প্রশ্নপত্র ফাঁস  || আরও ৫ জন অভিযুক্ত || জেনে নিন কারা আছেন….

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রেলওয়ের একটি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারী গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে। কেবল এই ছয়জনই নন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত হিসেবে পিএসসির আরও পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম সামনে এসেছে; যাঁরা বিভিন্ন সময় ক্যাডার ও নন-ক্যাডার পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তা আছেন। আবার অফিস সহায়ক ও গাড়িচালকও আছেন।

এই পাঁচজন হলেন পিএসসির পরিচালক এনামুল বশির, সহকারী পরিচালক আবদুর রউফ, সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, অফিস সহায়ক ডন কুমার ও গাড়িচালক আতাউর রহমান।

পিএসসি সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগে এই পাঁচজনকেই একসময় চাকরিচ্যুত করেছিল পিএসসি। পরে এনামুল বশির ও আবদুর রউফ প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও আদালতের মাধ্যমে চাকরি ফিরে পান। অফিস সহায়ক ডন কুমার ও গাড়িচালক আতাউর রহমান চাকরিচ্যুত হয়েছেন দুই বছর আগে। সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায় গত বছর অবসরে গেছেন।

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। পরে আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁরা চাকরি ফিরে পান। অবসরে গিয়েও অপকর্মে জড়িত কেউ কেউ।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পিএসসির পরিচালক এনামুল বশিরের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে বিআরটিএর মোটরযান পরিদর্শক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে তাঁকে ২০১১ সালে চাকরিচ্যুত করা হয়। ওই বছরই তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল ও আদালতে যান। ২০২১ সালে তিনি চাকরি ফিরে পান। গত বছরের মার্চে তিনি অবসরে যান। অবশ্য এনামুল বশির গতকাল বুধবার প্রথম আলোর কাছে দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছিল।

আবদুর রউফের বিরুদ্ধে প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে ২০১০ সালে। তখন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাঁকে গ্রেপ্তারও করে পুলিশ। ওই ঘটনায় পিএসসি তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ায় ২০১৩ সালে আবদুর রউফকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যান। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত বছর চাকরি ফিরে পান। এরপর আবদুর রউফ প্রশাসনিক কর্মকর্তা থেকে পদোন্নতি পেয়ে সহকারী পরিচালক হন।

আবদুর রউফ গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁকে ২০১০ সালে পুলিশ সন্দেহবশত গ্রেপ্তার করেছিল; কিন্তু কোনো অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় পরে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বিভিন্ন সময় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থা পিএসসি কেন ফৌজদারি মামলা করেনি, সে প্রশ্ন থেকে যায়।

মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া, সরকারি চাকরির বিষয়ে বিশেষজ্ঞ

তবে রেলের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৫ জুলাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার উপপরিচালক মো. আবু জাফর পিএসসির যে শাখা দেখতেন, সেই শাখায় সহকারী পরিচালক পদে রয়েছেন আবদুর রউফ। দুজন পাশাপাশি রুমে বসেন। এই শাখা (ইউনিট ১২) থেকে রেলওয়ে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন নন–ক্যাডার পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন করা হয়।

ডন কুমার ২০২২ সালের ১ জানুয়ারি পিএসসিতে অফিস সহায়ক পদে যোগ দিয়েই প্রশ্নপত্র ফাঁসেও জড়িয়ে পড়েন। পিএসসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, চাকরি দেওয়ার কথা বলে পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইমরুল ইসলামের কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা নেন ডন কুমার; যার কারণে ২০২২ সালেই তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেন। তাঁর মামলা এখনো চলমান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযুক্ত হয়ে পুনরায় চাকরিতে ফিরে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে পিএসসির যুগ্ম সচিব আবদুল আলীম খান গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা কাউকে চাকরিচ্যুত করলে তিনি প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনালে যান। পরে আদালতের দ্বারস্থ হন। সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আদালতের আদেশ শোনা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক।’ তিনি বলেন, পিএসসি তদন্তকারী সংস্থা নয়। অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিতে দুদকে চিঠি দেওয়া হয়। এর বাইরে আর কিছু করার থাকে না।

এই পাঁচজন হলেন পিএসসির পরিচালক এনামুল বশির, সহকারী পরিচালক আবদুর রউফ, সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়, অফিস সহায়ক ডন কুমার গাড়িচালক আতাউর রহমান।

সর্বশেষ রেলের প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে তদন্ত করতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) গতকাল চিঠি দিয়েছে পিএসসি।

পিএসসির গাড়িচালক আতাউর রহমানের বিরুদ্ধেও প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। পিএসসির দাপ্তরিক তথ্য বলছে, তিনি চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সলিল বরণ দাসের কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা নেন। এই ঘটনায় ২০২২ সালে তাঁকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

সহকারী পরিচালক নিখিল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধেও প্রশ্নপত্র পত্র ফাঁসের অভিযোগ রয়েছে। তিনি গত বছর অবসরে যান। তবে গত শুক্রবার রেলওয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী পদে নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত হিসেবে তাঁর নাম আসে। তিনি এখন পলাতক।

পিএসসির ভেতরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি চক্র কাজ করছে। এর মধ্যে কেউ ধরা পড়েছেন, কেউ এখনো আড়ালে রয়ে গেছেন।

সরকারি চাকরির বিধিবিধান বিশেষজ্ঞ সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া

রেলের এই নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় ৫ জুলাই ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনই পিএসসির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাঁরা হলেন উপপরিচালক মো. আবু জাফর ও জাহাঙ্গীর আলম; সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর কবির, কর্মচারী (ডেসপাচ রাইডার) মো. খলিলুর রহমান ও অফিস সহায়ক সাজেদুল ইসলাম এবং সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী। এই ব্যক্তিরা প্রায় দেড় যুগ ধরে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত বলে সিআইডি সূত্রে জানা গেছে। এঁদের কয়েকজন দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

সরকারি চাকরির বিধিবিধান বিশেষজ্ঞ ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ফিরোজ মিয়া প্রথম আলোকে বলেন, পিএসসির ভেতরেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের একটি চক্র কাজ করছে। এর মধ্যে কেউ ধরা পড়েছেন, কেউ এখনো আড়ালে রয়ে গেছেন। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থা পিএসসি কেন ফৌজদারি মামলা করেনি, সে প্রশ্ন থেকে যায়।

আমতলীতে ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ মাদক ব্যবসায়ী আটক

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে ডিবি পুলিশের অভিযানে ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ নেয়ামত উল্লাহ (২১) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে।

৯ই জুলাই বিকেল চারটায় উপজেলার আড়পাংগাশিয়া ইউনিয়নের বালিয়াতলী দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন নুরুল ইসলামের চায়ের দোকানের সামনের রাস্তার উপর থেকে বরগুনা জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই মোঃ ইমাম হোসেন সোহাগ, এএসআই মোঃ রুবেল হাওলাদার সঙ্গীয় ফোর্স সহ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্লাহকে আটক করে।

আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্লাহ আড়পাংগাশিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বালিয়াতলী গ্রামের আবুল হাওলাদার এর ছেলে।

এ বিষয়ে বরগুনা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মোঃ বশির আলম বলেন, আটককৃত মাদক ব্যবসায়ী নেয়ামত উল্লাহ দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা করতো। আজ বিকেলে তাকে ৫০০ গ্রাম গাঁজা সহ আটক করা হয়েছে। আসামীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পিএসসি এর প্রশ্ন প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে গ্রেফতার ১৭, গাড়িচালক আবেদ আলী হয়েছেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

গত ১২ বছরে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পরীক্ষাসহ ৩০টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে পিএসসির ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এদের মধ্যে পিএসসি চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীও রয়েছেন।

সিআইডির সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাঁড়াশি অভিযানে নামে সিআইডি।

জানা গেছে, গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন পিএসসি’র ঊর্ধ্বতন তিন কর্মকর্তা ও একজন অফিস সহকারী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচিত-সমালোচিত পিএসসি’র চেয়ারম্যানের সাবেক ড্রাইভার সৈয়দ আবেদ আলীও।

পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক এই গাড়ি চালকের নাম প্রচারের পর সমালোচনার ঝড় ওঠে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সৈয়দ আবেদ আলীর ব্যক্তিগত প্রোফাইল ঘেটে দেখা যায়, রাজনৈতিক, সামাজিক কর্মকাণ্ড ও দান খয়রাতের নানা খবর।

সৈয়দ আবেদ আলীর গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে তার বিপুল বিত্তবৈভবের খবর। ঢাকায় ও গ্রামে একাধিক বাড়ি, গরুর খামার ও সম্পদের তথ্য মিলেছে তারই ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। যদিও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিত্তবৈভব বানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য সামনে আসার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তার বিপুল সম্পদের তথ্য তুলে ধরছেন নেটিজেনরা। ছেলে ছাত্রলীগ নেতা, পড়েছেন বিদেশে, এরপর দেশের একটি ব্যয়বহুল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকার ভেতর তার দুইটি বহুতল ভবন, মাদারীপুরে আলিশান  রয়েছে এমন তথ্যও সামনে আসছে।

সৈয়দ আবেদ আলীর ফেসবুক পেজ থেকে জানা যায়, নেটিজেনদের দেওয়া তথ্য মিথ্যে নয়। নিজের ফেসবুক আইডিতে হোটেলের তথ্য তুলে ধরেছেন নিজেই।

গত ১৮ মে এক পোস্টে তিনি লিখেন, ‘আমাদের নতুন হোটেল এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলাম আজ। হোটেল সান মেরিনা, কুয়াকাটা। সমুদ্রকন্যার পাড়ে আজীবন নিজের জন্য একটা থাকার ব্যবস্থা।’

এই হোটেলের কাজে গিয়ে কুয়াকাটার সৈকতে তিনি নামাজ পড়ছিলেন। সেই নামাজের ছবি ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়াম ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন। সে ছবি এখন রীতিমতো ভাইরাল।

এছাড়াও সৈয়দ আবেদ আলী মাদারীপুরের ডাসার উপজেলা নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন। ফেসবুকে তাদের জীবনযাপন এবং বিভিন্ন কর্মসূচির ছবি দেখে ধারণা করা কঠিন যে তিনি পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের ড্রাইভার ছিলেন। সূত্র: যুগান্তর

 

সাতক্ষীরা এনবিআর এর পিয়ন এখন টাকার কুমির- ধনাঢ্য ব্যবসায়ী

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

রাজধানী ঢাকা কিংবা বন্দরনগরী চট্টগ্রামে নয়, মফস্বল শহর সাতক্ষীরায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অফিস সহকারী (পিয়ন) পদে চাকরি করেই বনে গেছেন ‘টাকার কুমির।’

দিনমজুর পরিবারের সন্তানের তকমা মুছে হয়েছেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। এক সময়ে ভিটেবাড়ি ছাড়া তেমন কোনো সম্পদ না থাকলেও এখন সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় শপিং কমপ্লেক্স, চার তলা বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বিশাল মাছের ঘেরসহ নামে-বেনামে শতকোটি টাকার সম্পদ গড়ে এলাকার সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।

আর এসব সম্পদের উৎস নিয়ে যখন কানাঘুষা শুরু করেন স্থানীয়রা, তখনই নিজেকে রক্ষায় স্বেচ্ছায় চাকরিতে ইস্তফা দেন।

অতি ধূর্ত এই ব্যক্তির নাম মাহমুদুল ইসলাম। এলাকার লোকজন বলেছেন, অষ্টম শ্রেণি পাশ মাহমুদুল পিয়নের চাকরিতে যোগ দিয়েই যেন ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পেয়েছিলেন।

সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে বিচলিত মাহমুদুল তার অন্তত ৩০ কোটি টাকার একটি শপিং কমপ্লেক্স বেচে দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন।

এদিকে তার অবৈধ সম্পদের বিষয়ে দুদকে তিন দফা অভিযোগ জমা পড়লেও অদ্যাবধি নেওয়া হয়নি কোনো ধরনের ব্যবস্থা। অনুসন্ধানে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে মাহমুদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার যেসব সম্পদ আছে সেগুলো আয়কর ফাইলে দেখানো আছে। শতকোটি টাকার সম্পদের তথ্য ঠিক নয়, আমার ৪০ লাখ টাকার মতো সম্পদ আছে।’

বাড়ি, শপিং কমপ্লেক্স, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সব সম্পদের ফিরিস্তি তুলে ধরে এত সম্পদের দাম কীভাবে মাত্র ৪০ লাখ টাকা তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক সম্পদ আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে করেছি। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এখনো আমার ঋণের পরিমাণ অন্তত পাঁচ কোটি টাকা।’

৪০ লাখ টাকার সম্পদ বন্ধক দিয়ে আপনি কীভাবে ৫ কোটি টাকা ঋণ নিলেন-এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

দুর্নীতি ঢাকতেই কি আপনি চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছেন-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার স্ত্রীর নামে আগেই কিছু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ছিল। আর দুর্নীতি ঢাকতে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার বিষয়টি ঠিক নয়। চাকরি জীবনে আমি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রধান কার্যালয়, খুলনা, সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন জায়গায় দায়িত্ব পালন করেছি। সাতক্ষীরা থাকাকালে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার কাজে ব্যস্ততার কারণে আমি চাকরি থেকে অবসর নিই।’

জানা গেছে, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের দিনমজুর মৃত শেখ তমেজ উদ্দীনের ৩ ছেলে, ২ মেয়ের মধ্যে মাহমুদুল ইসলাম সবার ছোট। বাবার সঙ্গে এক সময় দিনমজুরির কাজ করতেন। ’৯০-এর দশকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে চাকরিতে যোগ দেন।

প্রথমে তিনি এনবিআর প্রধান কার্যালয়ে ছিলেন। এরপর খুলনা, কুষ্টিয়া হয়ে বদলি হন নিজ জেলা সাতক্ষীরায়। দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় তিনি কর্মরত ছিলেন সাতক্ষীরা শহরের উপকর কমিশনারের (সার্কেল-১৩) কার্যালয়ে (ইনকাম ট্যাক্স অফিস)। সেখানে একজন অতিরিক্ত উপকমিশনারের সঙ্গে সখ্য গড়ে অবৈধ পথে বিপুল অর্থ আয় করেন।

তার ফুলেফেঁপে ওঠার কাহিনি যেন অ্যারাবিয়ান ড্রামা সিরিজ আলিফ লায়লার আলাদিনের আশ্চর্য প্রদীপের চেয়েও অভাবনীয় কিছু। তার সম্পদের অলৌকিক সব কারবার নিয়ে এলাকায় সমালোচনা শুরু হলে চাকরি ২৫ বছর হওয়ামাত্রই তিনি ২০১৭ সালে স্বেচ্ছায় অবসর নেন।

মাহমুদুলের যত সম্পদ : অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাতক্ষীরার গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র পাটকেলঘাটার পল্লী বিদ্যুৎ রোডসংলগ্ন এলাকায় নজরকাড়া বহুতল শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণ করেছেন মাহমুদুল। ‘বাঁধন শপিং কমপ্লেক্স’ নামের এই ভবনে রয়েছে তার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।

১২ শতাংশ জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক শপিংমলটি ২০২১ সালে উদ্বোধন করা হয়। জমি ও মালামালসহ এ খাতে তার বিনিয়োগ অন্তত ৩০ কোটি টাকা।

পাটকেলঘাটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে ৪৭ দাগের ৯ শতাংশ জমিতে তৈরি করেছেন আলিশান চার তলা বাড়ি। বাড়ির পাশ ঘিরে তৈরি করা হয়েছে পাকা পুকুর। ১৭ শতাংশ জায়গায় ওই পাকা পুকুরকে এলাকার লোকজন সুইমিংপুল হিসাবে জানেন। জায়গা কিনে এই বাড়ি করতে তার অন্তত ২০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।

স্ত্রী নাছিমা বেগমের নামে পাটকেলঘাটা বাজারের সবচেয়ে দামি রাজেন্দ্রপুর মৌজার ১৪৯ দাগে ১৭ শতাংশ, ১৫০ দাগে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ, ১৪৭ দাগে ৯ শতাংশ ও পাটকেলঘাটা চৌরাস্তা মোড়ে ৮১ দাগে ১ শতাংশ জমি কিনেছেন।

আরও জানা গেছে, কন্যা ঊর্মির নামে পাটকেলঘাটার পাঁচ রাস্তা মোড় এলাকায় গড়ে তুলেছেন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ঊর্মি এন্টারপ্রাইজ’। রয়েছে মালামাল পরিবহণের বেশ কয়েকটি ট্রাক ও ইটভাটা। অভিযোগ আছে, এই প্রতিষ্ঠানের আড়ালে তিনি চোরাকারবারে জড়িত। এছাড়া ঊর্মির নামে বালিয়াদোহা গ্রামে রয়েছে কয়েক বিঘা জমি।

এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে এক সময় মাহমুদুলদের পৈতৃক সম্পত্তি বলতে ভিটাবাড়ি ছাড়া কিছুই ছিল না। তবে পৈতৃক সূত্রে ৮ বিঘা জমি পাওয়ার দাবি করেছেন মাহমুদুল।

কিন্তু বর্তমানে সেখানে তার ২০ বিঘা জমির মাছের ঘের, বিভিন্ন ধরনের মালামাল রাখার একটা গোডাউন ও ৮ বিঘা কৃষি জমির তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে স্থানীয় সিদ্দিক মল্লিকের কাছ থেকে একযোগে ৪ বিঘা জমি নিজের নামে কিনেছেন তিনি।

নিয়মিত মাহমুদুলের পরিবারের গাড়ির মডেল পালটাতে দেখে এলাকাবাসী বিস্ময়ে হতবাক। বিভিন্ন ব্যাংক ও পোস্ট অফিসে মাহমুদুলের নামে-বেনামে সঞ্চয়পত্র, এফডিআরসহ বিপুল অঙ্কের নগদ অর্থ জমা আছে বলে জানা গেছে।

প্রতিবেশীরা জানান, মাহমুদুল ও তার পরিবারের সদস্যরা বিলাসী জীবনযাপন করেন। স্থানীয় সরকার দলের এক নেত্রীর ছেলের সঙ্গে মেয়ে ঊর্মিকে বিয়ে দিয়ে নিজের অবস্থান আরও পোক্ত করেছেন মাহমুদুল। তার প্রভাব এখন এতটাই বেশি যে, দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়ার পরও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিকবার দুদকের স্থানীয় কার্যালয়ে তার অবৈধ সম্পদের তথ্য-প্রমাণসহ অভিযোগ জমা পড়েছে।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘তার দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি করায় আমাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয়েছে। আমি তার দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে সব ডকুমেন্টসহ একাধিকবার দুদকে অভিযোগ জমা দিয়েছি। কিন্তু রহস্যজনক কারণে দুদক কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। চিহ্নিত দুর্নীতিবাজ হিসাবে তিনি এলাকাবাসীর কাছে পরিচিত হলেও যাদের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তারা নীরব।

Daily World News

চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম আওয়ামী লীগের সভা শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে

মাগুরায় কলেজ ছাত্র তীর্থ রুদ্র হত্যার মুল আসামী গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিনিধি, মাগুরা।

মাগুরায় তীর্থ রুদ্র হত্যায় গ্রেফতারকৃত যুবকের নাম তাইহান ইসলাম আমান (২১) । সে মাগুরা পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের সদর হাসপাতাল পাড়ার জিয়াউল ইসলাম ওরফে জিবুর ছেলে।

মাগুরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) এস এম মোবাশ্বের হোসাইন শুক্রবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, গত ১ জুলাই সোমবার ভোরে আল-আমিন মাদ্রাসা ট্রাস্ট সংলগ্ন একটি পুকুরের পাড় থেকে তীর্থ রুদ্র নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ । এ সময় একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয় । এ বিষয়ে ভিকটিমের বাবা নিমাই চন্দ্র রুদ্র বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তীর্থ হত্যার পর থেকেই মাগুরা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে । এ অভিযানের ভিত্তিতে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার শত্রুজিতপুর এলাকা থেকে আসামি তাইহান ইসলাম আমানকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় মাগুরা সদরের কাশিনাথপুর গ্রামের আনিসুর রহমান মধুর বসতবাড়ির একটি পুরানো টিনের রান্না ঘর থেকে তীর্থের ব্যবহৃত বাজাজ ডিসকভার-১২৫ সিসির একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। মোটরসাইকেলে ব্যবহৃত নাম্বার প্লেটটি উদ্ধার করা হয় শহরের খানপাড়া কাচা বাজার এলাকার একটি টিনের চালা থেকে এবং চাবি উদ্ধার করা হয় আসামি আমানের বাড়ি থেকে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেলটির নম্বর মাগুরা-হ ১২-৭৮৪৮ । তিনি আরোও জানান, তীর্থ হত্যাকাণ্ডে আরোও কেউ জড়িত আছে কিনা গ্রেফতারকৃত আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে।

উল্লেখ্য,মাগুরা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডের পূর্ব দোয়ার পাড় এলাকার আল-আমীন টাস্ট্র দাখিল মাদরাসার পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়ে থেকে গত মঙ্গলবার সকালে তীর্থ রুদ্র (১৮ ) নামের এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। নিহত তীর্থ রুদ্র পৌরসভার নান্দুয়ালী এলাকার নিমাই চন্দ্র রুদ্রের ছেলে । সে মাগুরা আদর্শ ডিগ্রি কলেজর ছাত্র এবং ২০২৪ সালের এইচ এস সি পরীক্ষার্থী ছিল।

আমতলীতে ২ কেজি গাঁজা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ী আটক

 মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনার আমতলীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২ কেজি গাঁজা সহ মোহাম্মদ মিলন মোল্লা (৪০) ও গোলাম রাব্বি (২৫) নামের দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশ।

৫ই জুলাই শুক্রবার সকাল ৭.১০ মিনিটের সময়ে বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশের এস,আই ইমাম হোসেন ও এস,আই রুবেল হোসেনের নেতৃত্বে সঙ্গীও ফোর্স সহ আমতলী পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের চৌরাস্তা এলাকা থেকে ২ কেজি গাঁজা সহ বরিশাল থেকে আসা দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

আটককৃত হলো বরিশাল কোতোয়ালি থানার রুপাতলী গ্রামের মৃত্যু সিকান্দার মোল্লার ছেলে মোহাম্মদ মিলন মোল্লা ও বরিশাল সিটির ২৩ নং ওয়ার্ডের তাজ কাঠী গ্রামের মৃত্যু আয়ুব আলীর ছেলে গোলাম রাব্বি।

ডিবি পুলিশ জানান,আসামীরা দীর্ঘদিন যাবত এ এলাকায় মাদক ব্যবসা করতো। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে আজ সকালে আমতলীতে মাদক বিক্রি করতে আসবে তাই আমরা আগ থেকেই এদেরকে আটক করার জন্য আমতলী শহরের বিভিন্ন স্হানে অবস্থান গ্রহণ করি এবং এক পর্যায়ে এদেরকে আটক করতে সক্ষম হই।

বরগুনা জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ বশির আলম জানান, আজ সকালে ২ কেজি গাঁজা সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আমতলী পৌরসভার চৌরাস্তা থেকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা দীর্ঘদিন মাদক ব্যবসা করতো এবং এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও রয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে এবং আজ বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

ছাগলকান্ডের মতিউরের সাথে নিবিড় সম্পর্কে জরানো বান্ধবী আরজিনাও অঢেল সম্পদের মালিক

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

আলোচিত ছাগলকাণ্ডে ওএসডি রাজস্ব কর্মকর্তা মতিউর রহমানের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে অঢেল সম্পদের মালিক আরেক এনবিআর কর্মকর্তা আরজিনা খাতুন। রাজধানীতে ফ্ল্যাট, গ্রামে আলিশান বাড়ি, পরিবারের সদস্যদের নামে-বেনামে জমি, বাসায় বিলাসবহুল ইন্টেরিয়র এবং দামি সব আসবাবপত্র করেছেন।

মাত্র তিন বছরে ৫০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কারের মালিক তিনি। যার ২০০ ভরিই চোরাচালানের মাধ্যমে আনা, দুদকের কাছে এসেছে এ অভিযোগ। মতিউরের সঙ্গে আরজিনার কিছু ফোনালাপও এসেছে গণমাধ্যমের কাছে।

এই আরজিনা খাতুন হচ্ছেন- রাজস্ব বোর্ডের মূসক মনিটরিং, পরিসংখ্যান ও সমন্বয়ের দ্বিতীয় সচিব। এর আগে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের উপ-কমিশনার ছিলেন।

খোদ এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অভিযোগ-শুধু মতিউর রহমানের বান্ধবী হিসেবে বহু অনৈতিক সুবিধা হাসিল করেছেন আরজিনা।

গত ১০ জুন দুদকে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন একজন। তাতে বলা হয়, মিথ্যা তথ্য দিয়ে পণ্য আমদানি, মানিলন্ডারিং, স্বর্ণ চোরাচালান চক্রের সঙ্গে যোগসাজস আর দুর্নীতি করে বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন আরজিনা খাতুন।

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামে বদলির পর ২০২২ সালেই গ্রামে তার পরিবারের সদস্যদের নামে কিনেছেন ৫টি জমি। যার বাজারমূল্য অর্ধকোটি টাকা। সেসব জমির দলিলও এসেছে যুগান্তরের হাতে। এছাড়াও গ্রামে আরও প্রায় এক কোটি টাকার জমি বন্ধক নিয়েছেন আরজিনা। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, আরজিনার ব্যবহৃত বেশিরভাগ গহনাই অনেক দামি। তার অন্তত ১০ লাখ টাকা মূল্যমানের হীরার গহনা রয়েছে।

২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে তিনি অন্তত ৫০০ ভরি স্বর্ণ আর ডায়মন্ডের অলংকার কিনেছেন নগদ টাকায়। যার ২০০ ভরি এক সিএন্ডএফ ব্যবসায়ীর মাধ্যমে ৩ ধাপে চোরাচালানের মাধ্যমে আনার তথ্য ও দালিলিক প্রমাণ দুদকে করা অভিযোগের সঙ্গে জমা দেওয়া হয়েছে। ২০২২ থেকে শেয়ার ব্যবসাও করেছেন তিনি। এক দিনে ১০ লাখ টাকা বিনিয়োগে দ্বিগুণ লাভের নজিরও আছে তার। তার তিনটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বিপুল নগদ টাকা ও সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগও আছে।

অভিযোগ আছে-মতিউর রহমানের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কে জড়ানোর পর থেকে ‘আলাদিনের চেরাগ’ হাতে পান আরজিনা। তরতর করে বাড়তে থাকে তার সম্পত্তি। মতিউরের সঙ্গে একই ব্রোকারেজ হাউজে শেয়ার ব্যবসায় বিনিয়োগ ছিল আরজিনার। অভিযোগ আছে, কারসাজি করে মতিউরই আরজিনাকে শেয়ার বাজারে মুনাফা তুলে দেন। মতিউর-আরজিনার মোবাইল ফোনালাপের অডিও রেকর্ড এসেছে এ প্রতিবেদকের হাতে। তাতে তাদের মধ্যে স্পর্শকাতর অশ্লীল কথাবার্তার ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে।

আমতলীতে দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীর লিঙ্গ কর্তন- স্ত্রী আটক

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

স্বামী জাহিদুল ঘরামী দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্ত্রী নাসরিন বেগম স্বামীর লিঙ্গ কর্তন করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিশ স্ত্রী নাসরিনকে আটক করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর ডালাচারা গ্রামে রবিবার গভীর রাতে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

জানা গেছে,২০২১ সালে বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের উত্তর ডালাচারা গ্রামের আবুল কালাম আজাদ (কালাই) ঘরামীর ছেলে জাহিদুল ঘরামীর (২৮) সঙ্গে পটুয়াখালী সদর উপজেলার গেরাখালী গ্রামের মজিবর মাদবরের মেয়ে নাসরিন বেগমের (২০) বিয়ে হয়। তাদের একটি ৭ মাসের পুত্র সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকে জাহিদুল এক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সর্ম্পক গড়ে তুলে। গত জানুয়ারী মাসে গোপনে ওই নারীকে তিনি বিয়ে করেন। এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। স্বামী জাহিদুল প্রথম স্ত্রীকে দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে চাপ দিলে রাজি হয়নি নাসরিন। এতে ক্ষুব্দ হয়ে স্বামী জাহিদুল স্ত্রীকে নির্যাতন করে আসছে। রবিবার গভীর রাতে স্ত্রী নাসরিন বেগম ধারালো দা দিয়ে লিঙ্গ কর্তন করে। এ সময় জাহিদুলের চিৎকারে স্বজনরা ছুটে এসে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পায়। পরে তারা রক্তাক্ত জাহিদুলকে বরিশাল সেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থার অবনতি হলে ওই হাসপাতালের চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে আমতলী থানা পুলিশ রাতেই স্ত্রী নাসরিনকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করেছে।

জাহিদুলের বাবা আবুল কালাম আজাদ (কালাই) ঘরামী বলেন,আমার ছেলের এই করুন পরিনতির জন্য ছেলের বউ নাসরিন দায়ী। আমি এ ঘটনায় শাস্তি দাবি করছি।

স্ত্রী নাসরিন বেগমের অভিযোগ,আমার স্বামী গত ৬ মাস পূর্বে গোপনে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওই দ্বিতীয় স্ত্রীকে মেনে নিতে আমাকে চাপ প্রয়োগ করছিল। আমি মেনে না নেওয়ায় আমাকে শাররিক ও মানসিকভাবে নির্যাচন করছে।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে স্ত্রী নাসরিনকে রাতেই আটক করা হয়েছে। মামলার প্রস্তুতি চলছে।

Daily World News

কর্মকর্তাদের গাফেলতি- চসিকের সাড়ে ৩ কোটি টাকা আত্মসাৎ

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় জাতির পিতা ও নির্বাহী অফিসারকে নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার এর উদ্বোধন উপলক্ষে আমতলীতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্স যুক্ত হন। এ সময় ভিডিও কনফারেন্স এর সঞ্চালনা করেন আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সঞ্চালনার শুরুতে নির্বাহী আশরাফুল আলম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করে জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং আগামীতে আরও উন্নয়ন হওয়ার কথা জানান।

গতকাল ২৮শে জুন চ্যানেল আমতলী সেই ভিডিও’টি আপলোড করে। সেই ভিডিওতে এলএস আতিক হাসান সজল নামের ফেইসবুক আইডি থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলমকে উদ্দেশ্য করে লিখেন “ওনি নাকি হক পথে থাকে হক পথে চলে আর উনি কিভাবে বলে জাতির পিতা ছিল শেখ মুজিবুর রহমান বড় একটা চামচা”।

সজলের এই কমেন্টে সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতা তা অস্বীকার করা হয়েছে এবং  উপজেলা নির্বাহী অফিসার কিভাবে বলে জাতির পিতা ছিল শেখ মুজিবুর রহমান বড় চামচা একটা চামচা”।

বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় জাতির পিতা ও নির্বাহী অফিসারকে নিয়ে ফেইসবুকে কটুক্তি

সজলের এই কমেন্টে সরাসরি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙ্গালী জাতির পিতা হিসেবে অস্বীকার করা হয়েছে এবং  উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম জাতির পিতা বলায় কমেন্টে তাকেও কটুক্তি করায় আমতলীতে চরম  অসন্তোষ বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য,গত বছরের ১৯ জানুয়ারি দেশের ১৩টি জেলার আমতলী সহ ৪৫টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কমিউনিটি ভিশন সেন্টার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি শুভ উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে আমতলীতে আয়োজিত অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম। সঞ্চালনার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাবেক সংসদীয় আসন আমতলী-তালতলীর কথা উল্লেখ করে নির্বাহী অফিসার জাতির পিতার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের চিত্রও তুলে ধরেন। আমতলী থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পুরো ভিডিও গতকাল চ্যানেল আমতলীতে আপলোড করার দুই ঘন্টা পর এই কমেন্ট করে।

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক জিএম ওসমানী হাসান বলেন, জাতির পিতাকে নিয়ে ঔদ্ধত্য পুর্ন কমেন্টের জন্য উক্ত এলএস আতিক হাসান সজলকে খুঁজে বের করে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও আমতলী পৌর মেয়র মোঃ মতিয়ার রহমান বলেন, বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় কমেন্টে এ ধরনের লেখার দুঃসাহসী কে এই জামাত শিবিরের লোক? বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা বলায় কমেন্টে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে যা লেখা হয়েছে তা আমতলী বাসী কোনভাবেই মেনে নিবেননা। তাই অনতিবিলম্বে উক্ত সজলকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,বিষয়টি দেখেছি খোঁজ খবর নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম যারা চায়নি সেই পাকিস্তানের প্রেতাত্মা মওদূদীর অনুসারী জামাত-শিবিররাই মূলত বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করে। এদের স্বাধীন বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাই মওদূদীবাদী জামাত-শিবির সহ সকল স্বাধীনতাবিরোধীদের ব্যক্তিসহ দল নিষিদ্ধ করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।

নির্লজ্জ-অসৎ-দুর্ণীতিবাজ মতিউর রহমান ১৬ কিমি রাস্তা পেরিয়ে অফিসে যেতে ৩বার গাড়ি পাল্টাতেন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমানের ব্যক্তিজীবন রহস্যঘেরা। বাইরে তিনি নিজেকে ধর্মভীরু বলে প্রচার চালালেও অন্দরমহলে তার চলাচল ছিল বেপরোয়া।

বাইরে তিনি নিজেকে ধর্মভীরু বলে প্রচার চালালেও অন্দরমহলে তার চলাচল ছিল বেপরোয়া। মতিউর নিজের ফেসবুক ওয়ালে প্রতিদিন হাদিস ও আল কুরআনের বাণী আপ করতেন। অথচ তিনি অসৎপথে বিপুল ধনসম্পদের পাহাড় গড়েছেন।

ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বসুন্ধরার বাসা থেকে বের হওয়ার পর কুড়িল বিশ্বরোড পৌঁছেই তিনি গাড়ি পরিবর্তন করতেন। কাকরাইলের এনবিআর অফিসে যেতে তিনি তিনবার পালটাতেন গাড়ি। এমনকি এক গাড়ির চালক আরেক গাড়ির চালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন না।

কবে কোন গাড়ি তিনি ব্যবহার করবেন, সেটাও চালকদের সবাই জানতেন না। নিজস্ব পরিকল্পনামাফিক চালকদের ফোন করে নির্ধারিত জায়গায় থাকতে বলতেন। কেন তিনি এটা করতেন, তা কেউ বলতে পারেনি। প্রতিদিন তিনি তার নিজের মনোরঞ্জনে লাখ লাখ টাকা ব্যয় করতেন বলেও জানা গেছে।