টানা তৃতীয়বার নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন কিন্তু বিভাবে এবং কত আসন পেলেন

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

  • ২০১৪ সালে ২৮২ আসন পেয়ে সরকার গড়েছিলেন মোদি। পাঁচ বছর পর পেয়েছিলেন ৩০৩ আসন।
  • জোট সরকার চালানোর কোনো অভিজ্ঞতা মোদির নেই। এবারই প্রথম তাঁকে জোট সরকার গঠন করতে হচ্ছে।

আরও একবার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন নরেন্দ্র মোদি। এই নিয়ে টানা তৃতীয়বার। স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর পাশে নিজের নামটিও তিনি খোদাই করতে চলেছেন। যদিও নেহরুর মতো একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে তিনি ব্যর্থ হলেন। পারলেন না ‘চার শ পার’ স্লোগান সার্থক করে রাজীব গান্ধীর রেকর্ড টপকে যেতে।

গতকাল মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের ফল মোদির দল বিজেপি এককভাবে সর্বোচ্চ সংখ্যক আসন পেলেও তাদের এনডিএ তিন শ আসনও ছুঁতে পারল না। প্রবলভাবে উঠে এল কংগ্রেসের উদ্যোগে গড়া ‘ইন্ডিয়া’ জোট। টানা এক দশক পর তারা মোদির বিজেপির একদলীয় শাসনের অবসান ঘটাল। সরকার গড়লেও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে এখন থেকে হতে হবে পরমুখাপেক্ষী। তাঁর ঘাড়ে প্রতিনিয়ত শ্বাস ফেলবে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া।

ভারতের নির্বাচন কমিশন ও গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ২৮৬ আসন পেয়েছে। ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২০২টি আসন। বিজেপি একা সরকার গঠনের জন্য ২৭২ ম্যাজিক ফিগারের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ। দলটি পেয়েছে ২৪০ আসন। কংগ্রেস পেয়েছে ৯৯টি। এর অর্থ, বিজেপিকে সরকার গড়তে হলে নির্ভর করতে হবে প্রধানত দুই শরিক নীতীশ কুমারের জেডি–ইউ ও অন্ধ্র প্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর দল তেলেগু দেশম পার্টির (টিডিপি) ওপর। এই দুই দলের সম্মিলিত আসন ২৮টি।

কংগ্রেস স্বভাবতই এই ফলে উৎফুল্ল। গতকাল বিকেলে দলীয় দপ্তরে সোনিয়া গান্ধী, রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে পাশে নিয়ে সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই ফল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির রাজনৈতিক ও নৈতিক পরাজয়। গোটা নির্বাচনটাই বিজেপি লড়েছিল মোদির নামে। যাবতীয় গ্যারান্টিও দিয়েছিলেন মোদি। এটা ছিল তাঁর পক্ষে অথবা বিপক্ষের গণভোট। জনতা তাঁর বিরুদ্ধেই মত দিয়েছে।

খাড়গে ও রাহুল দুজনেই জানিয়েছেন, ইন্ডিয়া জোটের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হবে বুধবার (আজ)। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে। ওয়েনাড ও রায়বেরিলি, দুই জেতা আসনের কোনটি রাখবেন কোনটি ছাড়বেন—সেই সিদ্ধান্তও সবার সঙ্গে আলোচনার পর নেবেন বলে রাহুল জানান। দুই নেতাই বলেন, এই জয় জনতার জয়।

এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই, আগামী দিনগুলোয় প্রশাসক নরেন্দ্র মোদিকে নতুনভাবে আবির্ভূত হতে হবে। সেই ভূমিকা কোনো দিন তিনি পালন করেননি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর সরকার ছিল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠ। কারও ওপর নির্ভর করতে হয়নি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও তাঁর নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে কখনো অন্য কারও মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়নি। ২০১৪ সালে সরকার গড়েছিলেন ২৮২ আসন পেয়ে। পাঁচ বছর পর পান ৩০৩ আসন। এবার এক ঝটকায় তা ২৪০– এ নেমেছে। সরকার গড়ার এই যে ৩২টি আসন ঘাটতি, তা মেটাতে হবে জেডি–ইউ, টিডিপি, শিবসেনার শিন্ডে গোষ্ঠী, চিরাগ পাসোয়ানের এলজেপি ও উত্তর প্রদেশের জয়ন্ত চৌধুরীর আরএলডির মতো দলগুলোর সমর্থন নিয়ে। এদের কাউকেই উপেক্ষা বা অবজ্ঞা করার মতো অবস্থায় মোদির বিজেপি থাকবে না; বরং সারাক্ষণ তাদের গুরুত্ব দিতে হবে। দাবি মানতে হবে। পছন্দের মন্ত্রিত্বও দিতে হবে। না হলে জোট ছাড়ার প্রচ্ছন্ন শঙ্কার মধ্যে থাকতে হবে। নীতীশ কুমার ও চন্দ্রবাবুর অতীত মোদির জানা। বারবার তাঁরা জোটে এসেছেন, বেরিয়েও গেছেন। নাইডু এবার আরও শক্তিশালী ও ক্ষমতাবান। অন্ধ্র প্রদেশে একার ক্ষমতাতেই সরকার গড়ার মতো অবস্থায় তিনি। মোদি তাঁকে এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছেন যে গণনা চলাকালীনই তাঁকে ফোন করে জানিয়ে দেন, তাঁর শপথে নিজে উপস্থিত থাকবেন। চন্দ্রবাবু শপথ নেবেন ৯ জুন, ওই দিনটিই মোদি বেছে রেখেছিলেন তৃতীয়বার শপথ নেওয়ার জন্য।

জোট সরকার চালানোর কোনো অভিজ্ঞতাই মোদির নেই। জোটের ধর্ম কেমন, তা–ও তাঁর অজানা। টানা ১০ বছর দাপিয়ে তিনি শাসন করেছেন। কারও তোয়াক্কা না করে সরকার চালিয়েছেন। পুরোপুরি নিজের ইচ্ছেমতো। সেই উঁচু মাথা হেঁট করে অনমনীয় চরিত্র নমনীয় করে শরিকদের যাবতীয় আবদার মেনে শাসন করার কায়দা তাঁকে শিখতে হবে। আত্মমগ্ন ও কর্তৃত্ববাদী কোনো শাসকের পক্ষে রাতারাতি এই রূপান্তর কঠিন। সেই কঠিন কাজই মোদিকে রপ্ত করতে হবে। এমন মোদিকে কেউ কখনো দেখেনি। সে দিক দিয়ে তিনি নিজেই চমকপ্রদ দ্রষ্টব্য হয়ে উঠবেন।

এই ভোট ও তার ফল নরেন্দ্র মোদির কয়েকটি স্বপ্নও খানখান করে দেবে। যেমন তাঁর সাধের ‘এক দেশ এক ভোট’ নীতি। তিনি ভেবেছিলেন, প্রথম দুবারের মতো একক ক্ষমতায় তৃতীয়বার সরকারে এলে এই নীতি চালু করে দেবেন। ইন্ডিয়া জোট শুরু থেকেই ওই নীতির বিরোধী। এনডিএর শরিকদেরও তাতে মত থাকবে কি না, সন্দেহ। একইভাবে বানচাল হয়ে যাবে বহু প্রচারিত অভিন্ন দেওয়ানি বিধি চালু করার বিষয়টিও। দুটি সিদ্ধান্ত বলবৎ করতে গেলে সংবিধান সংশোধন জরুরি। সে জন্য প্রয়োজন সংসদের দুই–তৃতীয়াংশ সমর্থন; এই ফলের পর যা আশা করা বৃথা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বাতিল হওয়া ‘ইলেকটোরাল বন্ড’ কিছুটা পাল্টে নতুন করে আনার পরিকল্পনা মোদির ছিল। সেই আশাও জলাঞ্জলি দিতে হবে। ‘পিএম কেয়ার্স’ তহবিলও এরপর সরকারি অডিটের আওতার বাইরে রাখা মোদির পক্ষে সম্ভবপর হবে কি না, বলা কঠিন। বিরোধীদের উপস্থিতি সোয়া দুই শর বেশি হওয়ায় অর্ধেক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যানের পদ তাদের দিতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা, গত পাঁচ বছর হীনবল বিরোধীদের যে দাবি মোদি কর্ণপাত করেননি, তা এবার মেনে নিয়ে লোকসভার ডেপুটি স্পিকারের পদটি দিতে হবে বিরোধীদের। ৯৯ আসন পাওয়া কংগ্রেসকে দিতে হবে বিরোধী নেতার পদ, যা পেতে গেলে ৫৫ আসন জিততে হয়। গতবার যা ছিল মোদির দাক্ষিণ্য।

দেখার বিষয় আরও আছে। পাঁচ বছর ধরে মোদি সরকার ইডি, সিবিআই, আয়কর বিভাগ, এনআইএর যথেচ্ছ ব্যবহার করেছে। তাদের দল ভাঙানো ও দল গঠনের মতো কাজে লাগিয়েছে বলে বিরোধীদের অভিযোগ। রাহুল নিজেই গতকাল বলেছেন, কংগ্রেসকে বিপদে ফেলতে তাদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছিল। তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর শক্তিশালী বিরোধীদের চাপে এই প্রবণতা কতটা বজায় থাকে, সেটাও দেখার। স্পষ্টতই এত দিন মোদির সরকার এদের যেভাবে ব্যবহার করে এসেছে, তাতে তাদের রাশ টানতেই হবে। এত দিন ধরে যে বিশেষণে মোদি ভূষিত হয়েছেন, সেই ‘স্বৈরতন্ত্রী’ তকমা বজায় রাখতে তিনি পারবেন কি?

এই ফল জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা নতুন করে ফিরিয়ে আনল। হিন্দি বলয়ে যে দল প্রায় মুছে গিয়েছিল, কিছুটা হারানো জায়গা তারা ফিরিয়ে আনল। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, রাজস্থান ও বিহারে। পাঞ্জাবের প্রতিষ্ঠিত সব কংগ্রেস নেতা বিজেপিতে চলে গেলেও একার ক্ষমতায় তারা অধিকাংশ আসন জিতেছে। মহারাষ্ট্র, তেলেঙ্গানা ও কর্ণাটকে জমি খুঁজে নিয়েছে। ব্যর্থতা তাদের অবশ্যই আছে। মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়, ওডিশা, অন্ধ্র প্রদেশে কিছুই প্রায় করতে পারেনি। কিন্তু আসনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ করে ১০০ ছুঁই ছুঁই অবস্থায় পৌঁছে যাওয়া দলটাকে চনমনে করে তুলবে। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে পায়ের তলার জমি আরও শক্ত করতে প্রিয়াঙ্কাকে রায়বেরিলি থেকে জিতিয়ে আনার পরিকল্পনা যখন রয়েছে।

গতকাল সন্ধ্যায় মহা ধুমধামের সঙ্গে বিজেপি তাদের দলীয় দপ্তরে বিজয় দিবস উদ্‌যাপন করল। দৃশ্যত উৎফুল্ল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সহাস্য মুখে অভিবাদন গ্রহণ করলেন। যদিও মনে খচখচানি তাঁর থাকারই কথা। দলের ৩৭০ পাওয়া তো দূরের কথা, জোটকে ৩০০ পাইয়ে দিতেও তিনি ব্যর্থ। শুধু কি তাই? যে বারানসি থেকে গতবার তিনি সাড়ে ৪ লাখের বেশি ব্যবধানে জিতেছিলেন, সেখানে পিছিয়ে পড়েও জয় পেয়েছেন মাত্র দেড় লাখ ভোটে। নরেন্দ্র মোদির কাছে দুটোর কোনোটাই সম্মানের নয়।

আজ ৬ষ্ঠ ধাপের উপজেলা নির্বাচন|| ব্যাপক প্রস্তুতি|| মূল্যবান ভোটের অপেক্ষায় প্রার্থী

||এম মুরশীদ আলী||

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আজ ৫ জুন ৬ষ্ঠ ধাপে। খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভোট কেন্দ্রগুলির প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ সকল ভোট কেন্দ্রে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী, ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী ৩ জন ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২ জন প্রার্থী’র অংশগ্রহনের মধ্যে ভোটারদের ভোট গ্রহন হবে। রূপসায় মোট ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩৫৬ জন। তাদের জন্য ৬৫ টি ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য সরকারী ভাবে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে স্বতস্ফুতভাবে ভোটারগণ সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট দিতে পারবে।

নির্বাচনে প্রার্থীগণ হলেন- আব্দুল অদুদ মোড়ল (ঘোড়া), এসএম হাবিবুর রহমান (দোয়াত-কলম), মো. কামরুজ্জামান (আনারস), মো. কামাল উদ্দীন (টেলিফোন), মো. নোমান ওসমানী (মোটরসাইকেল), সরদার ফেরদৌস আহম্মেদ (কাপ-পিরিচ)। এ ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান পদে- মো. আব্দুল্লাহ যোবায়ের (তালা), মো. ইদ্রিস আলী হাওলাদার (বই), মো. হিরন সেখ (টিউবওয়েল) এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে- ফারহানা আফরোজ (কলস), শারমীন সুলতানা রুনা (প্রজাপতি) প্রতীক নিয়ে এ ভোট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন।

উপজেলা নির্বাচন অফিসার, সহকারী রিটার্ন অফিসার জান্নাতুল ইসলাম জানান- আইচগাতী ইউনিয়নে ১৫ টি ভোটকেন্দ্র ভোটার সংখ্যা ৩৯৬১১ জন, শ্রীফলতলা ইউনিয়নে ১০ টি কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২২২২৩ জন, নৈহাটী ইউনিয়নে ২০ টি ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৪৮৮৩৮ জন, টিএসবি ইউনিয়নে ৭ টি ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১৬০৮৯ জন, ঘাটভোগ ইউনিয়নে ১৩ টি ভোট কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ৩০৫৯৫ জন। সর্বমোট রূপসা উপজেলায় ৬৫ টি ভোটকেন্দ্রে ১৫৭৩৫৬ জন ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটারের ৭৭৬৪৫ জন এবং মহিলা ভোটার ৭৯৭১১জন।

রূপসায় নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান জানান- সকল প্রকার সহিংসতা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা মোকাবেলার জন্য ৬ জন বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা হলেন- আরিফুর ইসলাম, মো. আজাহার আলী, দীপা রানী সরকার, শরীফ শাওন, সুমাইয়া সুলতানা এ্যানি এবং অপ্রতীম কুমার চক্রবর্তী।

রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. এনামুল হক জানান- নির্বাচন কে সুষ্ঠ এবং অর্থবহ করতে থানা পুলিশ সহ জেলা পুলিশের ১৮/২০ টি ভ্রাম্যমাণ পুলিশ টিম দায়িত্ব পালন করবে। এ ছাড়া ৩ টি র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ টিম এবং বিজিবির ভ্রাম্যমাণ টিম দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনের পূর্ব দিন থেকে নির্বাচনের পরবর্তী দিন পর্যন্ত তারা অতিরিক্ত নিরাপত্তার জন্য টহল দিতে থাকবে।

রূপসার সামন্তসেনায় চেয়ারম্যান প্রার্থী (কাপ-পিরিচ) পক্ষে উঠান বৈঠক

//এম মুরশীদ আলী//

রূপসা উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আগামী ৫ জুন। চেয়ারম্যান প্রার্থী সাবেক  অধ্যক্ষ সরদার ফেরদৌস আহম্মেদ এর (কাপ-পিরিচ) প্রতীকের পক্ষে উঠান বৈঠক গত ২ জুন বিকেলে, নৈহাটি ইউনিয়ন ৯নং ওয়ার্ড সামন্তসেনা পাইক পাড়া এলাকায় মো. নজরুল ইসলাম পাইকের বাড়ি অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. সুজিত অধিকারী।

উঠান বৈঠকে মো. নজরুল ইসলাম পাইকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বীর মুক্ত‌ি‌যোদ্ধা এমএম মুজিবুর রহমান, সা‌বেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা অসিত বরণ বিশ্বাস, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য আঃ মজিদ ফকির, উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবিএম কামরুজ্জামান, জেলা কৃষকলীগ নেতা মুহাসিন হোসেন পাইক।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা রাখেন- সরদার ফেরদৌস আহম্মেদ এর সহধর্মীনী (অব:) প্রধান শিক্ষিকা শাহিনা আক্তার।

উঠান বৈঠকে মো. হাবিবুর রহমানের পরিচালনায় অন্যান্যর মধ্যে বক্তৃতা করেন- আওয়ামীলীগ নেতা আঃ গফ্ফার শেখ, জিএম মালেক, শাহ নেওয়াজ কবির টিংকু, মোকছেদ ফকির, রুদ্রনীল শুভ প্রমূখ।

পাইকপাড়ায় উঠানে বৈঠক আয়োজন করে- হোসেন পাইক, নয়ন পাইক, বখতিয়ার পাইক সহ অনেকে। যুবকদের ডাকে শত শত নারী-পুরুষ স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মূলক উঠান বৈঠক সফল করে তোলেন।

মোদির জোট ৩৬৭ আসন পেয়ে তৃতীয় বারের মত সরকার গঠন করতে যাচ্ছে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ভারতের লোকসভা নির্বাচনের সপ্তম তথা শেষ দফার ভোট শেষ হলো আজ। প্রধানমন্ত্রীর আসনে এবার হ্যাটট্রিক করতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। বুথ ফেরত জরিপগুলো এমনটাই ভবিষ্যদ্বাণী করছে। খবর এনডিটিভির

দেশটির জাতীয় নির্বাচন কমিশন আগামী ৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করবে।

ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, কোনো দল বা জোট যদি সরকার গঠন করতে চায় তাহলে তাদের লোকসভার ৫৪৩টি আসনের মধ্যে কমপক্ষে ২৭২টিতে জয় পেতে হবে।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে দুটি বড় জোটের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেখা গেছে। এর একটি দেশটির ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) এবং অন্যটি কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট।

মোট ছয়টি বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, এনডিএ পাবে ৩৬৭টি আসন, ইন্ডিয়া জোট পাবে ১৪৩টি আসন। বিজেপির স্কোর হবে ৩২৭ এবং কংগ্রেস পাবে ৫২টি আসন।

জান কি বাতের বুথ ফেরত জরিপ বলছে, এনডিএ সর্বাধিক ৩৬২-৩৯২টি আসন পাবে। আর বিরোধী জোট পাবে ১৪১-১৬১টি আসন।

এর পরেই রয়েছে ইন্ডিয়া নিউজ-ডি ডায়নামিক্স। তারা বলছে, এনডিএ ৩৭১ টি আসন এবং ইন্ডিয়া জোট ১২৫ টি আসন পাবে।

এনডিএ-র পক্ষে সর্বনিম্ন স্কোর ২৮১-৩৫০ এবং ভারতীয় ব্লকের জন্য অনুরূপ উচ্চতর স্কোর ১৪৫-২০১।

মনে রাখতে হবে যে, এক্সিট পোল সব সময় ঠিক হয় না।

ফকিরহাটে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা || মুসাল্লিদের বেদম-মারপিট- রক্তাক্ত- জখমের ঘটনায় মামলা

//এম মুরশীদ আলী//

বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ২১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষপাত সমর্থক থাকার অপরাধের জেরধরে ভোট গ্রহন পরবর্তী সময় গত ২৪ মে, মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লিদের পিছ থেকে অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে সন্ত্রাসী একটি দল। তাতে কয়েকজন নামাজরত মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় জড়িত ১০/১২ জন সহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে ফকিরহাট থানায় মামলা হয়েছে।

এজাহার ও ভুক্তভোগী মুসল্লিরা জানায়, স্বপন দাস বিগত আমলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পুনরায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করেছেন। তাঁর (আনারস) প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করার অপরাধে তাদের জিততে নাকি অনেক কষ্ট হয়েছে। এই কষ্টের প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসবাহিনী দ্বারা এহেন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে ত্রাস সৃস্টির মাধ্যমে জিম্মি করে রাখতে আমাদের উপর হামলা। আমরা সাধারণ মানুষ মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় মৌভোগ বাগে জান্নাত জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লি ছিলাম। এ সময় সন্ত্রাসী একটি দল অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে দেয়। তাতে কয়েকজন মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখমের শিকার হয়। তারা হলেন- কাঞ্চন শিকদারের ছেলে মো. মিরাজুল শিকদার (২৫), নুরুজ্জামান ময়নার ছেলে ফজলে করিম শিকদার (২৮), মৃত আবু বক্কার শিকদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৬৫)। এদের প্রত্যেকের মুখে ও মাথা কাটা-ফোলা রক্তাক্ত অবস্থায় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ডাক্তার তাৎক্ষনিক সময়িক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনার আসামিরা হলেন- ফকিরহাট উপজেলার নলধা- মৌভোগ ইউনিয়নের মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নিয়ামত শিকদারের ছেলেরা যথাক্রমে- ১। মো. ইব্রাহিম শিকদার, ২। মো. হযরত শিকদার, ৩। মো. আফসার সিকদার, ৪। মো. টুকু শিকদার, ৫। মো. কওসার শিকদার, ৬। মো. আবিদ শেখ, ৭। মো. শাকিল সিকদার, ৮। ইমদাদুল সিকদার, ৯। মো. আমিনুর ইসলাম (বড় মিঞা), ১০। হোসেন শেখ, ১১। নুর ইসলাম শেখ, ১২। মো. মুনসুর শিকদার। তারা এ জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মো. কাঞ্চন শিকদার বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় গত ২৪ মে মামলা দায়ের করেন।

ওয়ার্ড মেম্বর শেখ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন- মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করছে, এমন সময় মনে হচ্ছে ইহুদিরা হামলা করে সব তছনছ করে দিলো। পিছ থেকে মাথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে মসজিদে লুটিয়ে পড়লো একের পর এক। কিছু বুঝে উঠার আগেই নিমিষে রক্তাক্ত করে যাওয়ার সময় বলে এটানাকি নির্বাচনী বিরোধী করার প্রতিফল। এলাকার মানুষ ভয়ে দিন কাটাচ্ছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মুক্তি বলেন- নির্বাচন শেষ হতে না হতেই এই নলধা মৌভোগ ইউনিয়নে চোরা গুপ্ত হামলা শুরু হয়েছে। একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার মূহুর্তে অর্তকৃত মারপিট করে মারাত্মক জখম করে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি উভয়কে শান্ত থাকতে বলেছি।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক, ভারপ্রাপ্ত ওসি বিপুল চন্দ্র দাস বলেন- জুমার নামাজের সময় মসজিদে যারা এহেন জঘন্য ঘটনার অপরাধী, তারা যেই হোক, কোনপ্রকার ছাড় পাবে না। আমরা পুলিশ বাহিনী সব সময় অপরাধিকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখি বলেই আজ ঘটনার পরপরই আমরা একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি দুষ্কৃত আসামিদের অতি দ্রুত আটক পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তালতলীতে সভা সমাবেশে ব্যস্ত তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রতীক বরাদ্দের পরপরই জমজমাট প্রচারণায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কারী তিন প্রার্থী।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার (ঘোড়া), আওয়ামীলীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মিন্টু (আনারস) ও বিএনপি নেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক (মোটর সাইকেল) প্রতিক নিয়ে সভা সমাবেশে ব্যস্ত সময় পাড় করছেন।

মঙ্গলবার রাতে তিন প্রার্থী তাদের কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক নিয়ে উপজেলা শহরে মিছিল শেষে সমাবেশ করেছেন।

জানাগেছে,তালতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আগামী ৫ মার্চ । এ নির্বাচনকে সামনে রেখে তালতলীর রাজনৈতিক মাঠ সরগরম হয়ে উঠেছে।

আওয়ামীলী ঘরানার দুই প্রার্থী সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। এরা পরস্পর ভাই হলেও কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছেন না। সভা সমাবেশে একজন আরেক জনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন।

তিন প্রার্থীর মধ্যে বর্তমান চেয়ারম্যান ও সাবেক চেয়ারম্যান দুজনের উন্নয়নমুলক কার্যক্রমকে এলাকাবাসী গুরুত্ব দিবেন।

অপর দিকে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচন করছেন। ইতিমধ্যে তাকে কেন্দ্রিয় বিএনপি কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।

আনারস প্রতিক প্রার্থী সাবেক উপজেলা যুবলীগ সভাপতি মনিরুজ্জামান মিন্টু বলেন,সভা সমাবেশের মাধ্যমে মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করছি। আশা করি মানুষ আমাকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবো।

ঘোড়া প্রতিক প্রার্থী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল কবির বলেন,গত পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মকান্ড মুল্যালণ করে ভোটাররা আমাকে ভোট দিবেন।

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ উপলক্ষ‍্যে ডুমুরিয়ায় প্রার্থী ও গনমাধ‍্যম কর্মীদের  মতবিনিময় সভা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২৪ উপলক্ষে গতকাল সোমবার বিকেলে ডুমুরিয়া  উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে   প্রার্থী ও গন মাধ‍্যম সাংবাদিক দের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় অবাধ সুষ্ঠ গ্রহনযোগ‍্য নির্বাচনের লক্ষ‍্যে ও প্রার্থীদের  নির্বাচনী আচরণবিধি সহ আইন শৃংখলার সার্বিক বিষয়সহ দিক নিদেশনা মুলক বক্তব‍্য তুলে ধরেন সহকারী রিটার্নিং  কর্মকর্তা  ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-আমিন।  তিনি বলেন ২৯ মে  নির্বাচন কালে ১ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সহ ১৪ ইউনিয়নে ১৪জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট র্্যাব, বিজিবি, পুলিশ,আনসার সহ আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সার্বক্ষণিক তদারকিতে থাকবে।

এ সময় উপস্থিত  ছিলেন  উপজেলা সহকারী  নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুর রহিম, ডুমুরিয়া থানা অফিসার ইনচার্জ সুকান্ত সাহা, আড়ংঘাটা থানা তদন্ত কর্মকর্তা তপন কুমার সিংহ, চেয়ারম্যান প্রার্থী মুনিমুর রহমান নয়ন, ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী গাজী আব্দুল হালিম, প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ,  শেখ শাহিনুর রহমান, চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীদের সমন্বয়কারী সহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২১ মে দ্বিতীয় ধাপে ভোটগ্রহণ চলছে ১৫৬ উপজেলায় 

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে দেশের ১৫৬টি উপজেলায় শুরু হয়েছে ভোটগ্রহণ। মঙ্গলবার (২১ মে) সকাল ৮টায় শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

এর আগে গত ৮ মে প্রথম ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটে ইসির প্রত্যাশা অনুযায়ী ভোটার উপস্থিতি হয়নি।

মোট ভোট পড়েছিল মাত্র ৩৬ দশমিক ১ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ধাপের ভোটে কেন্দ্রে পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি হবে বলে প্রত্যাশা করছে ইসি। সেজন্য কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি বাড়াতে এবং নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠু করতে সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র বিবেচনায় পর্যাপ্ত এবং কোথাও অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের সুপারিশ করেছে ইসি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠিও পাঠানো হয়েছে। সে হিসাবে সাধারণ কেন্দ্রে ১৭ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১৮-১৯ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় সাধারণ কেন্দ্রে ১৯ জন ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ২০-২১ জন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

আবার উপজেলার আয়তন, ভোটার সংখ্যা ও ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে  উপজেলায় ২-৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।

একইসঙ্গে নিরাপত্তা বিবেচনায় ১৬ উপজেলায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।

দ্বিতীয় ধাপের এই নির্বাচনে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২২ জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে সাতজন চেয়ারম্যান, আটজন ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাতজন মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান। রাউজান ও কুমিল্লা আদর্শ সদর– এই দুই উপজেলায় তিনটি পদেই একক প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। ফলে এসব উপজেলায় ভোট করার প্রয়োজন পড়ছে না।

এই পর্বে ১৩ হাজার ১৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটকক্ষ ৯১ হাজার ৫৮৯টি। ভোটার তিন কোটি ৫২ লাখ চার হাজার ৭৪৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ এক কোটি ৭৯ লাখ পাঁচ হাজার ৪৬৪ জন এবং নারী এক কোটি ৭২ লাখ ৯৯ হাজার ৪৭ জন। হিজড়া ভোটার ২৩৭ জন।

এই ধাপে মোট এক হাজার ৮২৪ জন প্রার্থী রয়েছেন। তাদের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ৬০৩ জন, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬৯৩ জন এবং নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৫২৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দ্বিতীয় ধাপের নির্বাচনের জন্য তফসিল হয়েছিল ১৬১ উপজেলার। স্থগিত, ধাপ পরিবর্তন ও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত মঙ্গলবার ভোট হচ্ছে ১৫৬ উপজেলায়।

 

বাগেরহাটের ফকিরহাটে ২ পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার ভোটের আগের দিন

//বিশেষ প্রতিনিধি//

দ্বিতীয় ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের দিন দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের আদেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার বিকেলে নির্বাচন কমিশনের পাঠানো চিঠি বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের হাতে পৌঁছেছে।

সোমবার ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে খুলনা ডিআইজি রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করার কথা জানিয়েছে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।

বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এই আদেশ জারি করেন কমিশনের উপসচিব মো. মিজানুর রহমান।

প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তারা হলেন, বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানার ওসি আশরাফুল আলম ও জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায়। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়ার অভিযোগ করে গতকাল রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন ফকিরহাট উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মোটরসাইকেল প্রতীক নিয়ে চেয়ারম্যান পদের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সেখ ওয়াহিদুজ্জামান (বাবু)।

ওয়াহিদুজ্জামান ফকিরহাট উপজেলা যুবলীগের সদ্য স্থগিত হওয়া আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক। এই উপজেলায় তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফকিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশ।

দুই ওসিকে প্রত্যাহার করে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া ওই আদেশে বলা হয়েছে, ‘৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ সাধারণ নির্বাচন-২০২৪ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আশরাফুল আলম ও বাগেরহাট জেলা ডিবির ওসি স্বপন রায়কে ডিআিইজি, খুলনা রেঞ্জ, খুলনায় নির্বাচনের সময় পর্যন্ত সংযুক্ত করে উক্ত কর্মকর্তাদ্বয়ের পরবর্তী কোনো কর্মকর্তাকে ফকিরহাট মডেল থানার ওসি ও ডিবির ওসি’র দায়িত্ব প্রদানের জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছেন।’

খুলনা রেঞ্জের উপমহাপুলিশ পরিদর্শককের কাছে পাঠানো ওই দাপ্তরিক চিঠিতে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার জন্যও বলা হয়েছে। প্রত্যাহারকৃত ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে রোববার প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ দুই কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন সেখ ওয়াহিদুজ্জামান। এরপরই এমন নির্দেশনা এলো।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মহাপুরিশ পরিদর্শক ছাড়াও নির্বাচন কমিশনের ওই চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও নির্বাচন কর্মকর্তাকেও।

চিঠি পাওয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের আদেশের চিঠি পেয়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে প্রত্যাহার করে খুলনা রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবের নির্বাচনী উঠান বৈঠক

৷৷ তরুণ কান্তি পাইক, নিজস্ব প্রতিবেদক।৷

রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী এস এম হাবিব এর নির্বাচন উঠান বৈঠক ১৫ মে বিকালে জেবিএম মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।  ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো: কামরুজ্জামান জামাল।

রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবের নির্বাচনী উঠান বৈঠক

জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক মোতালেব হোসেন এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন   জেলা আওয়ামীলীগের সদস‍্য অধ‍্যক্ষ ফ ম আ:সালাম,শিউলী সরোয়ার, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার আবুল কাশেম ডাবলু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  অধ‍্যাপক ডা:শ‍্যামল কুমার দাস, দপ্তর সম্পাদক আকতার ফারুক, সাবিনা ইয়াসমিন,  জাকির সরদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক  রাজিব দাস, ইউপি সদস‍্য আ:সালাম, জাহাঙ্গীর শেখ, রেশমা বেগম, ফিরোজ মামুন, বিধান রায়, সাদেক মল্লিক, কবীর মল্লিক, হাবিবুর রহমান, মেহেদি ইজারাদার, আরিফ মোড়ল, রিন্টু ইজারাদার, মিলন মোল্লা, আসাব মোড়ল, নাজমুল শেখ, কাদের শেখ, কুতুব মোড়ল, বাপ্পী মোড়ল, মিজান মোড়ল, জিয়া ইজারাদার,রাসেল মল্লিক, বাবু মল্লিক, সুমন মল্লিক, রাসেল ইজারাদার, রনবীর শেখ, বুলু মল্লিক, মনজু মল্লিক সহ দলীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

রূপসা উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাবিবের নির্বাচনী উঠান বৈঠক

রূপসায় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিতরণ নিজস্ব প্রতিবেদক: রূপসায় জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের সমাপনী অনুষ্ঠানে কুইজ প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা  ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান বুধবার (১৫ মে) সকাল সাড়ে ১০টার   উপজেলা স্বাস্থ‍্য কমপ্লেক্স  মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায়  সভাপতিত্ব করেন আবাসিক মেডিকেল অফিসার  ডাঃ পিকিং সিকদার।

এ সময় বক্তৃতা করেন ডা:  তাহমিদা খানম, ডা: ফারজানা ইয়াসমিন, ডা: মোঃ আল আমিন, রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক শেখ সহ সরকারী-বেসরকারী দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।