কচুয়ায় দিন মজুরের বসত ঘরে আগুন লেগে ভস্মিভুত

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় দিন মজুরের বসত ঘরে আগুন লেগে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার রাত ৮টর দিকে উপজেলার চন্দ্রপাড়া এলাকার আকবর আলীর পুত্র মামুন শেখের বসত ঘরে আগুন লেগে সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র নগদ টাকা ধান সহ লাক্ষাধীক টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার জানিয়েছে। আগুন লাগার পরে স্থানীয়রা চেষ্টা করে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান বাবু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেন।

 

 

রামপালে বন্যা দূর্গতদের পাশে দাড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ, জন্মদিনের উৎসব না করে ত্রান প্রদান

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল ও মোংলা এলাকায় ঘূর্ণিঝড় রেমাল’র তান্ডবে ক্ষতিগ্রস্থ ও অসহায় দুর্গতদের মাঝে ত্রান সহায়তা প্রদান করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আগামী মাসে পর পর বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যানসহ তার পরিবারের ৩ থেকে ৪ জন সদস্যদের জন্মদিন। তাই সেই জন্মদিনের আনন্দ উৎসব পালন না করে ঘূণিঝড়ে সব কিছু হারিয়ে যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, রামপাল-মোংলার এ সকল অসহায়দের পাশে দাড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। দিয়েছেন খাদ্য সামগ্রী ত্রান সহায়তা।

রামপালে বন্যা দূর্গতদের পাশে দাড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ, জন্মদিনের উৎসব না করে ত্রান প্রদান

বৃহস্পতিবার (৩০মে) দুপুর ১২ টার দিকে মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছে এ শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। এর মধ্যে রয়েছে তেল, চাল, চিনি, লবন, চিড়া, নুডুলস, টোস্ট ও ডালসহ বেশ কয়েক প্রকারের খাদ্য সামগ্রী।

বসুন্ধরা গ্রুপের জরুরী খাদ্য সহায়তা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের  সংসদ সদস্য বেগম হাবিবুন নাহার। এছাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. তারিকুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর রানা, চাদপাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোল্লা তারিকুল ইসলাম, বসুন্ধরা গ্রুপের জিএম ফয়জুর রহমান, ডিজিএম মাসুদুর রহমান সহ প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মোংলা উপজেলা কর্মকর্তা সহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

রামপালে বন্যা দূর্গতদের পাশে দাড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ, জন্মদিনের উৎসব না করে ত্রান প্রদান

একই দিন দুপুর দেড়টার দিকে রামপাল উপজেলার মল্লিকেরবেড় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে আরো এক হাজার ৫শ জন অসহায়দের মাঝে এ ত্রান সহায়তা প্রদান করেন বসুন্ধরা গ্রুপ। প্রধান অতিথি হিসেবে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সহায়তা তুলে দেন বাগেরহাট-৩  (রামপাল-মোংলা) আসনের  সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার। এসময়, রামপাল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন, বসুন্ধরা গ্রুপের জিএম ফয়জুর রহমান, ডিজিএম মাসুদুর রহমান সহ প্রতিষ্ঠানের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্য হাবিবুর নাহারের ব্যক্তিগত সহকারি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রেদওয়ান মারুফসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ স্থানীয় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও দেশের অন্যান্য এলাকায়ও বন্যা দূর্গতদের পাশে থেকে ত্রান সহায়তা প্রদান করবে বলেও জানায় বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিনিধিরা।

বাগেরহাট-৩ (রামপাল-মোংলা) আসনের সংসদ সদস্য হাবিবুন নাহার বলেন, প্রাকৃতিক ঘূর্ণিঝড়ে এ দুই উপজেলায় ও সুন্দরবনে ব্যাপক ধ্বংশযজ্ঞ চালিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রেমাল। এতে এ অঞ্চলের মানুষের ক্ষতির পাশাপাশী বনের বনজ ও প্রানীকুলের অপুরনীয় ক্ষতি হয়েছে। মানুষের জানের ক্ষতি না হলেও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সুন্দরবনের গাছপালাসহ অসংখ্য বন্যপ্রানীর মৃত্যু হয়েছে। যা পুষিয়ে উঠতে কয়েক বছর সময় লাগবে। এ মহাবিপদের সময় সরকারের পাশাপাশী বন্যা দুর্গতদের পাশে এসে দাড়িয়েছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আমদের পক্ষ থেকে অভিন্দন ও তাদের স্বাগত জানাই এলাকার অসহায় মানুষের পাশে দাড়ানোর জন্য। আশা করি আগামীতেও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান সহ তার লোকজন সব সময় আমাদের পাশে থাকবে এ প্রত্যাশা রাখি।

বাগেরহাটের কচুয়ায় মামাতো ভাই খুন ঘাতক, ফুফাতো ভাই আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সম্পত্তির ভাগাভাগির দ্বন্দে  ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মশিউর রহমান (২৮) নামের মামাতো ভাই  নিহত হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার টেংরাখালীর হাজরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মশিউর রহমান উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের হাজরাপাড়া এলাকার প্রয়াত মাসুদ হাজরার ছেলে।

অভিযুক্ত দুজন হলেন মশিউরের ফুফাতো ভাই মো. সাব্বির (২৮) ও মো. বায়েজিদ (২০)।
তাঁদের বাড়িও একই এলাকায়।
এ ঘটনার পর পুলিশ ওই দুই ভাইকে আটক করেছে।

বাগেরহাট পুলিশ মিডিয়া শেলের কর্মকর্তা বাবুল আক্তার জানান, সম্পত্তর দ্বন্দ নিয়ে মামাতো ভাই ও ফুফাতো ভাইদের বিরোধে মামাতো ভাই খুন হয়েছে। ফুফাতো ভাইদের ছুরিকাঘাতে মশিউর আহত হয়। তাকে কচুয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে  নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মশিউর মারা গেছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে।

রিমেলের তান্ডবে বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে আমতলীর নিম্নাঞ্চল

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

ঘুর্ণিঝড় রিমেলের তান্ডবে বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাংগাশিয়া ইউনিয়নের পশরবুনিয়া বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় ঐ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম তলিয়ে গেছে।

বঙ্গোপসাগর থেকে শুরু হওয়া দেশের বৃহত্তম নদী বুড়িশ্বর (পায়রা) পারের এ বাঁধটি ভেঙ্গে ঐ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এলাকার অধিকাংশ মানুষ বাড়ীঘর ছেড়ে রাস্তায় অবস্থান নিয়েছেন।উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে ঘূর্নিঝড়ের সার্বিক তদারকি করা হয়েছে। এলাকায় পর্যাপ্ত সাইক্লোন শেল্টার না থাকায় কিছু এলাকায় এমন ভোগান্তি হচ্ছে।

বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ শুনে সাথে সাথে উপজেলা প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্হ এলাকায় পরিদর্শন করেন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার জনসাধারণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করেন।

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রাকিব বলেন,পশরবুনিয়া বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার সংবাদ পাওয়া মাত্রই আমাদের লোকজন সেখানে মেরামতের কাজ শুরু করেছে।

বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়া বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,উপজেলা প্রশাসনের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্হা গ্রহণ করা হয়েছে।

মোংলায় যাত্রীবাহী ট্রলার ডুবি – দেখুন ভিডিও: 

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের মোংলায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার ডুবির ঘটনা ঘটেছে।

রোবিবার (২৬মে) সকালে মোংলা নদীর মামার ঘাটে অতিরিক্ত যাত্রী তোলার কারণে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

ধারণা করা হচ্ছে ডুবে যাওয়া নৌকাটিতে ৭০ থেকে ৮০ জন যাত্রী ছিলো।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ট্রলার ডুবির পর এতে থাকা বেশিরভাগ যাত্রীই সাাঁতার কেটে তীরে উঠে আসতে সক্ষম হয়েছে। ট্রলারের অধিকাংশ যাত্রীরা মোংলার ইপিজেড সহ বিভিন্ন কলকারখানায় চাকরি করেন মোংলা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নিশাত তামান্না জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলারে ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানাগেছে।

পৌরসভার সিসি ক্যামেরায় দেখা হচ্ছে। কোনো যাত্রী নিখোঁজ আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে স্থানীয় ডুবুরি দল, ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল।

ভিডিও: 

ফকিরহাটে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা || মুসাল্লিদের বেদম-মারপিট- রক্তাক্ত- জখমের ঘটনায় মামলা

//এম মুরশীদ আলী//

বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ২১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষপাত সমর্থক থাকার অপরাধের জেরধরে ভোট গ্রহন পরবর্তী সময় গত ২৪ মে, মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লিদের পিছ থেকে অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে সন্ত্রাসী একটি দল। তাতে কয়েকজন নামাজরত মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় জড়িত ১০/১২ জন সহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে ফকিরহাট থানায় মামলা হয়েছে।

এজাহার ও ভুক্তভোগী মুসল্লিরা জানায়, স্বপন দাস বিগত আমলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পুনরায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করেছেন। তাঁর (আনারস) প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করার অপরাধে তাদের জিততে নাকি অনেক কষ্ট হয়েছে। এই কষ্টের প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসবাহিনী দ্বারা এহেন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে ত্রাস সৃস্টির মাধ্যমে জিম্মি করে রাখতে আমাদের উপর হামলা। আমরা সাধারণ মানুষ মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় মৌভোগ বাগে জান্নাত জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লি ছিলাম। এ সময় সন্ত্রাসী একটি দল অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে দেয়। তাতে কয়েকজন মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখমের শিকার হয়। তারা হলেন- কাঞ্চন শিকদারের ছেলে মো. মিরাজুল শিকদার (২৫), নুরুজ্জামান ময়নার ছেলে ফজলে করিম শিকদার (২৮), মৃত আবু বক্কার শিকদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৬৫)। এদের প্রত্যেকের মুখে ও মাথা কাটা-ফোলা রক্তাক্ত অবস্থায় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ডাক্তার তাৎক্ষনিক সময়িক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনার আসামিরা হলেন- ফকিরহাট উপজেলার নলধা- মৌভোগ ইউনিয়নের মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নিয়ামত শিকদারের ছেলেরা যথাক্রমে- ১। মো. ইব্রাহিম শিকদার, ২। মো. হযরত শিকদার, ৩। মো. আফসার সিকদার, ৪। মো. টুকু শিকদার, ৫। মো. কওসার শিকদার, ৬। মো. আবিদ শেখ, ৭। মো. শাকিল সিকদার, ৮। ইমদাদুল সিকদার, ৯। মো. আমিনুর ইসলাম (বড় মিঞা), ১০। হোসেন শেখ, ১১। নুর ইসলাম শেখ, ১২। মো. মুনসুর শিকদার। তারা এ জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মো. কাঞ্চন শিকদার বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় গত ২৪ মে মামলা দায়ের করেন।

ওয়ার্ড মেম্বর শেখ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন- মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করছে, এমন সময় মনে হচ্ছে ইহুদিরা হামলা করে সব তছনছ করে দিলো। পিছ থেকে মাথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে মসজিদে লুটিয়ে পড়লো একের পর এক। কিছু বুঝে উঠার আগেই নিমিষে রক্তাক্ত করে যাওয়ার সময় বলে এটানাকি নির্বাচনী বিরোধী করার প্রতিফল। এলাকার মানুষ ভয়ে দিন কাটাচ্ছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মুক্তি বলেন- নির্বাচন শেষ হতে না হতেই এই নলধা মৌভোগ ইউনিয়নে চোরা গুপ্ত হামলা শুরু হয়েছে। একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার মূহুর্তে অর্তকৃত মারপিট করে মারাত্মক জখম করে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি উভয়কে শান্ত থাকতে বলেছি।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক, ভারপ্রাপ্ত ওসি বিপুল চন্দ্র দাস বলেন- জুমার নামাজের সময় মসজিদে যারা এহেন জঘন্য ঘটনার অপরাধী, তারা যেই হোক, কোনপ্রকার ছাড় পাবে না। আমরা পুলিশ বাহিনী সব সময় অপরাধিকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখি বলেই আজ ঘটনার পরপরই আমরা একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি দুষ্কৃত আসামিদের অতি দ্রুত আটক পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিক-আপের ধাক্কায় প্রাণ হারাল রামপালের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শোভা

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে নিয়ন্ত্রণহীন পিক-আপ গাড়ির ধাক্কায় মোসাঃ শোভা খাতুন (৯) নামের এক চতুর্থ শ্রেণির স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে।

নিহত শোভা উপজেলার শ্রীফলতলা এলাকার মোঃ আলমগীর হোসেনের মেয়ে। সে পার্শবর্তী শ্রীফলতলা কিন্ডারগার্টেনের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জানাযায়, শনিবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৬ টার পর মায়ের সাথে প্রাইভেট পড়ার জন্য হেঁটে হেঁটে রামপালের দিকে যাচ্ছিল শোভা। তারা রামপাল মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে পৌঁছালে পিছন দিক থেকে ঘাতক পিক-আপ এসে শোভাকে ধাক্কা দেয়। পিকআপের ধাক্কায় শোভা রাস্তার উপর পড়ে গুরুতর জখম হয়। তার মায়ের ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন তাকে রামপাল  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এ খবর পেয়ে রামপাল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘাতক পিক-আপটি জব্দ করলেও  এ ঘটনার পর চালক পালিয়ে গেছে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি (তদন্ত) বিধান বিশ্বাস বলেন, শনিবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় চতুর্থ শ্রেণির একটি বাচ্চা মারা গেছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং ঘাতক পিক-আপটি আটক করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রনহীন পিক-আপ চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি। তাকে আটকের চেষ্টায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রেমাল (বালু) ঘূর্ণিঝড় কখন কিভাবে কোথায় আঘাত হানতে যাচ্ছে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

প্রতি ঘণ্টায় ১০ কিলোমিটার করে সামনের দিকে এগোচ্ছে পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত ঝড়টি। বৃহস্পতিবার (২৪ মে) দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে থাকলেও সন্ধ্যা ৬টায় তা ৭৪৫ কিলোমিটার দূরত্বে এসে পৌঁছে। ৬ ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার এগিয়েছে ঝড়টি। ফলে প্রতি ঘণ্টায় এর গতিবেগ ১০ কিলোমিটার।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সাগরে অবস্থানরত এই নিম্নচাপটি কাল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। যদি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয় তাহলে তা পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার ওপর দিয়ে রবিবার সন্ধ্যায় অতিক্রম করতে পারে। ঘণ্টায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ হতে পারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে। আর ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘রেমাল’। ওমানের দেয়া এই নামটির অর্থ ‘বালু’।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ২ নম্বর বিশেষ বুলেটিনের তথ্যমতে, পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত নিম্নচাপটি উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে। নিম্নচাপটি গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম থেকে ৭৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৬৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ৭১০ কিলোমিটার দক্ষিণে ও পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৬৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। দুপুর ১২টায় ছিল চট্টগ্রাম থেকে ৮০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৭৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ পশ্চিমে , মোংলা থেকে ৭৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণে ও পায়রা থেকে ৭৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৪৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা গতিবেগ ঘন্টায় ৪০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচেছ। নিম্নচাপ কেন্দ্রের মধ্যে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে এক নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একইসঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে উপকূলের কাছাকাছি নিরাপদে থাকতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর তাদের পূর্বাভাসে নিম্নচাপটি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে উল্লেখ করেছে। ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে, আসন্ন ঝড়টি পশ্চিমবঙ্গের সাগর দ্বীপ ও পটুয়াখালীর খেপুপাড়ার উপর দিয়ে অতিক্রম করবে রবিবার সন্ধ্যায়।

তবে এর গতিপথ নিয়ে এখনই চূড়ান্ত কথা বলতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। আবহাওয়া অধিদপ্তর কিংবা ভারতীয় আবহাওয়া অধিদপ্তর যদিও ঝড়ের গতিপথের পূর্বাভাস দিয়েছে। তারপরও আজ শনিবার হচ্ছে টার্নিং পয়েন্ট। আজ যদি তা বাম দিকে একটুও টার্ন নেয় তাহলে তা বাংলাদেশ ভারত সীমান্তের মাঝ দিয়ে অর্থাৎ উভয় দেশের সুন্দরবনের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। বাম দিকে টার্ন নিবে কেন?

এশিয়ান মেটিওরোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. মোহন কুমার দাশ জানান,‘বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে সম্ভাব্য ঝড়টি বাম দিকে টার্ন নেয়ার প্রবণতা বেশি। পূর্ব দিক থেকে আসা মৌসুমী বাযুর কারণে তা পশ্চিমে (বাম দিকে) বেঁকে পড়তে পারে। তবে এখন যেহেতু ঝড়টি উপকূলের ৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে চলে এসেছে তাই আগামীকাল শনিবার ই বাঁক নেয়ার চূড়ান্ত সময়।

যদি বাঁক নেয় তাহলে তা ভারত-বাংলাদেশের সুন্দরবনের উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে। আর যদি বাঁক না না নেয় তাহলে খেপুপাড়ার উপর দিয়ে অতিক্রম করতে পারে।’

এ বিষয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, এখনো ঝড়টি সম্পর্কে শতভাগ পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব নয়। আগামীকাল শনিবার সাগরে অবস্থানের সময় এর গতিপথ কোন দিকে যায় এর উপর নির্ভর করবে। তবে এখন পর্যন্ত এর যে গতিপথ তা ২০১৫ সালে সিডর যে পথে আঘাত করেছিল সেই পথ দেখাচ্ছে। কিন্তু সিডরের সাথে শক্তি ও পরিধি সাথে এই ঝড়ের ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে।’

গতিপথ প্রসঙ্গে ড. মোহন কুমার দাশ আরও বলেন, ২০০৯ সালে আঘাত করা ‘আইলা’ পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে অতিক্রম করেছিল। কিন্তু দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ঝড়ের ডান দিকে থাকায় সেসব এলাকায় বেশি ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছিল।

এপ্রিল ও মে মাস হলো ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম। এরমধ্যে মে মাস সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এপ্রিল মাস জুড়ে সাগরে কোনো লঘুচাপ সৃষ্টি হয়নি। ইতিমধ্যে মৌসুমী বায়ুও সেট হয়ে গেছে। মৌসুমী বায়ু প্রবেশের আগে সাগরে একটি নিম্নচাপ বা ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়ে থাকে সাধারণত। আর এরই ধারবাহিকতায় সাগরে একটি নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। গত ৩০ বছরের আবহাওয়ার উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০০৭ সালের ১১ মে সৃষ্টি হয়ে ১৫ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘আকাশ’, ২০০৮ সালের ২৭ এপ্রিল সৃষ্টি হয়ে ৩ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘নার্গিস’, ২০০৯ সালের ২৫ মে ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’ আঘাত করেছিল, ২০১০ সালের ১৬ মে সৃষ্টি হয়ে ২১ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘লায়লা’, ২০১৩ সালের ৮ মে সৃষ্টি হয়ে ১৬ মে আঘাত করেছিল ঘূর্ণিঝড় ‘মহাসেন’, ২০১৬ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘রোয়ানা’ ১৪ মে সৃষ্টি হয়ে ২২ মে আঘাত করেছিল, ২০১৭ সালে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ২৫ মে সৃষ্টি হয়ে ৩১ মে আঘাত করেছিল, এছাড়া ২০১৯ সালে ‘ফনি’ ৫ মে এবং ২০২০ সালে আম্ফান ১৩ মে থেকে ২১ মে এর মধ্যে আঘাত করেছিল।

Daily World News

মোংলা থানার ওসির অপসারনের দাবীতে বাগেরহাটে মানববন্ধন

 শাহীন অপরাধ রাজ্যের অধরা সম্রাট এবং এমপি আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম রইসি সহ বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের থাকা সব কর্মকর্তারা মারা গেছেন

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহীম রইসি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ানসহ বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারের থাকা সব কর্মকর্তারা মারা গেছেন। দেশটির আধা সরকারি নিউজ এজেন্সি মেহের নিউজ এ খবর দিয়েছে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমটির বরাত আল জাজিরা জানিয়েছে, বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারে ছিলেন পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের গভর্নর মালেক রহমাতিও। যদিও প্রেসিডেন্টের মৃত্যুর বিষয়টি এখনো পর্যন্ত নিশ্চিত করেননি দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা রয়টার্সকে প্রেসিডেন্ট রাইসিসহ হেলিকপ্টারে থাকা কর্মকর্তাদের মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে চিকিৎসকরাও দুর্ঘটনাস্থলে প্রাণের কোনো অস্তিত্ব পাননি বলে জানিয়েছেন।

এর আগে রোববার আজারবাইজানের সীমান্তবর্তী এলাকায় দুই দেশের যৌথভাবে নির্মিত একটি বাঁধ উদ্বোধন করতে যান ইব্রাহিম রাইসি। সেখানে আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভও ছিলেন। সেখান থেকে তিনটি হেলিকপ্টারের বহর নিয়ে ইরানের পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশের রাজধানী তাবরিজে ফিরছিলেন ইব্রাহিম রাইসি ও তার সঙ্গে থাকা অন্য কর্মকর্তারা।

সোমবার আল জাজিরার খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসির হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার মুখে পড়ার পর সেখানে কারও জীবিত থাকার ‘কোনো চিহ্ন’ নেই বলে ইরানের রাষ্ট্রীয় টিভি বলছে।

অন্যদিকে ইরানের এক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় হেলিকপ্টারটি ‘সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে’।

পথে পূর্ব আজারবাইজানের জোলফা এলাকার কাছে দুর্গম পাহাড়ে প্রেসিডেন্টকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়। তবে অন্য দুটি হেলিকপ্টার নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছায়।

ডুমুরিয়ায় তাল কাটতে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় খর্নিয়া বাজার এলাকায় তাল গাছ থেকে পড়ে গতকাল শনিবার ১৮ মে  সকালে  জিয়াউর রহমান (৩৫) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

এলাকাবাসী  সূত্রে জানা গেছে  উপজেলার খর্ণিয়া ইউনিয়নের ভদ্রদিয়া গ্রামের নুর মোহাম্মদ শেখের ছেলে জিয়াউর রহমান শনিবার  সকালে খর্ণিয়া বাজারস্থ জনৈক মজিদের দোকানের সামনে একটি তাল গাছে তাল কাটতে উঠে। এ সময় অসাবধানতাবশতঃ পা পিছলে নিচের পাকা রাস্তার উপর পড়ে।

এসময় তার কান দিয়ে প্রচুর রক্তক্ষরণে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত্যু বলে ঘোষণা করেন। তার মৃত‍্যুতে পরিবারের মধ‍্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।