রামপালে সুন্দরবন মহিলা কলেজের এডহক কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত

//বিশেষ প্রতিনিধি: জেনিভা প্রিয়ানা/

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুন্দরবন মহিলা কলেজের এডহক কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ অক্টোবর) f কাল সাড়ে ১১ টায় কলেজের অধ্যক্ষ শেখ খালিদ আহমেদ’র সভাপতিত্বে কলেজের শিক্ষক মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজে নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি ও বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক কৃষিবিদ শামীমুর রহমান শামীম।

গত ৩ অক্টোবর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ f রিদর্শক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আব্দুল হাই সিদ্দিক সরকার র্তৃক স্বাক্ষরিত কলেজের অধ্যক্ষ বরাবর প্রেরিত এক চিঠিতে শামীমকে সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়। সভাশেষে কলেজের জমি পর্যবেক্ষন করেন শামীমুর রহমান এবং কলেজের সকল শিক্ষকবৃন্দ।

জমি পর্যবেক্ষন শেষে কৃষিবিদ শামীমুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন কলেজের দোকান ভাড়া না দিয়ে দখল করে ভোগ করছে। এছাড়া অন্যায়ভাবে আওয়ামী লীগের লোকজন কলেজের জমি দখল করে বাড়ি-ঘর নির্মাণ করে বসবাস করছে। এখন আর আওয়ামী লীগ নেই। অতএব, জোর করে সরকারি সম্পদ ভোগ করা যাবে না। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নিয়ে স্বল্প সময়ের মধ্যে আমাদের কলেজের সম্পত্তি উদ্ধার করবো।

নি আরো বলেন, অতীতের সব গ্লানি মুছে ফেলে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে সুন্দরবন মহিলা কলেজকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। শিক্ষার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি আমরা কলেজের অবকাঠামোগত উন্নয়নের চেষ্টা চালাব। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে ছাত্রীরা যাতে ইভটিজিং বা কোন ধরনের হয়রানীর শিকার না হয় সেদিকেও আমাদের খেয়াল রাখতে হবে। আশাকরি অল্প সময়েই সুন্দরবন মহিলা কলেজ বাগেরহাটের মধ্যে একটি মডেল কলেজে পরিনত হবে।

এসময় তার সাথে রামপাল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এর আদ্যোপান্ত

//বিশেষ প্রতিবেদক//

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পৃথিবীর বুকে গড়ে ওঠা সর্বপ্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় ও সবচেয়ে প্রাচীন উচ্চ শিক্ষা কেন্দ্র।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় কে ধ্বং-স করেছিলো?

ঐতিহাসিক বিচারে নির্মোহ সত্যান্বেষণ।।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়, গুপ্ত সাম্রাজ্য তথা ভারতীয় উপমহাদেশের এক সুপ্রাচীন নিদর্শন এবং প্রাচীন বিশ্বের জ্ঞানবিজ্ঞানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।

এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠা হয় ৪১৩ খ্রিস্টাব্দে। সেসময় এমন সুসজ্জিত ও পূর্ণাঙ্গ আর কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্ব ইতিহাস ঘেটে পাওয়া যায় না। ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, সেসময় এই অঞ্চলে গুপ্তদের শাসনামল চলছিল। সেই অনুযায়ী, নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সম্রাট কুমারগুপ্তকেই ধরে নেওয়া হয় যা পরবর্তীতে স্কন্ধগুপ্তের হাত ধরে আরও বিস্তৃত হয়। পরবর্তীতে পাল রাজাদের আমলে শিক্ষা-দীক্ষায় বেশ অগ্রগতি লাভ করে নালন্দা। ধর্মপালের সময়ে বিক্রমশীলা, সোমপুর ও ওদন্তপুরী প্রতিষ্ঠিত হলে তা নালন্দা মহাবিহারের জ্ঞানচর্চার গতিকে আরও ত্বরান্বিত করে৷ পাল রাজাদের আমলে বৌদ্ধ দর্শনের প্রভাবও বাড়তে থাকে।

নালন্দা ধ্বংসের আদ্যোপান্ত:

জ্ঞানবিজ্ঞানের পীঠস্থান নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় বহি:শত্রু দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে একাধিকবার তবে ধ্বংসের উদ্দেশ্যে ধ্বংসাত্মক আক্রমণ একবার-ই হয়েছে। ইতিহাসের পাতায় উল্লেখযোগ্য তিনটি আক্রমণের তথ্য পাওয়া যায়। তথ্যানুযায়ী নালন্দা প্রথম আক্রান্ত হয় মিহিরকুলের নেতৃত্বে হুনদের দ্বারা, তারপর আক্রান্ত হয় বঙ্গাধীপতি শশাঙ্কের সেনাবাহিনী দ্বারা এবং পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয় আফগান দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী দ্বারা।

চলুন এবার ধারাবাহিক তথ্য বিশ্লেষণ করি। আমাদের মূল অভিপ্রায় থাকবে মোটামুটি প্রাইমারি সোর্স থেকেই সত্যানুসন্ধান করার।

১/ হুনদের দ্বারা আক্রান্ত: প্রথমবার নালন্দা আক্রান্ত হয় গুপ্ত সম্রাট স্কন্দগুপ্তের সময়ে। হুনরা মিহিরকুলের নেতৃত্বে ৪৫৫-৪৫৬ খ্রিষ্টাব্দে নালন্দা আক্রমণ করেছিলেন। সেই সময় শক, হুন, ইত্যাদি বহিরাগতরা প্রায়শই ভারত আক্রমণ করত। তবে স্কন্দগুপ্ত ও তার পরবর্তী রাজারা নালন্দাকে পুনরায় নির্মাণ করে আরও সমৃদ্ধ করেছিলেন। কারণ তিব্বতীয় চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাং (জুয়ানযাঙ্গ) সপ্তম শতকে যখন ভারত ভ্রমণে আসেন তখন নালন্দা হাজার হাজার ছাত্র-শিক্ষকে পরিপূর্ণ ছিলো।

২/ বঙ্গাধীপতি শশাঙ্ক দ্বারা আক্রান্ত: দ্বিতীয়বার নালন্দা আক্রান্ত হয় বঙ্গাধীপতি শশাঙ্কের সেনাবাহিনী দ্বারা৷ সম্ভবত বঙ্গরাজ শশাঙ্ক মগধ আক্রমণের সময় নালন্দা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে নালন্দা ধ্বংস হয় নি। তাছাড়া শশাঙ্কের উদ্দেশ্যও নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংস করা ছিলো না। যদি তা-ই হতো তবে বঙ্গের রাজধানী কর্ণসুবর্ণের নিকটে “রক্তমৃত্তিকা” মহাবিহারও ধ্বংস করে দিতেন। সপ্তম শতকেই ভারতে আসেন তিব্বতীয় চৈনিক পর্যটক হিউয়েন সাঙ (জুয়ানযাঙ্গ) এবং শীলভদ্রের অধীনে পড়াশোনাও করেন। তাঁর বর্ণনায় পাওয়া যায় সেসময় নালন্দার ১০০টি শ্রেণিকক্ষে প্রায় ২,০০০ শিক্ষকের অধীনে ২০,০০০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করতো। হিউয়েন সাং ভারত থেকে ফেরার সময় শশাঙ্কের রাজধানী কর্ণসুবর্ণ তে যান এবং এর পর উড়িষ্যা দিয়ে চীনে ফিরে যান। শশাঙ্ক যদি বৌদ্ধ বিদ্বেষী হতেন তবে হিউয়েন সাং কর্ণসুবর্ণে প্রবেশ করতে পারতেন না। উল্লেখ্য যে শশাঙ্ক যদি নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসই করে দিতেন তবে হিউয়েন সাং ভারত থেকে ফেরার সময় ছয় শতাধিক ভারতীয় গ্রন্থের পাণ্ডুলিপি নিয়ে যেতে পারতেন না। স্যামুয়েল বিল হিউয়েন সাঙের মূল রচনার ইংরেজি অনুবাদ করে “Si-Yu-Ki: Buddhist Records of the Western World” নামে প্রকাশ করেন। তাছাড়া বঙ্গাধীপতি শশাঙ্ক নালন্দা আক্রমণ করেছেন এমন কোন ঐতিহাসিক প্রমাণ পাওয়া যায় না প্রাথমিক সোর্স থেকে।

৩/ আফগান দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী দ্বারা আক্রান্ত: তৃতীয় আক্রমণ তথা ভয়ংকর ধ্বংসলীলা সংগঠিত হয়েছিল তুর্কী দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী কর্তৃক। নালন্দা সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেওয়া হয়, প্রচুর পুস্তক ও ভিক্ষুদের আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়। কিছু ভিক্ষু তিব্বত/নেপালে পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করে। এই জন্যই বাংলার প্রাচীনতম পুস্তক চর্যাপদ বাংলা/বিহারে পাওয়া যায় না; চর্যাপদ উদ্ধার করা হয় নেপাল থেকে। তুর্কী দস্যু বখতিয়ারের সেনাবাহিনী যে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় পুড়িয়েছিলো তার প্রমাণ মোটামুটি সকল প্রাথমিক সোর্স থেকেই পাওয়া যায়।

★ বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনীর হাতেই যে নালন্দা মহাবিহার ধ্বংস হয়েছিলো তার প্রমাণ হিসেবে ফারসি ঐতিহাসিক মিনহাজ-ই-সিরাজ তাঁর তাবাকাত-ই-নাসিরি গ্রন্থেই নথিভুক্ত করেছিলেন। এই বইটি ত্রয়োদশ শতকে রচিত, পরবর্তীতে ১৮৭৩ সালে সেটা মেজর এইচ.জি. রাভেট্রি ইংরেজিতে অনুবাদ করেন। মিনহাজ লিখেছেন,

“মুহাম্মদ-ই-বখত-ইয়ার দুর্গটি দখল করে এবং ভীষণ লুট করে। সেখানকার বেশিরভাগ বাসিন্দা ছিলো ব্রাহ্মণ এবং সকলের মাথা ছিলো মুণ্ডিত যাদের সবাইকেই হত্যা করতে৷ সেখানে বিশাল সংখ্যক পুস্তক ছিলো৷ যখন সবগুলো বই মুসলমানদের হাতে এলো এই বিষয়ক তথ্যের জন্য অনেক হিন্দুদের আনা হলো এবং সবাইকে হত্যা করা হলো। পরে, জানা গেলো এই দুর্গ এবং শহরটি ছিলো একটি কলেজ এবং হিন্দু ভাষায় এই কলেজকে বিহার বলা হতো৷ সেখানকার হাজার হাজার সন্ন্যাসীকে পুড়িয়ে মারা হলো এবং জীবতদের শিরোচ্ছেদ করা হলো। খিলজি তলোয়ারের মুখে বৌদ্ধদের উৎখাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলো৷ সেখানকার লাইব্রেরি মাসব্যাপী পুড়েছিলো এবং দগ্ধ পুস্তকের ধোঁয়ায় আশেপাশের পাহাড়গুলো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো।”

★ দ্বিতীয় সোর্স হিসেবে রয়েছে সুব্রহ্মণ্য রচিত “নালন্দাদহন” নাটিকা। তিব্বতীয় বজ্রযানী বৌদ্ধদের শাস্ত্র “পিটক” এ এই নাটিকাটি সংকলিত আছে। বজ্রযানী সকল পিটক উরগ্যেন লিংপার হাত ধরেই পূর্ণতা পেয়েছিলো। উরগ্যেন লিংপা বহু হারিয়ে যাওয়া শাস্ত্রগ্রন্থের পান্ডুলিপি সংগ্রহ করে সংকলন করতেন, তিনি চতুর্দশ শতকের ব্যক্তি। তাই ধরে নেওয়া যেতে পারে “নালন্দাদহন” নাটিকাটি অবশ্যই ত্রয়োদশ শতকের হবে যা প্রাথমিক সোর্স হিসেবে গ্রহণ করা যায়। নাটকের দ্বিতীয় দৃশ্যে দেখা যায়, তুরষ্ক সেনাসমুদ্র নালন্দার রাজদ্বারে প্রবেশ করিল। তাহাদিগের যত অশ্বারোহী তরবারির অগ্রে ভিক্ষুদের কাটিতে ও পুড়াইতে লাগিল।

এক বরিষ্ঠ ভিক্ষু সেই ঘোর জঘন্য কার্য্যের বর্ণনা করিলেন : —

“তুরষ্কবর্গ বায়ুবেগে আসিল এবং তদীয় শত্রু চূর্ণ করিতে লাগিল। সহস্র সহস্র ভিক্ষুকে কাটিয়া তাহারা যেন হত্যাযজ্ঞব্রত ধারণ করিয়াছে।”

সেনাপতি পুস্তকালয় দহনে উদ্যত দেখিয়া পুস্তকালয়ের অধ্যক্ষা ভিক্ষুণী ভাগেশ্বরী তাঁর কাছে প্রার্থনা করিলেন : —

“হে মহামতি মহাসেনাপতি! পুড়াইও না! শত সহস্র বিদ্বানের সাধনধনসঞ্চিত এই জ্ঞানভাণ্ডার পুড়াইও না। আমরা স্বল্পায়ু মানুষ, সাধন‌ও স্বল্প; তথাপি কোটি কোটি জ্ঞাননিমগ্ন বিদ্বানের জ্ঞান দ্বারা বর্ধিত এই ভাণ্ডার অখিলহিতকারী। তোমাদিগের দেশের পণ্ডিতরাও এইসকল খণ্ডন করিতে পারেন। এ যে শাস্ত্রের অকৃত্রিম ভাণ্ডার!”

(নাটিকার অনুবাদক: Koyel Writes)

★ তৃতীয় সোর্স হিসেবে আচার্য ধর্মস্বামীর বায়োগ্রাফি ব্যবহার করা যায়। উনার বায়োগ্রাফী “Upasaka Chos-dar” এর মূল তিব্বতীয় পাণ্ডুলিপি ইংরেজি অনুবাদ করেন Dr. George Roerich যেটা ১৯৫৯ সালে জয়সাল রিসার্চ ইনস্টিটিউট, পাটনা থেকে প্রকাশিত হয়। ধর্মস্বামী ১২৩৩/১২৩৪ সালে ভারতে আসেন এবং ওদন্তপুরীতে গিয়ে দেখেন সেটা একজন তুর্কী (এক আফগান সম্প্রদায়) সেনা কমান্ডারের বাসস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। তুর্কী সেনারা বিক্রমশীলা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে। তুর্কীদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত নালন্দার ৮০টি ছোট বিহার বন্ধ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় রাজা বুদ্ধসেনার অর্থায়নে মাত্র দুটো বিহারের কার্যক্রম চলমান ছিলো। এগুলো পরিচালনা করতেন ৯০ বছর বয়স্ক সন্ন্যাসী রাহুল শ্রীভদ্র, আচার্য ধর্মস্বামী উনারই শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। আচার্য ধর্মস্বামী চাগ লোতস্বা নামেও পরিচিত ছিলেন।

অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে বখতিয়ার খিলজির সেনাবাহিনী দ্বারাই নালন্দার বড় বড় বিহারগুলো ধ্বংস হয় এবং খিলজি মারা যাওয়ার পরও তুর্কী সেনাবাহিনী নালন্দার সম্পূর্ণ এলাকা দখল করে রেখেছিলো। অনেকে বলার চেষ্টা করে তুর্কী আক্রমণের পরও নালন্দা টিকে ছিলো। আচার্য ধর্মস্বামী ১২৩৩/১২৩৪ সালে যখন নলন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ভ্রমণে আসেন তিনি দেখেন যে ৯০ বছর বয়স্ক রাহুল শ্রীভদ্র মাত্র ৭০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শ্রেণিকক্ষ পরিচালনা করছেন। তার উপস্থিতিতেই তুর্কী সৈন্যদের দ্বারা নালন্দা আবার আক্রান্ত হয় এবং সকল শিক্ষার্থী পলায়ন করে।

মন্তব্য: এই ছিলো মোটামুটি নালন্দা ও তার পার্শ্ববর্তী বিহারগুলোর ধ্বংসের প্রাথমিক ইতিহাস যেখানে ঘুরেফিরে বখতিয়ার ও তার সেনাবাহিনী এবং তার উত্তরসূরীদের জড়িত থাকার ইতিহাস স্পষ্ট। অনেকে বলে নালন্দা মহাবিহার কেবল বৌদ্ধ স্থাপনা, হিন্দুদের কোন অধিকার নেই। অথচ নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা হয় হিন্দু রাজা কুমারগুপ্তের সময় এবং নালন্দা চুড়ান্ত উৎকর্ষতা লাভ করে স্কন্দগুপ্তের হাত ধরে। পরবর্তীতে অষ্টম শতকে পাল রাজা ধর্মপাল আরও কিছু বিহার স্থাপন করে নালন্দাকে আরও বিস্তৃত করার চেষ্টা করেছেন। বৌদ্ধ সন্ন্যাসীরা নালন্দায় রাখা হিন্দু দেববিগ্রহগুলোরও অনাদর করতেন না। নালন্দার প্রত্নতাত্ত্বিক খননে গণেশ, চামুণ্ডা, উমা-মহেশ্বর, ব্রহ্মা, বিষ্ণু, বুদ্ধ ও সূর্য বিগ্রহ পাওয়া যায়। কলমে: অনিক কুমার সাহা

Daily World News

এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে ও বোনের জেএসসি সনদপত্র ব্যবহার করে খুর্শিদা আক্তারের ডিপ্লোমা নার্সিং ডিগ্রী

এনআইডি কার্ড জালিয়াতি করে ও বোনের জেএসসি সনদপত্র ব্যবহার করে খুর্শিদা আক্তারের ডিপ্লোমা নার্সিং ডিগ্রী

//বিশেষ প্রতিবেদক//

মেজ বোনের জেএসসির সনদপত্র নিয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে এক লাফে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় খুর্শিদা আক্তার ওরফে লাকি আক্তার। তিনি এখন যশোরের ডাক্তার মেজবাহ উর রহমান মেডিকেল টেকনোলজি কলেজে ডিপ্লোমা ইন নার্সিং টেকনোলজিতে অধ্যয়নরত, যার রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ৭৫০১০০১৬০৪, সেশন: ২০১৯-২০।

বর্তমানে খুর্শিদা আক্তার নাম এবং দু’দফায় জন্মনিবন্ধন এবং নতুন করে জাতীয় পরিচয়পত্র করার চেষ্টা করছে।

প্রতারণা ঘটনার শুরু বাগেরহাটের মোংলাতে। খুর্শিদা আক্তার ও মেজ বোন লাকি আক্তার দু’জনই বাগেরহাটের মোংলা পোর্ট পৌর এলাকার শফিক হালদারের মেয়ে। যাদের বর্তমান বৈবাহিক ঠিকানা যশোরের মণিরামপুর উপজেলার কামালপুর গ্রামে।

খুর্শিদা আক্তারের প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৯৬ সালের ১ জুন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৩৩১৫১১০০ এবং জন্মনিবন্ধন নম্বর ১৯৯৬০১৫৮৬৪০১০০৯১২, সে ৬ষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন।

অপরদিকে মেজবোন লাকি আক্তার লেখপড়া করেছেন ১১৪৯৯৮ চাঁদপাই মেশেরশাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় হতে, যার জেএসসি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১১১৩৩৩৫৭৫৩, সেশন ২০১১ এবং রোল নম্বর ছিল ২৪১৭৫১।

খুর্শিদা আক্তার তার মেজ বোন লাকি আক্তারের জেএসসির সনদপত্র নিয়ে আলহাজ শেখ আফসার উদ্দিন মহিলা দাখিল মাদ্রাসা হতে অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে  একজন শিক্ষক ও সুপারের সহায়তায় অবৈধভাবে এসএসসি পাস করেন, যার রেজিষ্ট্রেশন নম্বর ১১১৩৩৩৫৭৫৩, সেশন-২০১৬-১৭,   এদিকে, মেজ বোন লাকি আক্তার বড় বোনকে তার সনদপত্র (জেএসসির) সরবরাহ করায় নিজের নাম ও জন্ম তারিখ পরিবর্তন করেছেন। এখন দু’বোনই চেষ্টা করছেন নতুন করে জাতীয় পরিচয়পত্র পরিবর্তনের জন্য। মেজ বোন লাকি আক্তার নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন কথা আক্তার লাকি। তার প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৯৯৮ সালের ১ জুন। জন্ম তারিখ পরিবর্তন করে ১৯৯৯ সালের ৫ আগস্ট করেছেন। তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধনে ১৯৯৯ সালের জন্ম তারিখ ব্যবহার করা হয়েছে। অর্থাৎ তথ্য গোপনের পর কথা আক্তার লাকি নামের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ১৯৬৫৬৩১৯০১ এবং জন্ম নিবন্ধন নম্বর ১৯৯৯০১২৫০০১০৬২০০২। এখন দু’বোনের মধ্যে মেজ বোন জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্ম নিবন্ধন করতে পারলেও নানা কারণে আটকে রয়েছেন বড় বোন খুর্শিদা আক্তার। তিনি তার জাতীয় পরিচয়পত্র মেজ বোন লাকি আক্তারের নাম বসিয়ে পরিবর্তনের জন্য নির্বাচন অফিসে আবেদন করেছেন।

সূত্র বলছে, তথ্য গোপন করে খুর্শিদা আক্তার পরবর্তীতে লাকি আক্তার নামে জন্মনিবন্ধন করেন, যার নম্বর ০১৯৮০১২৫০০১০৬২০০৩। এবং লাকি আক্তার নাম পরিবর্তন করে কথা আক্তার লাকি নামে যে জন্ম নিবন্ধন করেন তার নম্বর ১৯৯৯০১২৫০০১০৬২০০২। তথ্য ঘেঁটে দেখা যায়, দু’টি জন্ম নিবন্ধনের নম্বরই পরপর। ফলে দু’বোনই যে প্রতারণা করেছেন সেটি স্পষ্ট হয়েছে।

এদিকে ডাঃ মেজবাহ উর রহমান মেডিকেল টেকনোলজি কলেজের অধ্যক্ষ খুর্শিদার নিকট হতে মোটা টাকা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় এবং খুর্শিদা আক্তারকে দ্রুত এনআইডি কার্ড সংশোধন করতে বলেন। কিন্তু খুর্শিদা এনআইডি কার্ড সংশোধনে ব্যর্থ হলে অধ্যক্ষ মহোদয় খুর্শিদাকে দিয়ে https://gamitisa.com/tools/bd-oldnidcard লিংক ব্যবহার করে জালিয়াতি করে ভুয়া এনআইডি কার্ড তৈরি করিয়ে নেন এবং সকল অভিযোগ মিথ্যা বলে গলাবাজি করছেন। এবিষয়ে নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা বলেন, সে একের পর মিথ্যা তথ্য দিয়ে এনআইডি কার্ড সংশোধন চেষ্টা করে আসছিলেন, কিন্তু  সরোজমিনে তদন্তপূর্বক এটি সংশোধন যোগ্য নয় বলে বাতিল করা হয়েছে।

একের পর এক জালিয়াতি করেও  বহাল তবিয়তে নির্ঝঞ্ঝাট ভাবে সে তার কার্যছক্রম চালিয়ে যাচ্ছে, যা দেখার কেউ নেই, এবং বারবার অভিযোগ দিয়েও কোনো কাজ হচ্ছে না। এভাবে এরা একসময় হয়ত সরকারী চাকুরিও করবে, প্রশ্ন এসে যায় দেশ-জাতি এদের কাছ থেকে কি আশা করবে…? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবাজ ও অসাধু কর্মকর্তারা কি এভাবেই জালিয়াতি ও দুর্নীতি করে যাবে…?

ডুমুরিয়ায় ৫১তম গ্রীম্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৪ এর পুরষ্কার বিতরন ও সমাপনী অনুষ্ঠান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় উপজেলা স্কুল ,মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ক্রীড়া সমিতির আয়োজনে ৫১তম গ্রীম্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৪ এর পুরষ্কার বিতরন ও সমাপনী অনুষ্ঠান আনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (৮ অক্টোবর) উপজেলা শহীদ জোবায়েদ আলী মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত  আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ম‍াধ‍্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশিষ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব‍্য দেন  উপজেলা  নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আল আমিন। স্বাগত বক্তব‍্য দেন উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার টিকেন্দ্রনাথ সানা, ডুমুরিয়া  মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হোসাইন, উপজেলা  মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোঃ বিলায়েত হোসেন, উপজেলা  মাধ‍্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ  সম্পাদক শরিফুল ইসলাম, শিক্ষক হিরণ‍্য মন্ডল ও  সেলিম হালদার প্রমুখ। আলোচনা শেষে বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দ।

নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে বরগুনায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

‘শিক্ষকের কন্ঠস্বর, শিক্ষায় একটি নতুন সামাজিক অঙ্গীকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বরগুনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অতিরিক্ত জলা প্রশাসক( সার্বিক) শুভ্রা দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম,  বিশেষ অতিথি ছিলেন বরগুনা পুলিশ সুপার মো: ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডা: প্রদীপ কুমার মণ্ডল, বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো: মতিউর রহমান।

আলোচনা সভায় শিক্ষকবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৫ লাখ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন। এ শিক্ষকরা অত্যন্ত মানবেতর  জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ পরিচালিত হয় বেসরকারি খাতে। মাধ্যমিক স্তরে একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন স্কেল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এ শিক্ষকরা ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা আর ১ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পান, যা দিয়ে বর্তমান সময়ে ব্যয় নির্বাহ একেবারেই অসম্ভব। চাকরি করতে গিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন অনেকে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি ক্ষেত্রেও কোনোরকম নিরাপত্তা নেই। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়। যার ফলশ্রুতিতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী অর্থাভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর বলা হলেও বিভিন্ন সময় সেই শিক্ষকরাই লাঞ্ছিত হচ্ছেন চরমভাবে।

প্রধান অতিথি বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম তার বক্তৃতায় বলেন, সম্মানিত শিক্ষকদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। তাদের এই দাবিগুলো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।

রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন স্টেম এন্ড আইসিটি স্কিলস ফর দ্যা গার্লস অফ কোস্টাল এরিয়া (STEM & ICT Skills for the Girls of Coastal Area-SISGCA) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খুলনার রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট স্কুল ও নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স, বিজ্ঞান ও গণিতের উপর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাস্তবিক সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর মনোভাব সৃষ্টি ও প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠার উৎসাহ দিতে গত ৩ অক্টোবর দিনব্যাপী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রোজেক্ট প্রদর্শনী, স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, রোবটিক্স প্রতিযোগিতা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, মেয়ে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, জ্ঞান, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা তৈরীতে বিভিন্ন কার্যক্রম কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণপূর্বক ডিসপ্লে পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

উল্লেখিত প্রকল্পের নির্ধারিত দুটি স্কুল ছাড়াও রূপসা উপজেলার আরো ৮টি স্কুল এই ফেস্টে অংশগ্রহণ করে। যথাক্রমে- আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়, নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বেলফুলিয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নৈহাটি গার্লস স্কুল ও কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল। এরপর অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান।

সভায় অলিম্পিয়াডের সভাপতি ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন- শাখিরা আফরোজ দিপা। এ সময়  বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেড মখলুক সাবির আহমেদ, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকাট্রনিক্স বিভাগের প্রধান ডঃ মো. হেলাল আল নাহিয়ান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, সিনিয়র ডিরেক্টর কনা সফটওয়্যার ল্যাব লিঃ জাহিদুল আমিন, এক্সিকিউটিড সদস্য বিডিওএমএন নাসির খান সৈকত, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক সভাপতি এসএম রোমিও হোসেন পিয়াস প্রমূখ।

রূপসায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

“শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতিসহ সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারন করতে হবে”। প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রানের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে এক দফা একদাবীতে মানববন্ধন শেষে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। বৈষম্য নিরসনের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ আয়োজনে গত ২ আক্টোবর বিকেলে উপজেলা পরিষদ সমূখে এ মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

মানবন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মো. আব্দুস সাত্তার। সভায় মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন- মো. মারুফ মোড়ল, শ্যামল দাস, লুৎফর রহমান, মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, শাবানা, রোজিনা খানম, আয়শা সিদ্দিক, মাহমুদা আক্তার প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় পদোন্নতিসহ সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারন এর দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতিসহ সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারন এর দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ২রা অক্টোবর  বুধবার বিকেলে ডুমুরিয়ায় বৈষম‍্য নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এর আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৈষম‍্য নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষক শফিকুল  আলমের পরিচালনায় বক্তব্য দেন সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, মো: রাকিবুজ্জামান , মোঃ মনিরুল হক, মো: রবিউল ইসলাম, মোঃ জিন্নাত হোসেন, আব্দুল্লাহ আল কবির, সুনিল মন্ডল, ঝর্না খানম, মনিকা কুন্ডু, আমিনুল ইসলামসহ শিক্ষকবৃন্ধ।

সভায় শিক্ষকবৃন্দ এই বৈষম্য দুর করতে প্রধান উপদেষ্টার দৃষি আকর্ষন করে শিক্ষকদের পাশে থাকার উদাত্ত আহবান জানান সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ডুমুরিয়ায় মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষক পরিবারের মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

বৈষম্য দূরীকরনে মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করন, জাতীয়করনে পূর্ব পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে সরকারী স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ ও শিক্ষা সংষ্কার কমিশন গঠনের দাবীতে ২৪ সেপ্টেম্বর  মঙ্গলবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার বেসরকারী মাধ্যমিক (স্কুল ও মাদ্রাসা) শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে বাসষ্টান্ডে প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

ঘন্টাব্যাপী মানবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি বীরেশ্বর বৈরাগী, সাধারন সম্পাদক জিএম শফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হুসাইন, স.ম আব্দুর রাজ্জাক,শেখ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিলায়েত হোসেন, সাধারন সম্পাদক মোল্যা কবির হোসেন, সেলিম হালদার, আইয়ুব আহম্মদ, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুর রহমান,আরশাফুল আলম, জিএম আকরাম হোসেন,সুপার মাওঃ শহিদুল ইসলাম, মাওঃ আছাবুর রহমান, প্রমুখ। মানবন্ধন কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী আফিসার কার্যলয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

 

আমতলী ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজের নতুন এডহক কমিটি গঠন

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

বরগুনার আমতলী উপজেলার ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজের নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে মোঃ জহিরুল ইসলামকে সভাপতি ও তারিকুল ইসলাম টারজানকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য করা হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদন ক্রমে গতকাল ২৪ শে সেপ্টেম্বর কলেজ পরিদর্শক আব্দুল হাই সিদ্দিক সরদার স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কলেজের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ জহিরুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একই কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য তারিকুল ইসলাম টারজান ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আমতলী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও আমতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দুই শীর্ষ নেতা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যুৎ সাহী সদস্য মনোনীত হওয়ায় কলেজের সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসনে নাকাল আমতলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। তাই বর্তমান কমিটিতে মেধাবী ও বিচক্ষণ দুই নেতা উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ায় বিএনপি সহ আমতলী বাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী মনে করছেন অবহেলিত কলেজেটিতে  শিক্ষিত,মার্জিত ও বিচক্ষণ দুই নেতা এডহক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ায় কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।