বরিশালে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে  মানববন্ধন

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি//

চাল, ডাল ও তেলসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।গণসংহতি আন্দোলন বরিশাল জেলা শাখার ব্যানারে রবিবার সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হলের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা গণসংহতি আন্দোলনের আহবায়ক দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন জেলা শাখার সহসভাপতি হাসিব আহমেদ, ইয়াসমিন সুলতানা ও আরিফুর রহমান প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা চাল, ডালসহ নিত্য পন্যের মূল্য বৃদ্ধি ও সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রনের দাবী জানান।

দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে ব্যর্থ হলে জনগন রাস্তায় নেমে আসবে বলেও মানববন্ধনে হুঁশিয়ারী দেন জেলা গনসংহতি আন্দোলনের আহবায়ক দেওয়ান আব্দুর রশিদ নিলু

যশোরের ভবদহের জলাবদ্ধতার বলি আরও এক জলভাসী

যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর উপজেলার ৮০ টির অধিক গ্রাম গতমাসের কয়েক দফা বৃষ্টির জন্য তলিয়ে গেছে।পানি অপসারণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা না থাকায় উক্ত এলাকার বিস্তৃর্ণ জনপদে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।

আর এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য জলভাসী শিশু কিশোর নারী-পুরুষ, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সকলেই অমানবিক জীবন যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। চারিদিকে জলাবদ্ধ থাকায় পানিতে পড়ে ঘটছে নানা রকম দুর্ঘটনাসহ অপমৃত্যু।

গত ৫ অক্টোবর -২০২১ ভবদহ এলাকার মনিরামপুর থানার হরিদাসকাটি ইউনিয়নের পাঁচকাটিয়া গ্রামের কৃষক পলাশ রায়ের স্ত্রী স্বরসতী রায় (২৩) নিজ বাড়ির উঠানে স্থাপিত টিউবওয়েল থেকে জল আনতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে মারা যান।

ঠিক তার একদিন পরে ৬ অক্টোবর -২০২১ রোজ বুধবার  আবারও ভবদহের দহনে মনিরামপুর উপজেলার নেবুগাতি গ্রামের যমুনা বাইন(৮৮),স্বামী- মৃত নিলু বাইনের মৃত্যু হয়েছে। তিনি  সকাল ১০ টার সময় প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে ঘরের পিছনে যান এবং ঘরের পিছনে যাওয়ার সময় পা পিছলে জলের ভিতর পড়ে যান। জলের ভিতর পড়ে গিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আশেপাশে কেউ না থাকায় বিষয়টি কারো দৃষ্টি গোচর না হওয়ায় পানির ভিতরেই মৃত্যু বরণ  করেন।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য প্রনব কুমার বিশ্বাস বলেন, বয়সের ভারে মহিলা শারীরিক দিক দিয়ে অনেকটাই দুর্বল হওয়ায় উপুড় হয়ে  পানিতে পড়ার পর আর উঠতে পারেননি।পরবর্তীতে বৃদ্ধাকে কিছু সময় যাবত ঘরে দেখতে না পাওয়ায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং বাড়ির পিছনে  পানিতে পড়ে থাকতে দেখে ধরাধরি করে উঠিয়ে আনেন কিন্তু ততক্ষণে বৃদ্ধা পৃথিবীর সকল জ্বালা যন্ত্রণা,দুঃখকষ্টের উর্দ্ধে চলে গেছেন।আর ভবদহের জলাবদ্ধতার বলি হয়ে প্রমাণ করে গেছেন যে জন্মই তার আজন্মের পাপ ছিল ।

আশির দশকে শুরু হওয়া এই সমস্যার কারণে জানা আজানা আরও কতজন যে এই ভবদহের জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছেন তার কোন ইতিহাস হয়তো পাওয়া যাবে না।কিন্তু স্বজন হারানোর এই সকল লোক সারাজীবন বয়ে বেড়াবে স্বজন হারানোর দুঃখ কষ্ট আর জ্বালা যন্ত্রণা। ভবদহের দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান না হওয়ার জন্য হারানো স্বজন ও মৃতের আত্মা হয়তো ভবদহ সমস্যার সমাধান জিইয়ে রাখা ব্যক্তি এবং বর্তমান ও আগামী প্রজন্মকে কিছুতেই ক্ষমা করবেনা।

//নিজস্ব প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পটুয়াখালী নিউমার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাবসায়ীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

 

যশোরে স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য জীবন-জীবিকা শাপলা-শালুক নির্ভর হয়ে পড়েছে

যশোর জেলার সদরের২৬ টি বিলসহ অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর এবং খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি অভয়নগর উপজেলার ভবদহ নামক স্থানে অবস্থিত ২১, ০৯ ও ০৬ ভেন্টের স্লুইসগেটের মাধ্যমে অপসারিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হতো।কিন্তু কালের বিবর্তনে নদীর নাব্যতা হারানোর ফলে উল্লেখিত স্লুইসগেটসমূহ পানি অপসরণের কার্যকারী ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। ফলে  আশির দশকে শুরু হওয়া সমস্যা আজ একাবিংশ শতাব্দীতে বিষবৃক্ষের ন্যায় মহীরুহ ধারণ করছে।বিভিন্ন সময়ের অতিবৃষ্টির জন্য অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর, ফুলতলা ও ডুমুরিয়া উপজেলার ২৭ টি বিলের পানি প্লাবিত হয়ে দশ লক্ষাধিক লোককে স্থায়ীভাবে পানি বন্ধী করে রাখে এবং বদ্ধপানিতে বাড়িঘর,রাস্তাঘাট,স্কুল কলেজ মসজিদ-মন্দিরে অবস্থান করায় অমানবিক জীবন যাপন করতে হয়। এমনি কি মানুষ মারা গেলে দাফন করতে দূরে উঁচু জায়গায় নিয়ে।

উল্লেখিত ২৭ টি বিলে স্থায়ী জলাবদ্ধতার জন্য অধিকাংশ বিলে ফসলাদি হয় না শুধুমাত্র মাছ চাষ হয়।বিল বোকড়ের কিছু অংশ,সুন্দলীর খোল বিল,শুড়ীর ডাঙ্গীর বিল,ঝিহিরের বিল,রাজাপুরের বিল, ডুমোর বিল, ধলের গাতী বিল, ফেহেলির বিল রাজাপুরের উত্তরে, মাগুরার বিল, শা- মান্দার তলার বিল, ভাতার মারীর বিল জয়পুরের পশ্চিমে, হরিণার বিল খোরচে ডাঙ্গা ও বলা ডাঙ্গার বিল,ভাতুড়িয়া প্রভৃতি বিলের উপরের অংশে মাছ চাষ হলেও একটি বিরাট অংশ শাপলা, শালুক, পানি ফলে ভরে থাকে। ফলে  প্রাকৃতিকভাবে ভাদ্র-আশ্বিন-কার্তিক এই তিন মাস এ অঞ্চলের বিলগুলোতে প্রচুর পরিমাণে শাপলা,শালুক ও পানি ফল জন্ম নেয়। এই শাপলা,শালুক ও পানি ফল পুষ্টি গুণ সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয় বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর তাই এই সকল বিলের শাপলা,শালুক ও পানি ফল ভবদহ এলাকার একটি বৃহদাংশের  জনগণের খন্ডকালীন জীবন ও জীবিকার অবলম্বন হয়ে  দাঁড়িয়েছে।

রাতের এক প্রহর বাকি থাকতেই ঘুম থেকে উঠেই শুরু হয় এই শ্রেণীর লোকের জীবিকার সংগ্রাম।পরিবারের সকলে মিলে ভাড়া করা নৌকা বা নিজস্ব নৌকায় বিলে যায়।পরিবারের কর্তা বৈঠা চালায় বিলের পানিতে। চলমান নৌকায় বসে বা পানিতে নেমে পরিবারের  সদস্যরা  শাপলা,শালুক ও পানিফল তোলে নিয়ে আসে  উঁচু জায়গাতে।তারপর পরিবারের সকলে মিলে শালুক ও পানি ফল গুলি পরিষ্কার করে এবং ১০ থেকে১৫ টি শাপলা একত্র করে আঁটি বাঁধে।আঁটি বাঁধা শেষ হলে ভোরের আলো ফুটে বের হওয়ার আগেই এই পানিফল,শালুক ও শাপলাগুলো ভ্যানে করে বা নিজের কাঁধে করে নিয়ে ৫/৭ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত নওয়াপাড়া বাজারে নেয় বিক্রি করার জন্য।একজন সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ আঁটি শাপলা, কিছু পানিফল ও শালুক সংগ্রহ করতে পারে।প্রতি আঁটি শাপলা বিক্রি হয় হয় ১০ টাকা করে।শালুক আর পানিফলগুলো নিজেদের খাবার জন্য রেখে দেয়।ফলে একজন সর্বোচ্চ ৫০০ শত টাকার শাপলা বিক্রি করতে পারে।

দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতির জন্য যেখানে মধ্যম আয়ের লোকেদের নাভিশ্বাস সেখানে শাপলা বিক্রির এই স্বল্প টাকায় একজন শাপলা বিক্রেতাকে চালাতে হয় ৬/৮ সদস্য বিশিষ্ট পরিবারকে।এইভাবে শাপলা বিক্রির স্বল্প টাকায় ভবদহ এলাকার শতাধিক পরিবার অতিকষ্টে জীবন ও জীবিকা নির্বাহ করছে।

প্রকৃতি প্রদত্ত এই শাপলা ফুল যেমন হাজারো মানুষের পুষ্টির চাহিদা মেটাচ্ছে তেমনি ভবদহ এলাকার একটি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন হতদরিদ্র  মানুষের জীবিকার অবলম্বন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে শাপলা ভবদহ জনপদের একটি বিরাট অংশের কাছে ঈশ্বর প্রদত্ত শ্রেষ্ঠ উপহারে পরিণত হয়েছে।

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

“বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা একদমই নেগলেটড” পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী

 

৬৫ লক্ষ টাকা লিটারের পানি পান করেন নীতা আম্বানি

আপনি যেসব পানি কিনে পান করেন তার ১ লিটারের দাম কতো হবে? সর্বোচ্চ কত টাকার পানি কিনেছেন আপনি? মাঝে মাঝে কোনো রেস্টুরেন্টে পানাহার করতে গিয়ে পানির দাম দিতে গিয়ে হয়তো চোখ চড়কগাছ হয়েছে আপনার। সেখানে আর কতো রেখেছে, ২০ টাকার পানি হয়তো আপনার কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়েছে। কিন্তু রিলায়্যান্সের মালিক মুকেশ আম্বানীর স্ত্রী নীতা আম্বানী যে পানি পান করেন, তার দাম শুনলে হতবাকই হবেন।

দাবি করা হয়, নীতা নাকি বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানি পান করেন। ৭৫০ মিলিলিটার পানির বোতলের দাম প্রায় ৬০ হাজার ডলার। যা বাংলাদেশি টাকায় ৫২ লক্ষ টাকা। তা হলে এবার হিসেব করে দেখেন, নীতার এক ঢোক পানির দাম কত পড়ে!

দাম না হয় জানলেন। দাম জানার পর আপনি বলতে পারেন এই পানি কি স্বর্ণ দিয়ে তৈরি? তাহলে জেনে নিন এই পানির কেন এত দাম। স্বাস্থ্যকে তরতাজা রাখতে যে পানি নীতা পান করেন তার নাম ‘অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানি’। এটি বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানির মধ্যে একটি। বোতলজাত ওই পানি আসে ফ্রান্স এবং ফিজি থেকে। দাবি করা হয়, এই পানি স্বর্ণভস্ম মিশ্রিত। ৫ গ্রাম স্বর্ণভস্ম থাকে এতে। যা মানবদেহের জন্য খুবই স্বাস্থ্যকর। সে জন্যই এই পানির দাম লক্ষ লক্ষ টাকা।

আরও কারণ আছে। শুধু পানি নয়, বোতলের জন্যও এই পানীয় জলের দাম এত বেশি। ২০১০ সালে ‘অ্যাকোয়া ডি ক্রিস্টালো ট্রিবিউটো আ মদিগ্লিয়ানি’ গিনেস বুকে বিশ্বের সবচেয়ে দামি পানির বোতল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। বোতলের নকশা তৈরি করেছিলেন ফার্নান্দো আলতামিরানো। চামড়ার খাপে থাকে ২৪ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি এই বোতল। এই ব্র্যান্ডের সবচেয়ে সস্তা বোতলের দাম ২৫ হাজার টাকা। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

অভয়নগরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া: নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা

 

 

অভয়নগরে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশছোঁয়া: নিম্ন আয়ের মানুষ দিশেহারা

শিল্প ও বাণিজ্যিক শহর-বন্দর নওয়াপাড়ায়  নিত্য প্রয়োজনীয় ও পণ্য দ্রব্য সামগ্রীর মূল্য  অস্বাভাবিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে ৷ অভয়নগরে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা না থাকায়  আকাশ ছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধিতে  ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ৷ বিশেষ করে  কর্মজীবী মানুষের পক্ষে দেখা দিয়েছে নাভিশ্বাস ৷

সরেজমিনে দেখা যায়, ভোজ্যসামগ্রীর অন্যতম বৃহৎ মোকাম নওয়াপাড়া বড় বাজার গিয়ে পাওয়া গেছে এর সত্যতা। জানা গেছে, ২ সপ্তাহের  ব্যবধানে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের পূর্বমূল্য ছিলো ১৪০টাকা,  বর্তমান মূল্য   ১৫০ টাকা। প্রতি লিটারে বৃদ্ধি পেয়েছে ১০টাকা ৷ চিনির প্রতি কেজি পূর্বমূল্য- ৭৫টাকা, বর্তমান মূল্য ৮০টাকা ৷ প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৫ টাকা ৷ মুসুরির ডাল পূর্বমূল্য-৭৫টাকা,বর্তমান মূল্য-৯০ টাকা ৷প্রতি কেজিতে বৃৃৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ টাকা ৷ ছোলার ডাল পূর্বমূল্য-৬৬ টাকা, বর্তমান মূল্য-৮০ টাকা, প্রতি কেজিতে বৃৃৃৃদ্ধি পেয়েছে ১৪ টাকা ৷ বুটের ডাল পূর্বমূল্য-৩৫টাকা, বর্তমান মূল্য ৪২ টাকা ৷ প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭ টাকা ৷ পেঁয়াজের পূর্বমূল্য ৪৫ টাকা, বর্তমান মূল্য-৬০ টাকা ৷ প্রতি কেজিতে বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ টাকা ৷ কাঁচা ঝালের কেজি পূর্বমূল্য ২০০টাকা, বর্তমান মূল্য-১২০ টাকা ৷ কাঁচা ঝালের মূল্য কমে আসলে ও সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে ৷

এছাড়া ও জ্বালানি গ্যাসের মূল্য বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে ৷ গ্যাস ভর্তি সিলিন্ডার পূৃর্বমূল্য ১০৫০ টাকা , বর্তমান মূল্য ১২২০ টাকা ৷ প্রতি সিলিন্ডারে বৃৃদ্ধি পেয়েছে ১৭০ টাকা ৷ এ দ্রব্যমূল্যের লাগাম টেনে না ধরলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের বোবা কান্না শেষ পর্যন্ত ক্ষোভের ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷

শিল্প শহর নওয়াপাড়ার মানুষ জীবিকার টানে কাজ করেন। বৃহত্তর  শিল্প কল কারখানার সঙ্গেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষাভাবে কাজ করছেন প্রায় লক্ষ্যধিক মানুষ। এছাড়াও বিভিন্ন অটোরিকশা ও অটো ভ্যান চালিয়ে দিন চলে তাদের ৷

গত বছরে  লকডাউন পরিস্থিতির কারণে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়েছিল এ বিশাল জনগোষ্ঠীকে। জনপ্রতিনিধি ও সরকারের তরফ থেকে পাওয়া ত্রাণের বাইরে জীবিকার মাধ্যম হারিয়ে বেশির ভাগ নিম্নআয়ের মানুষই খেয়ে-নাখেয়ে দিন কাটিয়েছেন ৷

তবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে ছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো। কারণ এসব পরিবারের লোকজন মুখ খুলে কাউকে কিছু বলতে কিংবা হাত পাততে পারেননি। সেই লকডাউন পরিস্থিতি কাটিয়ে গত কয়েক মাসে সাধারণ জীবনে ফিরে আসার চেষ্টায় থাকা এসব নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর জন্য কঠিন বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ কারণ দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধি।

জুট মিল শ্রমিকদের  সঙ্গে কথা বললে তারা জানান,  বাজারে মূল্য বৃদ্ধিতে আমরা দিশেহারা।

কয়েকজন ব্যাংক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, আমাদের বেতন দিয়েই চলতে হয়, বলতে পারেন মাপা টাকা। কিন্তু বর্তমান বাজার দরে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। কাউকে তো কিছু বলতেও পারি না। কিন্তু ক্রয়ের সক্ষমতা হারাতে বসেছে সাধারণ খেটেখাওয়া মানুষ। একই ভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য সামগ্রীর মূল্য ৷

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজ শুভ মহালয়া

 

মাগুরায় দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মা/বি ৪০ বছর চাকরি করেও বাকী চৌধুরী পেল না পেনশন

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দপ্তর ছিলেন মোঃ বাকী চৌধুরী, পিং- মৃত আঃ সালাম চৌধুরী, গ্রাম- বিলখানিদাহ, ডাকঘর- দীঘা, থানা – মহম্মদপুর, জেলা- মাগুরা। পরিতাপের ঘটনা এই যে, আব্দুল বাকী চৌধুরী দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১/১/১৯৭৭ সাল থেকে দপ্তরী পদে চাকুরী করিয়া আসিতেছিলেন। দপ্তর বাকী চৌধুরীর ৮ম শ্রেণীর সার্টিফিকেট, জন্ম নিবন্ধন, জাতীয় পরিচয় আইডি, বেতন ভাতা উত্তোলন এমপিও কোডের জন্ম তারিখ ১/১২/১৯৫৮ সাল। কেরানী গোলাম সরোয়ারের চাকুরির বয়স ৬০ বছর পূর্ণ হয়ে বিদ্যালয় থেকে চলে যাওয়ার প্রাক্কালে বাকী চৌধুরীকে জানায়, আব্দুল বাকী চৌধুরী তোমার জন্ম তারিখ এমপিও কোডে ভুলক্রমে ১/১২/১৯৫৭ হইয়া আসিতেছে। দপ্তর বাকী চৌধুরী বিষয়টি প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুস আলীকে অবহিত করে।

প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুস আলী বাকী চৌধুরীকে বলে, বয়স সংশোধনের জন্য একটা আবেদন করেন। বাকী চৌধুরী আবেদন করলে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি বয়স সংশোধনের দায়িত্ব প্রদান করেন। প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী বিষয়টি বাকীকে জানান এবং বাকী বিদ্যালয়ের যথারীতি দায়িত্ব পালন করে ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে বেতন ভাতা উত্তোলন করে। কিন্তু ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়, দপ্তর বাকী চৌধুরীর পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ। বাকী চৌধুরী পত্রিকায় প্রকাশিত নিয়োগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীকে জানাইলে তিনি জানান, তোমার চাকুরি শেষ এবং আজ থেকে তোমাকে আর স্কুলে আসতে হবে না।

মূল ঘটনা, কেরানি গোলাম সরোয়ারের চাকরির বয়স শেষ হলে, তখন বাকী চৌধুরীকে বলে এমপিও কোডে ভুলক্রমে তোমার বয়স ১ বছর বেশি হয়ে গেছে। তখন বাকী চৌধুরী ২৩/৮/২০১৭ সালে বরাবর  মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকা বাংলাদেশ, মহম্মদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে আবেদন প্রেরণ করেন। আবেদনটির প্রেরক ছিলেন, প্রধান শিক্ষক/সম্পাদক দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় সি এফ ৭৫৩২০৬ (প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীর সিলসহ সাক্ষর) বাকী চৌধুরীর ৮ম পাশের, বিদ্যালয়ের যোগদান পত্র, নিয়োগ পত্র (সত্যায়িত প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী)। বাকী চৌধুরীর বিষয়টা নিয়ে ২৬/৮/২০১৭ সালের বিকাল ২ টা থেকে ৫.৩০ সভার কার্য্য বিবরণী বহিতে সভাপতি এ্যাডভোকেট এ বি এম তরিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। সভার ৯ নং সিরিয়ালে লেখা হয় দপ্তরী বাকী চৌধুরী সঠিক জন্ম তারিখ ১/১২/১৯৫৮ করার জন্য যাবতীয় কাগজপত্র মহাপরিচালকের দপ্তরে প্রেরণ করার জন্য প্রধান শিক্ষক সাহেবকে বিশেষ ভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হলো।

এরপর ৫ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে এই বিষয়ে বিদ্যালয় থেকে কোন সঠিক তথ্য বা উত্তর না পেলে আব্দুল বাকী চৌধুরী মনের রাগ ও দুঃখে সভাপতি, প্রধান শিক্ষক, থানা শিক্ষা অফিসার ও জেলা শিক্ষা অফিসার এর বিরুদ্ধে, বাকী চৌধুরী বাদী হয়ে তার আইনজীবী এ্যাডভোকেট আলহাজ্ব মুন্সি লুৎফর রহমান মাধ্যমে মাগুরা সহকারী জজ সমীর মল্লিকের তত্ত্বাবধানে মাগুরা কোর্টে মামলা করেন ৪/২/২০১৮ সালে যার কেস নম্বর ৩৪১৮, আর এই কেসের রায় মাগুরা আদালত বাদী বাকী চৌধুরী পক্ষে তার ১ বছরের বেতন ও সারা জীবনের পেনশনের টাকা সঠিক ভাবে বিবাদী পক্ষকে আদেশ প্রদান করেন। ১৩/২/২০২০ সালে বাকী চৌধুরীর রায় প্রদান করেন সহকারী জজ রোজিনা সুলতানা।

এরপর বিবাদী পক্ষ দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলী ও সভাপতি এ বি এম তরিকুল ইসলাম, দপ্তর বাকী চৌধুরীর রায় কেসের বিপক্ষে আপীল করে যার কেস নম্বর ২১/২০২০ এ্যাডভোকেট মজিদ-২  আপিলের তারিখ ১৫/৩/২০২০ সাল।

এনপিও সিটে জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শিক্ষা ও কল্যাণ শাখা ১৬ জুলাই ২০১৮ সাল, নেহের নিগার তনু বরাবর আবেদন করেন দপ্তর বাকী চৌধুরী। জন্ম তারিখ সংশোধন প্রসঙ্গে মহম্মদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের কার্যালয়, মহম্মদ আনোয়ার হোসেন বরাবর ১১/০২/২০১৮ সালে এমপিও কোড নম্বর ৫৭০২০৫১৩০১ বাকী চৌধুরীর ইনডেক্স নম্বর ৭৫৩২০৬ আবেদন করেন। দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাসিক বেতন শীট ৭/১/২০১৮ সালে দেখা যায় দপ্তর বাকী চৌধুরীর বয়স ১/১২/১৯৫৮ সাল। রুপালী ব্যাংক মাগুরা শাখা ফেব্রুয়ারী ১৯৯৮ সাল বেতন ভাতা সীটে দেখা যায়, বাকী চৌধুর ইনডেক্স নম্বর ৭৫৩২০৬ বয়স ১/১২/৫৮ সাল। আর দীর্ঘ ১৯ বছর পর জুলাই ২০১৭ সালে সোনালী ব্যাংক মহম্মদপুর শাখার বেতন ভাতা সীটে দেখা যায়, বাকী চৌধুরী ইনডেক্স নম্বর ৭৫৩২০৬, ৩১/০৭/২০১৭ সালে বয়স ১/১২/৫৭ বছর। এই ১ বছর বয়স বেশিই হলো এই ঘটনার মূল গোপন রহস্য। দীঘা ইউনিয়নের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এলাবাসীর লোকজন জানায়, আর এই সুযোগে দপ্তর বাকী চৌধুরীকে সুকৌশলে সরিয়ে দিয়ে, দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সভাপতি যোগসাজশে দপ্তর পদে নিজ আত্মীয় স্বজন নিয়োগ দিয়েছে।

এ বিষয়ে দীঘা ইন্তাজ মোল্লা মাধ্যমিক প্রধান শিক্ষক মোঃ ইউনুস আলীর সাথে কথা হলে, তিনি বলেন, আমার ও সভাপতির বিরুদ্ধে দপ্তর বাকী চৌধুরী আদালতে মামলা করেছে। সে জন্য আমাদের মান সম্মানের হানী ঘটেছে, সে মামলা তুলে নিলে তার ১ বছরের টাকা ও পেনশনের প্রায় দশ লাখ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো। নিয়োগের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, দপ্তর পদে আবেদন দরখাস্ত পড়েছিলো মাত্র ৪ জন, তার ভিতর থেকে আমরা যোগ্য চাকুরী প্রার্থীকে নিয়োগ কমিটিতে বাছাই করেছি এবং  যথাযথ সরকারি বিধিমালা মোতাবেক জাতীয় দৈনিক সমকাল পত্রিকায় প্রকাশিত করে চাকরির ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগের কেরানী পদে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট এ বি এম তরিকুল ইসলামের ভাগ্নে রাজিবকে এবং দপ্তর পদে প্রধান শিক্ষক ইউনুস আলীর মামাতো ভাই মফিজকে চাকরি দেওয়া হয়েছে।

//শ্যামল বিশ্বাস, মাগুরা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

সর্বদলীয় সম্প্রীতি উদ্যোগ জগন্নাথপুর’র উদ্যোগে আন্তর্জাতিক অহিংস দিবস পালিত

 

আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ লক্ষ টিকা দেওয়ার কর্মসূচী

আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে আজ নানা কর্মসূচি পালন করছে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৬তম অধিবেশনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী জন্মদিনে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। তার অনুপস্থিতিতেই দিনটি উপলক্ষ্যে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশে পালিত হবে এসব কর্মসূচি।

দিনটি উপলক্ষ্যে আওয়ামী লীগ সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আলোচনা সভার আয়োজন করেছে। এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে বাদ জোহর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে প্রথম প্রহরে (২৭ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে) খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সিএবি) মিরপুর ব্যাপ্টিস চার্চে সকাল ৬টায় তেজগাঁও জকমালা রানীর গির্জা এবং বিকাল ৫টায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হবে। এসব কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে সারা দেশে বিশেষ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ৭৫ লক্ষাধিক টিকা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি একটি ই-পোস্টার প্রকাশ করেছে। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষ্যে উভয়ের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের অংশ হিসেবে ই-পোস্টারের শিরোনাম করা হয়েছে- ‘পিতা দিয়েছে স্বাধীন স্বদেশ কন্যা দিয়েছে আলো।’ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষ্যে বনানীর শেরাটন ঢাকা হোটেলে ‘বাংলাদেশ : উন্নয়নের এক যুগ’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী চিত্রপ্রদর্শনীর আয়োজন করেছে কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ।

দিনটি উপলক্ষ্যে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন এবং পরে সেখানে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করবে কৃষক লীগ। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। দিনটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ দোয়া মাহফিল, খাবার বিতরণ, বৃক্ষরোপণ এবং আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে র‌্যালি, মুক্তিযোদ্ধা সমাবশে, মিলাদ মাহফিল ও কেক কাটা কর্মসূচির আয়োজন করবে।

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানায় কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং সমাবেশ অনুষ্ঠিত

 

বরিশালে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতারক সিমা আক্তার

বরিশাল নগরীর ২০ নং ওয়ার্ড কলেজ এ্যভিনিউ পাঁচ নংগল্লির সিমা আক্তার প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারনার মাধ্যমে যুবকদের কাছ থেকে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেওয়াই ছিলো সিমা অক্তারের নেশা। এনিয়ে দুই যুবকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থকড়ি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বরিশালের সিনিয়র নেতাদের সাথে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কে কথাও সোনা যাচ্ছে।

ভুক্তভোগী একজন পুরুষের ভাষ্যমতে প্রথমে বিভিন্ন ব্যাক্তিদের সাথে পরিচয় হলে নিজেই ভিবিন্ন ছবি প্রদান ও ভিডিও কলে কথা বলা স্ক্রিনশট রেখে দেয়। পরবর্তীতে সাক্ষাৎ তাদের সাথে  মোটা অংকের টাকা দাবী করে সিমা ও আয়শা । টাকা না দিলে ফেসবুকে এসব আপত্তিকর ছবি ও স্ক্রিনশট সহ ভিবিন্ন হুমকি প্রদান করে। নিয়মিত মাদকসেবী আয়শা ও সিমা গাজায় আসক্ত।

আর তার একটি প্রতারণার গ্যাং রয়েছে যারা প্রতিনিয়ত একই কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে থাকে নগরীর ভিবিন্ন জায়গায়। সর্বশেষ যুবকের কাছে পাঁচলাখ টাকা দাবি করে প্রতারক সিমা আক্তার। প্রতারণা করার চেষ্টার একটি ভিডিও ফুটেজে ধরাখায় সিমা আক্তার । নগরীর কাউনিয়া থানা সেকসন রোড নিবাসি রাকিবুল অভিযোগ করে বলেন  দুই মাস আগে তার বন্ধু সিমার দালাল  এর মাধ্যমে সিমার সাথে পরিচয় হয়।

এর পর টাকার বিনিময় রাতকাটায় হোস্টেলে এরপর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয় সিমা। রাকিব যখন জানতে পারে এর আগে নগরীর বিপ্লব নামে এক যুবকের সাথে প্রেমের প্রতারনা করে তার কাছ থেকে প্রতি মাসে টাকা নেয়  সিমা। তখন রাকিবুল সিমাকে বিয়ে না করার  সিমা রাকিবুলের  কাছে  পাঁচ লাখ টাকা দাবি করে এবং বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে মিথ্যাতথ্য দিয়ে রাকিবুলকে ফোন দেয়ায়। সিমার স্থায়ী ঠিকানা বরগুনা বর্তমানে বরিশার নগরীর ২০ নং ওয়ার্ড কলেজ এভিনিউ পাঁচ নং গলির সৃতাস্মৃিনী বাড়ির ভাড়াটিয়া তৈয়ব আলির মেয়ে সিমা আক্তার।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

ছাতকে আখলাদ হত্যাকান্ডের ঘটনায় আল-আমিনের আত্মসমর্পন

 

ভবদহ নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্টঃ “Elevated Flow”(উত্তোলিত প্রবাহ)

১৯৫৮ সালে সবুজ বিপ্লব বাস্তবায়নের জন্যে যশোর জেলার অভয়নগর, মনিরামপুর, কেশবপুর ও যশোর সদর উপজেলা এবং খুলনা জেলাধীন ডুমুরিয়া,ফুলতলা এবং বটিয়াঘাটা উপজেলার ৫৪ টি বিলের  ১ লক্ষ ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে লবণাক্ততার হাত থেকে রক্ষা করার জন্যে ও ২৭ টি বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য নেহালপুর ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী টেকা- মুক্তেশ্বরী নদীর ভবদহ নামক স্থানে তৈরি হয় স্লুইসগেট। ফলে নদীগুলোর উৎস মূল পদ্মা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং সাগর বাহিত পলি উজানের দিকের হরি-টেকা-মুক্তেশ্বরী, আপারভদ্রা-হরিহর-বুড়িভদ্রা নদী  ও এর সাথে সংযুক্ত খালের তলদেশে পড়ে উঁচু হতে থাকে এবং পার্শ্ববর্তী মনিরামপুর উপজেলার নেহালপুর ও কুলটিয়াসহ এলাকায় ১৯৮২ সালে প্রথম জলাবদ্ধতার  সৃষ্টি হয়ে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয় এবং রাস্তাঘাট,স্কুল কলেজসহ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে যা আজও বিরাজমান।

ভবদহ নিয়ে নতুন এক্সপেরিমেন্টঃ “Elevated Flow”(উত্তোলিত প্রবাহ)

স্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে ঐ এলাকার বিলগুলোতে  সারাবছরই পানি জমে থাকে এবং ২৭ টি বিল বছরের পর বছর অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে।ফলে অত্র জনপদের  কৃষি, শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিসহ সকল মৌলিক অধিকার ভেঙে চৌচির  হয়ে গেছে। যা সারা বাংলাদেশে ভবদহের দুঃখ হিসাবে পরিচিত লাভ করেছে।

গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে ভবদহ এলাকার ৮০ গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক জনগন আবারও স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

ঠিক এরকম একটি মুমূর্ষু সময়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড যশোর জেলাধীন ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে উদ্ভাবনী উদ্যোগ ” Elevated Flow” পাইলটিং প্রকল্প নিয়ে  যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কনফারেন্স  রুমে একটি সেমিনারের আয়োজন করে।

উক্ত  সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) মোঃ রফিকুল হাসান। প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ( যুগ্ম সচিব)  মোঃ আজাদুর রহমান মল্লিক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের দক্ষিণ – পশ্চিমাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী একেএম তাহমিদুল ইসলাম, যশোর সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পীযুষ কৃষ্ণ কুন্ডু।মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন  পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তাওহিদুল ইসলাম।

কিন্তু ভবদহ নিয়ে নতুন উদ্ভাবনী “ Elevated  flow”  বা “উত্তোলিত প্রবাহ” কার্যক্রম নিয়ে উপস্থানের শুরুতেই তোপের মুখে পড়ে আয়োজক  পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।

কারণ কয়েক দশক ধরে ভবদহ এলাকার সমস্যা সমাধানে দীর্ঘদিন যাবত  নদী ও খাল খনন করা হয়েছে কিন্তু তাতে নদীর নাব্যতা হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এরপরে গতবছরে শুরু হয়েছে সেচযন্ত্র দিয়ে পানি সেচে বৃহৎ এলাকার জলাবদ্ধ দূরীকরণের জন্য একটি অবাস্তব, কল্পনাপ্রসূত বালখিল্য প্রকল্প।ফলে বিল থেকে পানি তো অপসারিত হয়নি বরং নতুন করে কৃষি আবাদ সম্ভব হয়নি চারশত হেক্টর জমিতে। আর তাই পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রতি জনগণের আস্থা তালানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

উক্ত সেমিনারে বক্তরা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত ৪০ বছর ধরে ভবদহ এলাকার জনগণকে  গিনিপিগের ন্যায় কেটে ছিড়ে বৈজ্ঞানিকের ন্যায় পরীক্ষা নিরীক্ষাই করছে কিন্তু ফলাফল শূণ্য। তাদের এই তামাশার কারণে ভবদহ এলাকার ২ শত গ্রামের কয়েক লক্ষাধিক লোক জলাবদ্ধতার স্বীকার হয়ে বাস্তুহারা হওয়ার উপক্রম।

বক্তরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই সকল  কল্পনা প্রসূত হরিলুট মার্কা প্রকল্পের কারণে সরকারি অর্থের অপচয়ের জন্য সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান এবং আগামী ডিসেম্বর মাসের আগেই বিল কপালিয়ায় টিআরএম ( টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) চালু এবং পানি নিষ্কাশনে আমডাঙ্গা খাল প্রশস্ত ও সংস্কারের সাথে সাথে ক্ষতিগ্রস্থ অঞ্চলের বাসিন্দাদের ক্ষতিপূরণ দাবী করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের চিফ ইনোভেশন অফিসার ( যুগ্ম সচিব)  মোঃ আজাদুর রহমান মল্লিক বলেন, সরকারের ডেল্টা প্লানে টিআরএম বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ রয়েছে বিধায় টিআরএম বাতিল হবে না।আমরা জনগণের সাথে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দূরত্ব দূর করতে উদ্যোগী হয়েছি।আগামীতে যে প্রকল্পই নেওয়া হবে সেটি স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে নেওয়া হবে। সময়ই বলে দিবে কথার সাথে বাস্তবতার কতটা মিল আছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদী বাঁচলে দেশ বাঁচবে”। তাই আর নতুন নতুন উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের কোন আস্থা নেই। ফলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন প্রকল্প Elevated Flow অঙ্কুরের বিনষ্ট হওয়ার উপক্রম।আর তাই স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে টিআরএম প্রকল্প বাস্তবায়ন , নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খনন করে বিশাল এই জনপদের জীবন মান রক্ষা করার কোন বিকল্প নেই।

//স্বীকৃতি বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

নড়াইলের কালিয়ায় এক যুগ পর কমিটি পেল খাশিয়াল ইউনিয়নবাসী !

 

প্রসঙ্গ ভবদহঃ একদিনের বৃষ্টিতে যশোরের বিস্তীর্ণ এ জনপদ আবারও স্থায়ী পানিবিন্দ

 

ভাদ্রের শেষে ও আশ্বিনের শুরুতে উত্তর – পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণাবর্ত  তৈরি হয়ে উত্তর ওড়িশা- বাংলা ও বাংলাদেশ সংলগ্ন উপকূলে অবস্থান করায় প্রচুর পরিমাণে জলীয়বাষ্প ঢুকেছে বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন স্থলভাবে। একদিকে পূর্ণিমার জন্য নদ-নদীতে বিরাজমান ভরা জোয়ার অন্যদিকে জলীয়বাষ্পপূর্ণ মেঘমালা। উভয়ের যৌথ প্রভাবে ভাদ্রের শেষে ও আশ্বিন মাসের শুরুতে অঝোর ধারায় সারাদেশে  ঝরছে বৃষ্টি।

গত একদিনে ১৯ সেন্টিমিটারেরও বেশী বৃষ্টিপাত হয়েছে যশোর জেলায়।ফলে যশোর জেলার যশোর সদরের কিছু এলাকা, মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুরের বিস্তৃর্ণ এলাকার ঘরবাড়ি, ফসলের মাঠ,রাস্তাঘাট, পুকুরজলাশয়, মাছের খামার,স্কুল-কলেজ, মসজিদ,মন্দিরের আঙিনা পানিতে তলিয়ে গেছে এবং সৃষ্টি হয়েছে স্থায়ী জলাবদ্ধতা।

প্রসঙ্গ ভবদহঃ একদিনের বৃষ্টিতে যশোরের বিস্তীর্ণ এ জনপদ আবারও স্থায়ী পানিবিন্দ

ফলে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ।সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের খামার/ ঘেরগুলি।রাতের আঁধারে বৃষ্টিতে মাছের খামার/ ঘেরগুলি ভেসে যাওয়ায় মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্ট  কয়েক শতাধিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

অভয়নগর, মনিরামপুরের সুন্দলী,মশিয়াহাটী, ধোপাদী, সড়াডাঙ্গা, সরখোলা, ডুমুরতলা, হাটগাছা, সুজাতপুর, বাজেকুলটিয়া, ডহরমশিয়াহাটী, আন্ধা, বেদভিটা, বলারাবাদ, পায়রা, কোটাসহ ৫ শতাধিকের আধিক গ্রাম বৃষ্টির পানিতে প্লাবিত হয়ে স্থায়ী জলাবদ্ধতায় রূপ নিয়েছে এবং জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ।

প্রসঙ্গ ভবদহঃ একদিনের বৃষ্টিতে যশোরের বিস্তীর্ণ এ জনপদ আবারও স্থায়ী পানিবিন্দ

ভবদহ এলাকা সংশ্লিষ্ট ভবদহ স্লুইস গেট দীর্ঘদিন অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকায় ৫ টি উপজেলায় সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘদিন যাবত চলমান জলাবদ্ধ সমস্যা। বছরের নয় মাসই থাকতে হয় জলবন্ধী। ফলে এলাকার শিক্ষা,স্বাস্থ্য,চিকিৎসা,বাসাস্থানসহ জনজীবন আজ চরম বিপর্যের মুখে। কিন্তু কোন এক অদৃশ্য শক্তি,ব্যক্তিস্বার্থ ও ক্ষমতার দম্ভে ভবদহের স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহন না করায় যুগের পর যুগ ও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ভোগ করছে দূর্বিসহ ও অমানবিক জীবন যন্ত্রণা।

//নিজস্ব প্রতিনিধি//  

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশাল জেলা প্রশাসক ১০৪ অসহায় মানুষদের মাঝে আর্থিক সহায়তা বিতরণ