জাতীয় কন্যা শিশু দিবসে রূপসায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

//এম মুরশীদ আলী//

“বিনিয়োগে অগ্রাধিকার, কন্যা শিশুর অধিকার”। এ প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে জাতীয় কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অফিসের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা গত ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১১ টায় উপজেলা সদর মডেল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

কন্যা শিশু দিবসে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাসি রানী রায় এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন ইসলামী রিলিফ বাংলাদেশ জেলা সিনিয়র প্রজেক্ট অফিসার মো. জাকারিয়া, রূপসা থানা এ এস আই লিপি খানম, প্রেসক্লাব রূপসা সভাপতি রাজু আহম্মেদ খান শহিদ, রূপসা উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ : রাজ্জাক শেখ, সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সম্পাদিকা মাধুরী সরকার।

নৈহাটী কিশোর-কিশোরী ক্লাবের আবৃতি শিক্ষিকা সায়মা ফেরদৌসি’র পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক এম মুরশীদ আলী, আ: মজিদ শেখ, গোলাম হোসেন ডালিম সহ বিভিন্ন কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিক্ষকগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ছোট শিশুরা একক সঙ্গিত, কবিতা আবৃতি, দলীয় সঙ্গিত পরিবেশন করে।

ডুমুরিয়ায় জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৩ উদযাপন র‍্যালী ও আলোচনা সভা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

সেবা ও উন্নতির দক্ষ রুপকার উন্নযনে উদ্ভাবনে স্থানীয় সরকার  ও জাতীয় স্থানীয় সরকার দিবস ২০২৩ উদযাপন উপলক্ষে গতকাল সোমবার সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের উদ‍্যেগে স্বাধীনতা চত্বরে এক আলোচনা সভা ও র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব‍্য দেন সাবেক মন্ত্রী  নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি, প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব‍্য দেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ, বক্তব‍্য দেন উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, ভাইস  চেয়ারম্যান শারমিনা পারভীন রুমা, ইউপি চেয়ারম‍্যান গোপাল চন্দ দে, গাজী হুমাউন কবির বুলু, গাজী তৌহিদুল ইসলাম, শেখ দিদারুল ইসলাম, সুরজিৎ বৈধ‍্য, মনোজ বালা, এম জহুরুল হক। বীরমুক্তিযোদ্ধা চন্দ্র কান্ত তরফদার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আরশাফ হোসেন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস, যুব উন্নযন কর্মকর্তা শেখ কামরুজ্জামান, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রিনা রানী মজুমদার, সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউপি সচিব এবং সাধারন জনগন উপস্থিত ছিলেন।

 

সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩ পাশ, কি আছে এ বিলে…

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও তল্লাশি এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করলে সেটাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সাজার বিধান রেখে ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। বিরোধী দলের বিরোধিতার মুখেই পাশ হলো বহুল আলোচিত এই বিলটি।

বুধবার সংসদ অধিবেশনে তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বিলটি পাশের জন্য উত্থাপন করেন। বিলের ওপর আনা বিরোধী সদস্যদের জনমত যাচাই-বাছাই কমিটিতে প্রেরণ এবং সংশোধনী প্রস্তাবগুলো নিষ্পত্তি শেষে বিলটি কণ্ঠভোটে পাশ হয়।

বিলের বিভিন্ন ধারার সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় সদস্যরা বলেন, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্বাধীন গণমাধ্যমের স্বীকৃতি সংবিধানেই দেওয়া হয়েছে। অথচ এই বিলের বিভিন্ন ধারায় সংবিধান স্বীকৃত এসব অধিকার খর্ব করার ব্যবস্থা পাকাপোক্ত করা হয়েছে। বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার ও তল্লাশির বিধান সংশোধনের দাবি জানান একাধিক সংসদ সদস্য।

এসব সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, চিন্তা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংবিধান স্বীকৃত হলেও অবারিত নয়। স্বাধীনতা মানে কিন্তু অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ণ করা নয়। আপনার স্বাধীনতা মানে যা ইচ্ছে তা বলা নয়। অন্যকে অসম্মান করা নয়। নারীকে অশ্লীল কথা বলা নয়। এসব বিষয় নিশ্চিতকরণের কোনো বিকল্প নেই।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আইনটির প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিরোধী সদস্যরা একমত পোষণ করছেন। স্বচ্ছতা, জবাবহিদিতা ও নিরাপদ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সাইবার নিরাপত্তা আইনের বিকল্প নেই।

দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে গত ৭ আগস্ট সরকার জানায়, তারা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে ‘রূপান্তর’ এবং ‘আধুনিকায়ন’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যার নাম হবে ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’। যেখানে বিদ্যমান আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধন করা হবে।

গত ২৮ আগস্ট মন্ত্রিসভা ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন’-এর চূড়ান্ত খসড়া অনুমোদন করে।

এরপর গত ৫ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। এরপর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য পাঁচ দিন সময় বেঁধে দিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির কাছে সেটি পাঠানো হয়।

ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী উদ‍্যেগে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব. বিশেষ প্রতিনিধি//

সাবেক মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি বলেছেন বাঙ্গালীর মুক্তি ও স্বাধীনতা প্রশ্নে জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আপোসহীন। এদেশের মানুষের মুক্তির জন্য নিজের জীবনকে বার বার মৃত্যুর মুখে ঢেলে দিয়েছেন। তিনি অন্যায়ের সঙ্গে কোন আপষ করেননি। সারাটি জীবন মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই সংগ্রাম করছেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হয়েছে।

এটা স্বাধীনতা বিরোধী পাকিস্তানি চক্র মেনে নিতে পারেনি। তাই দেশ বিরোধী চক্রান্তকারীরা ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট কাল রাতে শেখ মুজিবুর রহমান ও সহধমির্নী সহ পরিবারের সদস্যদের নৃশংসভাবে হত্যা করে। তবে তারা সফল হতে পারেনি তারই যোগ্য উত্তরসুরী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্টিয় ক্ষমতায় এসে দেশকে একটি উন্নত মর্যদায় নিয়ে গেছে। বিশ্ব পরিমন্ডলে বাংলাদেশ আজ মড়েল। দেশের আগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আবারও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে হবে।

২৮ আগস্ট সোমবার বিকেলে ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ কর্তৃক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের আলোচন সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তৃতায় এ কথা বলেন। গুটুদিয়া অক্রুর চন্দ্র গোলদার বান্ধব মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত এ শোক সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহবায়ক কাজী আব্দুল মজিদ। সদস্য সচিব সরদার মাসুদ রানা পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ্যাড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল ও আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল খোকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহনাওয়াজ হোসেন জোয়ার্দ্দার, অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা আবু সাইদ সরদার, এমএম সুলতান আহম্মেদ, প্রভাষক জিএম ফারুক হোসেন, খান আবু বক্কার, মহিলা আওয়ামীলীগের তহমিনা বেগম, যুবলীগের প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ, কৃষক লীগের অরিন্দম মল্লিক, মঞ্জুর মোড়ল, সুকৃতি মন্ডল, কাজী মেহেদী হাসান রাজা, নুরুল ইসলাম হালদার, মফিজ সানা, রীনা পারভীন, দিলিপ কুমার মন্ডল,শিশির ফৌজদার, ইউপি সদস্য ইউপি সদস্য ইজ্জাত আলী মোড়ল মেহেদী হাসান মিন্টু, শিমু আক্তার, ছাত্রলীগের খান আবুল বাশার,ুলিটন রায় প্রমুখ। সভা শেষে দোয়া মাহফিল ও উপস্থিতিদের মাঝে তাবারক বিতরণ করা হয়।

ডুমুরিয়ার শোভনায় যুবলীগের জাতীয় শোক দিবস পালিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়া  শোভনা ইউনিয়ন যুবলীগ এর উদ্যোগে ২৮ আগস্ট সোমবার বিকেলে  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর  রহমানের ৪৮ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ও একুশে আগস্ট সকল শহীদদের উদ্দেশ্যেএক  শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

শোভনা ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক বিকাশ মন্ডলের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি’র বক্তব‍্য দেন কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস‍্য ইন্জিনিয়ার মৃণাল কান্তি জোদ্দার।প্রধান বক্তার বক্তব‍্য দেন জেলা যুবলীগের সভাপতি  চৌধুরী রায়হান ফরিদ,  বিশেষ অতিথি’র বক্তব‍্য দেন জেলা যুবলীগের সারারন সম্পাদক ইন্জিনিয়ার মাহফুজুর রহমান সোহাগ, এডভোকেট আশরাফুল আলম রাজু । রাজিউল বারী সৈকত এর সঞ্চালনায় আরো বক্তব‍্য দেন আওয়ামী লীগ নেতা সরদার আবদুল গনি এম এম হুমাউন কবির কৃষকলীগ নেতা জাহাবুর রহমান, ছাত্রলীগ  নেতা  শেখ মাসুদ রানা,  জেলা ছাত্রলীগ ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক ,মুশফিকুর রহমান জেলা যুবলীগ নেতা  জলিল তালুকদার ও হারুনর রশিদ প্রমুখ ।

 

বাগেরহাটের কচুয়ায় বঙ্গবন্ধু ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত

//বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট//

যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যর মধ্য দিয়ে কচুয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা চত্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করেন উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রাশাসন,কচুয়া থানা, উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, উপজেলা আওয়ামীলী ও অঙ্গ সংগঠন, কচুয়া প্রেসক্লাব, ফায়ার সার্ভিস, ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল কলেজ সহ বিভিন্ন সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান।

এরপর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেখ তন্ময় অডিটরিয়মে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও মহান কীর্তি সম্পর্কে আলোচনা সভা  উপস্তিত ছিলেন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমা সরোয়ার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) এম সাইফুল্লা, উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শিকদার ফিরোজ আজম্মেদ, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তাসলিমা বেগম, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম,যুগ্ন সাধারন সম্পাদক কামরুল ইসলাম কচি,সদর ইউপি চেয়ারম্যান শিকদার হাদিউজ্জামান হাদিস সহ বিভিন্ন অফিরে কর্মচারী ও কর্মকর্তা বৃন্দ।এর  আগে একটি শোক র্যালী উপজেলা বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে।

ডুমুরিয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন কর্মসূচি মধ‍্যে দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনার ডুমুরিয়ায় জাতিয় শোক দিবস উপলক্ষে  ১৫ আগস্ট মঙ্গলবার উপজেলা  প্রশাসন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ উপজেলা শাখার উদ্যোগে  বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে দিবসটি পালিত হয়েছে।

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৮ তম শাহাদাত বার্ষিকী ও ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট নিহত বঙ্গবন্ধু পরিবারের সকল  শহীদের রুহের মাগফেরাত কামনায় ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সকল সহযোগী সংগঠন এর উদ্যেগে সকালে দলীয় কার্যালয়ে জাতিয় শোক ও পতাকা উত্তোলন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পন এবং দুপুরে গনভোজ, বিকেলে  আলোচনা সভা দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা আওয়ামী  লীগের সহ সভাপতি আলহাজ্ব মোস্তফা কামাল খোকনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব্য দেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি।

আরো  বক্তব্য দেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এ‍্যাড. রবীন্দ্রনাথ মন্ডল,সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আবু সালেহ, সাংষ্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মোকলেচুর রহমান বাবলু, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহানেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, উপজেলা আ’লীগ নেতা আবু সাঈদ সরদার, এম এম সুলতান আহম্মেদ, জিএম ফারুক হোসেন, খান আবু বক্কার, মোল্ল‍্যা সোহেল রানা, মোল্যা জাহিদুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস‍্য মৃনাল জোর্দ্দার, যুবলীগের আহবায়ক প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ,  মহিলা আওয়ামী লীগের শিলা রানী তহমিনা বেগম,হাসনা হেনা, উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম‍্যান গোপাল চন্দ্র দে, প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস‍্য শোভা রানী হালদার, প্রভাষক সুল্গনা বসু,  সাবেক ছাত্র নেতা  কাজী মেহেদী হাসান রাজা, সেচ্ছাসেবক লীগের গাজী  সোহেল আহম্মেদ লিটন, কৃষকলীগের অরিন্দম মল্লিক, ছাত্র লীগের খান আবুল বাশার, শেখ মাসুদ রানা, রাসেল সরদার  প্রমুখ। অপরদিকে জাতীয় শোক দিবসে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নানা কর্মসূচী পালিত হয়েছে। সকালে স্বাধীনতা চত্বরে বঙ্গবন্ধু’র ম্যুরালে পুষ্পমাল‍্য অর্পন, শিক্ষার্থীদের কবিতা আবৃতি, রচনা প্রতিযোগীতা, বঙ্গবন্ধুর উপর উপস্থিত বক্তৃতা এবং পরিষদ এর হলরুমে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরন অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি’র বক্তব‍্য দেন সাবেক মন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ এমপি।

আরো বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার ভূমি আশিষ মোমতাজ, থানা অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) সেখ কনি মিয়া, উপজেলা ভাইন্স চেয়ারম‍্যান শারমিনা পারভীন রুমা, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল ইসলাম মানিক, চন্দ্র কান্ত তরফদার, কৃষি কর্মকর্তা ইনছাদ ইবনে আমিন, সমাজ সেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস, নির্বাচন কর্মকর্তা কল্লোল বিশ্বাস, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  মো: আরশাফ হোসেন, মাধ‍্যমিক শিক্ষা অফিসার দেবাশিষ বিশ্বাস, মহিলা বিষয়ক কর্মকতা রীনা মজুমদার ।

এসময় বিভিন্ন দ্প্তরের কর্মকর্তা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন। পরে শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার প্রদান করা হয়। এছাড়া উপজেলার  বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতীয় শোক দিবস পালিত হয়েছে।

শিক্ষকরা আন্দোলনে কেন, শিক্ষানীতি কোথায়?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের (সরকারীকরণ) দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে ১১ জুলাই থেকে এই কর্মসূচি চলছে।

গত দুই সপ্তায় যারাই প্রেসক্লাবের সামনে গিয়েছেন, তারা দেখেছেন ক্লাসরুমের শিক্ষকরা রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ থেকে শুরু করে কঠোর হওয়ার কথা জানালেও সাড়া দেননি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, এবার জাতীয়করণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত, কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এর আগে আন্দোলনরতদের ফেরাতে ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা প্রতিদিন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা গেছে। বাতিল করা হয়েছে গ্রীস্মকালীন ছুটিও। কিন্তু তবু শিক্ষকদের টলানো যায়নি।

আন্দোলনের ১৬তম দিনে ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উদ্দেশে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করে আপনি যেভাবে উসকে দিচ্ছেন, দয়া করে আর কোনো অস্তিত্বে আঘাত না দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। না হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে যাবো না।’

তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। ১৯ জুলাই তিনি আন্দোলনরত শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে (জাতীয়করণ) আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। তবে জাতীয়করণের যৌক্তিকতা আছে কি নেই, সেটাসহ শিক্ষা, শিক্ষকদের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি কমিটি জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান্নোয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে গবেষণা করবে। আরেকটি কমিটি আর্থিক বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। গবেষণাভিত্তিক এই দুই কমিটির প্রতিবেদনের পর এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ১৫ দিন অনশন করেছিলেন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকেরা। ওই সময়ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ কয়েক দফা দাবিতে শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের নামে। কিন্তু কেন বারবার এই জাতীয়করণের আন্দোলন?

প্রায় দুই বছর করোনার অতিমারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখা-পড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষকেরা ক্লাসরুমের বদলে কেন রাজপথে? জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো প্রতিশ্রুতি পেতেই কী এই চাপ? আর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজশিক্ষক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও কেন সুযোগ সুবিধার জন্য এখানে আন্দোলন করতে হয়?

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ১ লাখ ৯০ হাজার ২২। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬৮৪টি। বাকিগুলো বেসরকারি। মোট শিক্ষক আছেন পৌনে তিন লাখের মতো। বেসরকারি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই এমপিওভুক্ত। এর মানে হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনের মূল অংশসহ কিছু ভাতা পান। তবে সার্বিকভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা খুবই কম।

সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পড়ান। কিন্তু তাঁদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা এক নয়। এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকার থেকে মূল বেতন পুরোটাই পান। কিন্তু বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল ফারাক।

সরকারি শিক্ষকেরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা পান মাত্র এক হাজার টাকা। সরকারি শিক্ষকেরা উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের সমান। বেসরকারি শিক্ষকেরা পান মাত্র ২৫ শতাংশ। চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। তাদের কোন পেনশন নেই, বদলি নেই।

এ তো গেল শুধু মাধ্যমিকের কথা। মাধ্যমিকের প্রায় ২০ হাজার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নয় হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত যেখানে এক লাখেরও বেশি শিক্ষক আছেন। কলেজ আছে অন্তত চার হাজার। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৪০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষক একই ধরনের বৈষম্য নিয়ে আছেন। এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, সরকার এমপিওভুক্তি বাবদ এখন বছরে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা দেয়। জাতীয়করণ করলে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু এর বিপরীতে শিক্ষার্থীর ফি থেকে শুরু করে নানাভাবে যে আয় আসবে তাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। সরকার নিশ্চয়ই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।

এটি সত্যি, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে বরাদ্দ যেমন কম, তেমনি কম শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও। এসব কারণেই এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবীরা এখন শিকক্ষতা পেশায় আসেন না, বিশেষ করে বেসরকারিতে। তবে বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটাও যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। বিশেষ করে এমপিওভুক্তির নামে অনিয়মের উদাহরণ তো ভুরি ভুরি। এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কথাগুলো মনে করা যেতে পারে।

২০১৮ সালের ২৭ জুলাই তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ”আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্যে এমপিওভুক্তি চরমভাবে দায়ী। এমপিওভুক্তি যতটা না উপকার করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে অপকার। গণহারে স্কুল তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়নি। কতটুকু মান অর্জন করলে সরকার বেতন ভাতা দেবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দরকার ছিল। সেটি না করায় এর কুফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।”

এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সময় এসেছে এমপিওভুক্তি কতোটা অবদান রেখেছে তা নিয়ে গবেষণা জরুরী। বেতন ও সুযোগ সুবিধা কমন সেটা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর মান কেমন? কতোগুলো প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, লাইব্রেরি, বা গবেষণাগার আছে?

একই প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যন্ত জন্য। শিক্ষার মান নিয়ে তো প্রশ্নের শেষ নেই। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কারিগরী শিক্ষা বা দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ার বদলে শুধুমাত্র জিপিএ-৫ নির্ভর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগুজে সনদ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা কতোটা জরুরী? এমপিওভুক্তি, সারাদেশের কলেজগুলোতে গণহারে অনার্স চালুর পর এখন আবার জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা কতোটা সঠিক তা নিয়ে গবেষণা জরুরী।

মুক্তিযুদ্ধের পর কথা ছিল বাংলাদেশের শিক্ষা হবে একমুখী,সর্বজনিন ও অবৈতনিক। ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেও তা উল্লেখ ছিল। অথচ দেশে নানামুখী শিক্ষাব্যবস্থা। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। আর মাধ্যমিক স্তর হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এ জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষানীতির এসব আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছিল। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ১৩ বছর হতে চলল। এগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে যে আইন করার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। বরং জোড়াতালি দিয়ে সব চলছে।

প্রশ্ন হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, কারা শিক্ষক হবেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কী হবে, কোন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতি আগাবে সেসব নির্ধারণ জরুরী। সবাইকে বিশ্ববিদ্যাালয়ে পড়তে হবে, সবাইকে সনদ নিতে হবে, এই ধারণা থেকে এখন বেরিয়ে আসা জরুরী। এখন সনদ নয় বরং দক্ষতাই জরুরী। কারিগরি, ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশ আগাতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশ লাখ লাখ ছেলেমেয়ে সনদ নিয়ে বের হচ্ছে যারা একটা চাকুরির জন্য হাহাকার করছে।

গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের বছর দুয়েক আগের এক জরিপে উঠে এসেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বেকার। ফলে চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থান কম থাকায় শিক্ষিতদের বড় একটি অংশ হতাশায় ভুগছেন। অনেকে আবার আত্মহননের মতো ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন।

তথ্য বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ২০ লাখের মতো, আর সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অধিভুক্ত কলেজ আছে ২ হাজার ১৫৪টি। এগুলোর মধ্যে ২৭৯টি সরকারি কলেজ। সম্মান পড়ানো হয় এ রকম সরকারি-বেসরকারি কলেজের সংখ্যা ৫৫৭।

শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশে প্রতিনিয়ত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। ১০ বছর আগেও বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরির বাজারে যুক্ত হতেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে চার-পাঁচ লাখে উন্নীত হয়েছে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী শহর ও শোভন কাজ করতে চান। কিন্তু শহরে যত চাকরিপ্রার্থী প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে, সেই পরিমাণ চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। দেশে প্রতিবছর শ্রমশক্তিতে যোগ হচ্ছে ২০ লাখ মানুষ। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। কাজেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের সত্যিকারভাবে ভাবতে হবে। শুধুমাত্র সনদধারী গ্রাজুয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা শিক্ষায় যতটা উন্নত, তার চেয়ে বেশি উন্নত যুগোপযোগী শিক্ষায়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায়। সুইজারল্যাণ্ড, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ায় অধিকাংশ মানুষ আমাদের মতো মূল ধারার বদলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ। অথচ বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ১৪ শতাংশ। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বাড়াতে গেলে সমাজে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যে সামাজিক ট্যাবু আছে সেটি ভাঙতেই হবে।

জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা যদি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হয় এরপর কারিগরী শিক্ষার দিকে একটা বড় অংশ চলে যেতে পারে। এখানেও দক্ষ শিক্ষক জরুরী। দক্ষ শিক্ষক থাকলে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম তৈরি হবে যারা দেশে ও বিদেশে সব জায়গাতেই নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন।

এখানে প্রবাসী কর্মীদের বিষয়টি চলে আসে। বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি লোক প্রবাসে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই অদক্ষ। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করে বাংলদেশিরা। অন্যদিকে তুলনামূলক দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। ভারতের মতো বাংলাদেশও যদি দক্ষ লোক পাঠাতে পারতো তাহলে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আসতে পারে যেটি এখন ২০ থেকে ২২ বিলয়নে আটকে আছে।

আবার দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির পাশাপাশি দক্ষ উদ্যোক্তাও তৈরি করতে হবে যাতে একজন উদ্যোক্তা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। এ জন্যও যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। আসলে সত্যিকারের শিক্ষক বা প্রশিক্ষক না থাকলে উন্নত জাতি গড়ে তোলা কঠিন। আর দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক পেতে হলে ভালো বেতন-ভাতা দিতে হবে যেন সবাই শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হয়। এখানে যদি নানা ধরনের বৈষম্য থাকে আর সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা ক্লাসরুমের বদলে রাজপথে থাকবেন যেটি দেশ জাতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

শিক্ষাকে বলা হয় একটা জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড ভালো না হলে দেশের অগ্রগতি কঠিন। কাজেই একটা দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরী বা উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, কতো ধরনের শিক্ষা একসঙ্গে চলবে নাকি একমুখী শিক্ষা হবে, কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হবে, তাদের বেতন কাঠামো কেমন হবে এগুলো ঠিক করা জরুরী।

অবার গণহারে মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এমপিওভুক্তি কিংবা জাতীয়করণে কী লাভ হয়, কলেজে কলেজে অনার্স আর জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা জরুরী নাকি কারিগরী শিক্ষা, গণহারে জিপিএ-৫ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাগুজে সনদ কোনটা জরুরী সেগুলো ভাবতে হবে। সার্বিকভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষার একটা টেকসই কাঠামো না দাঁড়ালে এমন সংকট চলতেই থাকবে। সবমিলিয়ে সরকারের এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে শিক্ষকদের কয়েক বছর পর আবার রাজপথে নামতে না হয়। আবার মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষকেরও কথাও ভাবতে হবে। এই দুটোই যে পরষ্পরের পরিপূরক!

শিক্ষামন্ত্রী জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে যে গবেষণার কথা বলেছেন তাতে নিশ্চয়ই বিষয়গুলো উঠে আসবে। তবে এই মুহুর্তে সবার আগে জরুরি শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরানো। আর সেই দায়িত্ব তো সরকারকেই নিতে হবে! সূত্র: ডিডাব্লিউ

Daily World News

১১ বছর/ মামলার ১০০তম ধার্য তারিখ আজ: সাগর-রুনী হত্যা

ডুমুরিয়ায়  দলিত-এর উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদৈর সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহে রূপসায় র‌্যালী, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ

//রূপসা প্রতিনিধি//

“নিরাপদ মাছে ভরবো দেশ-গড়বো স্মার্ট বাংলাদেশ” এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে গত ২৪ থেকে ৩০ জুলাই দেশব্যাপী মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হচ্ছে। জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ কমিটির আয়োজনে রূপসায় যথাযথভাবে মৎস্য সপ্তাহে সড়ক র‌্যালী, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ শেষে উপজেলার পুকুরে পোনা অবমুক্তি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা পরিষদ চেয়রম্যাান মো. কামাল উদ্দিন বাদশা।

আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান এবং স্বাগত বক্তৃতা করেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বাপ্পী কুমার দাস।

এ সময় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফারহানা আফরোজ মনা, রূপসা থানা ওসি মো. শাহিন। তাছাড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলামের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন- প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার মজুমদার, প্রকৌশলী এসএম ওয়াহিদুজ্জামান, সমাজ সেবা কর্মকর্তা জেসিয়া জামান, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শেখ বজলুর রহমান, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা আরিফা বেগম, কৃষি অফিসের এসএম ফেরদৌস, নৌ-পুলিশ এসআই নজরুল ইসলাম, কোষ্টগার্ড পেটি অফিসার মো. নজরুল ইসলাম, পল্লীবিদ্যুৎ কর্মকর্তা আ: হালিম, সৈয়দ মোরশেদ আলম বাবু প্রমূখ। সভায় মৎস্য চাষির মধ্যে বক্তব্য রাখেন- মো. মনির মোল্যা, মৎস্যজিবী মো. শামিম বাবু, অলোক চন্দ্র দাস। দক্ষিণ খাজাডাঙ্গা গ্রামের গলদা ক্লাষ্টার ঘের চাষিদের পুরস্কার দেওয়া হয়।

রামপালে জাতীয় শোক দিবস পালনে প্রস্তুতি সভা

এ এইচ নান্টু,বিশেষ প্রতিনিধি ||

রামপালে জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে এক প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুলাই) সকাল ১০ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) শেখ সালাউদ্দীন দিপুর সভাপতিত্বে পরিষদের অডিটোরিয়ামে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান হোসনেয়ারা মিলি, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস,এ আনোয়ারুল কুদ্দুস, ওসি এস, এম আশরাফুল আলম, উপজেলা প্রকৌশলী গোলজার হোসেন, সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমান, পিআইও মো. মতিউর রহমান, প্রেসক্লাব রামপাল এর সভাপতি এম, এ সবুর রানা, সিনি. সহসভাপতি মোতালেব মল্লিক, সাধারণ সম্পাদক সুজন মজুমদার, মেহেদী হাসান, লায়লা সুলতানা প্রমুখ।

সভায় জাতীয় শোক দিবস পালনে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।