দন্ডপ্রাপ্ত হয়েও বহাল তবিয়তে আমতলীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে আদালত কর্তৃক দন্ডপ্রাপ্ত হয়েও বহাল তবিয়তে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের   প্রধান শিক্ষিকার (চলতি দায়িত্ব) চাকুরী করছেন আমতলী পৌর শহরের বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম।

ফেরদৌসী বেগম উপজেলার হরিমৃতন্জয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার চলতি দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেরদৌসি বেগমের ছেলের স্ত্রীর করা যৌতুক মামলায় আর্থিক দণ্ডপ্রাপ্ত।

ঐ মামলার বাদী আদালতের রায়সহ ব্যবস্থা এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমতলী উপজেলা ও বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে লিখিত আবেদন করেছেন।

ভুক্তভোগী নাজমুন নাহার ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার উত্তর টেপুরা গ্রামের মোঃ আবুল হেসেনের মেয়ে নাজমুন নাহারের সাথে আমতলী পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সৈয়দ আফাজ উদ্দিন চুন্নু মিরার ছেলে সৈয়দ ইজাজ উদ্দিন হাদি সজিবের সাথে ২০০৯ সালের ১৭ নভেম্বর বিয়ে হয়।সজিবের মা ফেরদৌসী বেগম হরিমৃতুঞ্জয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকার চলতি দায়িত্বে রয়েছেন।

নাজমুন নাহারের বিয়ের সময় মেয়ের বাবা ছেলেকে নগদ টাকা স্বর্ণালঙ্কারসহ ঘরের আসবাবপত্র সহ যাবতীয় মালামাল দিয়ে মেয়েকে বিয়ে দেয়। বিয়ের পর প্রায়ই যৌতুক লোভী ইজাজ মা ভাইয়ের প্ররোচনায় স্ত্রীর কাছে পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক এবং একটি মোটর সাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি করেন। যৌতুক দিতে অস্বীকার করায় স্বামী ইজাজ,শাশুড়ি ফেরদৌসি এবং দেবর শাহরিয়ার ঘরের দরজা বন্ধ করে নাজমুন নাহারকে মারধর করে।

মারধরের সময় স্বামী ইজাজ জ্বলন্ত সিগারেটের আগুন দিয়ে নাজমুন নাহারের সারা শরীর ঝলসে দেয় এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করলে নাজমু নাহার মেরুদণ্ডে আঘাত প্রাপ্ত হন। মেয়ের এ খবর পেয়ে নাহারের বাবা মা তাকে বাড়ি নিয়ে যান।

পরবর্তীতে এ ঘটনায় নাজমুন নাহার বাদী হয়ে ২০১৯ সালের ১০ অক্টোবর আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নারী শিশু নির্যাতন ও যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘদিন মামলা চলার পর ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর মামলার রায় প্রদান করা হয়।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আরিফুর রহমান এর দেওয়া রায়ে স্বামী সৈয়দ ইজাজ উদ্দিন সজিবকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তার মা প্রধান শিক্ষিকা ফেরদৌসি বেগমকে আট হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। শাশুড়ি ফেরদৌসি বেগম আদালতের ওই আদেশ মেনে জরিমানার টাকাও পরিশোধ করেছেন।

বাদী নাজমুন নাহার আদালতের  দেওয়া আদেশের পর বাদী নাজমুন নাহার মামলায় দন্ডপ্রাপ্ত  তার শাশুড়ি ফেরদৌসি বেগম সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাতমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও বরগুনা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেন।

অভিযোগ এর বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষিকা ফেরদৌসি বেগম বলেন,আমি উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবো।

অভিযোগ কারী নাজমুন নাহার বলেন,আদালতে আমি ন্যায় বিচার পেয়েছি।আমার শাশুড়ি সরকারি চাকরিজীবী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন করেছি।

এ বিষয়ে সদ্য বদলী হওয়া আমতলী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মজিবুর রহমান বলেন,যৌতুক মামলায় আদালতের রায়ে ফেরদৌসি নামে এক শিক্ষকের আর্থিক দণ্ড হয়েছে। রায়ের কপিসহ বাদীর একটি আবেদন পেয়েছি। মতামতসহ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনটি জেলা শিক্ষা অফিসে পাঠানো হয়েছে।

বরগুনা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আদালতে একজন শিক্ষকের যৌতুক মামলায় আর্থিক দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছে এবং সকল কাগজপত্রও পাওয়া গেছে। সরকারি চাকুরি বিধি অনুযায়ী ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Daily World News

বরগুনার তালতলীতে বেসরকারি সংস্থার আর্থিক সহায়তা প্রদান

বরগুনার আমতলীতে মহিলা কলেজ প্রভাষকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা!

//সাইফুল্লাহ নাসির,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থ লবিজ্ঞানের প্রভাষক সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহর বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষায় বডি চেইঞ্জ করে পরীক্ষায় অংশ নিতে সহায়তার দায়ে জিআর-১৫৪/১৮নং মোকদ্দমায় আমতলী উপজেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক গ্রেফতারী পরোয়ানার আদেশ দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে,২০১৮ সালের মে মাসের ৩ তারিখ আমতলী বকুলনেছা মহিলা কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে উচ্চতর গনিত ২য় পত্রের পরীক্ষার দিন কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্তরা পরীক্ষার্থী মোঃ আরিফুর রহমানের প্রবেশপত্র ও রেজিষ্টেশন কার্ড যাচাইকালে দেখতে পান যে, প্রবেশপত্র ও রেজিষ্টেশন কার্ডে মোঃ মেহেদী হাসান এর ছবি। তখন পরীক্ষা কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্তদের জিজ্ঞাসাবাদে আরিফুর রহমান জানান যে, সে ২৫ হাজার টাকা চুক্তিতে আসল পরীক্ষার্থী মেহেদি হাসানের সাথে চুক্তিবদ্ধ হেেয়ছে তাকে জিপিএ ৪ পাইয়ে দিবে। সে মেহেদি হাসানের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা নিয়ে বডি চেইঞ্জ করে তার পরীক্ষা দিতে আসছে। ওই সময় কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা আরিফুর রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করে।
ওই ঘটনায় বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের তৎকালীন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যক্ষ মোঃ মজিবুর রহমান পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) ১৯৮০ এর ৩ (ক) ও (খ) ১৩ ধারায় বডি চেইঞ্জ করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার দায়ে আরিফুর রহমানকে আসামী করে আমতলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ওই মামলায় আসামী আরিফুর রহমানকে (১৯) গ্রেফতার দেখিয়ে আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি প্রদান করার জন্য প্রেরণ করে। আসামী আরিফুর রহমান জবানবন্দিতে বকুলনেছা মহিলা ডিগ্রী কলেজের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহর সম্পৃক্ত থাকার বিষয়টি প্রকাশ করেন। ওই সময় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বিষয়টি পিবিআই পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেন দেন। পরবর্তীতে তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক (পটুয়াখালী) মোঃ আব্দুস সোবাহান সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহর নাম তদন্ত প্রতিবেদন থেকে বাদ দিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আজ (১৭ জানুয়ারী) মামলার ধার্য তারিখে আদালতে পিবিআই পুলিশের দেয়া তদন্ত প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হওয়ায় আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মোঃ আরিফুর রহমান মামলাটি আমলে নিয়ে সৈয়দ মোহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহকে ওই মামলায় অর্šÍভূক্ত করে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আসামী পক্ষের আইনজীবি অ্যাডঃ এম. ইসহাক বাচ্চু।

অভয়নগরে গলাকাটা অজ্ঞাত যুবকের লাশের পরিচয় মিলেছে, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুইজন আটক

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদীর তীরে সরিষা ক্ষেতের পাশে বালির ড্যাম্প থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহের পরিচয় মিলেছে। নিহত ওই যুবকের নাম ফরিদ গাজী। উপজেলা ইউনিয়ন পরিষদ এলাকার গুয়াখোলা গ্ৰামের শাহী বস্তির বাসিন্দা আফিল উদ্দিন গাজীর ছেলে সে। সোমবার (১৬ জানুয়ারি)সকাল ১১ টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত বার্মিজ চাকু উদ্ধার করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা হল, নড়াইল সদর থানার যদুনাথ পুর গ্রামের সাখাওয়াত মোল্যার ছেলে শান্ত ও একই গ্রামের ছবুর মোল্যার ছেলে সাকিব মোল্যা।আসামি আটকের ব্যাপারে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ জানায়, নিহত যুবকের নামে ধর্ষণ মামলা রয়েছে। কারাগারে থাকা কালীন উল্লেখিত  দু’ আসামির সাথে নিহত ফরিদ গাজাীর পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ে তারা তিনজন একটি রুম ভাড়া নিয়ে নওয়াপাড়া বেঙ্গল মিল এলাকায় বসবাস করত। তারা জাহাজের স্কটসহ বিভিন্ন কাজ করত। মাঝেমধ্যে তারা চুরিও করত। গ্রেপ্তার হওয়া ওই দু’যুবকের কাছ থেকে জানা গেছে, নিহত ফরিদ গাজী তাদের কিছু টাকাও আত্মসাৎ করেছে।ঘটনার দিন সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হওয়া ওই দু’জন স্যালো মেশিন চুরির কথা বলে ফরিদকে ভৈরব ব্রীজের কাছে ডেকে নেয়। এরপর তাকে জবাই ও গলায় ছুরি ঢুকিয়ে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখে যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবি ও থানা পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে আসামীদের আটক করে। নিহতের বোন আসমা বলেন, তার ভাই জাহাজে কাজ করত, কখনো অন্য কাজও করত। ফরিদ নওয়াপাড়া বেঙ্গল টেক্সটাইল মিলের পাশে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করত। ওই বাসায় তার আরও দুই বন্ধু ভাড়া থাকত, টাকা নিয়ে ওদের মধ্যে বিবাদ ছিলো। এ কারনে তার ভাইকে পরিকল্পিত ভাবে গলা কেটে হত্যা করেছে ওই দু’জন।উল্লেখ্য, রবিবার দুপুর ২ টায় স্থানীয় লোকজন ভৈরবব্রীজের পাশে দক্ষিণ দেয়াপাড়া গ্রামে মাটি কাটা শ্রমিকেরা বালির ডিপোর ওপর থেকে ফরিদের গলাকাটা লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে বিকাল ৪ টার সময় লাশটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতে লাশের আঙ্গুলের ছাপ শনাক্তকরণ করার চেষ্টা করে। এতে ব্যর্থ হয়ে লাশের পকেটে একটি চিরকুটে পাওয়া মোবাইল নং ধরে লাশের পরিচয় শনাক্ত এবং আসামি গ্রেপ্তার হয়।

বাগেরহাটের কচুয়ায় একাধিক মামলার আসামী সহ আটক-৬

শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

বাগেরহাটের কচুয়ায় একাধিক মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী সহ ৬ জনকে আটক করেছে কচুয়া থানা পুলিশ।

শনিবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কচুয়া থানার  সিআর ১৪/২১ মামলার আসামী মঘীয়া গ্রামের আফছার শেখ পুত্র আউব আলী শেখ(৫৮), মিস ০৯/২১ আসামী  খলিশাখালীর মৃত শেখ আঃ আজিজ এর পুত্র ফেলজ উদ্দিন(৬৪), সিঅর ১৩২৭/২২ মামলার আসামী দঃ মাধবকাঠী গ্রামের ইলিয়াচ শেখের পুত্র এমরান শেখ(২৮), পিতাঃ মোসলেম শেখের পুত্র ইলিয়াচ শেখ(৫৪), দীন মোহাম্মদ শেখের পুত্র জাহাঙ্গীর শেখ(৫৭) এছাড়া চান্দেরকোলা এলাকা থেকে নাইম শেখ (২১)কে আটক করে।

আটক নাইম শেখের বিরুদ্ধে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের প্রকল্পের কর্মাচাকে আলকাজ শেখকে মারধরের ঘটনা কচুয়া থানার নন জিআর ২৩/ ২২ নং মামলার এজাহার ভুক্ত আসামী। এছাড়া কচুয়া থানার জিআর ৭৬/২১ ও জিআর ৩/২০ মাদক নিয়ন্ত্রন,নারি ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার এজাহার ভূক্ত আসামী।আটক নাইম শেখ উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের চান্দেরকোলা গ্রামের বেলায়েত শেখের এর পুত্র।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  মোঃ মরিুল ইসলাম জানান,উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কচুয়া থানার বিভিন্ন মামলার এজাহার ভুক্ত ৬ জন আসামী আটকরে জেলহাজতে প্রেরন করা হয়েছে।

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনী তফসীল ঘোষণা

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতি নির্বাচন-২০২৩ এর তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী সমিতির ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারের নির্বাচনে সর্বমোট ৮৯৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারী) দুপুরে নির্বাচন উপ-পরিষদের আহবায়ক সৈয়দ গোলাম মাসউদ বাবলু সমিতি কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই তফসিল ঘোষণা করেন। নির্বাচন উপ-পরিষদের আহবায়ক জানান, ঘোষিত তফসিলে আগামী ২২ জানুয়ারি দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হবে। আগামী ২৪ জানুয়ারি দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে । ২৫ জানুয়ারি প্রার্থীদের খসড়া তালিকা প্রকাশ, ২৯ জানুয়ারী দুপুর ৩টা পর্যন্ত প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ সময় এবং ৩০ জানুয়ারি দুপুর ২টায় নির্বাচনে প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।

আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ করা হবে। তবে দুপুর ১টা থেকে ৩০ মিনিটের জন্য ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকবে। তফসিল ঘোষণাকালে নির্বাচন উপ-পরিষদের সদস্য সচিব এ্যাড. কাইয়ুম খান কায়সার বলেন, সমিতির গঠনতন্ত্রের ২০ এর ক, খ, গ ও ঘ ধারায় উল্লেখিত নির্বাচনী আচরণবিধি অবশ্যই প্রার্থীদের মেনে চলতে হবে। প্যানেল ভিত্তিক নির্বাচন করা যাবে না। নির্বাচনে কোন প্রকার পোষ্টার, প্রচারপত্র, প্লাকার্ড, মাইক্রোফোন, মিছিল, হাতাতালী বা শব্দ সহকারে শ্লোগানের মাধ্যমে প্রচার কাজ করা যাবে না। নির্বাচন চলাকালে কোন অবস্থায় বুথে মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা ব্যবহার করা যাবে না। ভোটার ব্যতিত কেউ ভোট কক্ষে অনধিকার প্রবেশ করে নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করতে পারবে না। কোন প্রার্থীর পক্ষে কোন এজেন্ট নিয়োগ করা যাবে না। প্রার্থীরা কোন প্যানেল পরিচিতি সভাও করতে পারবেন না। এসব আইন অমান্য হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের হুশিয়ারী দেয়া হয় তফসিল ঘোষণা অনুষ্ঠান ।

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলায় অবৈধ ভাবে গড়ে ওঠা ৬টি ইটভাটা উচ্ছেদ ও একটিতে ৫লক্ষ টাকা জরিমানা করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর

//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

গত কাল ১৯/১২/২০২২ তারিখ সোমবার দিন ভর এ অভিযান পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের কর্মকর্তাগন। মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ৬ টি ব্যারেল চিমনি ইটভাটা সম্পূর্ণ ধ্বংস করেন ও একটি জিগজ্যাগ ইটভাটাকে ৫ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়। মোবাইল কোর্টটি পরিচালনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জনাব শাহীনা সুলতানা।

এসময় পরিবেশ অধিদপ্তর যশোর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক জনাব সাঈদ আনোয়ার, সহকারী পরিচালক জনাব হারুন অর রশীদ সহ অত্র কার্যালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১. মেসার্স বিসিভি ব্রিকস, ঠাকুরের হাট,বাবুখালী,  মহম্মদপুর মাগুরা, ২. মেসার্স জেডপিএমবি ব্রিকস, বাসো, বাবুখালী, মহম্মদপুর, মাগুরা, ৩. মেসার্স এরএমবি ব্রিকস, ঘোষপুর বালিদিয়া, মহম্মদপুর মাগুরা, ৪.মেসার্স কেএবি ব্রিকস, নহাটা পরমেশ্বরপুর, মহম্মদপুর, মাগুরা ৫. মেসার্স খান ব্রিকস, বানিয়াবহু, বিনোদপুর, মহম্মদপুর, মাগুরা ৬.এএমবি ব্রিকস,ঝগড়দিয়া রাজাপুর,মহম্মদপুর মাগুরা নামক ড্রাম চিমনি বিশিষ্ট ইটভাটা গুলোকে ভেঙ্গে গুড়িয়া দেয়া হয়েছে।

এছাড়া মেসার্স নাজ ব্রিকস, ধোয়াইল বাজার, মহম্মদপুর, মাগুরা নামক জিগজ্যাগ ইটভাটা নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় তথা ইটভাটা কর্তৃক ইটপ্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন(নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩ এর ৮(১) ধারা ও ৮(৩) ধারা লঙ্ঘন করায় ৫০০,০০০/- (পাচ লক্ষ টাকা) জরিমানা ধার্য ও আদায় করা হয়।ভাটার মলিকগণ হলেন,মহম্মদপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান মোঃবরকত আলী,বলিদিয়া ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান পান্নু মিয়া,ঝগড়দিয়ার আনোয়ার, বিনোপুরের সামাদ, বড়বিয়া গ্রামের জিল্লাল,জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য নাগড়া গ্রামের মিজানুর রহমান মিনজু।

পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনা সুলতানা বলেন, বায়ুদূষণ রোধে আমাদের কার্যালয় কর্তৃক আজকের এ অভিযান পরিচালনা করা হলো,পরিবেশ দূষণ রোধে আমাদের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মাগুরার রাজাপুর পুলিশ ক্যাম্পের অভিযানে ৭৫ পিচ ইয়াবা সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা//

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন রাজাপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত নাওভাঙা গ্রামের গোয়ালবাথান ঘাট এলাকা থেকে ১৩/১২/২২ ইং মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় মাগুরা সদর উপজেলার গোপালগ্রাম ইউনিয়নের সঙ্কোচখালী গ্রামের মোঃ মজিদুল হক খোকনের পুত্র,মোঃ ইমরান (২২)  কে ৭৫ পিচ ইয়াবা সহ এসআই (নিরস্ত্র) কাজী শামসুল আলম ও সঙ্গীয় ফোর্স গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ধৃত করে।

রাজাপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কাজী শামসুল আলম জানান রাজাপুর পুলিশ ক্যাম্পের অভিযান চলমান থাকবে মাদক বা যেকোনো ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি,বিশেষ করে মাদকের সাথে কোনো আপোষ চলবে না।

উক্ত আসামি ইমরানের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করিয়া আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় এক অতিথি পাখি শিকারীকে জরিমানা করেছে ভ্রাম‍্যমান আদালত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া//

র‍্যাব- ৬ খুলনা ও ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের  অভিযানে ৮ ডিসেম্বর  বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার চেচুড়ি বাজার এলাকা হতে অতিথি পাখীসহ আটক ফারুক সরদার(৪৫) কে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য ও জব্দকৃত পাখি উন্মুক্ত করেছে ভ্রাম্যমান আদালত।

আদালত ও  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৬ খুলনার(স্পেশাল কোম্পানী) সিনিয়র এ,এস,পি পহন চাকমার নেতৃত্বে গোয়েন্দা টীম ভোর ৬ টা হতে অভিযান চালিয়ে ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া ইউনিয়নের চেচুড়ি বাজার এলাকা থেকে ২৮ পিচ বিভিন্ন প্রজাতির অতিথি পাখিসহ শিকারী কপালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ফারুক সরদার কে আটক করে।

পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শরীফ আসিফ রহমান পরিচালিত ভ্রাম্যমান আদালত বন্য প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০১২ এর ২৪ ধারা লংঘনের দায়ে ১০ হাজার টাকা জরিমানা ধার্য্য অনাদায়ে এক দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডাদেশ প্রদান করেন। আদালত পরিচালনার সময় উপস্হিত ছিলেন নবাগত উপজেলা সহকারি কমিশনার(ভূমি) মোঃ আফরোজ শাহীন খসরু,বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ দপ্তরের খুলনা সদর রেঞ্জ অফিসার লুৎফার পারভেজ,উপজলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ের উপসহকারি প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুজার হোসাইনসহ র‍্যাব সদস্যবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে উপজেলা জামায়াতের আমিরসহ গ্রেপ্তার ২০

//চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি//

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামায়াতের গোপন বৈঠক থেকে পুলিশের ওপর হামলায় এক উপপরিদর্শকসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় পুলিশ উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমানসহ একই দলের ২০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে বেশ কিছু জিহাদি বই।
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা আজ বুধবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি আজকের পত্রিকাকে বলেন, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার ৩ নম্বর কালিকাপুর ইউনিয়নের একটি বাড়িতে ১০ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশকে সামনে রেখে নাশকতার পরিকল্পনা করতে উপজেলা জামায়াতের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ গোপন বৈঠকে বসেন। খবর পেয়ে ওই বাড়িতে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে জামায়াত নেতারা পুলিশের ওপর হামলা চালান। হামলায় উপপরিদর্শক জুয়েল, সহ-উপপরিদর্শক বল্লম মজুমদার ও ৪ কনস্টেবলসহ ছয় জন আহত হয়।
পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে বাড়িটিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলা জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি বেলাল হোসেন, সহসাধারণ সম্পাদক এয়াছিন, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবুল হাশেম, ঘোলপাশা ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আবদুল কাদের, জামায়াত নেতা মো. ইসমাইল, মো. নোমান, আবু তাহের, আবদুর রহিম, ইব্রাহিম খলিল, মোখলেছুর রহমান মজুমদার, সাইফুল ইসলাম, জহির উদ্দিন, আবুল হাশেম, জাহিদুর রহমান, আহসান উল্যাহ, বেলাল হোসেন, ফজলুল হক ও মাসুমসহ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ওসি আরও বলেন, এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০ ডিসেম্বর নাশকতা পরিকল্পনার নানা তথ্য ও বেশ কিছু জিহাদি বই জব্দ করা হয়। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

মিথ্যা মামলা দিয়ে প্রতারণা করায় বাদীর ১৫ দিনের কারাদণ্ড

//সাইফুল্লাহ নাসির,  বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জমির মালিকানা না হওয়া সত্ত্বেও প্রতারণা করে টাকা নিয়ে জমি বিক্রি ও দলিল রেজিস্ট্রি করেছে মর্মে বাদী আব্দুর রশিদ একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

আলালতে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাদীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।

মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে,তালতলী উপজেলার ৪২নং বড় নিশান বাড়িয়া মৌজার,এসএ ১৯৪, ১৯৫, ১৯৬নং খতিয়ানে ৩০টি দাগ উল্লেখ পূর্বক জমির মালিকানা না থাকা সত্ত্বেও প্রতারণা করে টাকা নিয়ে উপজেলার ছোট আমখোলা গ্রামের বাসিন্দা ক্বারি আব্দুর রাজ্জাক, সিদ্দিকুর রহমান ও আব্দুল হক সাব কবলা মূলে একই এলাকার আব্দুর রশিদের কাছে জমি বিক্রি ও দলিল রেজিস্ট্রি করেছেন।

এমন অভিযোগ এনে আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ২০২০ সালে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাড. বাকের খানের মাধ্যমে সি.আর ৪৮৫নং ও ৪২০ ধারায় উল্লেখিত ওই তিন জনকে আসামি করে একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন।

উক্ত মামলায় বাদীর উল্লেখিত বিষয়টি আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আজ সোমবার (৫ ডিসেম্বর) বাদী আব্দুর রশিদকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে বরগুনা জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন আমতলী উপজেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আরিফুর রহমান।

আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হরিহর চন্দ্র দাস বলেন, আমার মক্কেলদের বিরুদ্ধে করা মামলার বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতের বিজ্ঞ বিচারক বাদীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। আদালতের এমন রায়ে আমরা খুশি।