ওয়াগনার ও রুশ সেনাবাহিনীর মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখন রাজপথে, কি হবে ভবিষ্যৎ….!

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর পথে এগোচ্ছে বিদ্রোহী ওয়াগনার বাহিনী। ইতোমধ্যে শহরটির মেয়র জানিয়েছেন, মস্কোর পরিস্থিতি কঠিন।

রুশ সেনাদের সঙ্গে তালমিলিয়ে চলা ওয়াগনার গোষ্ঠী ছিল ইউক্রেনে হামলার বড় হাতিয়ার। পরম বন্ধু হয়ে ঘাড়ে ঝুলে থাকা সেই অস্ত্রেই এখন রক্ত ঝরছে পিঠে।

বিশ্বাসঘাতক বন্ধুর মতো পেছন থেকে হামলা করেছে। অথচ রাশিয়ার ভাড়াটে সেনা ওয়াগনার বাহিনীর প্রধান ইয়েভজেনি প্রিগোজিনই (৬২) ছিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশ্বস্ত লেফটেন্যান্টদের একজন। যাকে পুতিনের বিশ্বস্ত বাবুর্চিও বলা হয়।

কিন্তু হঠাৎ করেই ফাটল ধরল! শুক্রবার গভীর রাতে বিদ্রোহের ঘোষণা দেন পুতিনের বিরুদ্ধে।

এই ঘটনা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্বকে প্রকাশ্যে আনল বলে এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধে বলা হয়েছে।

ওয়াগনার ও রুশ সেনাবাহিনীর মধ্যকার অন্তর্দ্বন্দ্ব বিশ্বের সবার সামনে সোপ অপেরা হয়ে হাজির হয়েছে।

সর্বশেষ পর্বে চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটন পোস্টের এক নিবন্ধে প্রিগোজিন বেশ কয়েকবার ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।

ডিসকর্ডে ফাঁস হওয়া তথ্যের বরাতে ওই নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, প্রিগোজিন বাখমুত থেকে ইউক্রেনের সেনাদের সরে যাওয়ার বিনিময়ে কিয়েভকে রুশ সেনাদের অবস্থান সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

ক্রেমলিন যদি ওই নিবন্ধের কথা বিশ্বাস করে ফেলে, তাহলে প্রিগোজিন সত্যিই বিরাট বিপদে আছেন।

কিন্তু তথ্য চেপে যাওয়া বা ইচ্ছা করে ভুল তথ্য দেওয়া ইউরেশিয়া অঞ্চলে খুব স্বাভাবিক ঘটনা। রাশিয়ার প্রতিদ্বন্দ্বী অভিজাত বাহিনীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার ঘটনাও নতুন নয়, যদিও পুতিনকে এতদিন এসব সামলাতে খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

কিন্তু প্রিগোজিনকে হয় এখন তিনি সামলাতে পারছেন না, বা তার ইচ্ছা নেই। যার অর্থ দাঁড়াচ্ছে, ক্রেমলিনের সর্বত্র তার নিয়ন্ত্রণ আর আগের মতো নেই।

তিনি রাশিয়ান রাষ্ট্রের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন, এবং দৃশ্যত তার কোনো উত্তরসূরীও নেই। এখন পুতিন ‍দুর্বল হয়ে পড়লে, তার শাসনামলের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন আরও গুরুতরভাবে ওঠা শুরু করবে।

২০১৪ সালে প্রিগোজিন ভাড়াটে যোদ্ধাদের গ্রুপ ওয়াগনার প্রতিষ্ঠা করেন; এতে তার সঙ্গী ছিলেন রাশিয়ার বিশেষ সামরিক গোয়েন্দা বাহিনীর সাবেক কমান্ডার দিমিত্রি উৎকিনও।

বাইরে থেকে দেখলে ওয়াগনারকে রাশিয়ার মূল সামরিক কাঠামো থেকে আলাদা মনে হবে না। এই বাহিনীর যোদ্ধারা রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ঘাঁটিতে প্রশিক্ষণ নেন, গ্রুপটির অনেক যোদ্ধাই একসময় রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে কাজও করেছেন। এছাড়াও এই বাহিনীর মূল কাজই থাকে সর্বত্র রাশিয়ার স্বার্থকে প্রসারিত করা।

২০২২ সালের মধ্যে ওয়াগনার বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন জায়গায় নিজের অবস্থান পোক্ত করে ফেলেছে। কেবল ইউক্রেইনই নয়, এটি এখন সিরিয়া, সুদান, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, লিবিয়া, মোজাম্বিক, মালি, ক্যামেরুন ও মাদাগাস্কারসহ অন্যত্রও বেশ সক্রিয়।

ক্রেমলিনে প্রভাব বিস্তারকারী বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং তাদের নেতাদের কার কেমন দাপট তা খালি চোখে বোঝার উপায় নেই। কিন্তু মনে করা হয়, প্রিগোজিন যেহেতু ক্রেমলিনে ‘আউটসাইডার’ তাই মস্কোতে তার তেমন ক্ষমতা নেই, নিরাপত্তা পরিষদের মন্ত্রণালয় বা সংস্থাগুলোর প্রধানদের মধ্যে তার বন্ধু সংখ্যাও নগণ্য।

এখন তার হাতে থাকা সেনার সংখ্যাও আনুমানিক ৫০ হাজার, যার বেশিরভাগই হয়েছে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা শুরুর পর। সে তুলনায় রাশিয়ার নিয়মিত বাহিনীর সেনার সংখ্যা দৈত্যাকার। এমনকি পুতিনের ব্যক্তিগত রক্ষীর সংখ্যাও ৩ লাখের বেশি।

এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে প্রিগোজিনের পক্ষে ক্রেমলিনকে বলির পাঁঠা বানানো প্রায় অসম্ভব, তার চেয়েও বেশি অসম্ভব পুতিনকে চ্যালেঞ্জ জানানো।

তবে ওয়াগনার ও প্রিগোজিন দুটোই ‍পুতিনের কাছে এখনও গুরুত্বপূর্ণ। রুশ প্রেসিডেন্ট সাধারণত তার ঘনিষ্ঠদের সহজে ত্যাগ করতে চান না।

জেনারেল সের্গেই সুরোভকিনকে নিয়োগ করে পুতিন সেই বার্তা আরও জোরালভাবে দিতেও চেয়েছিলেন। সুরোভকিন ওয়াগনার ও রুশ সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে লিঁয়াজোর দায়িত্বে ছিলেন। সুরোভকিন চাইলেই প্রিগোজিনকে গোলাবারুদ পাঠানো পিছিয়ে দিতে বা বন্ধ রাখতে পারতেন।

সামরিক বাহিনী এখন নতুন যোদ্ধা টানতে ওয়াগনারের আকর্ষণীয় চুক্তিতেও বাধ সেধেছে, যে কারণে প্রিগোজিন সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন।

সামরিক বাহিনীকে ঘিরে এই নাটক ক্রেমলিনের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। সহজ কথায়, এটা পুতিনকে তার সিদ্ধান্তের ভুলত্রুটি থেকে নিজেকে আলাদা করা কঠিন করে তুলবে।

ইউক্রেনে হামলার সিদ্ধান্ত পুতিন নিয়েছিলেন। পুতিনই ওয়াগনারকে বাখমুতে অভাবনীয় সাফল্য আনতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

সবশেষে পুতিনই সমগ্র যুদ্ধ দেখভালের দায়িত্ব সামরিক বাহিনীর কোন কর্মকর্তা পালন করবেন, তা ঠিক করে দিয়েছেন। গেরাসিমভ এই দায়িত্ব সুরোভকিনের কাছ থেকে নিয়েছেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে।

রাশিয়া অবশ্য ২০২২ সালে তাদের ‘সামরিক অভিযান’ শুরুর পর দায়িত্বে একের পর এক জেনারেল বদলেছে, অনেক জেনারেলকে যুদ্ধেও হারিয়েছে তারা।

২০১৪ সালে ইউক্রেনে রুশদের আগ্রাসন শুরু হয়। ইউক্রেনে রুশদের সর্বাত্মক আগ্রাসন ঘটে ২৪ ফেব্রুয়ারি। যা প্রিগোজিনের জীবনে বৈচিত্র্য নিয়ে আসে। যুদ্ধ যত খারাপের দিকে গেছে প্রিগোজিনের ভবিষ্যৎ ততই সামনে এগিয়েছে।

ভাড়াটে ব্যবসায় নাম ওঠে তার। হয়ে ওঠেন রুশদের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রের একটি গ্রুপের নেতা। ইউক্রেনীয়রা যত বেশি রুশ সেনাদের হত্যা করেছিল, মস্কোর তত বেশি ওয়াগনারের ভাড়াটেদের প্রয়োজন ছিল। সম্পদ ও চাকচিক্যের স্বাদ পেয়ে ক্ষমতার করিডোরে নিজের স্থান তৈরি করে ফেলেন প্রিগোজিন।

রামপালে সন্ত্রাসীদের কোপে ব্যাবসায়ীকে আহত করে টাকা লুট

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী বাজারে বিধান সাহা (৬৫) নামের এক বেকারি ফ্যাক্টরির মালিককে সন্ত্রাসীরা দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত বিধান সাহাকে প্রথমে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই সময় সন্ত্রাসীরা নগদ টাকা লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রামপাল থানা পু্লিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামপাল থানায় কেউ কোন অভিযোগ বা মামলা করেনি।

জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জুন) রাত সোয়া ১০ টায় পেড়িখালী বাজারের বেকারি ফ্যাক্টরির মালিক বিধান সাহা প্রতিদিনের মত বেচাকেনা করে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে উপরের দোতলার বাসায় উঠছিলেন। ওই সময় হটাৎ করে দূর্বৃত্তরা হত্যার উদ্যেশ্যে মাথায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বিধান সাহা দোকানের মেঝেতে পড়েগেলে সন্ত্রাসীরা তার পকেটে ও ক্যাশ বাক্সে থাকা টাকাপয়সা লুট করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি, কেন বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে ? লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হবে।

বাগেরহাটের রামপালে সাংবাদিক এ এইচ নান্টুর মাতার ইন্তেকাল, গভীর শোকপ্রকাশ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

 প্রেসক্লাব রামপাল এর সাবেক সাধারন সম্পাদক ৭১ টিভির ও দৈনিক নওয়াপাড়া প্রতিনিধি, দৈনিক বিশ্ব পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি এইচ আমিনুল হক নান্টুর মাতা রনজিদা বেগম (৫৫) অসুস্থতা জনিত কারণে ইন্তিকাল করেছেন।

বুধবার (২১ জুন) বিকাল ৫ টায় খুলনার আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে সে স্বামী, দুই পুত্র ও অসংখ্য আত্মীয় স্বজন রেখে যান।

রনজিদা বেগম ফয়লাহাটের বিশিষ্ট চিংড়ি পোনা ব্যাবসায়ী হাওলাদার মারুফুল হকের স্ত্রী। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিবৃতি দিয়েছেন প্রেসক্লাব রামপাল এর নেতৃবৃন্দ।

এ এছাড়াও শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)’র নেতৃবৃন্দ। অনুরূপ শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাগেরহাট জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলামসহ নেতৃবৃন্দ। মরহুমার নামাজে জানাযা বৃহস্পতিবার (২২ জুন) সকাল ১০ টায় ফয়লাহাটের গোবিন্দপুর তার নিজ বাড়ীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

থুলনার রূপসায় রেখা বেগমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখলের চেষ্টা

//রূপসা প্রতিনিধি//

থুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে নদীর পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারী ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখল নেওয়ার চেষ্টায় অব্যাহত একটি কু—চক্রী মহল। প্রকল্পে দলিল প্রাপ্ত রেখা বেগম অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ রেখা বেগম জানায়, শিয়ালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ২০/০৭/২০২২ সালে দলিল প্রাপ্ত হই এবং ২৬ নং ঘরটি আমি ভোগ অধিকার পেয়েছি। তারপর থেকে ঐ ঘরে আমি (স্বামী পরিত্যাক্ত) বসবাস করে আসিতেছি। অথচ কয়েকদিন আগে ৩ দিনের জন্য আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যাই। সেখান থেকে ফিরে দেখি আমার ঘরের দরজার সিটকেনী সহ তালা ভাঙ্গা এবং অন্য এক মহিলা তার মালামাল নিয়ে আমার ঘরের ভিতর থাকছে। এটা দেখে আমি হতবম্ব হই। আমি ঘরে না থাকা স্বত্বেও আমার ঘরে রেখে যাওয়া টাকা ও মালামাল উধাও! খুজে পাই নাই। এরপর জানতে পায়— সাবেক (ওয়ার্ড মেম্বর) সজিব, দীদার ও তানভীর ষড়যন্ত করে ঐ মহিলার বেশ কিছু টাকা খেয়ে আমার ঘরে উঠিয়েছে।

উল্লেখিত তানভীর গাজী আশ্রয়ণে (সভাপতি) নামে পরিচিত, তার স্ত্রীর ঘর নং—৭। এ ঘটনার কিছুদিন আগে তানভীর আর একটি বিবাহ করে আমার ঘরে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তাঁর কথায় রাজি না হওয়ায়, সে বলে তুই এ ঘরে কিভাবে থাকিস তা আমি দেখে নিব। তার দেখা সে দেখে নিয়ে বিপদগ্রস্ত করেছে আমাকে।

আমি বিষয়টি সজিবের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, তুমি আমাকে ৫ হাজার টাকা দিলে ঐ মহিলাকে নামিয়ে ঐ ঘরেই তোমাকে উঠিয়ে দিব। এরপর প্রায়ই আমার কাছে টাকা চাইত। এরপর উপায়ন্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

অভিযুক্ত তানভীর জানায়, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলেও তাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আপনারা সেলিনার কাছে শোনেন, সে যা বলবে তাই সত্য।

অভিযুক্ত সজিব জানায়, আমি চেয়ারম্যানের হুকুমে তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে সেলিনাকে ঘরে উঠিয়ে দিই। তবে রেখার কাছ থেকে টাকা—পয়সা নেইনি। আমাকে পরে চেয়ারম্যান বলেছেন, ঐ মহিলার ঘরের দলিল থাকা স্বত্বেও তাঁর ঘরের তালা ভেঙ্গে অন্যকে উঠানো সম্পূর্ন ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্তমান দখলদার সেলিনা জানান, সজিব, দীদার ও তানভীর বলেছে চেয়ারম্যান নাকি ঐ ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে আমাকে থাকতে দিতে। এটি কার ঘর, তা আমি আগে জানতাম না।

ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোল্যা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান বলেন, এ ঘরের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে তদন্তর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সরোজমিনে তদন্তপূর্বক ২/১ দিনের মধ্যে সঠিক তথ্যর প্রতিবেদন জমা দিব। আমাকে সজিব, তানভীর ও দীদার, সেলিনার সমস্যার কথা জানালে, আমি ওদেরকে রেখা বেগমের সাথে কথা বলতে বলেছি যে কিছুদিনের জন্য ওর ঘরে সেলিনাকে থাকতে দেয় কি—না। কিন্তু তাঁরা তা না করে সরকারী ঘরের তালা ও সিটকেনী ভেঙ্গে ফেলে। তাদের এই ভাঙ্গার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান বলেন, শিয়ালী এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। প্রতিবেদন আসলে অপরাধির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে গিয়ে এক ধনকুবের আরোহীসহ নিখোঁজ সাবমেরিন

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখাতে দর্শনার্থীদের আটলান্টিক মহাসাগরের তলদেশে নিয়ে যাওয়া একটি সাবমেরিনের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। গত রোববার যাত্রা শুরুর ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট পর নিখোঁজ হয় সেটি। সাবমেরিনটির সন্ধানে জোর তৎপরতা চলছে।

হারিয়ে যাওয়া সাবমেরিনটির নাম টাইটান। সাগরের তলদেশে যাত্রী পরিবহনের কাজে সেটি ব্যবহার করা হতো। ট্রাকের আকৃতির এই সাবমেরিনটিতে চালক ও একজন ক্রুসহ মোট পাঁচজন আরোহী থাকতে পারেন। পানির নিচে সেটি চার দিনের অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে।

টাইটানের মালিক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওশানগেট। পানির তলদেশে গবেষণা, অনুসন্ধান, এমনকি ভ্রমণ করতে ইচ্ছুক—এমন লোকজনকে সাবমেরিনের মাধ্যমে পানির নিচে নিয়ে যায় প্রতিষ্ঠানটি। ওশানগেটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হারিয়ে যাওয়া সাবমেরিনের আরোহীদের ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছে তারা।

এদিকে নিখোঁজ টাইটানের আরোহীদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের একজন ধনকুবের ছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর নাম হামিশ হার্ডিং। দিন কয়েক আগে ৫৮ বছর বয়সী এই শত কোটিপতি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে জানিয়েছিলেন, তিনি টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ দেখতে যাচ্ছেন।

কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড প্রদেশের সেন্ট জন শহর থেকে টাইটানের যাত্রা শুরু হয়। আটলান্টিকের তলদেশে যেখানে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ রয়েছে, সেখান থেকে এর দূরত্ব ৬০০ কিলোমিটার। সেন্ট জন থেকে টাইটানকে পোলার প্রিন্স নামের একটি জাহাজে করে ধ্বংসাবশেষস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে সাগরের তলদেশে যাত্রীদের নিয়ে যায় সাবমেরিনটি। টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষ ঘুরিয়ে আনতে এটির সময় লাগে প্রায় আট ঘণ্টা।

গত বছর টাইটানে চড়েছিলেন সংবাদমাধ্যম সিবিএসের প্রতিবেদক ডেভিড পগ। বিবিসিকে তিনি বলেন, টাইটান পানির নিচে যাওয়ার পর যোগাযোগের জন্য সেটির ওপরে থাকা পোলার প্রিন্স থেকে ছোট ছোট বার্তা পাঠানো হয়। তবে এবার ওই বার্তার কোনো জবাব আসছে না। আর টাইটানে থাকা আরোহীদের বাইরে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় নেই। কারণ, সেটির প্রবেশ পথগুলো বাইরে থেকে আটকানো থাকে। তাই সাবমেরিনটি পানির ওপরে ভেসে উঠলেও, সেটি বাইরে থেকেই কাউকে খুলতে হবে।

১৯১২ সালে যুক্তরাজ্য থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে প্রথম যাত্রা শুরু করে টাইটানিক। সেবারই এক হিমশৈলির সঙ্গে ধাক্কা লেগে ডুবে যায় সে সময়ের সবচেয়ে বড় এ জাহাজটি। এতে জাহাজটিতে থাকা ২ হাজার ২০০ যাত্রীর ১ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যান। ১৯৮৫ সালে আটলান্টিকের তলদেশে ১২ হাজার ৫০০ ফুট গভীরে টাইটানিকের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পাওয়া যায়।

বাগেরহাটের রামপালে নদীর চর থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালের নদীর চর থেকে হাসিব শেখ (১০) নামের এক স্কুল পড়ুয়া শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

শনিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় রামপাল থানা ও নৌ পু্লিশ যৌথভাবে থানা সীমানার মানিক নদীর চর থেকে ওই শিশুর লাশটি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রামপাল নৌ পু্লিশ থানায় মৃতের পিতা মো. আমির আলী শেখ একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেন।

নৌ পু্লিশ লাশের প্রাথমিক সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট মর্গে প্রেরণ করেছে। মৃত হাসিব উপজেলার জিয়লমারী গ্রামের আমির আলীর পুত্র। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম এবং নৌ পু্লিশের ওসি শরিফুল ইসলাম বিষটি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে হাসিব বাড়ী থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়।

শনিবার (১৭) জুন দুপুরে মানিক নদীর চর থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশের শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে কিভাবে ওই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা ও নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেনি।

খুলনার রূপসায় বিদ‍্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে কৃষকের মৃত‍্যু

খুলনা প্রতিনিধি:
রূপসায় আখের আলী শেখ(৪৫) নামে এক কৃষক বিদ‍্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছে।
আখের আলী স্বল্প বাহিরদিয়া গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছে।

পুলিশ ও পরিবার জানায়, উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামে মৃত আখের আলী জমি ক্রয় করে বসবাস করে আসছে। বাড়ির পাশে মাছের ঘেরের পাড়ে শসা চাষ করে আসছে।

প্রতিদিন ঘেরের পাড় থেকে পানি নিয়ে শসা ক্ষেতে দেয়। প্রতিদিনের মত শুক্রবার ১৬জুন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শসা ক্ষেতে পানি দিতে যায়। এসময় লাইনের আর্থিন ছুটে গেলে আখের আলী তা লাগাতে যায়।
বিদ‍্যুৎ লাইন বন্ধ না করে কাজ করার সময় বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে আখের আলী গুরুত্ব আহত হয়। আহত অবস্থায় পরিবারের লোকজন তাকে উদ্বার করে রূপসা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাকে মৃত‍্যু ঘোষণা করেন।
কৃষক আখের আলীর মৃত‍্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

আখের আলী ফকিরহাট উপজেলার লালচন্দ্রপুর গ্রামের রায়হান শেখের ছেলে। দীর্ঘ ২০বছর ধরে খাজাডাঙ্গা গ্রামের ওমর আলী পাইকের মেয়েকে বিবাহ করে ঐ এলাকায় বসবাস করে আসছে। একটা ছেলে, একটা মেয়ে ও স্ত্রী নিয়ে ছিল তার বসবাস।

মাগুরায় গরুর খামারে আগুন খামারির স্বপ্ন পুড়ে ছাই

//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

আজ শুক্রবার (১৬ জুন’২০২৩) বিকাল অনুমান ৪.০০ ঘটিকার দিকে মহম্মদপুর উপজেলার নহাটা বাজারের পশ্চিম পাশে গরুর খামারি মোঃ জিল্লুর রহমান জিল্লা মোল্লার গরুর খামারে আগুন লাগে।

আগুনে ২টি গরু পুড়ে মারা যায়, ৩টি গরু মারাত্মক আহত অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকবাসী। উদ্ধারের সময় খামারির ছোট ভাই মানিক মোল্লার শরীরের কিছু অংশ আগুনে ঝলসে গেছে। এলাকাবাসীর ধারণা বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

০৮ নং নহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জনাব মো: তৈয়েবুর রহমান তুরাপ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন।

ডুমুরিয়ায় জামাই বাড়ি থেকে ফেরার পথে সড়ক দুঘটনায় শাশুড়ি নিহত

//বিশেষ প্রতিনিধি ডুমুরিয়া//

খুলনার ডুমুরিয়ায়  আঠারো মাইল এলাকায় সকালে যাত্রীবাহী বাসের চাকায় পিষ্ঠ হয়ে   ষাটোর্ধ এক বৃদ্ধ মহিলা নিহত হয়েছে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার শোভাশুনি গ্রামের মৃত আকছেদ আলী শেখের স্ত্রী রোকেয়া বেগম (৬২) ডুমুরিয়া উপজেলার বেতাগ্রামের জামাই বাড়ি থেকে ভ্যান যোগে নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। এসময় ভ্যানটি খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের আঠারোমাইল সেঞ্চুরি ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌছুলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী বাস ভ্যানটিকে চাপা দেয়। এঘটনায় মহিলা বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে বাম পা হাটু থেকে আলাদা হয়ে যায় ও মাথা আঘাত লেগে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এ ব্যাপারে,

খর্ণিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শওকত হোসেন জানায় , নিহত মহিলাকে ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এবং বাসটিকে আটক করা হয়েছে।

খুলনার রূপসায় ৫জন শিক্ষার্থী গরম সইতে না পেরে পরীক্ষার মধ্যে অচেতন; হাসপাতালে ভর্তি

//এম মুরশীদ আলী//

খুলনার রূপসায় বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ৫জন পরীক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, রূপসা উপজেলা সদরস্থ কাজদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আজ ১৩ জুন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত গরম সইতে না পেরে ৫জন পরীক্ষার্থী জ্ঞান হারায়। ছাত্রীরা হলো— ১০ম শ্রেণীর মুনিয়া ইংরেজী ২য় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাছাড়া— ৬ষ্ঠ শ্রেণীর মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ছাত্রীদের মধ্যে তনুসকা শীল, বৈশাখী, রেক্সনা, সানজিদা প্রমূখ।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চাঁদ সুলতানা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ও তীব্র গরমে পরীক্ষার হলে হঠাৎ এক এক করে পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে ঘুরে পড়েতে শুরু করে। এমতাবস্থায় তাৎক্ষনিক অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তখন জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক অক্সিজেন এবং স্যালাইন পুশের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের ভর্তি করে নেয়। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পিকিং সিকদার বলেন, অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি পরীক্ষার চাপ থাকায় মানসিক ও শারীরিক ভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রূপসা পল্লী বিদ্যুৎ ব্রাঞ্চের প্রধান মো. এ হালিম খান বলেন, ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ চলমান ছিল। ঘটনার পর জানতে পারলাম ওই এলাকার সংযোগ ফিউজটি কেটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।