স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর অধীন (আরই আর এম পি -৩) প্রকল্পের আওতায় নারী কর্মিদের সঞ্চিত অর্থের চেক ও সনদপত্র বিতরণ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় স্থানীয় সরকার  প্রকৌশলী অধিদপ্তর এর অধীনে ( আর আর এম পি -৩) প্রকল্পের নারী কর্মীদের সঞ্চিত অর্থের চেক সনদ বিতরন উপলক্ষে  ১৮ আগষ্ট সোমবার দুপুরে , ডুমুরিয়া উপজেলা  প্রকৌলশী দপ্তরের আয়োজনে  শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে এক  অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত  হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন,  এর সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে প্রধান  অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন  স্থানীন সরকার প্রকৌশলী দপ্তরেরর  নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ কামরুজ্জামান সরদার, স্বাগত বক্তব্য দেন  উপজেলা প্রকৌশলী মোহাঃ রবিউল ইসলাম,  উপস্থিত ছিলেন  উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা এস এম কামরুজ্জামান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বিশ্বাস,  সহকারী প্রকৌশলী ফেরদৌস, প্রমুখ।।

আলোচনা সভা শেষে  নারী কর্মীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩‘শ ৭৩ টাকার চেক প্রদান করা হয়। ৪ বছরে উপজেলার ১৪ইউনিয়নের ১৪০ জন নারী কর্মীদের মধ্যে মোট ১ কোটি ৬৮লাখ ১২ হাজার ৮‘শ ৬১ টাকার সঞ্চিত অর্থের চেক প্রদান করা হয়।

অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে কাজ করছে

//এম মুরশীদ আলী//

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রূপসা উপজেলা শাখার আয়োজনে উপজেলা পর্যায়ে সকল সাংবাদিক ও সুধিজনদের সাথে মতবিনিময় সভা গত ১৮ আগষ্ট বিকাল ৩ টায় কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন-  জামায়াত ইসলামী রূপসা উপজেলার শাখার আমির মাওলানা মো. লাবিবুল ইসলাম। তিনি বলেন- অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে কাজ করছে। আমাদের নিবন্ধন বাতিল করে আওয়ামীলীগ দেশ ছাড়া হয়েছে। তাদের রাজনীতির কারনে তাদের কোন নেতাকর্মীকে এখন মাঠে পাওয়া যাচ্ছে না। দেশের তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে জামায়াতে ইসলামী কাজ করবে। উপজেলা পর্যায়ে সাংবাদিক ও সুধিজনের সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে কাজ করছে

এ সময় স্বাগত বক্তৃতা করেন প্রভাষক আসাদুজ্জামান।

সভায় শিক্ষক আঃ কাদেরের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন- জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হাবিবুল্লাহ ভূইয়া ইমন, সহ সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসমাইল হোসেন, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক মো. আনোয়ার আলী, রূপসা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, জামায়াত ইসলামীর কর্মপরিষদ ও সূরা সদস্য নেতা হাফেজ মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মাওলানা হেকমত আলী, মাওলানা মো. মহিউদ্দিন, মো. সেলিম রেজা, অধ্যাপক আসাদুজ্জামান, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. ইকবাল আমির, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, রেজাউল ইসলাম, হাফেজ মো. সাইফুল ইসলাম, নাসিম সরদার, মো. সিরাজুল ইসলাম, মো. আঃ কাদের, ডাঃ মো. সাইফুল ইসলাম, হাফেজ মাওলানা গোলাম রসুল, মো. আল আমিন, মো. নাসিম সরদার, ডাঃ মো. রেজাউল কবির খান, মাওলানা মামুনুর রশিদ, মো. ফরিদ শেখ, ছাত্র শিবির নেতা মো. ইসমাইল হোসেন, সৌরভ ইসলাম, প্রান্তবিন আলম, নাহিদুল ইসলাম ইমন, হাসান মীর্জা, ইমাম হুসাইন, যোবায়ের হোসেন, তামিম ইসলাম, ওয়াসিফ হোসেন প্রমূখ।

সভায় রূপসা প্রেস ক্লাব, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাব ও প্রেসক্লাব রূপসার বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ এবং সুধিজন উপস্থিত ছিলেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষায় ভারতের শিক্ষার্থীরা কেন বাংলাদেশে পড়তে আসে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বাংলাদেশে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসা ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, এখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের সুদীপ্ত মাইতি। তিনি বছর চারেক আগে বাংলাদেশে পড়তে যান। সে সময় যত ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ছিলেন, তার চেয়ে এখন সংখ্যাটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ধারণা, সংখ্যাটা বেশ কয়েক হাজার হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ভারতীয় সংসদে জানান, ৯ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ছেন। বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতে তাঁদের বড় অংশই গত জুলাইয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন।

সুদীপ্তর মতে, এই ভারতীয় শিক্ষার্থীর বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ যাওয়া-আসার সুবিধা।

সুদীপ্ত বলেন, ‘এই গন্ডগোলের সময়েও আমরা আখাউড়া থেকে আগরতলা হয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় চলে এলাম। সেখান থেকে আমার বাড়ি মেদিনীপুরে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগল। এটা অন্য দেশ হলে সম্ভব হতো না।’

অন্য দেশ বলতে রাশিয়া, ইউক্রেন, চীনসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কথা বুঝিয়েছেন সুদীপ্ত। এসব দেশেও পড়তে যান ভারতের শিক্ষার্থীরা। এসব দেশেও পড়ার খরচ অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু এসব দেশের ক্ষেত্রে এত দ্রুত যাওয়া-আসা করা যায় না।

সুদীপ্তর কথায়, অন্যত্র যাওয়া-আসার অসুবিধার পাশাপাশি ভাষার সমস্যাও রয়েছে। আর খাওয়াদাওয়ার সমস্যা তো আছেই। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা এখন এতই ভালো যে প্রায় সব জায়গা থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরে আসা যায়। সম্ভবত এ কারণে ভারত থেকে এত শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে পড়াশোনা প্রসঙ্গে কাশ্মীরের এক ছাত্রী, যিনি নিজেকে শুধু ‘কাজি’ নামে পরিচয় দিতে ইচ্ছুক, তিনি বললেন, ‘পড়ার সুযোগ ও খরচ—দুটিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী কাজি বললেন, ‘আমি ২০১৯ সালে ঢাকার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য বাংলাদেশে যাই। তখন কাশ্মীরে মাত্র দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। আর কোনো প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এখানে ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ সে সময় অনেকগুলো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। যে কারণে আমি ও আমার অনেক বন্ধু বাংলাদেশে পড়তে যাই।’

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তিতে সহায়তা করেন কলকাতার শিক্ষা পরামর্শদাতা কাজী মহম্মদ হাবিব। তাঁর সংস্থা চেকমেট ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাঁদের পড়তে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করাসহ কলেজ পর্যন্ত যেতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করে।

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। দেশটিতে দ্রুত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়েছে, বাড়ছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি। তবে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আগামী কয়েক বছর হয়তো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে এই দুই সংকট কাটলে আবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়বে। তখন দেশটিতে ভারতীয় শিক্ষার্থী যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।

বড় কারণ খরচ কম

বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে কম খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেন কাশ্মীরের ছাত্রী কাজি ও তাঁর আরেক বন্ধু।

কাজি বলেন, ভারতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়তে এক কোটি রুপির মতো খরচ পড়ে। আর আনুষঙ্গিক সব খরচ ধরলে ব্যয় কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সব মিলিয়ে মোটামুটিভাবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ রুপি সমমানের খরচে পড়াশোনা শেষ করা যায়।

সুদীপ্ত বলেন, ঢাকার মতো প্রধান শহরের বাইরে ছোট উপশহরে এই খরচ দাঁড়ায় ৩০-৩৫ লাখ রুপির সমপরিমাণ।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজে সুদীপ্তর চেয়ে এক বছরের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিত আনোয়ার। তাঁর ভাষ্য, মূলত খরচ কম বলেই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেখানে পড়াশোনার মান খারাপ।

একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী যদি বিদেশে মেডিকেল অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন, তাহলে দেশে ফিরে তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েশন এক্সামিনেশন (এফএমজিই) পাস করতে হয়। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে পড়ে এলে এ ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।

যেসব শিক্ষার্থী মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বা রাশিয়া থেকে পড়ে আসেন, তাঁদের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পড়ে আসা শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সংখ্যায় এফএমজিই পাস করেন বলে জানান বাসিত। তাঁর মতে, এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো উভয় দেশের পাঠ্যক্রম মূলত একই। ভারতে তাঁরা যে বই পড়েন, বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই বই পড়তে হয়। শিক্ষকদের অনেকে ভারতে পড়েছেন। তাঁরা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন। তাঁরা জানেন, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে এফএমজিই পরীক্ষায় বসতে হবে। ভারতে প্র্যাকটিস করার জন্য। ভারতের চাহিদা সম্পর্কে এই সচেতনতার কারণে এখানকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া পছন্দ করেন।

এফএমজিই পরীক্ষায় পাস করাটা অবশ্য খুব একটা সমস্যার নয় বলে মনে করেন বাসিত। মোট ১৯টি বিষয় নিয়ে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় ১৫০ নম্বর পেলেই চিকিৎসক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাসিত জানান, এখানে কোনো নেগেটিভ নম্বর দেওয়া হয় না। এটা অন্য সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো নয়, যেখানে যাঁরা বেশি নম্বর পাবেন, তাঁরাই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে পারবেন। এখানে ১৫০ নম্বর পেতে হবে। তাহলেই একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা রাখার প্রধান কারণ দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তাই এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়। আর একেকজন অনেকবার এফএমজিই দিতে পারেন। ফলে শেষ পর্যন্ত পাস করাটা খুব সমস্যা নয়।

তবে এ ক্ষেত্রে অন্য একটি সমস্যা রয়েছে বলে জানালেন বাসিত। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের যে অংশটা থিওরি (তত্ত্ব), সেই অংশটা প্রায় পুরোপুরি ভারতের পাঠ্যক্রমের মতো। তবে প্র্যাকটিক্যাল (ব্যবহারিক) অংশটায় কিছু সমস্যা আছে। এখানে হয়তো কিছুটা কম সময় দেওয়া হয়, যার ফলে বিষয়টা পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। তবে ভারতে ফিরে এফএমজিই দিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করতে শুরু করেন, তখন এই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।’

বাসিতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেন তাঁর অন্য বন্ধুরাও।

বেশি শিক্ষার্থী ভারতের

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৩ হাজার ১০০ আসন আছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ভারতের।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ১ হাজার ৬৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী সে দেশে মেডিকেলে পড়তে গেছেন। নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান থেকে গেছেন যথাক্রমে ২৬৪ জন, ১২ জন ও ২ জন। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফিলিস্তিন থেকে গেছেন একজন করে শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ২২০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে পাঠাতে পারে ভারত।

মহম্মদ হাবিব মনে করেন, বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের বিস্তারের ফলে সার্কভুক্ত দেশের যেমন লাভ হয়েছে, তেমনি লাভ হয়েছে বাংলাদেশেরও। সে দেশে এমবিবিএস পড়ার খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৫০ লাখ রুপির সমপরিমাণ। সুতরাং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা ভালো অঙ্কের অর্থ আয় করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মেডিকেলে ভারতীয় শিক্ষার্থী যখন বাড়ছে, তখন আবার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী ভারতে চিকিৎসার জন্য আসছেন। কেন এমনটা হচ্ছে, এটা একটা বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ হাবিব বলেন, এখানে একটা দিক হলো চিকিৎসা অধ্যয়ন, অপরটি হলো চিকিৎসাসেবা। বাংলাদেশে বিশেষত চিকিৎসাশিক্ষার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবায় তারা এখনো পিছিয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে আসেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি অন্য বিষয়েও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে দেখা যাচ্ছে। যেমন পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের কথা বলা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি ফটোগ্রাফি, ভিডিও, টেলিভিশন, ফিল্ম আর্টের চর্চা করে। এখানে ছয় মাসের কোর্স করে দেশে ফিরেছেন পশ্চিমবঙ্গের সুপর্ণা নাথ। তিনি বলেন, পাঠশালা একটি ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।

ভারতীয় শিক্ষার্থীসহ বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এসেছেন। তাঁরা আন্তরিক উষ্ণতা পেয়ে এসেছেন। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের জেরে তাঁদের যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। রাতের অন্ধকারে দেশে ফেরার জন্য তাঁদের অ্যাম্বুলেন্স করে বিমানবন্দরে ছুটতে হয়েছিল। পথে নানান মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়েছে। তবে তাঁরা এখন আশা করছেন, শিগগিরই বাংলাদেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। তাঁরা বাংলাদেশে গিয়ে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন।

Daily World News

প্রথম আলো

রয়টার্সকে রাজনৈতিক দল খোলার কথা বলিনি : সমন্বয়ক মাহফুজ আলম

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক মাহফুজ আলম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পক্ষ থেকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে রাজনৈতিক দল খোলার কথা বলা হয়নি।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) রাতে এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন তিনি।

মাহফুজ আলম বলেন, রয়টার্সে দেওয়া আমার বক্তব্য ভুলভাবে এসেছে। আর সে ভুল বক্তব্যের বাজে বা উদ্দেশ্যমূলক অনুবাদ বাংলাদেশি মিডিয়া প্রচার করেছে। রয়টার্সে আমার বক্তব্য ছিল, আমরা রাজনৈতিক সংগঠন নিয়ে এখনই ভাবছি না। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের জন্য আমরা কাজ করছি। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধরে রাখা এবং সরকারকে সংহত করা আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য। রাষ্ট্র ও সমাজের নানা অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে আমরা আগামী বাংলাদেশের রূপরেখা নিয়ে ও কাজ করব। এ কাজে অন্তত এক মাস লাগবে।

তিনি বলেন, আমাদের কথা রয়টার্সও লিখেছে এক মাস পর নির্ধারিত হবে, আমরা দল করব কি করব না! তবে, রয়টার্স একটি ভুল করেছে, নাগরিকদের বদলে তারা ভোটার শব্দটি ব্যবহার করেছে। অথচ, নির্বাচনী রাজনীতি নিয়ে আমাদের খুব কমই কথা হয়েছে। কৃষ্ণ কৌশিককে আমি লিখেছি, উনি হয়ত এটা এডিট করে দেবেন।

মাহফুজ বলেন, রয়টার্সের সাংবাদিক বারবার জিজ্ঞাসা করছিলেন, দ্বিদলীয়কাঠামো নিয়ে এবং তা উৎরে যেতে রাজনৈতিক দল করব কি না। আমি বলেছি, আমরা দল বা ব্যক্তি নয়, ব্যবস্থার সংস্কার চাচ্ছি। যাতে যে দলই আসুক তাকে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হয়। কিন্তু, এমনভাবে বলা হল যেন আমি মাইনাস টু চাচ্ছি। যেটা আমার উদ্দেশ্য না অবশ্যই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের এখনকার লক্ষ্য, রাজনৈতিক লড়াইকে সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে গঠনমূলক কাজের দিকে চালিত করা। উপযুক্ত সময়ে রাজনৈতিক গঠন/গড়ন কেমন হবে, তা সবাই জানতে পারবেন।

এক মাসের মধ্যে রাজনৈতিক দল গঠন করবেন শিক্ষার্থীরা – রয়টার্সের প্রতিবেদন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

দেশের গণআন্দোলনে সরকার পতনের পর এবার আলোচনায় নতুন রাজনৈতিক দল গঠন প্রসঙ্গ। কেননা প্রধান দুই রাজনৈতিক দলের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মাধ্যমে সূত্রপাত হওয়া বিক্ষোভ গণআন্দোলনে রূপ নেওয়ায় হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আলোচনা উঠেছে নতুন কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করবেন কিনা সমন্বয়করা। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) বার্তা সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের সব জায়গায় সংস্কার আনতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে আলোচনা করছেন তারা। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। আন্দোলনে জড়িত এমন একাধিক সমন্বয়কের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিতে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দাবি জানিয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের পতন আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তারা বলছেন, গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনা সরকার মানুষকে কঠিন দমন-পীড়ন চালিয়েছে। তারা আর এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি চান না।

রয়টার্স জানিয়েছে, তারা শিক্ষার্থী, রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বিশ্লেষকসহ অন্তত ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ এবং আবু বাকের মজুমদার নামের তিন সমন্বয়কও রয়েছেন। আন্দোলন চলাকালে তাদের আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সরকার পতনের বিষয়ে আবু বাকের মজুমদার বলেন, তাকে অন্যায়ভাবে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা আটক এবং মারধর করেছে। ফলে তিনি মুক্ত হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সময় শেখ হাসিনা সরকারের পতনের বিষয়ে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেন।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক নাঈম আবেদিন বলেন, ওই সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সহিংসতার ঘটনা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। তাদের জন্য তখন রাস্তায় নেমে আসা আমাদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি বলেন, আন্দোলনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের রাজপথে নামার বিষয়টি টার্নিং পয়েন্ট ছিল। এ সময়ে অপ্রত্যাশিতভাবে অনেক অভিভাবকও আন্দোলনে যোগ দেন।

গত ১ জুলাই থেকে দেশে শুরু হয় শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। এই আন্দোলন ১৫ জুলাই থেকে সহিংসতায় রূপ নেয়। ১৬ জুলাই সংঘর্ষে নিহত হন ছয়জন। ৫ আগস্ট পর্যন্ত এ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ৪৩৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর বাইরে গত ৬ আগস্ট পর্যন্ত আরও ১০৩ জনসহ দেশে মোট ৫৪২ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। ৭ আগস্টও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাওয়া যাওয়া আরও ২৬ জনের মরদেহ, যা নিয়ে আগস্টের ৭ তারিখ পর্যন্ত আন্দোলনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৬৮।

এর আগে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগ করে দেশত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়।

অন্তর্বর্তী সরকারে জায়গা করে নেন আন্দোলনের অন্যতম দুই সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম। এ সরকার গঠনের পর থেকেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। কিন্তু আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ও অন্তর্বর্তী সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। তবে তাদের এ দাবি আমলে নিচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকার।

আন্দোলনে মুখ্য ভূমিকায় থাকা মাহফুজ আলম নামের এক শিক্ষার্থী জানান, দেশের মানুষ দুই রাজনৈতিক দলের ওপর ক্লান্ত-বিরক্ত। জনগণের আমাদের ওপর আস্থা রয়েছে। এজন্য নতুন রাজনৈতিক দল গঠন নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এক মাসের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। তবে তার আগে সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করতে চান তারা।

তাহমিদ চৌধুরী নামের আরেক সমন্বয়ক বলেন, নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। অসাম্প্রদায়িকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা হবে এ দলের মূল ভিত্তি।

নতুন দল গঠন প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, রাজনৈতিক ধারা পরিবর্তন হবে। কেননা এতদিন তরুণরা এ রাজনীতি থেকে বাদ পড়েছিলেন। তবে ছাত্রদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হয়নি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক বলেন, আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে আমরা এখন অজানা নদীতে এসে পড়েছি। এই অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতা কেমন হবে তাও বলা যাচ্ছে না। কেননা এই সরকার আইন মেনে হয়নি।

বাগেরহাটে থানার কার্যক্রম শুরু || আইন-শৃংখলা পুনরুদ্ধারে সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে: পুলিশ সুপার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটে আইন-শৃংখলা রক্ষায় কাজ করছে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও শিক্ষার্থীরা। বাগেরহাটের ৯টি থানাসহ পুলিশের সবকটি ইউনিট পুরো দমে কাজ শুরু করেছে।  সোমবার (১২ আগষ্ট) সকালে  বাগেরহাট শহরের বিভিন্ন স্থানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ টহল দেয় এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করে। শহরের গুরুত্তপূর্ন স্থানে দাড়িয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ আইন-শৃংখলা রক্ষায় সকলকে এক সাথে কাজ করার জন্য আহবান জানানো হয়। আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে সাধারন মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

এদিকে শিক্ষার্খীরা মোড়ে মোড়ে দাড়িয়ে ট্রাফিকের দায়িত্ব পালন করে। এসময় ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করলে তাদের ২ থেকে ৫ মিনিট দাড়িয়ে রাখতে দেখা গেছে।

শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, পুলিশ যখন মাঠে তাদের দায়িত্ব পালন করেনি তখন শিক্ষার্থীরা কাজ করেছে। সকলে মিলে একটি সুন্দর রাষ্ট্র গঠনে কাজ করছে।

বাগেরহাটের পুলিশ সুপার আবুল হাসনাত খান বলেন, বাগেরহাটের নয়টি থানাসহ পুলিশের সকল ইউনিট কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে নিয়মিত টহলসহ পুলিশের সকল কাজ পুরোদমে চালু রয়েছে। আইন-শৃংখলা পুনরুদ্ধারে পুলিশ ও জনগন একসাথে কাজ করতে হবে। সকলের সহযোগীতায় সুন্দর একটি বাগেরহাট গড়ার আসা করেন জেলা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা।

নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে রামপাল থানার মোমবাতি প্রজ্জ্বলন

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

সারাদেশে নিহত পুলিশ সদস্যদের স্মরণে বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ তাদের আত্মার মাগফিরাত ও মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করা হয়। রবিবার (১১ আগস্ট) রাত ৮ টায় রামপাল থানা কার্যালয় জুড়ে শতশত মোমবাতি প্রজ্জ্বলন ও একমিনিট নিরবতা পালনের মধ্যে দিয়ে নিহতদের স্বরণ করেছে রামপাল থানা পুলিশ।

স্বরণসভায় উপস্থিত ছিলেন,  রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাশ, ওসি (তদন্ত) বিধান কুমার বিশ্বাস, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম. এ. সবুর রানা, এসআই মো. রিফাজ উদ্দিন, কামাল হোসেন, লিটন কুমার বিশ্বাস, নিকুঞ্জ রায়, কাজী মোস্তাফিজুর রহমান, মঈনুর, মো. জাহিদুল ইসলাম, হুসাইন আহমেদ, চিন্ময় মন্ডল, কুমারেশ বিশ্বাস, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. তৌহিদুর রহমান শেখ, সাকিল নিয়াজ, মো. এমায়দুল ইসলাম, মো. ফজলুল করিম, পিযুষ কুমার হালদার, মিঠুন কুমার ঢালীসহ থানার সকল পর্যায়ের পুলিশ সদস্যবৃন্দ।

এসময় রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাশ জানান, সারাদেশে পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তদের নির্মম ও নৃশংসভাবে অসংখ্য নিরীহ পুলিশ সদস্যদের হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকান্ডের কারণে পরিবারের অনেক উপার্জনাক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারগুলো নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছে। আন্দোলনে দায়িত্বরত আহত ও নিহত সকল পুলিশ সদস্যের হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত চিহৃিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবিও করেছেন ওই কর্মকর্তা।

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার || কে কোন মন্ত্রণালয় থাকছেন…

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করেছেন। আজ শুক্রবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ–সংক্রান্ত তথ্য জানানো হয়।

নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়। গতকাল রাতে বঙ্গভবনে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তী সরকারের ১৪ জন শপথ নেন। আজ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের দায়িত্ব বণ্টন করা হলো।

দেখে নিন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়/বিভাগের দায়িত্ব কারা পেলেন—

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার || কে কোন মন্ত্রণালয় থাকছেন…

অন্তর্বর্তী সরকারে তিনজন উপদেষ্টা ঢাকার বাইরে থাকায় গতকাল শপথ নেননি। তাঁরা হলেন, সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা, চিকিৎসক বিধান রঞ্জন রায় ও নৌবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক-ই-আজম।

বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত || উপদেষ্টা পরিষদে যাঁরা আছেন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে বাংলাদেশের নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর বঙ্গভবনের দরবার হলে তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

এরপর অন্য উপদেষ্টাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি।

বাংলাদেশে নতুন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত || উপদেষ্টা পরিষদে যাঁরা আছেন

  1. বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ,
  2. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল,
  3. মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের সম্পাদক আদিলুর রহমান খান,
  4. সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এ এফ হাসান আরিফ,
  5. সাবেক পররাষ্ট্রসচিব তৌহিদ হোসেন,
  6. বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান,
  7. সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন,
  8. বেসরকারি সংস্থা উন্নয়ন বিকল্পের নীতিনির্ধারণী গবেষণার (উবিনীগ) নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আখতার,
  9. গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক নূর জাহান বেগম,
  10. বেসরকারি সংস্থা ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরশিদ,
  11. ইসলামী চিন্তাবিদ আ ফ ম খালিদ হাসান,
  12. বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম ও
  13. আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া,
  14. সাবেক রাষ্ট্রদূত সুপ্রদীপ চাকমা,
  15. জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার
  16. বীর প্রতীক ফারুক-ই-আজম।

উপদেষ্টাদের মধ্যে সুপ্রদীপ চাকমা, বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ও ফারুক-ই-আজম আজ ঢাকার বাইরে থাকায় শপথ নিতে পারেননি।

বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর অস্বীকৃতি শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়

রয়টার্স, ঢাকা ও নয়াদিল্লি

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বাংলাদেশে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দীর্ঘদিনের নেতা শেখ হাসিনা হঠাৎ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার আগের রাতে সেনাপ্রধান তাঁর জেনারেলদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সিদ্ধান্ত নেন কারফিউ বলবৎ রাখতে সেনারা বেসামরিক লোকদের ওপর গুলি চালাবেন না। বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে জানেন—এমন দুজন সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পরদিন সকালে শেখ হাসিনার সরকারি আবাস গণভবনে যান। প্রধানমন্ত্রীকে তিনি জানান, তিনি দেশজুড়ে যে কারফিউ ডেকেছেন, তা বাস্তবায়নে তাঁর সেনারা অপারগ। বিষয়টি সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে, এমন একজন ভারতীয় কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই ভারতীয় কর্মকর্তা বলেন, বার্তাটি পরিষ্কার ছিল, শেখ হাসিনার প্রতি আর সেনাবাহিনীর সমর্থন ছিল না।

ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যকার অনলাইন বৈঠকের বিশদ বিবরণ এবং শেখ হাসিনার কাছে দেওয়া বার্তা আগে প্রকাশিত হয়নি। ওই বৈঠক আর বার্তায় ফুটে উঠেছিল, তিনি সেনাবাহিনীর সমর্থন হারিয়েছেন।

এসব বিষয়ের ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকালে তিনি ভিন্নমত খুব কমই সহ্য করেছেন। গত সোমবার তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর তাঁর এমন বিশৃঙ্খল শাসনকাল আকস্মিকভাবে শেষ হয়ে গিয়েছিল।

গত রোববার দেশব্যাপী সংঘর্ষে কমপক্ষে ৯১ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হওয়ার পরে দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি করা হয়েছিল। জুলাইয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে প্রাণঘাতী দিন ছিল এটি।

বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনীর অস্বীকৃতি শেখ হাসিনার ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়
শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবন, সংসদ ভবন ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘিরে লাখো মানুষের জমায়েত। (বাঁয়ে) গণভবন ও (ডানে) সংসদ ভবন এলাকা। গত সোমবার বিকেলেছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী রোববার সন্ধ্যার আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি একে যেকোনো বিশৃঙ্খলার পর হালনাগাদ তথ্য নিতে নিয়মিত বৈঠক হিসেবে বর্ণনা করেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে আরও প্রশ্ন করলে তিনি বিস্তারিত জানাননি।

শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। তাঁর ছেলে ও উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদের মন্তব্য পাওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেতে গতকাল মঙ্গলবার রাতে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে সজীব ওয়াজেদ বলেন, ‘শেখ হাসিনা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এক দিন আগে। আমরা কয়েকজন শুধু জানতাম, তিনি ঘোষণা দেবেন, তিনি পদত্যাগ করছেন এবং সংবিধান অনুযায়ী যাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়, সেটাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। তবে যখন তারা ওই গণভবনের দিকে মার্চ করা শুরু করল, তখন আমরা ভয়ে বললাম, আর সময় নেই। তোমার এখনই বেরিয়ে যেতে হবে।’

বার্তা সংস্থা রয়টার্স শেখ হাসিনার শাসনের শেষ ৪৮ ঘণ্টার পরিস্থিতি বোঝার জন্য গত সপ্তাহের ঘটনাবলি সম্পর্কে অবগত চারজন সেনা কর্মকর্তা এবং এসব ঘটনা কাছ থেকে দেখেছেন এমন দুটি সূত্রসহ ১০ জনের সঙ্গে কথা বলেছে। বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে তাঁদের অনেকেই নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছেন।

শেখ হাসিনা গত ৩০ বছরের মধ্যে ২০ বছর ধরে বাংলাদেশ শাসন করেছেন। হাজারো বিরোধী নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তারের পর গত জানুয়ারিতে তিনি চতুর্থ মেয়াদে নির্বাচিত হন। এই নির্বাচন তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীরা বর্জন করেছিল।

উচ্চ বেকারত্বের মধ্যে প্রবলভাবে লোভনীয় সরকারি চাকরিতে কোটা সংরক্ষণের জন্য আদালতের রুলের জেরে বিক্ষোভের সূত্রপাত হওয়ার মধ্য দিয়ে ক্ষমতার ওপর তাঁর কঠোর নিয়ন্ত্রণকে চ্যালেঞ্জ করা হয়। সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করা হয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভ দ্রুত হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনে রূপ নেয়।

শেখ হাসিনার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত সম্পর্কে প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা দেননি ওয়াকার-উজ-জামান। কিন্তু বাংলাদেশের তিন সাবেক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, বিক্ষোভের মাত্রা এবং কমপক্ষে ২৪১ জন নিহত হওয়ার কারণে যেকোনো মূল্যে হাসিনাকে সমর্থন করা যায় না।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, সেনাদের মধ্যে অনেক অস্বস্তি ছিল। সেটিই সম্ভবত সেনাবাহিনীর প্রধানের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। কারণ, সেনারা বাইরে আছেন। কী ঘটছে, তা তাঁরা দেখছেন।

ওয়াকার-উজ-জামান বৈবাহিক সূত্রে হাসিনার আত্মীয়। তিনি গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর প্রতি তাঁর সমর্থন নড়বড়ে হওয়ার লক্ষণ দেখিয়েছিলেন। সেদিন তিনি একটি অলংকৃত কাঠের চেয়ারে বসেছিলেন। সেদিন সেনাবাহিনীর মতবিনিময় সভায় শতাধিক উর্দিধারী সেনা কর্মকর্তার সামনে বক্তৃতা করেছিলেন। সেনাবাহিনী পরে এই আলোচনার কিছু বিবরণ প্রকাশ্যে আনে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল সামি উদ দৌলা চৌধুরী বলেন, সেনাপ্রধান ঘোষণা দেন, জীবন রক্ষা করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।

এটাই ছিল প্রথম ইঙ্গিত যে বাংলাদেশের সেনাবাহিনী জোরপূর্বক সহিংস বিক্ষোভ দমন করবে না, যা হাসিনাকে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে।

অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তারা গত সোমবার কারফিউ অমান্য করে রাস্তায় নেমেছিলেন। তাঁদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহেদুল আনাম খানও ছিলেন।

শাহেদুল আনাম খান বলেন, ‘সেনাবাহিনী আমাদের বাধা দেয়নি। তিনি যা অঙ্গীকার করেছিলেন, সেনাবাহিনী তা করেছে।’

স্বল্প সময়ের নোটিশ’

অনির্দিষ্টকালের জন্য দেশব্যাপী কারফিউর প্রথম দিন গত সোমবার হাসিনা গণভবনের ভেতরে ছিলেন। রাজধানী ঢাকার একটি খুবই সুরক্ষিত কমপ্লেক্স এটি, যা প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

বাইরে বিস্তীর্ণ শহরের রাজপথে লোকজন জড়ো হয়েছিল। হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য আন্দোলনের নেতাদের গণযাত্রার ডাকে সাড়া দিয়ে লাখো মানুষ শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে যাচ্ছিলেন।

ভারতীয় কর্মকর্তা ও বিষয়টির সম্পর্কে অবগত দুই বাংলাদেশির তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি হাসিনার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় ৭৬ বছর বয়সী এই নেত্রী সোমবার সকালে দেশ ছেড়ে পালানোর সিদ্ধান্ত নেন।

বাংলাদেশের একটি সূত্র জানায়, লন্ডনে বসবাস করা শেখ হাসিনার বোন (শেখ রেহানা) সে সময় ঢাকায় ছিলেন। তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। একসঙ্গে উড্ডয়ন করে দেশ ছাড়েন। স্থানীয় সময় দুপুরের দিকে তাঁরা ভারতের উদ্দেশে রওনা হন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর গতকাল মঙ্গলবার দেশটির সংসদে বলেছেন, যোগাযোগ থাকা বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তিকে জুলাই মাসজুড়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের জন্য আহ্বান জানিয়েছিল নয়াদিল্লি।

 

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, হবে অন্তর্বর্তী সরকার : সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান
সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানছবি: আইএসপিআর

এস জয়শঙ্কর বলেন, কিন্তু কারফিউ উপেক্ষা করে সোমবার ঢাকায় জনতা জড়ো হওয়ায় হাসিনা নিরাপত্তা বাহিনীর কর্তৃপক্ষের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক বৈঠকের পর পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। খুব সংক্ষিপ্ত নোটিশে তিনি তখনকার মতো ভারতে আসার জন্য অনুমোদন চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।

ভারতের আরেক কর্মকর্তা বলেন, হাসিনাকে ‘কূটনৈতিকভাবে’ জানানো হয়েছিল, ঢাকার পরবর্তী সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এ কারণে তাঁর অবস্থান সাময়িক হতে হবে। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধ করা হলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে চান বিক্ষোভকারী ছাত্ররা। তিনি নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস পত্রিকাকে বলেছেন, ভারতের ‘ভুল লোকদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল…দয়া করে আপনার পররাষ্ট্রনীতি পুনর্বিবেচনা করুন।’

এ বিষয়ে সাক্ষাৎকার নেওয়ার জন্য ইউনূসকে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

সোমবার বিকেলে শেখ হাসিনাকে নিয়ে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি পরিবহন উড়োজাহাজ দিল্লির বাইরে হিন্ডন বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে।

ভারতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তার তথ্যমতে, সেখানে ভারতের ক্ষমতাধর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে হাসিনার সাক্ষাৎ হয়েছিল।

নয়াদিল্লি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে আলাদা করার জন্য লড়াই করেছিল। ১৯৭৫ সালে শেখ হাসিনার বাবাকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর হাসিনা কয়েক বছর ধরে ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং তিনি প্রতিবেশী দেশটির রাজনৈতিক অভিজাতদের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন।

বাংলাদেশে ফিরে শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসেন। ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতি তাঁকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে বেশি সংবেদনশীল হিসেবে দেখা হতো। হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিও (ভারত) তাঁর ধর্মনিরপেক্ষ অবস্থানকে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩০ লাখ হিন্দুর জন্য অনুকূল বলে মনে করেছিল।

বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনাকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়ায় দেশটির অবসরপ্রাপ্ত সেনাদের মধ্যে এখনো অসন্তোষ রয়ে গেছে।

অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ শাহেদুল আনাম খান বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, তাঁকে নিরাপদে চলে যেতে দেওয়া উচিত ছিল না। এটা একটা বোকামি ছিল। সূত্র: প্রথম আলো

Daily World News

প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন, হবে অন্তর্বর্তী সরকার : সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান