রুখবো দুর্নীতি গড়বো দেশ, হবে সোনার বাংলাদেশ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

রুখবো দুর্নীতি গড়বো দেশ,  হবে সোনার বাংলাদেশ এ প্রতিপাদ‍্যকে সামনে রেখে ডুমুরিয়ায়  দুর্নীতি প্রতিরোধ বিষয়ক বিতর্ক  ও রচনা প্রতিযোগিতা  পুরস্কার বিতরণী ও মতবিনিময সভা  র‍্যালী এবং মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২৬ সেপ্টেম্বর  বৃহস্পতিবার স্থানীয় শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে উপজেলা  প্রশাসন ও দূনীতি প্রতিরোধ কমিটির আয়োজনে পুরষ্কার বিতরন ও  আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দূনীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ‍্যক্ষ শেখ শহিদুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহি অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ সৌমেন মন্ডল মাওলানা ভাসানী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবদুল হাই, সমাজসেবক মুফতি আবদুল কাইয়ুম জমাদ্দার,  ডুমুরিয়া  মহাবিদ‍্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ‍্যক্ষ ফেরদাউস খান, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল কবীর,  উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান, উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টর মোঃ মনির হোসেন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশীষ বিশ্বাস,  একাডেমিক সুপারভাইজার টিকেন্দ্রনাথ সানা, প্রধান শিক্ষক শেখ সিরাজুল ইসলাম অধ্যাপক একেএম হযরত আলী,  কমিটির সদস্য সাংবাদিক জাহিদুর রহমান বিপ্লব ও  সৌমিত্র বিশ্বাস, অধ্যাপক নরেশ গোলদার  আলোচনা সভা শেষে বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের পুরস্কার বিতরন করা হয়।

খুলনায় এবার ৯৯১টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হবে

খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিবারের মতো এবারও আনন্দময় হবে দুর্গোৎসব। দুর্গাপূজা সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এর সাথে সামাজিক সৌর্হাদ্য যুক্ত হলে একটি প্রাণবন্ত উৎসব উদযাপিত হবে। ভালোবাসা আর সাম্যের বন্ধন নিয়ে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা এই উৎসবে অংশ নেব।

ডিসি আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তাঁর সম্মেলনকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রস্তুতি সভায় সভাপতির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন।

প্রস্তুতিসভায় জানানো হয়, এবার খুলনা জেলার মহানগরসহ ৯৯১টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে খুলনা মহানগরে ১০১টি মন্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে এই সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

স্বরাষ্ট্র এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নিদের্শনা মতে সকল পূজামন্ডপে আনসার সদস্য সার্বক্ষণিক নিয়োজিত থাকবে। এর সাথে সেনা, নৌ, কোস্টগার্ড, পুলিশসহ যৌথবাহিনী পূজা শুরুর পূর্ব হতে পূজার দিনগুলোতে টহল দেবে। পূজাম-পে ক্লোজসার্কিট ক্যামেরা বসানো হবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব বা মিথ্যা তথ্য ছড়ালে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সন্ধ্যা সাতটার মধ্যে প্রতীমা বিসর্জনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজান ও নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্র বন্ধ থাকবে। ডিসি অফিস, ইউএনও এবং পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ২৪ ঘন্টা চালু রেখে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হবে।

খুলনার পুলিশ সুপার টি, এম, মোশাররফ হোসেন জানান, প্রশাসন ও স্থানীয়দের সাথে চমৎকারভাবে সমন্বয় করে নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আতঙ্কিত হওয়ার কোন কারণ নেই। আনন্দের সাথে যাতে পূজা উদযাপিত হতে পারে তার জন্য পুলিশ টহল বৃদ্ধি করা হবে।

পূজা উদযাপন পরিষদের মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা প্রত্যন্ত অঞ্চলে পূজা শুরুর পূর্ব হতে যৌথবাহিনীর টহল বৃদ্ধির অনুরোধ জানিয়ে বলেন, এতে সকলের মনে আরও সাহস সঞ্চার হবে। একই সাথে তারা হয়রানিমূলক মামলা হতে পরিত্রাণের আহবান জানান।

খুলনা জেলার ৯৯১টি পূজাম-পের মধ্যে মহানগরে ১০১টি, বটিয়াঘাটায় ১১৩টি, ডুমুরিয়ায় ২১৪টি তেরখাদায় ১০৭টি, পাইকগাছায় ১৫৫টি পূজাম-পে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হবে। এছাড়া দাকোপে ৮৪টি, দিঘলিয়ায় ৬৩টি, ফুলতলায় ৩৪টি, রূপসায় ৭৪টি এবং কয়রা উপজেলায় ৪৬টি পূজাম-পে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

প্রস্তুতিমূলক সভায় খুলনা সদর ও মহানগরের ক্যাম্প কমান্ডার মেজর মোঃ আলিফ, নৌবাহিনীর লেঃ কমান্ডার এম এস আরেফীন, কোস্টগার্ডের লেঃ কমান্ডার নূরুজ্জামান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার দপ্তরের উপপরিচালক মোঃ ইউসুপ আলী, আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার ম. জাভেদ ইকবাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ নাজমুল হুসেইন খাঁন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট মীর আলিফ রেজা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুশান্ত সরকার, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, র‌্যাব, এনএসআই প্রতিনিধি, মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিমান সাহাসহ খুলনার নয়টি উপজেলার পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ অনলাইনে যুক্ত ছিলেন।

Daily World News

জাতীয়করণ দাবীতে শিক্ষকদের রূপসায় মানববন্ধন

জাতীয়করণ দাবীতে শিক্ষকদের রূপসায় মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী//

বৈষম্য দূরীকরণে মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, জাতীয়করণের পূর্ব পর্যন্ত শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পদে সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ রাখা ও শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠনের দাবীতে মানববন্ধন গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে রূপসা উপজেলা পরিষদ সম্মূখে অনুষ্ঠিত হয়। এরপর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা পরিবার আয়োজনে নির্বাহী অফিসার কাছে স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

এ সময় ব্ক্তৃতা ও উপস্থিত ছিলেন- আজগড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহমান ঢালী, চাঁদপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম, জেকেএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম, সামন্তসেনা দারুস সুন্নত মাদ্রাসার সুপার মাওলানা শফিউদ্দিন নেছারী, আল আকসা মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মিজানুর রহমান, মাওলানা হাসিবুর রহমান, নৈহাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রবিউল ইসলাম পলাশ, আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নৃপেন্দ নাথ রায়, ডোবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজিব মহলী, বেলফুলিয়া ইসলাময়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক বেল্লাল হোসেন, জেবিএম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সাইফুল ইসলাম, কাজদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা, শিয়ালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আহসান উল্লাহ, কাজদিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চাঁদ সুলতানা, তিলক মাদ্রাসা সুপার মাওলানা মাহবুবুর রহমান, সহ সুপার মাওলানা সাইফুল্লাহ কবির, শতাধিক শিক্ষগণ উপস্থিত ছিলেন।

সালমান স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্টিত

//এম মুরশীদ আলী//

সালমান স্মৃতি কিশোর (অনূর্ধ্ব ১৫) ৮ দলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৪ টায়, রূপসা উপজেলা সদরস্থ কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্টিত হয়।

খেলার মধ্যে শিয়ালী সিএস মিলন একাদশকে ৩-১ গোলে হারিয়ে শহীদ মুনসুর স্মৃতি সংসদ বিজয়ী হওয়ার গৌরব অর্জন করে। খেলায় দক্ষতা প্রমানে ম্যান অব দ্যা ম্যাচ নির্বাচিত হয় বিজয়ী দলের আপন এবং জিহাদকে ম্যান অব দা ম্যাচ ঘোষনা করা হয়।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- অনুসন্ধানী ক্রীডস লিমিটেড ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাদাৎ হোসেন লিটন।

টুর্নামেন্ট কমিটির আহবায়ক এসএম বাসির আহম্মেদ লালুর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন- ক্রীড়া সংগঠক অধ্যাপক আহমেদুল কবীর চাইনিজ। বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- ক্রীড়া সংগঠক সেখ মাফতুন আহম্মেদ রাজা, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, সৈয়দ মাহামুদ আলী, বিএনপি নেতা এসএমএ মালেক, মঈনুল ইসলাম টুটুল, মো. সাইফুল ইসলাম, মো. আলম শেখ প্রমুখ।

খেলা পরিচালনা করেন- মো. সুমন রাজু, বাসির আহমেদ লালু, শেখ আলী আকবর।

সেনাবাহিনী ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতায় কিকি করতে পারবে

 //দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

আগামী দুই মাসের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। ‘দ্য কোড অব ক্রিমিন্যাল প্রসিডিউর, ১৮৯৮’ এর ১২ (১) ধারা অনুযায়ী দুই মাসের (৬০ দিন) জন্য এই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রুর স্বাক্ষরকৃত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৬০ দিনের জন্য সেনা কর্মকর্তাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

সেনাবাহিনীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ‘ফৌজদারি কার্যবিধির, ১৮৯৮’ এর ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ ও ১৪২ ধারার অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারবেন বলে প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।

আইনের এসব ধারা অনুযায়ী একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের যেসব ক্ষমতা রয়েছে-

ধারা ৬৪ : ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে অপরাধ সংঘটনকারী ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করার বা গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়ার এবং হেফাজতে রাখার ক্ষমতা।

ধারা ৬৫ : গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা বা তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা যার জন্য তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করতে পারেন।

ধারা ৮৩/৮৪/৮৬ : ওয়ারেন্ট অনুমোদন করার ক্ষমতা বা ওয়ারেন্টের অধীনে গ্রেপ্তারকৃত অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপসারণের আদেশ দেওয়ার ক্ষমতা।

ধারা ৯৫(২) : নথিপত্র ইত্যাদির জন্য ডাক ও টেলিগ্রাফ কর্তৃপক্ষের দ্বারা অনুসন্ধান এবং আটক করার ক্ষমতা।

ধারা ১০০ : ভুলভাবে বন্দি ব্যক্তিদের হাজির করার জন্য অনুসন্ধান-ওয়ারেন্ট জারি করার ক্ষমতা।

ধারা ১০৫ : সরাসরি তল্লাশি করার ক্ষমতা, তার (ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি) উপস্থিতিতে যে কোনো স্থানে অনুসন্ধানের জন্য তিনি সার্চ ওয়ারেন্ট জারি করতে পারেন।

ধারা ১০৭ : শান্তি বজায় রাখার জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীয় ক্ষমতা।

ধারা ১০৯ : ভবঘুরে এবং সন্দেহভাজন ব্যক্তির ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তার প্রয়োজনীর ক্ষমতা।

ধারা ১১০ : ভালো আচরণের জন্য নিরাপত্তা প্রয়োজনীয় ক্ষমতা।

ধারা ১২৬ : জামিনের নিষ্পত্তি করার ক্ষমতা।

ধারা ১২৭ : বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার আদেশ দানের ক্ষমতা।

ধারা ১২৮ : বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেসামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা।

ধারা ১৩০ : বেআইনি সমাবেশ ছত্রভঙ্গ করার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করার ক্ষমতা।

ধারা ১৩৩ : স্থানীয় উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ক্ষেত্র বিশেষে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা।

ধারা ১৪২ : জনসাধারণের উপদ্রবের ক্ষেত্রে অবিলম্বে ব্যবস্থা হিসেবে আদেশ জারি করার ক্ষমতা।

উল্লিখিত ক্ষমতা ছাড়াও, যে কোনো নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর অধীনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করার জন্য সরকার এবং সেই সঙ্গে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারের মধ্যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।

এই আইনের অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তার উপস্থিতিতে সংঘটিত অপরাধ বা ঘটনাস্থলে তার বা তার সামনে উন্মোচিত হওয়া অপরাধগুলো বিবেচনায় নিতে পারেন। অভিযুক্তের স্বীকারোক্তির পর ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী অপরাধীকে সাজা দিতে পারেন। তবে কারাদণ্ডের ক্ষেত্রে তা দুই বছরের বেশি হবে না।

Daily World News

ডুমুরিয়ায় তরুন সংঘ ক্লাবের উদ‍্যেগে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের সহায়তা ও গাছের চারা বিতরন

ডুমুরিয়ায় তরুন সংঘ ক্লাবের উদ‍্যেগে ভাঙ্গন কবলিত মানুষের সহায়তা ও গাছের চারা বিতরন

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়া তরুণ সংঘ ক্লাবের উদ‍্যেগে সোমবার উপজেলার  শরাফপুর ইউনিয়নের জালিয়াখালী ভাঙ্গন কবলিত  করিম নগরের অসহায় পরিবারদের খাদ‍্য  সহায়তা প্রদান ও  তরুন সংঘ ক্লাবের নিজস্ব কার্যালয়  বিনামূল্যে দুশত মানুষের মাঝে ফলজ ও বনজ বৃক্ষ বিতরণ  করা হয়েছে।

সকল বিতরন কর্মসূচিতে উপস্থিত  ছিলেন ক্লাবের সভাপতি   বিশিষ্ট সমাজ সেবক ড.গাজী মাহাবুর রহমান, কাজী মুরাদ হোসেন, শেখ জামিল আক্তার লেলিন, ঢাকাস্থ ডুমুরিয়া সমিতির সরদার ইলিয়াজ হোসেন, সহ ক্লাবের সদস‍্য বৃন্দরা উপস্থিত  ছিলেন।

ডুমুরিয়ায়  কৃষি দপ্তরে কৃষক প্রশিক্ষণ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় অনাবাদি পতিত জমি বসত বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টির যোগান প্রকল্পের (১ম সংশোধনী)  আওতায় দুই দিনব্যাপী কৃষক প্রশিক্ষণ  অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৯ সেপ্টেম্বর সোমবার সকালে উপজেলা কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে  উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্যান) আব্দুস সামাদ, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মহাদেব সানা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইনছাদ ইবনে আমিন, অতিরিক্ত  কৃষি অফিসার মোঃ ওয়ালিদ হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম ও আরিফুল ইসলাম প্রমুখ। প্রথম দিনে ৩০ জন কৃষক কৃষাণী অংশগ্রহণ করেন। প্রত‍্যেকে দুটি করে ফলজ বৃক্ষ দেওয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা ‘’নাগরিক কমিটি’’ গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্রের জরুরি সংস্কার ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি নাগরিক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে দেশের সর্বস্তরের জনগণের অংশগ্রহণে ফ্যাসিস্ট রেজিমের বিরুদ্ধে একটি গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছে। সহস্রাধিক শহিদ ও আহত ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মুক্ত হয়েছি।

গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু গণঅভ্যুত্থানের ঘোষিত লক্ষ্য- ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থা গঠন এখনও দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারণের লড়াই দাবি করে।

এখনও রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং শাসনকাঠামোর বিভিন্ন অংশে ফ্যাসিবাদের দোসররা নানা রূপে বিরাজ করছে। ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার কুফল এখনও জনগণ প্রত্যক্ষ করছেন। অন্যদিকে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের পূর্বশর্ত হিসেবে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পুনর্গঠন, জনস্বার্থের প্রতি সংবেদনশীল নীতি নির্ধারণ, তদুপরি গণহত্যাকারীদের যথাযথ বিচারের ক্ষেত্রেও অগ্রগতির অভাব রয়েছে।

গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে আমরা নতুন রাজনৈতিক ভাষা ও জনগোষ্ঠীর সম্ভাবনা অর্জন করেছি। সে সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপান্তরের জন্যও আমাদের কাজ করে যেতে হবে। যাতে নবগঠিত এ রাজনৈতিক জনগোষ্ঠীর মাধ্যমে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়।

ফলে জনগণকে সংগঠিত করে রাখা, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা এবং তাদেরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা, তদুপরি জনস্বার্থের পক্ষে নীতি নির্ধারণে সহযোগিতার লক্ষ্যে আমরা নাগরিক দায়িত্বের জায়গা থেকে গত ২৩ আগস্ট একটি সভায় বসেছিলাম।

সভায় আগত অতিথিদের মতামতের ভিত্তিতে একটি নাগরিক কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই কমিটি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে রাষ্ট্রের জরুরি সংস্কার ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করবে। ’

সভায় কয়েকটি কর্মপন্থা আলোচিত হয়:

১. গণঅভ্যুত্থানের শহিদ ও আহতদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে বাঁচিয়ে রাখা।

২. মহানগর, জেলা,  উপজেলা পর্যন্ত কমিটির বিস্তৃতি সাধনের জন্য কাজ করা।

৩.দেশের সর্বস্তরের সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় নেতৃত্বকে সমন্বিত উপায়ে সংহত করা।

৪. গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণের জায়গায় পর্যালোচনা ও প্রস্তাবনা তৈরির কাজ করা।

৫. গণপরিষদ গঠন করে নতুন সংবিধান তৈরির জন্য গণআলোচনার আয়োজন করা।

এ সভায় উপস্থিত ছিলেন- আসাদুজ্জামান (গবেষক), মামুন আব্দুল্লাহি (গবেষক), এরশাদুল বারী খন্দকার (আইনজীবী), সৈয়দ হাসান ইমতিয়াজ (গবেষক), মনিকা ইয়াসমিন (এক্টিভিস্ট), ফয়সাল মাহমুদ শান্ত (শিক্ষক ও এক্টিভিস্ট), সারোয়ার তুষার (গবেষক ও লেখক), আতাউল্লাহ (সংগঠক) , আলাউদ্দীন মোহাম্মদ (শিক্ষক, গবেষক ও সংগঠক), আসিফ ত্বাসীন (সাংবাদিক), জাইমা ইসলাম (সাংবাদিক), মুশফিক উস সালেহীন (এক্টিভিস্ট), সামান্তা শারমিন (ভাস্কর), শ্রবণা শফিক দীপ্তি (নৃবিজ্ঞানী এবং গবেষক), সানজিদা ইসলাম তুলি (সংগঠক-মায়ের ডাক), এ. এস. এম সুজা উদ্দিন (সাংবাদিক ও নীতি বিশ্লেষক), তুহিন খান (লেখক) নাহিদা সারোয়ার নিভা (সংগঠক), আব্দুল্লাহ আল আমিন (আইনজীবী), মু. নিজাম উদ্দিন (চিন্তক ও সংগঠক), সায়ক চাকমা (আইনজীবী ও এক্টিভিস্ট), নুসরাত জাহান কেয়া (চার্টাড একাউন্টেন্ট স্টুডেন্ট), সৈয়দ তানভির মুত্তাকি (বেসরকারী চাকুরিজীবী), সাইয়েদ আবদুল্লাহ (ইন্ডিপেনডেন্ট জার্নালিস্ট এন্ড একটিভিস্ট), মুহাম্মাদ মিরাজ মিয়া- রাজনীতি বিশেষজ্ঞ, মুতাসিম বিল্লাহ- (ইয়ুথ একটিভিস্ট এবং উন্নয়নকর্মী), আশরাফ মাহদি (শিক্ষক, একটিভিস্ট), আরীফুল ইসলাম আদীব (সাংবাদিক ও সংগঠক), মুহাম্মাদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (রাজনীতিবিদ এবং সংগঠক), আখতার হোসেন (একটিভিস্ট), মাহফুজ আলম (চিন্তক ও গবেষক), জাবেদ রাসিন (লেখক ও রাজনীতিবিদ), তাসনীম জারা (চিকিৎসক), নিশাত ফারজানা (সংবাদকর্মী ও সমাজকর্মী), আকরাম হুসাইন (ব্যবসায়ী ও একটিভিস্ট)। সূত্র: যুগান্তর

ডুমুরিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে ইউএনও’র মতবিনিময়

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়া উপজেলার সকল কর্মরত সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আল-আমিন।

মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় উপজেলা সম্প্রসারিত কম্মেপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

সভায় বক্তৃতা করেন, ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ এম এ হক, সেনাবাহিনী ডুমুরিয়া ক্যাম্পের সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার জয়নুল আবেদিন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক  কল‍্যান সমিতির সভাপতি  কাজী আব্দুল্লাহ, সাবেক সভাপতি জি এম আব্দুস সালাম, সাবেক সভাপতি মোঃ আনোয়ার হোসেন আকুঞ্জি, সাবেক সভাপতি এম এ এরশাদ, সাবেক সভাপতি মোঃ বিলায়েত হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহাতাব হোসেন, সাংবাদিক  কল‍্যান সমিতির সাধারণ  সম্পাদক আব্দুল লতিফ মোড়ল, জাহিদুর রহমান বিপ্লব, এস এম মাহাবুর রহমান, আব্দুর রশিদ এলিন, আব্দুর রশিদ বাচ্চু, শেখ এনামুল বাসার টিটো, এস রফিক, সাব্বির খান ডালিম, এম রুহুল আমিন, গৌতম রাহা, শেখ সিরাজুল ইসলাম, সুজিত মল্লিক,  এম এ মজিদ, হাবিবুর রহমান,  অরুন দেবনাথ, আশরাফুল ইসলাম,খান মহিদুল ইসলাম, মোঃ মোক্তার খান , আরিফুজ্জামান নয়ন, আক্তারুজ্জামান লিটন, জাহাঙ্গীর আলম মুকুল,  গাজী সোহেল, এস কে বাপ্পী, গাজী আব্দুল কুদ্দুস, কবি ইব্রাহিম রেজা,  শেখ আব্দুস সালাম, সুমন ব্রক্ষ্ণ,  জি এম ফিরোজ, এস এম ফরিদুল ইসলাম, গাজী আতিয়ার রহমান, সুব্রত ফৌজদার, গাজী মাছুম, গাজী নাছিম, শংকর ঘোষ, এফ এম মনির, সেলিম আবেদ, মিঠুন মন্ডল, তুষার কবিরাজ।

সভায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বর্তমান সময়ে দেশ গঠনে সকল সাংবাদিককে এক হয়ে সততা ও নিষ্ঠার সাথে মানুষের কল‍্যানে  বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের আহবান জানান।

সভায় সাংবাদিক নের্তৃবৃন্দ সাংবাদিকদের জামমালের নিরাপত্তা বিধানে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

১৮লাখ কোটি টাকা ঋণ রেখে গেছে আ.লীগ সরকার || চাপে অন্তর্বর্তী সরকার

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে পাওয়া দেশি-বিদেশি ঋণের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, পদত্যাগের সময় শেখ হাসিনার সরকার ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার ঋণ রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারকে এ ঋণ পরিশোধে এখন ব্যবস্থা নিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাবেক সরকারের যথাযথ ঋণ ব্যবস্থাপনা না থাকায় দেশি উৎস থেকে বেশি পরিমাণে ঋণ নেওয়া হয়েছে। যদিও বৈদেশিক মুদ্রায় বিদেশি ঋণ নেওয়াকে সব সময় স্বাগত জানান অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। গত ১৫ বছরে অনেক বিদেশি ঋণও নেওয়া হয়েছে। তবে এসব ঋণের বেশির ভাগই নেওয়া হয়েছে দর–কষাকষি ও বাছবিচারহীনভাবে; যা সরকারের দায়দেনা পরিস্থিতিতে চাপ বাড়িয়েছে।

অর্থ বিভাগ গত ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশি-বিদেশি ঋণের প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেছে। তাতে মোট ঋণের স্থিতি দেখানো হয়েছে ১৬ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা। ঋণের হিসাব হালনাগাদ করা হয় তিন মাস পরপর। মার্চ ও জুনের হিসাব আরও কিছুদিন পর তৈরি করা হবে। অর্থ বিভাগ ধারণা করছে, চলতি বছরের জুন শেষে দেশি-বিদেশি ঋণ স্থিতি দাঁড়াবে ১৮ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকার মতো। এর মধ্যে দেশি অংশ হবে ১০ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা আর বিদেশি অংশ ৮ লাখ ১ হাজার কোটি টাকা।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, জুন মাস শেষে বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৯০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১১৮ টাকা দরে হিসাব করলে তা ৮ লাখ ১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়ায়। গত ডিসেম্বর শেষে বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৪ লাখ ৫ হাজার ৫২০ কোটি টাকা।

গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ঋণের যে স্থিতি ছিল, তা দেশের তিনটি বাজেটের মোট অর্থ বরাদ্দের সমান।

এসব ঋণ সরকারি ও সার্বভৌম নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ঋণ হিসেবে পরিচিত। ঋণ নেওয়া, ঋণের সুদ দেওয়া, আসল পরিশোধ করা, আবার ঋণ নেওয়া—বিষয়টি এভাবে চলতে থাকে। স্থিতি হিসেবে উল্লেখ থাকা অর্থ ভবিষ্যতে পরিশোধযোগ্য। ডিসেম্বর শেষে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার দেশি ঋণের মধ্যে শুধু ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতিই ছিল ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। বাকি ঋণ নেওয়া হয়েছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র ও সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের বিপরীতেও আছে বড় অঙ্কের ঋণ।

অর্থ বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০১৭ সালের ডিসেম্বরেও দেশি ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ২০ হাজার ২৭২ কোটি টাকা। ক্ষমতায় তখন আওয়ামী লীগই ছিল। কিন্তু ছয় বছরের ব্যবধানে এ ঋণ বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়।

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি যখন সরকারের দায়িত্ব নেয়, তখন দেশি-বিদেশি ঋণের স্থিতি ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। ওই সময় দেশি ঋণের চেয়ে বিদেশি ঋণের স্থিতি বেশি ছিল। কিন্তু মাত্রই বিদায় নেওয়া সরকারের শেষ দিকে এসে তা উল্টে যায়। এ সময়ে অবশ্য মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) আকারও বাড়ে।

ডিসেম্বর শেষে ৯ লাখ ৫৩ হাজার ৮১৪ কোটি টাকার দেশি ঋণের মধ্যে শুধু ব্যাংকব্যবস্থা থেকে নেওয়া ঋণের স্থিতিই ছিল ৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। বাকি ঋণ নেওয়া হয়েছে ট্রেজারি বিল ও বন্ডের বিপরীতে। এ ছাড়া সঞ্চয়পত্র ও সাধারণ ভবিষ্য তহবিলের বিপরীতেও আছে বড় অঙ্কের ঋণ।

বিপুল ঋণ নেওয়ার কারণে আসল ও সুদ পরিশোধের চাপ এখন বর্তমান সরকারের ঘাড়ে। সাম্প্রতিক সময়ে সুদের হারও অনেক বেড়েছে। দুই বছর আগেও সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদহার ছিল ১ থেকে ৬ শতাংশ। বর্তমানে গড় সুদহার ১২ শতাংশ। সঞ্চয়পত্র নতুন করে বিক্রি হচ্ছে কম। তবে এর বিপরীতে আগে নেওয়া ঋণের সুদ দিতে হচ্ছে জনগণের করের টাকায়। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যার মধ্যে দেশি ঋণের সুদই ৯৩ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি, তা ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

বাজেট ঘাটতি মেটাতে দেশের ভেতর ও বিদেশ উভয় উৎস থেকেই ঋণ নিয়ে থাকে সরকার। বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিদেশি ঋণ সস্তা, সুদ গুনতে হয় কম এবং পরিশোধের লম্বা সময় পাওয়া যায়। কিন্তু বিদেশি ঋণ পেতে হলে একদিকে দর-কষাকষি করার সক্ষমতা থাকতে হয়, অন্যদিকে মানতে হয় নিয়মনীতি। সেই তুলনায় দেশি ঋণ চাইলেই পাওয়া যায়। অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে আমলে না নিয়ে আওয়ামী সরকার এত বছর বেশি নির্ভরশীল থেকেছে দেশি ঋণের ওপরই।

ব্যাংকব্যবস্থা থেকে ঋণের মধ্যে একটি উৎস হচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক, আরেকটি বাণিজ্যিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের অর্থই হচ্ছে টাকা ছাপানো। এতে বাজারে টাকার সরবরাহ বেড়ে যায়, যা উসকে দেয় মূল্যস্ফীতিকে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল প্রায় ১২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতি আরও বেশি, তা ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, ১৫ বছরে বিদেশি ঋণের বোঝা বেড়েছে তিন গুণের বেশি। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে পুঞ্জীভূত বিদেশি ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৮৫ কোটি ডলার। আওয়ামী লীগ সরকার কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পাশাপাশি রেল ও বিদ্যুৎ খাতে ভারত, চীন, রাশিয়াসহ বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও দেশের কাছ থেকে কঠিন শর্তের ঋণও নেয়।

সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে অর্থাৎ গত জুন মাস শেষে সরকারের পুঞ্জীভূত বিদেশি ঋণ দাঁড়ায় ৬ হাজার ৭৯০ কোটি ডলারে। সে হিসাবে বর্তমানে দেশের প্রত্যেক নাগরিকের মাথার ওপর গড়ে ৪০০ ডলারের মতো বিদেশি ঋণের বোঝা রয়েছে।

পদ্মা সেতু নিজের টাকায় করেছি বলে আমরা বড় গলায় কথা বলি। তা–ও তো করা হয়েছে ঋণ নিয়েই। সামনে আসছে ঋণ পরিশোধের চাপ। এত অপরিকল্পিত ও প্রায় দর-কষাকষিহীনভাবে বৈদেশিক মুদ্রায় সাপ্লায়ার্স ক্রেডিট নেওয়া হয়েছে, তা এখন হাড়ে হাড়ে টের পাওয়া যাবে। দুই বছর পর থেকেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের সুদ দেওয়া শুরু করতে হবে।

দেশের অবকাঠামো খাতে উন্নয়নের কথা বললেও বিপুল পরিমাণ বিদেশি ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে কয়েক বছর ধরেই চাপে ছিল আওয়ামী লীগের সরকার। এ চাপ শুরু হয় এমন সময়ে, যখন দেশে দীর্ঘদিন ধরে বৈদেশিক মুদ্রার সংকট চলছে। বিদেশি ঋণ পরিশোধের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের কারণে রিজার্ভের পাশাপাশি বাজেটেও বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

সূত্রগুলো জানায়, প্রতিবছর যত বিদেশি ঋণ পায় সরকার, তার এক-তৃতীয়াংশ অর্থই চলে যায় ঋণের সুদ ও আসল শোধ করতে। সর্বশেষ ২০২৩-২৪ অর্থবছরেই আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৫ শতাংশ বেশি বিদেশি ঋণ শোধ করতে হয়েছে।

ইআরডি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে সব মিলিয়ে বিদেশি ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে রেকর্ড প্রায় ৩৩৬ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে আসল ২০১ কোটি ডলার ও সুদ প্রায় ১৩৫ কোটি ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সুদ ও আসল মিলিয়ে ২৬৮ কোটি ডলার পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ। অথচ এর ঠিক এক দশক আগে, ২০১২-১৩ অর্থবছরে সব মিলিয়ে ১১০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করেছিল বাংলাদেশ।

রূপপুর প্রকল্পের ঋণের কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে ২০২৬ সালে। এ সময় আরও দুই বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য দেনদরবার চলছে। বিভিন্ন প্রকল্পে চীনের ঋণের কিস্তি কমানোর আলোচনাও চলমান। প্রায় ৫০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ঋণ চীনা মুদ্রায় নেওয়ার উদ্যোগেও ‘ধীরে চলো’ নীতি অবলম্বন করছে ঢাকা। এ ঋণ নিয়ে আলোচনা করতে চলতি মাসেই চীনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসার কথা ছিল। তবে এখন তা অনিশ্চিত।

নতুন সরকার দায়িত্বে এসে অবশ্য বিদেশি ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে। এ নিয়ে গত বুধবার ইআরডি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। বৈঠকে তিনি বিদেশি ঋণ নেওয়ার সময় সুদের হার, কিস্তি, পরিশোধের মেয়াদসহ বিভিন্ন শর্ত যাচাই–বাছাই করার নির্দেশ দেন।

অর্থ উপদেষ্টা ওই দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশকে অর্থ দিতে সবাই আগ্রহী। ইআরডি কর্মকর্তাদের বলেছি যে তা যেন যাচাই–বাছাই করে নেওয়া হয়। কারণ, ঢালাও ঋণ নিয়ে আফ্রিকার অনেক দেশের করুণ পরিণতি আমরা দেখেছি।’

Daily World News

কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে মারা হয় চিকিৎসক মৌমিতাকে

স্বাস্থ্য শিক্ষায় ভারতের শিক্ষার্থীরা কেন বাংলাদেশে পড়তে আসে