বরিশাল নগরীতে ইয়াবা সহ আটক ২

//পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বরিশাল নগরীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৪ মে ২০২২ , ৫:৩০ টায় নগর গোয়েন্দা বিএমপির পুলিশ পরিদর্শক  শেখ শাহাজাহান এর নেতৃত্বে একটি চৌকস স্পেশাল  টিম নগরীর এয়ারপোর্ট থানা ২৯নং ওয়ার্ডস্থ পূর্ব ইছাকাঠি লাদেন সড়কে চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযান পরিচালনায় ১০ পিস ইয়াবা সহ নগরীর ২নং ওয়ার্ড কাউনিয়া প্রধান সড়ক আকন ভিলার রাজিব চন্দ্র দাস ওরফে ( ভিলেন রাজিব ) (২৬) পিতা মৃত নারায়ন চন্দ্র দাস।

পরবর্তীতে  বরিশাল নগরীর কাউনিয়া থানা  ৪ নং ওয়ার্ডস্থ রোকেয়া আজিম সড়ক সংলগ্ন বাসায় অভিযান পরিচালনা করে ধৃত আসামির নিকট ইয়াবা বিক্রয়কারী অপর আসামি মোঃ মিথুন বাবু (৩২), পিতা- মোঃ দেলোয়ার হোসেন, মাতা- মোসাঃ হেনা বেগম,  রোকেয়া আজিম সড়ক, থেকে মিথুন বাবুকে  আটক করেন।

ধৃত আসামিদের  বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষক সহ গ্রেপ্তার ২

মাহাবুব আলম ,ঠাকুরগাঁও, প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁওয়ে স্কুল থেকে বাড়ী ফেরার পথে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ঘটনা গোপনে ভিডিও করার অপরাধে ধর্ষকসহ ধর্ষকের এক সহযোগীকে আটক করেছে পুলিশ।

(রবিবার ২২ মে) ভোর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের নিজ বাসা থেকে আটক করা হয়। এর আগে গতকাল মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি এজহার দাখিল করেন।

আটককৃত ব্যাক্তি, সদর উপজেলার ফুটানি বাজার এলাকার সোলায়মান আলীর ছেলে।দুলাল(৩০) ও একই এলাকার চুনিহাড়ি গ্রামের সাজু। এছাড়াও মামলার অন্য আসামীরা হলেন, দুলাল(৩৫), আলমগীর (৪০), হাফিজুর ইসলাম(৪৫) ও খোকন(৫০)।

মামলার বরাতে জানা যায়, সদর উপজেলার ভাউলার হাট নামক এলাকায় স্কুলে যাতায়াতকালে প্রায়ই মেয়েটিকে প্রেম নিবেদন সহ কূ-প্রস্তাব দিয়ে আসছিলো আসামীরা। গত ১৬ মে স্কুল থেকে ফেরার পথে আসামীরা স্কুল ছাত্রীটির পথরোধ করে জোরপূর্বক অটোবাইকযোগে স্থানীয় ট্রাক-ট্যাংকলরী অফিসে নিয়ে যায়। সেখানে গোপনে মোবাইল ফোনের ভিডিও রেকর্ডিং চালু করে দুলাল ও স্কুল ছাত্রীটিকে রেখে বাকিরা চলে যায়।এসময় স্কুলছাত্রীটিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে দুলাল।পরে অন্য আসামীরা এসে স্কুলছাত্রীটিকে মোবাইলে ধারণকৃত ভিডিও দেখিয়ে বলে এ ঘটনা কাউকে জানালে তা ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়া হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ওসি তানভিরুল ইসলাম বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় দুই যুবককে আটক করা হয়েছে। এবং মোট ৬ জনের নামে মামলা হয়েছে। বাকিরা পলাতক রয়েছে তাঁদেরকে ধরার প্রক্রিয়া চলছে।

English Dainikbiswa

বারেহাটের কচুয়ায় খাদ্য গুদামে ধান-চাল সংগ্রহ শুরু

ঠাকুরগাঁওয়ে কলেজ ছাত্রীকে ইভটিজিংয়ের দায়ে ২ যুবক আটক

মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একাদশ শ্রেণির দুই ছাত্রীকে উত্যক্ত করার (ইভটিজিং) অভিযোগে ২ যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে তুলে দিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।( রবিবার ২২ মে) সকালে বালিয়াডাঙ্গী শহীদ আকবর আলী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কলেজে আসার পথে এ ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন,বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার পাড়িয়া ইউনিয়নের চাকদহ গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে

রাজু হোসেন (২৩) এবং একই ইউনিয়নের বামুনিয়া গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে জনি হাসান(২৫)।

শিক্ষার্থীরা ও পুলিশ জানায়, কলেজে আসার সময় দুই শিক্ষার্থী যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিল। এ সময় এক ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালক তাদের নিয়ে কলেজের উদ্যেশ্যে রওনা দেয়। চলন্ত অবস্থায় পাশে বসে থাকা রাজু নামে এক যুবক তাদের শরীরে হাত দেয়। তবে এ ঘটনায় অটো রিকশাচালকও সহযোগিতা করেছে বলে জানায় ওই কলেজছাত্রীরা।তারা কৌশলে ওই দুই শিক্ষার্থী ড্রাইভারসহ দুজনকে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে আসে। কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

এ ঘটনা শোনার পর কলেজের সকল ছাত্র-ছাত্রীরা বিচারের দাবিতে রাস্তা অবরোধ করে। পরে কলেজের অধ্যক্ষ ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ন্ত্রণে আনে। এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয় রাজু হোসেন ও অটোরিকশা চালককে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত যুবকরা জানায়, এ ঘটনা পুরোপুরি মিথ্যে। আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে। আমি দুই কলেজছাত্রীর কাউকে চিনি না।

এ বিষয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানার  ওসি খায়রুল আনাম ডন বলেন, ঘটনার প্রেক্ষিতে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

English Dainikbiswa

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে চাচা ভাতিজার সংঘর্ষ, আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাচার মৃত্যু

 

ঠাকুরগাঁওয়ে জমি নিয়ে চাচা ভাতিজার সংঘর্ষ, আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চাচার মৃত্যু

মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি।।

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় জমি জমা নিয়ে চাচা ভাতিজা সংঘর্ষে চাচা শাহ আলম  আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাতে  মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটে। জানা গেছে ,উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের হরিণ মাড়ি( জুগি হার) গ্রামে গত শুক্রবার  শাহ আলম ও তার ভাতিজা জমি জমা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে  সংঘর্ষ হয় এক পর্যায় চাচা শাহ আলমের(৭৫) মাথায় আঘাত করে আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর হাসপাতালে ভর্তি করান অবস্থার অবনতি হওয়ায় গতকাল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।

নিহত শাহ আলম এর ছোট ছেলে সোহেল জানান, আমার বাবার কাছে আমার চাচাতো ভাই মানারুল ইসলাম বাড়ির পার্শে  কয়েক শতক জমি দান স্বরুপ রেজিস্ট্রি করে দেন এখন চাচাতো ভাই মানারুল ইসলাম আমাদের বাড়ির সামনে জমি দখলের চেষ্টা করলে এক পর্যায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে এতে করে আমার বাবাকে মাথায় স্ব জোরে আঘাত করলে আশংকা জনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাই।

গতকাল রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়ার পথে মারা যায়। আমি আমার বাবার হত্যাকারীদের বিচার চাই।

আমজানখোর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আকালু বলেন, আমি গত পরশু জমি জমা নিয়ে সংঘর্ষের কথা শুনি এবং তাদের উভয় পক্ষকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। গতকাল রাতে শুনলাম চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহ আলমের মৃত্যু হয় তাৎক্ষণিক আমি বালিয়াডাঙ্গী থানায় অবগত করছি। আজকে ওসি সাহেব এবং আমি ঘটনা স্থলে আসলাম আইন অনুযায়ী ওসি সাহেব ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল আনাম ডন বলেন, আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন্স কামাল এখন চরম বেপরোয়া

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ উপেক্ষিত! * নামে-বেনামে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে অর্ধশত কোটি টাকার বিনিয়োগ

সিলেটের ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন্স কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগ ওঠার পরও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

অভিযোগ-ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি প্রিজন্স হিসাবে যোগ দিয়েই তিনি ভুল ঠিকানা দিয়ে চাকরি নেওয়া অর্ধশতাধিক কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করেন। এ ছাড়া নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকা অবৈধ উপায়ে আয় করেছেন।

এর আগে চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে কারাবন্দি জঙ্গি ও বিএনপি-জামায়াত নেতাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কারাগারে টাকার বিনিময়ে মাদক সরবরাহ এবং বন্দিদের ঘিরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

এসব উল্লেখ করে কামালের বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগও দেন চট্টগ্রাম মহানগরের এক আওয়ামী লীগ নেতা।

অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে ২০২১ সালের ৭ জুলাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ থেকে কামাল হোসাইনকে প্রত্যাহার ও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

উপসচিব (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা স্বাক্ষরিত স্মারকে এ নির্দেশ দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। রহস্যজনক কারণে তার অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্তও হয়নি। এ কারণে কামাল হোসাইন আরও বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। কারা সংশ্লিষ্টরা এমন দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কারা অধিদপ্তরের কয়েকজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, সিলেটে ভুল ঠিকানা দেখিয়ে চাকরি করা অর্ধশতাধিকের বেশি কারারক্ষীর কাছ থেকে জনপ্রতি তিন থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস নিয়েছেন কামাল হোসাইন।

টাকা না দিলে এসব কারারক্ষীকে চাকরিচ্যুত করার এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ভয় দেখানো হয়। কর্মকর্তাদের আরও দাবি, কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইনের প্রশ্রয়ে কামাল হোসাইন বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।

এর আগেও চট্টগ্রামের সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তদন্তকালে উলটো কামাল হোসাইনকে পদোন্নতি পাইয়ে দিয়েছেন অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইন। বিশেষ ক্ষমতা বলে তিনি এটা করেছেন বলে দাবি কর্মকর্তাদের।

ভুক্তভোগী কারারক্ষীদের কয়েকজন পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, কামাল হোসাইনকে প্রত্যাহার করে কারাবিধি অনুযায়ী ঘুস আদায় ও দুর্নীতির বিষয়ে তদন্ত করা হলে তাদের অনেকেই সাক্ষ্য দিতে রাজি আছেন। তবে তাকে কর্মস্থল রেখে তদন্ত করলে তারা মুখ খুলবেন না।

১৯৮৫ সালের আধুনিক প্রশাসন ব্যবস্থাপনা আইনে সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা আপিল বিধিমালায় এর ডি ধারায় স্পষ্ট বলা আছেযদি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী অনিয়ম বা স্বেচ্ছাচারিতা তার কর্মস্থলে ক্রমাগত অভিযোগে অভিযুক্ত হন সে ক্ষেত্রে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে সাময়িক অব্যাহতিপূর্বক সংস্থায় বা অধীনস্থ মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করার বিধান রয়েছে

অন্য এক ধারায় বলা হয়েছেঅভিযুক্ত ব্যক্তির অভিযোগ তদন্তকালে যেন কোনো প্রকার প্রভাব বিস্তার বা তদন্তকাজ ব্যাহত না হয় সেজন্য অভিযুক্তকে কর্মস্থলে রাখা সমীচীন নয় অভিযুক্তকে কর্মস্থলে বহাল রেখে তদন্ত করলে তদন্ত কাজ ব্যাহত হয়

চট্টগ্রাম কারাগারে সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম মাসুদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি লেখেন, টাকার বিনিময়ে জঙ্গি ও কারাবন্দি বিএনপি-জামায়াতর নেতাকর্মীদের অবৈধ সুবিধা দিয়েছেন কামাল হোসাইন।

কারাগারে জেলকোড অনুযায়ী বন্দিদের মানসম্পন্ন খাবার দেওয়া হয় না। সরবরাহকারীদের কাছ থেকে কমিশন নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।

দিদারুল আলম মাসুদ আরও লেখেন-কারাগারের ভেতর মাদক সরবরাহের সুযোগ করে দেন কামাল হোসাইন। আদালতে হাজিরা থাকলে জেলকোড অনুযায়ী বন্দিদের দুপুরের খাবার বাবদ টাকা দেওয়ার বিধান থাকলেও তার নির্দেশে তা দেওয়া হচ্ছিল না।

প্রতিবাদ করার পর থেকে জনপ্রতি ২৬ টাকা করে দেওয়া হয়। সাধারণ বন্দিদের চেয়ে চিহ্নিত অপরাধীদের মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ বেশি দেওয়া হয়। কারা অভ্যন্তরে প্রতিবাদ করায় আমি কামাল হোসাইনের রোষানলের শিকার হয়েছি।

কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাবেক কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া কামাল হোসাইনকে প্রত্যাহার করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে দুদকের পক্ষ থেকে কারা মহাপরিদর্শককে গত বছরের ৭ জুলাই চিঠি দেওয়া হয়।

কিন্তু এখনো তার বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অথচ অভিযোগের তদন্তকালে ২০২০ সালের অক্টোবরে পদোন্নতি দিয়ে কামাল হোসাইনকে ডিআইজি (প্রিজন্স) হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

এ ছাড়া কারা অধিদপ্তরে দাম্ভিকতা দেখিয়ে কামাল অনেকবার ভাগিয়ে নিয়েছেন ভালো জেলায় পোস্টিং। এতে তাকে সাহায্য করেছেন বিএনপি-জামায়াতপন্থি কারা অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তারা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের কারা অনু শাখার একজন অতিরিক্ত সচিবও তাকে সহযোগিতা করেছেন।

অনিয়ম ও দুর্নীতি করে পার পেতে কামাল হোসাইন সব সময় কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইন ও অতিরিক্ত সচিবসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের নাম ব্যবহার করেন। ঘনিষ্ঠ লোক হিসাবেও তিনি সর্বত্র তাদের পরিচয় দিয়ে আসছেন।

এ কারণে হাজারো অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বরং উলটো তার পছন্দের বিভাগে পোস্টিং ও পদোন্নতি দেওয়া হয়। কামাল হোসাইনের বিরুদ্ধে দুদক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তর থেকে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

যে কারাগারেই কামাল হোসাইন দায়িত্ব পালন করেছেন সেখানে অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। কারারক্ষী বদলি বাণিজ্য, ক্যান্টিন বাণিজ্য, কারারক্ষী নিয়োগ বাণিজ্য, কারা ঠিকাদারদের কাছ থেকে কমিশন বাণিজ্য ও কারারক্ষীদের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।

তার বিরুদ্ধে আনা উল্লেখযোগ্য অভিযোগগুলো হলো-চট্টগ্রাম কারাগারের এমডি খাতের টাকা লোপাট, টাকার বিনিময়ে বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ এবং বন্দিদের খাবার ওজনে কম দেওয়া, লালমনিরহাটে তুষভাণ্ডার বাজারে শ্বশুরের নামে কোটি টাকার মার্কেট, স্ত্রীর নামে বহুতল ভবন ও ফসলি জমি, সিলেটে প্রিজম হাউজিং নামে একটি কোম্পানির অর্ধেক শেয়ার ক্রয়, সাবেক ও বর্তমান দুই কারা কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন চুক্তিতে রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, নারায়ণগঞ্জ ইউরো বাংলা রিয়েল এস্টেট কোম্পানিতে নিজ নামে পাঁচ কাঠার প্লট, ঢাকায় স্ত্রী শিরিন শবনম ও শ্বশুর সফিকুল ইসলামের নামে ফ্ল্যাট ও একাধিক প্লট ক্রয়। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মূল অর্থ কামাল হোসাইন ও ডেপুটি জেলার আব্দুস সালাম তালুকদারের যৌথ বিনিয়োগ হলেও শেয়ার হোল্ডার হিসাবে নাম রয়েছে সাবেক জেলার শামশুল ইসলামের।

চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার থাকাকালে কামাল হোসাইন এমডি খাতের ছয় লাখ টাকা স্টোর অর্ডার ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তুলে নেন। যা এজি অফিসের ২০২০ সালের হিসাব খাতে সংরক্ষণ করা রয়েছে। এ অর্থ লোপাটের বিষয়ে চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি একেএম ফজলুল হক  বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে তদন্ত করে দেখা হবে।

সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার আব্দুস সালাম তালুকদার জানান, আমার ও আমার শ্বশুরের সঙ্গে কামাল হোসাইনের কোনো ব্যবসা নেই। এ কথা বলার পর তিনি ফোনের সংযোগ কেটে দেন। পরে তার মোবাইল ফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

কামাল হোসাইন ও ডেপুটি জেলার আব্দুস সালাম তালুকদারের টাকা বিনিয়োগ করে সিলেটে রিয়েল এস্টেট কোম্পানির পরিচালক হিসাবে ব্যবসা পরিচালনা করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক জেলার শামশুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, সব অভিযোগ মিথ্যা। তিনি আরও বলেন, কামাল ও সালামের সঙ্গে আমার কোনো ব্যবসা নেই। কোনো প্রতিষ্ঠানেও আমার কোনো শেয়ার নেই।

অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিআইজি কামাল হোসাইন বলেন, আমার ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে সেগুলো সঠিক নয়। তবে চট্টগ্রামের অভিযোগগুলো আমার মনে নেই। রিয়েল এস্টেট ব্যবসা নিয়ে কারও সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দুদকের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি একা অভিযুক্ত নই।

আমার জুনিয়র ও সিনিয়র একাধিক কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আপনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কারা মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এর পরও আপনি কিভাবে আবার সিলেটে পদোন্নতি নিয়ে এলেন-এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর কামাল হোসাইন দিতে পারেননি।

কারা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শক আবরার হোসাইন বলেন, কামাল হোসাইনের অনিয়মের বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তও চলছে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পেলে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কর্মস্থলে বহাল রেখে তদন্ত করলে তদন্ত কাজ ব্যাহত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।

জানা গেছে, লালমনিরহাটের বাসিন্দা কামাল হোসাইন ২০০৮ সালে কারা অধিদপ্তরে জেল সুপার হিসাবে চাকরিতে যোগ দেন। রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএসএস পাস করেন তিনি। কারমাইকেল কলেজে পড়ার সময় তিনি শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

তার বাবা মকবুল আহমেদ বিএনপির নেতা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কামাল হোসাইন ছাত্রদলের নেতা বনে যান। এ ছাড়া তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠভাজন ছাত্রদলের ক্যাডার সোহেলের মাধ্যমে কামাল হোসাইন তার (তারেক) আস্থাভাজন হন। সূত্র: যুগান্তর

English Dainikbiswa

গরুর রক্ত মরা ছাগলের মাংসে মেখে গরুর মাংস বলে বিক্রি- কসাই আটক

গরুর রক্ত মরা ছাগলের মাংসে মেখে গরুর মাংস বলে বিক্রি- কসাই আটক

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে মুরগির মাংস বিক্রির ঘটনার ১০ দিন পরই মরা ছাগল জবাই করে মাংস বিক্রির অভিযোগে নজরুল ইসলাম (৪৬) ওরফে ইদু নামে এক কসাইকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা।

শুক্রবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের ভেতরে মরা ছাগল জবাই করে গেটের সামনে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দেখে ফেলে হাতেনাতে আটক করে উত্তম-মাধ্যম দেয়। আটক কসাই উপজেলার বড়বাড়ি ইউনিয়নের ধনিবস্তী মহাজনহাট গ্রামের শরিফ উদ্দীনের ছেলে।

বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাব-ইন্সপেক্টর আব্দুল গফুর বলেন, ‘সকালে উপজেলা পরিষদের ভেতরে মরা ছাগল জবাই করার পর ওই ছাগলের গায়ে গরুর রক্ত মেখে মাংস বিক্রির সময় স্থানীয়রা দেখে ফেলে। পরে মরা ছাগল ও কসাইকে আটক করে আমিসহ উপস্থিত লোকজন বালিয়াডাঙ্গী থানায় খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে কসাইকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ছাগলটিকে মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়েছে এবং ইউএনও স্যারকে মুঠোফোনে অবগত করার পর তিনি ছুটিতে থাকার কারণে রোববার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।’

বালিয়াডাঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম ডন বলেন, কসাই নজরুল ইসলামকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, ১০ মে মরা মুরগির মাংস রান্না করে বিক্রির দায়ে হোটেলমালিক সেলিম উদ্দীনকে ৫ হাজার টাকা ও মাংস বিক্রেতা আব্দুলকে ১০ হাজার অর্থদণ্ড করা হয়। ওই হোটেলের সামনে থেকেই মরা ছাগলের মাংস বিক্রির অভিযোগে কসাইকে আটক করা হয়েছে।

গিলাতলায় কিশোরীর ছবি ফেসবুকে দিয়ে হুমকি: থানায় অভিযোগ

//বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনার খানজাহান আলী থানার আটরা শ্রীনাথ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর ছবি ও কুরুচিপূর্ণ লেখা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে।

এ বিষয় খানজাহান আলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই ছাত্রীর মা। থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গিলাতলা সোনাতলা বাজারপাড়া ঘাট এলাকার আব্দুল হক গাজীর নাতি ও নূর ইসলামের পূত্র ইউসুফ ইসলাম রাতুল (২১) দীর্ঘ দিন যাবৎ ওই ছাত্রীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে।

এছাড়া ভুক্তভোগী ওই মেয়েকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে কিছু অন্তরঙ্গ ছবি তুলে মোবাইলে ধারণ করে। রাতুলের প্রেমের সম্পর্কে ফাটল ধরলে সে গত ১৮ মে ২০২২ ইং তারিখে আপত্তিকর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। তবে এর আগেও একটি ভূঁয়া ফেসবুক আইডি খুলে রাতুল ওই ছাত্রীর কিছু ছবি ও বাজে উক্তি লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেয় এমন দাবি ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর পরিবারের।

এ বিষয় খানজাহান আলী থানার ডিউটি অফিসার আসাদুজ্জামান নূর অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এডিসি (নর্থ) শাহাবুদ্দিন জানান, ঘটনার বিষয়গুলো খুবই স্পর্শকাতর । আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিব।

রূপসায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একই পরিবারের ৮জন কে মারপিট করে আহত

//খুলনা ব্যুরো//

রূপসায় এস এসসি পরীক্ষার্থী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৮জনকে পিটিয়ে আহত করেছে  দুর্বৃত্তরা।

আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নৈহাটি  ইউনিয়নের নেহালপুর গ্রামে আশ্রয়ন প্রকল্পে শেখ কাওসার আলী তার পরিবার নিয়ে সরকারী ঘরে বসবাস করেন।

কওসার তার মেয়ে সাথী বেগম কে  ইউপি সদস‍্য রাজ্জাক নামে এক জনপ্রতিনিধি কু প্রস্তাব দেয়। ঘটনাটি তার পরিবারকে সাথী জানায় এবং সে প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তার উপর ক্ষীপ্ত থাকে ইউপি সদস‍্য।

তারই জের ধরে আজ সন্ধ্যায়   ইউপি সদস‍্যর নিদের্শে মামুন, লাকি,আমজাদ,নাজমা, কুলসুম ভুক্তভোগীদের বসত বাড়িতে প্রবেশ করে তাদের মারপিট করে।

এসময় ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম‍্যান কামাল উদ্দিন বাদশা, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সদস্য আব্দুল মজিদ ফকির,ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন বুলবুল, ইউপি সদস্য লিপিকা রানী দাস হাসপাতালে আহত রোগীদের দেখতে আসেন।

আহতরা হলেন খুশিনা বেগম(৪৫), বৃদ্ধা জাহানারা বেগম(৬০) শিক্ষার্থী ইতি খাতুন(১৪) শিশু বৃষ্টি(১০),জান্নাতুল আক্তার মিম(৫)শুকু(৬),দুখু(৬) বৃষ্টি (১০)।

এছাড়া  ইউপি সদস‍্য রাজ্জাকের বিরুদ্ধ‍ে নারী ঘটিত একাধিক অভিযোগ  রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়।

নীলফামারীর ডোমারে শিশুর ধর্ষণকারী ধরাছোঁয়ার বাইরে, এলাকাবাসীর ক্ষোভ

//নীলফামারী প্রতিনিধি//

রাতের অন্ধকারে পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্রীকে বাড়ির পিছন থেকে তুলে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ মামলার আসামী হরেন্দ্র নাথ রায় (৩০) ৬ দিন পেরিয়েও গ্রেফতার না হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার ও এলাকাবাসীর মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অভিযুক্ত আসামীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন।

নীলফামারীর ডোমার উপজেলার মটুকপুর সরকারপাড়ায় ০৯মে (সোমবার) ধর্ষনের ঘটনাটি ঘটেছে।

মেয়ের বাবা ডোমার থানায় ১১/০৫/২২ইং “নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধনী/০৩ এর ৯(১) ধারায় মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-০৫ । ধর্ষন মামলার অভিযুক্ত আসামী বোড়াগাড়ি বাজারের একজন ডিম চটপটির ব্যবসায়ী।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা পেশায় একজন রিকশাচালক। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। মা ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সংলগ্ন একটি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কাজ করে। গত ৯ মে বিকালে মেয়েটির মা তার কর্মস্থলে যায়। ১১ বছর বয়সী নাবালিকা মেয়ে দাদা-দাদীর সাথে বাড়ীতে ছিল।

ওইদিন অনুমানিক রাত ৮ টায় মেয়েটি বাড়ী থেকে বের হওয়ার পিছনের টিনের দরজা লাগানোর জন্য গেলে সেখানে আগে হতেই অবস্থানরত প্রতিবেশী মৃত সুধীর চন্দ্র রায়ের পালিত ছেলে হরেন্দ্র নাথ রায় (৩০), অতর্কিতভাবে মেয়ের কাছে এসে তার মুখ চেপে ধরে বাড়ী সংলগ্ন উত্তর পার্শ্বে জনৈক সুদাসন এর বাঁশঝাড়ে নিয়া যায়।

সেখানে নাবালিকা মেয়েটিকে জোরপূর্বক মাটিতে শোয়াইয়ে তাহার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষন করে হরেন্দ্র নাথ রায়। মেয়েটি চিৎকার করার চেষ্টা করলে আসামী তাহার হাত দিয়ে মুখ চেপে ধরে। ধ্বস্তাধস্তির একপর্যায়ে মূখ হতে আসামীর হাত সরিয়ে চিৎকার করতে থাকলে আসামী হরেন্দ্র মেয়েটিকে ছেড়ে দিয়ে সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়।

পরে মেয়েটি পরিবারের লোকজনসহ সাক্ষী মোঃ দুলাল হোসেন (৬৫), মােছাঃ আমিনা বেগম (৫৮), মােঃ আনছার আলী (২৫) কে ঘটনার বিষয়ে বলে। এসময় মেয়েটি শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে তাকে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়। পরে সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মেয়ের বাবা সংবাদকর্মীকে জানান, মামলার পর গ্রাম পুলিশ দুলাল আমাকে বলে ঘটনাটা বেশী বাড়াবাড়ি না করে মিমাংসায় আসেন, আমরা আপনাকে টাকা নিয়ে দেবো। ধর্ষকের চাচাত ভাই মনোরঞ্জনও আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন,  তোমাদের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেবো।

মেয়ের বাবা আরো বলেন, আমরা ধর্ষকের বিচার চেয়েছি এটা কি আমরা অপরাধ করে ফেলেছি? ঘটনার সাথে আরো যারা যারা জড়িত আমি সবাইকে গ্রেপ্তার করে দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।

মেয়ের মা , চাচা ও চাচি জানান, অনেক খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে মেয়ের কান্নার শব্দ শুনে বাঁশঝাড়ের দিকে এগিয়ে গেলে ততক্ষনে আসামী নরেন পালিয়ে যায়। মেয়ের অবস্থা গুরুতর দেখে খুব দ্রুত ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আবু সাঈদ দ্রুত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করেন। হাসপাতালে ৩দিন চিকিৎসার পর মেয়েটির শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে আমরা তাকে বাড়িতে নিয়ে আসি।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জাকিয়া জেনী জানান, ধর্ষনের কিছুটা আলামত পাওয়া গিয়েছে।

আসামীর বিরুদ্ধে মামলা দেয়ার পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহন করার সময় আমাদের ইউপি সদস্য মিন্টু মেম্বার হুমকি দিয়ে বলেন, ব্যাপারটা নিয়ে বেশী বাড়াবাড়ি করেন না। তা নাহলে পরে তোমাদেরই সমস্যা হবে। গ্রামপুলিশ দুলাল বলেন, বেশী বাড়াবাড়ি না করে মিমাংসায় যান। আমরা ছেলে পক্ষের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করছি।

ধর্ষন মামলার অভিযুক্ত আসামী হরেনের স্ত্রী আলো (২০) বলেন, ধর্ষনের ব্যাপারে আমরা কিছু জানিনা। আমার স্বামী তাদের কাছে ধার বাবদ ৬০০ টাকা পেতো, সেই টাকা আনতে আমার স্বামী তাদের বাড়ি যায়।  আমার স্বামী ৫-৬ দিন থেকে বাড়িতে নাই আর কোথায় গেছে আমরা সে ব্যাপারে কেউ জানিনা। ২ ছেলে নিয়ে আমাদের পরিবারের খুব কষ্টে দিন যাচ্ছে, আমি আমার স্বামীর সন্ধান চাই।

হরেনের প্রতিবেশী মনোরঞ্জন রায় জানান, আমাদের ওয়ার্ডের মিন্টু মেম্বার ঘটনা ঘটার পর সেই রাতেই হরেন এর কাছে কিছু টাকা নিয়ে তাকে পালিয়ে যেতে সহযোগীতা করেছে।

মটুকপুর সরকারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি ঈদের ছুটি চলাকালীন সময়ে ঘটেছে। স্কুল খুলে বাচ্চাটিকে ক্লাসে না পাওয়ায় আমরা খোঁজ নিয়ে ধর্ষনের ব্যাপারটি জানতে পারি। সে আমাদের স্কুলের পঞ্চম শ্রেনীর ছাত্রী। আমরা শিক্ষকরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।

এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য মিন্টু তার বিরুদ্ধের অভিযোগসমূহকে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে বলেন, মেয়ের চাচা ঢাকা থেকে মোবাইলে আমাকে দুর্ঘটনার সংবাদটি জানালে প্রথমে আমি অভিযুক্ত আসামী হরেনের বাড়িতে যাই। আমি তার কাছে ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে ঘটনা টি মিথ্যে। এরপর আমি ওই ধর্ষিত মেয়ের বাড়িতে গিয়ে মেয়ের অবস্থা দেখে দ্রুত মেডিকেলে পাঠাই।

তিনি আরও বলেন, ঘটনা আমি তাৎক্ষণিকভাবে আমার ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি ডোমার থানায় যোগাযোগ করেন। কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশ আসে, তাদের নিয়ে আবারো হরেনের বাড়িতে গিয়ে খোঁজাখুঁজির পর হরেনকে পাওয়া যায়নি।

এলাকাবাসীরা একত্রিত হয়ে বলেন, ডোমার থানায় মামলা করার ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও আসামি ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আসামী হরেন সহ এর সাথে জড়িতদের আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে সকলের বিচার চাই।

ঘটনার ব্যাপারে ডোমার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, মামলা রেকর্ডের পর থেকে আমরা আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছি। আসামী আত্মগোপনে রয়েছে। আমরা গ্রেপ্তারের জন্য ডিজিটালি ও ম্যানুয়ালি চেষ্টা চালাচ্ছি।

English Dainikbiswa

ডুমুরিয়ায় স্বদেশ প‍্রত‍্যাবর্তন দিবস পালিত

কচুয়ায় ভুয়া ডিগ্রিধারী চিকিৎসকে ১ লাখ টাকা জরিমানা: চেম্বান সিলগালা

কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে চিকিৎসা সেবা প্রদান করার অপরাধে এম এম মনির নামের এক ব্যক্তিকে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে কচুয়া উপজেলার জিরো পয়েন্ট এলাকায় ওই চিকিৎসকের চেম্বারে অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হিসেবে এই দন্ডাদেশ প্রদান করেন।এসময় মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদি হাসান উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত এম এম মনির বাগেরহাট পৌর শহরের হরিণখানা এলাকার সোহরাব হোসেনের ছেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সহকারী কমিশনার রোহান সরকার বলেন, প্রাথমিক চিকিৎসার একটি প্রশিক্ষণ নিয়েই নিজেকে এমবিবিএস পাস দাবি করে চেম্বার নিয়ে দীর্ঘদিন মানুষকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছিলেন এমএম মনির নামের ওই ব্যক্তি। চেম্বারের সামনে সাইনবোর্ডে যে রেজিস্ট্রেশন নম্বরটি লিখেছেন সেটিও ভুয়া। তার অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা এবং চেম্বার সিলগালা করে দিয়েছেন। ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহার করে পুনরায় চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে না মর্মে মুচলেকাও দিয়েছেন এমএম মনির নামের ওই ব্যক্তি।

এদিকে ভুয়া ডিগ্রি ব্যবহারকারী এই চিকিৎসকের জরিমানা ও চেম্বার সিলগালা করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।

English Dainikbiswa

কুকিং রেসিপি

যুব সমাজকে খেলাধুলায় সম্পৃক্ত রাখতে সকল ধরণের সহায়তা দেয়া হবে … নূর হোসেন পাটওয়ারী