অপারেশন ডেভিল হান্ট|| মোংলায় গভীর রাতে আওয়ামী লীগের ৪ নেতা কর্মীরা গ্রেফতার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

অপারেশন ডেভিল হান্টে মোংলায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৪ আওয়ামী লীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে।

কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরের (মোংলা) অপারেশন অফিসার লে. কমান্ডার অনিক মাহমুদ জানান, অপারেশন ডেভিল হান্টের অংশ হিসেবে সোমবার দিবাগত গভীররাতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মালগাজী এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- আওয়ামী লীগ নেতা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩), মো. ডালিম (৫২), মো. শফিকুর রহমান (৭২), বিধান চন্দ্র রায় (৬৬)-কে আটক করা হয়।

বিধান চন্দ্রের কাছ থেকে ১টি দোনালা বিদেশি বন্দুক ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরো জানান, অপরদিকে আজ মঙ্গলবার ভোররাতে মোংলার কুমারখালী ও গোয়ালেরমেঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম এবং আওয়ামী লীগ কর্মী মো. সাইফুল শেখকে আটক করেছেন পুলিশ।

বাগেরহাটের কচুয়ায় ডেভিল হান্টের অভিযানে আটক-৬

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় ডেভিল হান্ট এর অভিযানের ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত হলো, উপজেলার টেংরাখালীর শামসুর রহমানের ছেলে আবু নাইম (২৪) ও শেখ মকবুল হোসেন এর ছেলে শেখ কামরুল ইসলাম (৫০), বারুইখালি গ্রামের শেখ শফিউদ্দিনের ছেলে শেখ আসলাম উদ্দিন (৫৫), গোপালপুরে মোজাম শিকদার এর ছেলে মিলন শিকদার (৩২)ও শফিউদ্দিন এর ছেলে মোঃ মাছুম শেখ (৩৯), সোনাকান্দর গ্রামের মহেজ উদ্দিন শেখ এর ছেলে আঃ রব (৬০)।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ রাশেদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটককৃত বাগেরহাট জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের মংলায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

মোংলায় খাবার (কেক) খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছেন ৫৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তি। পরে গ্রামবাসী ওই ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলা সোনাইলতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাইলতলা গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত সরদার (৫৫) রবিবার দুপুর ১২টার দিকে পাশের বাড়ীর সাড়ে চার বছর বয়সের এক শিশুকে কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তার বাড়ির বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনায় শিশুটি অসুস্থ অবস্থায় বাথরুমের পাশে পড়ে থাকেন।

পরে শিশুর মা তাকে খুজতে গিয়ে পাশের বাড়ির হেমায়তের বাথরুমের সামনে পান। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবার ও এলাকাবাসী দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুরেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বুলেট সেন বলেন, ধর্ষণের শিকার ছোট শিশু বাচ্চাটাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষক হেমায়েত সরদারকে খুঁজে তাড়িয়ে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন গ্রামবাসী।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সোনাইলতলায় একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেই ধর্ষককে গ্রামবাসী ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হবে।

আটক ধর্ষককে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

খুলনায় শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিম গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধি: জেনিভা প্রিয়ানা||

খুলনার চানমারী, রূপসা, লবণচরা এলাকার আতংক এবং খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী নূর আজিমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় আরও ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাতে কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে গোয়েন্দা কার্যালয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

নুর আজিম খুলনা মহানগরীর টুটপাড়া এলাকার শানু মহুরীর ছেলে। কিছুদিন আগে নুর আজিমের ভাই রকিকে আটক করে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন ফয়সাল আহমেদ দ্বীপ, রিয়াজুল ইসলাম রাজু, কামরুজ্জামান নাঈম ও রানা তালুকদার।

কেএমপির উপ-কমিশনার মো. তাজুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে নূর আজিমসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নূর আজিমের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদকসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তবে অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে কিনা তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।

রূপসায় ৮ম শ্রেনীর ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী আটক

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

খুলনার রূপসায় ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী ধর্ষণ মামলার এজাহারভূক্ত আসামি আরমানকে গত ১৫ নভেম্বর (শুক্রবার) রাতে গ্ৰেপ্তার করেছে রূপসা থানা পুলিশ।

এজাহার সূত্রে জানা যায়- আরমান শেখ (৩২) খুলনা রূপসার আইচগাতি ইউনিয়ন দুর্জনীমহল গ্রামের আমজেদ শেখের ছেলে। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় জিডি সহ একাধিক মামলা রয়েছে। এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা রুজু হয়।

উল্লেখিত- আসামি আরমান শেখ ৮ম শ্রেনীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী গত ২২ অক্টোবর রূপসা আইচগাতী ইউনিয়ন দুর্জনীমহল গ্রামস্থ খালা বাড়ী বেড়াতে যায়। তার খালা ক্লিনিকে কাজ করে এবং খালু একজন ভ্যান চালাক। পরের দিন সকালে খালা-খালু যে যাহার কাজে বাড়ীর বাহিরে চলে যায়। ঐ সময় থেকে শিক্ষার্থী মেয়েটি তাদের বাড়ীতে একা ছিল এবং বিকেল ৩ টার দিকে ঘরে একা বসে থাকা অবস্থায় আসামী আরমান শেখ কৌশলে ঘরে প্রবেশ করে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক ধর্ষণ করে।

এ ব্যাপারে রূপসা থানা (ভারপ্রাপ্ত) ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান- ধর্ষণ মামলার আসামী আরমান শেখ কিছুদিন পলাতক ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার রাতে আটক করতে সক্ষম করা হয়। পরে আসামী আরমানকে খুলনা কোট হাজতে প্রেরণ করা হয়।

রূপসায় ১১ পিচ ইয়াবাসহ দু’জন আটক করেছে পুলিশ

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন এলাকায় পুলিশের এক বিশেষ অভিযান চলাকালীন সময়ে ১১ পিচ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক হয়।

পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই মো.ওহিদুর রহমান জানান- আমার নেতৃত্বে এ এস আই রতন সহ সঙ্গীয় ফোর্স গত ১৭ অক্টোবর দুপুর ১ টার দিকে, শ্রীফলতলা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকায় চেকপোস্ট পরিচালনা করি। এ সময় সন্দেহ হওয়ায় যাত্রীসহ একটি ভ্যানগাড়ি থামাই, সাথে সাথে সামনে বসা দুজন দৌড়ে পালানো চেষ্টা করে। তাৎক্ষণিক ধরে শরীর তল্লাশির মধ্যে ১১ পিচ ইয়াবা উদ্ধারপূর্বক আটক করা হয়।

আসামিরা হলো- আইচগাতি ইউনিয়নের শেখ সিরাজুল ইসলামের ছেলে তানভির আহম্মেদ তৌকির (২২) এর কাছে ৬ পিচ ইয়াবা এবং শীরগাতি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক গাজির ছেলে হাসান গাজি (২৩) এর কাছে ৫ পিচ ইয়াবা পাওয়া যায়। এসময় তারা স্বীকার করে যে তারা মাদক বেচা কেনা করে থাকে। পরে তাদের বিরুদ্ধে রূপসা থানায় মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়।

সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় কিকি করতে পারবে

 //দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

আগামী দুই মাসের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুর স্বাক্ষরকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য সেনা কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

আইনের এসব ধারা অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যেসব ক্ষমতা রয়েছে-

ধারা ৬৪ : ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার এবং হেফাজতে রাখার ক্ষমতা।

ধারা ৬৫ : গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা বা তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা যার জন্য তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

ধারা ৮৩/৮৪/৮৬ : ওয়ারেন্ট অনুমোদন করার ক্ষমতা বা ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপসারণের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা।

ধারা ৯৫(২) : নথিপত্র ইত্যাদির জন্য ডাক ও টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুসন্ধান এবং আটক করার ক্ষমতা।

ধারা ১০০ : ভুলভাবে বন্দি ব্যক্তিদের হাজির করার জন্য অনুসন্ধান-ওয়ারেন্ট জারি করার ক্ষমতা।

ধারা ১০৫ : সরাসরি তল্লাশি করার ক্ষমতা, তার (ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি) উপস্থিতিতে যে কোনো স্থানে অনুসন্ধানের জন্য তিনি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন।

ধারা ১০৭ : শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা।

ধারা ১০৯ : ভবঘুরে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীর ক্ষমতা।

ধারা ১১০ : ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় ক্ষমতা।

ধারা ১২৬ : জামিনের নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা।

ধারা ১২৭ : বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার আদেশ দানের ক্ষমতা।

ধারা ১২৮ : বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেসামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা।

ধারা ১৩০ : বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা।

ধারা ১৩৩ : স্থানীয় উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা।

ধারা ১৪২ : জনসাধারণের উপদ্রবের ক্ষেত্রে অবিলম্বে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা।

উল্লিখিত ক্ষমতা ছাড়াও, যে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য সরকার এবং সেই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারের মধ্যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এই আইনের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধ বা ঘটনাস্থলে তার বা তার সামনে উন্মোচিত হওয়া অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারেন। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে সাজা দিতে পারেন। তবে কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে তা দুই বছরের বেশি হবে না।

Daily World News

ডুমুরিয়ায় তরুন সংঘ ক্লাবের উদ‍্যেগে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের সহায়তা ও গাছের চারা বিতরন

মেধাবী ছাত্রী চৈতির অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী শিক্ষক; ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী ফাইরুজ মাহমুদ নিদ (চৈতি)। তার অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী সোনিয়া সুলতানা এবং শিক্ষিকা কাকলি গাইন সহ দোষীদের ফাঁসির দাবিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য- রূপসার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের প্রেমের ফাঁদে পড়ে গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে চৈতি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে প্রয়াত ছাত্রী চৈতীর মাতা নুরনাহার বাদী হয়ে আদালতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের উক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।

নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ফাইরুজ মাহমুদ চৈতীর পিতা ফিরোজ পাশা, মাতা নুর নাহার শেখ, ইউপি সদস্য রেশমা আক্তার, আশরাফ আলী রাজ, হুমায়ূন কবীর রাজা, নিজাম উদ্দীন, মনিরা বেগম, হাফিজুর রহমান, পিয়াস শেখ, সাব্বির শেখ, হাসান মল্লিক, সাদমান, মো. সিদ্দিক, মো. তুহিন, আরমান শেখ, রেজাউল করিম, ফারুক, জনী, শফিক, হিরা শেখ, সুমন ঘোষ, প্রিন্স শেখ, আঃ হালিম, রিয়াদ শেখ, সৌমিত্র দেবনাথ, ওবায়দুল্লাহ মল্লিক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রাসেল হাওলাদার, মো. ইউসুফ, ইব্রাহিম খলিল, মো. সিয়াম, লাবন্য আক্তার জ্যেতি, সুমাইয়া আক্তার ফাতেমা, সাদিয়া আক্তার লামিয়া, মারুফা, সুমাইয়া সুলতানা, মুন্নী খাতুন, সাহারা আক্তার তৃষা, শান্তনা দাস, জ্যেতি রানী পাল, সুমা খাতুন, আসাদুজ্জামান রাফি, রাহুল কুমার দাস, অর্পন পাল, আজিম শিকদার, রাজ্জাক প্রমূখ।

ব্যবসায়ী আমজাদ নিকারীসহ ভোমরা সীমান্তে দুইজন আটক

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ কালে সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারমান এস এম আমজাদ হোসেনসহ দু’জনকে আটক করেছে। এ সময় রবিশালের আরও এক নেতাও আটক হন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় দিকে তাদেরকে আটক করে বিজিবি। আটককৃত অপর ব্যক্তি হলেন বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিরব হোসেন ওরফে (খোড়া টুটুল)

সাতক্ষীরাস্থ বিজিবি ৩৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশরাফুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, তাদের কাছে গোপন সংবাদ ছিল, রাজনৈতিকভাবে প্রভাব বিস্তার করে সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এমন মানুষ ভোমরা ইমিগ্রেশন দিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে পারেন। এর ভিত্তিতে সীমান্তের তল­াশি চৌকিতে বিশেষ নজর রাখা হয়।

তিনি আরও জানান, সকাল ১০টার দিকে নীরব হোসেন ইমিগ্রেশন পার হয়ে ভারতে যাচ্ছিলেন। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। এছাড়া দুপুরে ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা আমজাদ হোসেনকেও আটক করা হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার এ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের পদত্যাগী চেয়ারমান এস এম আমজাদ হোসেনের শত শত কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। এই সম্পদের একাংশ দেশে, একাংশ বিদেশে।

সংস্থাটি তথ্য অনুযায়ী, সম্পদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক বাড়ি। বেলজিয়াম, ফ্রান্স, সিঙ্গাপুর, রাশিয়া ও ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন বিপুল পরিমাণ টাকা। এসব দেশেও রয়েছে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ।

খুলনা অঞ্চলের এই ব্যবসায়ী স্থানীয় ভাবে আমজাদ নিকারি নামে পরিচিত ছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতে এলাকায় ঘুরে ঘুরে গৃহস্থের কাছ থেকে মাছ কিনে বাজারে বিক্রি করতেন বলে নামের সঙ্গে ‘নিকারি’ শব্দটি যুক্ত হয়। আশির দশকে বাংলাদেশ থেকে ফ্রোজেন ফিস রপ্তানি শুরু হলে, শুরুতেই তিনি সেই ব্যবসায় যুক্ত হন। গঠন করেন নিজের গ্রামের নামে লকপুর গ্র“প।

অভিযোগ আছে বিদেশে চিংড়িসহ অন্যান্য মাছ রপ্তানির নামে তার প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন সময় অপদ্রব্য রপ্তানি করে এই খাতকে ঝুঁকিতে ফেলেছেন। তিনি বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরায় একাধিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। খুলনা শহরে তার রয়েছে একধিক বাড়ি, আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।

এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে লকপুর ফিশ প্রসেস কোম্পানি লিমিটেড, বাগেরহাট সি ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, শম্পা আইস এ্যান্ড কোল্ড স্টোরেজ লিমিটেড, রূপসা ফিশ এ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, মুন স্টার ফিশ লিমিটেড, খুলনা প্রিন্টিং এ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, খুলনা অ্যাগ্রো এক্সপোর্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ইস্টার্ন পলিমার লিমিটেড, মেট্রো অটো ব্রিকস্ লিমিটেড, খুলনা বিল্ডার্স।

চট্টগ্রামে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম//

চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পিওএম) কামরুল হাসান এবং তার স্ত্রীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি ক্রোক করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ বেগম জেবুননেছা আজ মঙ্গলবার (৯ জুলাই) এ আদেশ দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী কাজী সানোয়ার আহমেদ লাভলু বলেন, দুদক অনুসন্ধান করে পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান ও তার স্ত্রীর নামে ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর অবৈধ সম্পদের তথ্য পেয়েছে। গত মাসে দুদক প্রধান কার্যালয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ যাতে অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হস্তান্তর করতে না পারেন, সে জন্য দুদকের পক্ষ থেকে সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করা হয় আদালতে। পরে আদালত তা মঞ্জুর করেন।দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কামরুল হাসান ১৯৮৯ সালে উপপরিদর্শক (এসআই) হিসেবে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পরে পদোন্নতি পেয়ে তিনি হাটহাজারী বাঁশখালীসহ বিভিন্ন থানায় ওসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছর নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার প্রসিকিউশন হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাকে বদলি করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম আদালতের হাজতখানার আসামিদের জন্য সরকারি বরাদ্দের খাবার বিতরণ না করে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বিল তুলে নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

দুদক অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা কামরুল হাসান ঢাকার সাভারে ১০৭ শতক জায়গার ওপর সাভার সিটি সেন্টার নামে ১২ তলা ভবনের চারজন অংশীদারের একজন। সেখানে তিনি কাগজ-কলমে সাত কোটি ৫২ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন। এ ভবনের বেজমেন্টে ৯০টি, প্রথম তলায় ১৪০টি, দ্বিতীয় তলায় ১৪৬টি, তৃতীয় তলায় ৮৯টি ও চতুর্থ তলায় ১০৩টি দোকান এবং ৫ হাজার বর্গফুটের ফুডকোর্ট, পঞ্চম তলায় অফিস ও ষষ্ঠ তলায় ৬৭টি ফ্ল্যাট রয়েছে। বাজার মূল্যে এ সম্পদের মূল্য শতকোটি টাকারও বেশি।

ঢাকার সাভারে মার্কেট ছাড়াও সাভার সিটি টাওয়ার নামে একটি ১০ তলা আবাসিক ভবনেরও অংশীদার। সেখানে ৫৪টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এভাবেই চট্টগ্রাম ও ঢাকায় সম্পদ আর সম্পদ গড়ে তুলেছেন তিনি। এছাড়া কামরুল চট্টগ্রাম নগরের উত্তর হালিশহর, নাসিরাবাদ, চান্দগাঁও এলাকা এবং ঢাকার সাভারে ১৫৪ শতক জমি ও দুটি বাড়ি কিনেছেন। ব্যাংকে ১ কোটি ১০ লাখ ৫০ হাজার টাকার বন্ড ও এফডিআর রয়েছে।

তার স্ত্রী সায়মার নামে রয়েছে পাঁচটি জাহাজ। চট্টগ্রামের হালিশহরে ৪০ শতক জমি রয়েছে। মাত্র ১ লাখ ২৫ হাজার টাকায় ক্রয় দেখানো হলেও বর্তমান বাজারে সেই জমির মূল্য ১২ থেকে ১৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকে তার নামে ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও দেড় কোটি টাকায় কেনা পাঁচটি জাহাজ রয়েছে।

একইভাবে চট্টগ্রাম নগরের সবচেয়ে অভিজাত খুলশী আবাসিক এলাকায় ‘ফয়জুন ভিস্তা’ অ্যাপার্টমেন্টের অষ্টম তলায় সি-৭ নামে ২ হাজার ৫৭০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট ও ১৩৬ বর্গফুটের পাড়ি পার্কিং থাকার তথ্য পেয়েছে দুদক।।

সোয়া সাত লাখ টাকায় ফ্ল্যাট ও মাত্র ২৫ হাজার টাকায় পার্কিং স্পেস কিনেছেন-আয়কর নথিতে এমন দাবি করলেও খুলশীতে আড়াই হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাটের বর্তমান বাজারমূল্য তিন কোটি টাকার বেশি। পাশাপাশি নগরের পশ্চিম নাসিরাবাদ মৌজায় সাত শতক ভূমির ওপর চার তলাবিশিষ্ট বাড়ি রয়েছে।