বিকৃত ইচ্ছার পুলক মানুষ খুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হতে চেয়েছিল

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রসু খাঁ, এরশাদ শিকদার, বাবু শেখ বা মাহফুজ-সবারই ছিল বিকৃত ইচ্ছা। অস্বাভাবিক মনোবাসনার কারণে তারা হয়ে উঠেছিলেন সিরিয়াল কিলার। আর তাদের আদলে মানুষ খুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হওয়ার স্বপ্ন ছিল রাজধানীর দক্ষিণখানের এসএম ওয়াহিদ হোসেন ওরফে পুলকের।

ইচ্ছা পূরণের যথেষ্ট উপদান আছে তার মধ্যে। মাদকের নেশার চেয়েও তার কাছে বেশি নেশা জমেছিল মানুষ হত্যার।

প্রথম খুন করার পর সে তার মাকে জানিয়েছিল, একে একে নিজ চাচার পরিবারের সবাইকে (পরিবারের নয় সদস্য) হত্যা করবে। এরপর এলাকার অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবে। উত্তরা অপরাধ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেষ্টা চালাবে পুরো ঢাকার অপরাধ জগতের ডন হওয়ার। তার থাকবে গাড়ি-বাড়ি এবং লাশঘর। কিন্তু অঙ্কুরেই বিনাশ হয়েছে পুলকের এই স্বপ্নের।

নিরাপত্তাকর্মী হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ২১ মার্চ দক্ষিণখান বাজার এলাকা থেকে পুলককে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছে একটি লোহার ছুরি পাওয়া যায়।

গ্রেফতারের পর ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানায় পুলক। বর্ণনা করে খুনি হয়ে ওঠার লোমহর্ষক ঘটনা।

ডিবি জানায়, ২০১০ সালে পুলকের বাবা মারা যান। এরপর তার চাচা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করেন। এতে তার মেজাজ বিগড়ে যায়। একপর্যায়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হওয়ার পরিকল্পনা করে।

গত ১৮ মার্চ দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন খোরশেদা নামে এক নারী। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো ১৭ মার্চ তার স্বামী আফিল মিয়া নাইট ডিউটি করতে রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে দক্ষিণখান বাজারে যান। ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় দক্ষিণখান চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের পাশে পড়ে ছিল। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে কেসি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। খোরশেদা সেখানে গিয়ে তার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। জানতে পারেন, অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাকে বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।

ঘটনার পর থানা পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি এবং ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আলামতের পাশাপাশি আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারী হিসাবে পুলককে চিহ্নিত করে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফিল মিয়া এবং এসএম ওয়াহিদ হোসেন পুলক একই এলাকার বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। পুলক মাদকাসক্ত ও বেকার যুবক। মাদকাসক্ত হওয়ায় পুলককে তার চাচা আফিল প্রায়ই শাসন করত। মাঝেমধ্যে গালাগাল করত। এতে পুলকের মনে ক্ষোভ জন্মে।

ঘটনার দিন পুলক তার বন্ধু কায়েস ও লিয়নকে নিয়ে স্থানীয় এমরাত হোসেন স্কুল মাঠে ইয়াবা সেবন করে। রাত ২টার দিকে আফিল মিয়াকে চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের সামনে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখতে পায়। রাত সোয়া ২টার দিকে সে আফিল মিয়ার সামনে যায়। কথা বলার একপর্যায়ে তার কোমড়ে থাকা ছুরি দিয়ে আফিল মিয়ার বুকে আঘাত করে। এতে ভিকটিম মাটিতে লুটে পড়ে।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুল আলম মুজাহিদ যুগান্তরকে বলেন, পুলকের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল-সে দক্ষিণখানে কসাইবাড়ী থেকে উত্তরখানে কাঁচমুগা পর্যন্ত এলাকার অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। তাকে সবাই এক নামে চিনবে। পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কথায় উঠবে-বসবে। তার একটা লাশঘর থাকবে। যেখানে সব সময় ৪-৫টি লাশ থাকবে। ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রক। মানুষ হত্যাকে সে নেশায় পরিণত করতে চেয়েছিল। ইয়াবা সেবন করে সে যে ‘পিনিক’ পেয়েছে, মানুষ হত্যা করে তার চেয়ে বেশি ‘পিনিক’ পেয়েছে বলে পুলক ডিবিকে জানিয়েছে। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

উঠোনে গাঁজা চাষ,গাছসহ ব্যবসায়ী আটক

ফকিরহাটে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মহিলা মাদক কারবারি আটক

উঠোনে গাঁজা চাষ,গাছসহ ব্যবসায়ী আটক

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলীতে নিজ বসত ঘরের সামনের উঠানে ৪ টি গাঁজা গাছ সহ মধু ফকির (৫২) নামের এক গাজা ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার ২২ মার্চ রাতে এ তথ্য জানায় তালতলী থানা পুলিশ।

আটককৃত মধু ফকিরের বাড়ি তালতলীর ঠংপাড়া এলাকায়। পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তালতলী থানার পুলিশ উপপরিদর্শক গাজী মাহতাব উদ্দিন এর নেতৃত্বে সঙ্গী অফিসার ও ফোর্সের সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মধু ফকিরের বাড়ির উঠান থেকে ৪ টি গাঁজা গাছ পাওয়া যায়।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম খান ঘটনার সত্যতা নি‌শ্চিত করে বলেন, মধু ফকির তার বসতঘ‌রের সামনের উঠানে গাঁজার গাছ লা‌গিয়ে নিজে খাবার পাশাপা‌শি বিক্রিও করতো। এ বিষয়ে তালতলী থানায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ফকিরহাটে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মহিলা মাদক কারবারি আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটে ফকিরহাটে কামাল ফিলিং স্টেশনের সামনে থেকে শুক্রবার রাত নয়টার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর স্বপন রায়ের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে ১১কেজি গাঁজা সহ দুই মহিলা মাদক কারবারিকে আটক করেছে।

আটককৃরা হলো বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শ্রিফলতলা গ্রামের সেলিম হাওলাদারের মেয়ে ফাতেমা আক্তার সাথী(২৩) এবং অন্যজন হলো বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার দিগরাজ বালুরমাঠ গ্রামের মোনতাজের কন‍্যা শাহাদাত হোসেনের স্ত্রী নুরজাহান (৩০)।
আটককৃত দুইজন মাদক কারবারির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব‍্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

মোল্লাহাটে ৬৪ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের মোল্লাহাটে মাটির নিচ থেকে ৬৪ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২১ মার্চ) দুপুর ১২ টায় উপজেলার ঘোষগাতী বালিকা বিদ্যালয়ের কাছে রামজীবনপুর গ্রামের একটি পান বরজের ড্রেন খোড়ার ‍সময় এই গুলি উদ্ধার হয়।

মোল্লাহাট থানা অফিসার ইনচার্জ এস এম আশরাফুল আলম জানান, নরসিংহপুর গ্রামের মৃত চানমিয়া শেখের পুত্র শহীদ শেখ উক্ত জমির লিজ নিয়ে পান বরজের জন্য ড্রেন খোড়াকালে জনৈক শ্রমিক প্রথমে এসব গুলি দেখতে পান।

বিষয়টি ইউপি সদস্য ইমরানকে জানালে উক্ত ইউপি সদস্য মোবাইলে আমাকে জানান। এ খবরে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশের একটি দল নিয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হই এবং গুলিগুলো উদ্ধার করি।

তিনি আরো জানান, এ গুলিগুলো অনেক আগের, হয়তো অকেজো হয়ে গেছে। তবু পরীক্ষা করে দেখা হবে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফকিরহাটে পুলিশের অভিযানে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ ২ কারবারি আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের ফকিরহাট মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৫০পিস ইয়াবা ট্যাবলেট সহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিরা হলো, বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার পার গোবিন্দপুর গ্রামের মো: আজিম হাওলাদারের ছেলে মোঃ. নাজমুল হাসান (২৭) এবং ফকিরহাটের ব্রাহ্মনরাকদিয়া গ্রামের শেখ শরিফুল ইসলাম (৩৮)।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) অনুপ রায়, এএসআই মোঃ. শামীম হোসেন সহ পুলিশের একটি দল ফকিরহাট ইউনিয়নের সিংগাতী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করে। এসময় তাদেরকে শরীর তল্লাশি করে ৫০পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

ফকিরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ. আশরাফুল আলম বলেন, ইয়াবাসহ ওই দুই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। বুধবার সকালে তাদেরকে বাগেরহাট বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাগেরহাটের চুলকাটিতে ৭ কেজি গাঁজাসহ আটক- ১

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের চুলকাটিতে  সাত কেজি গাঁজসহ একজন মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

রবিবার (১৭ মার্চ) রাতে বাগেরহাট সদর থানার চুলকাটি বাজার সংলগ্ন খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পুর্ব পাশ থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত আল আমিন খাঁ (৩২) মোংলা পোর্ট পৌরসভার (মাদ্রাসা রোড) আনছার ক্লাব সংলগ্ন আফান খাঁর ছেলে।

আটক মোঃ আল আমিন খাঁ কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক স্বপন কুমার রায় নিশ্চিত করে জানান, গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুলকাটি বাজার এলাকায় খুলনা-মোংলা মহাসড়কের পুর্ব পাশে আজিজুলের চায়ের দোকানের সামনে থেকে আল আমিনকে তল্লাশি করে তার কাছে থাকা একটি নেভী কালারের ট্রলি ব্যাগ হতে ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। তিনি আরো জানান, আটককৃত আসামী দীর্ঘদিন যাবত জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধ ভাবে মাদকদ্রব্য (গাঁজা) বিক্রয় করে আসছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য ছিল। এ ব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাগেরহাটের চুলকাঠিতে জুয়া খেলার সরঞ্জাম নগদ টাকাসহ ৮ জুয়াড়ী আটক

জেনিভা প্রিয়ানা,বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের চুলকাঠি এলাকায় অভিযান চালিয়ে নগদ ১৬ হাজার ৩০০ টাকাসহ ৮ জুয়াড়ী কে আটক করেছে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৭ মার্চ) রাতে বাগেরহাট মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান সহ পুলিশের একটি টিম অভিযান পরিচালনা করে আট জুয়াড়ীকে আটক করে।

আটক জুয়ারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দিয়ে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
আটককৃত জুয়াড়ীরা হলো, বাগেরহাটের সুনগর এলাকার মিজান শেখের ছেলে মো. আঃ করিম শেখ (২০), আলামিন শেখের ছেলে মো. রাসেল শেখ (২৩), মৃত উকিল হাওলাদারের ছেলে মো. কালাম হাওলাদার (২৫)। হাকিমপুর গ্রামের মৃত নুর আলী শেখের ছেলে মো. নুরজ্জামান শেখ (৪০)। সৈয়দপুর গ্রামের মৃত রুহুল কুদ্দুসের ছেলে মো. হাবিব শেখ (৫০), মান্নান ফরাজির ছেলে মো. আরিফুল ফরাজি (৩২), ভট্টবালিয়াঘাটা গ্রামের আবুল শেখের ছেলে মো. জাহিদ শেখ (৩৬) ও রামপাল উপজেলার কাপাশডাঙ্গা গ্রামের ফেরদৌস আলী গাজীর ছেলে মো. ফরাদ আলী গাজী (৪১)।

ওসি মো, সাইদুর রহমান জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল মহদয়ের নির্দেশনায় অভিযান চালিয়ে ৮ জুয়ারীকে আটক করা হয়। অভিযানে নগদ ১৬ হাজার ৩০০ টাকা, দুই ব্যান্ডেল জুয়া খেলার তাস, দুইটা মোটরসাইকেল, তিনটা বাইসাইকেল, একটি ভ্যান জব্দ করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজু করে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

বাগেরহটের রামপালে সামাজিক বন বিভাগের শতাধিক গাছ কেটে বিক্রি করেছে ঠিকাদার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহটের রামপালে সামাজিক বন বিভাগের শতাধিক গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে সরকারের কয়েক লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বাগেরহাট জেলা সামাজিক বন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে কতক গাছ জব্দ করে স্থানীয়ভাবে জিম্মায় রেখেছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, রামপাল উপজেলার জিয়লমারী গ্রামের দিপক পাইক ও স্থানীয় ভোজপাতিয়া ইউপি সদস্য গাজী রেজাউল ইসলাম বাবুল সামাজিক বনায়নের গাছ কমিটির মাধ্যমে রোপণ করেন। তারা জিয়লমারী সড়কের দুই পাশে সামাজিক বন বিভাগের শিশু, বাবলা, রেইনট্রি ও অর্জুন গাছসহ নানা প্রজাতির এসব গাছ রোপণ করেন। কয়েকদিন পূর্বে ওই রাস্তা সম্প্রসারণের জন্য গাছ কাটা হয়। বাগেরহাট সামাজিক বন বিভাগের কর্মকর্তাদের না জানিয়ে সড়ক নির্মাণের ঠিকাদার ওই গাছ স্কেভেটর দিয়ে উপড়ে ফেলে। সেই গাছ রোপণকারী সামাজিক বনায়ন কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য বাবুল ও দিপক কেটে বিক্রি করে দেন। অভিযোগ পেয়ে বন দপ্তরের রামপাল উপজেলা কর্মকর্তা মো. আ. রাজ্জাক ঘটনাস্থলে গিয়ে কিছু গাছ জব্দ করেন বলে দাবী করেন। সরজমিনে গিয়ে এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিপক পাইকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, রাস্তার ঠিকাদার রাস্তা প্রশস্ত করতে গাছ উপড়ে ফেলেছে। সেই গাছ কেটে জড়ো করতে আমার গাঁটের টাকা খরচ হয়েছে। আপনারা সব দেখে যান, আমি শ্রমিকদের মজুরি বাবদ কিছু ডালপালা বিক্রি করেছি। গাছগুলো রেখে দিয়েছি।

এ বিষয়ে কথা হয় অভিযুক্ত ইউপি সদস্য গাজী রেজাউল ইসলাম বাবুলের সাথে। তিনি বলেন, রাস্তায় কাজ করা ঠিকাদারের লোকজন গাছ কেটে ফেলেছে। বন বিভাগের সাথে কথা বলে আমি দুই হাজার ৪ শত টাকায় কিছু গাছ বিক্রি করেছি। তবে গাছ কেটে তা আত্মসাতের বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

অভিযোগের ব্যাপারে কথা হয় রামপাল উপজেলা সামাজিক বন কর্মকর্তা আ. রাজ্জাকের সাথে। তিনি বলেন, সড়কের লোকেরা গাছ কেটে ফেলেছে। আমাদের জানায়নি। সড়কে যে পরিমাণ গাছ থাকার কথা ছিল তা নেই। দীপক পাইক ২০ ও বাবুল মেম্বরের জিম্মায় ৪ টি গাছ রেখে দেয়া হয়েছে। কোন গাছ বিক্রির বিষয়টি তিনি অস্বীকার করে বলেন, বরং গাছ জব্দ করতে গিয়ে উল্টো আমার পকেটের টাকা খরচ হয়েছে।

স্থানীয় ভোজপাতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল আমীন অভিযোগ করে জানান, রাস্তায় অনেক গাছ ছিল। কতিপয় ব্যক্তি কেটে কয়েক লক্ষ টাকায় তা বিক্রি করেছে। সামাজিক বন বিভাগের কার্যক্রম রহস্যজনক বলে তারা অভিযোগ করে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী করেন।

বাগেরহাটে ১৬ লক্ষ জাল টাকা ও মেশিনসহ কারিগর আটক

জেনিভা প্রিয়ানা,বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা মূল্যের জাল নোটসহ ফয়সাল ইউনুস (৩৫) নামের এক প্রতারককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
শুক্রবার (১৫ মার্চ) বিকেলে বাগেরহাট শহরের যদুনাথ স্কুল সংলগ্ন কামাল হোসেনের ভবনের ৬ তলার একটি কক্ষ থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটককৃত ফয়সাল চার মাস আগে কামাল হোসেনের বাড়ির ৬ তলায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করেন।
অভিযান চালিয়ে সেখান থেকে জাল টাকা ও তৈরির মেশিন, রং, কাগজ জব্দ করা হয়।

আটক ফয়সাল ইউনুস কচুয়া উপজেলার ধোপাখালি ইউনিয়নের বারদাড়িয়া এলাকার মৃত মহিউদ্দিন শেখের ছেলে।

বাগেরহাট জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্বপন কুমার রায় বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৬ লাখ টাকা মূল্যের জাল নোট, জাল টাকা তৈরির মেশিন, রং, কাগজ জব্দ করা হয়েছে। ধারণা করছি ঈদকে সামনে রেখে প্রতারক চক্র জাল টাকা তৈরি করছিল। আটককৃতের বিরুদ্ধে আইনি ব‍্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

যশোর র‌্যাব-৬, এর ভ্রাম্যমাণ আদালত অস্বাস্থ্যকর জেলিপুশকৃত চিংড়ি জব্দ‌, ধ্বংস সহ জরিমানা

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ

খুলনাঞ্চল চিংড়ির জন্য খুবই বিখ্যাত। জিআই পণ্য চিংড়ি বাংলাদেশের হোয়াইট গোল্ড হিসেবে বিশ্বে পরিচিত। খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা হতে চিংড়ি দেশের নানা প্রান্তে সরবরাহ করা হয় দেশ- বিদেশেও রপ্তানি করা হয়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা অতিশয় মুনাফার লোভে মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর অপদ্রব্য জেলি পুশ করে চিংড়ির ওজন বৃদ্ধি করে আসছে ও ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করে চিংড়ির রং ক্রেতাদের নজরকাড়া অর্থাৎ আকর্ষণীয় করে তুলছে।

র‌্যাব-৬, সিপিসি-৩ কোম্পানি অধিনায়ক মেজর মো:সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, ১৩ মার্চ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, বিপুল পরিমাণ চিংড়িতে ইনজেকশনের মাধ্যমে অপদ্রব্য জেলি পুশ করে মাছের ওজন বৃদ্ধি করে অস্বাস্থ্যকর ভাবে বাজারজাত করণের উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমান জেলি পুশ চিংড়ি নিয়ে যশোর মনিহার মোড় হয়ে হিমেল সিমান্ত নামক ১ টি বাস সাতক্ষীরা হইতে শেরপুর ও অপর ১ টি আসিফ স্পেশাল বাস সাতক্ষীরা হইতে রংপুর যাইতেছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে ১৩ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টা হইতে ১৪ মার্চ রাত ১ টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত র‌্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন, স্কোয়াড কমান্ডার এএসপি মোঃ ফয়সাল তানভীর ও যশোর সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রিপন কুমার ঘোষ এর সমন্বয়ে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল যশোর কোতয়ালী মডেল থানাধীন মনিহার মোড়ে অস্থায়ী চেকপোষ্ট বসিয়ে চিংড়ি মাছ ভর্তি উল্লেখিত হিমেল সিমান্ত ও আসিফ স্পেশাল নামক ০২ টি বাস থামিয়ে বাসের বক্সে ও ছাদে রাখা ককসিটে সংরক্ষিত চিংড়িতে জেলি পুশকৃত মোট ১১ টি ককসিট ভর্তি আনুমানিক ৩৪০ কেজি চিংড়িতে ইনজেকশনের মাধ্যমে জেলি পুশ করার প্রমাণ পাওয়া যায়। চিংড়ি মাছে অপদ্রব্য জেলি পুশ করার প্রমাণ পাওয়ায় মৎস্য ও মৎস্য পণ্য উদ্ধারকৃত ককসিট ভর্তি জেলি পুশ চিংড়ি জব্দ করা হয়

এ সময় হিমেল সিমান্ত বাসের মালিক সঞ্জয় গুপ্ত লাল’কে সাতাশ হাজার টাকা ও আসিফ স্পেশাল বাসের মালিক আব্দুল মান্নান কে উনত্রিশ হাজার) টাকা, মোট ৫৬,০০০/- হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জরিমানাকৃত টাকা বিধি মোতাবেক সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত অপদ্রব্য জেলি পুশ চিংড়ি উপস্থিত জনগণ, মৎস্য কর্মকর্তা সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণের সম্মুখে ধ্বংস করা হয়েছে।