কচুয়ায় মাদ্রাসার ভেতরে গাঁজা সেবন করার ২ জনের ৬ মাসের কারাদন্ড

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

কচুয়ায় নূরজাহানপুর দাখিল মাদ্রাসার ভেতরে গাঁজা সেবন করার অপরাধে দুই জনকে ৬ মাস কারাদন্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমান আদালত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী হাকিম কে এম আবু নওশাদ এর নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১৮ অনুয়ায়ী ৬ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড ও ২৫০০ টাকা করে জরিমানা করে জেলা কারাগারে প্রেরণ করেন।

বৃহস্পতিবার সন্ধায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার নরেন্দ্রপুর গ্রামের নূরজাহানপুর দাখিল মাদ্রাসার ভেতরে অভিযান চালিয়ে বাগেরহাট সদরের পোলঘাট এলাকার এনামুল কবির জয়নালের ছেলে মিজানুর রহমান রিদয়(২০) একই এলাকার মোস্তাফার ছেলে ইয়ামিন শেখ (১৯)কে আটক করে। দুই জনেই পল্লী বিদ্যুতের কাজের সুবাদে মাদ্রাসাটির বোর্ডিং এ অবস্থান করছিলেন।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার কে এম আবু নওশাদ বলেন, কচুয়া উপজেলাকে মাদক মুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের প্রচেষ্ঠা অব্যাহত থাকবে। এসময় তিনি সকলেন সহযোগীতা কামনা করেন।তিনি আরোও বলেন জনস্বার্থে যে কোন ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানকালে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মহসীন হোসেন, মাদ্রাসার সুপার, আর্নসার সদস্যসহ স্থানীয় জনগন উপস্থিত ছিলেন।#

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে রূপসায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

খুলনা প্রতিনিধি:

ভারতে ইসলাম ধর্ম ও রাসূল (সা.)-কে নিয়ে বিতর্কিত ব্যক্তি রামগিরি মহারাজ ও রূপসায় অন্তর বৈরাগী কর্তৃক কটূক্তি   করার প্রতিবাদে রূপসা উপজেলায়  বিক্ষোভ সমাবেশ  ও প্রতিবাদ মিছিল করেন বিভিন্ন ইসলামীক সংগঠনের ছাত্র -জনতা।

রবিবার (২৯ সেপ্টেম্বর ) বিকাল ৩টায় মিছিলটি আলাইপুর  কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে শুরু করে উপজেলা সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিন শেষে কাজদিয়া সরকারী উচ্চ মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয় মাঠে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত  হয়।

আয়োজক কমিটির  আহবায়ক সামন্তসেনা দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আ:হান্নান এর সভাপতিত্বে  প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন সামন্তসেনা  দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো:  শফিউদ্দিন।

আলাইপুর বাসী, পুটিমারী  যুব সমাজ, ভবানীপুর যুব সমাজ  ও উপজেলার তাওহিদী জনতার পক্ষ থেকে প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তৃতা করেন উপজেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা হেকমত হোসাইন, ইসলামী আন্দোলন  উপজেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক  ইমাম পরিষদের সদস‍্য হাফেজ মাওলানা জামাল উদ্দীন,  ইমাম পরিষদের ঘাটভোগ ইউনিয়ন শাখার সহ সাধারণ সম্পাদক  মাওলানা রফিকুল ইসলাম, জাতীয় ইমাম পরিষদ ঘাটভোগ ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মাওলানা জামসেদ হোসাইন, মাওলানা মুফতি মনজুরুল ইমাম, হাফেজ শরিফুল ইসলাম, মাওলানা আ: রহিম শিকদার,  হাফেজ আবু মুছা।

আ: রউপ   শিকদারের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন মাওলানা আলামিন হোসাইন, মাওলানা অহিদুল্লাহ, মাওলানা তরিকুল ইসলাম,মাওলানা মফিজুল ইসলাম,মাওলানা হাবিবুর রহমান, মাওলানা আ:রহিম,  মো: মুছা লস্কর,  মো: রফিকুল ইসলাম, বিএনপির সদস‍্য মো: আমিনুল ইসলাম, তামিম হাসান লিয়ন,  মো:  আসিফ আল মাহদুদ, মুরাদ হাসান রাজু, সাহিদুল শেখ, মনির ঢালী,মো: রায়হান মুন্সী, সিরাজুল শিকদার, হুমায়ুন শিকদার, অহিদ শিকদার, হাসান, জিহাদ,ইমাম জাহিদুল ইসলাম,নুর ইসলাম, আ:হান্নান, মো:আবদুল্লা,  মো: আহম্মদ শেখ, রাজিব মোল্লা প্রমূখ।

দোকানে ফেরা হলোনা কাসেমের, কুপিয়ে হত্যা করে নিয়ে গেলো সাথে থাকা ৬ লক্ষ টাকা

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা//

বরগুনার আমতলীতে এক বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায়ী আবুল কাসেমকে কুপিয়ে হত্যা করে কাছে থাকা টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দশটার দিকে। নিহত ব্যবসায়ী আবুল কাসেম (২৩) উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের মোঃ নুর উদ্দিন মোল্লার ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে দোকান থেকে নিহত কাসেম বাড়িতে ফিরছিল বাড়ীর কাছাকাছি সড়কের পাশে ধান ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করে।

জানা যায়,আবুল কাশেম কলাগাছিয়া বাজারে বিকাশ,ফ্লেক্সিলোড ও ইলেকট্রনিক্স মালামালের ব্যবসা করতেন। বাজারের দোকান বন্ধ করে রাত দশটার দিকে ব্যবসার টাকা ব্যাগে নিয়ে বাড়ি কাছাকাছি পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে বাড়ির পাশে ধান খেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এবং সাথে থাকা টাকাও নিয়ে যায়।

নিহতের মামাতো ভাই সাইদুল বলেন,আমার ফুপি আমাকে ফোন দিয়ে বলে কাশেম এখনো বাড়ি আসে নাই,দেখতো কাশেম বাজারে কিনা। কাশেম যেসব দোকানে বসে সেইসব দোকানে খুঁজেও কাশেমকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কাশেমকে খুঁজতে খুঁজতে যখন বাড়ি যাই, রাস্তার উপর আমার ফুপিকে দেখতে পাই। বাড়ির সামনে একটু গিয়ে দেখি আমার ভাই ধান ক্ষেতের ভিতরে পড়ে আছে, চিৎকার দিয়ে আমি আর আমার ফুফু সেখানে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। তিনি আরো বলেন,ঘটনার দিন আমার ভাই কাসেম পটুয়াখালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষের মতো টাকা ছিল বলে দাবি করেন তার মামাতো ভাই সাইদুল।  আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,ঘটনা শুনে ঘটনাস্থানে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

বরগুনায় ডিবির অভিযানে গাঁজা সহ আটক ১

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বরগুনায় ডিবির অভিযানে ৮০ গ্রাম গাঁজা সহ একজনকে আটক করা হয়েছে।

১৬ই সেপ্টেম্বর র রাত সারে দশটার সময়ে বরগুনা পৌর শহরের ৩ নং ওয়ার্ডের কড়ইতলা থেকে আবুল হোসেন এর ছেলে রুবেল আহমেদ (১৯) কে ৮০ (আশি) গ্রাম গাঁজা সহ গ্রেফতার করা হয়।

বরগুনা ডিবির ওসি জাকির হোসেন এর নেতৃত্বে এস আই ইমাম হোসেন সঙ্গীও ফোর্স সহ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ বিষয়ে বরগুনা ডিবির ওসি জাকির হোসেন বলেন, আটককৃত রুবেল হোসেনকে বরগুনা সদর থানায় সোপর্দ করা হবে।

মেধাবী ছাত্রী চৈতির অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী শিক্ষক; ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী ফাইরুজ মাহমুদ নিদ (চৈতি)। তার অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী সোনিয়া সুলতানা এবং শিক্ষিকা কাকলি গাইন সহ দোষীদের ফাঁসির দাবিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য- রূপসার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের প্রেমের ফাঁদে পড়ে গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে চৈতি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে প্রয়াত ছাত্রী চৈতীর মাতা নুরনাহার বাদী হয়ে আদালতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের উক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।

নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ফাইরুজ মাহমুদ চৈতীর পিতা ফিরোজ পাশা, মাতা নুর নাহার শেখ, ইউপি সদস্য রেশমা আক্তার, আশরাফ আলী রাজ, হুমায়ূন কবীর রাজা, নিজাম উদ্দীন, মনিরা বেগম, হাফিজুর রহমান, পিয়াস শেখ, সাব্বির শেখ, হাসান মল্লিক, সাদমান, মো. সিদ্দিক, মো. তুহিন, আরমান শেখ, রেজাউল করিম, ফারুক, জনী, শফিক, হিরা শেখ, সুমন ঘোষ, প্রিন্স শেখ, আঃ হালিম, রিয়াদ শেখ, সৌমিত্র দেবনাথ, ওবায়দুল্লাহ মল্লিক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রাসেল হাওলাদার, মো. ইউসুফ, ইব্রাহিম খলিল, মো. সিয়াম, লাবন্য আক্তার জ্যেতি, সুমাইয়া আক্তার ফাতেমা, সাদিয়া আক্তার লামিয়া, মারুফা, সুমাইয়া সুলতানা, মুন্নী খাতুন, সাহারা আক্তার তৃষা, শান্তনা দাস, জ্যেতি রানী পাল, সুমা খাতুন, আসাদুজ্জামান রাফি, রাহুল কুমার দাস, অর্পন পাল, আজিম শিকদার, রাজ্জাক প্রমূখ।

কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে মারা হয় চিকিৎসক মৌমিতাকে

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার নারী চিকিৎসককে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বহিরাংশে ১৬টি ও ভেতর ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে।

৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে এই ময়নাতদন্ত করা হয়। আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই এই ময়নাতদন্ত করেন। আজ সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে খবর প্রকাশ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাক-মুখ বন্ধ করে শ্বাস রোধ করার কারণেই (ওই চিকিৎসকের) তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। হত্যার ধরনটি নরহত্যার পর্যায়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গে কোনো কিছু জোর করে প্রবেশের আলামত পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, সম্ভবত তাঁকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল।

গাল, ঠোঁট, নাক, ঘাড়, বাহু, হাঁটু ও যৌনাঙ্গে বাহ্যিক ক্ষত পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষত পাওয়া গেছে ঘাড়, মাথার ত্বক ও অন্যান্য অংশের পেশিতে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সব আঘাত মৃত্যুর আগের। এর অর্থ হলো, মারার আগে তাঁকে সীমাহীন কষ্ট দেওয়া হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আরজি কর হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক অপূর্ব বিশ্বাস, একই হাসপাতালের একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিনা দাস এবং এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মলি ব্যানার্জি।

গত শুক্রবার উত্তর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন শেষে ওই দিন রাতে তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সী ওই শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসকের মরদেহটি ছিল রক্তাক্ত, শরীরের নানা জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় কলকাতার পাশাপাশি ভারতজুড়ে চিকিৎসকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এখনো আন্দোলন চলছে।

প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। তাঁদের তদন্ত সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর তা ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এস আলমের পকেটেই  ইসলামী ব্যাংকের ৫০ হাজার কোটি টাকা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

মাত্র বছর দশেক আগেও দেশের শীর্ষ ব্যাংক ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। আইনকানুন পরিপালন, গ্রাহককে সেবা দেওয়া ও আর্থিক সূচকে অন্য সব ব্যাংককে ছাড়িয়ে গিয়েছিল এই ব্যাংক। গ্রাহকের আস্থার কারণে স্থানীয় আমানত কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা সংগ্রহে এটি সবচেয়ে এগিয়ে ছিল। ব্যাংকটির আকার এতটাই বড় হয়ে উঠেছিল যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বলা হতো—ইসলামী ব্যাংক ঝুঁকিতে পড়লে পুরো খাতে ‘পদ্ধতিগত ঝুঁকি’ তৈরি হবে, যা রোধ করা সম্ভব হবে না।

কিন্তু পরিস্থিতি পাল্টাতে শুরু করে ২০১৭ সাল থেকে। ওই বছর সরকারের রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ইসলামী ব্যাংককে ‘জামায়াতমুক্ত’ করার উদ্যোগ হিসেবে এর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার নিয়ন্ত্রণ নেয় সদ্য বিদায় নেওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ এস আলম গ্রুপ। এরপর সাড়ে সাত বছরে নামে-বেনামে ব্যাংকটি থেকে প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এই ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ও এর স্বার্থসংশ্লিষ্ট রাজশাহীর নাবিল গ্রুপ। এই অর্থ ব্যাংকটির মোট ঋণের এক–তৃতীয়াংশ। এই টাকা বের করতে কোনো নিয়মকানুন মানা হয়নি। ঋণের যে তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে, ব্যাংক থেকে পাচার করা অর্থের প্রকৃত পরিমাণ তার চেয়ে বেশি বলেই মনে করেন কর্মকর্তারা।

এই টাকা বের করা হয়েছে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম, তাঁর স্ত্রী, মেয়ের স্বামী, আত্মীয়সহ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে। ঋণ হিসেবে অর্থ বের করতে তৈরি করা হয় নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান। আলোচিত প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদার চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে যেভাবে টাকা বের করেছিলেন, অনেকটা একই কায়দায় ইসলামী ব্যাংক থেকেও অর্থ বের করা হয়। এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান এখন বন্ধের উপক্রম, আমানতকারীরা টাকা ফেরত পাচ্ছেন না। পি কে হালদার ছিলেন এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন আভিভা ফাইন্যান্স ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।

ইসলামী ব্যাংক থেকে পাচার হওয়া টাকা এখন আদায় করা যাচ্ছে না, ফলে ব্যাংকটি তারল্যসংকটে ভুগছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকে চাহিদামতো তারল্য জমা রাখতে না পারায় প্রতিদিন জরিমানা দিচ্ছে। আবার একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সদ্য সাবেক গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার নিজের বিশেষ ক্ষমতাবলে ‘টাকা ছাপিয়ে’ দেড় বছর ধরে ব্যাংকটিকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন; কিন্তু ব্যাংকটির খারাপ অবস্থার জন্য যাঁরা দায়ী, তাঁদের কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর ইসলামী ব্যাংকে প্রায় ১০ হাজার কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে এস আলম গ্রুপ। এসব কর্মকর্তার বেশির ভাগই সাইফুল আলমের নিজের এলাকা পটিয়া উপজেলার। ফলে ব্যাংকটির অর্ধেক কর্মকর্তাই এখন পটিয়ার। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই ২০১৭ সালের আগে নিয়োগ পাওয়া পুরোনো কর্মকর্তারা আন্দোলন শুরু করেছেন ব্যাংকটিকে ‘এস আলম ও পটিয়ামুক্ত’ করতে। এর মধ্যে বিবদমান দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে গুলি বর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে।

বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হয়েছেন। এই পদে তাঁর নিয়োগসংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হওয়ার আগে গতকাল সকালে প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ব্যাংকটি খেয়ে ফেলার জন্য এস আলম গ্রুপের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তারা সেই কাজই করেছে, ব্যাংকটি ধ্বংস করে দিয়েছে। আর এই ব্যাংকের টাকা ডলার হয়ে বিদেশে চলে গেছে। এখন এস আলম গ্রুপ ও যাদের নামে ঋণ বের হয়েছে, তাদের সব সম্পদ জব্দ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে এতে ঋণের এক-তৃতীয়াংশ টাকাও আদায় হবে কি না, সন্দেহ আছে।

যেভাবে ব্যাংক দখল

একটি গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করে ইসলামী ব্যাংক কীভাবে দখল করা হয়, ২০১৭ সালে তা ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট–এ বিস্তারিতভাবে প্রকাশিত হয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, একটি গোয়েন্দা সংস্থার এ ধরনের কাজ করাটা সত্যিই অদ্ভুত। ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান, একজন ভাইস চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালককে ফোন করেন। এরপর তাঁদের বাসভবন থেকে উঠিয়ে নিয়ে আসা হয় ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সংস্থাটির সদর দপ্তরে।

দ্য ইকোনমিস্ট–এ লেখা হয়, এর কয়েক ঘণ্টা পরেই সেনা গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের নাকের ডগায় সেনাবাহিনীর মালিকানাধীন একটি হোটেলে বসে এক সভা করে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। পদত্যাগ করা পরিচালকদের স্থলাভিষিক্ত কারা হবেন, সেই সভায় তা ঠিক করা হয়।

নথিপত্র থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি আরমাডা স্পিনিং মিলের প্রতিনিধি ও সাবেক আমলা আরাস্তু খানকে ইসলামী ব্যাংকের নতুন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবদুল হামিদ মিয়াকে নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক একই দিনে তা অনুমোদন করে। ওই সভাটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যে। প্রথম আলোর এই প্রতিনিধি সেদিন র‍্যাডিসন ব্লু হোটেলে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হন। আরমাডা মূলত এস আলম গ্রুপেরই প্রতিষ্ঠান।

এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ধীরে ধীরে শেয়ার ছেড়ে দেয় ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি), দুবাই ইসলামী ব্যাংক, আল-রাজি গ্রুপ, কুয়েতের সরকারি ব্যাংক কুয়েত ফাইন্যান্স হাউস, সৌদি কোম্পানি আরবসাস ট্রাভেল অ্যান্ড টুরিস্ট এজেন্সিসহ বেশির ভাগ উদ্যোক্তা ও সাধারণ শেয়ারধারী প্রতিষ্ঠান। এ ছাড়া স্থানীয় জামায়াত–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ইবনে সিনা, ইসলামিক সেন্টারসহ অনেককে ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার ছেড়ে দিতে হয়। এস আলম গ্রুপ ব্যাংকটি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আগে বিদেশিদের শেয়ার ছিল ৫২ শতাংশের মতো, যা এখন ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

এস আলমের পকেটে কত টাকা

২০১৭ সালে এস আলম গ্রুপ যখন ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন এটিতে এস আলমের তিনটি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ ছিল তিন হাজার ছয় কোটি টাকা। চট্টগ্রামে ব্যাংকটির খাতুনগঞ্জ শাখার গ্রাহক ছিলেন তিনি। তখন ব্যাংকের মোট ঋণ ছিল ৬১ হাজার ৬৪১ কোটি টাকা আর আমানত ছিল ৬৮ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা। কর্মকর্তা ছিলেন ১০ হাজারের কম। নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আমানত বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন নতুন শাখা খুলে পটিয়ার লোকদের নিয়োগ দেওয়া শুরু হয়।

ফলে সারা দেশে ব্যাংকটির শাখা এখন ৩৯৫টি। এর বাইরে রয়েছে ২৫০টি উপশাখা। ২০২৩ সাল শেষে ইসলামী ব্যাংকে আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৫৬ কোটি টাকা ও ঋণ ১ লাখ ৬০ হাজার ২৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ আমানতের চেয়ে বেশি টাকা ঋণ হিসেবে বের করে দিয়েছে ব্যাংকটি। বাড়তি এই টাকা এসেছে মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে।

ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণমূলক মূলধন ১০ হাজার ৪১৪ কোটি টাকা। ফলে একটি গ্রুপকে ইসলামী ব্যাংক সর্বোচ্চ ফান্ডেড ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা ও নন–ফান্ডেড ঋণ ১ হাজার ৪২ কোটি টাকা ঋণ দিতে পারে। অর্থাৎ সব মিলিয়ে একটি গ্রুপ ঋণ পেতে পারে ২ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যাংকঋণের টাকা পাচার করতে তাই এস আলম গ্রুপ একাধিক গ্রুপ তৈরি করেছে, ভিন্ন ভিন্ন নামে প্রতিষ্ঠান খুলেছে।

প্রাপ্ত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এস আলম নাম যুক্ত আছে ইসলামী ব্যাংক থেকে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ঋণই ১৪ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আর সাইফুল আলমের মেয়ের স্বামী বেলাল আহমেদের ইউনিটেক্সের ঋণ ৪৫৪ কোটি টাকা। এর বাইরে এস আলম–সংশ্লিষ্ট ঋণের পরিমাণ ৩২ হাজার ১৭২ কোটি টাকা। এসব ঋণ ছড়িয়ে আছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও রাজধানীর বিভিন্ন শাখায়। এ ছাড়া রাজশাহীর নাবিল গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ঋণ ৩ হাজার ৫৪৫ কোটি টাকা।

নাবিল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘আমি সৎভাবে ব্যবসা করি। অন্য ব্যাংকে আমার ঋণে কোনো সমস্যা নেই। ইসলামী ব্যাংকের ঋণে আমার কোনো নিয়ন্ত্রণ ছিল না। তবে আমার নামে যেসব ঋণ আছে, আমি তা শোধ করে দেব। বছরে আমার ৩০ হাজার কোটি টাকার ভোগ্যপণ্য কেনাবেচা হয়। আমার গ্রুপে ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে।’

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আহসানুল আলম এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের ছেলে। ব্যাংকের সার্বিক বিষয়ে জানতে তাঁকে ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহাম্মদ মুনিরুল মওলাকে ফোন করা হলে তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ইসলামী ব্যাংকের একজন পরিচালক সৈয়দ আবু আসাদ  বলেন, ‘এখন ব্যাংকের কেউ ফোন ধরছেন না। আমি কিছু জানতেও পারছি না। আমি অনলাইনে সভায় অংশ নিই। মতামত আমি দিয়ে থাকি। সব সময় তা গ্রহণ হয়নি। ঋণ কে কত টাকা নিয়েছে, এ নিয়ে আমি কিছুই জানি না।’

ইসলামী ব্যাংকের ‘বৈষম্যবিরোধী ও ব্যাংকের স্বার্থ রক্ষাকারী ব্যাংকার সমাজের’ সমন্বয়ক আবু ওয়ালিদ চৌধুরী বিবৃতিতে গত সোমবার বলেন, ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে ৬৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নিয়েছে এস আলম গ্রুপ। ১০ হাজারের বেশি জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যাঁদের অনেকের যোগ্যতা নেই।

বিবৃতিতে বলা হয়, ব্যাংক থেকে এখনো নানাভাবে অর্থ বের করার চেষ্টা করে যাচ্ছে এস আলম গ্রুপ। পাশাপাশি গ্রুপ-সংশ্লিষ্ট ঋণের নথিপত্র সরানো ও তথ্য-উপাত্ত মুছে ফেলার চেষ্টা করে যাচ্ছেন কিছু কর্মকর্তা। সে কারণে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ দ্রুত ভেঙে দিয়ে নতুন পর্ষদ গঠন এবং এস আলমকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান আবু ওয়ালিদ চৌধুরী। পটিয়া এলাকার ব্যাংকারদের পাশাপাশি গতকালও ব্যাংকে যাননি ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনিরুল মওলা, অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক জে কিউ এম হাবিবুল্লাহ ও আলতাফ হুসাইন, উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আকিজ উদ্দিন, মিফতাহ উদ্দিনসহ এস আলমপন্থী হিসেবে পরিচিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তাঁদের বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন অন্য কর্মকর্তারা।

ব্যাংকটির শীর্ষ কর্মকর্তা ও বিভাগীয় প্রধানদের প্রায় সবাই চট্টগ্রাম অঞ্চল থেকে আসা কিংবা চট্টগ্রামের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বে ছিলেন। এমনকি সাইফুল আলম তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তাকেও ব্যাংকটির ডিএমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন।

এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন সাতটি ব্যাংকের চলতি হিসাবে টাকা না থাকার পরও সেগুলো কীভাবে চলছে তা জানতে চাইলে গত সপ্তাহে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র মেজবাউল হক সরাসরি কোনো জবাব দেননি। তিনি বলেন, এই সবকিছু এখন নির্ভর করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ওপর। তারা যে নির্দেশনা দেবে, সেভাবেই চলবে।

অর্থনীতিবিদ আহসান এইচ মনসুর বলেন, ব্যাংকটির মালিকানা পরিবর্তন করে অন্য কারও হাতে দিতে হবে। তবে কেউ এই ব্যাংক নিতে রাজি হবে কি না, সন্দেহ আছে। কারণ ব্যাংকটির সম্পদের প্রকৃত মূল্য ঋণাত্মক হয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে টাকা ছাপিয়ে ব্যাংকটিকে টিকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁকেও শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আলোচনা–পর্যালোচনা করে ইসলামী ব্যাংকের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাতে আমানতকারীদের আস্থায় চিড় না ধরে।

সূত্র: প্রথম আলো

Daily World News

ব্যবসায়ী আমজাদ নিকারীসহ ভোমরা সীমান্তে দুইজন আটক

চট্টগ্রাম কারাগারে বিদ্রোহ, ব্যাপক গোলাগুলি 

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদীরা বিদ্রোহ করেছেন বলে জানা গেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেটে ও ফাঁকা গুলি ছুড়েন কারারক্ষীরা। এতে কয়েকজন কয়েদি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায়নি। বর্তমানে কারাগারে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারাগারে অবস্থান করছে সেনাবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে, দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ কারাগারের ভেতরের সাঙ্গু ভবনের দেয়াল কুঁচিয়ে ইট বের করে কয়েদিরা। তারপর ইট গুলো গুড়ি করে কারারক্ষীদের দিকে ছুঁড়তে থাকে। সাঙ্গু ভবনের বর্তমানে ৯০০ কয়েদি অবস্থান করছেন। একই সময়ে সব ভবনে থাকা কয়েদিরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারা কতৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। তাৎক্ষণিক একদল সেনাবাহিনীর মাত্র ৫ জন সদস্য কারাগারে প্রবেশ করে চেষ্টা করেন পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে আনতে। এ সময় কারারক্ষীরা ১৫/২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েন। পরে সব কয়েদিদের মারধর করে স্ব স্ব ভবনের রুমে প্রবেশ করাতে সক্ষম হন তারা। কয়েদীরা সাঙ্গু ভবনসহ অনেক ভবনের রুমের লোহার গেইট ভাঙতে চেষ্টা করেন কয়েদিরা। এতে নড়েবড়ে হয়ে গেছে অনেক লোহার গেইট। সেনাসদস্য ও জেলা কারাগার কতৃপক্ষের ৩০ মিনিটের চেষ্টায় পরে শান্ত  হয় চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের পরিবেশ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গেটের দায়িত্বে থাকা আক্তার জানান, দুপুরে নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের একাধিক ভবনে কয়েদিরা বিদ্রোহ শুরু করেন। আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আমাদের কারারক্ষীদের সঙ্গে এখনো আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি। আমাদের অনেক কারারক্ষী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, জুমার নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের ভেতর থেকে বিকট আওয়াজ ও গোলাগুলির শব্দ আসে। এ সময় লালদীঘির চারপাশে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন জানান , জুমার নামাজের পরে কিছু কয়েদি বিদ্রোহ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় কারাগারে পাগলা ঘণ্টা বাজানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কতজন

আহত হয়েছেন তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারাগারের ভেতরে সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবসময় কারাগারে সেনাবাহিনী রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।

চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারাগারে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পৌঁছেছে। কোন বন্দি পালাতে পারেনি। কোন বহিরাগত কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে নি। এ ঘটনা কেন ঘটেছে সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।

কচুয়ায় তিন শিশুর যৌন নির্যাতনকারী আজহার মোল্লা আটক

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় তিন কন্যা শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে আজহার আলী মোল্লা(৭০)কে আটক করেছে থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে পিরোজপুর জেলার রাজারহাট এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। উপজেলার চর সোনাকুড় গ্রামে এঘটনা ঘটেছে।

মামলার সুত্রে ও আলম মোল্লা জানায়,গত ৩০ জুলাই সকালে তার কন্যা ২য় শ্রেনীর ছাত্রী ও তার কন্যার দুই বান্ধবিকে একই গ্রামের মৃত কাদের মোল্লার ছেলে আজহার আলী মোল্লা গাব খাওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে যৌন নির্যাতন করে এরপর তাদেরকে চকলেট খাওয়ার জন্য ১০টাকা ও ভয়ভিতি দিয়ে বলে কাউকে কিছু না জানাতে। এরপর দিন ৩১জুলাই আজহার আলী মোল্লাকে ভিক্টিম দেখে তার ফুফুকে বলে ওই লোকটা আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে। এতে ঘটনাটি জানাজানি হয়ে গেলে বৃহস্পতিবা আলম মোল্লা বাদী হয়ে মৃত কাদের মোল্লার ছেলে আজহার আলী মোল্লার বিরুদ্ধে কচুয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩) এর ১০ ধারায় মামলা দায়ের করে।

কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি)মোঃমহাসীন হোসেন জানান,যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলার রুজুর পর থেকে আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের একটিম থানা সহ আশপাশের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান করে পিরোজপুর জেলার রাজারহাট এলাকা থেকে রাত ১১টার দিকে আজহার আলী মোল্লাকে আটক করে। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। কচুয়া থানার মামলা নং-০১।

চট্টগ্রামে কিডনি চুরির অভিযোগে চিকিৎসক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

কিডনি চুরির অভিযোগে চিকিৎসক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন- আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্সের (সিইআইটিসি) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন, তার ছেলে ডা. রাজীব হোসেন ও স্ত্রী খালেদা বেগম। রোববার (১৪ জুলাই) মো. আবু বক্কর নামে ভুক্তভোগি এক ব্যক্তি চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জিনিয়ার আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা বলেন, ভুক্তভোগী আবু বক্কর সরল বিশ্বাসে অভিযুক্ত ডা. রবিউল হোসেনকে সহযোগিতার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। সেখানে কৌশলে তার ডান কিডনি চুরি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ডা. রাজীব হোসেনের অনুরোধে তার বাবা ডা. রবিউল হোসেনের চিকিৎসার জন্য রোগীর অ্যাটেনডেন্টস হিসেবে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যান অভিযোগকারী। ঐ বছরের ১০ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত তিনজনের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন। এ সময় ডা. রাজীব হোসেন জানান তার বাবার অবস্থা ভালো নয়, তাকে সুস্থ করতে কিছু টিস্যু দিতে হবে। টিস্যু নিতে গেলে ছোট একটি অপারেশন করাতে হবে। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে অপারেশনের জন্য রাজি হন। ৩ এপ্রিল মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেই অপারেশন সম্পন্ন হয়। ডা. রবিউল হোসেনের জীবন বাঁচানোর কৃতজ্ঞত স্বরূপ বাদীকে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভুক্তভোগী আবু বক্করকে শারীরিকভাবে অক্ষম দেখিয়ে সেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার দীর্ঘদিন পর বাদী শরীরে অসুস্থতা বোধ করতে থাকেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ মে চট্টগ্রামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষায় জানা যায়, সার্জারির মাধ্যমে বাদীর ডান কিডনি নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী মো. আবু বক্কর বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমি ডা. রবিউল হোসেন ও ডা. রাজীব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি। পরে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৩ জুন কথা বলতে তাদের স্টাফ কোয়ার্টারে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়।

মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত ডা. রাজীব হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মো. আবু বক্করের অভিযোগ, সর্বশেষ ১৩ জুন অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে পিতা-পুত্র দুইজনের মুঠোফোন তিনিও বন্ধ পাচ্ছেন।

Daily World News

ডুমুরিয়ায় ইউপি চেয়ারম‍্যান রবিউল ইসলাম হত‍্যার প্রতিবাদে বাজার কমিটির প্রতিবাদ সভা