স্বামীকে হত্যার পর বুকের ওপর ‘সরি জান আই লাভ ইউ’ লিখে স্ত্রীর আত্মহত্যা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাতক্ষীরায় পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর এক নারী আত্মহত্যা করেছেন। শুক্রবার  ভোররাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামে এক ভাড়াটিয়া বাড়িতে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন আবুল কালাম আজাদ (৪৫) ও তার স্ত্রী নাজমিন (৩০)। আবুল কালাম আজাদ কলারোয়া থানার কাশিয়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন কাপড় ব্যবসায়ী ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে ছোট স্ত্রী নাজমিন প্রথমে স্বামী আবুল কালাম আজাদকে হত্যা করেন। এরপর একটি চিরকুট লিখে নিজেও গলায় ফাঁস দেন। চিরকুটে লেখা ছিল-“আমি কিছু শেষ করে দিলাম। আমি ২.৩১ মিনিটে মারছি, এবার আমিও মরছি। একা হলেও বাঁচবো না, কারণ শারমিন ও তার পরিবার আমাকে শেষ করে দেবে। তাই আমরা দুইজন মরে গেলাম। এবার তোমরা সংসার করো, ভালো করে। আর কেউ বিরক্ত করবে না। আমার ছেলে কষ্ট পাবে, তারপরও কালামের জন্য আমি সবাইকে কষ্ট দিলাম। তবুও সে আমাকে কষ্ট দিল, শয়তান একটা। নাজমিন হত্যার পর আবুল কালাম আজাদের বুকের ওপর কলম দিয়ে লেখেন-“সরি জান, আই লাভ ইউ”। পরে নিজেই আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়রা জানান, আবুল কালাম আজাদের দুই স্ত্রী ছিলেন। তবে বড় স্ত্রী শারমিনের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল না। ছোট স্ত্রী নাজমিন একসঙ্গে বসবাসের দাবি জানিয়ে বড় বউ শারমিনকে ফোন করেন। কিন্তু শারমিন রাজি না হওয়ায় ক্ষোভ থেকেই এ ঘটনা ঘটে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়েছে। আমি নিজেও গিয়েছিলাম। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বাগেরহাটের মংলায় পবিত্র কুরআন কে অবমাননা করায় সাবেক পৌর মেয়র জুলফিকার আলীর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটের মোংলায় সাবেক মেয়র ও পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ জুলফিকার আলী পবিত্র আল-কোরআনকে অবমাননা করে বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে তাওহিদী জনতা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় শাপলা চত্বর থেকে বিশাল একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পৌর মার্কেট চত্বরে এসে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তব্য ও দাবিসমূহ:

বিক্ষোভ সমাবেশে তাওহিদী জনতার পক্ষে বক্তব্য রাখেন সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট মোঃ হোসেন, পাওয়ার হাউস জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম, মোংলা কবরস্থান জামে মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা আব্দুর রহমান, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোঃ ইউনুস।

বক্তারা বলেন, “যদি কেউ নিজেকে মুসলিম দাবি করে, তবে সে কখনো কোরআনের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারে না। যে কোরআনকে অবমাননা করে, সে নাস্তিক ও মুরতাদ।”

তারা দাবি করেন, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বিকাল ৫টায় রিমঝিম চত্বরে বিএনপির সমাবেশে মোংলা পৌর বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মোঃ জুলফিকার আলী পবিত্র আল-কোরআনের বিরুদ্ধে অবমাননাকর বক্তব্য দিয়েছেন। বক্তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন এবং বলেন, “কোনো মুসলমান কোরআনের অবমাননা মেনে নিতে পারে না।”

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম:

বিক্ষোভকারীরা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোঃ জুলফিকার আলীকে গ্রেপ্তার করার দাবি জানিয়ে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তারা বলেন, “যদি তাকে গ্রেপ্তার করা না হয়, তাহলে সাধারণ মুসলিম ও তাওহিদী জনতা ঘরে বসে থাকবে না।”

এ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে হাজার হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।

বাগেরহাটে দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাই হলো ছনের গুদাম

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাট সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের রহিমাবাদ গ্রামের ভাঙর এলাকায় র্দূবৃত্তদের দেয়া আগুনে ৭টি ছনের গাদা পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ছনের গাদাগুলো স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মজুদকৃত ছিল। এ ঘটনায় ছন ব্যবসায়ী ওসমান আলী, মধু হাওলাদারসহ ৭ জন ব্যবসায়ীর প্রায় ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ ঘটনায় মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ছন ব্যবসায়ী ওসমান আলী বলেন, এত পরিশ্রম করে জমানো ছন এক রাতেই পুড়ে গেল। আমরা এখন কী করে জীবন চালাব, বুঝতে পারছি না। স্থানীয় বাসিন্দারা এ ধরনের ঘটনায় আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ। তারা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অজ্ঞাত র্দূবৃত্তদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

স্থানীয় দোকানদার আজম বেগ গভীর রাতে আগুন দেখতে পেয়ে ডাক-চিৎকার দিলে স্থানীয়রা ছুটে আসে। এসময় তারা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। খবর পেয়ে বাগেরহাট ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে ছনের গাদাগুলো পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

ব্যবসায়ী ওসমান আলী জানান, সুন্দরবন থেকে ছন সংগ্রহ করে নৌকা যোগে এনে কয়েকজন মিলে ব্যবসা পরিচালনা করছিলাম। স্থানীয় কয়েক ব্যক্তি ব্যবসা না করার জন্য হুমকি-ধামকি দিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে আমাদেরকে ক্ষতিগ্রস্ত করার জন্য তারা এই ছনের গুদামে রাতের আঁধারে আগুন লাগিয়েছে। আমরা সর্বস্বান্ত হয়ে গিয়েছি। প্রশাসনের নিকট আবেদন দুর্বৃত্ত কারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

বাগেরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মাহামুদুর রহমান জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বাগেরহাটে রামপালে ফেসবুক আইডি দিয়ে কুৎসা রটনা ও সামাজিকভাবে মান সম্মান ক্ষুন্নের অভিযোগ

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

রামপালে ফেসবুক আইডি দিয়ে কুৎসা রটনা ও সামাজিকভাবে মান-সম্মান ক্ষুণ্ণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় রাজনগর ইউনিয়নের ভুক্তভোগীদের পক্ষে রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য মো. জালিনুর হাজরা।

জানা গেছে, উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের বাঁশেরহুলা গ্রামের মো. আফজাল হোসেনের ছেলে মো. জালিনুর হাজরা লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, রাজনগর গ্রামের মৃত আবু তালেবের ছেলে আবু হানিফা গত ইং ১০-০২-২৫ তারিখে তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোষ্ট করেন। পোষ্টে তিনি জালিনুর হাজরা, মো. মাসুদ গাজী ও আওয়াল হাজরার নামে মিথ্যা, ভিত্তিহীন কমেন্ট করে মান সম্মান ক্ষুণ্ণ করেন। এছাড়াও সে বিভিন্ন অপপ্রচার করে ক্ষতি করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপসহ নিরাপত্তা কামনা করেছেন।

 

অভিযোগের বিষয়ে আবু হানিফা হাওলাদারের কাছে তার মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফেসবুক পোষ্টে যা লেখা হয়েছে তা সত্যি। জালিনুর বড় ঘের করে। সে ঘেরে বড় বড় কল বসিয়ে ঘেরে পানি তুলে ভিতরের ছোট ছোট ঘের ভাসিয়ে মাছ নিয়ে নেয়। এতে এলাকার লোকজনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এলাকায় ১৮ টি সরকরি খাল বেধে মাছ চাষ হচ্ছে। জালিনুর তার ঘেরের পাশের খাল বাধ দিতে গেলে বাধা দেয়।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মো. সেলিম রেজার কাছে জানতে চাইলে তিনি লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

বাগেরহাটের মংলায় ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে ধর্ষক গ্রেফতার

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

মোংলায় খাবার (কেক) খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে বাড়িতে ডেকে নিয়ে সাড়ে চার বছরের শিশুকে ধর্ষণ করেছেন ৫৫ বছর বয়সের এক ব্যক্তি। পরে গ্রামবাসী ওই ব্যক্তিকে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী জানান, উপজেলা সোনাইলতলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে সোনাইলতলা গ্রামের বাসিন্দা হেমায়েত সরদার (৫৫) রবিবার দুপুর ১২টার দিকে পাশের বাড়ীর সাড়ে চার বছর বয়সের এক শিশুকে কেক খাওয়ানোর প্রলোভন দেখিয়ে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। এরপর তার বাড়ির বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন তিনি। এ ঘটনায় শিশুটি অসুস্থ অবস্থায় বাথরুমের পাশে পড়ে থাকেন।

পরে শিশুর মা তাকে খুজতে গিয়ে পাশের বাড়ির হেমায়তের বাথরুমের সামনে পান। সেখান থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে পরিবার ও এলাকাবাসী দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর শিশুটির উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুরেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. বুলেট সেন বলেন, ধর্ষণের শিকার ছোট শিশু বাচ্চাটাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনা জানাজানি হলে ধর্ষক হেমায়েত সরদারকে খুঁজে তাড়িয়ে ধরে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে দিয়েছেন গ্রামবাসী।

মোংলা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান বলেন, সোনাইলতলায় একটি শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সেই ধর্ষককে গ্রামবাসী ধরে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের হবে।

আটক ধর্ষককে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি।

চাপাতির কোপে ব্যবসায়ী বিল্লাহ আহত

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

রামপালের কৈগর্দাসকাটির চরে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চোরাই মালামাল ক্রয়ে বাঁধা দেওয়ায় মৎস ঘের ব্যাবসায়ী বিল্লাল শেখ (৩৩) কে কুপিয়ে আহত করেছে দুর্বৃত্তরা। আহত বিল্লাল খুমেক হাসপাতালে মুমূর্ষ অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনেরা। এ ঘটনায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামপাল থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন আহত বিল্লালের ভাই মনিরুল শেখ।

জানা গেছে, উপজেলার কৈগর্দাসকাটি গ্রামের মোসলেম শেখের ছেলে বিল্লাল শেখ গত ৮ জানুয়ারি বুৃধবার দুপুর ১ টার সময় বাড়ী থেকে টাকা পয়সা নিয়ে সাদা মাছের ঘের কিনতে বের হন। ওই সময় প্রতিপক্ষ কৈগর্দাসকাটি গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে সন্ত্রাসী আ. হামিদ ও একই গ্রামের সাবজেল ফকির ব্যাবসায়ী বিল্লালের পথরোধ করে।

এসময় তারা বলে তোর জন্য আমরা ব্যাবসা করতে পারছি না। তুই থানা পুলিশকে খবর দিয়ে আমাদের ক্ষতি করছিস। তোকে আজ ছাড়বো না। এই বলে হুকুম দেয় ধর, ওকে শেষ করে দে। এ সময় তার সাথে থাকা একই গ্রামের ইলিয়াসের ছেলে খায়রুলের হাতে থাকা চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্যেশ্যে সজোরে মাথা বরাবর কোপ দেয়। এ সময় তাদের সহযোগী সন্ত্রাসী কাবেদুল, তহুর মোল্লা, বোরহান মোল্লা, ইয়াছিন গাজী, শাহাদাৎ গাজী, তহিদুল ফারাজী, বেল্লাল শেখ, জাহিদুল মোল্লা, কালা নুরোল, আলম সানা, আব্বাসসহ অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা দা, রড নিয়ে হামলা করে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

সন্ত্রাসীরা ভিকটিম বিল্লালকে মৃত ভেবে কৈগর্দাসকাটির সরকারি রাস্তার উপর ফেলে রেখে বীরদর্পে চলে যায়। যাওয়ার সময় বিল্লালের কাছে থাকা সাড় ৮ লক্ষ নগদ টাকা ও একটি স্মার্ট ফোন ছিনিয়ে নেয়। বিল্লাল কে গুরুতর আহত করা হলেও তার স্বজনেরা কোপের ভয়ে কাছে গিয়ে ঠেকাতে পারেনি।

আহত বিল্লাল কে বুৃধবার দুপুর ২ টা ৩০ মিনিটে প্রথমে দাকোপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ৯ জানুয়ারি খুমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তার ভাই মনি জানিয়েছেন, সিটি স্কানের রিপোর্টে মাথার খুলি কেটে মগজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিল্লালের। তার শরীরের আঘাত গুরুতর হওয়ায় পেসাব ও মলদ্বার থেকে রক্ত যাচ্ছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্তদের তাৎক্ষণিক কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সূত্র জানায় রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চোরাই মালামাল কেনাবেচার একাধিক সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা প্রকাশ্যে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের চোরাই মালামাল ক্রয় ও বহন করলেও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রামপাল থানার ওসি মো. সেলিম রেজা জানান, আহত হওয়ার বিষয়টি জেনেছি। ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছিল। স্বজনেরা মামলা করতে এলে আইনগত ব্যাবস্থা নিবো।

Daily World News

বাগেরহাটে বৃদ্ধ মাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ায় ভাই ও ভাবীর বিরুদ্ধে আরেক ভাইয়ের থানায় অভিযোগ

বাগেরহাটের মংলাায় দিগরাজ এলাকায় ৭ বছরের শিশু ট্রেনের কাটা পড়ে নিহত

বাগেরহাটে ১১ কেজি হরিণের মাংস সহ ৬ পর্যটক আটক

//বিশে ষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাটের মোংলায় হরিণের গোসসহ ৬ জন পর্যটককে আটক করেছে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যরা। মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) বিকেলে মোংলার ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে। আটককৃতদের মধ্যে দুই নারীও রয়েছেন।

আটক ব্যক্তিরা হলেন ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকার কাপড় ব্যবসায়ী মো. রবিন, তাইজুল ইসলাম, সোহেল হোসেন এবং সাইফুল ইসলাম। এছাড়া মুক্তা ও কল্পনা নামে দুই নারীও রয়েছেন।

সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের ঢাংমারী স্টেশনের কর্মকর্তা সুরঞ্জিত জানান, আটককৃতরা সুন্দরবন সংলগ্ন মোংলার লাউডোব রিসোর্টে অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে মঙ্গলবার তারা সুন্দরবনের করমজল ও হাড়বারিয়া এলাকা ঘুরতে যান। তখন তারা ১১ কেজি হরিণের মাংস ক্রয় করেন এবং মোংলা ফেরিঘাট এলাকায় এসে মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনবিভাগ ও কোস্টগার্ড সদস্যরা মাইক্রোবাসটি তল্লাশি চালিয়ে হরিণের মাংসসহ তাদের আটক করেন।

বন কর্মকর্তা সুরঞ্জিত আরও জানান, আটককৃতদের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে জব্দকৃত মাংস, মাইক্রোবাস এবং আটককৃতদের বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

মংলায় মৎসঘের দখল করে লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট

বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা||

বাগেরহাটের মোংলায় উপজেলার পল্লীতে খামার মালিককে মারপিট করে ৮ একর আয়তনের একটি মাছ ঘের (মাছের খামার) দখল করে পানি সেচ দিয়ে লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার মাকোরঢোন গ্রামে পাকখালী এলাকায় এই মাছের ঘের দখল ও মাছ লুটের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় ঘের মালিক তাহাবুর মল্লিক স্থানীয় বাবুল শেখসহ কয়েকজনকে আসামি করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মাছের খামারটির মালিক তাহাবুর মল্লিক জানান, তিান উপজেলার মাকোরঢোন গ্রামের পাকখালী এলাকার নিভেন্দ্র নাথ ঢালীর কাছ থেকে বছর চুক্তিতে ৮ একর জমি লিজ নিয়ে খামার করে মাছ চাষ করি। বুধবার দুপুরে মাকোরঢোন গ্রামের মো. বাবুল শেখের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালিয়ে প্রথমে মাছের ঘেরটি দখল করে মাছের ঘেরের পানি সেচ লক্ষাধিক টাকার মাছ লুট করে নিয়ে যায়। এরপর দখলকারিরা তাকে মাছের খামার থেকে তাড়িয়ে দেয়। বিকালে তিনি বাবুল শেখসহ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।

ওই জমির প্রকৃত মালিক নিভেন্দ্র নাথ ঢালী জানান, আমার জমি তাহাবুর মল্লিককে এক বছরের জন্য লিজ দিয়েছি। সে  জমিতে মাছও চাষ করছিলেন। বুধবার দুপুরে বাবুল শেখ নামের এক ব্যক্তি দলবল নিয়ে এসে ঘেরটি দখলে নিয়ে পানি সেচ দিয়ে মাছ ধরে নিয়ে গেছে।

এদিকে বাবুল শেখ দাবি করেন, তাহাবুর যে জমিতে মাছ চাষ করছিল সেই জমি তার। সে অবৈধ ভাবে এতোদিন তার জমিতে মাছ চাষ করছিলেন। তবে তার ওপর কোন হামলা বা মাছ লুটের ঘটনা ঘটেনি।

মোংলা থানার ভারপ্রাপক কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, মাছ ঘের দখল করে পানি সেচ দিয়ে মাছ লুট করার অভিযোগ পেয়েছি। এবিষয়ে জমি সক্রান্ত বিরোধ নিয়ে আদালতে কোন রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  তবে সেখানে ফৌজদারি অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

খুলনায় প্রায় ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

খুলনার খানজাহান আলী (রুপসা) সেতু টোল প্লাজা এলাকায় প্রায় ১১ কেজি গাঁজাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোঃ সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখ রবিবার আনুমানিক সকাল ৭টায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন অধীননস্থ বিসিজি স্টেশন রূপসা কর্তৃক খুলনার খান জাহান আলী টোল প্লাজা সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি যাত্রীবাহী বাস তল্লাশী করে ১১ কেজি ৬৯১ গ্রাম গাঁজাসহ ০২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটককৃত ব্যক্তিদ্বয় মোঃ কাজল (২৯), খুলনা জেলা ও মোঃ আবুল হোসেন (৪২), মাদারীপুর জেলার বাসিন্দা।

তিনি আরও বলেন, জব্দকৃত গাঁজা এবং আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে রুপসা থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বাগেরহাটে ডিআইজির ভয় দেখিয়ে সন্ত্রাসী হামলা, চার নারী আহত

//বিশেষ প্রতিনিধি, জেনিভা প্রিয়ানা//

বাগেরহাট সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাইড় গ্রামে ডিআইজি ভাইায়ের ভয় দেখিয়ে এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বাবু নামের এক পাতি নেতা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে কুলিয়াদাইড় গ্রামে বাবু সরদারের নেতৃত্বে অনন্ত রাজবংশীর বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর জখম হন মৃত্তিকা রাজবংশী নামে এক গৃহবধূ। মৃত্তিকা রাজবংশী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের অনন্ত রাজবংশীর স্ত্রী। হামলায় বাকি আহতরা হলেন অহনা রাজবংশী, কল্পনা রাজবংশী ও চন্দনা রাজবংশী।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৃত্তিকা রাজবংশীর স্বামী অনন্ত রাজবংশী বাদী হয়ে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত বাবু সরদারের ভাই প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা হওয়ায় ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রতিনিয়ত এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করে থাকেন বলে অনন্ত রাজবংশী অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, অনন্ত রাজবংশীর ছোট ভাই সুকুমার রাজবংশীর স্ত্রীর সাথে শুক্রবার দুপুরে পরিবারের সদস্যদের কথা কাটাকাটি হয়। এতে সুকুমারের স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয় ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি প্রদান করে। এর কিছুক্ষণ পরেই বাবু সরদারের নেতৃত্বে স্থানীয় সামাদ, জাহাঙ্গীর, আশিস, মিলন, খোকন, ভগিরথ, হৃদয় ও জয় কৃষ্ণ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বেআইনিভাবে বাড়ির মধ্যে প্রবেশ করে। তারা বাড়িতে মহিলাদের উপর দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে। হামলাকারীরা গৃহবধূ মৃত্তিকাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে এছাড়া অহনা, কল্পনা ও চন্দনাকে মারধর করে ও পরনের কাপড় ছিড়ে ফেলে। পরে সন্ত্রাসীরা বেআইনিভাবে বসত ঘরে প্রবেশ করে স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবু সরদারের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করা হলেও তাকে মোবাইলে পাওয়া যায়নি। বাগেরহাট সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, হামলার ঘটনায় অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।