বাগেরহাটের রামপালে সাঁকো কেটে পথ বিচ্ছিন্ন করলো দুর্বৃত্তরা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালের রোমজাইপুর গ্রামের লিয়াকত মোল্লার বাড়ি যাওয়ার পথের সাঁকোটি কেটে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপায়ান্ত না পেয়ে ভুক্তভোগী  রাফেজা বেগম রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। রামপাল থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

লিখিত অভিযোগে রাফেজা বেগম জানান,  উপজেলার রোমজাইপুর গ্রামে তার স্বামী লিয়াকত আলী মোল্লাসহ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছেন। তারা একটি কাঠের সাঁকো দিয়ে গত ১৫ বছর ধরে আসা যাওয়া করে আসছেন। ঘটনার দিন গত ২৪ নভেম্বর সকাল ১০ টায় জায়গার দাবি করে একই গ্রামের মৃত নূর মোহাম্মদের পুত্র মুকুল শেখ, আহম্মদ মোল্লার পুত্র আবু সাইদ ও মঞ্জুর শেখের পুত্র ফয়সাল শেখ সাঁকোটি কেটে ফেলে। ওই সময় বাঁধা দিলে রাফেজা বেগম ও তার পুত্রবধূ সাবিনা বেগমকে কোপাতে আসে ও গালাগাল করে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুকুল, আবু সাইদ ও ফয়সালের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।

ঢাকায় দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় একজন গ্রেফতার

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

ঢাকার আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের হাত থেকে দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামির নাম মেহেদী হাসান অমি ওরফে রাফি (২৪)। তিনি দুই জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় পুলিশের করা মামলার ১৪ নম্বর আসামি।

বুধবার ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার মো. ফারুক হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সূত্র বলছে, মেহেদী হাসানকে গ্রেফতার করেছে সিটিটিসি ইউনিট। জঙ্গি ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন গ্রেফতার মেহেদী।তিনি জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের সামরিক শাখার সদস্য। তার বাড়ি সিলেটে আম্বরখানাতে।

ব্লগার নাজিমউদ্দীন সামাদ হত্যার মিশনেও মেহেদী অংশ নিয়েছিলেন বলে সিটিটিসি সূত্র জানিয়েছে।২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিমউদ্দীন সামাদকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করেন জঙ্গিরা।

উল্লেখ্য, গত রোববার (২০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পুলিশের চোখে-মুখে পিপার স্প্রে করে প্রকাশক দীপন হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি সুনামগঞ্জের ছাতকের মইনুল হাসান শামীম ও লালমনিরহাটের আদিতমারীর আবু ছিদ্দিক সোহেলকে ছিনতাই করে নিয়ে যায় তাদের সহযোগী জঙ্গিরা।

এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পলাতক দুই জঙ্গিকে ধরিয়ে দিলে ১০ লাখ করে ২০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিশ। সারাদেশে জারি করা হয়েছে ‘রেড অ্যালার্ট’। দুই জঙ্গিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলাও করেছে পুলিশ।মামলায় রোববার রাতেই ১০ আসামিকে ১০ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

বরগুনার তালতলীতে ডিবির অভিযানে অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ী আটক

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে দেলোয়ার কাজী (৫০) নামক এক অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০ ঘটিকায় উপজেলার ৭ নং সোনাকাটা ইউনিয়নের ফকিরহাট বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

স্হানীয় সুত্রে জানা গেছে, দেলোয়ার কাজী দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কেমিক্যালের ব্যবসা করে আসছেন।গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি পুলিশের এসআই জাহিদুল ইসলাম কবিরের নেতৃত্বে গতরাতে ফকিরহাট বাজারে দেলোয়ার কাজীর নিজ ওয়ার্কশপে অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ।এসময়ে আয়েশা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ থেকে বিভিন্ন প্রকার এসিড জাতীয় কেমিক্যাল দেখতে পায় ডিবি পুলিশ। এছাড়াও তালতলী তাপ বিদ্যুৎ প্রকল্পের (চায়না প্রজেক্ট) বিভিন্ন প্রকার অবৈধ মালামাল পাওয়া যায়। এসময়ে ওই ওয়ার্কশপ থেকে ১০১ ড্রাম অবৈধ কেমিক্যাল সহ তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন অবৈধ মালামাল জব্দ করা হয়। এবং এই সমস্ত অবৈধ কেমিক্যালের ব্যবসা করায় দেলোয়ার কাজীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। গ্রেফতারকৃত দেলোয়ার কাজীকে তালতলী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এবিষয়ে ডিবি পুলিশের এসআই জাহিদুল ইসলাম কবির বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে দেলোয়ার কাজীর নিজ ওয়ার্কশপে ১০১ ড্রাম এসিড জাতীয় কেমিক্যাল পাই। তিনি আমাদেরকে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। আমাদের কাছে মনে হয়েছে এগুলো তাপবিদ্যুৎ প্রকল্পের চোরাই মালামাল।

বরগুনার তালতলীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলী উপজেলার একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুই সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।অভিযুক্ত জাহিদুল হক সোহাগ উপজেলার ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) রাতে উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা সড়কের তালতলী ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী সাংবাদিকদ্বয় হলেন, দৈনিক নয়াদিগন্ত পত্রিকার তালতলী উপজেলা সংবাদদাতা ও তালতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন সভাপতি ইউসুফ আলী এবং সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবকন্ঠের তালতলী উপজেলা প্রতিনিধি শাহাদাৎ হোসেন।

সাংবাদিকদ্বয় বলেন,তালতলী সাংবাদিক ইউনিয়নের কার্যালয়ে ওয়াইফাই লাইন দুইদিন ধরে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক সোহাগ।উক্ত শিক্ষক তালতলীতে ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেব।ওয়াইফাই লাইন দুই দিন ধরে বন্ধ থাকার ব্যাপারে কথা বলতে তার অফিসে গেলে সোহাগ সাংবাদিকদের দেখে কটুক্তি মূলক কথা বলেন এবং সাংবাদিক শাহাদাৎকে গালাগালি ও ডাক চিৎকার দিয়ে হুমকি ধামকি দেন। এ সময় সাংবাদিক ইউসুফ আলীকেও হেনস্তা করেন। সাংবাদিকদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন।

বরগুনার তালতলীতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

সাংবাদিক ইউসুফ আলী বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়নের অফিসে ওয়াইফাই দুই দিন ধরে বন্ধ। এ ব্যাপারে সোহাগের সাথে কথা বলতে গেলেই তিনি সাংবাদিকদের দেখেই উদ্ভট আচরণ করেন। সাংবাদিক শাহাদাৎকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে মারতে আসেন।

এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা বলেন, সোহাগ (জাসস) জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা এর উপজেলা সাধারণ সম্পাদক। বড় ভাই শহিদুল হক উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ও বর্তমান বরগুনা ২ আসনের সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ায় তিনি ক্ষমতার দাপট দেখান। এছাড়াও স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রছায়ায় সুদের কারবার করে রাতারাতি টাকার মালিক বনে গেছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক জাহিদুল হক সোহাগ বলেন,ওয়াইফাই লাইনের বিল বাকি ছিল এজন্য লাইন কেটে দিয়েছি।

তালতলী থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্ত্রীর মামলায় খুলনা কারাগারে সেই এস আই সোবহান 

//স্টাফ রির্পোটার//

দ্বিতীয় স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন ও হত্যা প্রচেষ্টা মামলায়  খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক এসআই সোবহান মোল্লাকে কারাগারে প্রেরণ করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৭ নভেম্বর) খুলনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক আব্দুস ছালাম খান তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ২০২১ সালে ১৫ ডিসেম্বর এস আই সোবহান মোল্লার দ্বিতীয় স্ত্রী বিনতে ফাকের আদালতে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম বলেন, এ বছরের ৬ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশ পরিদর্শক লুৎফর রহমান আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। ১৩ সেপ্টেম্বর আদালত এস আই সোবহান মোল্লার বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গ্রেপ্তরী পরোয়ানা জারি করেন। এরপর তিনি উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন লাভ করেন। বুধবার আদালতে তার আত্মসমর্পণ করার দিন ছিল। কিন্তু তিনি সেদিন আদালতে উপস্থিত হননি। বৃহস্পতিবার সকালে তিনি সশরীরে জামিনের আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়ে দেন।

তিনি আরও বলেন, প্রথম স্ত্রীর তথ্য গোপন করে ২০২০ সালের ১২ মে ফারজানা বিনতে ফাকের নামের এক কিশোরীকে বিয়ে করেন সোবহান। সোবহান তখন নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত ছিলেন। বিয়ের পর থেকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতন করতে থাকেন তিনি। একাধিকবার স্ত্রীকে মারপিট করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। উপায় না পেয়ে ২০২১ সালের ১৫ ডিসেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন ফারজানা বিনতে ফাকের। আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আলোচনা হয়। সর্বশেষ মঙ্গলবার আদালত সোবহান মোল­ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।

এর আগে চলতি বছরের ১৩ ফেব্র“য়ারি খুলনা প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দ্বিতীয় স্ত্রী ফারজানা বিনতে ফাকের (ক্ষমা) বলেছিলেন, এস আই সোবহান মোল­া সোনাডাঙ্গা থানায় কর্মরত থাকাকালীন তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। পরবর্তীতে ২০২০ সালের ১২ মে তাকে প্রলুব্ধ করে নগরীর ১৮নং ওয়ার্ডের কাজী অফিসে নিয়ে ৩ লাখ টাকা দেন মোহর নির্ধারণ করে বিয়ে করেন। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন সোবহান মোল­ার প্রথম স্ত্রী ও দু’টি সন্তান রয়েছে। তখন তিনি এম এম সিটি কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থী হওয়ায় তার প্রতারণার বিষয়টি তিনি ধরতে পারেননি। কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে তার ওপর নেমে আসে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।

এক পর্যায়ে এসআই সোবহান মোল­া তাকে কীটনাশক পানে আত্মহত্যা করতে প্ররোচনা দেন। এ কারণে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে ২০২০ সালের ৩ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। এমনকি তাদের বিয়ের প্রমাণ নষ্ট করতে তিনি রেজিস্ট্রার দেখার অজুহাতে ১৮নং ওয়ার্ডের কাজী অফিসে গিয়ে রেজিস্ট্রারের ৬নং ভলিয়মের ১৪নং পাতা ছিঁড়ে ফেলেন। প্রতিবাদ করলে নিকাহ রেজিস্ট্রারকে (কাজী) জীবননাশের হুমকি দেন। এ বিষয়ে কাজীর সহকারী সোনাডাঙ্গা থানায় জিডি করতে গেলে তা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে কাজী খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। যদিও থানার ওসির মধ্যস্থতায় ২০২০ সালের ১ ডিসেম্বর আবারও তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি করা হয়।

স্ত্রী ফারজানা বিনতে ফাকের আরও অভিযোগ করেন, তার সুখের জন্য পিতা-মাতা ৫ লাখ টাকার মালামাল দেয়। কিন্তু তারপরও এসআই সোবহান ইন্সপেক্টর হিসেবে প্রমোশনের জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে ৫০ লাখ টাকা ঘুষের ২০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। মেয়ের সংসারের সুখের জন্য তার পিতা দু’দফায় ১০ লাখ করে তাকে ২০ লাখ টাকা যৌতুক দিতে বাধ্য হন। এরপরও তার কাছে আরও ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে আরও যৌতুক দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় বিভিন্ন সময় তাকে নির্যাতন করা হয়। এমন কি কোলের শিশু পুত্রের দুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে সোনাডাঙ্গা থানায় ডেকে নিয়েও তাকে পিস্তল দিয়ে আঘাত করে মাথা ফাটিয়ে দেওয়া এবং আসামি পেটানোর লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার মাথায় ১২টি সেলাই দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন ফারজানা বিনতে ফাকের।

এসব ঘটনায় তিনি স্বামী এস আই সোবহানের বিরুদ্ধে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। এ খবর জানতে পেরে ওইদিনই সোবাহান পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ এবং তার পিতার কাছে ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে, না দিলে হুমকি দেয়। এ ঘটনায়ও তিনি ২৭ ডিসেম্বর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী সোনাডাঙ্গা) আদালতে মামলা দায়ের করেন।

মাগুরা মাদক বিরোধী অভিযানে ১০২ বোতল ফেন্সিডিল, একটি পুরাতন প্রাইভেট কার সহ  গ্রেফতার ০১

//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

মাগুরা সদর থানার সুযোগ্য ইন্সপেক্টর (তদন্ত) জনাব (গৌতম ঠাকুর এর নেতৃত্বে অত্র থানাধীন সদর পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত এসআই(নিঃ)/চয়ন কুমার দাশ সংগীয় ফোর্স সহ  ইং-১২ নভেম্বর ২০২২ তারিখ মাগুরা থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করিয়া মাগুরা সদর থানাধীন পারনান্দুয়ালী ব্যাপারীপাড়া জামে মসজিদের সামনে পাঁকা রাস্তার উপর সকাল ০৬.৩০ ঘটিকার সময় ধৃত আসামী ১। মোঃ মইদুল ইসলাম (২৬), পিতা-মোঃ নজরুল ইসলাম, গ্রাম- শ্যামকুড় (খোদাবন্দে পাড়া) ,  থানা- মহেষপুর, জেলা -ঝিনাইদহ এর নিকট হতে ১০২ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি পুরাতন প্রাইভেট কার উদ্ধার করা হয়।

উক্ত ঘটনায় পরবর্তীতে অত্র থানার মামলা নং-১৯, তারিখ-১১/১১/২২ খ্রিঃ, ধারা-৩৬(১) সারণির ১৪(গ)/৪১ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ রুজু করা হয়।

অভয়নগরে বোমাসহ আটক- ১

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

যশোরের অভয়নগর উপজেলার ৮নংসিদ্দিপাশা ইউনিয়নের ধূলগ্ৰামের মৃত ন‌ওশের আলীর ছেলে তছির উদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে ২টি বোমাসহ আটক করেছে থানা পুলিশ। জানাগেছে, ১৩ নভেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সোয়া ‌‌ ১’টায় তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। থানা সূত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভয়নগর থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) একেএম শামীম হাসানের নেতৃত্বে আমতলা ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আকরাম হোসেনসহ তার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তছির উদ্দিনকে তার নিজ বাড়ি থেকে বোমাসহ আটক করা হয়। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়,আটক আসামির ছেলে নাসিম ‌ওরফে গোফরান ওই এলাকার একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার বিচারাধীন রয়েছে।গোফরান পলাতক থাকায় তার পিতা তছির উদ্দিন বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজিসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে আমতলা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ এসআই আকরাম হোসেন জানান,২টি বোমাসহ তছির উদ্দিন নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মাগুরার বেথুড়ী গ্রামে বাড়ি ঘর ভাংচুর, আটক-২

///সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার পলাশবাড়ীয়া ইউপির বেথুড়ী গ্রামে বাড়ী ঘর ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ ১১/১১/২২ ইং শুক্রবার সকালে পূর্বশত্রুতার জের ধরে দুই শিশুর মারামারিকে কেন্দ্র করে আহাদ মেম্বারের সমার্থকেরা বাবু মাষ্টার সমার্থকদের বাড়ীতে হামলা চলিয়ে ব্যাপক ভাংচুর করেছে।

এসময় তারা সোহেল, আবুল মোল্যা, শাহরিয়া, রেজাউল মোল্যা,হারুন, আমিনুর, শহিদুল মোল্যা, জাফর ও জামালের বাড়ীসহ ২০টি ঘর ভাংচুর করে,এ বিষয়ে বাবু মাষ্টার বলেন, পাশ্ববর্তী খলিশাখালি গ্রাম থেকে লোক ভাড়া করে এনে খুব সকালে আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাদের বাড়ী ঘরে হামলা করে ব্যাপক ভাংচুর করেছে।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বাবু সমার্থকেরা আহাদ সমার্থক ওহিদুলের বাড়ীতে হামলা চালিয়ে তার ২টি ঘর ভাংচুর করেছে।উল্লেখ্য এ গ্রামে মাঝে মধ্যেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে থাকে সেটা শুধু মাত্র ঘর বাড়ীর উপর দিয়ে,দু’পক্ষের মুখোমুখী সংঘর্ষের তেমন ঘটনা দেখা যায় না।

এবিষয়ে মহম্মদপুর থানার ওসি তদন্ত মোঃবোরহান উল ইসলাম বলেন,আমি নিজেও ঘটনাস্থলে রয়েছি,নতুন করে সংঘাত এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করে রাখা হয়েছে,পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে,এ ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।

চৌদ্দগ্রামে ডাকাত দলের সর্দারসহ আটক ৫

//চৌদ্দগ্রাম, কুমিল্লা প্রতিনিধি//

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের সর্দার শিপনসহ ৫ ডাকাতকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা হলো: নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার বালিয়াকান্দি গ্রামের মো: সোলেমান প্রকাশ ইউসুফ মিকারের ছেলে মো: জাকির হোসেন প্রকাশ শিপন ও মো: সুজন, লক্ষীপুর জেলার সদর থানার রাজিবপুর গ্রামের মৃত মমিন মিয়ার ছেলে মো: শাখাওয়াত হোসেন আরিফ প্রকাশ সাগর, নোয়াখালী জেলার কবিরহাট থানার চর গুইল্লা খালী গ্রামের মৃত আব্দুল হালিমের মো: সোহেল রানা, কুমিল্লা জেলার চান্দিনা থানার দল্লাই নবাবপুর গ্রামের তাজুল ইসলামের ছেলে আলাউদ্দিন।

জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর গভীর রাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের বিজয়করা এলাকার ‘গ্রীন ভিলা এগ্রো ফার্ম এ সংঘবদ্ধ একটি ডাকাত দল ফার্মের নৈশ প্রহরীদেরকে ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৬টি গরু ডাকাতি করে পিকআপে পরিবহনযোগে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের হলে জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান বিপিএম (বার) এ নির্দেশনায় সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম ও চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ত্রিনাথ সাহা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলামসহ চৌদ্দগ্রাম থানার একটি টিম গত ৯-১০ নভেম্বর বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে নোয়াখালীর কবিরহাট ও সেনবাগ এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চালিয়ে ডাকাত সর্দার শিপনসহ ৫ ডাকাতকে আটক করে। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ, একটি মোটরসাইকেল ও একটি তালা কাটার যন্ত্র উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম।

প্রেস কনফারেন্সে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘মামলা রুজু হওয়ার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষন করে জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের সার্বিক নির্দেশনায় তথ্য প্রযুক্তির সহযোগিতায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শিপনসহ ৫ ডাকাতকে আটক করা হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় চুরি-ডাকাতিসহ একাধিক মামলা রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে আটককৃতদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে’।

আলিম পরীক্ষার্থী প্রক্সি দিতে এসে আটক

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক//

রাজশাহীর পবা উপজেলায় অন্য পরীক্ষার্থীর হয়ে প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়েছেন এক আলিম পরীক্ষার্থী। তাকে আটক করে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে প্রকৃত পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

রোববার সকালে সারাদেশে একযোগে শুরু হয় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। এদিন পবার নওহাটা ছালেহিয়া দারুচ্ছুন্নাত ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রে উপজেলার আলিগঞ্জ দারুন সুন্নাহ কামিল মাদরাসার শিক্ষার্থী আবুল হায়াতের (রোল নম্বর-১১৮১৯২, রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ১৫১৮৯১০৪১০) পরিবর্তে পরীক্ষা দিতে বসেন স্থানীয় রুস্তম আলীর ছেলে মকবুল হোসেন।

পরীক্ষা শুরুর পর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিজি’ সরকার ওই কেন্দ্র পরিদর্শনকালে মকবুলের আচরণে সন্দেহ মনে হলে কেন্দ্রে দায়িত্বরত শিক্ষকদের জানান। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রবেশপত্র যাচাই করে নিশ্চিত হন, আবুল হায়াতের প্রক্সি পরীক্ষা দিতে আসেন মকবুল। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজেও বিষয়টি স্বীকার করেন।

এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার অভিজিৎ সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে মকবুলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে আবুল হায়াতকে সব পরীক্ষা হতে বহিষ্কার করা হয়।

পবা উপজেলা কমিশনার (ভূমি) অভিজিৎ সরকার এসব তথ্য নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, এ ঘটনার সাথে আলিগঞ্জ দারুস সুন্নাহ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ নূর মোহাম্মদ খানের যোগসাজস রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি অভিযোগপত্রও পাঠানো হয়েছে।