বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৩৪১৫ পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক।।

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ৩ হাজার ৪১৫ পিস ইয়াবাসহ দু’জন দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব ৬। শনিবার (০১ এপ্রিল) ভোরে উপজেলা সদরের পাগলা শ্যামনগর এলাকায় তৈয়বআলীর বটতলা নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন, খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার মোঃ শহিদুল ইসলাম শেখ(৫৩) ও ফেনী জেলার দাগনভুয়া উপজেলার মোঃ মোস্তফা তারেক ওরফে বাবু(২৫)। আটকৃতদের বিরুদ্ধে র‌্যাব কর্মকর্তা এসআই আব্দুল মোমিন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেছেন। আটককৃতদের ফকিরহাট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ খুলনার সহকারী পরিচালক মিডিয়া তারেক আনাম বান্না বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লে. কমান্ডার সারোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের পূর্বক ফকিরহাট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

পটুয়াখালীর বাউফলে বেড়েই চলেছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত

মোঃ তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি ।

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রতিদিন প্রতিনিয়তই বেড়ে চলছে কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত।

জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। এরা নিজেদের মতো করে এক একটা গ্যাং গড়ে তুলছে। এই গ্যাংয়ের সদস্যদের উৎপাতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী।

এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ থেকে শুরু করে মুরুব্বিরা তাদের ভয়ে মুখ খুলছেন না। আবার কেউ কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বললেও অপমান অপদস্ত সহ হামলার শিকার হচ্ছেন।

সমাজে এ যেন একটা চরম আকারে ব্যধি হয়ে গেছে।

সূত্র জানায়, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার সর্বত্রই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে এই কিশোর গ্যাং।

এদের বয়স ১৪ থেকে ১৮ বছর। এরা তথাকথিত বড়ভাইদের শেল্টারে বেপরোয়া হয়ে উঠছে।

নিজেদের অধিপত্য বিস্তার করতে দেশি অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে প্রায়ই। ইভটিজিং ও মাদক সেবনসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

অভিযোগ রয়েছে- এ সব কিশোর গ্যাংয়ের মদতদাতা হিসেবে রয়েছে তথাকথিত বড় ভাইয়েরা।

নাম না বলা শর্তে একাধিকরা জানান, বিলবিলাস বাজার ও হাইস্কুলের সামনে বা পিছনে, বিলবিলাস নজির মিয়া বাড়ি সংলগ্ন স্কুলের রাস্তায় গুলো, অলিপুরা বাজার এলাকা, পূর্ব কালাইয়া হাসান সিদ্দিক মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন, শৌলা বাজার এলাকা, মদনপুরা সোনামদ্দিন মৃধা স্কুলের মড়ায় ইত্যাদি ইত্যাদি এলাকায় বেপরোয়া হয়ে চলছে কিশোর গ্যাং। এতে স্কুলে-মাদ্রাসায় আসতে যাইতে মেয়ে শিক্ষার্থীরা চরম আকারে ইভটিজিং সহ বাধায় পড়ে। এতে কেউ কথা বললে জোটবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।

তারা আরও জানান, এ সামাজিক ব্যধি থেকে প্রশাসনের দৃষ্টি কামনা সহ যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

উপজেলার প্রায় ইউনিয়নে কিশোর গ্যাং গ্রুপের মধ্যে হামলা পাল্টা হামলারও ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি কিশোর গ্যাং সদস্যদের সংশোধন করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাইকিং করেছেন কালাইয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম ফয়সাল আহম্মেদ মনির হোসেন মোল্লা।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২২শে মার্চ-২০২৩ ইং গত বুধবার বিকাল সারে ৪টার দিকে সিনিয়র-জুনিয়রকে কেন্দ্র করে উপজেলা ইন্দ্রকুল উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থী মো. নাফিজ মোস্তফা আসনারী (১৫) ও মো. মারুফ হোসেন (১৫) ও সিয়াম (১৫) কে ছুরিকাঘাত করে একই বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির ছাত্র সিফাত, সৈকতসহ একদল কিশোর। পরে তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য নাফিজ ও মারুফকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠালে ওই দিনই সন্ধ্যা সারে সাতটার দিকে তাদের দুজনেরই মৃত্যু হয়। সিয়াম বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

কাছিপাড়া আব্দুর রশিদ মিয়া ডিগ্রি কলেজে সহকারী অধ্যাপক এএইচ এম মিরন বলেন, কিশোরদের এই অবক্ষয়ের জন্য দায়ী তাদের মা-বাবা। তারা এত অল্প বয়সী সন্তানদের হাতে স্মাট ফোন তুলে দেওয়ার কারণে ইন্টারনেট নিয়ে ঘাটাঘাটি করে। সেখানে ফেসবুকসহ নানা পর্নো ভিডিও দেখে সময় ব্যয় করার কারণে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। মা-বাবাদের উচিত সন্তানদের বিপথে পা বাড়ানোর আগেই যেভাবেই হোক তাদের ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি শুরুর দিকে শোধরানো যায় তা হলে অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা কম থাকে।

এবিষয়ে বাউফল থানার নবযোগদানকৃত ওসি এটিএম আরিচুল হক প্রতিবেদককে বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়ে আমরা সব সময় নজরদারি করে থাকি। তাদের নিন্ত্রয়ণ বলেন, সংশোধন বলেন সমাজে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখতে হবে অভিভাবকদের। পাশাপাশি সচেতনতার লক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সকল বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনার পাথরঘাটার মাদক ব্যবসায়ী আব্দুর রবকে যৌথ অভিযানে আটক করেছে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-৮

সাইফুল্লাহ নাসির আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার পাথরঘাটার কুখ্যাত মাদক ব্যাবসায়ী ও সন্ত্রাসী আবদুর রব কে যৌত অভিযানে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ ও র‌্যাব-৮।

র‌্যাব পটুয়াখালী এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,
গত ১৮ মার্চ ২০২৩, দুপুর ১৪৩০ ঘটিকার দিকে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মুন্সিরহাট এলাকায় ডিবি পুলিশের একটি আভিযানিক দল মাদক অভিযানে গমন করলে তাদের উপর মাদক ব্যবসায়ীরা ধারালো ছুরি নিয়ে অতর্কিত হামলা করে। উক্ত হামলায় ডিবি পুলিশের একজন সদস্যসহ ৩জন আহত হন। এ সময় মাদক ব্যবসায়ী সৈকত হোসেন ও তার লোকজন দেশিয় অস্ত্র (চাকু) দিয়ে পুলিশের উপর হামলা চালায়। এতে পুলিশ সদস্যসহ পুলিশের সোর্স আহত হয়। পরে ডিবি পুলিশের অন্য সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। উক্ত ঘটনার পরে পাথরঘাটা থানায় ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত ০৩ জনকে আসামী করে মামলা করা হয়। উক্ত মামলার এজাহারভুক্ত অন্যতম আসামী আব্দুর রব হাওলাদার।

র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ বিষয়টি গুরুত্বসহকারে আমলে নিয়ে কার্যক্রম আরম্ভ করে এবং র‌্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার তৎপরতায় ও র‌্যাব-৭ আভিযানিক দলের অভিযানে আসামি আব্দুর রব এর অবস্থান সনাক্ত করে তাকে চট্টগ্রাম হতে গ্রেফতার করা হয়। আব্দুর রব এর বাড়ি পাথরঘাটা হলেও সে মাদক ব্যবসার সূত্রে চট্টগ্রামের ষ্টিল মিল এলাকায় বসবাস করে। সে মাদক চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার হতে সংগ্রহ করে তা বরগুনা ও বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন স্থানে বিক্রয় চক্রের অন্যতম সদস্য। আসামী আব্দুর রব গত ১৮ মার্চ ২০২৩ তারিখ পুলিশ সদস্য আহত করার পর পালিয়ে কক্সবাজার গমন করে। পরবর্তীতে, গত ৩১ মার্চ সে কক্সবাজার হতে চট্টগ্রামে নিজ ভাড়া বাসার উদ্দেশ্যে রওনা করলে র‌্যাব-৭, সিপিসি-৩ এর আভিযানিক দল তাকে পটিয়া-আনোয়ারা সংযোগ সড়কের মোর থেকে তাকে গ্রেফতার করে। আসামী আব্দুর রব হাওলাদারের ক্রিমিনাল রেকর্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, চট্টগ্রাম ও বরগুনা জেলায় ৩টি মাদক মামলা ও পুলিশ সদস্যকে ছুরিকাঘাতে দায়েরকৃত মামলাসহ সর্বমোট ০৪টি মামলায় সে এজাহারে অভিযুক্ত আসামী। গ্রেফতারকৃত আসামীকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বাগেরহাটের রামপালে ইসলাম ধর্ম ও রোজা নিয়ে কটুক্তি করায় হিন্দু যুবক গ্রেফতার

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে ইসলাম ধর্ম ও মাহে রমজানের রোজা পালন ও ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার অভিযোগে তমাল পাল (১৯) নামের হিন্দু এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এঘটনায় মো. আক্তার শেখ নামের এক ব্যক্তি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ এনে বৃহস্পতিবার রাতে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। রামপাল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার ও অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতেই তমাল পাল কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ওই যুবক কে শুক্রবার সকালে বাগেরহাটের আদালতে প্রেরন করা হয়েছে। এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের আজিবর শেখের পুত্র আক্তার শেখ বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫ টার সময় উপজেলার খুলনা-মোংলা মহাসড়ক সংলগ্ন ভাগা বাজারের কামাল ফিলিং স্টেশনের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এ সময় কামাল ফিলিং স্টেশনের সামনের বাসিন্দা রবিন পালের পুত্র তমাল পাল ইসলাম ধর্ম ও মাহে রমজানের রোজার তৎপর্য নিয়ে ধর্ম বিরোধী বিরূপ মন্তব্য করতে থাকেন। তাকে নিষেধ করলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, আমি যা বলেছি ঠিক বলেছি। এ কথা কাউকে জানালে ভয়ভীতি ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। মামলা দায়ের ও আসামী তমাল পাল কে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন। তিনি বলেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার বিষয়টি নিয়ে এলাকায় বিরূপ পরিবেশ সৃষ্টি হওয়ার পূর্বেই প্রযুক্তির ব্যবহার ও অভিযান চালিয়ে দ্রুত তাকে খুলনা গ্রেফতার করি। তিনি মাহে রমজানের পবিত্রতা বজায় রাখার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ করেন।

যশোরে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে লেদ থেকে পিস্তল‌ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ মিস্ত্রী গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর গোয়েন্দা পুলিশের একটি টীম অভিযান পরিচালনা করে লেদ কারখানার সন্ধান পায় এবং কারখানা থেকে দেশি পিস্তল, গুলি ও অস্ত্র তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জামসহ লেদ মিস্ত্রি শাহাদত হোসেন (৪০) কে গ্রেফতার করে।আটক শাহাদত শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাহাজাহানের ছেলে। ২৭ মার্চ
সোমবার রাতে যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাহাদতের বসত ঘরের পাশের রুমে এই কারখানার সন্ধান পায় । ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমান ও এসআই নুরের সমন্বয়ে গঠিত গোয়েন্দা পুলিশের বিশেষ টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পায় শহরের পার্শ্ববর্তী শংকরপুরের চোপদারপাড়ায় একটি বসত ঘরের সাথে লেদ বসিয়ে অস্ত্র তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখিত তথ্যের ভিত্তিতে রাত আনুমানিক বারোটায় লেদ কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে একটি দেশি তৈরি পিস্তল, চার রাউন্ড গুলি ও বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি উদ্ধারসহ লেদ মিস্ত্রি শাহাদতকে গ্রেফতার করা হয়। এ সংক্রান্ত বিষয়ে এস আই শাহিনুর বলেন, শাহাদতকে আটক করে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য এর আগে গত বছর অক্টোবর মাসের ১৩ তারিখে যশোর শহরের বারান্দীপাড়া কদম তলার রাঙ্গামাটি গ্যারেজ মোড়ের নিউ বিসমিল্লাহ ইঞ্জিনিয়ারিং নামে লেদ কারখানায় অভিযানে পাঁচটি অস্ত্র উদ্ধারসহ কারখানা মালিক আজিজুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছিলো।

যশোর এক পল্লীতে লেদ মেশিনে মিলল অস্ত্রের কারখানা :আটক-১

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর শহরের শংকরপুর চোপদারপাড়া বারেক পল্লীতে মিললো অস্ত্রের কারাখানা। সোমবার
২৭ মার্চ রাতে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১টি রিভলবার, অসম্পূর্ণ ১টি ওয়ান শ্যুটারগান, ৫ রাউন্ড গুলিসহ অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ। এ সময় অস্ত্র তৈরির কারিগর শাহাদত হোসেন ওরফে বয়রা শাহাদতকে (৪০) আটক করা হয়েছে।
যশোরে এর আগে অবৈধ অস্ত্র তৈরির ৩টি কারখানা জব্দ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্তু ক্রেতা কারা এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বরাবরই অপরগতা প্রকাশ করে আসছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো কোনো সদস্য এই অবৈধ অস্ত্রের ক্রেতা বলে আটক কারিগররা দাবি করলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন। ডিবি পুলিশের এসআই শাহিনুর রহমান জানান, বেশ কিছুদিন আগে গোপনে জানতে পারেন, বয়রা শাহাদত নামে এক ব্যক্তি অবৈধ অস্ত্র তৈরি করে থাকেন। এই তথ্য পেয়ে বয়রা শাহাদতের ধীরে ধীরে সন্ধান করতে থাকেন। এক পর্যায়ে জানতে পারেন, শংকরপুর চোপদারপাড়ার শাজাহান দেওয়ানের ছেলে বয়রা শাহাদত। নিজ বাড়িতে লেদ মেশিন বসিয়ে গোপনে অস্ত্র তৈরি করে আসছেন। নিশ্চিত হওয়ার পর গত সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তিনিসহ এসআই নুর ইসলাম ওই বাড়িতে অভিযান চালান। এ সময় দরজা বন্ধ করে নিজ ঘরের ভেতর লেদ মেশিনে অস্ত্র তৈরি করছিলেন শাহাদত। সাথে সাথে তাকে আটক এবং তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কাঠের বাটযুক্ত ১টি রিভলবার, ৪ রাউন্ড রিভলবারের গুলি, ১ রাউন্ড ওয়ানশ্যুটারের গুলি, অসম্পূর্ণ ১টি ওয়ান শ্যুটারগান, পিস্তল তৈরির স্টিলের ১টি ফর্মা উদ্ধার করা হয়।তার লেদ মেশিনও জব্দ করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি পুলিশের ওই কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক শাহাদত অবৈধ অস্ত্র ও গুলি তৈরির কথা স্বীকার করেছেন। ৩ মাস ধরে অস্ত্র-গুলি তৈরি করছিলেন শাহাদত। তবে ক্রেতা কারা এ বিষয়ে মুখ খোলেন নি শাহাদত। ধারনা করা হচ্ছে, অস্ত্র তৈরি করে গোপনে দেশের বিভিন্ন স্থানের সন্ত্রাসীদের কাছে বিক্রি করে থাকেন শাহাদত। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অস্ত্র-গুলি তৈরির ঘটনায় আটক কারিগর শাহাদতের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে ডিবি পুলিশ। ২৮ মার্চ (মঙ্গলবার) তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গত বছর শহরের আর এন রোড সংলগ্ন রাঙ্গামাটি গ্যারেজ এলাকার একটি লেদ কারখানায় অস্ত্র তৈরিকালে কারিগর আজিজুলসহ ৩ জন এবং সদর উপজেলার ভাতুড়িয়া গ্রাম থেকে অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামসহ ইকবাল নামে আরেক কারিগরকে আটক করে ডিবি পুলিশ। পৃথক এই অভিযানে সরঞ্জামসহ কারিগররা ধরা পড়লেও এসব অবৈধ অস্ত্রের ক্রেতা আসলে কারা সেই বিষয়ে ডিবি পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানের সন্ত্রাসীরাই এর ক্রেতা। কিন্তু এসব ক্রেতাকে শনাক্ত ও আটকসহ অস্ত্র উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি কখনো।

যশোর শার্শায় ১০ টি সোনার বার উদ্ধার :আটক -২

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোরের শার্শায় জুতোর মোজায় লুকিয়ে রাখা ১০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে বিজিবি। শার্শা সীমান্তে দুই জন আটক হয়েছে। পায়ের মোজায় লুকিয়ে ১০ টি সোনার বার ভারতে পাচারকালে  শার্শা উপজেলার জামতলা সীমান্ত থেকে দুইজনকে আটক করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা।

২৩মার্চ  সকাল ১১টার দিকে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের একটি টহলদল বারগুলো উদ্ধার করে। আটককৃতরা হলেন নড়াইল জেলা সদরের বাহিরগ্রামের জাহেদ আলীর ছেলে জাফর আলী (৫২) ও চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানার দুধপাতিল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে নয়ন আলী (১৮)।

খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানভীর রহমান জানান, ভারতে সোনার বার পাচার হবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তিনি নিজেই শার্শা অগ্রভুলোট বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যদের নিয়ে শার্শার জামতলা সীমান্ত এলাকায় গোপনে অবস্থান নেন। এ সময় টহল দল দুই ব্যক্তিকে হাঁটতে হাঁটতে আসতে দেখে তাদেরকে থামতে বলে। পরে তাদের পায়ের মোজার মধ্যে কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১০ টি সোনার বার পাওয়া যায়। যার ওজন এক কেজি ১৬৭ গ্রাম। বাজার মূল্য প্রায় কোটি টাকা। আটক দুই পাচারকারীর বিরুদ্ধে সোনা চোরাচালান আইনে মামলা দিয়ে শার্শা থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

যশোরে ফেনসিডিলসহ এক যুবক ডিবির হাতে গ্রেফতার

Md. Pikul Islam

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোরের শার্শায় ভারতীয় ফেন্সিডিলসহ শিমুল গাজী (২৫) নামে এক যুবককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। বুধবার (২২ মার্চ) রাত দশ টার সময় ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিল সহ তাকে আটক করা হয়।

আটক, মোঃ শিমুল গাজী উপজেলা ৭নং কায়বা ইউনিয়নের রাড়ীপুকুর গ্রামের আব্দুস সোবহান গাজীর ছেলে।ডিবি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মাদক বেচাকেনা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে, ডিবি’র এসআই মোঃ সোলায়মান আক্কাস, ও এএস’আই মোঃ শফিউর রহমানের নেতৃত্বে ডিবি’র একটি চৌকস টিমের সমন্বয়ে উপজেলা রাড়িপুকুর গ্রামে ইউনুস আলীর বাড়ির সামনে বাগআঁচড়া টু কায়বা গামী পাকা রাস্তার উপর থেকে ওই যুবককে ৩৫ (পয়ত্রিশ) বোতল ফেন্সিডিলসহ আটক করে। যশোর গোয়েন্দা (শাখা) ডিবির ওসি রুপন কুমার সরকার নাটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এবিষয়ে শার্শা থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। জব্দকৃত মাদক ও আসামীকে থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

নাঙ্গলকোটে পুলিশ সাংবাদিকের সাহায্যে মাটি খেকোদের রমরমা ব্যবসা- ড্রেজার গিলে খাচ্ছে কৃষকের আবাদী জমি- কৃষকের মাথায় হাত

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বাঙ্গড্ডার পল্লী বিদ্যুৎ সাব স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় ফসলী জমি থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে গত দেড়মাস ধরে বালু উত্তোলন করছে মাটি খেকো সোহাগ,আব্দুল মান্নান ও মোজাম্মেল গংরা।

জানাযায়; একই ইউনিয়নের গান্দাচি গ্রামের মাটি খেকো সোহাগ বেপারী, শ্যামপুর গ্রামের মাটি খেকো আব্দুল মান্নান ও পেরিয়া ইউনিয়নের যুগীপুকুরিয়া গ্রামের মোজাম্মেল ৩টি ড্রেজার মেশিন দিয়ে প্রায় দেড়মাস ধরে তিন ফসলী জমি থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে।

এব্যাপারে নিরব উপজেলা প্রসাশন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানান; এই বালু উত্তোলনের কারণে অনেক সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, আশে পাশের ফসলী জমি গুলো নষ্ট হচ্ছে তাই স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি তারা যেন দ্রুত এই ডেজার মেশিন গুলো বন্ধ করে এবং যারা ড্রেজার মেশিন পরিচালনা করছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা আহ্বান জানান তারা।

ড্রেজার মেশিন পরিচালনাকারি আব্দুল মান্নানকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন; উপজেলা ভূমি কর্মকর্তার আশরাফুল হকের অনুমতি ক্রমে আমরা এই ড্রেজার মেশিন চালাচ্ছি, কিছু জানতে চাইলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

মাটি খেকো সোহাগ বেপারী বলেন; আমি ইউনো ও এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলেন তাদের অনুমতি ক্রমে আমি ড্রেজার মেশিন চালাইতেছি, কিছু জানার থাকলে তাদের সাথে যোগাযোগ করুন।

আরেক ড্রেজার মেশিন পরিচলানকারি মোজাম্মেল বলেন;আমরা পুলিশকে ২৫ হাজার টাকা ও সাংবাদিকদের ৫ হাজার টাকা দিয়েছি, তারা অনুমতি দিয়েছে ড্রেজার মেশিন চালোনোর জন্য।

নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের কাছে পুলিশ টাকা নিয়েছে বলে জানতে চাইলে তিনি বলেন;এটার সাথে পুলিশের কোন সম্পর্ক নেই,আপনার কাছে কোন প্রমাণ থাকলে সন্ধায় নিয়ে আসুন আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।

এবিষয়ে জানতে;নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হান মেহবুব ও উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা আশরাফুল হককে একাদিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি।

মুঠোফোনে ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়ে পাঠিয়েও কোন উত্তর পাওয়া যায় নি।

মাগুরার ধর্ষণ মামলার মূল আসামি বাকারুল র‍্যাব-৬ এর হাতে গ্রেফতার

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

মাগুরা সদরের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়েকে (২০) ধর্ষণ মামলার মূল আসামী বাকারুল (৪০)কে আজ র‌্যাব-৬, যশোর গ্রেফতার করেছে।
র‍্যাব সুত্রে জানা যায়, ধৃত আসামি গত ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রি: যুবতী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মেয়ে (২০)’কে বাড়ীতে একা পেয়ে আসামী মোঃ বাকারুল ইসলাম (৪০) তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।ভিকটিম তার বাবা-মা ও বড় বোনের সাথে মাগুরা সদর থানা এলাকায় বসবাস করে আসছে। আসামী ভিকটিমের প্রতিবেশী হওয়ায় উল্লেখিত তারিখে ভিকটিমের বাড়িতে সবাই কাজের তাগিদে বাড়ির বাইরে থাকায় সুযোগ বুঝে আসামী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভিকটিম (২০) কে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ সময় ভিকটিমের ডাক-চিৎকারে তার মা ও বোন সহ আশেপাশের লোকজন ছুটে বাড়িতে আসলে বাকারুল ইসলাম (৪০) ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভিকটিমের বড় বোন বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা রুজু করলে ধর্ষক মাগুরা সদর উপজেলার রামনগর গ্রামের সলেমান মন্ডলের পুত্র মোঃ বাকারুল ইসলাম।মামলা রেকর্ড হওয়ার পর আত্নগোপনে থাকে।
র‌্যাব-৬, যশোর বিষয়টি অবহিত হলে তাৎক্ষনিক অত্র ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ধর্ষককারীকে আটকের জন‍্য গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ২১ মার্চ ২০২৩ খ্রি: র‌্যাব-৬, যশোর ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ঝিনাইদহ সদর থানাধীন ছয়ালপুটে এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মূল ধর্ষণকারী মোঃ বাকারুল ইসলাম (৪০)কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ব‍্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।ধৃত আসামীকে মাগুরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে ।