অবশেষে আলোচিত পিস্তল বাবু’কে আটক করেছে র‌্যাব-৮

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার আলোচিত গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি মোঃ বাবু মৃধা (৩২) ওরফে পিস্তল বাবুকে গতকাল ৬ই জুলাই অনুমানিক সতেরো ঘটিকায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপি,ঢাকার কদমতলী থানাথীন সুফিয়া হাসপাতালের সামনে অভিযান পরিচালনা করে আটক করা হয়।আলোচিত পিস্তল বাবু পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার শাপলাখালী গ্রামের মোফাজ্জেল ও মোছাঃ শিল্পি বেগমের ছেলে।

র‌্যাব-৮,সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক মেজর সোহেল রানা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলেন মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার একাদশ শ্রেণীর একজন শিক্ষার্থী ১৭ বছরের ধর্ষিতা তরুনী ঘটনার দিন গত ১১ই জুন সকাল আনুমানিক সারে আটটায় প্রতিদিনের ন্যায় ভিকটিম তার কলেজে গমন করে। কলেজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ০৩ নং আসামী সোহেল তাকে অটোরিক্সাযোগে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে রওয়ানা হয়। কিন্তু তাকে তার বাড়ির সামনে না নামিয়ে একটু দূরে জনৈক আমির সিকদারের বাড়ির সামনে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ভিকটিম পায়ে হেটে রওয়ানা হলে আসামী বাবু ও তার সহযোগী ২ নং আসামী সুমন তার পিছু নেয় এবং দাড় করিয়ে তার বাড়ির ঠিকানা জিজ্ঞাসা করে এবং পথরোধ করে। পরে আসামীরা ভিকটিমকে হাত ধরে টেনে জনৈক আমির সিকদার এর টিনশেড ঘরের ভিতর নিয়ে যায়। আসামীরা ঘরে থাকা এক মহিলাকে বের করে দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার ভয় দেখিয়ে ০১ নং আসামী ভিকটিমকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে ০২ নং আসামী সহ অজ্ঞাতনামা আরোও ০২ জন আসামীরা রাস্তা থেকে ০৩ নং আসামীকে ডেকে নিয়ে আসে এবং তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করায়। ০৩ নং আসামীকে দিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করানোর সময় ০১ নং আসামী ভিডিও ধারণ করে এবং উক্ত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ০৩ নং আসামীর নিকট হতে নগদ ৪,৫০০/- টাকা নিয়ে তাদেরকে ছেড়ে দেয়। পরে ঐ তরুনী বাদী হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে পটুয়াখালীর বাউফল থানায় একটি মামলা দায়ের করে ( থানার মামলা নং-১৯ তারিখঃ ১৪/০৬/২০২৪ইং, ধারাঃ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী-২০০৩) এর ৯(৩)/৩০ ধারা। বিষয়টি র‌্যাবের নজরে আসলে র‌্যাব আত্মগোপনে থাকা আসামীদের গ্রেফতারের জন্য ব্যাপক ছায়াতদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ৭ই জুলাই র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং র‌্যাব-১০, সদর কোম্পানী, কেরানীগঞ্জ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ডিএমপি, ঢাকার কদমতলী থানাথীন সুফিয়া হাসপাতালের সামনে অভিযান চালিয়ে আসামীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পটুয়াখালীর বাউফল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মাগুরায় কলেজ ছাত্র তীর্থ রুদ্র হত্যার মুল আসামী গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধি, মাগুরা।

মাগুরায় তীর্থ রুদ্র হত্যায় গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম তাইহান ইসলাম আমান (২১) । সে মাগুরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সদর হাসপাতাল পাড়ার জিয়াউল ইসলাম ওরফে জিবুর ছেলে।

মাগুরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) এস এম মোবাশ্বের হোসাইন শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, গত ১ জুলাই সোমবার ভোরে আল-আমিন মাদ্রাসা ট্রাস্ট সংলগ্ন একটি পুকুরের পাড় থেকে তীর্থ রুদ্র নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । এ সময় একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয় । এ বিষয়ে ভিকটিমের বাবা নিমাই চন্দ্র রুদ্র বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তীর্থ হত্যার পর থেকেই মাগুরা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে । এ অভিযানের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিতপুর এলাকা থেকে আসামি তাইহান ইসলাম আমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরা সদরের কাশিনাথপুর গ্রামের আনিসুর রহমান মধুর বসতবাড়ির একটি পুরানো টিনের রান্না ঘর থেকে তীর্থের ব্যবহৃত বাজাজ ডিসকভার-১২৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত নাম্বার প্লেটটি উদ্ধার করা হয় শহরের খানপাড়া কাচা বাজার এলাকার একটি টিনের চালা থেকে এবং চাবি উদ্ধার করা হয় আসামি আমানের বাড়ি থেকে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটির নম্বর মাগুরা-হ ১২-৭৮৪৮ । তিনি আরোও জানান, তীর্থ হত্যাকাণ্ডে আরোও কেউ জড়িত আছে কিনা গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

উল্লেখ্য,মাগুরা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব দোয়ার পাড় এলাকার আল-আমীন টাস্ট্র দাখিল মাদরাসার পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়ে থেকে গত মঙ্গলবার সকালে তীর্থ রুদ্র (১৮ ) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। নিহত তীর্থ রুদ্র পৌরসভার নান্দুয়ালী এলাকার নিমাই চন্দ্র রুদ্রের ছেলে । সে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজর ছাত্র এবং ২০২৪ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছিল।

পাঠাও-এর প্রতিষ্ঠাতা ফাহিমকে হত্যা করে তার পিএ হাসপিল- চুরি করে নেয় মিলিয়ন ডলার – জানুন বিস্তারিত

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বাংলাদেশের রাইড শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহর ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ২০২০ সালের ১৪ জুলাই তার লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনায় তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারী টায়রেস হাসপিল (২৫) দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।

সোমবার (২৬ জুন) নিউইয়র্কের ম্যানহাটন সুপ্রিম কোর্টের বিচারকেরা হাসপিলকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন।

আদালতের এই রায়ের আগে হাসপিল দাবি করেছিলেন, ফরাসি প্রেমিকাকে খুশি করার জন্য দামি উপহার কেনার জন্য ফাহিমের টাকা চুরি করেন। চুরির কথা প্রকাশ পেলে প্রেমিকা তাকে ছেড়ে চলে যেত—তাই তিনি ফাহিমকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তবে বিচারকেরা তার এই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন।

তবে কেন বিচারকেরা হাসপিলের দাবি খারিজ করে দিয়েছেন তা হত্যার দীর্ঘ পরিকল্পনা ও হত্যাকাণ্ডের ধরনেই বোঝা যায়। হাসপিল কতটা শীতল রক্তের অধিকারী ছিলেন তা তার পরিকল্পনা ও হত্যার কায়দায় ফুটে উঠেছে। আদালতের রায়ের বিবরণীতে সেসব বিস্তারিত উল্লেক করা হয়েছে।

হত্যার পরিকল্পনা

টাইরেস হাসপিল ২০১৮ সালে ফাহিম সালেহের টাকা চুরি করার পরিকল্পনা শুরু করেন। কিন্তু ২০২০ সালের জুলাইয়ে এসে তার পরিকল্পনাটি হত্যার সিদ্ধান্তে রূপ নেয়।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হাসপিল ফরাসি প্রেমিকার জন্য দামি উপহার কেনার জন্য সালেহের কোম্পানি থেকে টাকা চুরি করেন।

হাসপিল টাকা চুরির জন্য একটি ভুয়া করপোরেট আইডি এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তৈরি করেছিলেন। তবে ২০২০ সালের জানুয়ারিতে সালেহ টাকা চুরির বিষয়টি বুঝতে পারেন। হাসপিল তখন চুরির টাকা পরিশোধে সম্মত হন। তবে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন। একটি ভুয়া পেপ্যাল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ফাহিমের আরও টাকা চুরি করা শুরু করেন। এভাবে তিনি প্রায় ৪ লাখ মার্কিন ডলার চুরি করেন। একপর্যায়ে তিনি ফাহিমের সব টাকা নিয়ে বিলাসবহুল জীবনের আশায় তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

হাসপিল সোশ্যাল মিডিয়াতে সালেহের অবস্থানের ওপর নজরদারি শুরু করেন। হত্যাকাণ্ড গোপন করার জন্য কয়েক সপ্তাহ প্রযুক্তি, অস্ত্র, টেজার এবং রক্ত পরিষ্কার নিয়ে গবেষণা করেন। পরিচয় গোপন করার জন্য বিশেষ ধরনের পোশাক কেনেন, যাতে সালেহ তাঁকে চিনতে না পারেন।

অন্তত তিনটি পৃথক অনুষ্ঠানে জনাব সালেহকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাসপিল। ২০২০ সালের মার্চে নাইজেরিয়ার লাগোসে সে ছুরি নিয়ে সালেহর পিছু নিয়েছিল। তবে হত্যা করেনি। এরপর নিউইয়র্কে ফিরে সালেহকে দুইবার হোপওয়েল জংশনেও পিছু নেন। সালেহর বাড়ি পুড়িয়ে ফেলার বা দৌড়ানোর সময় তাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম হত্যায় ব্যক্তিগত সহকারী দোষী সাব্যস্তপাঠাওয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ফাহিম হত্যায় ব্যক্তিগত সহকারী দোষী সাব্যস্ত

২০২০ সালের মে মাসে হাসপিল সালেহকে তাঁর বাড়িতে হত্যা করবেন বলে ঠিক করেন। তিনি ঘাড়ে ছুরিকাঘাতে নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। ১৭ জুন হাসপিল হোম ডিপো ঠিকাদার ব্যাগ, একটি সুইফার ওয়েটজেট এবং একটি করাত কেনেন।

হাসপিল সালেহের বাসা থেকে রাস্তার অপর পার্শ্বের বিল্ডিংয়ে একটি খালি অ্যাপার্টমেন্টের কৌশলে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি এমনভাবে নেস্ট ক্যামেরা বসান যাতে সালেহের বিল্ডিংয়ের যাবতীয় কিছু নজরদারি করা যায়।

হত্যাকাণ্ডের আগের দিনগুলোতে হাসপিল জাঁকজমকপূর্ণভাবে প্রেমিকার জন্মদিন পালন ও তাকে উপহার দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তিনি পার্টি বেলুন, বড় কেক, বিলাসবহুল হ্যান্ডব্যাগ, জুতা, প্রাইভেট ইয়ট ট্যুর এবং চুরি করা টাকা দিয়ে সোহোতে একটি বিলাসবহুল এয়ানবিএনবি ভাড়া নেন।

হত্যাকাণ্ড

২০২০ সালের ১৩ জুলাই হাসপিল প্লাস্টিকের হেলমেট, বেসবল ক্যাপ এবং সানগ্লাস পরে সালেহের সঙ্গে তাঁর অ্যাপার্টমেন্ট বিল্ডিংয়ের লিফটে প্রবেশ করেন। এ সময় বেচারা সালেহ হাসপিলের এমন পোশাক দেখে কোভিড সতর্কতা নিয়ে তাঁর সঙ্গে রসিকতা করেছিলেন। তবে লিফটের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপিল আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন।

হাসপিল প্রথমে পেছন থেকে ফাহিম সালেহকে টেজার মেশিনের শক দিয়ে অজ্ঞান করে ফেলেন। এরপর তার ঘাড়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করতে থাকেন।

হত্যাকাণ্ড গোপন করতে হাসপিল মিনি ভ্যাকুয়াম মেশিন দিয়ে অ্যান্টি-ফেলন আইডেন্টিফিকেশন ডিস্ক (এএফআইডি) শূন্য করে ফেলেন। কেননা ওই ডিস্কে একটি সিরিয়াল নম্বর থাকে যা অপরাধীকে শনাক্ত করতে পারে।

এরপর আনুমানিক বেলা ৩টায় হাসপিল অ্যাপার্টমেন্ট ছেড়ে একটি উবারে করে নিউজার্সিতে যান। হাডসন নদীর জল কতটা গভীর ও সেখানে কীভাবে আলামত ডুবিয়ে দেওয়া যেতে পারে—তা নিয়ে তিনি আগেই গবেষণা করেন। ওই নদীতে তিনি পরের দিন একটি আবর্জনার ক্যানে অনেক আলামত ফেলে দেন।

হাসপিল পরের দিন ১৪ জুলাই সালেহর মরদেহ টুকরো টুকরো করতে এবং ঘটনাস্থল পরিষ্কার করতে অ্যাপার্টমেন্টে ফিরে আসেন। তারপরে তিনি করাত দিয়ে সালেহের শরীরকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফেলেন এবং সেগুলো আগেই কিনে রাখা ব্যাগে ভরেন। এ সময় করাতের ব্যাটারি ফুরিয়ে গেলে তিনি চার্জার কিনতে চলে যান।

হাসপিল যখন বাইরে যান তখন সালেহর কাজিন তাকে দেখতে এসেছিল কারণ বিগত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাঁর কোনো সাড়া পায়নি। এ সময় তিনি অ্যাপার্টমেন্টে চাচাতো ভাইয়ের টুকরো টুকরো এবং শিরশ্ছেদ করা দেহ আবিষ্কার করেন এবং পুলিশকে ডাকেন।

এদিকে হোম ডিপো থেকে ফিরে আসার পর হাসপিল সালেহের অ্যাপার্টমেন্টে পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করেন এবং প্রেমিকার জন্মদিনের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হত্যার পরের দিনগুলোতে হাসপিল ‘খণ্ডিত দেহ’, ‘ফাহিম সালেহ’ এবং ‘নিউইয়র্কে টেক সিইওর হত্যা’ লিখে ওয়েব সার্চ করেন। এবং গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত হাসপিল সালেহর পেপাল থেকে টাকা আত্মসাৎ করতে থাকেন।

ফকিরহাটের লকপুরে দেশি-বিদেশি অস্ত্র গোলাবারুদ সহ গ্রেফতার- ১

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি || 

বাগেরহাটে ফকিরহাট অস্ত্রসহ ৩০ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারকৃত ডাকাত ইমরান (৩০) উপজেলার লখপুর ইউনিয়নের ছোটখাজুরা নিকারী পাড়া গ্রামের বাসিন্দা।

ফকিরহাটের লকপুরে দেশি-বিদেশি অস্ত্র গোলাবারুদ সহ গ্রেফতার- ১

ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ইমরানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজী, অবৈধ অস্ত্র, বিস্ফোরক, মাদক, চুরি, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ ৩০ টি মামলা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করার তৎপরতা অব্যাহত রাখে। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ইমরান বাড়িতে অবস্থান করছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

 

এ সময় তার নিকট থেকে একটি দেশিয় পিস্তল, ছয় রাউন্ড গুলি ও চায়না রাইফেলের গুলি এবং বেশ কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, ডাকাত ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি একজন দুর্ধর্ষ প্রকৃতির লোক। তার বিরুদ্ধে পূর্বের ৩০টি ও বর্তমানের একটিসহ (আরও একটি অস্ত্র মামলা) মোট ৩১টি মামলা রয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।

বাংলাদেশে মোট রোহিঙ্গা ভোটার সংখ্যার তালিকা চেয়েছে হাইকোর্ট

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সারা দেশে কতজন রোহিঙ্গা ভোটার হয়েছেন, তার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে একটি সম্পূরক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ ছিদ্দিক উল্লাহ মিয়া। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।

আইনজীবী ছিদ্দিক উল্লাহ পরে সাংবাদিকদের বলেন, কক্সবাজার জেলায় কতজন রোহিঙ্গা নাগরিকত্ব পেয়ে ভোটার হয়েছেন তার তালিকা দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৩ এপ্রিল রিট আবেদন করেন তারা।

‘কিন্তু শুধু কক্সবাজারে নয়, সারা দেশেই রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়েছে। তাই সারা দেশে কত রোহিঙ্গাকে ভোটার করা হয়েছে তদন্ত করে তার তালিকা দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে গত সোমবার আমরা একটি সম্পূরক আবেদন করেছি। এর পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন সচিব, কক্সবাজার জেলা প্রশাসকসহ অন্য বিবাদীদের আগামী ৮ আগস্টের মধ্যে সারা দেশে ভোটার হওয়া রোহিঙ্গার তালিকা দাখিলের নির্দেশ দেন আদালত।’

দেশের বিভিন্ন আদালতে এ সংক্রান্ত অন্তত ১৮টি মামলা হয়েছে বলে জানান আইনজীবী ছিদ্দিক।

মাগুরায় জাহান প্রাইভেট হাসপাতালে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ও জরিমানা

//শ্যামল বিশ্বাস,  বিশেষ  প্রতিনিধি//

মাগুরায় জাহান প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও পরিবেশের লাইসেন্স না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।  বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের পূর্বপাশে অবস্থিত জাহান ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার মো: ছামিউল ইসলাম এসময় জাহান ক্লিনিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার ও পরিবেশের লাইসেন্স না থাকায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

বুধবার ( ২৯ মে) বিকালে জাহান ক্লিনিকের মালিক ডাঃ মাসুদুল হক সিজারিয়ান অপারেশন করেন সীমু খাতুন নামে এক প্রসূতির। এসময় একটি কন্য শিশুর জন্ম দেন সীমু খাতুন। তবে প্রসবের পরে সীমু খাতুন মারা যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার কারনে রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ডা: মাসুদুল হকের বিরুদ্ধে। স্বজদের অভিযোগের প্রক্ষিতেই বৃহস্পতিবার দুপুরে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।

মোড়েলগঞ্জে অটোচালক খুন: ভ‍্যানচালক খুনি ফাহাদ আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জে  চাবির আঘাতে অটোচালক আল ইমরান কে খুনের ঘটনায় ভ্যানচালক নাইম ওরফে ফাহাদকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ।

আটক ভ্যানচালক নাইম ওরফে ফাহাদ মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমতলা গ্রামের সেলিম হাওলাদরের ছেলে।

মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ভাটখালী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

নিহত আল ইমরান পিরোজপুরের ইন্দুরকানি উপজেলার চরনিপত্তাশী গ্রামের আব্দুস সামাদ খানের ছেলে।

মোড়েলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ সামছুউদ্দিন বলেন, সোমবার (১৩ মে) রাত ৮টার দিকে মোরেলগঞ্জ উপজেলার আমতলা এলাকায় সড়কে ওভারটেক করা নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ভ্যানচালক নাইম ওরফে ফাহাদ ও অটোচালক আল ইমরান। এক পর্যায়ে ভ্যানচালক ফাহাদের হাতে থাকা চাবি দিয়ে অটোচালকের বুকে আঘাত করেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাগেরহাট জেলা হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তিনি আরও বলেন, রাতভর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ফাহাদকে মঙ্গলবার (১৪ মে) সকালে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ভাটখালী এলাকা থেকে আটক করা হয়। তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় মোরেলগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মোংলায় খুলনা সিটি মেয়রের লিখিত সুপারিশ থাকার পরেও ধর্ষণ মামলা না নেওয়ার অভিযোগ ওসির বিরুদ্ধে

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

দুই সন্তানের জননী এক নারীকে ধর্ষণ চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় কামড়িয়ে রক্তাক্ত করা হয়। পরে ওই নারীর ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এলে পালিয়ে যায় ধর্ষণের চেষ্টাকারী জলিল মাতুব্বর নামে এক ব্যক্তি। ঘটনাটি ঘটে মোংলা পৌর শহরতলীর  সিগনাল টাওয়ার এলাকায় গত ৯ মার্চ সকাল ৯টায়।তবে এ ঘটনায় থানায় কয়েক দফায় এজাহার নিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম। এদিকে মামলা না নেওয়ার অভিযোগে নিরুপায় হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৯মে) বাগেরহাট প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারীর খালা নাছিমা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, গত ৯মার্চ তার বোনের মেয়ে দুই সন্তানের জননীর (২৮) স্বামী-সন্তান বাড়ীতে না থাকার সুযোগে তার ঘরে প্রবেশ করে স্থানীয় মৃত কাদের মাতুব্বরের ছেলে জলিল মাতুব্বর। এ সময় তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড় দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে জলিল মাতুব্বর পালিয়ে যায়। পরে তার বোনের মেয়েকে ওইদিন রাতে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনা স্থানীয় লোকজনকে জানালে আরও ক্ষীপ্ত হয়ে জলিল মাতুব্বর তার পরিবারের আরও ছয়জনকে মারপিট করে ঘরে ভাংচুর চালায়। পরে জলিল মাতুব্বরকে আসামি করে মোংলা থানায় ধর্ষণ মামলা করতে যান তিনি। এ মামলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়রের তালুকদার আব্দুল খালেকের লিখিত সুপারিশও রয়েছে।

তবে থানায় এজাহার নিয়ে যাওয়া ধর্ষণ চেষ্টার শিকার ওই নারীর খালা নাছিমা বেগমকে ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম থানা থেকে বরে করে দেয় বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি। এরপর মামলা করতে কয়েক দফা থানায় গেলেও ওসি নানা অজুহাত দেখিয়ে মামলা আর নেননি। মামলা করতে থানায় যাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে গত ৬মে বিকেলে আবারো নাছিমা বেগমসহ তার ছেলে শিমুল, পুত্রবধূ হাফিজা ও নাতী ওমরের ওপর হামলা চালায় জলিল মাতুব্বর গং। এ হামলার ঘটনায়ও এজাহার নিয়ে গেলে থানায় মামলা নেয়নি পুলিশ। ধর্ষণ চেষ্টা ও হামলার ঘটনার মামলা না নেয়ায় ভুক্তভোগীরা এ সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী এ পরিবার।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের বিষয়টি তার জানা নেই। আর মারামারির ঘটনায় থানা থেকে বের করে দেয়া হয়নি দাবী করে তিনি বলেন, এজাহারের সাথে তাদেরকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। পরে তারা আর আসেননি। এজন্য ওই মামলাও নেয়া হয়নি, তবে অভিযোগটি তদন্ত দেয়া হয়েছে।

তবে হামলার শিকার শিশু মোঃ ওমরের (৭) মা হাফিজা বেগম বলেন, ওসি মিথ্যা বলেছেন। মামলা করতে এজাহারে যাবতীয় সব কাগজপত্র নেওয়া হলেও ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম থানা থেকে তাদেরকে বের করে দেন।

এ ব্যাপারে বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) আবুল হাসনাত খাঁন বলেন, বিষয়টি খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর যেসব অভিযোগে ওসি মামলা নেয়নি, সেই অভিযোগগুলোর কপি তার ওয়াটসএ্যাপে দিতে বলেন তিনি।

গণ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করলো র‌্যাব

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনা সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার পলাতক প্রধান আসামি খলিল ও বশির’কে ২৪ ঘন্টার রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ এর যৌথ আভিযানিক দল।

র‌্যাব এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,বরগুনা জেলা সদর এলাকায় বসবাসকারী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দম্পতি বরগুনা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তাদের সংসারে ১৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দম্পতি প্রায়ই তাদের মেয়ে ভিকটিম (১৫)’কে বাসায় রেখে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য বেরিয়ে যেত। একই এলাকায় বসবাসকারী মোঃ খলিল (৩৮), মোঃ বশির (৩৫), মোঃ কামাল (৪০), মোঃ দুলাল (৪২) এবং আকলিমা বেগম (৩৩) তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের সবার সাথে ভিকটিমের পরিবারের সু-সম্পর্ক ছিল। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১০/০২/২০২৪ ইং তারিখ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দম্পতি তাদের মেয়ে ভিকটিম (১৫)’কে বাসায় রেখে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য বাসা থেকে বের হয়। অতঃপর খলিলের স্ত্রী ভিকটিমকে ডেকেছে বলে খলিল ভিকটিমকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে খলিল ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমকে জোর পূর্বক একই দিনে দুইবার ধর্ষণ করে। দুলাল ভিকটিমকে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে, যার ফলে ভিকটিম ভয়ে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি।

গত ১৫/০২/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ ভিকটিমের অপর প্রতিবেশী দুলাল তার স্ত্রীকে মাটির চুলা সরাতে সাহায্য করার জন্য দুলালের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। ভিকটিম দুলালের বাসায় গিয়ে দেখে দুলারের স্ত্রী বাসায় নেই। অতঃপর দুলাল ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তার বাসার ভিতরে নিয়ে যায়। উক্ত বাসার ভিতরে পূর্ব হতে বশির ও কামাল উপস্থিত ছিল। ভিকটিম তাদেরকে দেখে ডাক-চিৎকার করার চেষ্টা করলে দুলাল, বশির ও কামাল সবাই মিলে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। আসামিরা ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের দৈহিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়ায় ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে তাদের পাশ্ববর্তী মা ও শিশু ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিকটিম অন্তঃসত্তা বলে জানায়। অতঃপর ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম তার পরিবারকে ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের দাদী বাদী হয়ে বরগুনা জেলার বরগুনা সদর থানায় ধর্ষক খলিল, দুলাল, বশির, কামাল ও ধর্ষণে সহযোগীতা করায় খলিলের স্ত্রী আকলিমাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০১/১২৪, তারিখ-০১/০৫/২০২৪ ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/০৩) এর ৯(১),৯(৩)/৩০। মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে সকল আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।

উক্ত গণধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-০৮ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল চাঞ্চল্যকর ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা  ০৬:০০ হতে ৮ মে দুপুর ১৩:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ এর উক্ত যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানাধীন মোস্ত মাঝির মোড় ও একই থানাধীন ডেমরাঘাট এলাকায় একাধিক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর বরগুনার সদর এলাকায় ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক প্রধান আসামি ১। মোঃ খলিল (৩৮), পিতা-মোঃ শাহজাহান, ২। মোঃ বশির হোসেন (৩৫), পিতা-মোঃ আফজাল, উভয় সাং-পিটিআই সড়ক, থানা-বরগুনা সদর, জেলা-বরগুনা’দ্বয়কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা উক্ত গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি  বলে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আটক করা হয়েছে মিল্টন সমাদ্দারকে- সব অপরাধের বিচার হবে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার-  আশ্রমের চেয়ারম্যান আটক মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বুধবার রাতেই মিরপুর মডেল থানায় এসব মামলা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি অভিযোগে মামলা হবে মিল্টনের বিরুদ্ধে। মামলাগুলো এজাহারভুক্ত হওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আটক করে মিল্টন সমাদ্দারকে।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অজস্র অভিযোগ। তার বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। তিনি তার বাবাকে পেটানোর কারণে এলাকাবাসী তাকে এলাকাছাড়া করে। এরপর ঢাকায় চলে আসেন।

তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং একাধিক মামলা হবে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা জঘন্য অপরাধ। প্রমাণ মিললে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিবিপ্রধান বলেন, মিল্টনের বিরুদ্ধে মানবপাচার, শিশুদের ওপর হামলা, আত্মীয়-স্বজন গেলে তাদের মারপিট এবং তার টর্চার সেল, সব কিছুই মামলার মধ্যে আসবে।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, মিল্টন ঢাকায় এসে শাহবাগের ফার্মেসিতে কাজ শুরু করেন। সেখানে ওষুধ চুরি করে ব্রিক্রির কারণে মিল্টনকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর একজন নার্সকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ স্থাপনের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন।

এর আগে মিল্টন সমাদ্দারের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। মুখ খুলতে থাকেন ভুক্তভোগীরাও। যদিও কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন মিল্টন সমাদ্দার।