ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ ||  মঙ্গলবার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি–বেসরকারি প্রতিষ্ঠান খোলা: আইএসপিআর

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

আজ মধ্যরাত ১২টা থেকে আগামীকাল মঙ্গলবার ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে। আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল হতে বাংলাদেশের সকল সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা স্বায়ত্তশাসিত, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, কলকারখানা, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে।

আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) আজ সোমবার রাতে এক বার্তা এ কথা জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, হবে অন্তর্বর্তী সরকার : সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে। সব রাজনৈতিক দলের নেতাদের আমন্ত্রণ করেছিলাম। আমরা সুন্দর আলোচনা করেছি। সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীন দেশের সব কার্যক্রম চলবে।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের গণভবন অভিমুখে যাত্রা কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা। এ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার পর বিকেল চারটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের বিষয়ে ওনার সঙ্গে কথা বলব। তাঁর সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশ পরিচালনা করা হবে।

সমস্ত হত্যা ও অন্যায়ের বিচার হবে উল্লেখ করে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘আপনারা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখেন। আমরা সমস্ত দায়দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনাদের কথা দিচ্ছি, আশাহত হবেন না। যত দাবি আছে, সেগুলো আমরা পূরণ করব। দেশে শান্তিশৃঙ্খলা ফিরিয়ে নিয়ে আসব। আমাদের সহযোগিতা করেন। প্রতিটি হত্যার বিচার হবে।’

ভাঙচুর, হত্যা, সংঘর্ষ ও মারামারি থেকে জনগণকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনারা যদি কথামতো চলেন, একসঙ্গে কাজ করি। নিঃসন্দেহে সুন্দর পরিণতির দিকে অগ্রসর হতে পারব। মারামারি ও সংঘাত করে আর কিছু পাব না। তাই দয়া করে ধ্বংসযজ্ঞ, অরাজকতা ও সংঘর্ষ থেকে বিরত হন। সবাই মিলে সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে অগ্রসর হব।’

রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা ফলপ্রসূ হবে জানিয়ে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘তাদের সঙ্গে সুন্দর আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে কাজ পরিচালনা করব। ধৈর্য ধরেন, সময় দেন। আমরা সবাই মিলে সব সমস্যা সমাধান করতে সক্ষম হব।’

সংঘাতে দেশের ক্ষতি হচ্ছে জানিয়ে সেনাপ্রধান বলেন, ‘অর্থসম্পদের ক্ষতি হচ্ছে। লোকজন মারা যাচ্ছে। সংঘাতের পথে যাবেন না। শান্তিশৃঙ্খলার পথে ফিরে আসেন।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কত সদস্য হবেন—এমন প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান বলেন, ‘এখনো খুব আর্লি স্টেজ। আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। আলাপ–আলোচনা করে ঠিক করা হবে। আজকেই রাষ্ট্রপতির কাছে যাব। রাতের মধ্যেই সমাধানে যাওয়ার চেষ্টা করব। দু–এক দিন আমাদের সময় দেওয়া লাগতে পারে।’

আলোচনায় কারা উপস্থিত ছিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘জামায়াতের আমির, বিএনপির শীর্ষ নেতা, জাতীয় পার্টির নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ছিলেন। আওয়ামী লীগের কেউ ছিল না। সময় কম ছিল। যাদের পেয়েছি, তাদের বলেছি। হেফাজতে ইসলামের মামুনুল হক, জোনায়েদ সাকি ছিলেন। অধ্যাপক আসিফ নজরুল ছিলেন। তিনি কোটা সংস্কার আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বার্তাও দিয়েছেন। এখন ছাত্রদের কাজ শান্ত হওয়া ও আমাদের সাহায্য করা।’

সেনাবাহিনী শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ চালিয়ে যাবে উল্লেখ করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘সবার দায়িত্ব সেনাবাহিনীকে সাহায্য করা। পরিস্থিতি শান্ত হলে কারফিউ বা জরুরি অবস্থার প্রয়োজন নেই। আমি আদেশ দিয়েছি, কোনো গোলাগুলি হবে না। সেনাবাহিনী, পুলিশ কোনো গুলি চালাবে না। আশা করছি, এই বক্তব্যের পর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’

সেনাপ্রধান আন্দোলনরত ছাত্র–জনতা সবাইকে ঘরে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

খুলনায় আন্দোলনে নিহত কচুয়ার পুলিশ কনস্টেবল সুমন ঘরামীকে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় পুলিশ কনস্টেবল সুমন ঘরামী(৩৩)কে রাস্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। শনিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মালিপাটন গ্রামে নিজ বাড়িতে সমাহিত করা হয়।

খুলনায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষের সময় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। সে বীর মুক্তিযোদ্ধা সুশীল ঘরামীর এক মাত্র ছেলে। নিহত সুমনের পরিবারে তার স্ত্রী, শিশু কন্যা ও বৃদ্ধ পিতা মাতা রয়েছে।

সুমনের বড়বোন সুমনা ঘরামী জানায়,সর্বশেষ তার ভাই মায়ের সাথে শুক্রবার সকালে কথা হয়েছিল।এর পর কোন কথা হয়নি।এসময় তিনি তার ভাইয়ের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।

পুলিশ কনস্টেবল সুমন ঘরামীর মৃত দেহ হস্তান্তরকারী খুলনা পুলিশ কমিশনার অফিসের পক্ষ থেকে জানায়, গত শুক্রবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা ছাত্র-জনতার গণমিছিল কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ কনস্টেবল সুমনকে বেধড়ক মারধর করেন বিক্ষোভকারীরা। মুমূর্ষু অবস্থায় তাঁকে খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়েগেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মেহেদি হাসান বাবু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাখী ব্যানার্জী,থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মোহাসীন হোসেন, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি অধ্যক্ষ মোঃ সাইফুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক কামরুল ইসলাম কচি, গোপালপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ লিটন মোল্লা সহ বীর মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

রূপসায় জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদ্বোধন করলেন এমপি সালাম মূর্শেদী

এম মুরশীদ আলী :

‘ভরবো মাছে মোদের দেশ, গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ’ এই প্রতিপাদ্য নিয়ে রূপসা মৎস্য অফিস কর্তৃক গতকাল ৩০ জুলাই শুরু হয়েছে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ-২০২৪ এবং চলবে ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এ উপলক্ষে গত ৩১ জুলাই সকালে র‌্যালী শেষে মৎস্য পোনা অবমুক্তকরণ এবং উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান রূপসা উপজেলা অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা- ৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী। তিনি বলেন- মৎস্য সম্পদের সুরক্ষা ও সমৃদ্ধি অর্জনে প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদন বাড়ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ চীনকে টপকিয়ে মিঠা পানির মাছ উৎপাদনে দ্বিতীয় হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাছ উৎপাদনে আমরা রূপসাবাসী দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে থাকবো বলে আশা করি। এমপি বলেন- মাছ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে খামার যান্ত্রিকীকরণের পাশাপাশি অত্যাধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় মৎস্য চাষ প্রযুক্তির ব্যবহার করে প্রতিটি পর্যায়ে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। সামুদ্রিক মাছের আহরণ, বিপণন ও আন্তর্জাতিক বাজার সৃষ্টি করতে পারলে মৎস্য খাত বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমানে বিশ্বের ৫০টিরও অধিক দেশে বাংলাদেশ মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে থাকে। বিশ্ববাজারে আর্থিক মন্দাবস্থা থাকা সত্ত্বেও বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। আমাদের আরো বেশী অর্জন করতে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম হাবিবুর রহমান, রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. এনামুল হক, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সারমিন সুলতানা রুনা, উপজেলা প্রকৌশলী এস. এম ওয়াহিদুজ্জামান প্রমূখ।

সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক করেন- সিনিয়র উপজেলা মৎস‍্য কর্মকর্তা বাপী কুমার দাস। তিনি বলেন- মৎস্য উৎপাদন বাড়ায় মাথাপিছু দৈনিক মাছ গ্রহণ ৬০ গ্রাম চাহিদার বিপরীতে বৃদ্ধি পেয়ে ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রামে উন্নীত হয়েছে। দেশের কৃষিজ জিডিপির ২২ দশমিক ২৬ শতাংশ মৎস্য উৎপাদন খাতের অবদান। দেশের প্রায় ১২ শতাংশের অধিক মানুষ মৎস্য খাতের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত থেকে জীবিকা নির্বাহ করে। এজন্যে রূপসার মানুষদের আরো উদ্বুদ্ধ করতে গত ৩০ জুলাই রূপসার কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা করেন।

সভায় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন- প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ প্রদীপ কুমার মজুমদার, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফারহানা ইয়াসমিন, সহকারি প্রোগ্রামার ইমরান হোসেন, আনসার ভিডিপি (ভারপ্রাপ্ত) কর্মকর্তা বিপুল গাজী, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মণ্ডল, উপজেলা হাট-বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জুলফিকার আলী, মডেল মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ফুয়াদ উদ্দিন সহ মৎস্য চাষিগণ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সভায় ৯জন ক্লাষ্টার মৎস্য চাষিকে সম্মাননা ক্রেষ্ট দেওয়া হয়।

Daily World News

আগামীদিন থেকে সব অফিস স্বাভাবিক সময়ে চলবে: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

আগামীদিন থেকে সব অফিস স্বাভাবিক সময়ে চলবে: জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

কোটা আন্দোলনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে কয়েক দিন বন্ধ এবং আরও কয়েক দিন সীমিত সময় অফিস চলার পর আগামীকাল বুধবার থেকে আবারও স্বাভাবিক সময়ের মতো অফিস চলবে। আজ মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা এ তথ্য জানান।

কোটা আন্দোলনকে ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কারফিউ জারি হওয়ায় ২১–২৩ জুলাই সাধারণ ছুটি দিয়েছিল সরকার। কিন্তু কারফিউ শিথিল হওয়ার পর সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোও খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তবে স্বাভাবিক সময়ের মতো অফিস চলেনি। অফিস চলেছে সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত।

তিন দাবি সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে কোটা আন্দোলনকারীরা

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

অতিদ্রুত শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে একটা স্বাধীন কমিশন করে কোটা সংস্কার বিষয়ে এর সুপারিশ অনুযায়ী সংসদে আইন প্রণয়ন করা, গ্রেফতার হওয়া ছাত্রদের মুক্তি দেওয়াসহ সব মামলা প্রত্যাহার করা এবং ‘হত্যাকাণ্ডের’ সঙ্গে জড়িত পুলিশ ও মন্ত্রীদের বরখাস্ত করা- এই তিন দাবি সামনে রেখে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাদের এই বিষয়গুলো মেনে না নিলে বাংলা ব্লকেডের চেয়েও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন সংগঠনের নেতারা।

এছাড়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণে রোববার গণসংযোগ ও প্রতিবাদী গ্রাফিতিও আঁকবেন তারা।

শনিবার রাতে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম গুগল মিটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করেন সংগঠনের সমন্বয়ক মো. আবদুল হান্নান মাসউদ।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সমন্বয়ক মাহিন সরকার এবং সহ–সমন্বয়ক রিফাত রশীদ।

আন্দোলন-সহিংসতা-কারফিউ || দেশে অর্থনীতিতে ক্ষতি ৭৭ হাজার কোটি টাকা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

কোটাবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, ইন্টারনেট বন্ধ ও নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটির কারণে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে স্থবিরতা নেমে আসে। আমদানি-রপ্তানিসহ শিল্পের চাকা বন্ধ হয়ে যায়। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলও বাধাগ্রস্ত হয়। এসব কারণে অর্থনীতিতে প্রতিদিন গড়ে ১০০ কোটি ডলার বা ১১ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত টানা ৬ দিন প্রায় সবকিছুই বন্ধ ছিল।

এ হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ৬০০ কোটি ডলার বা ৭০ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা থেকে ও ১৭ জুলাই আধাবেলা আন্দোলনের কারণে আংশিক বন্ধ ছিল। এ দুই দিনের আধাবেলার ক্ষতি ৫০ কোটি ডলার বা ৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এ হিসাবে সাড়ে ৬ দিনে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় ৭৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। তবে অনেকের মতে, এ ক্ষতি ৭০০ কোটি ডলার বা ৮২ হাজার ৬০০ কোটি টাকাও হতে পারে।

দেশের শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ, গবেষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। ব্যবসায়ীরা আরও বলেছেন, ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হবে। কারণ ডলারের দাম ১১৮ টাকা করে ধরলে ওই পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে। কিন্তু ডলার ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। এ কারণে ক্ষতির পরিমাণ টাকার অঙ্কে আরও বাড়বে। সৃষ্ট ক্ষতি মোকাবিলার জন্য তারা সব বন্দরের পণ্য খালাসে দেরি হওয়ায় ডেমারেজ চার্জ মওকুফ, নতুন চার্জ আরোপ না করা, ঋণের বিপরীতে বাড়তি সুদ আরোপ না করা, কম সুদে ঋণ দেওয়াসহ অন্যান্য নীতিসহায়তার দাবি করেছেন। একই সঙ্গে রপ্তানি আয় বিদেশ থেকে আমান মেয়াদ বৃদ্ধি, দেশীয় ও বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি করেছেন।

এদিকে চট্টগ্রাম ব্যুারো জানায়, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে মোট আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়। ফলে এ বন্দরের কার্যক্রম টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি কার্যক্রম ও পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় এ খাতে পাঁচ দিনে ক্ষতি হয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম কাস্টমসই ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

এ পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, অর্থনীতির চাকা বন্ধ হলে ক্ষতি হতেই থাকে। এই চাকা এক মুহূর্তেই বন্ধ করা যায়। কিন্তু চালু করতে সময় লাগে। ফলে ক্ষতির পুরো হিসাব এখনই করা যাবে না। তবে ক্ষতির অঙ্ক অনেক বড় হবে। গবেষণায় গড় হিসাবে প্রতিদিন অর্থনৈতিক ক্ষতি প্রায় ১০০ কোটি ডলার হবে। টানা ছয় দিন বলতে গেলে সবকিছুই বন্ধ ছিল। সাড়ে ৬৫০ কোটি থেকে ৭০০ কোটি ডলারের ক্ষতি হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিটা সবচেয়ে বেশি হয়েছে সাধারণ মানুষের। বিশেষ করে যারা ‘দিন আনে দিন খায়।’ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্ষতির পরিমাণটা আরও বেড়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তারাও অনেক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অর্থনীতি এমনিতেই করোনার পর থেকে বহুমুখী চ্যালেঞ্জের ভেতর দিয়ে এগোচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দায় এ চ্যালেঞ্জ আরও বাড়িয়েছে। সাম্প্রতিক অস্থিরতায় অর্থনীতিতে চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে।

তার মতে, এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে দেশের ইমেজ। দেশের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যেসব বিদেশি উদ্যোক্তা ব্যবসা করছেন তারা অনিশ্চয়তায় ভুগবেন। ফলে এ ধরনের সংকট যাতে না হয় সেদিকে সরকারকে নজর রাখতে হবে।

উদ্যোক্তারা জানান, সৃষ্ট অস্থিরতায় রপ্তানি খাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। একদিকে কারখানায় উৎপাদন বন্ধ ছিল। অন্যদিকে ক্রেতাদের আদেশ অনুযায়ী রপ্তানি করা সম্ভব হয়নি। এতে এ খাতে এখনকার ক্ষতির চেয়ে আগামীতে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। এখন পর্যন্ত উৎপাদন ও রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গত ৬ দিনের হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এছাড়া বিভিন্ন চার্জ ও ঋণের সুদ ও রপ্তানি পণ্য স্টক লট হলে কম দামে বিক্রি করতে হবে। তখন ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নিটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, রপ্তানির সব খাতেই ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতির পরিমাণ আগামীতে আরও বাড়বে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে ইমেজ সংকট। ক্রেতা ধরে রাখাটা এখন বড় চ্যালেঞ্জিং। কারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে ক্রেতা ধরে রাখতে পণ্য এখন বিমানে পাঠাতে হবে। এতে খরচ বাড়বে। যা রপ্তানিকারকদের ক্ষতির তালিকায় পড়বে।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়. আমদানি কার্যক্রম ও পণ্য ডেলিভারি বন্ধ থাকায় এ খাতে পাঁচ দিনে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। টাকার অঙ্কে এই ক্ষতির পরিমাণ কত তা  সুনির্দিষ্ট করে  বলা না গেলেও ক্ষতির অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন আমদানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে কেবল চট্টগ্রাম কাস্টমসই ৯০০ কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। সে হিসাবে প্রতিদিন গড়ে ১৮০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। কোটা সংস্কার আন্দোলন, সংঘর্ষ ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় দুর্বৃত্তদের হামলার জেরে বৃহস্পতিবার রাত থেকে বন্ধ হয়ে যায় ইন্টারনেট পরিষেবা। শুক্রবার রাত ১২টার পর থেকে জারি করা হয় কারফিউ। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ হওয়ার কারণে কাস্টমসের রাজস্ব আদায়ের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমও বন্ধ হয়ে যায়।  তাই শুল্ক আদায়ও বন্ধ হয়ে যায়। বন্ধ হয়ে যায় পণ্য ডেলিভারি। বুধবার থেকে ম্যানুয়ালি এবং বৃহস্পতিবার থেকে ইন্টারনেট সেবা চালু হওয়ার পর পুরোদমে বন্দর-কাস্টমসে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুক্রবার থেকে মঙ্গলবার পর্যন্ত শুল্কায়ন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় প্রতিদিন গড়ে ১৮০ কোটি টাকা করে ৫ দিনে ৯০০ কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয় সরকার।  প্রতিদিন আমদানি পণ্য ছাড়ের জন্য ৪-৫ হাজার বিল অব এন্ট্রি (বিই) দাখিল হতো। ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকার কারণে এসব পণ্যের বিএই দাখিল করা যায়নি। এ ছাড়া প্রতিদিন চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৮-১০ হাজার ট্রাক-কাভার্ডভ্যান, লরি পণ্য নিয়ে বের হয়।

এই পাঁচ দিন কোনো পণ্য ডেলিভারি হয়নি। শিল্পের কাঁচামাল না পাওয়ায় শত শত মিল-কারখানায় বন্ধ ছিল উৎপাদন। স্টিল সেক্টর, সিমেন্ট সেক্টরসহ প্রায় সব সেক্টরেই পড়েছে এই প্রভাব। এছাড়া বন্দর থেকে সময়মতো পণ্য ছাড় করতে না পারায় আমদানিকারকদের ওপর উঠেছে পোর্ট ও শিপিং লাইনের বিপুল অঙ্কের ডেমারেজ। বন্দরে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৬-৭ হাজার কনটেইনার জমে যায়।

চট্টগ্রাম চেম্বার সভাপতি ওমর হাজ্জাজ যুগান্তরকে বলেন, পাঁচ দিন সব কিছু বন্ধ থাকার কারণে কেবল আমদানি খাতেই কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট করে টাকার অঙ্কে এই ক্ষতি নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তবে বন্দর-কাস্টমসহ সব সেক্টরে প্রতিদিন গড়ে ১২ হাজার থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক ক্ষতি হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর ও কাস্টমস পুরোদমে কাজ শুরু করেছে। উদ্ভুত পরিস্থিতির কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যের যে ক্ষতি হয়েছে তা কাটিয়ে উঠতে করণীয় নির্ধারণে চেম্বার বৃহস্পতিবার সব সেক্টরের প্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক থেকে বলা হয়েছে, বড় ধরনের বিপদ থেকে দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।  আর একটি সেকেন্ডও যাতে ওয়েস্টেজ না হয় সেভাবে সবাইকে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহŸান জানানো হয়। এ ক্ষেত্রে সরকার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ফ্রেইট ফরওয়ার্ডারস অ্যাসোসিয়শনের সহসভাপতি ও শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পরিচালক খাইরুল আলম সুজন যুগান্তরকে বলেন, ‘পণ্য নিয়ে অনেক জাহাজ এলেও চার দিনে খালাস করতে পারেনি। পণ্য ডেলিভারি না হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে জমে যায় বাড়তি ৬-৭ হাজার কনটেইনার। পণ্য না পেয়ে মিল-কারখানায় উৎপাদন বিঘিœত হয়েছে। যার ভয়াবহ প্রভাব ভোক্তাদের ওপর পড়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সফটওয়্যার রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। অফিস বন্ধ থাকায় সফটওয়্যার তৈরির কাজও করা সম্ভব হয়নি। এসব কারণে গত ৫ দিনে এ খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। দেশ থেকে যারা সফটওয়্যার বা তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য কিনেছেন তাদের রপ্তানিকারকরা বিভিন্ন সেবা দিয়ে থাকেন অনলাইনে। কিন্তু ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় এ সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। ফলে সেবা বাবদ অর্থও মিলবে না।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ সফটওয়্যার ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি রাসেল টি আহমেদ বলেন, ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় ক্রেতাদের সেবা দেওয়া সম্ভব হয়নি। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণে ক্রেতারা সেবা না পাওয়ায় তাদেরও ক্ষতি হয়েছে। এতে দেশের ইমেজ নষ্ট হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে দেশ থেকে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিতে জটিলতা দেখা দিতে পারে। কারণ এসব পণ্য রপ্তানির পর পরিচালনার ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সেবা দিতে হয়।

জানা গেছে, ওষুধ উৎপাদন, রপ্তানি ব্যাহত, কাঁচামাল ছাড় করাতে না পারায় ফার্মাসিউটিক্যালস খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকা। এ খাতে যেসব কাঁচামাল বন্দরে আটকে ছিল সেগুলোর গুণগত মান কমার আশঙ্কা রয়েছে। কারণ এ খাতের সবকিছুই চলে ঘণ্টা গুণে।

রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সিরামিক খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। রি-রোলিং মিলস খাতে শুধু উৎপাদন ক্ষতি হয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। ই-কমার্স খাতে ক্ষতি হয়েছে ৩০০ কোটি টাকা। ইন্টারনেট না থাকায় দেশের কলসেন্টারগুলোর কার্যক্রম একেবারেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। ৫ দিনে এ খাতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

গণপরিবহণ না চলার কারণে এ খাতেও অনেক ক্ষতি হয়েছে। অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের কারণে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ কোটি টাকা। এছাড়া গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় এ খাতেও মোটা অঙ্কের ক্ষতি হয়েছে।

কৃষির উৎপাদন ব্যবস্থায় তেমন ক্ষতি হয়নি। তবে বিপণন ব্যবস্থায় ক্ষতি ব্যাপক হয়েছে। কারফিউর কারণে পণ্য পরিবহণ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কৃষকের পণ্য পচে নষ্ট হয়েছে।

ছাত্রসমাজ ন্যায়বিচার পাবে, রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরুন:  প্রধানমন্ত্রী

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেছেন, আমার বিশ্বাস, আমাদের ছাত্রসমাজ উচ্চ আদালত থেকে ন্যায়বিচারই পাবে। তাদের হতাশ হতে হবে না, ইনশাআল্লাহ।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।

কোটা সংস্কারের বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সরকার সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আদালত আপিল শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।আদালত শিক্ষার্থীদের কোনো বক্তব্য থাকলে তা শোনার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এই আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও রাস্তায় আন্দোলনে নেমে দুষ্কৃতকারীদের সংঘাতের সুযোগ করে দেবেন না। সর্বোচ্চ আদালতের রায় আসা পর্যন্ত ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করার জন্য আমি সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানাচ্ছি।

তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে সবার সহযোগিতায় স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলব। আমি আবারও এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছি এবং পরিবারের সদস্যদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাচ্ছি।

একই সঙ্গে কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে হত্যাকাণ্ডসহ সব ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী।

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে মো. জালাল উদ্দিন শাহ নামে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ মামলাটি দায়ের করেন সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর সহকারী পরিচালক মুসাব্বির আহমেদ। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ১ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪ টাকার সম্পদ ও ভোগ দখলে রাখার অভিযোগ করা হয় মামলায়। আসামি জালাল উদ্দিন শাহ আনোয়ারা থানার বোয়ালিয়া এলাকার মেসার্স সাদিয়া মৎস্য হ্যাচারী ও পারকি রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের মালিক। দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-২ এর উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, দুদকের নোটিশ পেয়ে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর জালাল উদ্দিন শাহ সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। এতে তিনি ১ কোটি ৫৮ লাখ ৬৬ হাজার ২০ টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৩৫ লাখ ১১ হাজার ৭৪৮ টাকা মূল্যের অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য দেন। দুদক তার দেওয়া সম্পদ বিবরণী যাচাই করলে জানতে পারে, জালাল দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে সম্পদের তথ্য গোপন না করলেও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের তথ্য পায় দুদক।

তার নামে দায় বাদে ১ কোটি ৭৮ লাখ ৭৭ হাজার ৭৬৮ টাকার নিট স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে এবং একই সময়ে তিনি ১৩ লাখ ৪০ হাজার ১৬৬ টাকার পারিবারিক ব্যয়সহ অন্যান্য ব্যয় করেছেন। ব্যয়সহ তার নামে মোট অর্জিত নিট সম্পদের পরিমাণ ১ কোটি ৯২ লাখ ১৭ হাজার ৯৩৪ টাকা।

সম্পদের বিপরীতে তার বৈধ বা গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৭০ লাখ ৭১ হাজার ৯১০ টাকা। এক্ষেত্রে তার অর্জিত সম্পদের চেয়ে তার বৈধ আয়ের উৎস ১ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪ টাকা কম পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ব্যবসায়ী জালাল তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ২১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪ টাকার সম্পদ ও ভোগ দখলে রেখে দুদক আইনের ২৭ (১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

দায়িত্ব নিলেন সিএমপি কমিশনার সাইফুল ইসলাম

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ৩২ তম কমিশনার হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছের হয়েছেন উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. সাইফুল ইসলাম।বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সিএমপি হেডকোয়ার্টার্সে  আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি যোগদান করেন।

এ সময় সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নবনিযুক্ত সিএমপি কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। পরবর্তীতে নগরের সিএমপি সদরদপ্তরে পুলিশের একটি চৌকশ দল সশস্ত্র সালাম প্রদান করেন।

সিএমপি কমিশনার পুলিশ লাইন্সের জনক চত্বরে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এসময় অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) আ স ম মাহাতাব উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) আবদুল মান্নান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো. মাসুদ আহাম্মদ ও উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. আব্দুল ওয়ারীশসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে, গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ শাখার উপ সচিব সিরাজাম মুনিরা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সিএমপির ৩২তম কমিশনার হিসেবে উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মো. সাইফুল ইসলামকে পদায়ন করা হয়।

প্রসঙ্গত, সদ্য বিদায়ী সিএমপি কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি কৃষ্ণ পদ রায়কে ২০২২ সালের ৩০ জুন সিএমপি কমিশনার হিসেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ পুলিশ-১ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে পদায়ন করা হয়েছিল।