এয়ার কমোডর পদে পদোন্নতি পাওয়াই আমরা গর্বিত

//শ্যামল বিশ্বাস বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

শ্রদ্ধেয় জনাব মোঃ তাহিদুল ইসলাম কে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীতে “এয়ার কমডোর” পদে পদোন্নতি লাভের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।  অদ্য ১৩/৫/২০২৪ ইং তারিখে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী প্রধান র্র্যান্ক ব্যাজ পড়িয়ে দেন। বর্তমান তিনি জাজ এডভোকেট জেনারেল হিসাবে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে কর্মরত আছেন।

আপনার সাফল্যের জন্য আমরা অত্যন্ত গর্বিত এবং আনন্দিত। আপনার অক্লান্ত পরিশ্রম, দক্ষতা এবং দেশপ্রেমের প্রতি অটুট নিষ্ঠাই আপনাকে এই উচ্চ পদে পৌঁছে দিয়েছে।

আপনার অসাধারণ প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা এবং চৌকষতা আপনাকে সকলের কাছে সম্মানিত করে তুলেছে।

RAB (২ টি ইউনিটে) এর কোম্পানি কমান্ডার হিসেবে (প্রেষণে) আপনার অবদান অসামান্য।

“দুর্নীতি দমন কমিশন” এর ইনভেস্টিগেশন & এনকোয়ারী ডিভিশনের সম্মানিত “পরিচালক” হিসেবে আপনার সততা ও নীতিবোধ সকলের অনুপ্রেরণা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন, এবং পরবর্তীতে ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে দ্বিতীয়বার এলএলবি (স্নাতক) ডিগ্রি অর্জন আপনার জ্ঞানের পরিধি ও দক্ষতার প্রমাণ।

আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, তুর্কি সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণ ও কোর্স সম্পন্ন করে আপনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর জন্য যথেষ্ট সুনাম ও সুখ্যাতি বয়ে এনেছেন।

মালি ও কংগো-তে দুইবার জাতিসংঘ মিশন সম্পন্ন করার মাধ্যমে আপনি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আপনার দক্ষতা ও দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

আপনার সহধর্মিণী “উইং কমান্ডার” হিসেবে সুনামের সাথে চাকুরীরত থাকা আপনার পারিবারিক জীবনের সুন্দর পরিবেশের প্রতিফলন।

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলাধীন বালিদিয়া ইউনিয়ন এর ওমেদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করে আপনি আপনার গ্রাম ও পরিবারের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।

আপনি আমাদের অহংকার! আপনি আমাদের গর্ব! আপনি আমাদের ওমেদপুরের আলো!

আপনার অব্যাহত সাফল্য ও উন্নতি কামনা করি।

আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘ জীবন কামনা করি।

মহান আল্লাহ্ আপনাকে আপনার কাংখিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিক, এই প্রত্যাশা!

প্রাণবন্ত অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা নিরন্তর

বোরো ধান সংগ্রহে লটারী রূপসায় সৌভাগ্যবান কৃষক ৬০৯ জন

//এম মুরশীদ আলী//

“গুদামে গুদামে কৃষকের ধান, বাঁচে কৃষক, বাঁচে প্রাণ”

“কৃষক এখন অনেক খুশি, ধানের দাম পাচ্ছে বেশি”।

এ প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে রূপসা উপজেলা খাদ্য বিভাগ আয়োজনে গত ১৩ মে সকাল ১১ টায়, উপজেলা পরিষদ চত্বরে, অভ্যন্তরীণ বোরোধান সংগ্রহ ২০২৩-২৪ উপলক্ষ্যে কৃষকের মধ্যে উন্মুক্ত লটারী অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক বাছাই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন, উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুখার্জী, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইরিন পারভিন, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিমাংশু রায়, একাডেমিক সুপারভাইজার নিত্যানন্দ মণ্ডল, ঘাটভোগ ইউনিয়ন চেয়ারম‍্যান মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান, উপজেলা কৃষকলীগের সভাপতি আ: মান্নান, খাদ্য গোডাউন ইনচার্জ আমিন উদ্দিন মোড়ল সহ কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপসার আইচগাতী ইউনিয়নের ৩টি ব্লকে ধান চাষকৃত কৃষক ৬৪৫ জন। তার মধ্যে ভাগ্যবান কৃষক- ৫১ জন।

শ্রীফলতলা ইউনিয়নে ৩টি ব্লকে ধান চাষকৃত কৃষক ২৫৭২ জন। তার মধ্যে ভাগ্যবান কৃষক- ২০৫ জন।

নৈহাটী ইউনিয়নে ৩টি ব্লকে ধান চাষকৃত কৃষক ১৩২১ জন। তার মধ্যে ভাগ্যবান কৃষক- ১০৫ জন।

টিএসবি ইউনিয়নে ৩টি ব্লকে ধান চাষকৃত কৃষক ৮৬৭ জন। তার মধ্যে ভাগ্যবান কৃষক- ৭০ জন।

ঘাটভোগ ইউনিয়নে ৩টি ব্লকে ধান চাষকৃত কৃষক ২২৩৮ জন। তার মধ্যে ভাগ্যবান কৃষক- ১৭৮ জন। লটারীর মাধ্যমে মোট- ৬০৯ জন সৌভাগ্যবান কৃষক বাছাই করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এ মৌসুমে সরকারি ভাবে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা- ৬০৯ মে.টন।

বালু ও মাটি রপ্তানির সাথে খনিজসম্পদ পাচার হবার আশঙ্কা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বালু ও মাটি রপ্তানি করার উদ্যোগ নিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা বিধিমালা-২০২৪ এর খসড়া তৈরি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্টদের মতামতের জন্য এটি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

তবে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা-যদি বালু ও মাটি রপ্তানির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পায় তাহলে প্রতিবছর হাজার কোটি ডলারের মূল্যবান খনিজসম্পদ বৈধভাবে চলে যাবে বিদেশিদের হাতে। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যেই চোরাইপথে বালু ও মাটি বিদেশে পাচারের বেশ কয়েকটি ঘটনা ধরা পড়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ভূমি সচিব মো. খলিলুর রহমান বলেন, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০-এ বালু ও মাটি রপ্তানির বিধান আছে। আইনে থাকার কারণে বিধিমালা তৈরি প্রয়োজন হয়েছে। তবে মূল্যবান খনিজ বালু ও মাটি যাতে কোনো ভাবে পাচার না হয়, সে ব্যবস্থা থাকবে বিধিতে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, চোরাইপথে কে কী কোথায় নিয়েছে জানি না। ভূমি মন্ত্রণালয় বালু ও মাটি রপ্তানির অনুমতি কাউকে দেয়নি। একাধিক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে সম্পৃক্ত করে কমিটি করা হবে। সব পক্ষের অনুমতি ছাড়া এক ফোঁটা বালুও কেউ নিতে পারবে না।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব মাইনিং মিনারেলজি অ্যান্ড মেটালজির (আইএমএমএম) মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবুল কাশেম যুগান্তরকে বলেন, আমাদের দেশের বালু এবং মাটিতে মূল্যবান খনিজ সম্পদ রয়েছে। বিশেষ করে নদীর তলদেশ ও সমুদ্রসৈকতের বালুতে খনিজ পদার্থের উপস্থিতি বেশি। কঠোর আইনকানুন করে এসব সম্পদ রক্ষা জরুরি। না হয় এসব মূল্যবান সম্পদ পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আইন ও বিধির ফাঁকফোকর দিয়ে যাতে কেউ পাচার করতে না পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাংলাদেশের বালু ও মাটিতে মূল্যবান প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদের উপস্থিতি বাংলাদেশের বালিতে অধিক মাত্রায় রয়েছে। সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম, অস্ত্র, যোগাযোগ সরঞ্জাম, জিপিএস সরঞ্জাম, ব্যাটারি ডিফেন্স ইলেক্ট্রনিক্সসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি তৈরিতে ব্যবহার হয়। নদীর বালু ও মাটি থেকে পাওয়া উপাদান কাঁচামাল হিসাবে মোটর গাড়ির উইনশিল্ড, উড়োজাহাজ এবং ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে ব্যবহৃত হয়। বালু থেকে উৎসারিত অন্যান্য খনিজ পৃথক করে, সিরামিক্স, ইলেকট্রনিক্স রং, প্লাস্টিক পেইন্টসহ নানামুখী শিল্পের কাঁচামাল হিসাবে ব্যবহার হয়। এছাড়া গাড়ির পলিশিং পেপার, উড়োজাহাজের খুচরা যন্ত্রাংশ, মানব দেহের হাঁটুর জয়েন্ট বলে, নকল দাঁতসহ লোহার আকরিক হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

বালু থেকে পাওয়া মোনাজাইটেথ কালার টেলিভিশনের পিকচার টিউব ক্যাথডরে ও ক্যামেরার লেন্সের কোটিং হিসাবে কাজে লাগানো হয়। এ ধরনের খনিজ পদার্থ পরমাণু প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন শিল্পকারখানায় ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়। এ খনিজের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান, গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্ববাজারে ব্যাপক চাহিদাসম্পন্ন হচ্ছে টিটেনিয়াম, যা পাওয়া যায় ইলমেনাইট খনিজ পদার্থ থেকে। এই খনিজ পদার্থটি বাংলাদেশের সৈকত, উপকূল আর ব্রাহ্মপুত্রের প্রবেশমুখের বালিতে সর্বোচ্চ পরিমাণে রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, উড়োজাহাজ শিল্পের প্রধান কাঁচামাল হিসাবে টিটেনিয়াম ব্যবহার করা হয়। উন্নতমানের রং তৈরিতে বিশেষ করে রঙের দীর্ঘস্থায়িত্বের জন্য টিটেনিয়াম ব্যবহার অপরিহার্য। বিশ্বে খনিজ বালু ও মাটি মৌলিক এ উপাদান সবচেয়ে বেশি ব্যাবহার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। এসব মৌলিক উপাদান সর্বোচ্চ উত্তোলনকারী দেশ চীন।

প্রসঙ্গত, ২০২২ অক্টোবর ৪৫০ মেট্রিক টন ওজনের ১৭ কনটেইনার মূল্যবান খনিজ টিটেনিয়াম ও ইলমেনাইট বালু আটকে দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ছাড়া বিধি বহির্ভূতভাবে বালু রপ্তানি হচ্ছিল বলে চালানটি আটকে দেওয়া হয়। প্রতি কনটেইনারে প্রায় ২৬ মেট্রিক টন করে মোট ১৭টি কনটেইনারে প্রায় ৪৫০ মেট্রিক টন বালু ছিল। আটক করা এ বালুর রপ্তানিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২২ হাজার ৫০০ ডলার। এশিয়ার পরাশক্তি একটি দেশে বালুগুলো রপ্তানি হচ্ছিল।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের আটক করা উল্লিখিত বালিতে প্রতি এক হাজার কেজিতে ছয় কেজি ইলমেনাইট পাওয়া যায়। এ পরিমাণ ইলমেনাইট থেকে পাওয়া যায় দুই কেজি ৪০০ গ্রাম টিটেনিয়াম। প্রতি কেজি টিটেনিয়ামের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য ২০ হাজার ৫০০ থেকে ২২ হাজার ডলার।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতসহ উপকূলীয় এলাকায় খনিজ পদার্থ সমৃদ্ধ বালুর ১৭টি পয়েন্ট রয়েছে। এগুলোর মধ্যে শাহপরীর দ্বীপ, বদর মোকাম, টেকনাফ, সাবরাং, ইনানী, কলাতলী, শীলখালী, কুতুবজোম, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, ফকিরাহাট পয়েন্ট অন্যতম। এসব পয়েন্টের বালিতে ইলমেনাইট, জিরকন, ম্যাগনেটাইট, গার্নেট, রিউটাইল, লিওকনিক্স, কায়ানাইট, মোনাজাইটেথসহ আটটি খনিজ পদার্থ রয়েছে।

কক্সবাজার সৈকত ও ব্রহ্মপুত্র নদ এলাকার বালিতে কমপক্ষে ২০ লাখ টন খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ বালু রয়েছে। এর মধ্যে জিরকন রয়েছে এক লাখ ৫৮ হাজার ১১৭ টন, রিউটাইল ৭৪ হাজার ২৭৪ টন, গার্মেট দুই লাখ ২২ হাজার ৭৬১ টন, ম্যাগনেটাইট ৮০ হাজার ৫৯৯ টন, মোনাজাইট ১৭ হাজার ৩৫২ টন, ইলমেনাইট ১০ লাখ টনসহ অন্যান্য খনিজ পদার্থ। মহামূল্যবান হিসাবে এ খনিজ বালু বিবেচিত। জিরকন ব্যবহৃত হয় রাসায়নিক বিকিরণের উপাদান হিসাবে। মরিচা প্রতিরোধেও জিরকন ব্যবহার করা হয়।

বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. আফতাব আলী শেখ যুগান্তরকে বলেন, হিমালয় থেকে আমাদের নদনদী উৎসারিত হয়ে শত শত মাইল গড়িয়ে পানি এসে পড়ছে নদীতে। পানির সঙ্গে মূল্যবান খনিজ সম্পদ তলানি আকারে এসে যুক্ত হচ্ছে। এসব সম্পদ আমাদের নদী ও সমুদ্রে রয়েছে। আমাদের নদীর বালু ও মাটিতে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। ইতোমধ্যে জার্মানি থেকে বিসিএসআইআর’র বিজ্ঞানীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন। তারা বালু থেকে উন্নতমানের কাচ তৈরির পদ্ধতি শিখে এসেছেন, যা দেশের কাচ শিল্পকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

Daily World News

লোকসভা নির্বাচনের তৃতীয় দফার আজ ভোট দেবে প্রায় ১৮ কোটি ভোটার

৫৭ বছর বয়সে জিপিএ ৪.২৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করলেন ট্রাফিক পুলিশ আব্দুস ছামাদ

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধের আদর্শে নতুন রাজনৈতিক দল

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

দেশে আরও একটি নতুন রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে। দলটির নাম বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পিপলস্ পার্টি।

শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে দলটি।

অনুষ্ঠানে দলের চেয়ারম্যান আব্দুল কাদের বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের যে চেতনা, সাম্য, মানবিক মর্যাদা, আইনের শাসন, গণতন্ত্র, টেকসই উন্নয়ন, বাক-স্বাধীনতা আজ মুক্তিযুদ্ধের ৫৩ বছর পরও আমরা সেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আজ আমাদের অর্থনীতি যেখানে থাকার কথা সেখানে নেই। আমাদের ব্যাংক ব্যবস্থা আজ ধ্বংসের মুখে, আমাদের শেয়ারবাজার আজ বিপর্যস্ত, লাগামহীন দুর্নীতি, ঋণখেলাপি আমাদের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দিয়েছে। রাজনীতিতেও আজ সংঘাত, সংঘর্ষ, প্রতিহিংসা ছড়িয়ে পড়েছে। অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখল করার জন্য নির্বাচন ব্যবস্থাকেও আজ পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের নিজস্ব দলের আদর্শ থাকতে পারে। তবে আমরা সবাই বাংলাদেশি। সব প্রতিহিংসা দূরে রেখে এই সোনার বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের সবাইকে কাঁধে কাঁধ রেখে কাজ করতে হবে।’

আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখতে আমরা একটি গণতান্ত্রিক দল ঘোষণা করছি। আমাদের দলের নাম বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পিপলস্ পার্টি। আমরা একটি ক্ষুধামুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করব- ইনশাআল্লাহ। জনগণের সব দুর্যোগে, সমস্যায় আমরা পাশে থাকার অঙ্গিকার করছি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের আদর্শ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, ধর্মীয় মূল্যবোধ। আমরা বিশ্বাস করি, দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকলে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়ন করা গেলে এবং যার যার ধর্ম সঠিকভাবে মেনে চললে একটি শক্তিশালী, উন্নত রাষ্ট্র গড়তে পারব।’

এ সময় নবগঠিত দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

 

বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৩ “তম জন্ম বার্ষিকী পালন

তরুণ কান্তি পাইক, নিজস্ব প্রতিবেদক।।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে উদ্বোধন, আলোচনা সভা ও  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৮মে সকাল ৯টায় রূপসার  পিঠাভোগ রবীন্দ্র সংগ্রহ শালায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো:হেলাল মাহমুদ শরীফ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন  জেলা প্রশাসক খন্দকার ইয়াসির আরেফীন
 বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা পুলিশ সুপার মো:সাইদুর রহমান পিপিএম(বার),
স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক মো:  ইউসুব আলী,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আতিকুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল উদ্দীন বাদশা, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার সরদার মাহাবুবুর রহমান,ইউপি চেয়ারম্যান অধ‍্যাপক আশরাফুজ্জামান বাবুল, মোল্লা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান।
মূখ‍্য আলোচক ছিলেন  খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ‍্যাপক
ড. তানভীর দুলাল।
অনুষ্ঠান স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর জাহান।
এর আগে অতিথিবৃন্দ বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করেন।

ডুমুরিয়ায় ফলনশীল পাটের বীজ উৎপাদন, চাষ ও পচনের আধুনিক পদ্ধতির ক্রমোন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //
ডুমুরিয়ায় ফলনশীল পাট বীজ উৎপাদন পাট চাষ ও পচনের আধুনিক পদ্ধতির ক্রমোন্নয়ন বিষয়ক কর্মশালা  অনুষ্ঠিত হয়। ৫ মে রবিবার সকালে উপজেলা  শহীদ জোবাযেদ আলী মিলনায়তনে  বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) বানিজ‍্য মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা  নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ  আল-আমিন, বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম খান সহকারি পরিচালক পাট অধিদপ্তর ঢাকা, মোহাম্মদ ফরহাদ আকন্দ চেয়ারম্যান বিজেএ,নজরুল ইসলাম সিনিয়র একাউন্ট অফিসার বিজেএ,  বিনয় মন্ডল সিনিয়র অফিসার বিজেএ, বাসুদেব হালদার পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা খুলনা, মোঃ নজরুল ইসলাম  মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা  পাট গবেষণা উপকেন্দ্র মনিরামপুর,  দেবাশীষ ভট্টাচার্য্য সহকারী সচিব বিজেএ দৌলতপুর, মোঃ আবুল কালাম আজাদ সদস‍্য বিজেএ, জেলা  পাট পরিদর্শক মো মজিবুর রহমান, নিলয় মল্লিক উপজেলা  পাট কর্মকর্তা প্রমুখ। কর্মশালায় ৫০ জন কৃষক অংশ গ্রহন করেন।

যেসব জায়গায় আজ বৃষ্টি হবার সম্ভাবনা আছে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রাজধানী ঢাকাসহ ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চাঁদপুর ও মৌলভীবাজার জেলাসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে তা অব্যাহত থাকতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (৪ মে) সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এমন তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝোড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলা বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানান, যশোর, চুয়াডাঙ্গা ও বাগেরহাট জেলার ওপর দিয়ে তীব্র তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। চাঁদপুর ও মৌলভীবাজার জেলাসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগ এবং খুলনা বিভাগের অবশিষ্টাংশের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের যে তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

খুলনার রূপসা উপজেলায় দলিত ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠী অধিকার আন্দোলন এর কমিটি গঠন

তরুণ কান্তি পাইক, নিজস্ব প্রতিবেদক।৷

খুলনার রূপসায় পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে নতুন কমিটি গঠনে এক আলোচনা সভা ৩মে বিকালে পিঠাভোগ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

বাবু হরিচাঁদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন  বি ডি ই আর এম, খুলনা জেলা শাখা সভাপতি  সুব্রত কুমার মিস্ত্রি।

বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক উদ্যোগ বিভাগীয় সমন্বয়কারী মানিক রঞ্জন দাস।

অনুষ্ঠান শেষে  ব্রজনাথ রায়কে সভাপতি ও মেঘলা দাস কে সাধারণ সম্পাদক করে রূপসা উপজেলায় ১৭ সদস্য বিশিষ্ট  কমিটি গঠন করায় হয়।

সকলের প্রত্যাশা নবনির্বাচিত কমিটি, পিছিয়ে পড়া ও বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাবেন।

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও ব্যাংক খাত নিয়ে সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের মতামত

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেছেন, বছরে ৭০০ কোটি ডলার পাচার হয়ে যাচ্ছে, এটা নিয়ে কেউ কিছু বলে না। সরকার নিশ্চুপ, রহস্যজনকভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলও (আইএমএফ) এ নিয়ে কিছু বলে না। ঋণখেলাপি, করখেলাপি ও অর্থ পাচারকারী এক সূত্রে গাঁথা। তারা যখন দেখবে শাসককুলের চক্ষু লাল হয়ে গেছে, তখনই তারা টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করবে। তার আগে নয়।

তিনি আরও বলেন, যখন ঋণ খেলাপিওয়ালা বেশি বড় হয়ে যায়, তখন এক হাজার টাকা কৃষিঋণের কারণে কেউ জেলে যায়, আর ১০ হাজার কোটি টাকা শিল্পঋণের খেলাপি গ্রাহক সরকারের পাশে বসে। এখন যে যত বেশি শক্তিমান, সে তত বড় খেলাপি। তার সুদ মওকুফও হয় তত বেশি। ২০০৩ সালে সুদ মওকুফ শুরু হয়। আমার কাছে ক্ষমতা থাকলে সুদ মওকুফ সুবিধা এখনই বন্ধ করে দিতাম। আর যখন শক্তিমান কেউ সরকারকে বোঝাতে পারবে, মূল্যস্ফীতি কমানোর উপায় খেলাপি ঋণ আদায় করা। এখন কে বোঝাবে, এটা একটা বিষয়। সরকার সেটা শুনলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।

অর্থনীতিবিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত একক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন এসব মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ, ব্যাংক একীভূত করা, টাকা ও ডলারের সংকট, বৈষম্য, মূল্যস্ফীতি, অর্থ পাচার, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাসহ নানা বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি নিজে কথা বলার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দেন।

ব্যাংক একীভূতকরণ প্রসঙ্গ

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ব্যাংক একীভূত করা সব দেশেই হয়। জোর করে ব্যাংক একীভূত করা যাবে না। দুই পক্ষের সম্মতিতে এটা করতে হবে। কিন্তু খারাপ ব্যাংক ভালো করার এটাই একমাত্র উপায় না। এর বিকল্প আছে। এখন যাদের ভালো ব্যাংক বলা হচ্ছে, এমন চারটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকই একসময় তদারকি করে ভালো করেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ধ নিয়ে উৎকণ্ঠা আছে। অথচ বিদেশে অহরহ ব্যাংক বন্ধ হচ্ছে। এ জন্য আমানত বিমার পরিমাণ এক লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা দরকার। তাহলেই আমানতকারীরা ভরসা পাবে। টাকা ঘরে না রেখে ব্যাংকে রাখবে। পাশাপাশি ৩-৬ মাস মেয়াদি আমানত ব্যাংকে আনতে সব প্রতিবন্ধকতা দূর করে দেওয়া উচিত। টাকা-ডলার অদলবদল কোনো ভালো পন্থা না।

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, একমাত্র সরকারি ব্যাংক হিসেবে বেসিক ব্যাংক একসময় সরকারকে মুনাফা দিয়েছিল। প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ছিল উদ্যোক্তা তৈরি করা। ধীরে ধীরে ব্যাংকটি খারাপ করে ফেলা হয়েছে। রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক সৃষ্টি করা হয়েছিল উত্তর বাংলার কৃষিকে জোরদার করার জন্য। এখন এক করা হলে উত্তর বাংলার কৃষি বেকায়দায় পড়তে পারে। বিডিবিএলকে একীভূত করা ঠিক হবে না। প্রকল্প ঋণ দেওয়ার জন্য ব্যাংকটির প্রয়োজন আছে। বাংলাদেশ ব্যাংক এটা ভেবে দেখতে পারে।

তিনি আরও বলেন, হুট করে ব্যাংক একীভূত করা ঠিক হয়নি। অশোভনীয় হয়ে গেছে। বেসিক ব্যাংককে যতই একীভূত করা হোক, সেটা ভালো হবে না। ওই ব্যাংক যিনি নষ্ট করেছেন, শুনেছি দেশেই আছেন। আগে ওনার নাম ভিন্ন ছিল, পরে ‘শেখ’ হয়েছেন। কার আশ্রয়-প্রশ্রয়ে আছেন জানি না। জানলেও নাম বলতে পারতাম না। কারণ, এই বয়সেও আমি ‘মরিতে চাহি না আমি সুন্দর ভুবনে’

অন্য একটি ব্যাংকের নাম উল্লেখ না করে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, জগন্নাথ কলেজে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতাকে ব্যাংক দেওয়া হয়েছিল। তাঁর ছেলে জনসম্মুখে একটি ব্যাংকের এমডিকে গুলি করে মেরে ফেলতে চেয়েছিল। তারা কত টাকা যে বিদেশে নিয়ে গেছে, তার হিসাব নেই। এই ব্যাংক একীভূত করে, না আলাদা রেখে শায়েস্তা করা হবে, এটা সিদ্ধান্তের বিষয়। একীভূত করা ভালো সিদ্ধান্ত, তবে এটা নতুন করে সংকট তৈরি করতে পারে।

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

বাংলাদেশ ব্যাংককে ক্ষমতায়ন

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, গত ১৫-১৬ বছরে ব্যাংকিং খাতের পরিধি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। আমানতের পরিমাণ ও ঋণ বিতরণও দ্বিগুণ বেড়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জনবল ও ক্ষমতা বাড়েনি। আমরা ২০০০ সাল থেকে সুপারিশ করে আসছি বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক মর্যাদা দেওয়ার জন্য। গভর্নরকে ৬ বছরের জন্য নিয়োগ সুপারিশ করেছি। এতে স্বাধীনতা বাড়বে। নিশ্চয়ই এটা একদিন হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বাজেটে ব্যাংক সংস্কার কমিশনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। যদি শক্তিশালী বাংলাদেশ ব্যাংক ও দক্ষ অর্থ মন্ত্রণালয় থাকে, তাহলে ব্যাংক সংস্কার কমিশনের প্রয়োজন নেই।

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সমালোচনায় একটা ফ্যাশন দেখা যায়, সবাই বলে এত ব্যাংক ধারণ করার ক্ষমতা আমাদের নেই। ব্যাংকের সংখ্যা কোনো সমস্যা নয়, সমস্যা শাখার সংখ্যা। বাংলাদেশের ব্যাংকের একটি শাখা ১৫ হাজার লোককে সেবা দেয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কা ব্যাংকের একটি শাখা ১২ হাজার জনকে সেবা দিয়ে থাকে। এমন ব্যাংক শাখা আরও হতে পারে। কিন্তু আমানত যদি ৬০ ভাগ হয় মতিঝিলে আর বাকি অংশ গ্রাম থেকে আসে। আর ঋণের ৬০ ভাগ চলে যায় চট্টগ্রাম, মতিঝিল ও নারায়ণগঞ্জে। তাহলে এটা সমস্যা। এসব বিষয় বিবেচনা কর উচিত।’

তিনি বলেন, ২০১০ সালে শেয়ারবাজারে যে সংকট হয়, তখন বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় দুর্বলতা ছিল।

খেলাপি ঋণের কারণে অর্থসংকট

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, সারা পৃথিবীতে তফসিলি ব্যাংকের কাজ হলো ৩-৬ মাস মেয়াদে বাণিজ্য অর্থায়ন করা। ১৯৯১-৯২ সালে একটি মুরব্বি দাতা সংস্থার পরামর্শে সরকার ব্যাংকগুলোকে দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন শুরু করায়। এটা ভালো পরামর্শ ছিল না। এ জন্য ব্যাংক খাতে সমস্যা শুরু হয়। খেলাপি ঋণ শুরু হয় ওই সময় থেকে।

প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘ ব্যাংক খাতে সব গ্রাহকেরা আমার সময়ে নিয়ন্ত্রণে ছিল। নিশ্চয়ই আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে। খেলাপিরা ২ শতাংশ টাকা দিলে নিয়মিত হয়ে যায়, অন্যদের দিতে হয় ১০ শতাংশ। নির্বাচনের আগে এই সুবিধা এক বছর বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সংসদে ব্যাংক পরিচালক মেয়াদ ৯ বছর প্রস্তাব গেল, কোনো সুপারিশ ছাড়াই তা হয়ে গেল ১২ বছর। এর জবাব কী।’

নীতিগতভাবে আমি মনে করি কোনো আমলার রাজনীতিতে আসা ঠিক না। কোনো গোষ্ঠীর আখের গোছানোর জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। স্বাধীন হওয়ার সুবিধা কেউ পাচ্ছেন অতি সামান্য, কেউ অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছেন।

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় খেলাপি ঋণের পুনঃ পুনঃ পুনঃ তফসিলের কারণে ব্যাংক খাতে অর্থের টান পড়েছে। এ জন্য টাকা ছাপিয়ে বা ট্রেজারি বন্ডে দিতে হচ্ছে। এতে মূল্যস্ফীতি থেকে যাচ্ছে। যখন শক্তিমান কেউ সরকারকে বোঝাতে পারবে, মূল্যস্ফীতি কমানোর উপায় খেলাপি ঋণ আদায় করা। এখন কে বোঝাবে, এটা বিষয়। সরকার সেটা শুনলে মূল্যস্ফীতি কমে আসবে।’

অন্য এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘আমার সময়ে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকগুলোকে দেওয়া মতো পরিস্থিতি হয়নি। আমার সময়ে ৫টি দুর্বল ব্যাংককে বিশেষ ব্যবস্থায় সংকট থেকে বের করে আনা হয়েছিল। আর যখন কোন অপরাধের কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক কাউকে শাস্তি দেয়, তখন সংস্থাটির মর্যাদা বাড়ে।’

বৈষম্য কমবে কীভাবে

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির চালিকা শক্তি কিষান-কিষানি। তবে বৈষম্য অনেক বেড়ে গেছে। ধনতান্ত্রিক অর্থনীতি যখন দ্রুতগতিতে বড় হয়, তখন দয়া-মায়া কমে যায়। ৩০ বছর আগের গরিব আর এখনকার গরিবের ধরন এক নয়। তবে তখনকার ধনী আর এখনকার ধনীর মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়ে গেছে। এটা কমানো সম্ভব। এ জন্য রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।

তিনি বলেন, রাজনীতিবিদেরা যদি সিদ্ধান্ত নেন, বৈষম্য কমাতে চান, তাহলে অর্থনীতি সেই পথে যাবে। শিল্পায়নের মডেল অনুসরণ করে বড় শিল্প, মাঝারি শিল্প ও কুটির শিল্প করতে হবে। এ জন্য মুদারাবা ব্যাংকের আদলে বিশেষ তহবিল করতে হবে। এখন ৩৯ লাখ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা আছে, তাদের টাকা দেওয়া হবে, যা ফেরত না দিলেও কোনো সমস্যা নেই। এতে বৈষম্য কমবে, কর্মসংস্থান হবে ও দারিদ্র্য কমে আসবে। বাংলাদেশের অর্থ বছর জুলাই-জুন না করে জানুয়ারি-ডিসেম্বর সময়ে করা উচিত। এতে দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হবে।

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ পৃথিবীর খুব কম দেশের একটি, যার জিডিপি প্রবৃদ্ধি কখনো নেতিবাচক হয়নি। এমনকি করোনার মধ্যে যে ১৭ দেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তার মধ্যে বাংলাদেশ একটি। আবার বাংলাদেশ খুব কম দেশের একটি, যে ভূরাজনৈতিকভাবে মোটামুটি ভারসাম্য ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে। খুব বেশি ভারসাম্য ধরে রাখা হয়তো সম্ভব হবে না। তবে কারও পকেটে বা প্যাকেটে ঢুকে যায়নি।

মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, ‘নীতিগতভাবে আমি মনে করি কোনো আমলার রাজনীতিতে আসা ঠিক না। কোনো গোষ্ঠীর আখের গোছানোর জন্য দেশ স্বাধীন হয়নি। স্বাধীন হওয়ার সুবিধা কেউ পাচ্ছেন অতি সামান্য, কেউ অনেক বেশি সুবিধা ভোগ করছেন। বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা অনেক ভালো করেছেন, তাঁদের এখন যুক্তিসংগত নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে। বেসরকারি খাত ধনদৌলতে বড় হলেও কর্মসংস্থান সরকারি খাতকেই করতে হবে।’ 

সংকট যেখানে

কয়েকটি ব্যাংক প্রায় দেড় বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংকে নগদ জমা (সিআরআর) রাখতে পারছে না, অথচ তারা ঋণ দিয়ে যাচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে। আবার টাকা ও ডলারের সংকট চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এর জবাবে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, বিধিবিধান, রীতিমতো আইন না মানলে সমস্যা তো হবেই। টাকাকে অতিমূল্যায়িত রাখা ঠিক হচ্ছে না। অনেকে পরামর্শ দেন, টাকার মান বেশি থাকলে ভালো হয়। এটা ভুল ধারণা। ডলারের একাধিক বিনিময় হার থাকা উচিত নয়। এতে লাভবান হয় শুধু মধ্যস্বত্বভোগীরা।

ব্যাংকিং খাতে বড় বড় গ্রুপকে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কেন? মূল্যস্ফীতি কেন কমাতে পারছি না, অনেক দেশ তো পেরেছে? এর জবাবে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন বলেন, ‘গত ১৫ মাসে অনেক দেশ মূল্যস্ফীতি অর্ধেক কমিয়ে এনে ৫ শতাংশে এনেছে। আমাদের মূল্যস্ফীতি এখনো উচ্চ। বাজার তদারকি করতে হবে টিভি ক্যামেরা ছাড়া। ভোজ্যতেলের কয়েকজন আমদানিকারককে সোহাগ না করে কিছুদিন শাসন করতে হবে। পাশাপাশি গুটিকয় আমদানিকারকের পরিবর্তে আমদানিকারক বাড়াতে হবে। এতে উপকার পাওয়া যাবে।’

এ সময় মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আরও বলেন, ‘আমদানিতে অনেক মধু। এই মধু তারা অনেকের সঙ্গে ভাগ করে। এ জন্য আমরা আমদানি থেকে বের হতে পারছি না। আমরা কি ফার্নিচার, ঘড়ি, গুঁড়ো দুধ তৈরি করতে পারি না। প্রশ্ন রাখেন তিনি।’

অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন সাংবাদিকদের যেকোনো বিষয় লেখার আগে পূর্বাপর বিবেচনা, বিকল্প চিন্তা করা ও যেকোনো বিষয়কে সংকটের পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার আগে বারবার ভাবার পরামর্শ দেন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফে সভাপতি মোহাম্মদ রেফায়েত উল্লাহ মৃধা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফের সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম। উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরা। সূত্রঃ যুগান্তর

এমভি আবদুল্লাহ জলদস্যুদের থেকে মুক্ত হয়ে দেশের পথে রওনা দিয়েছে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সোমালিয়ার জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ ২৩ জন ক্রু সদস্য নিয়ে দেশের পথে রওনা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাত বন্দর থেকে জাহাজটি চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

জাহাজটি চট্টগ্রামে পৌঁছাতে দুই সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন কেএসআরএম গ্রুপের মিডিয়া উপদেষ্টা মিজানুল ইসলাম।

আমদানির জন্য জাহাজটিতে ৫৬ হাজার টন চুনাপাথর বোঝাই করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাহাজের বেশ কয়েকজন ক্রু।

তারা জানান, আমদানির জন্য জাহাজটিতে চুনাপাথর বোঝাই শেষ হওয়ার পর সংযুক্ত আরব আমিরাতের সময় দিবাগত রাত ২টার দিকে মিনা সাকার বন্দর ছেড়ে যায় জাহাজটি।

সোমালি জলদস্যুদে হাত থেকে মুক্ত হওয়ার পর জাহাজটি গত ২২ এপ্রিল কয়লা খালাসের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে পৌঁছেছিল। সেখান থেকে চুনাপাথরের আমদানির জন্য গত শনিবার মিনা সাকার বন্দরে যায় জাহাজটি।

এর আগে গত ১২ মার্চ মোজাম্বিকের মাপুতো বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে আমিরাতের আল হামরিয়া বন্দরে যাওয়ার পথে সোমালিয়া উপকূল থেকে ৬০০ নটিক্যাল মাইল দূরে জলদস্যুদের কবলে পড়ে এমভি আবদুল্লাহ।

বিপুল পরিমাণ মুক্তিপণ আদায়ের পর ১৪ এপ্রিল ভোরে জলদস্যুরা জাহাজটি ছেড়ে দেয়।

কত টাকা মুক্তিপণ দেওয়া হয়েছে এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি কেএসআরএম গ্রুপ। তবে রয়টার্সসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জলদস্যুরা ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মুক্তিপণ পাওয়ার পর জাহাজটি ছেড়ে দেয়।