিটার, কিলোগ্রাম, কিলোটনের মতো নতুন শব্দগুলি।

এই শব্দগুলি অনেকটাই বড়। আমেরিকার বদান্যতায় মার্কিনী স্টাইলে সময় বাঁচাতে তাই ‌‘K’ লেখা শুরু হয়। এতে ১০,০০০ হয়ে যায় ‘১০কে’, ২০,০০০ হয়ে যায় ‘২০কে’ আবার ১লক্ষ হয়ে যায় ১০০কে। আর তখন থেকেই হাজার বোঝাতে ‌‘K’ -এর প্রচলন শুরু হয়।

এটাই হলো ‌‘K’ এর রহস্য ।।

// দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক  //

ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি তোলা গেল এই প্রথম

আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক।।

ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের অতলান্ত অন্ধকারের একেবারেই অজানা অচেনা জগতের এত দিনের গোপন দরজাটা এ বার খুলে ফেলা সম্ভব হল। ঠিক কী কী ঘটনা ঘটছে সেই সর্বগ্রাসী অন্ধকারের মুলুকে, কী ভাবে ঘটছে এই প্রথম সেই গোপন কথার কিছুটা জানা গেল।

ছবি তোলা গেল কোনও ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের। সেই চৌম্বক ক্ষেত্র ঠিক কী ভাবে সাজানো থাকে, তার দিক-দিশাও জানা গেল। এই প্রথম।

দু’বছর আগে প্রথম কোনও ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলার পর তার চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি তোলাও জ্যোতির্বিজ্ঞানের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা। এর আগে যা সম্ভব হয়নি কখনও। গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান গবেষণা পত্রিকা ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ।

দু’বছরের ব্যবধানে দু’টি ইতিহাস

পৃথিবী থেকে সাড়ে ৫ কোটি আলোকবর্ষ দূরে থাকা একটি বিশাল নক্ষত্রপুঞ্জ ‘এম-৮৭’-এর অন্দরে রয়েছে যে দৈত্যাকার ‘সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল’ (নাম-এম-৮৭) তার ছবি তোলা হয়েছিল দু’বছর আগে। ২০১৯-এ। ইভেন্ট হরাইজ্‌ন টেলিস্কোপ (ইএইচটি)-এর মাধ্যমে।

তার আগে আর কোনও ব্ল্যাক হোলের ছবি তোলা যায়নি। তার সর্বগ্রাসী ক্ষুধা এড়িয়ে আলোও বেরিয়ে আসতে পারে না বলে। আলোর চলার পথের সূত্র ধরেই তো আমরা তার উৎসে পৌঁছই, ছবি তুলি বা আঁকি।

ফলে দু’বছর আগে অসাধ্যসাধন করেছিল ইএইচটি। কোনও ‘মহারাক্ষস’-এর ছবি তুলে। এ বার আরও একটি অসাধ্যসাধন করল ইএইচটি এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের প্রায় পূর্ণাঙ্গ ছবি তুলে। যা থেকে প্রথম চাক্ষুষ করা গেল ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রটিকে। তার সজ্জাও। পাওয়া গেল সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক-দিশাও।

দু’বছরের ব্যবধানে পর পর দু’টি অসাধ্যসাধন সম্ভব হয়েছে যার মাধ্যমে সেই ইভেন্ট হরাইজন টেলিস্কোপটি আদতে পৃথিবীর ৮টি জায়গায় বসানো ৮টি রেডিও টেলিস্কোপের সমষ্টি। সেগুলি এমন ভাবে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে, যাতে ৮টি টেলিস্কোপ লেন্সের ব্যাসগুলিকে যোগ করলে তা পৃথিবীর ব্যাসের সমান হয়। যার অর্থ, পৃথিবীর ব্যাসের সমান আকারের লেন্স দিয়েই প্রথম কোনও ব্ল্যাক হোল ও তার চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি তুলতে পেরেছে ইএইচটি।

ব্ল্যাক হোলের ব্যাসার্দ্ধের ৫-৬ গুণ দূরে চুম্বকের জাল!

যে ছবি পাওয়া গিয়েছে তার থেকে দেখা যাচ্ছে, কোনও সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের ব্যাসার্দ্ধ যতটা, তার ৫-৬ গুণ দূরত্বে থাকে একটি চৌম্বক ক্ষেত্র। যার আড়াই-তিন গুণ কম দূরত্বে ব্ল্যাক হোলের কাছাকাছি থাকে সেই ভয়ঙ্কর এলাকা ‘ইভেন্ট হরাইজ্‌ন’। যে এলাকার সীমান্ত ছুঁলেই কোনও পদার্থ, এমনকি আলোর কণা ফোটনও আর ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টান এড়িয়ে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে, ইভেন্ট হরাইজ্‌ন থেকেই শুরু হয়ে যায় ব্ল্যাক হোলের অতলান্ত অন্ধকারের সাম্রাজ্য। যে সাম্রাজ্যে অস্তিত্বই নেই আলোর।

কাউকে যেতে দেয়, কাউকে ছুড়ে দেয় বাইরে

এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের যে ছবি তোলা সম্ভব হয়েছে, তার থেকে বোঝা যাচ্ছে সেটা যেমন খুব শক্তিশালী নয়, তেমনই তা নয় খুব দুর্বলও। সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি মাঝারি মানের।

এক সপ্তাহ ধরে এই ভাবে চেহারা বদলেছে এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চৌম্বক ক্ষেত্র। ছবি সৌজন্যে- ইএইচটি।

এক সপ্তাহ ধরে এই ভাবে চেহারা বদলেছে এম-৮৭ সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোলের চৌম্বক ক্ষেত্র। ছবি সৌজন্যে- ইএইচটি।

বেঙ্গালুরুর ‘রমন রিসার্চ ইনস্টিটিউট (আরআরআই)’-এর অধ্যাপক বিমান নাথ জানাচ্ছেন, ওই চৌম্বক ক্ষেত্র খুব শক্তিশালী হলে ব্ল্যাক হোলের খুবই মুশকিল হত। খাবার পেত না একেবারেই। কারণ গ্যালাক্সির চার দিক থেকে গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থ ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে কাছাকাছি এসেও শক্তিশালী চৌম্বক ক্ষেত্রের জালে আটকে যেত। সেই জাল ফুঁড়ে তারা আর ইভেন্ট হরাইজ্‌নে গিয়ে পৌঁছত না। তাদের আর গোগ্রাসে খাওয়া সম্ভবও হত না ব্ল্যাক হোলের। সেই চৌম্বক ক্ষেত্র খুব দুর্বল হলে ব্ল্যাক হোলের সর্বগ্রাসী ক্ষুধা থেকে কাছেপিঠে এসে পড়া তারা, গ্যাসের ঘন মেঘ, পদার্থের সামান্য রেহাই মেলারও অবকাশ থাকত না। কাছেপিঠে আসা সব কিছুই ব্ল্যাক হোলের পেটে চলে যেত।

বিমান বলছেন, ‘‘ছবি দেখে মনে হচ্ছে এই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তি মাঝারি মানের। তাই কাছেপিঠে আসা গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থের গতিশক্তি বেশি হলে তা চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিকে অগ্রাহ্য করে ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে তার ইভেন্ট হরাইজ্‌নের দিকে এগিয়ে যায়। সঙ্গে নিয়ে যায় চৌম্বক ক্ষেত্রেরও কিছু অংশ। ব্ল্যাক হোলের খিদে মেটায়। আর কাছেপিঠে আসা গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থের গতিশক্তি কম হলে, তা চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারে না। চৌম্বক ক্ষেত্রের জালে জড়িয়ে যায়। পরে তাদের ছিটকে বার করে দেয় চৌম্বক ক্ষেত্র। তখনই আলোর রেডিও তরঙ্গ, অবলোহিত তরঙ্গ, দৃশ্যমান তরঙ্গ, অতিবেগুনি রশ্মি, এক্স-রে এবং গামা রে বেরিয়ে আসে। একটা ‘জেট’ তৈরি হয়।’’

ব্ল্যাক হোলকে জানার পথ খুলে গেল

নৈনিতালের ‘আর্যভট্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর অবজারভেশনাল সায়েন্সেস (এরিস)’-এর অধ্যাপক ইন্দ্রনীল চট্টোপাধ্যায়ের কথায়, ‘‘কেন ওই ‘জেট’গুলি বেরিয়ে আসে ব্ল্যাক হোলের আশপাশের এলাকা থেকে, কোথায় তাদের উৎপত্তি হয় ব্ল্যাক হোলের চার পাশের চৌম্বক ক্ষেত্রের ছবি এ বার তা বুঝতে সাহায্য করবে। সেই চৌম্বক ক্ষেত্রের শক্তিকে অগ্রাহ্য করে ন্যূনতম কোন গতিবেগে কাছেপিঠে আসা গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থ ব্ল্যাক হোলের ইভেন্ট হরাইজ্‌নের দিকে ছুটে যায় এ বার সেটা বোঝারও পথ খুলে যেতে পারে।’’

কী ভাবে তৈরি হয় এই চৌম্বক ক্ষেত্র?

ইন্দ্রনীল জানাচ্ছেন, ব্ল্যাক হোলের জোরালো অভিকর্ষ বলের টানে গ্যাসের ঘন মেঘ, তারা, পদার্থ কাছেপিঠে এসে পড়লে তাদের তাপমাত্রা এতটাই বেড়ে যায় যে তারা আর অণু, পরমাণু হয়ে থাকতে পারে না। ইলেকট্রন খুইয়ে তারা আয়ন হয়ে পড়ে। ভেঙে পড়ে রাশি রাশি ইলেকট্রন, প্রোটনের মতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণায়। তাদের গতিবেগ থাকে বলে তাদের চলার পথে তৈরি হয় বৈদ্যুতিক ক্ষেত্র। যার পরিণতিতে তৈরি হয় চৌম্বক ক্ষেত্রও।

চৌম্বক ক্ষেত্রের সীমানার শেষটা কোথায়?

ইন্দ্রনীল জানাচ্ছেন, এই ছবি থেকে সেটা বোঝা সম্ভব হয়নি। এ বার হয়তো সেই গবেষণা শুরু হবে। চৌম্বক ক্ষেত্রের সীমানা ব্ল্যাক হোলের কতটা কাছাকাছি পৌঁছতে পারে, সেটা জানাও খুব জরুরি। কারণ, চৌম্বক ক্ষেত্র আবদ্ধ হয় বলে তা যদি ব্ল্যাক হোলে ঢুকে পড়ে তা হলে তাকে বেরিয়েও আসতে হবে। কিন্তু ব্ল্যাক হোল থেকে তো কোনও কিছুর বেরিয়ে আসা সম্ভব নয়। তার মানে, এই চৌম্বক ক্ষেত্রের সীমানা ইভেন্ট হরাইজ্‌নের আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে।

এই যুগান্তকারী ঘটনা ব্ল্যাক হোলের অতলান্ত অন্ধকারের গোপন দরজাটা অনেকটাই খুলে দিল, বলছেন বিমান ও ইন্দ্রনীল।

ছবি সৌজন্যে- ইভেন্ট হরাইজ্ন টেলিস্কোপ।

ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া যা জাতিসংঘের প্রস্তাব বিরোধী

অনলাইন ডেস্ক।।

সমুদ্রে দুইটি ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার সেনাবাহিনী এই খবর দিয়েছে। তবে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি। কিন্তু জাপানের প্রধানমন্ত্রী সুগা বলেছেন, সি অফ জাপান যা ইস্ট কোরিয়া সি বলেও পরিচিত, সেখানে দুইটি ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষা করেছে উত্তর কোরিয়া। জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুসারে যা তারা করতে পারে না।

সুগা বলেছেন, এক বছর পর এই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করল উত্তর কোরিয়া। এর ফলে জাপান এবং ওই অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামী মাসে তার সফরের সময় তিনি বাইডেনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করবেন।

উত্তর কোরিয়া এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করার পরই দক্ষিণ কোরিয়া ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বৈঠক ডেকেছে। সেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারে আলোচনা হবে।

সপ্তাহখানেক আগেই উত্তর কোরিয়া ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছিল। তবে তা ব্যালেস্টিক মিসাইল নয়, ছোট পাল্লার নন-ব্যালেস্টিক মিসাইল। তখন অবশ্য অ্যামেরিকা কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। কারণ, নন-ব্যালেস্টিক মিসাইল পরীক্ষার উপর জাতিসংঘের কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। বাইডেনও তখন বলেছিলেন, এটা স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু এবারের পরীক্ষা নিয়ে এই কথা বলা যাচ্ছে না।

তবে নন-ব্যালেস্টিক মিসাইলের পরীক্ষার সময়টা ছিল উল্লেখযোগ্য। তখন অ্যামেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ নৌ-মহড়া চলছিল। মার্কিন সেক্রেটারি অফ স্টেট অ্যান্টনি ব্লিংকেন এবং ডিফেন্স সেক্রেটারি লয়েড অস্টিন সিওলে ছিলেন। ব্লিংকেন বারবার চীনকে অনুরোধ করছিলেন, উত্তর কোরিয়া যাতে পরমাণু অস্ত্র না বানায় তারা যেন সেটা নিশ্চিত করে।

অ্যামেরিকা এখন উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পরমাণু বিষয়ে আলোচনা শুরু করতে চায়। পিয়ংইয়ং বলছে, অ্যামেরিকা যদি তাদের প্রতি শত্রুতার মনোভাব না ছাড়ে, তাহলে তারা এ নিয়ে আলোচনা করতে চায় না। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে আগে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

জিএইচ/এসজি(এএফপি, রয়টার্স)

কৃত্রিম ফুসফুস বানিয়েছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন

অনলাইন ডেস্ক।।

ন্যানো-প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম মানব ফুসফুস উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী আয়েশা আরেফিন। মানবশরীরের ওপর পরিবেশের প্রভাব নতুন কোনো ওষুধের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদি পরীক্ষা করার জন্য গবেষকদের দরকার হয় স্যাম্পলের। সে জন্য অনেক  ক্ষেত্রে মানুষকেই গবেষকের গিনিপিগ হতে হয়। কিন্তু এর বদলে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থাকলে সেটার ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মানবশরীরের ওপর প্রভাব বোঝা সম্ভব হয়। ন্যানো-প্রযুক্তির মাধ্যমে তেমনই একটি কৃত্রিম ফুসফুস তৈরি করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন আমাদের আয়েশা আরেফিন। কৃত্রিম মানব ফুসফুস উদ্ভাবনের পথে কৃতী তরুণ এ গবেষক বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের লস আলামস পরীক্ষাগারে তাঁর গবেষণা চালিয়ে যান। তাঁর ডাকনাম টুম্পা। বেড়ে উঠেছেন চট্টগ্রাম মহানগরীতে।

 

স্নাতক পড়ার জন্য বেছে নেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং। বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংক্রান্ত এক কাজে সরকারি আমন্ত্রণে বাংলাদেশে আসেন যুক্তরাষ্ট্রের আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির গবেষক ক্রিস ডেটার। একই সময়ে তিনি সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সেমিনারে গিয়েছিলেন। সেখানে আয়েশা আরেফিনের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। পরে ডেটার ও তাঁর সহকর্মী ল্যান্স গ্রিন টুম্পাকে লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিতে উচ্চতর পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ পেতে সহায়তা করেন। এরপর আয়েশা তাঁর ক্যারিয়ার শুরু করেন লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির বায়োসিকিউরিটি বিভাগে। ওই ল্যাবের ভারতীয় গবেষক প্রখ্যাত টক্সিকোলজিস্ট রাশি আইয়ার তাঁকে অপ্টোজেনিকস-সংক্রান্ত গবেষণায় নিয়োগ দেন। অপ্টোজেনিকস হচ্ছে জিনবিদ্যা ও প্রোটিন বিষয়ক প্রযুক্তি। যার মাধ্যমে জীবন্ত কোষের মধ্যে ঘটতে থাকা বিভিন্নœ স্নায়ুবিক কাজকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও কৃত্রিম কোষ তৈরি করা সম্ভব। টুম্পা ও রাশি আইয়ারের টিমের সদস্যরা বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অঙ্গ সংস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করেছেন। এর মধ্যে একটি কৃত্রিম ফুসফুস তৈরি করেন টুম্পা।

 

এরপর যুক্তরাষ্ট্রের লস আলামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির ওয়েবসাইটে আয়েশা আরেফিনের গবেষণার তথ্য প্রকাশ হয়। সেখানে জানানো হয়, আয়েশা এবং তাঁর দলের অন্য সদস্যরা মিলে বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা সৃষ্ট বিষক্রিয়া, রোগ ও কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য সম্পূর্ণ নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবন করছেন। যদিও তাদের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল ক্রনিক অবস্ট্রাকটিভ পালমোনারি ডিজিজের সময় ফুসফুসের কোষগুলো কীভাবে কাজ করে তা জানা এবং এর প্রতিষেধক উদ্ভাবন করা। রোগটি এতই ভয়াবহ যে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এর স্থান তৃতীয়। গবেষণা থেকে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তির ফুসফুসের কোষ এবং এর সংশ্লিষ্ট আণবিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও নির্ভুল তথ্য পাওয়া যাবে। তাদের গবেষণাগারে আরও চারটি দল মানবদেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ে কাজ করছেন। আয়েশার আরেকটি গবেষণা হলো, মানব মস্তিষ্কের রক্ত সংবহনের একটি মডেল তৈরি করে ব্রেন স্ট্রোকের কারণ অনুসন্ধান করা। শুধু গবেষণা নয়, আয়েশা আরেফিন পড়ালেখার পাশাপাশি নানা ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে জড়িত।