ফকিরহাটে ডাকাতির সরমঞ্জাম ও পিকআপ ভ‍্যানসহ আটক- ৩

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

ফকিরহাটে  টাউন-নওয়াপাড়া এলাকা থেকে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ডাকাতি করার সরমঞ্জামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছেন পুলিশ। এসময় একটি পিকআপ ভ্যান জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের শনিবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানাযায়, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ডাকাত দলের তিন সদস্য একটি পিকআপ ভ্যানে করে উপজেলার টাউন-নওয়াপাড়ার মেসার্স খান ফিলিং স্টেশনে আসে। সেখানে তাদের গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এরপর স্থানীয়রা তাদেরকে ধাওয়া করেলে তখন তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয়রা তাদের তিন জনকে আটক করে।

খবর পেয়ে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) অনুপ রায় সহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এসময় স্থানীয়রা আটকৃতদের পুলিশের নিকট সোর্পদ করেন। পুলিশ পিকআপ ভ্যান থেকে ১টি প্লাস, ১টি হাসুয়া, ১টি শাবল, ১টি কাটার, ১টি পাইপ ও ২টি মোবাইল সেট উদ্ধার করে। এছাড়া তাদের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সিলেটের জৈন্তাপুরের বটেশ্বর গ্রামের নরেন্দ্রনাথ দেবনাথের ছেলে দিবাকর দেবনাথ দিপু (৩৯), মোংলার নারিকেলতলা এলাকার মৃত সিরাজুল মোল্লার ছেলে হাফিজুর রহমান (৩৫) এবং হালিকাপুরের অদ্যপাড়া এলাকার মো. কালুর ছেলে মো. হাসান (৪০)।

ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মেসার্স খান ফিলিং স্টেশনে ডাকাতির প্রস্ততিকালে ডাকাতির সরমঞ্জাম ও একটি পিকআপভ্যান সহ তিন জনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। তাদেরকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৫কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারী আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৫ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। শুক্রবার রাতে উপজেলার কাটাখালী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারি মো. আল-আমিন (৩৪) খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতী গ্রামের মুজিবুর রহমানের ছেলে।

শনিবার সকালে গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিকে ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশের নিকট সোপর্দ করেছে র‍্যাব ।

র‌্যাব জানায়, গোপন খবরের ভিত্তিতে খুলনা র‌্যাব-৬ এর একটি অভিযানিক দল কাটাখালী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে মাদক কারবারি আল-আমিনকে গ্রেপ্তার করে এবং এসময় তার কাছে থাকা ওই গাঁজা জব্দ করে।

শনিবার সকালে র‌্যাব-৬’র ওয়ারেন্ট অফিসার মো. আল-এমরান বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারির বিরুদ্ধে ফকিরহাট মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল আলম জানান, আসামিকে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।

রামপালে গাঁজাসহ কারবারি আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকসহ মাত্তাকিন শেখ (১৯) নামের এক কারবারিকে আটক করেছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আটক মুত্তাকিনকে মঙ্গলবার বেলা ১১ টায় বাগেরহাট আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

জানাগেছে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫ টায় রামপাল থানার এসআই সুকুমার বিশ্বাস উপজেলার মল্লিকেরবেড় দেবরাজ খেয়াঘাটে অভিযান পরিচালনা করেন। ওই সময় উপজেলার জিয়লমারী গ্রামের রফিক শেখ ওরফে খোকার ছেলে মুত্তাকিন কে ৪০ গ্রাম মাদকসহ হাতেনাতে আটক করেন। আটক মুত্তাকিন একজন পেশাদার মাদক কারবারি বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ এস, এম আশরাফুল আলম মাদকসহ কারবারি আটক ও আদালতে প্রেরনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তালতলীতে সুফল প্রকল্পের অনিয়মের অভিযোগ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্পের বিভিন্ন কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে রেঞ্চ মনিরুল ইসলাম ও বিট কর্মকর্তার ফজলুল হকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় ১১টি ভিসিএফ সমিতির হাতে দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও তা বাস্তবে নেই। এই রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তার সেচ্ছাচারিতায় মুখ থুবরে পড়েছে সরকারে এই প্রকল্প।

জানা যায়, গত ২০২১-২২ অর্থ বছরে উপজেলার সংরক্ষিত বন এলাকা বড়বগী,সোনাকাটা ও নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের টেকসই বন ও জীবিকা (সুফল) প্রকল্প দেয় বন বিভাগ। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঘর ভাড়া নিয়ে ঐ তিনটি ইউনিয়নে ১১ টি ভিসিএফ সমিতি করা হয়। সেখানে ঘর ভাড়া মাসে ২৫’শ টাকা চুক্তি হয়। তবে চুক্তি অনুযায়ী ঘর ভাড়ার টাকা দেওয়া হয়নি। এই সমিতিতে সঞ্চয় ও ঋণ পরিচালনা করার জন্য প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা করে এক জন ক্যাশিয়ার (বুক কিপার) নিয়োগ দেওয়া হলেও সেই সম্মানী ভাতার টাকা দেওয়া হয়নি। ঐ এলাকার বন নির্ভরশীল মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রশিক্ষন দেওয়ার কথা থাকলেও নামে মাত্র প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে। বনকে সুরক্ষা করার জন্য স্থানীয়দের সম্মানী ভাতার মাধ্যমে প্রহরী নিয়োগ করে থাকলেও তাদের কোনো ধরনের সম্মানী ভাতা দেওয়া হয়নি। এছাড়া টেকসই বন ও জীবিকা(সুফল) প্রকল্পের ১১টির ভিসিএফ সমিতির অন্যান্য প্রকল্পগুলো সঠিক ভাবে বাস্তবায়ন করছে না তারা। এই সব অভিযোগের  উপজেলা রেঞ্চ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ও নিশানবাড়িয়া বিট কর্মকর্তা একে এম ফজলুল হক।

সংশ্লিষ্ট ভিসিএফ কমিটির সওদাগার পাড়ার সভাপতি মনোয়ার হোসেন মীর,কবিরাজপাড়ার সভাপতি মি.মংথিন জো  ও নামেশেপাড়ার সভাপতি মি.মংচিন থান বলেন,রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তার অনিয়ম ও দূর্নীতি কারণে সরকারের এই প্রকল্পটি মুখ থুবরে পড়েছে। প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী আমাদের হাতে ক্ষমতা দেওয়া থাকলেও তারা কোনো ক্ষমতাই দেয়নি। সমিতির টাকা ব্যাংক থেকে উঠানোর জন্য চেকে স্বাক্ষর নিয়ে যায়। সেই টাকা কি করে কোথায় খরচ করে তাও আমাদের জানায় না। এর প্রতিবাদ করতে গেলে আমাদের সবাইকে হুমকি দেয়।

কবিরাজপাড়া সমিতির ক্যাশিয়ার(বুক কিপার) রিপা বলেন, আমি বুক কিপার হিসেবে আমি দুই বছর যাবৎ কাজ করে আসছি। গত তিন মাস আগে আমারদের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা করে সম্মানী দেওয়ার বরাদ্দ হয়। তবে আমাদের তিন মাসের ১৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও মাত্র ৫ হাজার টাকা দিয়ে তিন মাসেইর স্বাক্ষর নিয়ে যায়। তখন বলেন বাকি দুই মাসের টাকা বিভিন্ন অফিস খরচ বলে আমাদের পাঠিয়ে দেয়। ১১টি সমিটির ১১ জন বুক কিপারের টাকাই রেখে দিয়েছেন রেঞ্চ ও বিট কর্মকর্তা। এমন অভিযোগ এই ১১টি সমিটির সকল বুক কিপারের।

এবিষয়ে তালতলী রেঞ্চ কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন আমি কিছু জানি না। এটা ঐ সমিতির লোকজনের নামে ব্যাংকে টাকা আসে তারাই ভালো জানে। আমরা শুধু এই প্রকল্পের তরারকি করি।

পটুয়াখালী বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন,এবিষয়ে যদি কেউ অভিযোগ করেন তাহলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Daily World News

তফসিল ঘোষণার পরপরই আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভা ও শান্তি মিছিল

টেকনাফে র‌্যাবের অভিযানে ১৬হাজার পিস ইয়াবা বড়িসহ আটক-২

//সৈয়দ আলম: টেকনাফ কক্সবাজার//

কক্সবাজার টেকনাফ পৌরসভা নাইটংপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ১৬,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ দুইজন মাদক কারবারী র‌্যাব-১৫ কর্তৃক গ্রেফতার।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থানাধীন টেকনাফ পৌরসভা,০১নং ওয়ার্ড, নাইটংপাড়া এলাকায় কতিপয় মাদক কারবারী বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় অথবা অন্যত্র প্রেরণের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

১৩ নভেম্বর র‌্যাব-১৫, কক্সবাজার সিপিএসসি-১ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল বর্ণিত স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। অভিযান পরিচালনাকালে আব্দুল আজিজ এবং নুর আনকিস নামে দুইজন কারবারীকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে বিধি মোতাবেক আটককৃত মাদক কারবারীর বসতঘর তল্লাশী করে তাদের হেফাজত হতে সর্বমোট ১৬,০০০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারীর বিস্তারিত পরিচয় আসামী,আব্দুল আজিজ ওনুর আনকিস।উভয় পিতা-নুরুল হক, সাং-মোছনি, রেজিস্ট্রার ক্যাম্প, ব্লক-সি, সাং-নাইটংপাড়া, ০১নং ওয়ার্ড, টেকনাফ পৌরসভা, থানা-টেকনাফ, জেলা-কক্সবাজার বলে জানা যায়।

মাদক ব্যবসায়ীরা জানায়, আব্দুল আজিজ এবং নুর আনকিস সম্পর্কে সহোদর ভাই-বোন।ধৃত মাদক ব্যবসায়ীরা পরস্পরের যোগসাজসে বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে দীর্ঘদিন যাবত মাদকদ্রব্য ইয়াবা ট্যাবলেট অবৈধভাবে সীমান্তবর্তী এলাকা হতে সংগ্রহ করে নিজেদের হেফাজতে রেখে টেকনাফসহ কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় করে থাকে। অদ্য উপরোল্লিখিত ইয়াবাসহ র‌্যাবের আভিযানিক দলের কাছে ধৃত হয়।

উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ইয়াবাসহ ধৃত মাদক কারবারীরদ্বয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণার্থে সংশ্লিষ্ট থানায় লিখিত এজাহার দাখিল করা হয়েছে।

আমতলীতে কাজী বানিজ্য! ১২০ দিনে নয় বছর, চলছে ভুয়া কাজীর রমরমা অবৈধ বানিজ্য

সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলী পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর ৫টি শুন্য পদে দীর্ঘ নয় বছরেও নিয়োগ না দেওয়ার সুযোগে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া দুই কাজী মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও বিধি-বিধানের তোয়াক্কা না করে টানা নয় বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রকাশ্যে কাজীর অফিসের সাইনবোর্ড লাগিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে অবৈধ দুই কাজী।এদিকে সংবাদ সংগ্রহকালে ভুয়া কাজীর বিষয়টি জানাজানি হলে কাজী জয়নুল ও শাহ আলম গভীর রাতে সাইনবোর্ড খুলে অফিস তালাবদ্ধ করে দেয়।

মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা ২০০৯ এর বিধি ৬ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সাব রেজিস্ট্রার নিকাহ রেজিস্ট্রারের পদ শুন্য হওয়ার সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের মধ্যে উক্ত শুন্য পদে নতুন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন এবং ঐ একশত বিশ দিনের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার পার্শ্ববর্তী কোন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীকে উক্ত শুন্য পদে সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করিতে পারিবেন।

প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, আমতলী পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী ২০১৫ইং সালে অবসর গ্রহণ করেন এবং ১,২,৩,৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ড গুলো তারও আগ থেকে শুন্য ছিল।পৌরসভার এই ৯টি ওয়ার্ডে ২০১৫ সালে দুইজন নিকাহ রেজিস্ট্রারকে একশত বিশ দিনের জন্য অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করলেও উক্ত কাজী দ্বয় জেলা রেজিস্ট্রার অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মচারীর সাথে যোগসাজশে বিভিন্ন কৌশলে ৯ বছরের বেশী সময় ধরে অবৈধভাবে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

এ বিষয়ে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর সংশ্লিষ্ট জনৈক ব্যক্তি বলেন,আমতলী পৌরসভায় বছরে সাতশত বিয়ে হলে এবং প্রতিটি বিয়েতে তিন হাজার টাকা ফি গ্রহণ করলে প্রতি বছরে ২১ (একুশ) লক্ষ টাকা আয় আসে। সে হিসাবে নয় বছরে প্রায় দুই কোটি টাকা আয় করেছে দুই কাজী।এছাড়াও তালাক রেজিস্ট্রিকরণ ও নকল এর ফি রয়েছে।

এ ছাড়াও আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর সভার একশত বিশ দিনের অতিরিক্ত দায়িত্ব পাওয়া নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে এবং কাউকে দায়িত্বে না রেখে ২০২০ইং সালের জানুয়ারি মাসে সৌদিতে গিয়েছিলেন।প্রশ্ন উঠেছে তার সৌদিতে থাকা কালীন সময়ে আমতলী সদর ইউনিয়ন ও পৌর সভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর দায়িত্ব কে এবং কিভাবে পালন করেছে?

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে পৌর সভার বর্তমান কাজী মোঃ জয়নুল আবেদীন বলেন,আমি যে টাকা পাই তার ৫০% (পঞ্চাশ ভাগ) উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার, জেলা রেজিস্ট্রার,আইজিআর সহ বিভিন্ন অফিসে দিতে হয়। কাউকে অতিরিক্ত দায়িত্ব না দিয়ে এবং কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে সৌদিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি নিরুত্তর থাকেন।এ ছাড়াও কাজী জয়নুল আবেদীনের মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পাশের সনদ জ্বাল বলে অভিযোগ রয়েছে। সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চেয়ে আবেদন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার নুরুল আবসার বলেন,আমি অত্র অফিসে যোগদানের পর আমতলী পৌরসভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর পাঁচটি শুন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছি। অচিরেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।নয় বছর ধরে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনকারী দুই নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি জেলা রেজিস্ট্রার এর এখতিয়ারাধিন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ সিরাজুল করিম বলেন,নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগের বিষয়টি উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারের।বিষয়টি বিলম্বিত হওয়ায় উপজেলা সাব রেজিস্ট্রারকে পত্র দিয়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে বলা হয়েছে। দীর্ঘ নয় বছর ধরে দুইজন নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে বলেন,বিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ একশত বিশ দিনের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।এই সময়ের পর উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার কোন বিধান নেই। এখনো পৌরসভায় নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী’র অতিরিক্ত দায়িত্ব কিভাবে পালন করছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তদন্ত করে উক্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কাজী জয়নুল আবেদীন এর সৌদিতে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,তিনি সৌদিতে যাওয়ার জন্য অফিসের কোন অনুমতি নেননি তবে এটি সহ সকল বিষয়ের তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজী নিয়োগ কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,আমি বিষয়টি জেনে উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রারের সাথে কথা বলেছি তারা আমাকে বলছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে শূন্য পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করবেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের পরেও নিকাহ রেজিস্ট্রার ও কাজীর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করার বিষয়ে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে বিদেশি মদ গাঁজা ইয়াবাসহ নারী কারবারী আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে গাজা, ইয়াবা ট্যাবলেট ও বিদেশী মদ সহ ফারজানা আক্তার ইভা (৩২) নামের এক মাদককারবারীকে গ্রেপ্তার করেছে ফকিরহাট থানা পুলিশ।

পুলিশ জানান, সোমবার রাত ১১টার দিকে গোপনে সংবাদ পেয়ে এসআই বাদশা বুলবুল ও এএসআই আব্দুল্লা আল-মামুন সহ থানা পুলিশের একটি দল উপজেলার সুখদাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। এসময় সড়কের পাশে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় ফারজানা আক্তার ইভাকে গ্রেপ্তার করে।

এসময় তার কাছে থাকা ২কেজি গাজা, ২’শ পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট ও ৪টি বিদেশী মদ উদ্ধার করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীর স্বামী আহাদুজ্জামান শেখ পালিয়ে যায়।

মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ওই নারী মাদককারবারীকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ফারজানা আক্তার ইভা চর রূপসার বাগমারা গ্রামের আহাদুজ্জামান শেখ ওরফে সুমনের স্ত্রী।

ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত নারীকে বিজ্ঞ আদালতের সোর্পদ করা হয়েছে। ওই দম্পত্তির বিরুদ্ধে থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। পলাতক আসামী আহাদুজ্জামান শেখকে গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে।

বাগেরহাটে ডিবি পুলিশের অভিযানে ১২ কেজি গাঁজা সহ আটক- ৩

 জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটে ১২ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। রবিবার (১২ নভেম্বর) সকাল সাড়ে নয়টায় বাগেরহাট শহরের খারদার ভিআইপি মোড়ে গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ অভিযান চলাকালে গাজাসহ তিনজনকে আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলো, কুড়িগ্রাম জেলার সরদার পাড়া এলাকার কাসেম আলীর ছেলে কবির হোসেন (২৩), বাগেরহাট জেলা সদরের ফুলবাড়ী এলাকার চানমিয়া হাওলাদার এর ছেলে মিজান হাওলাদার (২৮) ও পালপাড়া এলাকার বাবুল হোসেনের ছেলে খালিদ হোসেন লিপু (২৫)। এ সময় তাদের বহনকারী কাভার্ড ভ্যান যাহার রেজিঃ নং চট্ট মেট্টো শ-১১-২৩৪১ জব্দ করা হয়।

বাগেরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ বাবুল আক্তার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ইন্সপেক্টর সুরেশ চন্দ্র হালদার জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার সকাল সাড়ে নয়টায় শহরের ভিআইপি রোড মোড়ে খুলনা থেকে বাগেরহাট গামী একটি কাভার্ড ভ্যান দ্রুত গতিতে আসতে দেখে সিগন্যাল দিয়ে ভ্যানে থাকা যাত্রী কবির মিজান এবং খালিদ হোসেন লিপুকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা কাভার্ড ভ্যানের কেবিন হইতে ১২ কেজি অবৈধ মাদকদ্রব্য গাঁজা বের করে দেয়।

বাগেরহাট জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক সৈয়দ বাবুল আক্তার জানান, জেলা পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খানের নির্দেশনা মোতাবেক জেলার সকল জায়গায় মাদক ব্যবসায়ী এবং সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান এ কর্মকর্তা ।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ৩ তামার তার চোর আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে তামার তার চুরি কালে ৩ জন চোরকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে জাহিদ হাসান নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে রামপাল থানায় একটি চুরি আইনে মামলা দায়ের করেছেন। বৃহস্পতিবার (০৯ নভেম্বর) সকাল ১০ টায় আসামীদের বাগেরহাটের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

রামপাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (০৮ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫ টায় একদল চোর রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২ নং গেটের পাশে চুরি করছে। এমন খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। ওই সময় ১৫ কেজি তামার তারসহ তিন চোরকে হাতেনাতে আটক করে। এরা হলো রামপাল উপজেলার কালেখারবেড় গ্রামের শুকুর ইজারদারের পুত্র রাজু ইজারাদার একই গ্রামের হুমায়ুন কবিরের ছেলে শরিফুল ইজারদার ও খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার জলমা গ্রামের মো.ইমরান মুন্সির ছেলে রেজাউল মুন্সি হৃদয়।

রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম চোরাই মালামালসহ তিন জনকে আটক ও তাদেরকে বাগেরহাটের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন।

কচুয়ায় ভুয়া ডাক্তারের কারাদন্ড

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট //

কচুয়ায় ভুয়া ডাক্তারের জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী হাকিম রাখী ব্যানার্জীর নেতৃত্বে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা সদরে অভিযান চালিয়ে মো.লোকমান হোসেন (৩৯) নামের একজনকে আটক করা হয়। এসময়ে তার কাছে চিকিৎসা দেয়া সংক্রান্ত বৈধ কোন কাগজ না থাকায় তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়। সাজাপ্রাপ্ত মো.লোকমান হোসেন (৩৯) মোরেলগঞ্জ উপজেলার কিসমত গড়ঘাটা গ্রামের মো.শামসুল হক ফকিরের ছেলে।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী হাকিম রাখী ব্যানার্জী বলেন, চিকিৎসা দেয়া সংক্রান্ত বৈধ কোন কাগজ না থাকায় মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন ২০১০ এর ২২ এবং ২৯ ধারা মতে তিন মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। অপরাধ নির্মূলে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান অব্যাহত থাকবে।#