সরকারী সাহয্য আসেনি বাঁধালে ১৬০০ ফুট রাস্তা সলিং করে গ্রামবাসী

এম মুরশীদ আলী :

বর্তমান সরকার উন্নয়নশীল সরকার; থাকা স্বত্বেও সরকারী সহয়তা আসেনি গ্রামে। তাই গ্রামবাসীর উদ্যোগে ১৬০০ ফুট কাঁচা রাস্তা ইটের সলিং বসিয়ে আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে চলেছে  গ্রামটি। ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বর থেকেও এ গ্রাম পায়নি সরকারি সহায়তা, ভাবতেই অবাক লাগে! অবশেষে গ্রামের মানুষের কষ্টের সাথী কেউ হলো না।

নির্বীক অবহেলিত গ্রাম ! রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন, ৫নং ওয়ার্ড বাঁধাল গ্রামটি। গ্রামের পূর্ব-পশ্চিম বৈয়ে যাওয়া বাসুয়ার বড় খাল। তার উত্তর পাড়ে বাসুয়া খালি বিল। এ বিলটি আবার ভৌগলিক দিক থেকে দেশের তৃতীয় নম্বর বড় বিল। যা পাশ্ববর্তী তেরখাদা উপজেলার মধ্যে পড়েছে। এ বিলে যাতায়াতের জন্য খালের উপর ব্রীজ করা হলেও রাস্তার কোন উন্নয়ন আজও ঘটাই-নি রূপসা উপজেলা প্রশাসন।

বাসুয়া খালি নদী থেকে একটি ছোট খাল, গ্রামের মধ্যদিয়ে লম্বা উত্তর-দক্ষিন যাওয়ায় খালের পশ্চিম পাড় ও পূর্বপাড় এ দু’অংশেই বাঁধাল গ্রামবাসীর বসবাস। কিন্তু গ্রামের এ পাশের লোক ওপাশে যেতে বাঁশের সাঁকো ও কাঠেরপুল ব্যবহার করে। এক সময়ে মানুষ বিলে বা হাট-ঘাটে যেতে খালটি ছিল একমাত্র পথ। ঐ খালে এখন মাটি ভরাটের ফলে স্বল্পপানিতে ছোট নৌকা চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। এ কারণে ১৪/১৫ বছর আগে খালের পশ্চিম পাড়ে প্রায় ১ কিলোমিটার রাস্তা ইটের সলিং দিয়েছিলেন তৎকালীন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান। তারপর থেকে আর কোন উন্নয়ন এ গ্রামে আসেনি। গ্রামের ১৬০০ ফুট রাস্তার মধ্যে একটি জামে মসজিদ ও একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় পড়েছে। তাছাড়া- একই গ্রাম খালের পূর্বপাড়ে/মোড়ল পাড়ায় প্রায় ২/৩ বছর আগে গ্রামবাসীর নিজ খরচ ও শ্রম দিয়ে ইটের সলিং বসিয়ে রাস্তায় চলাচলের উপযোগী করে নেয়।

চাষীরা : বাসুয়া খালি বিলে যেতে, বাসুয়া খালি বড় খাল পার হয়ে অর্থাৎ নদীর উত্তর পাড়ের এ বিলে চাষাবাদ করেন রূপসার ১২টি গ্রামের মানুষ।

এ গ্রামগুলি হলো- বাধাল, মৈশাগুনি, জোয়ার, দূর্জনিমহল, শীরগাতী, যুগিহাটী, খানমোহম্মাদপুর, আইচগাতী, মোছাবাদপুর, নন্দনপুর, শ্রীফলতলা, হোসেনপুর। এই গ্রামগুলির মানুষ কৃষি ও মাছ চাষের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহের জন্য এ বিলে তাঁরা ধান, মাছ ও  তরি-তরকারী সহ নানাবিদ চাষাবাদ করে থাকেন। এ অঞ্চলের মানুষের আয়ের একমাত্র বিল হচ্ছে বাসুয়া খালি বিল।

ভুক্তভোগীরা : গ্রামে বসবাসরত, প্রভাষক আহম্মাদ মল্লিক জানান, আমরা বাধাল গ্রামবাসীরা নিজ খরচে ৮ফুট চওড়া করে ১৬শ ফুট রাস্তা আপাতত ইট বসিয়ে চলাচলের উপযোগী করে নিচ্ছি। কারণ এই রাস্তাটি প্রায় ১৬/১৭ বছর আগে তৎকালীন শ্রীফলতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নিজ উদ্যোগে দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তার উপর ইটের সলিং করে দিয়ে ছিলেন। তারপর থেকে অধ্যবদি ১৬/১৭ বছর আগের রাস্তা যাতায়াতের ফলে, অনেক স্থানে ইট ডেবে ও ভেঙ্গে উঁচু-নিচু হওয়াতে বাইসাইকেলও চলতে পারতো না। তাছাড়া খাল ঘেষে রাস্তাটি হওয়ায় দিন দিন খালের ভিতর ভেঙ্গে চলে যাচ্ছে।

এমতাবস্থায় জরুরী সময়ে- অসুস্থ রোগী নিয়ে দ্রুত বের হওয়ার উপায় ছিল না। তাছাড়া স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছেলে-মেয়ে, চাকুরিজীবি সহ ১২টি গ্রামের লোকজন ঐবিলে চাষাবাদের জন্য আসা-যাওয়ার দারুন ভোগান্তির স্বীকার প্রতিনিয়ত হতে হত। অনেকেই এই রাস্তায় পিচলে পড়ে মারাত্মক অসুস্থ; পঙ্গুত্বের মত বিছানাই পড়ে আছে।

গ্রামে রাস্তার মহোতী উদ্যোগ নেয় : মো. মনির ইজারাদার ও মো. ইশরাফ সেখ এবং আলাইপুর ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক আহম্মাদ মল্লিক। এনারা ৩জন সমুদ্বয় গ্রামবাসীর চলাচলের দূর্ভোগের কথা চিন্তা করে নিজেরাই রাস্তার কাজ করার উদ্যোগে শুরু করেন। তাদের আরো দেড় থেকে ২ কি: মি: বাকি থাকছে। এভাবেই সম্পূর্ন রাস্তার কাজ সম্পন্ন করবেন বলে গ্রামবাসী জানান।

উল্লেখিত- ৫নং ওয়ার্ড, বাধাল গ্রামেই পুরুষ মেম্বর ও সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর বাড়ী। তারপরও কেন-যেন গ্রামের রাস্তা-ঘাটের বেহাল দশা ভোগ করছি জানি না? ভোট আসলে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতির কথা বলে ভোট নেয়, আর ভোট চলে গেলে তাদের কাছে আমরা অভিশাপ হয়ে পড়ি।

অতিব: দুখের সাথে বলতে পারি : বর্তমান সরকার উন্নয়নশীল সরকার; থাকা স্বত্বেও গ্রামের রাস্তা এভাবেই আমাদেরই করে নিতে হবে ! ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, মেম্বর থেকেও এ গ্রাম পায়নি সরকারি সহায়তা, ভাবতেই অবাক লাগে! অবশেষে গ্রামের মানুষের কষ্টের সাথী কেউ হলো না।

বাধাল ৫নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মো. রকিবুল ইসলাম বলেন, এই গ্রাম থেকে প্রতিবারই নৌকা প্রতীক জয়ী হয়ে থাকে।

অথচ গ্রামের মধ্যদিয়ে শত শত মানুষের চলাফেরার ভোগান্তির হাত থেকে রক্ষা করতে এখন নিজেরাই শ্রম দিয়ে ইটের সলিং করা হচ্ছে। এই গ্রামের বেশীরভাগই মানুষ কৃষক ও দীনমজুর। এ বিবেচনা করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও ইট এবং টাকা দিয়ে সহায়তা করেছেন। তাছাড়া গ্রামের লোক এলাকার বাহিরে চাকুরী, ব্যবসা ও বিদেশগামীদের আপ্রাণ চেষ্টায় অসম্ভবকে-সম্ভব করে যাচ্ছি। সম্পূর্ন গ্রামের রাস্তাটি প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার।

রাস্তার ব্যাপারে বক্তব্য রাখেন :

উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম হাবিব বলেন, আমি বাধাল পূর্ব পাড়ায় বসবাস করি। কিন্তু পশ্চিমপাড়ার সম্পর্কে এমপি আব্দুস সালাম মূর্শেদী বলেছেন- তোমাদের পশ্চিমপাড়ায় গ্রামের মানুষের জনদূর্ভোগ দেখ। এরপর উপজেলা প্রকৌশলীর কাছে যেয়ে দেখি রাস্তাটির এখনও আইডি নম্বর পড়েনি। তখন গ্রামের রাস্তা ২টি সম্পর্কে বর্ণনা দিয়ে আইডি নম্বর ফেলার অনুরোধ করে আসি। তারপর থেকে প্রকৌশলীর সাথে যোগাযোগ রেখেছি, যাতে দ্রুত রাস্তাটি সরকারীভাবে করানো যায়। তাছাড়া প্রকৌশলী আশ্বাস দিয়েছেন অল্প সময়ের মধ্যে জনদূর্ভোগ বাধাল গ্রামের কাজ করা হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী এসএম ওয়াহিদুজ্জামান বলেন- ঐ গ্রামের রাস্তাটির আইডি নম্বর পড়েছে এবং ইষ্ট্রিমেটও তৈরী করে পাঠিয়েছি। বাজেট পাশ হয়ে আসার পর যথাযথ কাজ শুরু করা হবে। পাশাপাশি বাসুয়া খালি বড় খাল ব্রীজটিও সংস্কার এবং গ্রামের মধ্যে ছোট খালের উপর ছোটআকারে ব্রীজের বিল পাশ করানোর ব্যবস্থা চলছে।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্জ্ব ইসহাক সরদার বলেন, আমি উপজেলা ইঞ্জিনিয়ার এর সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে কাঁচা রাস্তাটি খালে ধসে যায়। এ কারনে মেরামত করে রাস্তা ঠেকানো যাবে না। এ খালের দুইপাশে ঢালাই পায়েলিং করার পর পরিপূর্ন রাস্তার কাজ করা হবে। এ জন্য এলজিইডির মাধ্যমে পাশ করার কাজ চলছে। তার আগেই গ্রামবাসী রাস্তা মেরামত করছেন। এতে আমার পক্ষ থেকে তাদের ইট দিয়ে সহয়তা করেছি।

৬০ বিঘার বেশি জমি সংক্রান্ত নতুন আইনে কি কি আছে….

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

দেশের কোনো ব্যক্তি ৬০ বিঘার বেশি জমির মালিক হতে পারবেন না। যদি কারও একক নামে ৬০ বিঘার বেশি জমি থাকে, তবে সরকার অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ করতে পারবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম রয়েছে। ভূমি সংস্কার আইন ২০২৩–এর খসড়ায় এ কথা বলা হয়েছে।

গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আইনের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। জমির মালিকানার ক্ষেত্রে সীমানির্ধারণ ছাড়াও স্থাবর সম্পত্তির বেনামি লেনদেনের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা, বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে পালনীয় বিষয়, জমির বর্গাদারের অধিকারসহ নানা বিষয় আলোকপাত করা হয়েছে।

১৯৮৪ সালে ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এখন এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা হচ্ছে। তবে নতুন আইনে ওই অধ্যাদেশের অনেক কিছুই অবিকৃত রাখা হয়েছে।

নতুন আইনে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি একক নামে ৬০ বিঘার (১ বিঘা সমান ৩৩ শতাংশ) বেশি জমির মালিক হতে পারবেন না। কারও নামে ৬০ বিঘার বেশি জমি থাকলে অতিরিক্ত জমি সরকার অধিগ্রহণ করতে পারবে। আর এ জন্য সরকার কোনো ক্ষতিপূরণ দেবে না।

তবে কিছু ব্যতিক্রমের কথাও আছে আইনে। যেমন সমবায় সমিতি; চা, কফি, রাবার ও ফলের বাগানমালিক; শিল্প কারখানার কাঁচামাল উৎপাদন হয়, এমন জমির মালিক; রপ্তানিমুখী শিল্প ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতের কাজে ব্যবহার হওয়া জমির মালিক; ওয়াকফ ও ধর্মীয় ট্রাস্টের ক্ষেত্রে এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না।

ভূমিসংক্রান্ত আইন ভঙ্গ করলে এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা এক মাসের কারাদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হওয়ার বিধান রাখা হয়েছে নতুন আইনে। এ ছাড়া আইনে ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু ও তথ্যভান্ডার তৈরির কথাও বলা হয়েছে।

নতুন আইনে বাস্তুভিটা থেকে উচ্ছেদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আদালতের আদেশ ছাড়া কোনো কর্মকর্তা বা কোনো কর্তৃপক্ষ জমি থেকে মালিককে উচ্ছেদ করতে পারবেন না।

গ্রামীণ এলাকায় বাস্তুভিটার উপযুক্ত জমি খাস হিসেবে পাওয়া গেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা বা তাঁর পরিবার, ভূমিহীন কৃষক ও শ্রমিকদের বন্দোবস্তের বিষয়ে প্রাধান্য দেওয়া হবে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো বর্গাদার বর্গা চুক্তির আগে মারা গেলে চুক্তির মেয়াদ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মৃত বর্গাদারের পরিবারের সদস্যরা ওই জমি চাষ করতে পারবেন।

আইনে আরও বলা হয়েছে, মালিক যদি তাঁর বর্গা দেওয়া জমি বিক্রি করতে চান, তবে প্রথমে বর্গাদারকে জানাতে হবে। বর্গাদার ১৫ দিনের মধ্যে মালিককে তাঁর সিদ্ধান্তের কথা জানাবেন। আর কোনো বর্গাদার ১৫ বিঘার বেশি জমি চাষ করতে পারবেন না।

বর্গা চুক্তি বাতিলের বিষয়ে কিছু শর্ত রাখা হয়েছে নতুন আইনে। যেমন বর্গাদার যৌক্তিক কারণ ছাড়া জমি চাষ না করলে চুক্তি বাতিল হবে।

এ ছাড়া এলাকায় সাধারণত যতটুকু শস্য হয়, তা আবাদ না করতে পারলে, ভিন্ন কোনো কাজে জমি ব্যবহার করলে, বর্গাদার নিজে চাষ না করলে চুক্তি বাতিল হতে পারে। ভূমির মালিক ব্যক্তিগতভাবে চাষের জন্য জমি চাইলেও চুক্তি বাতিল করা যাবে।

Daily World News

নাটোর-৪  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস আর নেই

রাশিয়ার ভিতরে হামলা না চালাতে ইউক্রেনের ওপর পশ্চিমাদের চাপ

রামপালে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিন্ম আয়ের মানুষ

রামপালে দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতিতে দিশেহারা নিন্ম আয়ের মানুষ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে দ্রব্যমূল্যের আকাশছোঁয়া দামে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নিন্মবিত্ত ও নিন্ম আয়ের মানুষেরা। আয়ের সাথে ব্যায়ের সংগতি না থাকায় দিন দিন বাজার গুলোতে ক্রেতা শূন্য হয়ে পড়ছে। বাজারে মালামালের সরবরাহ ঠিক থাকলেও দিগুণ-তিনগুণ দামে নিত্যপণ্য কিনতে পারছেন না তারা।

উপজেলার ফয়লাহাট, পেড়িখালী বাজার, ঝনঝনিয়া বাজার, কালিগন্জ বাজার ঘুরে দেখা গেছে এবং বেচা-বিক্রির সাথে জড়িতদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, এক শ্রেণীর মুনাফাখোর সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে বাজারে আগুন লেগেছে। হু হু করে বাড়েছে পণ্যের দাম। এ চাড়াও বাজার সংশ্লিষ্টদের তদারকি না থাকায় আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে সিন্ডিকেট ব্যাবসায়ীরা।

ফয়লা বাজারের কাঁচা বাজার ব্যাবসায়ী আল আমিন জানান, খুলনার মোকাম থেকে গত কয়েক মাস ধরে দিগুণ তিনগুণ দামে প্রত্যেকটি তরিতরকারি কিনতে হচ্ছে। এতে আগের মত আমাদের বেচা-বিক্রি হচ্ছে না। দাম শুনে ক্রেতারা মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। খুচরা বাজারে আমরা আগের মত ক্রেতা ধরে রাখতে পারছি না। একই কথা বলেন, ভাগা বাজারের রোকন শেখ, শ্রীফলতলা বাজারের আনার শেখ, রামপাল সদরের ফারুক, শহীদ, নূরজামাল ও পেড়িখালী বাজারের মাহামুদ শেখ।

দিন মজুর খলিল বলেন, প্রতিদিন ২/৩ শ টাকা আয় করি। সবদিন আবার আয় হয় না। ৫ জনের সংসার। দুইটি ছেলে মেয়ে লেখাপড়া করে। আমার সংসার চলছে না। একই কথা বলেন আসগর, মোন্তাজ মোল্লাসহ অনেকে।

রামপাল সদরের মুদি ব্যাবসায়ী নূর ইসলাম জানান, মোকামে গিয়ে তিনগুণ দামে পণ্য কিনে আনার পর তা বিক্রির সময় ক্রেতাদের মুখ ফ্যাকাসে হয়ে যায়।

সরু চালের পাশাপাশি মোট চালের দাম কেজিতে ৩ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা চাল সর্বনিম্ন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, সরু চাল ৭০ থেকে ৮৫ টাকা, আটা খোলটা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, প্যাকেটজাত ৭০ টাকা, সয়াবিন খোলা তেল ১৫০, বোতলজাত ১৭৯ টাকা ও শরিষার তেল খোলাটা ২৪০ টাকা এবং বোতলজাত ২৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। মশলার দামও আকাশছোঁয়া। জিরা প্রতি কেজি ১২ শত, মশুর ডাল দেশী ১৪০ ও মোট মশুর ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তরকারি আলু ৪৫, বেগুন ৭০, কুমড়া ৩০, ঢেড়শ ৪০, পেঁপে ২০, কুশি ৪০, পটল ৩০, ঝিঙা ৩৫, চাল কুমড়া পিস ২০ টা, কাচা মরিচ ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়াও ডিটারজেন্ট, বেকারি সামগ্রী ১৫০ টাকা থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

রামপাল উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এম, এ সবুর রানা বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ দপ্তর এব্য জেলা বা উপজেলা প্রশাসনের নজরদারীর অভাবে ব্যাবসায়ী সিন্ডিকেটে লাগাম না টানায় দ্রব্যমূল্যে বেড়েই চলেছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা নিয়মিত বাজার তদারকি করলে এবং নজরদারী বৃদ্ধি করলে পণ্যের দাম কমানো সম্ভব হতো। তিনি বাজার সিন্ডিকেটদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নেওয়ার জোর দাবী করেন।

বিয়ে করবেননা ভেবেছেন….! তাহলেই পাবেন ভাতা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

বিয়ে করবেননা ভেবেছেন….! তাহলেই পাবেন ভাতা

এবার অবিবাহিত পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর সরকারের। রোববার খট্টর জানান, তার সরকার রাজ্যে ৪৫ থেকে ৬০ বছর বয়সি অবিবাহিতদের জন্য একটি পেনশন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করছে।

মঙ্গলবার আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এদিন হরিয়ানার করনাল জেলার কমলপুরা গ্রামে ‘জন সংবাদ’ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন খট্টর। সেখানে ৬০ বছর বয়সি অবিবাহিতদের পেনশন প্রকল্প চালু নিয়ে জনগণের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় তাকে।

তারই প্রতিক্রিয়া স্বরূপ খট্টর বলেন, ‘রাজ্য সরকার শিগগিরই অবিবাহিতদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করার পরিকল্পনা করছে।’ সরকার এক মাসের মধ্যে সেই প্রকল্পের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। হরিয়ানা সরকারের প্রস্তাবিত প্রকল্পের ফলে সে রাজ্যের প্রায় দুই লাখ মানুষ উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।

ওই কর্মসূচি চলাকালীন খট্টর হরিয়ানায় বার্ধক্যভাতাও ২৫০ টাকা করে বৃদ্ধির ঘোষণা করেন। মনে করা হচ্ছে, অবিবাহিতদের পেনশন প্রকল্পের টাকার পরিমাণ বার্ধক্যভাতার সমান অর্থাৎ মাসিক ৩ হাজার করে হতে পারে।

তবে এই প্রকল্পে ঠিক কত টাকা করে দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে সরকারের তরফে স্পষ্ট করে কিছু বলা হয়নি। অবিবাহিত পেনশনের মাপকাঠিই বা কী, তা এখনো পরিষ্কার নয়। হরিয়ানায় ইতোমধ্যেই রাজ্যের প্রবীণ নাগরিক, বিধবা, প্রতিবন্ধী, বামন এবং রূপান্তরকামীদের জন্য পেনশন প্রকল্প চালু করছে সরকার। তার মধ্যেই আবার অবিবাহিতদের পেনশন প্রকল্পের কথা ঘোষণা করল খট্টর সরকার।

খুলনার রূপসায় আদালতের নির্দেশ না মেনে পুনরায় গৃহ নির্মান কাজের অভিযোগ

রূপসা প্রতিনিধিঃ

খুলনার রূপসার টিএসবি ইউনিয়ন স্বল্পবাহিরদিয়া গ্রামে জসীম সেখ (২৮) পিতা মোঃ গোলাম সেখ। এর সাথে একই গ্রামের আশরাফ আলী শেখ (৪৫) পিতা মৃত সলেমান শেখ এর দীর্ঘদিন জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। এই বিষয়ে খুলনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে আশরাফ আলী শেখ (৪৫) পিতা মৃত সলেমান শেখ, কবির শেখ (২৮), রূহুল শেখ (২৬) উভয়ের পিতা আশরাফ শেখ দ্বয়ের নামে ৫ মার্চ ২০২৩, জসীম সেখ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং এম.পি-১৭৬/২৩ ধারা ১৪৪/১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধি স্বারক নং এডিএম/খুলনা ৫৫৪/২৩ যুক্ত ২/২ মামলায় উল্লেখ করেন তিনি দীর্ঘদিন জমি ভোগ দক্ষল করে আসছেন।

গত ৩ মার্চ বিবাদী পক্ষ অতর্কিত ভাবে নালিশি জমির উপর পাকা গৃহ নির্মান কাজ শুরু করেন। কাজে বাধা প্রদান করলে বিবাদীগণ দা, শাবল, লাঠি দিয়ে আঘাত করতে আসে এবং ভয়ভীতি প্রদান করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। বাদীর মামালার পরিপেক্ষিতে অতিরিক্ত খুলনা জেলা ম্যজিট্রেট এর বিজ্ঞ আদালত ১৪৪/১৪৫ ধারা মোতাবেক উক্ত সম্পত্তির উপর উভয় পক্ষেকে শান্তি শৃংখলা বজায় রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। এবং আদালতের আইন অমান্য করলে আইনত ব্যাবস্থা গ্রহন করবে এই মর্মে উভয় কে নোটিশ প্রদান করে। বিবাদী আশরাফ আলী শেখ কোটের আদেশ অমান্য করে পুনরায় ১৩ মার্চ গৃহ নির্মান কাজ শুরু করে যা আইনের পরিপন্থি।

পরে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় এই সংক্রান্ত নিউজ প্রকাশিত হয়। বাদী পুনরায় আদালতে উপস্থিত হয়। উক্ত আদালত মামলা চলাকালিন সময়ে ঐ জমিতে কোন কার্যক্রম না করার নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তিতে ১৫ মে বিবাদী আশরাফ কোটে হাজিরা দেন। কোট, সহকারি কমিশনার (ভুমি) কে জমি মাপার নির্দেশ প্রদান করেন। এরপর গত ৮ জুন আবারও কোটের আদেশ অমান্য করে জমিতে থাকা বাঁশ কর্তন করে এবং গৃহ নির্মানের প্রস্তুতি নেয়। ঐ দিনই বাদী রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিবাদী ৯ জুন শুক্রবার গৃহ নির্মানের কাজ শুরু করে।

বাদী জসীম সেখ বলেন, এই জমির উপর ১৪৪/১৪৫ ধারা রয়েছে। তারা কোটের আদেশ অমান্য করে, পুনরায় গৃহ নির্মানের কাজ  শুরু করেছে। এ ব্যাপারে আমি শতভাগ আইনি সহায়তা পাবো বলে আশা করছি।

বিবাদী আশরাফ আলী সেখ গৃহ নির্মানের ব্যাপারে বলেন, আমাদের উকিল বলেছে, গৃহ নির্মানের ব্যাপারে কোন বাধা নেই। যেহেতু কোন বাধা নেই সেহেতু আমরা গৃহ নির্মানের অসমপ্ত কাজ পুনরায় করছি।

Daily World News

বাগেরহাটের কচুয়ার শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতার জীবন সংগ্রাম

বাগেরহাটের কচুয়ার শ্রেষ্ঠ পাঁচ জয়িতার জীবন সংগ্রাম

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি//

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার জীবনযুদ্ধে জয়ী পাঁচ সংগ্রামী নারীকে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা দিয়েছে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর। সমাজের নানা প্রতিকুলতা ও নির্যাতন পেরিয়ে তারা সফলতা অর্জন করেছেন। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান বৃহস্পতিবার (০৮ জুন) জানান, জীবনসংগ্রামে সফল হওয়া উপজেলার পাঁচজন নারীকে সরকার জয়িতা অন্বেষনে বাংলাদেশ কর্মসূচির আওতায় সম্মানজনক এই পদক দেয়। তাদের সংগ্রামী জীবন কাহিনী অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী ও শিক্ষণীয়।

পাঁচজন নারীর সংক্ষিপ্ত জীবন সংগ্রাম নিম্নরূপ-

১। অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী নারী: কচুয়া উপজেলা সদরের মো. ইয়াছিন আরাফাতের স্ত্রী আমিনা আক্তার মিনার ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়। তখন তার স্বামী বেকার। বিয়ের কিছুদিন পর সংসারে আার্থিক সংকট দেখা দেয়। মিনা তখন দর্জির কাজ ও বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের প্রাইভেট পড়ানো শুরু করেন। লোকনিন্দায় শ^াশুড়ি তাতে নিষেধ করেন। পরে নিজের গহনা বিক্রি করে কম্পিউটার কিনে কম্পোজের কাজ করেন। তার আয়ে সংসার চালানো কষ্টকর। একপর্যায়ে সে ঢাকায় গিয়ে গার্মেন্টসে কাজ শিখে বাড়ি ফিরে একটি দোকান দেন। ২০১২ সালে স্বামীর দুর্ঘটনায় ব্যবসাটি বন্ধ হয়। কিছুদিন পর হাঁস-মুরগী ও কোয়েল পাখি পালন ব্যবসা শুরু করেন। তাতেও বাধা আসে। এরপর মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আইজিএ প্রশিক্ষণে ব্লক-বাটিকের কাজ শিখে ব্যবসা শুরু করেন। এতে তিনি আর্থিকভাবে সচ্ছল হয়ে নিজের জমিতে বসতবাড়ী করেন। নানা প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জন করায় আমিনা আক্তারকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সম্প্রতি শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা-২০২২ পদক প্রদান করেছে।

২। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সফল নারী: দরিদ্রতা কচুয়ার টেংরাখালী ইউনিয়নের টেংরাখালী গ্রামের শিকদার মো. মাসুমের স্ত্রী আনজুমানারা খাতুনের লেখাপড়ার অদম্য ইচ্ছাকে ঠেকাতে পারেনি। আনজুমানারা খাতুন জানান, এইচএসসি পাশের পর দরিদ্র মা-বাবা তাকে বিয়ে দেয়। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামীর পরিবারেও আর্থিক অনটন দেখা দেয়। এই অভাব মেটাতে তিনি দর্জি কাজ, প্রাইভেট পড়ানো, প্রাইভেট স্কুলে কাজ করেন। পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যান। সমাজের নানা বাধা পেরিয়ে তিনি বিএ পাশ করেন। এরপর আন্ধারমানিক সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। সংসারের হাল ধরে যখন সবাইকে নিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেন, তখন তার স্বামী এবং সন্তানের কিডনি রোগ ধরা পড়ে। এদিকে নিজেও হার্র্টের রোগী। তবু তিনি জীবন সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষা ও চাকুরী ক্ষেত্রে সফল নারী হওয়ায় তার সংগ্রামী জীবনকে সম্মান জানাতে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তাঁকে সম্প্রতি শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা-২০২২ পদক প্রদান করেছে। এই সম্মাননা পেয়ে তিনি বলেন, ‘নবজীবন পেলাম। সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।’

৩। সফল জননী: কল্পনা রানী বসু স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি দুই সন্তান নিয়ে অসহায় হয়ে পড়েন। তবু মনোবল হারাননি। নানা প্রতিকুলতার মধ্যেও তিনি সন্তানদের উচ্চশিক্ষিত করেছেন। এজন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর তাঁকে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা–২০২২ প্রদান করেছে। তিনি কচুয়া সদর উপজেলার প্রয়াত দেবু প্রসাদ বসুর স্ত্রী। কল্পনা জানান, তাদের নিজস্ব তেমন কোন জায়গাজমি ছিল না। বিবাহিত জীবনে ১৬ বছর পর স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি অসহায় হয়ে পড়েন। দুই সন্তানকে লেখাপড়া শেখানো ও প্রতিষ্ঠিত করার জন্য সীমাহীন পরিশ্রম করেন। এখন তার মেয়ে তপা বসু বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবং বর্তমানে সাব-রেজিষ্ট্রার হিসেবে কচুয়া উপজেলায় দায়িত্ব পালন করছেন। ছেলে পল্লব বসু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে মাষ্টার্স এবং বিসিএস ৪০তম ব্যাচ (শিক্ষা ক্যাডার)।

৪। নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে নতুন উদ্যমে জীবন শুরুকারী নারী : নির্যাতনের বিভীষিকা মুছে ফেলে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করেন আজিজুন নেছা। তিনি কচুয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত শেখ মোজাহারুল ইসলাম ও কামরুন্নেছা বেগমের মেয়ে। আজিজুন নেছা জানান, এসএসসিতে লেখাপড়াকালে তার বিয়ে হয়। প্রথম সন্তান গর্ভে আসলে স্বামী তাকে গোপনে গর্ভপাত করান। এরপরে আর সন্তান না হওয়ায় স্বামী, ননদ ও শশুর-শাশুরীর অত্যাচার শুরু করে। তার স্বামী পরনারী আসক্ত হয়ে পড়ে। এরি মধ্যে একটি কন্যা সন্তান হয়। স্বামীর পরনারী আসক্তির ব্যাপারে স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে নালিশ জানিয়ে বিপদ বেড়ে যায়। বাধ্য হয়ে স্বামীর বাড়ী থেকে বাবার বাড়ি চলে আসেন। একটি কসমেটিকস দোকান দেন। তাই দিয়ে মেয়ের পড়ালেখাসহ সকল চাহিদা মিটিয়ে বর্তমানে ভাল আছেন। তার মেয়ে ঢাকা ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়ে বিবিএ অনার্স পড়ছে। এমন সাহসী জীবন সংগ্রামের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সম্প্রতি তাকে শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা-২০২২ পদক দিয়েছে।

৫। সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানকারী নারী: কচুয়া উপজেলার মসনী গ্রামের গোপীনাথ দাসের স্ত্রী বনলতা রানী দাস ১৫ টির বেশী বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ করেছেন। কচুয়া উপজেলার বাধাল ইউনিয়নে তিনি একাধিকবার মহিলা ইউপি সদস্য। এছাড়াও তিনি বাধাল ইউনিয়নের মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি। এলাকার গর্ভবতী মায়েদের সেবাদান, গরিব অসহায় মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি দেয়া, কর্মঠ নারীদের হাঁস-মুরগী প্রতিপালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বীর ব্যবস্থা করা সহ নানাভাবে সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখছেন। ব্র্যাকের মাধ্যমে নারীদের আইনগত সহায়তা দেন। সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখায় তাঁকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর সম্প্রতি শ্রেষ্ঠ জয়িতা সম্মাননা- ২০২২ পদক দিয়েছে।

খুলনায় বইছে তাপদাহ, জনজীবন অতিষ্ট

//খুলনা ব্যুরো//

গত কয়েক দিনে খুলনা শহর ও জেলার উপজেলা গুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে তাপদাহ। তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৩৬ ডিগ্রি থেকে ৩৭ ডিগ্রি পর্যন্ত।

সকাল থেকেই তাপ ছাড়াচ্ছে সূর্য এবং বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে রোদের তীব্রতা, বাড়ে তাপমাত্রাও। রোদের তেজ এতটাই যে, ঘরের বাইরে পা ফেলা দায়। নাভিশ্বাস উঠেছে জনজীবনে।

তাপদাহের সঙ্গে অনুভূত হচ্ছে ভ্যাপসা গরম। পথে বের হলেই শরীর পুড়িয়ে দিচ্ছে রোদের তেজ। এতে জনজীবনে হাঁসফাঁস অবস্থা।

খুলনার আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বেলা ১২টার দিকে এ অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এমন তাপপ্রবাহ চলবে অন্তত এক সপ্তাহ। সাতদিন পরে তাপপ্রবাহ কমলেও বৃষ্টির দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কয়েকদিন।

চলমান তাপদাহে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষকে। জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রৌদ্রের খরতাপ উপেক্ষা করেই কাজে নেমে পড়ছেন এসব নিম্ন আয়ের মানুষ।

এদিকে খুলনার ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল,রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স গিয়ে দেখা গেছে, ডায়রিয়াজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

দিনমুজুর ইব্রাহিম বলেন, প্রতিদিন জন দিয়ে আমাদের সংসার চলে। গরমে গায়ের চাপড়া পুড়ে যায়। তারপরেও কাজ না করলে সংসার চলে না।

ভ‍্যান চালক ইয়ামিন বলেন, গরমে রাস্তায় লোক তেমন বের হয় না। আগের মত আয় হয় না। সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। দুপুর হলে রাস্তা ফাকা থাকে।

রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: শেখ শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে যে তাপমাত্রা বিরাজমান, তাতে হিটস্ট্রোক হতে পারে। সেই জন্য প্রতিটি মানুষকে ঠাণ্ডা ও ছায়াযুক্ত জায়গায় থাকতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন এবং ঠাণ্ডা ঘরে রাখতে হবে।

তীব্র গরমের তাপদাহ সহে না আর, আকাশের দিকে তাকায়, একটু বৃষ্টিতে পাই যদি স্বস্তি…!!!

//এম মুরশীদ আলী//

জ্যৈষ্ঠ মাসে তাপদাহ গরমে, দেশের মানুষসহ গবাদি পশু বিভিন্ন রোগে আক্রান্তে জীবন-যাত্রা থমকে পড়ছে। তাপদাহর মধ্যে সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছে শ্রমিক ও দিনমজুর খেটে খাওয়া মানুষ।

গরমের কারণে- ঘরে-বাইরে কোথাও স্বস্তি মিলছে না। আবার মাঝে মধ্যেই বন্ধ হচ্ছে বিদ্যুৎ। এতে অতিষ্ঠ ক্ষোভ প্রকাশ সকলের। এই গরমের রোদে রাস্তায় বের হলে গায়ে লাগছে আগুনের তাপদাহ। ফলে অস্থির হচ্ছে মানুষ, তারপরও কষ্টকে সহ্য করে প্রয়োজনীয় কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে বাইরে বের হতে হচ্ছে। কেউ-কেউ তীব্র গরম তাপদাহ শরীরে সইতে না পেরে ক্লান্ত দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবে একটু বৃষ্টিতে পাই যদি স্বস্তি? তাতেও মেঘের দেখা মিলছে না। একটু প্রশান্তি পেতে ঘর ছেড়ে অনেকেই গাছের নিচে। অন্য দিকে রিকশা-ভ্যানচালকরা রাস্তার পাশে গাছতলায় একটু জিরিয়ে নিচ্ছ। চলছে তীব্র ভ্যাপসা গরম, তার ওপর নিয়ম করে চলছে বিদ্যুতের লোডশেডিং। বিদ্যুৎ গেলে ১ ঘন্টার মধ্যে না আসার ফলে ধৈর্য্্য হয় অসহ্য। বিদ্যুৎ এসে কিছুক্ষণ স্বস্তি দিয়ে, আবার চলে যায় অস্বস্তিতে ফেলে। বিদ্যুৎ থাকলে রাত যায় নীমিশেষে, আর লোডশেডিংয়ের ফলে নির্ঘুম রাত যায় দীর্ঘ সময়ে। শরীর অসুস্থ লাগলেও একটু বাতাসের দেখা নেই। গরমে বিদ্যুৎ না থাকলে যে দুর্ভোগ হয় তীব্রতর, সে দৃষ্টান্ত এ বছর।

(কোভিড-১৯) করোনাকালীন সময়ে মহামারি ও মরণব্যাধী ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের মানুষ। তখন বিপর্যয়ে মুখে থমকে পড়ে বাংলাদেশ। এদেশের কৃষকরা তখনও থেমে ছিল না। দেশে খাদ্য ঘাটতি ও অর্থ সংকটের মুখে পড়তে দেয়নি তারাই। দেশের অভাব পূরণে ঘুরে দাঁড়ায় কৃষি ফসলদ্বারা। তাদেরই প্রচেষ্টায় দেশ এখন অর্থে স্বাবলম্বীর পথে এগোচ্ছে। এমন সময় এ বছর দেখাদিল প্রচন্ড গরম তাপদাহ। বিগত ২০ বছরে এমন তাপদাহ দেখা মেলেনি বলছেন অনেকে। কৃষকের মর্ম বুঝেছে আওয়ামীলীগ, তারাই কাটে মাঠ-ঘাটের ধান।

একাধিক কৃষক জানান, এ সময় ঘের মেরামত শেষে মাছের পোনা ছাড়ার সময়। সামন্য পানি থাকলেও তাও অত্যাধিক রোদে পানির নিচে মাটি ফেড়ে যাচ্ছে। এতে মাছের পোনা ছাড়লে না বাঁচার সম্ভাবনা বেশী।
তা ছাড়া এখন বিভিন্ন বীজ রোপণের সময়। এমনকি আগাম ফসলও ফলাই থাকি আমরা। এ সময় প্রখড় তাপদাহ ফলে, খেত-খামারে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। সবচেয়ে বড় বিপাকে চাষিরা। তাদের মিলছে না শীতল বাতাসের দেখা। এ কারণে দিনমজুরেরা ফসলের খেতে কাজ করতে চায় না। অন্যান্য বছরে সারাদিন কাজ করেও ক্লান্ত হয়নি, অথচ এ বছর ২/৩ ঘন্টা কাজের মধ্যেই হাঁপিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি, তা বুঝাবো কিভাবে। তারপরও কিছু কৃষককে রুখতে পারছে না প্রচন্ড গরম তাপদাহে। কারণ তাদের পরিবার ও ছেলে-মেয়ের শিক্ষার খরচসহ জোগাতে হয় বৃদ্ধ পিতা-মাতারও ঔষধের খরচ।

এ ব্যাপারে রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বলেন, প্রচন্ড গরম, তাপদাহর ফলে মানুষ অতিরিক্ত ঘেমে শরীরে পানি শুন্যতা হয়ে পড়ছে। যার ফলে এ সময় দেখা যাচ্ছে ফুটপয়জিনং/ডায়রিয়া, হিটষ্টোকজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী। তাই গরমে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। বাচ্চাদের দিকে বিশেষ নজর রাখার মাধ্যমে ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। তারা রোদে যেন বেশী ঘেমে না যায়। যারা ক্ষনিকের স্বস্তি পেতে বাহির থেকে শরবত খাচ্ছে। তারাই ফুটপয়জিনং/ডায়রিয়া রোগে আক্রন্ত হতে পারে। হাসপাতালে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছে। এ ধরণের রোগী আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। তাই- ডা: পিকিং সিকদার প্রত্যেককে সচেতন হওয়ার পরামর্শ প্রদান করেন।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মজুমদার বলেন, এই গরম-তাপদাহ কারণে খামারীদের দুধ উৎপাদন কমে যাচ্ছে। খাবার খাওয়া অরুচি এবং পাতলা-পায়খানা দেখা যাচ্ছে। খামারিরা ভীত না হয়ে বরং গরু একাধিকবার গোসল, তাছাড়া গোয়াল ঘরের চাল/ছাউনির উপরে চটদিয়ে তার উপর পানি ছিটিয়ে ঠান্ডা সৃষ্টির পরামর্শ প্রদান করেন। অন্যদিকে হাঁস-মুরগীরও ছায়াযুক্ত ঠান্ডা ঠান্ডা স্থানে ঘর বানিয়ে রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।

উপজেলা মৎস্য সিনিয়র কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার দাস বলেন, প্রচন্ড গরমে পানির নিচে তাপদাহ সৃষ্টির ফলে ঘেরের পানি কম থাকায় অক্সিজেন ঘাটতিতে মাছ মারা যেতে পারে। এমনকি মাছের ক্ষতি হয় এমন রোগ দেখা দিতে পারে। এ জন্য ঘের চাষিরা- ঘের ক্যানেলের পানিতে ছায়া সৃষ্টির জন্য চাল/ছাউনি তৈরীর ফলে পানির নিচে তাপদাহর হাত থেকে মাছ রক্ষা করা সম্ভব হবে।

ডুমুরিয়ায় আটলিয়া আইপিএম মডেল ইউনিয়নের কৃষক গ্রুপকে ভ‍্যান ও ক‍্যারেট বিতরন

  //বিশেষ প্রতিনিধি, খুলনা //

ডুমুরিয়ার আটলিয়া আইপিএম মডেল ইউনিয়ন কৃষক গ্রুপের মধ‍্যে ২০ টি পন‍্য পরিবহন  ভ‍্যান ও ৫’ শতটি ক‍্যারেট বিতরন করা হয়। পরিবেশ বান্ধব কৌশলে মাধ‍্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের ( প্রথম সংশোধিত) আওতায়  নিরাপদ সবজি পরিবহন জন‍্য এ সকল ভ‍্যান ও ক‍্যারেট বিতরন করা হয়েছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে রবি ও খরিপ -১  মৌসুমে আইপিএম মডেল ইউনিয়নে কৃষকরা দু শত একর জমিতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করেন। এসকল কৃষকদেরকে উপজেলা  কৃষি অফিস  সার্বক্ষণিক প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ সবজি উৎপাদনের  প্রর্দশণী প্লট স্থাপন,  পলিমালচ মাধ‍্যমে সবজি উৎপাদন, উন্নত মানের বীজ, জৈব সার, ফেরোমোন ফাঁদ, হলুদ ফাঁদ, নীল ফাঁদ, জৈব‍ বালাই নাশক প্রদান করা হয়।

এছাড়া প্রকল্পের মাধ‍্যমে  পাঁচ শত জন কৃষক হাতে কলমে প্রশিক্ষত হয়েছেন। উপজেলা কৃষি অফিসার ইনসাদ ইবনে আমিন বলেন উপজেলা  ব‍্যাপক সবজি উৎপাদন হয়। এ উপজেলা কৃষিতে মডেল। পরিবেশ বান্ধব কৌশলে মাধ‍্যমে নিরাপদ ফসল উৎপাদন প্রকল্পের  আওতায় কৃষক  যাতে নিরাপদ সবজি উৎপাদন করে সেই লক্ষ্যে কৃষি দপ্তর কাজ করছে। কৃষকরা নেট হাউজের মাধ‍্যমে নিরাপদ ও বিষ মুক্ত সবজি উৎপাদন করতে পেরে  কৃষকরা খুশি। এ ছাড়া এ পদ্ধতিতে সবজি উৎপাদনে  উপজেলায় ব‍্যপক সাড়া পড়েছে। এ সবজির বাজার মূল‍্যেও  বেশি পাচ্ছেন।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন

আ. রাজ্জাক শেখ, খুলনা।।

চলতি মাসের দুই সপ্তাহ ধরে খুলনায় ভয়াবহ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে পল্লী বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং। এতে করে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। রমজান মাসে এমন অবস্থার হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে রোজদার ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী ও খেটে খাওয়া মানুষ। শিশু আর বৃদ্ধদের অবস্থা একেবারে কাহিল।
দুপুর হলেই চলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। গরমে ভেজা কাপড় গায়ে জড়াচ্ছেন অনেকে। কখন বিদ্যুৎ আসবে সে খবরও কারো জানা নেই। বেড়েগেছে হাতপাখার কদর। দোকান গুলোতে ভিড়লেগে গেছে তাল পাতার হাতপাখা বিক্রির। হাসপাতালে অসুস্থ রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। দিনে ও রাতে প্রায় ১০/১২ ঘন্টা থাকছে লোডশেডিং। লোডশেডিং থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা ঈফতার ও সেহেরীর সময় টুকুও। গত ২ সপ্তাহ ধরে অতি তীব্র তাপদাহ ৪০/৪২ দশমিক ২ ডিগ্রী তাপমাত্রা রেকর্ড চলছে।
এরই মধ্যে প্রচুর ভ্যপসা গরমে যখন মানুষ হাঁসফাঁস করছে এমন সময় শুরু হয়েছে লোডশেডিং। রাত ও দিনে শুরু হওয়া লোডশেডিং দিনে রাতে ১০/১২ ঘণ্টা হচ্ছে। ইফতার ও সেহেরির কিছু সময়ও পড়ছে লোডশেডিং-এর আওতায়। এতে করে ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠছেন রোজদারগণ।
উপজেলা সদরের দিন মুজুর মজিদ বলেন, ‘এমন গরম আগে কখোনো দেখিনি, রোদ গরমে এনিতেই ঘরে দাঁড়ানো যাচ্ছে না। বাইরে বেরলে গা জ্বালা করছে। ফেন চালিয়ে কোনো মতে ঘরে থাকছিলাম তাও বিদ্যুৎ থাকছে না। কোথাও সস্থি পাচ্ছি না। ঘরে একটু স্বস্থিতে থাকবো, বিদ্যুৎ না থাকায় তাও পারছিনা। গাছ তলায় বসে থেকেও সস্থি নেই।’
ভ্যান চালক ইসমাইল বলেন, রাস্তায় কোন লোক বের হচ্ছে না। রাস্তা ফাকা রয়েছে। রৌদে তাকালে চোখ জলে যাচ্ছে। গাড়ি চালঅতে পারছি না। সামনে ঈদ চিন্তার মধ্যে আছি। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করেন।