মাগুরায় আল-সাবা ক্লিনিকে অপচিকিৎসায় এক সিজারিয়ান মায়ের মৃত্যু

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা//

মাগুরায় আলসাবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাঃ রাকিবুল ইসলাম এর অপচিকিৎসায় সাবিনা (২৭) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে । জানা গেছে, বুধবার সকাল ছয়টায় সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাহাতপুর গ্রামের মোঃ মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ সাবিনা খাতুন ভর্তি হন আলসাবা ক্লিনিকে ।

এসময় ডাক্তার রাকিবুল ইসলাম সিজারিয়ান অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিয়ে সকাল সাড়ে সাতটায় সাবিনা খাতুনকে  অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে সিজার করেন এবং একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সন্তান সুস্থ থাকলেও মায়ের আর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না একপর্যায়ে রোগীর স্বজনদের না জানিয়ে দুই-তিনব্যাগ রক্ত দিয়ে রোগীকে সুস্থ করার চেষ্টা করে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ। এভাবে সারাদিন রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় বিকাল ৫ টায় রোগীর নিশ্চিত মৃত্যু জানতে পেরে তড়িঘড়ি করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে রেফার্ড করা হয় এবং সাবিনা কে নিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। অভিযোগ আছে ডাক্তার রাকিবুল ইসলাম বরাবরই রোগীকে আল্ট্রাসাউন্ড না করেই অপারেশন করেন।

উল্লেখ্য এক পর্যায়ে রোগী স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে মৃতদেহ নিয়ে  আল-সাবা ক্লিনিকের সামনে এসে  হট্টগোল শুরু করলে ক্লিনিক মালিক সমিতির  মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকায়  দফারফা হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ডাক্তার রাকিবুল ইসলাম এর সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

সালাম জুটমিলের আগুণ নিভেছে, ছিলনা অগ্নিনিরাপত্তা বা ফায়ার এক্সিট

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

টানা ৮ ঘণ্টা দাউদাউ আগুনে পুড়ে যাবার পর খুলনার রূপসা উপজেলার জাবুসায় সালাম জুট মিলে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ও নৌবাহিনীর দুইটি ইউনিটের প্রচেষ্টায় বুধবার রাত ২টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। এখন চলছে ডার্মিংয়ের কাজ । এ ঘটনায় জুট মিলের চারটি গোডাউনে থাকা কাঁচা পাট ছাড়াও প্রক্রিয়াজাত করা সব পাটই পুড়ে গেছে।

ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুন লাগা জুট মিলে কোনো ধরনের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। বারবার এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলেও মালিকপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। অন্যদিকে, পাটের আগুন হওয়ায় নিয়ন্ত্রণে আসতে এত সময় লেগেছে।

ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, আমার স্টেশনের ১১টা ইউনিট কাজ করেছে। আমারও একটি গাড়ি আছে, তবে সেটি অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার গাড়ি না। সেটা না ধরলে ১০টা ইউনিট হবে। আর প্রতিটি গাড়িতে দুইটি করে পাম্প থাকে। আমরা ২০টা পাম্প সেট করেছি, কমপক্ষে ২২-২৩ লাইন খুলেছি। পরে দেখলাম আমরা একটা প্রান্তে ঢুকতে পারছি না। শেষ পর্যন্ত আমার একটি ইউনিট রয়েছে, যেটা কোথাও কাটাকাটি করা লাগলে আমরা ব্যবহার করি। সেটিকে রেসকিউ ইউনিট বলা হয়। পরে ওই ইউনিট দিয়ে আমরা পেছন থেকে দুইটা দেয়াল কাটি।

তিনি বলেন, জুট মিলের দেয়ালগুলো ১২ ইঞ্চির। আর এটা একটা জেলখানার মতো জায়গা। ১২ থেকে ১৫ ফুট উঁচু করছে যেন মানুষ অপরপাশ দিয়ে না আসতে পারে। একটা করিডোরও তো রাখা যেতো। ২টা মানুষ যে এক্সিট হবে হেরও পথ রাখে নাই। দুইটা গেট রাখত।

এর আগে বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে খুলনার এই জুট মিলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট। এরপর একে একে আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয় ১১টি ইউনিট। সেই সঙ্গে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় নৌবাহিনীর ২টি ইউনিট।

এদিকে, জুট মিলের মালিক এম এম এ সালাম জানিয়েছেন, আগুনে প্রায় ৭৫০ টন রপ্তানি উপযোগী পাটজাত পণ্য ছাড়াও প্রায় ৩৫ হাজার মণ কাঁচা পাট এবং মিলের যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। সবমিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১২৫ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এছাড়া কন্টিনেন্টাল ইনস্যুরেন্সে তার ৫০ কোটি টাকার ইনস্যুরেন্স করা ছিল বলেও দাবি করেছেন তিনি।

Daily World News

খুলনায় সালাম জুটমিলে ভয়াবহ আগুন – নিয়ন্ত্রণে ১৬ ইউনিট

নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের নিদের্শনা  অনুসরণ করবেন –  নির্বাচন কমিশনার

খুলনায় সালাম জুটমিলে ভয়াবহ আগুন – নিয়ন্ত্রণে ১৬ ইউনিট

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

খুলনার রূপসা উপজেলায় বেসরকারি সালাম জুট মিল নামে একটি পাটকলে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট কাজ করছে। বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে না আসায় রাত ৮টার দিকে নৌবাহিনীর দুটি ইউনিট যোগ দেয়।

আগুন লাগার কারণ এবং হতাহতের কোনো খবর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুকনো পাট হওয়ায় দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। একটি সুতা ও রপ্তানিযোগ্য পাটজাত পণ্য সেখানে মজুত করা ছিল। ২০১২ সালের দিকে সালাম জুট মিলটি চালু হয়। এখানে মূলত পাটের সুতা উৎপাদন করা হতো। প্রথমে জুটমিলটির ৩ নম্বর গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে বিভিন্ন গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

মিল কর্তৃপক্ষ বলেছে, মিলটিতে উৎপাদিত সাড়ে ৭০০ টন সুতা মজুত ছিল। খুলনা ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বে থাকা মো. আব্দুল কাদির বলেন, বিকাল ৫টা ৩৮ মিনিটে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক ফারুক হোসেন সিকদার জানান, বুধবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ করে মিলে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের খুলনার বয়রা, রূপসা ও বাগেরহাটের ফকিরহাট থেকে ১৬টি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। আগুন এখনো জ্বলছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আগুনে অনেক পাট পুড়ে গেছে। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে তা এখনো জানা যায়নি।

তালতলীতে অভিনব চুরি সংঘটিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে সেহরির সাথে চেতনা নাশক ঔষধ খাইয়ে স্বামী-স্ত্রী কে অচেতন করে অভিনব চুরি সংঘটিত হয়েছে।

অসুস্থ স্বাধীন-স্ত্রী কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার ভোর রাতে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে চুরির উদ্দেশ্যে একটি সংঘবদ্ধচক্র কোন এক সময়ে খাবারের সাথে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে রাখে। ভোর রাতে সেহরিতে ওই খাবার খেয়ে মোঃ জাফরুল্লাহ হামিদ( ৫০) ও তার স্ত্রী (সাবেক) ইউপি সদস্য সেলিনা আক্তার ইভা অচেতন অবস্থায় বাসায় পড়ে থাকেন। পরে সকাল দশটার দিকে প্রতিবেশীরা তাদের ডাকাডাকি করে এবং অচেতন অবস্থায় দেখতে পেয়ে দ্রুত তাদেরকে উদ্ধার করে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে উন্নত চিকিৎসা জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

অচেতন জাফরুল্লাহ হামিদের ছোট ভাই সাংবাদিক কাউসার হামিদ বলেন,আমার বড় ভাইকে সেহরির সাথে চেতনা নাশক ঔষধ মিশিয়ে রাখা খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায়  বাড়িতে চুরি সংঘঠিত হয়েছো। এসময় নগদ অর্থ ও স্বর্নালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এ বিষয়ে তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম খান জানান,সেহরির খাবার খেয়ে ২ জন অসুস্থ হয়েছে। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আমরূ এ অসাধু চক্রকে ধরতে জোর চেস্টা করছি।

তালতলীতে জমি দখল করতে বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলা নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের আগাপাড়া এলাকায় স্থানীয় প্রভাবশালী কালাম ডুবারুর ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিরোধপূর্ণ জমি দখলে নেওয়ার জন্য বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শনিবার (৩০ মার্চ) রাত ১ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় দুটি টিনের ঘর কুপিয়ে তছনছ ও ঘরের ভেতরের আসবাবসহ অন্যান্য মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়। এসময় জরুরী সেবা ৯৯৯ কল দেওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। হামলায় ৩ নারীসহ ১ শিশু আহত হয়েছেন। তারা তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগী হাসি বেগম ও ফাতেমা বেগম জানান, শনিবার  রাত ১ টার দিকে তাঁরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় ৫০-৬০ জন সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র, লাঠি ও রড নিয়ে তাঁদের বসতঘরে হামলা চালায়। প্রথমেই তারা ঘরের দরজা, টিনের বেড়া কুপিয়ে ও পিটিয়ে ভেঙে ফেলে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সন্ত্রাসীরা ঘরে ঢুকে মালামাল তছনছ ও লুটপাট চালায়। কিছু হামলাকারী মুখোশ পরা ছিল। হামলাকারীরা একপর্যায়ে তাঁদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় এবং লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কালাম ডুবারু এবং তার সহযোগী আলমগীর গং ও ইব্রাহিম গং এর নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে তারা জানান।

তালতলী থানা-পুলিশ সূত্র জানায়, শনিবার রাত ১ টর দিকে নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের আগাপাড়া এলাকায় একটি বাড়িতে হামলা হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেছে।

তবে অভিযুক্ত কালাম ডুবারু সাংবাদিকদের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি এ হামলার সাথে জড়িত না।

তালতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রঞ্জিত কুমার বলেন, ঘটনা শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কিশোর গ্যাংরা বাড়ীতে হামলা-লুটপাট; থানায় অভিযোগ

//এম মুরশীদ আলী//

নবম শ্রেণীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থীকে প্রেম প্রস্তাব দেয় এলাকার বখাটে যুবক। ঐ প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়, তার বাড়িতে হামলা ভাঙ্গচুর সহ নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নেয় কিশোর গ্যাং লিডার মো. জনি ইসলাম সহ ৮/১০ জন। এ ঘটনায় রূপসা থানায় অভিযোগ দায়ের।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়- রূপসার নৈহাটী ইউনিয়ন, জয়পুর গ্রাম (এ্যাকটেল টাওয়ার) পাশে বসবাস করে মো. আকরাম শেখ। তাঁর মেয়ে বাগমারা শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণীতে পড়ে। তাকে প্রেমের কুপ্রস্তাব দিয়েছিল একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে জনি ইসলাম (২৫)। সে ঐ প্রেম প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করাতে গত ২৯ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে বাড়ীর সামনে মেয়েকে দেখতে পেয়ে জনি জোরপূর্বক মোবাইল নম্বর নিতে চাচ্ছিল। এমন সময় পিতা এসে কারণ জানতে চাওয়ার মধ্যে, জনি ইসলাম ক্ষিপ্ত বুঝতে পেরে মেয়েকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যায়। তার পরই কোন উত্তর না দিয়ে জোরপূর্বক টিনের বেড়া ভেঙ্গে ও সামনের পাচিল টক্কিয়ে রনি শেখ (২৯), রেশমা বেগম (৩৮), তানিয়া বেগম (৩৫) সহ ৮/১০ জন সংঘবদ্ধ প্রবেশ করে। পিতা আকরাম শেখ ও তাঁর স্ত্রীকে অশ্লীল ভাষায় গালি-গালাজের মধ্যে, হাতে থাকা রড দিয়ে তাঁর স্ত্রী এবং ৭ বছর বয়সের কন্যাকে পিটিয়ে আহত করে। রনি শেখ ছুরি দিয়ে কোপ মারে আকরাম শেখকে। এতে হাতের আঙ্গুল কেটে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়ে পড়লে, সন্ত্রাসীরা ঘরে প্রবেশ করে ৫ ভরি স্বর্ণ, নগদ ১ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা ও ২টি স্যামসাং মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। এ সময় আকরাম শেখের চিৎকারে লোকজনকে আসতে দেখে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। পরে লোকজন দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়।

পিতা মো. আকরাম শেখ বলেন- আমি নিরুপায় হয়ে মেয়েকে স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। তারপর থেকে রাতের আধারে প্রায়ই বাড়ীর আশপাশে চকলেট বাজি ফাটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টির মধ্যে বসবাস করতে হয়। কিশোর গ্যাং লিডার জনি ক্ষিপ্ত হয়ে গত ২৯ মার্চ দুপুরে বাড়িতে হামলা করে বৃদ্ধ মাতা সহ পরিবারের সকলকে মার-ধর এবং ঘরে থাকা নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার, ২টি মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ায় রূপসা থানায় অভিযোগ দায়ের করি।

জীবন নাশক টমটম কেড়ে নিল কলেজ ছাত্র হিমাদ্রি হিমু‘র জীবন

//জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি//

 মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ঢালিরখন্ড ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় মঙ্গলবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১ টার দিকে মোটরসাইকেল ও টমটমের মুখোমুখি সংঘর্ষে হিমাদ্রি হিমু (২২) নামে এক শিক্ষর্থী নিহত হয়েছে। নিহত হিমাদ্রি হিমু মোংলা পৌর শহরের এক নং ওয়ার্ড মাকরঢোন এলাকার গৌতম মল্লিকের একমাত্র ছেলে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানাযায় দুপুর আনুমানিক ১ টার দিকে মোটরসাইকেল যোগে হিমু এবং তার বন্ধু মোংলা খাসেরডাঙ্গা এলাকার আশীষ মেম্বারের পুত্র লিজন কুমার হালদারকে (২০) নিয়ে মোড়লগঞ্জের লক্ষ্মীখালী এলাকা থেকে মোংলার দিকে আসার সময় ঢালিরখন্ড ব্রিজ নামক স্থানে পৌঁছালে বিপরীত দিকথেকে আসা একটি টমটমের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয় ।

সংঘর্ষে হিমাদ্রি হিমু ও লিজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হিমাদ্রি হিমুকে মৃত ঘোষণা করে এবং লিজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

হিমু গোপালগঞ্জ পলিটেকনিকের ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থী ছিলো। তার বাবা গৌতম মল্লিক মোংলা পৌরসভার কর্মরতো আছেন।

১০০ টাকার জন্য অভিমানী ছেলের আত্মহত্যা!

মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

বরগুনার তালতলীতে মাত্র ১০০ টাকার জন্য মায়ের সাথে অভিমান করে মো. ইমরান হোসেন (১৮) নামের এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে। রবিবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের বড় আমখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. ইমরান হোসেন একই গ্রামের মো. ইব্রাহিম হাওলাদারের ছেলে ও লাউপাড়া সাগর সৈকত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঘটনার দিন রবিবার স্থানীয় দোকানে ইমরানের কাছে পাওনা ১০০ টাকা পরিশোধের জন্য দোকানদার চাপ দেয়। পরবর্তীতে ইমরান তার পাওনা টাকা পরিশোধের জন্য মায়ের কাছে ১০০ টাকা চায়। এ টাকা দিতে তার মা অস্বীকার করলে ইমরান হোসেন অভিমান করে কীটনাশক পান করে। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে উপজেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক অব¯’ার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন। পরে বরিশালে নিয়ে যাওয়ার পথে ইমরানের মৃত্যু হয়।

তালতলী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম মিলন  বলেন,প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হয়েছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

বিকৃত ইচ্ছার পুলক মানুষ খুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হতে চেয়েছিল

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রসু খাঁ, এরশাদ শিকদার, বাবু শেখ বা মাহফুজ-সবারই ছিল বিকৃত ইচ্ছা। অস্বাভাবিক মনোবাসনার কারণে তারা হয়ে উঠেছিলেন সিরিয়াল কিলার। আর তাদের আদলে মানুষ খুন করে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হওয়ার স্বপ্ন ছিল রাজধানীর দক্ষিণখানের এসএম ওয়াহিদ হোসেন ওরফে পুলকের।

ইচ্ছা পূরণের যথেষ্ট উপদান আছে তার মধ্যে। মাদকের নেশার চেয়েও তার কাছে বেশি নেশা জমেছিল মানুষ হত্যার।

প্রথম খুন করার পর সে তার মাকে জানিয়েছিল, একে একে নিজ চাচার পরিবারের সবাইকে (পরিবারের নয় সদস্য) হত্যা করবে। এরপর এলাকার অন্যান্য হত্যাকাণ্ডে নেতৃত্ব দেবে। উত্তরা অপরাধ বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর চেষ্টা চালাবে পুরো ঢাকার অপরাধ জগতের ডন হওয়ার। তার থাকবে গাড়ি-বাড়ি এবং লাশঘর। কিন্তু অঙ্কুরেই বিনাশ হয়েছে পুলকের এই স্বপ্নের।

নিরাপত্তাকর্মী হত্যা মামলায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল ২১ মার্চ দক্ষিণখান বাজার এলাকা থেকে পুলককে গ্রেফতার করে। এ সময় তার কাছে একটি লোহার ছুরি পাওয়া যায়।

গ্রেফতারের পর ডিবির জিজ্ঞাসাবাদের হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানায় পুলক। বর্ণনা করে খুনি হয়ে ওঠার লোমহর্ষক ঘটনা।

ডিবি জানায়, ২০১০ সালে পুলকের বাবা মারা যান। এরপর তার চাচা তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা শুরু করেন। এতে তার মেজাজ বিগড়ে যায়। একপর্যায়ে আন্ডারওয়ার্ল্ডের ডন হওয়ার পরিকল্পনা করে।

গত ১৮ মার্চ দক্ষিণখান থানায় একটি মামলা করেন খোরশেদা নামে এক নারী। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিদিনের মতো ১৭ মার্চ তার স্বামী আফিল মিয়া নাইট ডিউটি করতে রাত ১০টার দিকে বাসা থেকে বের হয়ে দক্ষিণখান বাজারে যান। ওইদিন রাত আড়াইটার দিকে রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে জানতে পারেন, তার স্বামী রক্তাক্ত অবস্থায় দক্ষিণখান চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের পাশে পড়ে ছিল। স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে কেসি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। খোরশেদা সেখানে গিয়ে তার স্বামীকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। জানতে পারেন, অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা তাকে বুকের বামপাশে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেছে।

ঘটনার পর থানা পুলিশ, পিবিআই, সিআইডি এবং ডিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। আলামতের পাশাপাশি আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। এলাকার নিরাপত্তাকর্মীদের তালিকা সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেয়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হত্যাকারী হিসাবে পুলককে চিহ্নিত করে ডিবি।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফিল মিয়া এবং এসএম ওয়াহিদ হোসেন পুলক একই এলাকার বাসিন্দা। তারা সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। পুলক মাদকাসক্ত ও বেকার যুবক। মাদকাসক্ত হওয়ায় পুলককে তার চাচা আফিল প্রায়ই শাসন করত। মাঝেমধ্যে গালাগাল করত। এতে পুলকের মনে ক্ষোভ জন্মে।

ঘটনার দিন পুলক তার বন্ধু কায়েস ও লিয়নকে নিয়ে স্থানীয় এমরাত হোসেন স্কুল মাঠে ইয়াবা সেবন করে। রাত ২টার দিকে আফিল মিয়াকে চেয়ারম্যান বাড়ি জামে মসজিদের সামনে চেয়ারে বসা অবস্থায় দেখতে পায়। রাত সোয়া ২টার দিকে সে আফিল মিয়ার সামনে যায়। কথা বলার একপর্যায়ে তার কোমড়ে থাকা ছুরি দিয়ে আফিল মিয়ার বুকে আঘাত করে। এতে ভিকটিম মাটিতে লুটে পড়ে।

ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) সাইফুল আলম মুজাহিদ যুগান্তরকে বলেন, পুলকের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল-সে দক্ষিণখানে কসাইবাড়ী থেকে উত্তরখানে কাঁচমুগা পর্যন্ত এলাকার অবৈধ অস্ত্র ও মাদকসহ অপরাধ সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করবে। তাকে সবাই এক নামে চিনবে। পুলিশ-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কথায় উঠবে-বসবে। তার একটা লাশঘর থাকবে। যেখানে সব সময় ৪-৫টি লাশ থাকবে। ধীরে ধীরে সে হয়ে উঠবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের নিয়ন্ত্রক। মানুষ হত্যাকে সে নেশায় পরিণত করতে চেয়েছিল। ইয়াবা সেবন করে সে যে ‘পিনিক’ পেয়েছে, মানুষ হত্যা করে তার চেয়ে বেশি ‘পিনিক’ পেয়েছে বলে পুলক ডিবিকে জানিয়েছে। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

উঠোনে গাঁজা চাষ,গাছসহ ব্যবসায়ী আটক

ফকিরহাটে ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ মহিলা মাদক কারবারি আটক

রামপালে মাদরাসার জমির বিরোধে মারপিট, আহত ৪ মুসুল্লি

জেনিভা প্রিয়ানা,বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালের মানিকনগরে মাদরাসার জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৪ জন মুসুল্লি আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুই জনকে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা হলেন, উপজেলার মানিকনগর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে ডালিম শেখ (৩৮), একই গ্রামের আরফুজ শেখের ছেলে কুতুব শেখ (২৬), ফখরুল মোড়লের ছেলে জিয়া মোড়ল ও ইব্রাহিম শেখের ছেলে হেলাল শেখ (৪২)। এ ঘটনায় রামপাল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, উপজেলার মানিকনগর গ্রামের একটি মাদরাসার নামে ভিভি ২৪ শতাংশ জমি রেকর্ড হয়েছে। ওই জমি ছাড়াও ২৫ শতাংশ ব্যাক্তি মালিকার জমি রয়েছে। জমিতে থাকা মৎস্য ঘেরটি মসজিদ কমিটির সদস্যরা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে মাছ ছেড়ে তা বিক্রি করে সেই টাকা মসজিদের কাজে ব্যয় করেন। বুধবার (২০ মার্চ) সকাল ৯ টায় টায় প্রতিপক্ষ একই গ্রামের জাকির শেখ, মোতালেব মোড়ল, মোজাহিদ মোড়ল, শাকিব শেখ ও সালাউদ্দিন মোড়লসহ অন্যান্যরা ওই ঘেরের মাছ ধরতে যান। এ সময় মুসুল্লীরা বাঁধা দেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে মারপিট করলে তারা আহত হন।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলও তাঁদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাশ জানান, মানিকনগর গ্রামের মাদরাসার জায়গায় নিয়ে বিরোধের জেরে মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। পূর্বেও একবার ঘেরের সমস্যা নিয়ে সমাধান করা হয়েছে। তারপরেও বিরোধ বাঁধিয়ে মুসুল্লীদের মারপিট করা হয়েছে যা দুঃখজনক। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।