যশোর বেনাপোলে মাছের মধ‍্য থেকে প্রায় ৩ কোটি টাকার স্বর্ণ উদ্ধার

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর বেনাপোলে ভারতীয় পেট্রাপোল সীমান্তরক্ষী বাহিনী বেনাপোল বন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করা মাছের মধ্য থেকে দুই কোটি ৭৮ লাখ ভারতীয় রুপি মূল্যের ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করেছে।

শনিবার(১৮ মার্চ ) সন্ধ্যায় এ ঘটনার পর আমদানি-রপ্তানিতে নজরদারি শুরু করছে প্রশাসন। বেনাপোল এলাকার একটি শক্তিশালি চক্র এই স্বর্ণ পাচারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত জড়িত থাকলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে তারা। ফলে একের পর এক স্বর্ণ পাচার হয়ে যাচ্ছে।ব্যবসায়ীদের দাবি, বেনাপোল বন্দর সুরতি না থাকায় একের পর এক দুর্নীতি আর অনিয়ম ধরা পড়ছে।বেনাপোল কাস্টমস কার্গো শাখা সূত্রে জানা গেছে, সাতীরার মোস্তফা অর্গানিক নামক একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তিন টন তেলাপিয়া মাছ ট্রাকে (সাতীরা ড-১১-০০৪৭) ভারতে রপ্তানি করেন। পণ্যের মূল্য ৭৫০০ মার্কিন ডলার। পণ্য চালানটি রপ্তানির জন্য ব্রাদার্স সেন্ডিগেট নামক সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনাপোল কাস্টমসে ডকুমেন্টস দাখিল করে। পণ্য চালানটি আমদানি করে ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বাবা ইন্টারন্যাশনাল। পেট্রাপোল বন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট রয়েস ইন্টারন্যাশনাল। বৈধ মাছের মধ্য থেকে ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধারের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতের পেট্রাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশি মাছবোঝাই ট্রাকটি নো ম্যান্সল্যান্ডে পৌঁছলে বিএসএফ সদস্যরা ট্রাকটি তাদের জিম্মায় নিয়ে নেন। পরে ট্রাক থেকে মাছের প্যাকেট নামিয়ে তল্লাশি শুরু করেন। এক পর্যায়ে তেলাপিয়া মাছের মধ্য থেকে ৪০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। যার ওজন চার কেজি ৬৬৭ গ্রাম। আটক করা সোনার মোট মূল্য দুই কোটি ৭৮ লাখ ভারতীয় রুপি।

বিএসএফ সূত্রে জানা গেছে, সোনাসহ ট্রাকচালককে আটক করা হয়। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিএসএফ ক্যাম্পে নিয়ে আসা হয়। ওই পাচারকারীর নাম সুশঙ্কর দাস। তিনি বাংলাদেশের সাতীরার বাসিন্দা।

জিজ্ঞাসাবাদে ওই ট্রাকচালক জানিয়েছেন, তিনি ১৫ বছর ধরে ট্রাক চালাচ্ছেন। ট্রাক মালিক সফিকুল ইসলাম সাতীরার বাসিন্দা বলেও জানিয়েছেন তিনি। ওই মাছ কলকাতার বাবা ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সংস্থাকে হস্তান্তর করার কথা ছিল। অভিযুক্তকে সোনার বিস্কুট এবং ট্রাকসহ পেট্রাপোলের শুল্ক দপ্তরের হাতে তুলে দিয়েছে বিএসএফ। এ ব্যাপারে পেট্রাপোল থানায় একটি মামলা হয়েছে।

বগুড়ায় এক কিশোরীর ধর্ষণ মামলার মূল আসামী যশোর র‌্যাব-৬ এর হাতে গ্রেফতার

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍//

যশোর র‍্যাব – ৬, বগুড়ার সারিয়াকান্দির নাবালিকা (১৫) আসামী মোঃ রাব্বী আহম্মেদকে(২৩) কে গতকাল রাতে সদর বসুন্দিয়া এলাকা থেকে আটক করে।
র‍্যাব সুত্রে জানা যায়,কৌশলে প্রেমের ফাঁদে ফেলে এবং প্রতিনিয়ত বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে নির্জনে দেখা করতো।গত ইং ২ অক্টোবর ২০২২ খ্রি: পরবর্তীতে ১১ নভেম্বর ২০২২ খ্রি: কিশোরী ভিকটিমকে কৌশলে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিবাহের প্রলোভন দেখিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বিষয়টি নাবালিকা ভিকটিমের পরিবার জানতে পারলে আসামী ও তার পরিবারকে বিবাহের জন্য বলেন।আসামী ও তার পরিবার নাবালিকা ভিকটিমের বাবাকে বিভিন্ন গালিগালাজ ও হুমকি প্রদান করে তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে নাবালিকা ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে বগুড়া সারিয়াকান্দি থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন।বগুড়া জেলার সরিকান্দি থানার হিন্দুকান্দি গ্রামের হবিবর এর পুত্র রাব্বী আহমেদ (২৩) আসামী মোঃ রাব্বী আহম্মেদ (২৩)।ধর্ষক দীর্ঘদিন আত্নগোপনে ছিলো।

র‌্যাব-৬, যশোর বিষয়টি অবহিত হলে তাৎক্ষনিক ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে ধর্ষণকারীকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রাখে।

এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল ১৭ মার্চ ২০২৩ খ্রি: গভীর রাতে র‌্যাব-৬,ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যশোর জেলার কোতয়ালী মডেল থানাধীন বসুন্দিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মূল ধর্ষণকারী মোঃ রাব্বী আহম্মেদ (২৩) কে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে।
ধৃত আসামীকে বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মধুমতি নদী থেকে বালু উত্তোলনের ভিডিও করার সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা

//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

মাগুরা জেলার মহম্মদপুর উপজেলার শিরগ্রাম এলাকায় প্রবাহিত মধুমতি নদী থেকে প্রতিনিয়ত বালি উত্তোলন করে একটি চক্র সেই চক্রের প্রধান  সেলিম। সেলিমের বাড়ি মহম্মদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামে। এছাড়া সেলিমের রয়েছে বেশ কয়েকজন সহযোগী যাদের মাধ্যম দিয়েই মধুমতি নদী থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা হয় ।

এলাকাবাসীর অভিযোগ বিভিন্ন সময় প্রশাসনকে জানানোর পরেও কোনরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। শুধু তাই নয় যদি জানতে পারে কে প্রশাসনকে খবর দিয়েছে তাদেরকেও বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখানো হয়।

আজ (১৮ই মার্চ রোজ শনিবার)  শিরগ্রাম সুইচগেট সংলগ্ন মধুমতি নদীতে বালি উত্তোলনের সময় সাংবাদিকদের ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে চাই শাওন নামের এক যুবক। শাওন শিরগ্রাম এলাকার ছেলে।

এছাড়া বালি উত্তোলনের শ্রমিকদের  সাথে কোন প্রকার কথা বললে মারধরের হুমকি দেয় শাওন।

কে দিচ্ছে এই দূর সাহস?  কার ছত্র-ছায়ায় চলছে এই বালু উত্তোলন মহম্মদপুরের জনগণ জানতে চাই!

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বালু উত্তোলন বন্ধ করে নদী ভাঙ্গন রক্ষা করতে সদয় হন।

যশোরে সহকারি কাজী শহিদুল গ্রেফতার

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍//

যশোরের সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের আলোচিত (ভুয়া পদাধিকারী) সরকারি ১৩ আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্র ছায়ায় দীর্ঘদিন বাল্যবিবাহ পড়ানো সহকারি কাজী হাফেজ মাওলানা শহিদুল ইসলাম (৫০) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শহিদুল ইসলাম যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের কাশিমপুর গ্রামের মোল্লাপাড়ার মৃত মানিক মোল্লার ছেলে।

মঙ্গলবার (১৪ই মার্চ) বিকাল পাঁচটার সময় যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর বাজার থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে বলে জানা যায় ।

মামলার বাদি সূত্রে জানা যায়, শহিদুল ইসলাম কাশিমপুর ইউনিয়নের রেজিস্টার কাজী আব্দুল্ হাই সিদ্দিকী র সহকারি কাজী পরিচয় দিয়ে বাল্য বিয়ের কাজ করে বেড়ান দীর্ঘদিন। শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে একাধিক বাল্যবিবাহ পড়ানো এবং মিথ্যা নিকাহ নামা প্রদানের  অভিযোগ ও রয়েছে। অঞ্জলি নামের এক ১৩ বছরের মেয়ের বাল্য বিবাহের অনুসন্ধানে ২০২০ সালের ১৬ই মে বাদিসহ  তিন সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী বাল্যবিবাহের নিউজ সংগ্রহ করতে কাশিমপুরে যায়।

আসামী শহিদুল ইসলাম তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে আসামী শহিদুল সহ তাদের উপর হামলা করেন।সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ এসে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন। এরপর শহিদুল ইসলাম বাঁচার জন্য সাংবাদিকদের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সাংবাদিকরা পরে বিষয়টি নিয়ে আরো গভীর তদন্তে গেলে একপর্যায়ে শহিদুল ইসলাম তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন দিয়ে সাংবাদিক শামসুর রহমান নিরবকে মারপিট খুন যখমসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তখন সাংবাদিক শামসুর রহমান নিরব যশোর কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার এসআই মিজান জানান, আসামী শহিদুল ইসলাম এর বিরুদ্ধে কোর্টের একটি ওয়ারেন্ট ছিল। ওয়ারেন্টে আসামীর পিতার নাম ভুল থাকায় আসামী প্রকাশ্যে ঘুরিয়া বেড়াচ্ছিল। পরে উদ্বর্তন  কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে ও কাগজপত্র যাচাই-বাছাই সহ বাদির শনাক্ত মতে আমি আসামী শহিদুল ইসলামককে গ্রেফতার করি। তিনি আরো জানান আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে কোর্টে  পাঠানো হবে বলে জানান।

”জিনের বাদশা” নামক প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৬  

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

র‌্যাব-৬, ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি দল অভিযান চালিয়ে জিনের বাদশা খ্যাত মাজেদুল  ইসলাম(৩২) এক প্রতারক কে গ্রেফতার করেছে।

নাসির নামে এক ভুক্তভোগী বাদী হয়ে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন। মামলার সে দীর্ঘদিন পলাতক ছিল।

জানাযায়, গত ৫/৬ মাস পূর্বে ভুক্তভোগী মোঃ নাসির উদ্দিনের সাথে প্রতারক মাজেদুল ইসলাম (জিনের বাদশা) এর পরিচয় হয়।

পরিচয়ের সূত্র ধরে তার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে এবং জিনের বাদশা মাজেদুল ভুক্তভোগী নাসিরের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করে।

এক পর্যায়ে নাসিরের বাড়ির পুকুরে একটি পিতলের কলসির ভিতরে কোটি টাকার মূল্যের সম্পদ আছে বলে জিনের বাদশা ভুক্তভোগী নাসির ও তার স্ত্রীকে জানায় এবং জিনের মাধ্যমে উক্ত সম্পদ তুলে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিময়ে ৭ লক্ষ টাকা দাবি করে।

ভুক্তভোগী লোভে পড়ে ও জিনের বাদশার কথায় বিশ্বাস করে টাকার বিনিময়ে কলসটি উদ্ধার করতে রাজি হয়।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখ রাতে প্রতারক মাজেদুল তার সহযোগীদের নিয়ে অভিনব কৌশলে নাসিরের পুকুর থেকে একটি পিতলের কলস তুলে তার স্ত্রীর হাতে দেয় এবং ৪১ দিনের মধ্যে কলসের মুখ খোলা যাবেনা বলে জানায় এবং এর মধ্যে কলসের মুখ খুললে তাদের সন্তান মারা যাওয়াসহ বিভিন্ন ভয়ভীতি প্রদান করে।

পরবর্তীতে প্রতারক চক্র ভুক্তভোগী নাসিরের নিকট হতে পর্যায়ক্রমে ৭,০০,০০০/- (সাত লক্ষ) টাকা হাতিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগী ৪১ দিন পরে কলসির মুখ খুলে দেখে ভিতরে শুধু পাথর আছে। ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রতারকচক্রের সাথে যোগাযোগ করে এবং টাকা ফেরত চাইলে প্রতারক চক্র তাকে বিভিন্ন প্রকার হুমকি দেয়।

একপর্যায়ে প্রতারক চক্র যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়ে আত্নগোপনে চলে যায়। বিষয়টি বিভিন্ন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং জনমনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

এ বিষয়ে ভোক্তভোগী নাসির বাদী হয়ে প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় একটি প্রতারণা মামলা দায়ের করেন।

মামলা হওয়ার পর থেকেই র‌্যাব-৬ ঝিনাইদহ ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল জিনের বাদশা খ্যাত প্রতারক চক্র গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং অভিযান অব্যাহত রাখে।

গোপন তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে যে, ঝিনাইদহ জেলার সদর থানা এলাকায় জিনের বাদশা খ্যাত মাজেদুল অবস্থান করছে।

সঠিক সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানাধীন আরাপপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জিনের বাদশা খ্যাত প্রতারনা চক্রের মূলহোতা-১ মোঃ মাজেদুল ইসলাম (জিনের বাদশা) (৩২)কে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উক্ত ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে।

এই জিনের বাদশা চক্রটি বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলায় গভীর রাতে অসহায় সহজ সরল দরিদ্র লোকদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নিচ্ছে।

উক্ত প্রতারণা মামলার বাকী আসামীদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত আছে। গ্রেফতারকৃত আসামীকে ঝিনাইদহ জেলার সদর থানায় হস্তান্তর করার কাজ প্রক্রিয়াধীন।

যশোরে পিতা পুত্র মাদকসহ আটক

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোর নাভারণে হাইওয়ে পুলিশ ৪৫ বোতল বিদেশী মদসহ দু’জনকে আটক করেছেন। আটককৃত পিতা আব্দুর রহমান (৪৩) ও পুত্র আব্দুল্লাহকে (২৪) একটি প্রাইভেটকার থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের থানায় সোপর্দ করা হয়

যশোরের সীমান্ত উপজেলা নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের ক্যাম্পের অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান,আজ ৯ মার্চ বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে বিদেশি মদের একটি চালান যশোরের দিকে যাচ্ছে-এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাত সাড়ে ৩ টায় সঙ্গীয় ফোর্সসহ একটি প্রাইভেটকার নাভারণের সাতক্ষীরা মোড় থেকে আটক করা হয়। যার নম্বর (ঢাকা মেট্রো গ ১২-১১৪৯)। প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে লুকিয়ে রাখা ৪৫ বোতল বিদেশী (ভ্যাট ৬৯ ২৩ বোতল, ব্ল্যাক অ্যান্ড হোয়াইট ১৫ বোতল এবং জে এন্ড বি ৭ বোতল) মদ পাওয়া যায়। বিদেশী মদসহ ব্যবসায়ী পিতা আব্দুর রহমান (৪৩) ও পুত্র আব্দুল্লাহকে (২৪) কার থেকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি কুষ্টিয়া জেলার বেড়া উপজেলার গোলাপ নগর গ্রামে। আরও আটক করা হয় প্রাইভেটকার চালক আকাশ খানকে (২৪)। চালক শার্শা উপজেলার বেনাপোলের তালসারি গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেনের ছেলে।
নাভারণ হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, আটককৃতদের কোর্টে চালান করা হয়েছে।

বরিশালে ডি এন সি’র অভিযানে জি মরফিনসহ দম্পতি আটক

পলাশ চন্দ্র দাসঃ

বরিশাল মেট্রোপলিটন  বিমানবন্দর থানাধীন রহমতপুর বাসস্টান্ডে অভিযান চালিয়ে জি মরফিন ইনজেকশনসহ এক দম্পতিকে আটক করেছে বরিশাল  মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ডি এনসি।বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় গোয়েন্দা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. এনায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বরিশাল মেট্রোপলিটনের বিমানবন্দর থানাধীন রহমতপুর বাসস্টান্ডে অভিযান পরিচালিত হয়।অভিযানের সময় ঢাকা-বরিশালগামী গোল্ডেন লাইন নামের একটি বাসে তল্লাশি চালিয়ে ইসরাত জাহান (২৪) ও তার স্বামী ইশতিয়াক আহমেদ খানকে (২৫) ১০০ অ্যাম্পুল জি-মরফিন ইনজেকশনসহ আটক করা হয়। আটককৃতরা বরিশাল নগরের গগন গলি এলাকার বাসিন্দা। তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় চিংড়িতে অপদ্রব‍্য পুশ ভ্রাম‍্যমান আদালত। ডিপো মালিককে৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, ডুমুরিয়া//

ডুমুরিয়ায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করার অপরাধে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে  এক মৎস্য ডিপো মালিক কে জেল-জরিমানা ধার্য্য করা হয়েছে।

৭ মার্চ মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আফরোজ শাহীন খসরু’র নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

 আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে,  উপজেলা সদর বাজারের  প্রাক্তন ট্রলার ঘাট এলাকায় চিংড়িতে অপদ্রব্য পুশ করছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ভ্রাম্যমান আদালত।

এ সময় মো: নুর ইসলাম শেখের মৎস্য ডিপোতে অপদ্রব্য পুশ করার সময় হাতে নাতে ধরে তাকে  ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং  ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অপদ্রব্য পুশকৃত চিংড়ি ও সরঞ্জামাদি আগুনে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক,উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মচারী নাসির উদ্দীন সানা,থানা পুলিশের সদস্যবৃন্দ।

বাগেরহাটে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট উদ্যোক্তা গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা 

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

বাগেরহাটে গ্রাহকদের দেড় কোটি টাকা নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের যাত্রাপুর বাজার এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার উদ্যোক্তা হাদিউজ্জামান পালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রোববার দুপুর থেকে গ্রাহকেরা সদর উপজেলার যাত্রাপুর বাজারের অবস্থিত ব্যাংকটির কার্যালয়ে ভিড় করেন। এ সময় অনলাইনে নিজের হিসাবে টাকা না পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন অনেকে। হাদিউজ্জামানকে গ্রেপ্তার করে টাকা আদায় করার জন্য এজেন্ট ব্যাংকিং ইনচার্জ ও অন্য কর্মচারীদের কাছে দাবি জানান তাঁরা।

এ ঘটনায় হাদিউজ্জামান ও তাঁর পরিবারের লোকজন কয়েক দিন ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। একাধিকবার কল করে হাদিউজ্জামানের মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

ইসলামী ব্যাংক বাগেরহাট শাখার ব্যবস্থাপক শেখ তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা বাগেরহাট মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছি। অভিযুক্ত উদ্যোক্তার বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’

শেখ তরিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিষয়টি বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে ফিঙ্গার প্রিন্টের মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে লেনদেন করতে হয়। বিষয়টি ব্যাংক উদ্বোধনের সময় আমরা বলেছি। এ ছাড়া ব্যাংক কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে পরিদর্শনে গিয়েও গ্রাহকদের জানিয়েছেন। উদ্যোক্তারা প্রতারণার মাধ্যমে জমা স্লিপ দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে উদ্যোক্তাদের ব্যাংকের স্লিপ ব্যবহার করার কোনো ‍নিয়ম নেই। গ্রাহকদের মধ্যেও কেউ কেউ অতিরিক্ত লাভের জন্য তাঁকে টাকা দিয়েছেন।’ ভবিষ্যতে এজেন্ট ব্যাংকিং গ্রাহকদের এই ধরনের লেনদেন থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন তিনি।

গ্রাহকদের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ওই শাখায় টাকা ফিক্সড ডিপোজিট করেছিলেন তাঁরা। ব্যাংক থেকে জমা রসিদও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাংকের উদ্যোক্তা হাদিউজ্জামান এই টাকা মূল শাখায় জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেন।

এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার ইনচার্জ মো. আবদুল হালিম বলেন, ‘পাঁচ বছর আগে শাখাটি খোলা হয়। তানিশা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাদিউজ্জামান এটি নেন। আমাদের ২ হাজার ৬০০ জনের মতো গ্রাহক রয়েছেন, যাঁদের ডিপোজিটের পরিমাণ ৬ কোটি টাকার ওপরে। এসব গ্রাহকের জমা দেওয়া টাকা আমরা নিয়মানুযায়ী ব্যাংকে জমা দিয়েছি। কিন্তু কিছু গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকের উদ্যোক্তা হাদিউজ্জামান নিজে নিয়ে অন্য খাতে ব্যয় করেছেন। এই টাকার বিপরীতে উদ্যোক্তা নিজে ও আমাদের দিয়ে গ্রাহকদের ব্যাংকের স্লিপ দিয়েছেন।’

হাদিউজ্জামানের নেওয়া গ্রাহকদের টাকার পরিমাণ দেড় কোটির মতো হতে পারে জানিয়ে আবদুল হালিম আরও বলেন, ‘হাদিউজ্জামান দুই মাস ধরে ব্যাংকে আসেন না। গ্রাহকেরা টাকা নিতে এলে অন্য গ্রাহকদের টাকা দিয়ে সমন্বয় করতে বলেন। আমরা সেভাবেই করেছি। সর্বশেষ কয়েক দিন আগে অনেক চেষ্টা করে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি আমাদের বলেছেন, যত দ্রুত সম্ভব জমি বিক্রি করে গ্রাহকদের টাকা পরিশোধ করে দেবেন।’

সাবানা বেগম নামের এক নারী গ্রাহক বলেন, ‘সাড়ে চার লাখ টাকা রেখেছিলাম ব্যাংকে। এই টাকার লাভে আমার সংসারের বেশির ভাগ খরচ চলত। কিন্তু ব্যাংকে এসে জানলাম, আমার হিসাবে কোনো টাকা জমা নেই। আমাদের অন্য কোনো আয় নেই। স্বামী পঙ্গু। হাঁটতে পারেন না। এখন আমাদের সংসার কীভাবে চলবে ভেবে পাই না।’

যাত্রাপুর এলাকার মনোয়ারা বেগম, তাঁর চাচা ও ফুফু মিলে ২৩ লাখ টাকা রেখেছেন ব্যাংকটিতে। মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আজ এসে ব্যাংকে খোঁজ নিয়ে দেখি, হিসাবে কোনো টাকা নেই। এত টাকা হারিয়ে পরিবারের সবাই এখন খুবই চিন্তিত। কী হবে জানি না।’

বাগদিয়া এলাকার আজিজুল হক নামের একজন কৃষক ৫০ হাজার টাকা রেখেছিলেন। তিনি বলেন, ‘এসে শুনছি, টাকা নেই। এভাবে হলে কীভাবে আমরা টাকাপয়সা সঞ্চয় করব?’

উপ সচিব পরিচয়ে এমপির অফিসে প্রতারণায় আটক

//আ: রাজ্জাক শেখ//

উপ সচিব পরিচয়ে খুলনা-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব আব্দুস সালাম মূর্শেদীর অফিসে প্রতারণার অভিযোগে এক প্রতারককে আটক করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করা হয়।

আজ বৃহস্পতিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মো: দ্বীন ইসলাম হোসেন (২২) ওরফে সুমন নামে এক প্রতারক প্রধানমন্ত্রী বরাবর কিছু কাগজ-পত্র নিয়ে এমপি সালাম মূর্শেদীর অফিসে আসেন এবং নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। তার পদবি জানতে চাইলে তিনি প্রথমে নিজেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সহকারী হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সেখানে দেখা যায় “উপ সচিব অর্থ ও উন্নয়ন, জন প্রসাশন মন্ত্রণালয়” লেখা।

তাৎক্ষণিক জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায় এই নামে তাদের কোন কর্মকর্তা নেই। পরবর্তিতে ডিএমপির কলাবাগান থানার পুলিশের নিকট তাকে সোপর্দ করা হয়।