ফকিরহাটে চা দোকানির মরদেহ উদ্ধার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার মানসা পালপাড়া এলাকা থেকে কার্তিক পাল (৭২) নামের এক চা দোকানদারের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (২৪ জুন) দুপুর ১২টায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত কার্তিক পাল মানসা পালপাড়া এলাকার মৃত কেনারাম পালের ছেলে। পরিবারের দাবী তিনি আত্মহত্যা করেছে।

পুলিশ জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয়রা মানসা পালপাড়া এলাকায় নিহত কার্তিক পালকে বাড়ির পাশে নিজ বাগানে একটি আমগাছের ডালের সাথে গলায় গামছা দিয়ে ফাঁস লাগানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মানসা স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নিয়ে আসেন। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।

ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আশরাফুল আলম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ বাগেরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন আসলে তিনি কিভাবে মারা গেছেন তা সঠিক ভাবে জানা যাবে।#

আমতলীতে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে আসার পথে ব্রীজ ভেঙ্গে ৯জন নিহত

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে কনের পক্ষ থেকে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে আমতলী আসার পথে আমতলীর হলদিয়ার হাট ব্রীজ ভেঙ্গে একই এলাকার সাতজন সহ নয়জন নিহত হয়েছেন।

আজ শনিবার বেলা দেড়টার সময়ে উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন থেকে আমতলী পৌর শহরের ৩নং ওয়ার্ডে বৌ-ভাতের অনুষ্ঠানে সেখানে কনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে আসার পথে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নয়জনের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সাতজন হলেন, রুবিয়া (৪৫), রাইতি খান (২২), ফাতেমা (৩৫), তাহিয়াত মেজবিন (৭), ফরিদা বেগম (৪৮), শাহনাজ আক্তার (৩৭), তাসফিয়া মুবাসসেরা (১২), নিহতদের অপর দু’জন হলেন আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের তক্তা বুনিয়া গ্রামের জাকিয়া (৩৫) ও রুকাইদ ইসলাম (৪/৫)। দুর্ঘটনায় আহত দুই নারীর অবস্থা আশংকাজনক।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডাঃ লুনা বিনতে হক বলেন, নিহতরা সকলেই হাসপাতালে আসার পুর্বে মৃত্যু বরন করেন।

ফকিরহাটে বাসের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহী  পিতা ও শিশু পুত্রের

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। এসময় মোরটসাইকেলে থাকা মাও গুরুত্বর আহত হয়েছেন।

খুলনা-বাগেরহাট মহাসড়কের ফকিরহাট উপজেলার পিলজংগ ইউনিয়নের মহাদেবের দোকান নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, শনিবার (২২ জুন) সকাল ৯টায় পটুয়াখালী থেকে মোটরসাইকেল যোগে তারা তিনজন মোটরসাইকেলে যশোর গদখালী এলাকায় যাচ্ছিলেন।

ফকিরহাট উপজেলার মাহদেবের দোকান এলাকায় এসে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা বাগেরহাটগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তাদের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মোটরসাইকেল চালক খলিলুর রহমান (৪৫) এবং তার এক বছরের শিশুপুত্র ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এসময় নিহত খলিলুর রহমানের স্ত্রী মিনু বেগম (৩৫) গুরুত্বর আহত হন। তার অবস্থাও আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

কুয়েতে আগুন: নিহত ৪৯

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

কুয়েতের দক্ষিণাঞ্চলীয় মানগাফ এলাকায় বহুতল আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৪১ জনই ভারতীয়।

বুধবার (১২ জুন) ভোরে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভবনের একটি তলার রান্নাঘরে আগুন লেগে তা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ভবনের বাসিন্দারা ঘুমিয়ে ছিলেন। বেশির ভাগ বাসিন্দারই মৃত্যু হয়েছে ধোঁয়ায় দম বন্ধ হয়ে।

এ ঘটনায় আহত আরো ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। কুয়েতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ভবনে ১৬০ জনের মতো মানুষ থাকতেন। তারা সবাই একটি কোম্পানিতে নিয়োজিত ছিলেন। তারা নির্মাণসংশ্লিষ্ট নানা কাজ করতেন।

আরব টাইমসের তথ্যমতে, নিহত ভারতীয়দের বেশির ভাগের বাড়ি কেরালা, তামিলনাড়ু ও উত্তর ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে। তাদের বয়স ২০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে।

এ ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এক্সে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘কুয়েতের শহরে আগুনে প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। এ ঘটনায় যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, তাদের সবার প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি।’

মর্মান্তিক এ ঘটনায় পরবর্তী করণীয় নিয়ে নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হচ্ছে।

জানা গেছে, কেরালার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে একটি চিঠি লিখে কুয়েতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে বিজয়ন লিখেছেন, তিনি রিপোর্ট পেয়েছেন যে কুয়েতের মাঙ্গাফের এনবিটিসি ক্যাম্প নামে পরিচিত একটি ক্যাম্পে আগুন লেগেছে এবং কেরালার কিছু মানুষসহ বেশ কয়েকজন ভারতীয়  নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। অনেক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

চিঠিতে আরও লেখেন, আমি আপনাকে অনুরোধ করছি কুয়েত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন এবং ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানের সমন্বয়ের জন্য ভারতীয় দূতাবাসকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিন।

কুয়েতের উপপ্রধানমন্ত্রী শেখ ফাহাদ আল-ইউসুফ আল-সাবাহ বলেন, শ্রমিকদের নিয়োগদাতা কোম্পানি ও ভবনমালিকদের লোভের কারণে আগুনে এভাবে প্রাণহানি ঘটেছে।

ওই ভবন ভাড়া করেছিল এনবিটিসি গ্রুপ। সেটির মালিক ভারতের কেরালার ব্যবসায়ী কে জি আব্রাহাম বলে গণমাধ্যমের খবর বলা হয়েছে। কুয়েতসহ উপসাগরীয় দেশগুলোয় নির্মাণশ্রমিকসহ এ ধরনের কাজ করা ব্যক্তিদের বসবাসের জন্য সাধারণত এ ধরনের ভবনের বন্দোবস্ত করা হয়। সেখানে গাদাগাদি করে থাকতে হয় প্রবাসী শ্রমিকদের।

ডুমুরিয়ায় ইউপি সদস্যকে মারপিট করে ভিজিএফ-এর কার্ড সহ টাকা ও চেন কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনার ডুমুরিয়ায়  এক বকাটে যুবক কর্তৃক সাহস  ইউপি’র এক  সদস্যকে মারপিট   করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ১১ জুন সন্ধ‍্যায় পরিষদের থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে মারপিট করে ঈদুল আজহার  ভিজিএফ-এর কার্ড  সহ নগদ অর্থ সোনার চেন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এঘটনায় তিনি ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ডুমুরিয়া উপজেলার ৯নং সাহস ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও চাড়াবান্দা গ্রামের বিষ্ণুপদ বিশ্বাসের ছেলে বিবেকানন্দ বিশ্বাস থানায় লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, একই ইউনিয়নের সাহস কুমারঘাটা গ্রামের আসাদুল খান,ইনামুল শেখ  ও আব্দুল্লাহ সরদারের সাথে তার বিভিন্ন বিষয়াদি নিযে পূর্ব হতে বিরোধ চলে আসছে। তারই জের ধরে গত ১১জুন রাতে তিনি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে রাস্তায় ওঠামাত্রই পূর্ব হতে ওত পেতে থেকে তার উপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে  শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত  করে এবং তার কাছে থাকা নগদ টাকা, গলার স্বর্ণের চেইন ও ১৬৩ টি ভিজিএফ -এর কার্ড ছিনিয়ে নিয়ে জীবন নাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এ ঘটনায়  ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে । এঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান মোল্ল‍্যা মাহাবুর রহমান ঘটনার সত‍্যতা স্বীকার করে বলেন ঘটনাটি দুঃখ জনক থানা নিজে উপস্থিত থেকে অভিযোগ দিয়েছি।  এ ঘটনায় সকল ইউপি সদস‍্য সঠিক বিচার দাবী জানিয়েছে। এঘটনায় আসাদুল খানের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায় নি।

রূপসায় সার আনলোড হ্যান্ডেলার গ্রাফসের চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

দৈনিক বিশ্ব, নিজস্ব প্রতিনিধি||

রূপসায় সার আনলোড করতে গিয়ে আনলোড হ্যান্ডেলার গ্রাফস এর নিচে চাপা পড়ে আসাবুর ঢালী কালু (৪০) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। গত ১১ জুন বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে পূর্ব রূপসাস্থ বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন সড়কের বিলুপ্ত রুপসী রাইস মিলের অদূরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আসাবুর রহমান ঢালী দাকোপ উপজেলার গুনারি গ্রামের সাত্তার ঢালীর ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়- দীর্ঘ দিন ধরে ওই স্থানে আকিজ গ্রুপের সার আনলোড করে আসছিলো আর আর এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানের মালিক রাজিবুল ইসলাম এর ভাইপো সাব্বির ওই কাজ দেখাশোনা করতো। ঘটনার সময় সার বোঝাই এমভি নওশিন রহমান-৪ জাহাজের ভিতরে আসাবুর ঢালী কালুসহ আর আর এন্টারপ্রাইজের ৫ জন শ্রমিক কাজ করছিলো। এ সময় সার আনলোড হ্যান্ডেলার গ্রাফস দিয়ে কালুকে চাপা দেয় চালক জিহাদুল ইসলাম। এতে আসাবুর ঢালী কালু মারাত্মক আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। তাকে জরুরী ভিত্তিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয় এবং কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ দিকে আসাবুর ঢালী কালুর মৃত্যুকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার জন্য অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে আর আর এন্টারপ্রাইজ কর্তৃপক্ষ। আর আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্তাধীকারী রাজিবুল ইসলাম তাদের এই প্রতিষ্ঠানকে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দাবি করে বলেন, আসাবুর ঢালী কালু খাতাপত্রে আমাদের স্টাফ না। তার মৃত্যুও সার আনলোডের কারনে হয়নি।

এ ব্যপারে পূর্ব রূপসা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মোস্তফা কামাল বলেন- সার আনলোড জাহাজের আনলোড হ্যান্ডেলার গ্রাফস এর আঘাতে আসাবুর ঢালী কালু নামে একজন লেবারের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। লাশ খুলনা মেডেকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে।

বাগেরহাটে রিকসা চালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাট পৌর শহরের নাগেরবাজার এলাকায় মোঃবাশার(২২)নামের এক রিকসা চালক খুন হয়েছে।

রবিবার (৯জুন) সকালে নাগেরবাজার মন্দির রোড থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পুলিশ বাশারের মৃতদেহ উদ্বার করে ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছে।

রিকসা চালক বাশার বাগেরহাট শহরের নাগেরবাজার এলাকার আঃআজিজের ছেলে।

কে বা কারা তাকে হত্যা করেছে তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। নাগেরবাজার ও পুরাতন রেল স্টেশন এলাকাবাসী জানায়, রবিবার সকালে মন্দিরের রোডে বাশারের রক্তাক্ত মৃত দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে।

শনিবার দিবাগত গভীর রাতে রিকসা চালক বাশারের মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে।

এ বিষয় বাগেরহাট মডেল থানার ওসি সাইদুর রহমান জানান, খবর পেয়ে আমরা রিকসা চালক বাশারের লাশের সুরতহাল করে ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। তার মাথার পিছনের দিকে থেতলানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারনা করা হচ্ছে রাতের আধারে পিছন থেকে বাশারের মাথায় আঘাত করা হযেছে। কে বা কারা এই খুনের সাথে জড়িত সেটা তদন্ত করার পরে জানাযাবে বলেও জানান তিনি।।

ডুমুরিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত-২, আহত ১২

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনার ডুমুরিয়ায় মেছাঘোনা নামকস্থানে ৯জুন রোববার দুপুর প্রাইভেটকার ও  যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে  প্রাইভেট কারের দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। অপর এক যাত্রীকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা  হয়েছে। বাসের ১০/১২ জন আহত হয়েছে।

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকারী ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানায়, দুপুর আড়াইটার দিকে খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের মেছাঘোনা ফুটবল মাঠের সামনে সাতক্ষীরাগামী দ্রুতগামী একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো গ-২১-৭২২১) বিপরীত দিক থেকে আসা একটি খুলনা গামী যাত্রীবাহী বাস(খুলনা মেট্রো ব-১১-০২১৮)এর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় প্রাইভেটকারটি সম্পূর্ণ দুমড়ে মুচড়ে গেছে।  প্রাইভেট কারের মধ্যে থাকা গাড়ির মালিক ও চালক পাটকেলঘাটা বাজারে হোমিও চিকিৎসা সাতক্ষীরা জেলার পাটকেলঘাটা উপজেলার সারুলিয়া গ্রামের চিত্তরঞ্জন ঘোষের ছেলে মোহন লাল ঘোষ (৬৪) ও তার বন্ধু একই উপজেলার পুঠিয়াখালী গ্রামের মৃত শিশুবার দাসের ছেলে আশুতোষ দাস(৬৫) ঘটনাস্থানের প্রাণ হারান। ওই কারের অপরযাত্রী শামসুজ্জামানকে গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তবে মোহন লালের মাথা পিষে গেছে এবং তাকে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গাড়ি কেটে উদ্ধার করেছে।

খর্ণিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশের এসআই পারভেজ আহম্মেদ জানায়, গাড়ি দু’টি হাইওয়ে থানা পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। লাশ সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রামপালে রেমালের ছোবলে মৎস্য খামারী মজনুর ১ কোটি টাকার ক্ষতি

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে ঘূর্ণি ঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাস ভেসে গেছে মৎস্য খামারের কোটি টাকার কার্প ও চিংড়ির পোনা। সব হারিয়ে এখন পথে বসেছেন উপজেলার শ্রীরম্ভা গ্রামের শেখ ফারদিন মৎস্য খামারের মালিক মিজানুর রহমান মজনু।

উপজেলার গৌরম্ভা ইউনিয়নসহ আশপাশের খামরগুলোতে কার্প জাতীয় মাছের পোনার বৃহৎ জোগান দেয়া হতো ওই ফারদিন মৎস্য খামার থেকে।

সরোজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত ইং ২৬ মে ঘূর্ণি ঝড় রেমালের জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে রামপালের গৌরম্ভা ইউনিয়নের অধিকাংশ মৎস্য ঘের। বাড়ীঘর লণ্ডভণ্ড হওয়ার পাশাপাশি এ এলাকার একমাত্র আয়ের উৎস চিংড়ী খামার ভেসে যায়। শুধু তাই নয় খামারের বেড়ী বাঁধ স্রোতের তোড়ে বিলিন হয়ে যায়। বাদ যায়নি ফারদিনের বেড়ী বাঁধও। খামারের দেখভাল করা রিক্তা বেগম জানান, অনেক চড়াই উতরাই পেরিয়ে ধারদেনা করে খামারে প্রায় ৬০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন মালিক মিজানুর রহমান মজনু।

কয়েক বছরের প্রচেষ্টায় তিনি খামারটি গড়ে তোলেন। ছোট ধানিপোনা কিনে এনে তা খামারে রেখে খাবার দিয়ে বড় করা হয়। এ জন্য সকল প্রকার নিয়ম মেনে নিরাপদ প্রক্রিয়ায় অক্সিজেন ও খাবার দেয়া হয়। রিক্তা বেগম আরো জানান, রুই, কাতল, মৃগেল ও কালিবাউস মাছ ১০/১২ টায় কেজি হলে তা অন্য খামারিদের মাঝে সরবরাহ করা হয়। কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই হটাৎ করে রেমাল আঘাত হানে। সারা বছরের স্বপ্ন ভেসে পানিতে মিশে যায়। সব থেকে বেশী সমস্যা তৈরি হয় তীব্র লবণাক্ত পানি প্রবেশ করে। অবশিষ্ট মাছে মরে সব ভেসে ওঠে। সরোজমিনে সাংবাদিকরা গিয়ে মৃত মাছের সমাধি ও মরা মাছ ভেসে ওঠার দৃশ্য দেখতে পান।

এ সময় খামারি মজনুর স্ত্রী রিক্তা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, কি করে আমরা বেচে থাকবো ? আমরা সন্তান মরা শোকে পড়েছি। সন্তানের মত মাছেদের খাবার দিতাম। আমার স্বামী ভয়ে এখানে আসছেন না, এলে তিনি স্ট্রোক করবেন। এমন অবস্থা হয়েছে যে বেড়ী বাঁধ দিয়ে নতুন করে পোনা ছাড়ারও সুযোগ নেই। তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেন।

রামপালে প্রবীণ দম্পতিদের মারপিট করে টাকা ছিনতাই

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপাল জমির বিরোধে প্রবীণ দম্পতিকে মারপিট করে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অবশেষে রামপাল থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। শুক্রবার (৩১ মে) রাতে মামলাটি করেন, আহত আসমা বেগম (৫২)। আহত অন্যজন হলেন সামসুর রহমান (৬২)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ছোট নবাবপুর গ্রামের সামসুর রহমান গরু কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তিনি গত ইংরেজি ৪ মে ভোর সাড়ে ৫ টায় গরু কেনার জন্য বাড়ী থেকে বের হয়ে হাটের উদ্যেশ্যে রওনা দেন। কিছুদূরে গেলে একই গ্রামের আসামী মো. বজলুর রহমানের বাড়ীর সামনে গেলে ফজলুর রহমান মোল্লা, বাবলুর রহমান মোল্লা, আশিকুর রহমান, রাসেল মোল্লা, ওসমান মোল্লা, আসিয়া খাতুন, কাকলী বেগম, শাওন শেখ ও খাদিজা বেগমসহ অজ্ঞাত ৩/৪ জন হামলা করে। তারা রামদা, রড, লাঠি ও হাতুড়ি নিয়ে হামলা করেন। ওই সময় সকলে মিলে মারপিট গুরুতর আহত করেন। তার ডাক চিৎকারে তার স্ত্রী আসিয়া বেগম ছুটে এলে আসামীরা তাকেও মারপিট করে আহত করেন। ওই সময় আসামীরা গরু ক্রয়ের ১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। ওই ঘটনায় কোন মামলার করলে দেখে নেওয়ার ও হুমকি দেয়। এতে তারা মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেন।

দীর্ঘ প্রায় একমাস পরে চিকিৎসা শেষে গত শুক্রবার রাতে রামপাল থানায় মামলা করেন। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, মামলা করায় আসামীরা আবারো মারপিটের হুমকি দিচ্ছে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি সোমেন দাশের কাছে জানতে চাইলে তিনি এজাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আসামিদের ধরার জোর চেষ্টা চলছে।