খুলনার রূপসায় গাঁজা সহ দুই নারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

//রূপসা প্রতিনিধি//

খুলনা রূপসার শ্রীফলতলা ক্যাম্প  পুলিশ ৮০০ গ্রাম গাঁজাসহ দুই নারী মাদক বিক্রেতাকে গ্রেফতার করেছে গ্রেফতারকৃতরা  হল  সাতক্ষীরা থানার  বাবুলিয়া গ্রামের স্বামী মো: আইয়ুব আলী স্ত্রী শাহানারা খাতুন (৪২) ও এক ই উপজেলার মধু মোল্লার ডাঙ্গা গ্রামের মো: মহররম খান  এর স্ত্রী মঞ্জু বেগম (৪৭)।

মামলা সূত্রে জানাযায়,  উপ জেলার শ্রীফলতলা  ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ  এসআই বাবুল ইসলাম  গত ২৭জুন রাতে  মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল করার জন্য অভিযানে বের হয়।

নন্দনপুর এলাকায় বটতলা মোড়ে  পৌছালে   গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানতে পারে নন্দনপুর এলাকার হরতকিতলা কালামের চায়ের দোকানের পাশে পাকা রাস্তার উপর মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় হচ্ছে।

এমন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত এলাকায়  পৌঁছালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দুই নারী পালানোর চেষ্টা করে।

এসময়  নারী কনস্টেবল এর সহায়তায় শাহানারা ও মঞ্জুয়ারা কে আটক করা হয়।

আটককৃত  শাহানারার নিকট থেকে ৩৫০গ্রাম ও মঞ্জুয়ারা বেগমের নিকট থেকে ৪৫০ গ্রাম গাঁজা জব্দ করে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

এছাড়া পুলিশ আরো জানায়, উক্ত মহিলা মাদক বিক্রেতারা বিভিন্ন স্থান হইতে  মাদকদ্রব‍্য  সংগ্রহ করিয়া  বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে নিজ হেফাজতে রাখিয়া  বিক্রয় করে বলে প্রাথমিকভাবে তারা স্বীকার করে।

এস আই বাবুল ইসলাম বাদী হয়ে তাদের  বিরুদ্ধে মাদক আইনে  রূপসা মামলা দায়ের করেন। যার নং ২৩, তাং- ২৭/৬/২৩ ।

রামপালে পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ ২ মাদক কারবারী আটক

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পু্লিশ অভিযান চালিয়ে দুই মাদক ব্যাবসায়ীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় রামপাল থানায় মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

আটককৃতরা হলো উপজেলার সন্নাসী গ্রামের মৃত আ. কাদেরের পুত্র নূর আলম জমাদ্দার (৪৯) ও মল্লিকেরবেড় গ্রামের নুর ইসলাম হাওলাদারের পুত্র মো. নাইম হাওলাদার (২৯)। জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৬ জুন) রাত ১১ টার সময় এসআই সুবীর কুমার রায় মল্লিকেরবেড় সন্নাসী বাজারের অপূর্বের সেলুনের সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালান।

এ সময় ৬৫ গ্রাম গাঁজাসহ নূর আলম ও নাইমকে আটক করেন। আটককৃতদের বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম মাদকসহ দুই জন কে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক নিয়ন্ত্রণে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এ জন্য তিনি সকলের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনায় কচুয়া প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ

কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

খুলনা থেকে প্রকাশিত দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকার সম্পাদক ও খুলনা আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মুন্সি মাহবুব আলম সোহাগকে হত্যার উদ্দেশ্যে দৈনিক দেশ সংযোগ পত্রিকা অফিসে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন কচুয়া প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এসময় প্রকাশ্য দিবা লোকে এ ধরনের হামলাকারী সন্ত্রাসীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিদাতারা হলেন,প্রেসক্লাবের সভাপতি খোন্দকার নিয়াজ ইকবাল, সহ-সভাপতি সমির বরন পাইক,সাধারন সম্পাদক কাজী সাইদউজ্জমান সাইদ,যুগ্ন-সাধারন সম্পাদক শুভংকর দাস বাচ্চু, কোষাধ্যক্ষ রথীন সাহা, নির্বাহী সদস্য তুষার কান্তি রায় রনি,সুপার্থ কুমার মন্ডল,খান সুমন,প্রদ্যুৎ কুমার মন্ডল,সদস্য নকীব মিজানুর রহমান,পার্থ চক্রবর্তী,মোঃ মইনুল ইসলাম,মোঃ খোকন,আজমির আলম খান, মোঃ রুম্মন, শেখ সাইদ প্রমূখ।

 

বাগেরহাটের রামপালে ইয়াবাসহ মাদক কারবারী বাবু আটক

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পু্লিশ অভিযান চালিয়ে ইয়াবা ও গাঁজাসহ মোস্তাফিজুর রহমান বাবু (২৬) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে।

এ ঘটনায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আটক মাদক বিক্রেতা মোস্তাফিজুর রহমান বাবু উপজেলার ঝনঝনিয়া গ্রামের সালাম মোড়লের পুত্র।

রামপাল থানার এসআই শ্রীবাস কুন্ডু, ফজলুর রহমান, মেহেদি হাসানসহ সঙ্গীয় ফোর্স শনিবার (২৪ জুন) রাত পৌনে ১০ টায় ঝনঝনিয়া সাবুতলার মোড়ে অভিযান চালান। ওই সময় মোস্তাফিজুর কে আটক করে তার কাছ থেকে ৫ পিস ইয়াবা ও ৫০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। আটক মোস্তাফিজুর রহমানকে রবিবার (২৫ জুন) বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম জানান, মাদক কারবারী ও সন্ত্রাসীদের রুখতে আমরা কাজ করছি।

বাগেরহাটের কচুয়ায় ইয়াবাসহ আটক-৩

কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥

বাগেরহাটের কচুয়ায় ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারীকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

জানাগেছে,শুক্রবার রাতে কচুয়া থানা পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের মালিপাটন গ্রামের অভিযান চালিয়ে মালিপাটন কমিউনিটি ক্লিনিকের সামনে চৌরাস্তর থেকে তিন জন কারবারীকে আটক করে। এসময়ে তাদের কাছ থেকে ৬৭ (সাতষট্টি) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটককৃতরা হলো, চর টেংরাখালী গ্রামের মোক্তার শেখের ছেলে মোঃ ওমর আলী (২৮), টেংরাখালী নতুন বাজার এলাকার সোহরাব শেখের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম শেখ (২২) ও চরফুলতলা এলাকার মোঃ ইদ্রিস শেখের ছেলে মোঃ জাহিদুল ইসলাম (২৪)। এদের বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মনিরুল ইসলাম বলেন, আটককৃতদের বিরুদ্ধে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬ (১) সারণির ১০(ক) ধারার মামলা করা হয়েছে।

রামপালে সন্ত্রাসীদের কোপে ব্যাবসায়ীকে আহত করে টাকা লুট

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী বাজারে বিধান সাহা (৬৫) নামের এক বেকারি ফ্যাক্টরির মালিককে সন্ত্রাসীরা দা দিয়ে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আহত বিধান সাহাকে প্রথমে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তার অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই সময় সন্ত্রাসীরা নগদ টাকা লুটে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। রামপাল থানা পু্লিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রামপাল থানায় কেউ কোন অভিযোগ বা মামলা করেনি।

জানা গেছে, শুক্রবার (২৩ জুন) রাত সোয়া ১০ টায় পেড়িখালী বাজারের বেকারি ফ্যাক্টরির মালিক বিধান সাহা প্রতিদিনের মত বেচাকেনা করে ফ্যাক্টরি বন্ধ করে উপরের দোতলার বাসায় উঠছিলেন। ওই সময় হটাৎ করে দূর্বৃত্তরা হত্যার উদ্যেশ্যে মাথায় এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। বিধান সাহা দোকানের মেঝেতে পড়েগেলে সন্ত্রাসীরা তার পকেটে ও ক্যাশ বাক্সে থাকা টাকাপয়সা লুট করে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আমরা খতিয়ে দেখছি, কেন বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে ? লিখিত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্হা নেয়া হবে।

থুলনার রূপসায় রেখা বেগমের আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখলের চেষ্টা

//রূপসা প্রতিনিধি//

থুলনার রূপসা উপজেলার শিয়ালী গ্রামে নদীর পাড়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পে সরকারী ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে জবর—দখল নেওয়ার চেষ্টায় অব্যাহত একটি কু—চক্রী মহল। প্রকল্পে দলিল প্রাপ্ত রেখা বেগম অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ রেখা বেগম জানায়, শিয়ালী আশ্রয়ণ প্রকল্পে গত ২০/০৭/২০২২ সালে দলিল প্রাপ্ত হই এবং ২৬ নং ঘরটি আমি ভোগ অধিকার পেয়েছি। তারপর থেকে ঐ ঘরে আমি (স্বামী পরিত্যাক্ত) বসবাস করে আসিতেছি। অথচ কয়েকদিন আগে ৩ দিনের জন্য আত্মীয়র বাড়ি বেড়াতে যাই। সেখান থেকে ফিরে দেখি আমার ঘরের দরজার সিটকেনী সহ তালা ভাঙ্গা এবং অন্য এক মহিলা তার মালামাল নিয়ে আমার ঘরের ভিতর থাকছে। এটা দেখে আমি হতবম্ব হই। আমি ঘরে না থাকা স্বত্বেও আমার ঘরে রেখে যাওয়া টাকা ও মালামাল উধাও! খুজে পাই নাই। এরপর জানতে পায়— সাবেক (ওয়ার্ড মেম্বর) সজিব, দীদার ও তানভীর ষড়যন্ত করে ঐ মহিলার বেশ কিছু টাকা খেয়ে আমার ঘরে উঠিয়েছে।

উল্লেখিত তানভীর গাজী আশ্রয়ণে (সভাপতি) নামে পরিচিত, তার স্ত্রীর ঘর নং—৭। এ ঘটনার কিছুদিন আগে তানভীর আর একটি বিবাহ করে আমার ঘরে তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রীকে রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। আমি তাঁর কথায় রাজি না হওয়ায়, সে বলে তুই এ ঘরে কিভাবে থাকিস তা আমি দেখে নিব। তার দেখা সে দেখে নিয়ে বিপদগ্রস্ত করেছে আমাকে।

আমি বিষয়টি সজিবের কাছে জানতে চাইলে সে বলে, তুমি আমাকে ৫ হাজার টাকা দিলে ঐ মহিলাকে নামিয়ে ঐ ঘরেই তোমাকে উঠিয়ে দিব। এরপর প্রায়ই আমার কাছে টাকা চাইত। এরপর উপায়ন্তর না পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি।

অভিযুক্ত তানভীর জানায়, আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ করলেও তাতে আমার কোন সমস্যা নেই। আপনারা সেলিনার কাছে শোনেন, সে যা বলবে তাই সত্য।

অভিযুক্ত সজিব জানায়, আমি চেয়ারম্যানের হুকুমে তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে সেলিনাকে ঘরে উঠিয়ে দিই। তবে রেখার কাছ থেকে টাকা—পয়সা নেইনি। আমাকে পরে চেয়ারম্যান বলেছেন, ঐ মহিলার ঘরের দলিল থাকা স্বত্বেও তাঁর ঘরের তালা ভেঙ্গে অন্যকে উঠানো সম্পূর্ন ভুল সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বর্তমান দখলদার সেলিনা জানান, সজিব, দীদার ও তানভীর বলেছে চেয়ারম্যান নাকি ঐ ঘরের তালা—সিটকেনী ভেঙ্গে আমাকে থাকতে দিতে। এটি কার ঘর, তা আমি আগে জানতাম না।

ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোল্যা ওয়াহিদুজ্জামান মিজান বলেন, এ ঘরের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে তদন্তর জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আমি সরোজমিনে তদন্তপূর্বক ২/১ দিনের মধ্যে সঠিক তথ্যর প্রতিবেদন জমা দিব। আমাকে সজিব, তানভীর ও দীদার, সেলিনার সমস্যার কথা জানালে, আমি ওদেরকে রেখা বেগমের সাথে কথা বলতে বলেছি যে কিছুদিনের জন্য ওর ঘরে সেলিনাকে থাকতে দেয় কি—না। কিন্তু তাঁরা তা না করে সরকারী ঘরের তালা ও সিটকেনী ভেঙ্গে ফেলে। তাদের এই ভাঙ্গার ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। অন্যায়কারীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান বলেন, শিয়ালী এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘরের বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে দিয়েছি। প্রতিবেদন আসলে অপরাধির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সাংবাদিক নাদিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত ইউপি চেয়ারম্যান বাবু পঞ্চগড়ে গ্রেফতার এবং আ. লীগ থেকে বহিষ্কার

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

জামালপুরের বকশীগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার রাতে বকশীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহীনা বেগম ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন তালুকদার বাবুল স্বাক্ষরিত এক পত্রে তাকে বহিষ্কারাদেশ দেওয়া হয়। এদিকে পলাতক বাবু চেয়ারম্যানকে গ্রেপ্তার করতে এলআইসিসহ পুলিশের ৫টি টিম মাঠে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার নাছির উদ্দিন আহামেদ।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সাংবাদিক নাদিমের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের জানান, বকশীগঞ্জের ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর নির্দেশেই সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিমকে হত্যা করা হয়েছে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এরইমধ্যে ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই মিশনে জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের গ্রেপ্তারে এলআইসিসহ পুলিশের ৫টি টিম মাঠে কাজ করছে। চেয়ারম্যান বাবুকে দুই এক দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করতে পারব।

বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সোহেল রানা বলেন, এখন পর্যন্ত নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ বা মামলা দেওয়া হয়নি।

জানা যায়, বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল আলম বাবুর নানা অপকর্ম নিয়ে একাধিক সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক নাদিম। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিক নাদিমের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন চেয়ারম্যান বাবু। সেই মামলাটি গত বুধবার ময়মনসিংহের সাইবার ট্রাইব্যুনাল খারিজ করে দেয়। এ নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেয় নাদিম। এরপর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে নাদিমের ওপর হামলা হয়। ইউপি চেয়ারম্যান বাবু ও তার ছেলে ফাহিম ফয়সাল রিফাত হামলার নেতৃত্ব দেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক আল মোজাহিদ বাবু বলেন, নাদিমকে চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। তারপর তাকে মারতে মারতে পাশের একটি অন্ধকার গলিতে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবুর ছেলে রিফাত ও তার বাহিনী। ঘটনার সময় ওই গলিতে অন্ধকারে আড়ালে দাঁড়িয়ে ছিলেন চেয়ারম্যান বাবু।

পরে স্থানীয়রা নাদিমকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বকশীগঞ্জ হাসপাতালে নেয়। পরে সেখান থেকে রাতেই তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা কয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন দুপুরে মারা যান তিনি।

শুক্রবার শোক আর শ্রদ্ধায় সাংবাদিক নাদিমকে চিরবিদায় জানানো হয়। সকাল ১০টায় বকশীগঞ্জ নূর মোহাম্মদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে প্রথম জানাজা ও দুপুর ১২টায় নিলক্ষিয়া ঈদগাঁ মাঠে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাদা-দাদির কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।

এদিকে নাদিমের হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে উত্তাল দেশের সাংবাদিক সমাজ। জামালপুর প্রেসক্লাব ও বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাব ৩ দিনের শোক পালন করছে।

নিহত গোলাম রাব্বানী নাদিমের স্ত্রী মনিরা বেগম বলেন, বাবু চেয়ারম্যানই আমার স্বামীর হত্যাকারী। আমি আমার স্বামীর হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।

বকশীগঞ্জ প্রেসক্লাব সভাপতি এম শাহীন আল আমীন বলেন, পুলিশ সুপার আমাদের আশ্বস্ত করেছেন দ্রুত সময়ের মধ্যে সব আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

সাংবাদিক গোলাম রাব্বানী নাদিম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাধুরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহমুদুল আলম বাবু পঞ্চগড় থেকে গ্রেফতার।

বাগেরহাটের কচুয়ায় ইয়াবা সহ আটক -১

//বিশেষ প্রতিনিধি, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় ইয়াবাসহ মোঃ সাগর শেখ (১৯) কে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গজালিয়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।

এসময়ে তার কাছ থেকে ১০ (দশ) পিচ হাল্কা কমলা রংয়ের কথিত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। আটক মোঃ সাগর শেখ (১৯) উপজেলার গজালিয়া গ্রমের মোঃ নুর ইসলাম শেখ এর ছেলে। কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১০ (দশ) পিচ কথিত ইয়াবা ট্যাবলেটসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতে বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রনে থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

র‌্যাব পরিচয়ে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় প্রতারণাকারী গ্রেফতার

সাইফুল্লাহ নাসির,  বরগুনা প্রতিনিধিঃ

র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প গত ১৫/০৬/২০২৩ইং তারিখে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা থানা হতে র‌্যাবের ভুয়া ক্যাপ্টেন পরিচয় দিয়ে বিকাশের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে শহীদুল ইসলাম (৪০) নামের এক প্রতারক’কে গ্রেফতার করে।

ঘটনাক্রমে জানা যায়, গত ১৮/০৫/২০২৩ইং তারিখে শহীদুল ইসলাম(৪০), পিতা- মোসলেম প্যাদা, সাং- বড় গাবুয়া, পোষ্ট- ছোট গাবুয়া, থানা- গলাচিপা, জেলা- পটুয়াখালী নামক ব্যাক্তি নিজেকে র‌্যাবের ক্যাপ্টেন মোঃ মনিরুজ্জামান পরিচয়ে বরগুনা জেলার আমতলী থানার বাসিন্দা মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদার(৩৮)’কে মোবাইলে কল দিয়ে নানা ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে এবং টাকা দাবি করে। সে বলে যে, তার বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থানায় প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির নিকটে এবং সে মোঃ ইব্রাহিম হাওলাদার(৩৮)’কে যেকোনো মূহূর্তে মিথ্যা মামলায় ফাসাতে পারে বলে জানায় ও তাকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার নিকট টাকা দাবি করে। সে টাকা দিতে রাজি না হলে আসামী পুনরায় তাকে কল দিয়ে টাকা দাবি করে। এতে সে প্রাণভয়ে নিরুপায় হয়ে আসামীর দেওয়া বিকাশ নম্বরে ১০,০০০/- (দশ হাজার) টাকা প্রদান করে। পরবর্তীতে আসামী তাকে পুনরায় একাধিকবার কল করে বিভিন্ন ভয়-ভীতির মাধ্যমে আরোও টাকা দাবি করে।

সে প্রতারনার বিষয়টি বুঝতে পেরে পুনরায় আর টাকা প্রদান না করে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে। উক্ত অভিযোগের ভিত্তিতে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্প ঘটনার সত্যতা পেয়ে আসামীকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫/০৬/২০২৩ইং তারিখ রাত আনুমানিক ২২৩০ ঘটিকার সময় র‌্যাব-৮, সিপিসি-১, পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জনাব তুহিন রেজা’র নেতৃত্বে আসামীকে গলাচিপা থানাধীন বড় গাবুয়া সাকিনস্থ তার নিজ বসতবাড়ির উঠান হতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকালে তার নিকট হতে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ০১ টি মোবাইল ও ০২ টি বিকাশ নম্বর সম্বলিত সীমকার্ড জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামী শহীদুল ইসলাম (৪০) ঘটনার সাথে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি র‌্যাবের কাছে স্বীকার করে। সে আরও জানায়, সে ভুয়া ও মিথ্যা পরিচয় দিয়ে নিরীহ মানুষদের ঠকিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করে।