আফগানিস্তানে শিশুদের বিয়ে দেওয়ার হার চরম আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েটা ফোর। সেখানকার পরিস্থিতি এতোটাই ভয়ারহ হয়ে উঠেছে যে পরিবারের সদস্যরা যৌতুকের বিনিময়ে ২০ দিন বয়সী শিশুকেও ভবিষ্যতে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছেন।
দেশটির বাল্য বিবাহ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হেনরিয়েটা ফোর বলেন, বিশ্বাসযোগ্য সূত্রে আমার জানতে পেরেছি যৌতুকের বিনিময়ে ২০ দিন বয়সী শিশুকেও ভবিষ্যতে বিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
এমনকি তালেবান দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের আগে ২০১৮ ও ২০১৯ সালে শুধু হেরাত ও বাঘদিস প্রদেশেই ১৮৩টি বাল্য বিবাহ ও ১০টি শিশু বিক্রির ঘটনা লিপিবদ্ধ করেছে ইউনিসেফ। এসব শিশুদের বয়স ছয় মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।
এদিকে ইউনিসেফের ধারণা, ১৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সী ২৮ শতাংশ আফগান নারীরই ১৮ বছরের আগে বিয়ে হয়েছে।
করোনা পরিস্থিতি, চলমান খাদ্য সংকট ও আসন্ন শীতকাল ধুঁকতে থাকা আফগান পরিবারগুলোকে আরও ভয়াবহ সংকটে ফেলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আফগানিস্তানের ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিস্থিতি আফগান পরিবারগুলোকে দারিদ্রতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে এবং তারা শিশু শ্রম ও শিশুদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার মতো চরম উপায় বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছে।
গত ১৫ আগস্ট কাবুল দখলের মাধ্যমে আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে তালেবান। ২০ বছর আগে আফগানিস্তান তালেবানের দখলে ছিল। মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ছাড়তেই নাটকীয়ভাবে দেশটি দখল করে নেয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি।
এদিকে, কাবুল দখলের মাধ্যমে শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতা নয়, রাতারাতি বিপুল সামরিক শক্তিরও অধিকারী হয়ে গেছে তালেবান। আমেরিকায় তৈরি আধুনিক নানা সমরাস্ত্র এখন তাদের হাতে।
গত দুই দশকে আফগান বাহিনীকে এসব অস্ত্র, সামরিক যান, গোয়েন্দা নজরদারি সরঞ্জাম ও হেলিকপ্টার দিয়েছিলে আমেরিকা। এখন তাদের পরিত্যক্ত ১১ সামরিক ঘাঁটিসহ ন্যাটো সেনাদের ফেলে যাওয়া সব অস্ত্রই তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।
মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত আধুনিক সামরিক যান হামভিতে এখন উড়ছে তালেবানের পতাকা। এমন দুই হাজারের বেশি সাজোয়া যান নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে গোষ্ঠীটি। যেগুলোর প্রত্যেকটির মূল্য প্রায় ৩ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় আড়াই কোটি টাকারও বেশি।
দীর্ঘদিন ধরেই কালাশনিকভ, একে-৪৭ এর মতো অস্ত্র দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে এসেছে তালেবান যোদ্ধারা। এখন তাদের হাতে শোভা পাচ্ছে এম-ফোর কার্বাইন এবং এম-১৬ এর মতো অত্যাধুনিক সব সমরাস্ত্র। কারণ মার্কিনিদের ফেলে যাওয়া আধুনিক সব অস্ত্রাগারের দখল এখন তালেবানের হাতে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে, গত ২০ বছরে তারা আফগান বাহিনীর পেছনে খরচ করেছে ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তাদের কিনে দিয়েছে অত্যাধুনিক সব সার্ভেইল্যান্স ইকুইপমেন্টস। এক সপ্তাহের ব্যবধানে যার প্রায় সবই এখন তালেবানের নিয়ন্ত্রণে।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী যেসব অস্ত্র আফগান বাহিনীকে দিয়েছিল তা এখন তালেবানের হাতে চলে গেছে। আফগানিস্তান থেকে যখন মার্কিনিদের সরিয়ে আনা হচ্ছিল তখনই তারা এসবের দখল নেয়। এতেই পরিস্কার যে সেখানে মার্কিন সেনা উপস্থিতি কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১১টি সামরিক ঘাঁটি দখল করে শুধু যুদ্ধযান বা অস্ত্রই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের এ টুয়েন্টি নাইন সুপার টুকানো যুদ্ধবিমান, ব্ল্যাকহক, স্কাউট অ্যাটাক, স্ক্যানঈগল মিলিটারি ড্রোন’সহ দুই শতাধিক হেলিকপ্টার পেয়েছে তালেবান। এমনকি ভারতের এম-৩৫ হেলিকপ্টারও দখলে নিয়েছে তারা।
বিশাল অস্ত্রভাণ্ডার আর আধুনিক যুদ্ধযান নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিশেষ প্রশিক্ষণ ছাড়া তালেবান এগুলো পরিচালনা করতে পারবে না বলেই মনে করে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: ফ্রান্স২৪, রয়টার্স, ওয়াশিংটন পোস্ট, ফার্স্ট পোস্ট
৫দিনে আফগানিস্তানে উত্তরাঞ্চলে নয়টি প্রাদেশিক রাজধানী নিজেদের দখলে নিয়েছে তালেবান। তালেবানের দখলকৃত শহরগুলো থেকে রাজধানী কাবুলে পালিয়ে যাচ্ছেন হাজার হাজার আফগান নাগরিক।
তালেবানরা প্রকাশ্যে আফগানদের শিরোচ্ছেদ করেছে। মেয়েদের জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তালেবান যোদ্ধাদের সাথে বিয়ে দেওয়ার জন্য। দখলকৃত এলাকাগুলোতে তালেবানের নির্মমতার ভয়ঙ্কর কাহিনী শুনিয়েছেন সেখান থেকে পালিয়ে আসা আফগানরা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
তালেবানের দখলকৃত কুন্দুজ থেকে নিজের ছয় বছর বয়সী সন্তান নিয়ে পালিয়ে এসেছেন ৩৬ বছর বয়সী আফগান নারী ফ্রিবা। তালেবানের ভয়ে নিজের আসল নাম জানাননি তিনি।
তিনি জানান, তার মতো আরও অনেকেই কুন্দুজ ছেড়ে পালিয়ে এসেছেন। আসার সময় তারা কারাগারের কাছে প্রকাশ্য রাস্তায় মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখেছেন।
কুন্দুজ থেকে পালিয়েছিলেন মীরওয়াইস খান আমিরি নামে ২২ বছর এক বয়সী যুবক। এএফপিকে তিনি জানান, পালিয়ে আসার দিন তিনি তালেবানদের হাতে আফগান গুপ্তচর সন্দেহে এক নাপিতকে খুন হতে দেখেছেন। পালানোর সময় আমিরির গাড়ি লক্ষ্য করেও গুলি চলেছিল তালেবান।
কুন্দুজ থেকে পালিয়ে আসা আব্দুল মান্নান নামে এক ব্যক্তি এএফপিকে জানিয়েছেন, তালেবান তার সামনেই তার ছেলের শিরোচ্ছেদ করেছে।
তালকান শহর থেকে পালিয়ে এসেছিলেন ২৫ বছর বয়সী বিধবা তরুণী মারওয়া জানান, তালেবান তার ১৬ বছর বয়সী বোনকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাদের এক সদস্যের সাথে বিয়ে দিয়েছে তালেবান।
আফগানিস্তানে তালেবান যুদ্ধাপরাধ করছে বলে দাবি করে আসছে জাতিসংঘসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন। তালেবান যুদ্ধাপরাধের তদন্তও দাবি করছে তারা।
এদিকে, চলতি বছরের আফগানিস্তানের সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুহারা হয়েছে বলে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে।
দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগস্টেই প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শেষ করবে দেশটি। চলতি বছরের মে মাসে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হওয়ার পর থেকে সেখানে তীব্র লড়াই শুরু করেছে তালেবান। তালেবান যে গতিতে এগুচ্ছে তাতে রাজধানী কাবুলের যেকোনো সময় পতন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সফলভাবে অবতরণ করল চীনের ঝুরং রোভার মঙ্গলের মাটিতে । শুক্রবার মাঝরাতে লাল গ্রহের বায়ুমণ্ডলের বাধা পেরিয়ে প্যারাস্যুটের সাহায্যে ইউটোপিয়া প্ল্যানিশিয়া লাভাভূমিতে নেমেছে। আমেরিকার পারসিভারেন্স রোভারের পরে চীনের ঝুরং রোভার দ্বিতীয় প্রতিনিধি হিসেবে মঙ্গলের মাটি চষে বেড়াবে। চীনের এই মিশনের নাম দেয়া হয়েছিল নিহাও মার্স।
ইতিহাস সৃষ্টি করেছে চীন। প্রথম মিশনেই সফলভাবে প্রদক্ষিণ, অবতরণ এবং রোভিং করাতে পেরেছে তারা। এর আগে মঙ্গলের কক্ষপথে পৌঁছতে পেরেছে শুধুমাত্র রাশিয়া ও আমেরিকা।
মহাকাশে কীর্তিস্থাপনে ক্রমেই বড় শক্তি হয়ে উঠেছে চীন। আগে যা রাশিয়া এবং আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্যে ছিল এখন তাতে ভাগ বসিয়েছে এশিয়ার দেশ। মহাকাশে মানুষ পাঠানো, চাঁদে যান পাঠানো এবং এবার মঙ্গলে পাড়ি, সব বড় কৃতিত্বই তাদের সারা। চাইনিজ উপকথার অগ্নিদেবতার নামে নামাঙ্কিত ঝুরং রোভারকে নিয়ে মঙ্গলের উদ্দেশে গত বছর জুলাইতে পাড়ি দিয়েছিল তিয়ানওয়েন-১ মহাকাশ যান।
লালগ্রহের কক্ষপথে ঢুকে পড়েছিল এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে। কয়েক মাস প্রদক্ষিণ করে এবার মাটি ছুঁল তার ল্যান্ডার। ঝুরং এবার মঙ্গলের মাটিতে ঘুরে বেড়িয়ে পাথর সংগ্রহ করবে। তুলে ধরবে অনেক অজানা তথ্য।
ইসরায়েলি বাহিনী এবার কাতার ভিত্তিক আন্তর্জাতিক টিভি চ্যানেল আল-জাজিরার কার্যালয় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে। জানা গেছে, গাজায় যে ভবনে আল-জাজিয়া টিভির কার্যালয় ছিল সেখানে শক্তিশালী বোমা মেরে তা পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
আজ শনিবার ইসরায়েলি জঙ্গিবিমান থেকে উচ্চ ধ্বংস ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা ফেলা হয় ভবনটিতে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বোমা হামলার পর ভবনটি মাটিতে ভেঙে পড়ছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছি কিনা, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।
গাজার এই ভবনের কার্যালয়ে ১১ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন আলজাজিরার সাংবাদিক সাফাওয়াত আল খালুত। তিনি ভবনটিতে হামলা প্রসঙ্গে বলছেন, দুই সেকেন্ডের মধ্যেই ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। উল্লেখ্য, ধ্বংস হওয়া ওই ভবনটিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি’র কার্যালয়ও ছিল। এছাড়া সেটি আবাসিক ভবন হিসেবেও ব্যবহার করা হত।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, বোমা হামলার পর ভবনটি মাটিতে ভেঙে পড়ছে। ভবনটির ধ্বংসস্তূপ চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এ হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছি কিনা, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, হুমকির পর ভবনটি সম্ভবত খালি করে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছে হোয়াইট হাউস। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সোসাকি টুইট বার্তায় বলেছেন, আমরা সরাসরি ইসরায়েলিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। একই সঙ্গে জানিয়েছি, সাংবাদিক ও স্বাধীন গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রধান দায়িত্ব।
এদিকে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় অবস্থিত আল জাজিরার কার্যালয় গুঁড়িয়ে যাওয়ার পর কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বলেছে, তারা চুপ করে থাকবে না।
আল জাজিরার জেরুজালেম ব্যুরোর প্রধান ওয়ালিদ আল-ওমারি বলেছেন, এটা স্পষ্ট যে যারা যুদ্ধ করছে তারা গাজায় শুধু ধ্বংস আর মৃত্যুই বাড়িয়ে চলছে না, তারা গণমাধ্যমগুলোকেও চুপ করিয়ে দিতে চায় যারা এগুলো প্রত্যক্ষ করছে, তথ্য সংগ্রহ করছে ও সত্যের প্রতিবেদন করছে যে গাজায় ঠিক কী ঘটছে। কিন্তু এটি অসম্ভব। আমরা চুপ করে থাকব না।
১৩ তলা বিশিষ্ট জালা টাওয়ার ভেঙে পড়ার পর এ কথাগুলো সরাসরি সম্প্রচারে বলেন ওয়ালিদ। এসময় তিনি আরও বলেন, ইসরায়েলি সেনারা গাজা উপত্যকায় যেসব অপরাধ নিয়মিত করে চলছে এটি তারই অংশ।
গাজার এই ভবনের কার্যালয়ে ১১ বছর ধরে কর্মরত ছিলেন আলজাজিরার সাংবাদিক সাফাওয়াত আল খালুত। তিনি ভবনটিতে হামলা প্রসঙ্গে বলছেন, দুই সেকেন্ডের মধ্যেই ভবনটি মাটির সঙ্গে মিশে যায়। উল্লেখ্য, ধ্বংস হওয়া ওই ভবনটিতে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস বা এপি’র কার্যালয়ও ছিল। এছাড়া সেটি আবাসিক ভবন হিসেবেও ব্যবহার করা হত।
এদিকে, টানা ষষ্ঠ দিনের মতো ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত মোট ১৪০ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন হাজারের বেশি মানুষ। পাশাপাশি বহু ফিলিস্তিনিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপরদিকে হামাসের রকেট হামলায় এ পর্যন্ত ৯ জন ইসরায়েলি নিহতের খবর পাওয়া গেছে।
গাজা এলাকায় আকাশ থেকে ইসরাইলি বাহিনীর হামলার পঞ্চম দিন চলছে।গাজা সীমান্তে ইসরাইলি বাহিনী আকাশ থেকে গোলা এবং ভূমি থেকে আর্টিলারি ফায়ার ও ট্যাংক দিয়ে গোলা ছুড়ছে।এতে হামাসের কয়েকটি ভূগর্ভস্থ টানেল ধ্বংস হয়ে যায়। এদিকে ইসরাইলে হামাসের রকেট হামলা অব্যাহত রয়েছে।
বিবিসি বলছে, গাজা শহরের রাতের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে ইসরাইলি বাহিনী আর্টিলারি ফায়ার, গান বোটস ও বিমান হামলায় রাতের আকাশ আলোয় ভরে উঠেছে।
সোমবার থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি বাহিনীর হামলায় অন্তত ১১৯ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। প্রায় হাজার খানেক আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩১ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ৪ শতাধিক ব্যক্তিকে আটক করেছে ইসরাইলি বাহিনী। অন্যদিকে ইসরাইলের এক সেনাসদস্যসহ ৭ জন নিহত হয়েছে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলছে, শুক্রবার তাদের পদাতিক বাহিনী হামলায় অংশগ্রহণ করেছে। পাশাপাশি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। তবে তারা সীমান্ত পেরিয়ে গাজায় ঢোকেনি।
ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গ্যানতেজ গাজায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধের জন্য ৯ হাজার রিবার্ভ সেনাসদস্য মোতায়েন করেছে।
গাজা ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনি এবং ইসরায়েলি সেনা বাহিনীর মধ্যে হামলা পাল্টা হামলা তীব্র আকার নিয়েছে। জাতিসঙ্ঘ আশঙ্কা করছে পরিস্থিতি ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সঙ্কট ‘একটা পূর্ণাঙ্গ মাত্রার’ যুদ্ধের দিকে যাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাস ৩৮ ঘণ্টা ধরে এক হাজারের ওপর রকেট ছুঁড়েছে বলে জানাচ্ছে ইসরায়েল। তারা বলছে বেশির ভাগ আক্রমণ হয়েছে তেল আবিবের ওপর।
ইসরায়েলও ধ্বংসাত্মক বিমান হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার চালানো ইসরায়েলি হামলায় গাজার দুটি উঁচু টাওয়ার ব্লক বিধ্বস্ত হয়েছে।
ইসরায়েলের বেশ কিছু শহরে ইসরায়েলি আরবরা সহিংস বিক্ষোভ করেছে।
ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সঙ্কট : সহিংসতা চরমে
তেল আবিবের কাছে লড শহরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
জাতিসঙ্ঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন চলমান সহিংসতায় তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’।
ছয়জন ইসরায়েলি মারা গেছে এবং গাজায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে সোমবার থেকে হামলায় প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ৪৩ জন, যাদের মধ্যে ১৩জন শিশু।
সবশেষ মারা গেছে একজন ইসরায়েলি নাগরিক। গাজা ভূখণ্ডের উত্তরাঞ্চল থেকে ছোঁড়া একটি ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সীমান্ত এলাকায় একটি জিপে আঘাত করলে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। আহত হয়েছে আরো দুজন।
জেরুসালেমের একটি এলাকায় ইসরায়েলি পুলিশ এবং ফিলিস্তিনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের জেরে কয়েক সপ্তাহ ধরে উত্তেজনা বিরাজ করার পর এই লড়াইয়ের সূত্রপাত হয়েছে। ওই এলাকা মুসলিম এবং ইহুদি দুই ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র।
সহিংসতার পেছনে কারণ
পূর্ব জেরুসালেমে পাহাড়ের ওপর পবিত্র একটি স্থানে ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলি পুলিশের মধ্যে কয়েকদিন ধরে সহিংসতা বৃদ্ধির জেরেই ইসরায়েল এবং হামাসের মধ্যে এই সংঘাত শুরু হয়।
এই স্থানটি মুসলিম এবং ইহুদি দুই ধর্মের মানুষের কাছেই পবিত্র। মুসলিমদের কাছে এটি হারাম আল-শরিফ এবং ইহুদিদের কাছে এটি টেম্পল মাউন্ট।
হামাসের দাবি ইসরায়েল সেখান থেকে এবং নিকটবর্তী মূলত আরব অধ্যুষিত শেখ জারাহ থেকে পুলিশ সরিয়ে নিক। সেখান থেকে ইহুদি বসতিস্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনি পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করতে চায়।
হামাস এই পদক্ষেপ বন্ধ করার যে আলটিমেটাম দিয়েছিল, ইসরায়েল তা উপেক্ষা করলে হামাস রকেট নিক্ষেপ করতে শুরু করে।
ইরাকের উত্তরাঞ্চলীয় কিরকুক শহরের কাছে অবস্থিত দুটি তেলকূপে বুধবার বোমা হামলা চালিয়েছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস।
এ সময় আইএস সন্ত্রাসীরা পাশের একটি নিরাপত্তাচৌকিতেও হামলা চালায়। এতে এক পুলিশ নিহত ও তিনজন আহত হয়েছেন।খবর রয়টার্সের।
বোমা হামলার পর তেলকূপে ওই এলাকায় আগুন ধরে যায়। তবে ইরাকের কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে, বোমা হামলার কারণে বাই হাসান তেলক্ষেত্রে কোনো প্রভাব পড়েনি। তেলকূপের কাছে যে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, তাতে তেল উৎপাদনে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টির আগেই দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
নিরাপত্তাচৌকিতে হামলায় পুলিশকে ব্যস্ত রেখে সন্ত্রাসীরা পরিকল্পনামতো ভেতরে ঢুকে তেলক্ষেত্রে বোমা হামলা করে। বোমা হামলার পর থেকে দুটি কূপেই তেল উত্তোলন বন্ধ আছে।
ব্রিটেনের খ্যাতনামা খেলনা প্রস্তুতকারক সংস্থা হ্যামলেসের পর এবার আরও একটি বিখ্যাত সম্পত্তির মালিক হলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী মুকেশ আম্বানি।
সম্প্রতি ব্রিটেনের বিখ্যাত স্টোক পার্ককে কিনে নিল তার সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ড্রাস্ট্রিজ লিমিটেড। খরচ পড়ল ৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় ৫৯৩ কোটি রুপি (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৬৬৯ কোটি ২৮ লাখ টাকা ৮৪ হাজার টাকা)।
এর ফলে ব্রিটেনের আইকনিক কান্ট্রি ক্লাব এবং বিলাসবহুল গলফ রিসর্টের মালিক বনে গেলেন এশিয়ার সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি তথা ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ অম্বানি। সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ব্রিটেনের বাকিংহামশায়ারের বিলাসবহুল হোটেল এবং গলফ কোর্স রিলায়েন্সের কনজিউমার অ্যান্ড হসপিটালিটি সম্পদে যুক্ত হল।
জানা গেছে, ৩০০ একরের ব্রিটেনের এই পার্কটির ভিতরে রয়েছে বিলাসবহুল হোটেল, কনফারেন্স সুবিধা। এছাড়াও রয়েছে খেলাধুলার একাধিক উপকরণ। শুধু তাই নয়, ইউরোপের অন্যতম বড় গলফ কোর্সও রয়েছে এখানে। যেখানে আবার জেমস বন্ডের দুটি ছবি গোল্ডফিঙ্গার ও টুমরো নেভার ডাইস সিনেমা দুটির শুটিং হয়েছিল। গোল্ডফিঙ্গার সিনেমার পর থেকেই এই গলফ কোর্সটির জনপ্রিয়তা তুঙ্গে ওঠে। এছাড়াও এখানেই সম্পন্ন হয়েছে ‘ব্রিজেট জোনসেস ডায়েরি’ এবং নেটফ্লিক্সের ‘দ্য ক্রাউন’ সিনেমার শুটিং।
এই স্টোক পার্কটি আসলে ৯০০ বছরের পুরনো। ১৯০৮ সাল পর্যন্ত এটি ছিল ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। এতে রয়েছে ৪৯টি বিলাসবহুল বেডরুম, ২৭টি গর্তের গলফ কোর্স। এছাড়াও রয়েছে ১৩টি টেনিস কোর্ট এবং ১৪ একরের বাগান।
তবে এই প্রথম নয়, এর আগে ২০১৯ সালে ব্রিটেনের খেলনা প্রস্তুতকারক হ্যামলেসও কিনে নিয়েছিলেন মুকেশ আম্বানি। তারপর এবার তার সম্পত্তিতে জুড়ল এই স্টোক পার্ক। করোনা আবহে ব্যবসায়িক দিক থেকে খুব একটা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়নি রিলায়েন্স কর্ণধার মুকেশ আম্বানিকে। এই সময় তার সংস্থায় লগ্নি করেছে ফেসবুক, গুগলের মতো সংস্থা। এছাড়া অন্যান্য ব্যবসাতেও লাভের মুখই দেখেছেন রিলায়েন্স কর্ণধার। বর্তমানে আবার তিনি এশিয়ার ধনীতম ব্যক্তি। মুকেশ আম্বানির সম্পত্তির পরিমাণ ৭১৫০ কোটি ডলার। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কোটি রুপি।
ইরানের তাফতান সীমান্ত এলাকা থেকে ২০৩ পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৈধ কাগজপত্র না থাকার অভিযোগে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী তাদের গ্রেফতার করেছে। খবর দ্য ডনের।
এক বিবৃতিতে ইরান কর্তৃপক্ষ জানায়, গত রোববার ইরানের তাফতান থেকে বৈধ কাগজপত্র না থাকায় পাকিস্তানিদের আটক করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।
সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, যেসব পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয়েছে, তারা মূলত অবৈধ উপায়ে তুরস্ক ও ইউরোপের দেশগুলোর উদ্দেশে যাত্রা করছিল। ভালো আয় ও উন্নত জীবন অর্জনের জন্যই এমনটি করার চেষ্টা করেছেন তারা।
এদের মধ্যে ১৩০ জন পাঞ্জাব, ৩৩ জন খাইবারপাখতুন, ২৪ জন বেলুচিস্তান ও ১৫ জন পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের বাসিন্দা।
ধারণা করা হচ্ছে— বেলুচিস্তান দিয়েই অবৈধভাবে ইরানে প্রবেশ করেছেন তারা। কারণ ওই অঞ্চলের সঙ্গে ইরানের সিস্তান অঞ্চলের ৯৫৯ কিলোমিটার সীমান্ত আছে।