বাগেরহাটে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস‍্য গ্রেফতার, ৩ টি  মোটরসাইকেল উদ্ধার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আন্ত:জেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে বাগেরহাট মডেল থানা পুলিশ।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) মোঃ রাসেলুর রহমান বৃহস্পতিবার (৩০ মে) ১২ টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাংবাদিকদের এ তথ‍্য নিশ্চিত করেন।

আটককৃতরা হলো, বাগেরহাট জেলার চিতলমারী উপজেলার আড়ুয়া বর্নী এলাকার নাসির মল্লিকের ছেলে রুবেল মল্লিক (৩৫), বারাশিয়া এলাকার বাদশা ধুনির ছেলে মো. জামাল ধুনী (২৬), আফজাল হোসেন শেখের ছেলে ওসিবুর রহমান শেখ (৩৯), চরবানিয়ারি এলাকার মৃত চেহার উদ্দিন তরফদারের ছেলে ওহাব আলী তরফদার (৪০), গোপালগঞ্জ জেলার হাতিকাটা এলাকার মৃত নিজাম মোল্লার ছেলে আরিফুল মোল্লা (২৭) ও গোবরা সোনাকুড় এলাকার নওয়াব আলী শেখের ছেলে শান্ত শেখ (২১)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও চুরির কাজে ব‍্যবহৃত কাটার মেশিন, গ্র্যান্ডিং মেশিন, মোটরসাইকেলের চাবি, সেলাই রেঞ্জ, স্ক্রু ড্রাইভার ও রং স্প্রের কৌটা উদ্ধার করে পুলিশ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে মোঃ রাসেলুর রহমান আরো বলেন, বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল সিসি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আন্ত:জেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করে।

আটককৃতদের বিরুদ্ধে বাগেরহাট সদর মডেল থানায় দুইটি চুরি মামলা দায়ের হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা চুরির সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

বাগেরহাটের কচুয়ায় মামাতো ভাই খুন ঘাতক, ফুফাতো ভাই আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলায় সম্পত্তির ভাগাভাগির দ্বন্দে  ফুফাতো ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে মশিউর রহমান (২৮) নামের মামাতো ভাই  নিহত হয়েছে।

বুধবার (২৯ মে) সকালে উপজেলার টেংরাখালীর হাজরাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এলাকার একটি বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

নিহত মশিউর রহমান উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের হাজরাপাড়া এলাকার প্রয়াত মাসুদ হাজরার ছেলে।

অভিযুক্ত দুজন হলেন মশিউরের ফুফাতো ভাই মো. সাব্বির (২৮) ও মো. বায়েজিদ (২০)।
তাঁদের বাড়িও একই এলাকায়।
এ ঘটনার পর পুলিশ ওই দুই ভাইকে আটক করেছে।

বাগেরহাট পুলিশ মিডিয়া শেলের কর্মকর্তা বাবুল আক্তার জানান, সম্পত্তর দ্বন্দ নিয়ে মামাতো ভাই ও ফুফাতো ভাইদের বিরোধে মামাতো ভাই খুন হয়েছে। ফুফাতো ভাইদের ছুরিকাঘাতে মশিউর আহত হয়। তাকে কচুয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে  নিয়ে গেলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মশিউর মারা গেছে। অভিযুক্তদের আটক করা হয়েছে।

বেনজীর আহমেদ ১১৪ একর জমি সহ আরও ১১৩টি দলিল, ৪ ফ্লাট ও ৩৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দের আদেশ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা আরও ১১৩টি দলিলের সম্পদ এবং গুলশানের চারটি ফ্ল্যাট জব্দ (ক্রোক) করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে বিভিন্ন কোম্পানিতে তাদের নামে থাকা শেয়ার অবরুদ্ধ করারও আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার ঢাকা মহানগর আদালতের সিনিয়র স্পেশাল জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন এ আদেশ দেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মাহমুদ হোসেন জাহাঙ্গীর গণমাধ্যমকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদের ৮৩টি দলিলের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরে তার আরও সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। সেই সব সম্পদ ক্রোকের আদেশ চেয়ে দুদক রোববার আদালতে আবেদন করে। শুনানি নিয়ে আদালত বেনজীর আহমেদের সম্পদ ক্রোকের আদেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মির্জা ও সন্তানদের নামে থাকা ৩৪৫ বিঘা (১১৪ একর) জমি জব্দ (ক্রোক) এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকে তাদের নামে থাকা ৩৩টি ব্যাংক হিসাব (অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার আদেশ দেওয়া হয়।

বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‍্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাব এবং র‍্যাবের সাবেক ও বর্তমান যে সাত কর্মকর্তার ওপর যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেয়, তাদের মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। তখন তিনি আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন।

১৭ বছর জাল সনদ দিয়ে পুলিশে চাকরি করল মামুন, কিভাবে….?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

জাল সনদে পুলিশে চাকরি নিয়ে বিভিন্ন জেলায় ১৭ বছর ৫ মাস ১৬ দিন চাকরি করেন পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আল মামুন। কনস্টেবল থেকে পদোন্নতি পেয়ে এএসআই হোন।

তবে জাল সনদে চাকরি নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হলে অক্ষম রোগী সেজে পুলিশের চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেন। এ সময় পুলিশ বিভাগ থেকে অবসরকালীন আর্থিক সব সুবিধা নিয়েছেন।

এদিকে নিজেকে অক্ষম ঘোষণা করে চাকরি থেকে স্বেচ্ছায় অবসার নিলেও এখন তিনি রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী। এক অনুসন্ধানের ফেরতপত্রে ১৯ মে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম ও তথ্য কর্মকর্তা এসএম গোলাম আজম নিশ্চিত করেন, ২০০১ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় এ নামের কোনো শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ও উত্তীর্ণের কোনো রেকর্ড নেই বোর্ডের সংরক্ষিত রেকর্ডপত্রে।

অথচ এ সনদ দেখিয়েই তিনি ২০০৩ সালে পুলিশ কনস্টেবল পদে চাকরি নিয়েছিলেন। এ পুলিশ কর্মকর্তা চাকরিকালে কামিয়েছেন বিপুল অর্থ। দেশের বিভিন্ন স্থানে গড়ে তুলেছেন বিপুল সম্পদ। তার বেপরোয়া চালচলনে অতিষ্ঠ এলাকার মানুষ। তবে সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ায় ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারেন না।

জানা গেছে, আল মামুনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউনিয়নের উমরপুরে। বাবা মফিজ উদ্দিন শ্যামপুর ইউপির ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি। আল মামুন এখন আওয়ামী লীগ করেন। ২১ মে অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান পদে টিয়া পাখি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন।

মামুন মনোনয়নপত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা ডিগ্রি পাশ উলে্লখ করেন। ৩০ এপ্রিল জনৈক মোহা. ওলিউল্লাহ রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগে দাবি করেন তার এসএসসির সনদ জাল। তবে রিটার্নিং অফিসার এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেননি।        আরও জানা গেছে, মামুন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ২০০৩ সালের ১৩ জুলাই পুলিশ কনস্টেবল পদে যোগ দেন। চাকরিতে যোগদানকালে তিনি গোদাগাড়ীর মহিষালবাড়ী আল ইসলাহ ইসলামী একাডেমি থেকে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০০১ সালের মাধ্যমিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণের সনদ প্রদর্শন করেন।

এদিকে ৬ মে এ প্রতিবেদককে আল ইসলাহ ইসলামী একাডেমির প্রধান শিক্ষক তারেক আহমেদ অনিক রেকর্ডপত্র যাচাই করে নিশ্চিত করেন ২০০১ সালে তার প্রতিষ্ঠান থেকে এ নামের কোনো শিক্ষার্থী মাধ্যমিক পরীক্ষায় নেয়নি। এ প্রশংসাপত্রটিও তারা দেননি।

এদিকে পুলিশ বিভাগের সার্ভিস রেকর্ড বিশে্লষণ করে দেখা গেছে, খুলনা পুলিশ লাইনে কনস্টেবল হিসাবে চাকরি জীবন শুরু করেন আল মামুন। এরপর ২০১৭ সালে কনস্টেবল থেকে এএসআই পদে পদোন্নতি লাভ করেন। বিভিন্ন জেলায় চাকরির পর ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর স্বেচ্ছায় অবসার নেন।  জানা গেছে, চাকরি জীবনে আল মামুন জাতিসংঘের সুদান মিশনে একবার দায়িত্ব পালন করেন।

শিবগঞ্জের শ্যামপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আসাদুজ্জামান ভোদন জানান, মামুনকে কখনো তারা পুলিশের পোশাকে দেখেননি। ১০ বছরের বেশি সময় তাকে নিজ এলাকা শিবগঞ্জে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় দেখা গেছে।

শিবগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মামুন নিজেকে পুলিশের একজন প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বডিগার্ড কাম পিএস পরিচয় দিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাজে নিয়মিত হস্তক্ষেপ করেন, বিশেষ করে পুলিশের কাজে। মোটরসাইকেলের সামনে পুলিশের স্টিকার লাগিয়ে মামুনকে শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রাউন্ড দিয়ে বেড়াতে দেখেছেন এলাকার মানুষ।

পুলিশের সংশি্লষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আল মামুন পোস্টিং হওয়া থানা ফাঁড়িতে কখনো সশরীরে চাকরি করেননি। বরং তার এলাকার ওই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা যেখানে বদলি হয়েছেন মামুন তার সঙ্গেই থেকেছেন।

সূত্র মতে, কোন থানায় কোন ওসি পোস্টিং যাবেন কাকে কোথায় বদলি করা হবে।১০ বছর মামুন এসবই করেছেন এবং চাকরিতে না থেকে এখনো সেই কাজ করছেন। ঢাকা রেঞ্জের পুলিশ কর্মকর্তারা থানা ফাঁড়িতে পোস্টিং নিতে এখনো মামুনেরই শরণাপন্ন হন।

জানা গেছে, নির্বাচনি হলফনামায় মামুন টিনশেড বাড়ির কথা বললেও গ্রামের বাড়ি উমরপুরে তৈরি পাকা বাড়ির কথা গোপন করেছেন। রাজশাহী মহানগরীর বহরমপুর এলাকায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর থাকা কয়েক কোটি টাকার বাড়ির তথ্যও চেপে গেছেন। মামুন এলাকায় কিনেছেন জমি ও বাগান। সোনামসজিদ বন্দর এলাকায় জমি কিনে করেছেন কয়লা ও পাথরের ইয়ার্ড। তিনি আমদানি-রপ্তানি লাইসেন্স করে ভারত থেকে পাথর আমদানি করেন। হলফনামায় তিনি বছরে ১২ লাখ টাকা আয় করেন বলে দাবি করেছেন। উত্তরা ব্যাংক থেকে ২৯ লাখ টাকা ঋণ থাকার কথা হলফনামায় উলে্লখ করেছেন। আয়ের উত্স দেখিয়েছেন ব্যবসা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. আল মামুন বলেন, তার এসএসসির সনদ জাল নয়। তিনি আল ইসলাহ ইসলামী একাডেমি থেকে এসএসসি পাশ করেছেন। পরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রি  করেন। পুলিশে চাকরি করতে অক্ষম ঘোষণা করে স্বেচ্ছা অবসর ও অবসরকালীন সুবিধা নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই সময় আমি মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ি।

এ কারণে স্বেচ্ছায় অবসর নিয়েছি। হলফনামায় রাজশাহীর বাড়ির কথা গোপন করা প্রসঙ্গে মামুনের দাবি, রাজশাহীতে তার বাড়ি নেই। তিনি সম্প্রতি উপজেলা নির্বাচন করেছেন। তাই প্রতিপক্ষরা তার বিরুদ্ধে এসব রটাচ্ছেন। তিনি অবৈধভাবে কোনো উপার্জন করেননি। সত্র: যুগান্তর

Daily World News

ফকিরহাটে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা || মুসাল্লিদের বেদম-মারপিট- রক্তাক্ত- জখমের ঘটনায় মামলা

ফকিরহাটে নির্বাচন পরবর্তি সহিংসতা || মুসাল্লিদের বেদম-মারপিট- রক্তাক্ত- জখমের ঘটনায় মামলা

//এম মুরশীদ আলী//

বাগেরহাট জেলায় দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন গত ২১ মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ নির্বাচনে প্রার্থীর পক্ষপাত সমর্থক থাকার অপরাধের জেরধরে ভোট গ্রহন পরবর্তী সময় গত ২৪ মে, মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লিদের পিছ থেকে অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে সন্ত্রাসী একটি দল। তাতে কয়েকজন নামাজরত মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখম হয়। এ ঘটনায় জড়িত ১০/১২ জন সহ অজ্ঞাত কয়েকজনের নামে ফকিরহাট থানায় মামলা হয়েছে।

এজাহার ও ভুক্তভোগী মুসল্লিরা জানায়, স্বপন দাস বিগত আমলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি পুনরায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহন করেছেন। তাঁর (আনারস) প্রতীকের পক্ষে নির্বাচনী কাজ করার অপরাধে তাদের জিততে নাকি অনেক কষ্ট হয়েছে। এই কষ্টের প্রতিশোধ নিতে সন্ত্রাসবাহিনী দ্বারা এহেন জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে ত্রাস সৃস্টির মাধ্যমে জিম্মি করে রাখতে আমাদের উপর হামলা। আমরা সাধারণ মানুষ মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকায় মৌভোগ বাগে জান্নাত জামে মসজিদে জুমার নামাজ আদায়রত মুসাল্লি ছিলাম। এ সময় সন্ত্রাসী একটি দল অতর্কিত হঠাৎ হামলা বেদম-মারপিট শুরু করে দেয়। তাতে কয়েকজন মুসাল্লি মারাত্মক রক্তাক্ত জখমের শিকার হয়। তারা হলেন- কাঞ্চন শিকদারের ছেলে মো. মিরাজুল শিকদার (২৫), নুরুজ্জামান ময়নার ছেলে ফজলে করিম শিকদার (২৮), মৃত আবু বক্কার শিকদারের ছেলে নুরুজ্জামান ময়না (৬৫)। এদের প্রত্যেকের মুখে ও মাথা কাটা-ফোলা রক্তাক্ত অবস্থায় ফকিরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। ডাক্তার তাৎক্ষনিক সময়িক চিকিৎসা শেষে গুরুতর আহতদের দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন।

এ ঘটনার আসামিরা হলেন- ফকিরহাট উপজেলার নলধা- মৌভোগ ইউনিয়নের মৌভোগ পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত নিয়ামত শিকদারের ছেলেরা যথাক্রমে- ১। মো. ইব্রাহিম শিকদার, ২। মো. হযরত শিকদার, ৩। মো. আফসার সিকদার, ৪। মো. টুকু শিকদার, ৫। মো. কওসার শিকদার, ৬। মো. আবিদ শেখ, ৭। মো. শাকিল সিকদার, ৮। ইমদাদুল সিকদার, ৯। মো. আমিনুর ইসলাম (বড় মিঞা), ১০। হোসেন শেখ, ১১। নুর ইসলাম শেখ, ১২। মো. মুনসুর শিকদার। তারা এ জঘন্য ঘটনা ঘটিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে মো. কাঞ্চন শিকদার বাদী হয়ে ফকিরহাট মডেল থানায় গত ২৪ মে মামলা দায়ের করেন।

ওয়ার্ড মেম্বর শেখ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন- মুসলিমরা জুমার নামাজ আদায় করছে, এমন সময় মনে হচ্ছে ইহুদিরা হামলা করে সব তছনছ করে দিলো। পিছ থেকে মাথায় পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম হয়ে মসজিদে লুটিয়ে পড়লো একের পর এক। কিছু বুঝে উঠার আগেই নিমিষে রক্তাক্ত করে যাওয়ার সময় বলে এটানাকি নির্বাচনী বিরোধী করার প্রতিফল। এলাকার মানুষ ভয়ে দিন কাটাচ্ছে।

ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রশিদ মুক্তি বলেন- নির্বাচন শেষ হতে না হতেই এই নলধা মৌভোগ ইউনিয়নে চোরা গুপ্ত হামলা শুরু হয়েছে। একটি মন্দিরে অগ্নিসংযোগ এবং শুক্রবার জুমার নামাজ পড়ার মূহুর্তে অর্তকৃত মারপিট করে মারাত্মক জখম করে। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। আমি উভয়কে শান্ত থাকতে বলেছি।

এ ব্যাপারে ফকিরহাট মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক, ভারপ্রাপ্ত ওসি বিপুল চন্দ্র দাস বলেন- জুমার নামাজের সময় মসজিদে যারা এহেন জঘন্য ঘটনার অপরাধী, তারা যেই হোক, কোনপ্রকার ছাড় পাবে না। আমরা পুলিশ বাহিনী সব সময় অপরাধিকে অপরাধের দৃষ্টিতে দেখি বলেই আজ ঘটনার পরপরই আমরা একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। বাকি দুষ্কৃত আসামিদের অতি দ্রুত আটক পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মোংলা থানার ওসির অপসারনের দাবীতে বাগেরহাটে মানববন্ধন

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের মোংলায় ধর্ষণ চেষ্টা, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা না নিয়ে উল্টো ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করার অভিযোগ তুলে মোংলা থানার ওসির অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্ধারা।

শুক্রবার (২৪ মে) সকালে বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সামনে ভুক্তভোগী মোংলা উপজেলাবাসীর ব্যানারে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

এ সময় ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার, নাসিমা বেগমসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে ভূক্তভোগীরা বলেন, ন্যায় বিচারের জন্য মানুষ পুলিশের কাছে যায়। কিন্তু ধর্ষণ চেষ্টা, হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় মামলা না নিয়ে মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম দুর্বৃত্তদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে ভুক্তভোগীদের। ফলে মোংলার ২১টি পরিবার অসহায় জীবনযাপন করছে।

মোংলা থানার ওসি কেএম আজিজুল ইসলাম নানা অনিয়ম, দুর্নীতির সাথে জড়িত বলে অভিযোগ করে তার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বক্তারা।

এ বিষয়ে মোংলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কেএম আজিজুল ইসলাম বলেন, আমি ঐ সময় তাদেরকে মামলা দেওয়ার জন‍্য থানায় আসতে বললেও তারা আসেনি। এছাড়া মানববন্ধনে আমার বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগের কথা বলা হয়েছে তা সম্পূর্ন মিথ‍্যা।

 শাহীন অপরাধ রাজ্যের অধরা সম্রাট এবং এমপি আনার হত্যার মাস্টারমাইন্ড

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার খুনের মাস্টারমাইন্ড হিসাবে তারই বাল্যবন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার আক্তারুজ্জামান শাহীনের নাম উঠে এসেছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান সেলিমের ভাই শাহীন যুক্তরাষ্ট্রের পাসপোর্টধারী।

তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও মাঝে মাঝেই আসতেন এলাকায়। তার ছিল ব্যাপক ক্ষমতার দাপট। ভাইকে কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র পদে বিজয়ী করার নেপথ্যে শাহীনের কালো টাকা ও অবৈধ ক্ষমতার প্রয়োগ ছিল। ভাই মেয়র হলেও শাহীনের ইশারায় চলত কোটচাঁদপুর পৌরসভা।

উপজেলার এলাঙ্গী গ্রামে তিনি গড়ে তোলেন বিলাসবহুল বিশাল বাগানবাড়ি। যেখানে যাতায়াত ছিল শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তাদের। এখানে বসেই শাহীন চালাতেন আন্ডারওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম। এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে শাহীনের নাম উঠে আসায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বেরিয়ে আসছে নানা চাঞ্চল্যকর তথ্য।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, সংসদ-সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী তার বাল্যবন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার শাহীন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হলেও দেশে যাতায়াত ছিল নিয়মিত। দুই যুগের বেশি সময় ধরে অবৈধ হুন্ডি ও স্বর্ণ চোরাচালানে আক্তারুজ্জামান শাহীন ও আনোয়ারুল আজিম আনারের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে।

সম্প্রতি তাদের মধ্যে অবৈধ স্বর্ণ চোরাচালানের টাকা ভাগাভাগি নিয়ে দ্বন্দ্ব হয়। সেই দ্বন্দ্বের জেরে বেয়াই আমানুল্লাহ সাঈদ ওরফে শিমুল ভুঁইয়াকে নিয়ে শাহীন কলকাতায় এমপি আনারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। তাদের পাতা ফাঁদে পা দিয়েই ভারতে যান আনার। আন্ডারওয়ার্ল্ডের সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন শাহীন ও আমানুল্লাহ।

কলকাতার ব্যারাকপুরের যে ফ্ল্যাটে আনারকে হত্যা করা হয়, সেটি শাহীনের নামেই ভাড়া নেওয়া ছিল। মিশন সফল করার পর শাহীন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশে ফিরে গ্রেফতার হয়েছেন তার বেয়াই ও চরমপন্থি নেতা খুলনার ফুলতলা এলাকার আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভুঁইয়া।

এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহীনরা তিন ভাই ও দুই বোন। মেজো ভাই প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রে যান। এরপর শাহীনকে নিয়ে যান। সেখানকার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর অপরাধ জগতে প্রবেশ করেন শাহীন। যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও নিয়মিত দেশে আসতেন। জড়িয়ে পড়েন চোরাচালানে। অবৈধ এ ব্যবসায় বাংলাদেশ ও ভারতে গড়ে তোলেন সাম্রাজ্য।

শাহীন কোটচাঁদপুরের এলাঙ্গী গ্রামের বাড়িতে ২৫ বিঘা জমির ওপর গড়েছেন বিশাল বাগানবাড়ি। এই বাড়িতে রয়েছে মিনি গলফ মাঠ, সুইমিংপুল, ৩টি শেফার্ড জাতের কুকুর, ৭টি গাভি, ১০-১২টি ছাগল। এই বাগান বাড়িতে রয়েছে প্রাচীন বাড়ির নকশায় ইট-পাথরে নির্মিত ডুপ্লেক্স ভবন। বাড়ির চারপাশ কাঁটাতার দিয়ে ঘেরা। সেখানে যাতায়াত ছিল উচ্চপদস্থ রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। শাহীন তার অতিথিদের মনোরঞ্জনের জন্য রেখেছিলেন বিলাসবহুল ব্যবস্থা।

রাতের বেলায় কাঁটাতারের চারপাশে আলো জ্বলে। ভেতরে কী হয় স্থানীয়রা কেউ জানতে পারে না। রাতে বড় বড় গাড়ি আসত। সেই গাড়িতে নারীদেরও দেখেছেন অনেকে। দেশে এলে শাহীন এই বাগানবাড়িতে বসেই নিয়ন্ত্রণ করতেন তার আন্ডারওয়ার্ল্ড।

এলাঙ্গী গ্রামের মোজাফফর নামের এক ব্যক্তি বলেন, দিনের বেলা বেশি গাড়ি ওই বাংলোতে প্রবেশ করে না। রাত ১০টার পর দামি দামি গাড়ি প্রবেশ করে। অনেক গাড়িতে তিনি নারী থাকতে দেখেছেন। ভেতরে হাঁটাহাঁটি করতেও দেখেছেন।

এমপি আনারের এক বাল্যবন্ধু গোলাম রসুল বলেন, আনার ও শাহীনের মধ্যে প্রায় ৩০ বছরের সম্পর্ক। তাকে নিয়ে এমপি আনার দুবার এই বাংলোতে গিয়েছেন বলে তিনি জানান।

এদিকে, শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য থাকায় কেউ শাহীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার সাহস পায়নি। কোটচাঁদপুর থানায় তার নামে নেই কোনো মামলা।

এ বিষয়ে কোটচাঁদপুর থানার ওসি সৈয়দ আল মামুন বলেন, আক্তারুজ্জামান শাহীন আমেরিকার পাসপোর্টধারী। তিনি এলাকায় খুবই কম আসতেন। তার বিরুদ্ধে কোটচাঁদপুর থানায় কোনো মামলা নেই।

স্থানীয়রা জানান, গত ১৫ বছরে অগাধ সম্পদের মালিক বনে যান শাহীন। এলাকায় গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। কোটচাঁদপুর শহরে একাধিক মার্কেট, বাড়ি ও রিসোর্ট তৈরি করেছেন। তার বৈধ আয়ের উৎস সম্পর্কে এলাকাবাসী অন্ধকারে। তাদের ধারণা স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানের মাধ্যমে বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন শাহীন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ক্ষমতার দাপট ছিল প্রচণ্ড। প্রচুর অবৈধ টাকা উড়িয়েছেন নিজের ক্ষমতার দাপট ধরে রাখতে। সর্বশেষ পৌরসভা নির্বাচনে আপন ভাইকে মেয়র পদে বসাতে ক্ষমতার দাপট ও কালো টাকার যথেচ্ছ ব্যবহার করেছেন।

শহিদুজ্জামান সেলিম মেয়র পদে বসলেও নেপথ্যের ক্রীড়নক ছিলেন শাহীন। কোটচাঁদপুর এলাকায় গড়ে তুলেছেন নিজস্ব বাহিনী। এই বাহিনীর সদস্যরা কোটচাঁদপুরে হাটবাজার ও মার্কেট দখল, মোড়ে মোড়ে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিল। শাহীনের ক্ষমতার দাপটের কাছে তটস্থ ছিলেন এলাকাবাসী। তার অত্যাচারের প্রতিবাদ করার সাহস পাননি কেউ। হত্যা, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও স্বর্ণ চোরাচালানের নেপথ্যের কারিগর হলেও সব সময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যান শাহীন।

রাজনীতির ময়দানে ভাই সেলিমকে সামনে রেখেছেন। আর নেপথ্যে থেকে চালিয়ে গেছেন নিজস্ব সাম্রাজ্য। অপরাধ জগতের দাপটশালী এই ব্যক্তি সব সময় থেকে গেছেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। আনোয়ারুল আজিম হত্যাকাণ্ডে শাহীনের সম্পৃক্ততার খবরের পর মুখ খুলতে শুরু করেছেন নির্যাতিত অনেকেই। তবে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না শাহীনের আত্মীয়স্বজনরা।

এ বিষয়ে শাহীনের ভাই কোটচাঁদপুর পৌরসভার মেয়র শহিদুজ্জামান সেলিম সাংবাদিকদের বলেন, পত্রপত্রিকা ও টিভি মিডিয়ায় দেখছি এমপি আনার হত্যাকাণ্ডে আমার ভাই শাহীন জড়িত বলে তথ্য উঠে এসেছে। এটা তদন্ত হোক। তদন্তে যদি তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ মেলে তবে শাস্তি হবে। আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই শাহীন এই কাজে জড়িত। তদন্তে সত্যতা মিললে অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

তিনি আরও জানান, ছোট ভাই শাহীন আমেরিকায় থাকেন। গত রমজানে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তিনি ব্যবসায়ী। সংসদ-সদস্য আনার ও তার পরিবারের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। ছোটবেলা থেকে তারা খেলাধুলা করেছেন একসঙ্গে। কোনো ধরনের বিরোধ ছিল এরকম কিছু জানেন না। সূত্রঃ যুগান্তর

আমতলিতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এলাকা ছাড়ার হুমকি!

রূপসা রিপোর্টার্স ক্লাবের মাসিক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

Daily World News

আমতলিতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এলাকা ছাড়ার হুমকি!

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের এক গৃহবধূকে পার্শ্ববর্তী গ্রামের মনির ফকির (৪৫) এর কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ঐ নারীর পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আমতলী উপজেলার কুকুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কুকুয়া গ্রামের জুয়েল মিস্ত্রি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন।বাড়িতে স্ত্রী এবং দুই ছেলে সন্তান নিয়ে বসবাস করেন।স্বামী না থাকার সুযোগে পার্শ্ববর্তী পূর্ব চুনাখালী গ্রামের মনির ফকির (৪৫) পিতা -আকব্বর ফকির দীর্ঘদিন ধরে ওই নারীকে বিভিন্নভাবে অনৈতিক সম্পর্কের জন্য কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছে। তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়  পরিবারকে ভয়-ভীতি হুমকি ও দিতেছিল। ভয় আর আতংকে দুই সন্তান নিয়ে নিজের ঘরেও থাকতে পারছে না ঐ নারী।

ভুক্তভোগী গৃহবধূ মরিয়ম (ছদ্ধ নাম) বলেন,মনির ফকির আমার উপর অনেক অত্যাচার করতে আছে তার কথা আমি মানি নাই তারপর অনেক ধমকি দেহাইতেছে তোমার ভাইরে মাইরালাম তোমার পোলাপান মাইরালামু।ওর জালায় নিজের ঘরেও থাকতে পারিনা দুই পোলা লইয়া এহন মানসের বাড়ি থাহি।আমি এইয়ার বিচার চাই।

 

গৃহবধূর ভাই জাহাঙ্গীর সরদার বলেন,আমার বুইন জামাই ঢাকা থাহে। বুইনে দুই পোলা লইয়া বাড়ি থাহে।মনির ফকির আমার বুইনেরে দাবায় দমকায়। ওর জালায় আমি বুইনেরে একবার ঢাকাও পাঠাইছি। বাড়িতে আইয়া ও থাকতে পারেনা ভয় ভীতি দেহায়।আমি এর বিচার চাই।

ভুক্তভোগী নারীর স্বামী জুয়েল মিস্ত্রি বলেন,আমার বউ বাড়িতে থাকে দুই পোলা লইয়া। আমি ঢাকায় গার্মেন্টসে চাকরি করি।মনির ফকির আমার পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে কু- প্রস্তাব দেয় তাতে রাজি না হলে  ভয়ভীতি দেখায়। আমি একবার ঢাকা নিয়েও রাখছি বাড়ি আইসা থাকতে পারে না। মনির ফকিরের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমি তার বিচার চাই।

অভিযুক্ত মনির ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি যদি দোষী হইয়া থাকি কেউ প্রমাণ দিতে পারে দেশের আইনে যা বিচার হয় আমি মাথা পাইত্তা নিমু।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী শাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,এ বিষয়ে কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

৭ লাখ ইয়াবা সরকারি পাজেরোতে পাচারকালে গ্রেফতার ৪

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

সড়ক ও জনপদ বিভাগের লোগো লাগানো বিলাস বহুল (এসইউভি) পাজেরো গাড়িতে ইয়াবা নিয়ে টেকনাফ হয়ে মেরিন ড্রাইভ পার করার পরিকল্পনা ভন্ডুল করে দিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব। মাদক পাচারকালে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের মেরিন ড্রাইভের পাটুয়ারটেক এলাকা থেকে গাড়িটি আটক এবং চারজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। জব্দ করা হয়েছে সাত লাখ ইয়াবা।

র‌্যাব জানায়,  সোমবার (২০ মে) দিনগত রাতে ওই গাড়িতে করে ইয়াবা পাচারের চেস্টা করছিলো মাদক কারবারীরা। খবর পেয়ে অভিযান চালায় র‌্যাব । পরে গাড়ি তল্লাশী করে ইয়াবা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তার করা হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তালিকাভুক্ত আত্মসমর্পণ করা ইয়াবা কারবারি আবদুল আমিন (৪০) । তার সহযোগী- টেকনাফ সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আবু সৈয়দ এর ছেলে মো. আবদুল্লাহ (৩৫), তার ভগ্নিপতি নুরুল আবসার (২৮) ও জাফর আলম (২৬) কে।

সোমবার (২০ মে) দুপুরে কক্সবাজারের র‍্যাব-১৫ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপঅধিনায়ক মেজর শরিফুল আহসান।

তিনি বলেন, গ্রেফতার আব্দুল্লাহর বাবা আবু সৈয়দের মালিকানাধীন বিলাসবহুল গাড়িটিতে সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর এর লোগো লাগানো ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে তারা ইয়াবা পাচারে ওই গাড়ি ব্যবহার করে।

প্রাথমিকভাবে র‌্যাব ধারণা করছে, মিয়ানমার থেকে ইয়াবাগুলো বাংলাদেশ সরবরাহ করছিল মিয়ানমারের বাসিন্দা রোহিঙ্গা সিরাজ। এই সিরাজের মাধ্যমেই বেশীর ভাগ ইয়াবা টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে নিয়ে আসে মাদক চোরাচালানীরা।

রামপালে গাঁজাসহ চিহ্নিত এক কারবারি গ্রেফতার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপাল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে আইয়ুব আলী (৪১) নামের এক জন মাদক কারবারি কে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃত মাদক কারবারি কে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরন করা হয়েছে।

আটক আইয়ুব আলী (৪১) উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত মমিন উদ্দীনের ছেলে।

রামপাল থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়,  শনিবার (১৮মে ) মাদক,অস্ত্র,জুয়া বিরোধী অভিযান পরিচালনা কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ জনাব সোমেন দাশ এর তত্বাবধানে এস আই মো: ইসমাইল হোসেন এর নেতৃত্বে সংগীয় ফোর্স সহ রামপাল উপজেলার  মানিকনগর এলাকায় রাস্তার উপর থেকে আইয়ুব আলী কে ৫৫ (পঞ্চান্ন) গ্রাম গাঁজা সহ আটক করা হয়।

এ বিষয়ে রামপাল থানার অফিসার ইনচার্জ সোমেন দাস এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মামলা রুজু করে আটককৃত মাদক কারবারি কে বাগেরহাট বিজ্ঞআদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।