আজ থেকে ৪৩দিন বন্ধ থাকবে দেশের সব কোচিং সেন্টার

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে আগামী ১৭ আগস্ট। চলতি বছরের এ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও প্রশ্নফাঁসের গুজব ঠেকাতে প্রায় দেড় মাস দেশের সব কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।

নির্দেশনা অনুযায়ী, সোমবার (১৪ আগস্ট) থেকে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে সব ধরনের কোচিং সেন্টার পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

গত ৮ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

কোচিং সেন্টার বন্ধের নির্দেশনা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি, সব শিক্ষা বোর্ড, জেলা, উপজেলা, পৌরসভা পর্যায়ে সব প্রশাসনিক পদে দায়িত্বরতদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ কোচিং খোলা রাখলে অভিযান চালিয়ে জেল-জরিমানাসহ সিলগালা করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

এ বছর দেশের ৯টি সাধারণ এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে মোট ১৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৪২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবেন। গত বছর (২০২২ সাল) পরীক্ষার্থী ছিল ১২ লাখ ৩ হাজার ৪০৭ জন। সেই হিসাবে এবার পরীক্ষার্থী বেড়েছে এক লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ জন।

বন্যার কারণে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে চট্টগ্রাম এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ২৭ আগস্ট থেকে শুরু হবে। যে চার বিষয়ের পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে, সেসব পরীক্ষার তারিখ পুনর্নির্ধারণ করে নতুন সময়সূচিও প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার সূচি গত ৮ জুন প্রকাশ করে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটির আহ্বায়ক ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক মো. আবুল বাশারের সই করা সূচিতে জানানো হয়, পরীক্ষা শুরুর অন্তত ৩০ মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের আসন গ্রহণ করতে হবে।

প্রথমে বহু নির্বাচনি ও পরে সৃজনশীল/রচনামূলক (তত্ত্বীয়) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। উভয় অংশের পরীক্ষার মধ্যে কোনো বিরতি থাকবে না।

তিন ধাপে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ নিয়ে কাজ না করায় মৌকারা পীর তড়িঘড়ি করে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়

//স্টাফ রিপোর্টার //

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকারা মাদ্রাসা পীর মাও. নেছার উদ্দিন একি কাজ দেখিয়ে তিন ধাপে এডিপির ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ নেন। অথচ টাকা নিয়ে কোন কাজ করেননি এ পীর। এ নিয়ে গত সংখ্যায় সবুজপত্র পত্রিকায় ও সবুজপত্র অনলাইন টিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর মাও. নেছার উদ্দিন তড়িঘড়ি করে উপজেলা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় উপস্থিত প্রতিজন সাংবাদিককে দুই হাজার টাকা দিয়ে তার মাদ্রাসার জন্য আরো টাকা ছান মানুষের কাছে। যা শাক দিয়ে মাছ ডাকার মতন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মৌকারা মাদ্রাসায় মাও. নেছার উদ্দিন পীরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নানা অনিয়ম দুনীতি ও অপকর্মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি। যার কারণে ছারছিনা দরবার শরীফ সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যায়। এক সময় সারাদেশে প্রথম স্থানে থাকা মাদ্রাসাটি পড়াশোনা মান কমে গিয়ে পিচিয়ে পড়েন। যা বর্তমানে ৯ম কিংবা ১০ম রয়েছে। বাধ্যতামূলক লিল্লাহ বোডিংয়ে ৪৫০ জন ছাত্রদের প্রতি মাসে ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা করে মাসিক বেতন ভাতা নিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশ করেন। ভয়ে কোন ছাত্র মুখ খুলছে না। নিরবে কেঁদে যাচ্ছেন তারা। শিক্ষকরাও থাকেন ভয়ে।

পীর মানে আমরা জানি আল্লা ওয়ালা ব্যাক্তি। যার কোন দুনিয়াবি লোভ লালসা থাকবে না। টাকার পিছনে ছুটবেন না। টাকাই তার পিছনে ছুটবে। মৌকারা মাদ্রাসার পীর মাও. নেছার উদ্দিনের বিষয়ে উল্টো। গত (৪ আগস্ট) শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করে যে ভাবে মানুষের কাছে টাকা চাচ্ছেন। মনে হয় তিনি একজন টাকা ওয়ালা পীর। টাকা ছাড়া কিছু বুঝেন না তিনি। তার নানা অনিয়ম দুনীতি ও অপকর্মের কারণে বর্তমানে মাদ্রাসাটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

শিক্ষকরা আন্দোলনে কেন, শিক্ষানীতি কোথায়?

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মাধ্যমিক শিক্ষা জাতীয়করণের (সরকারীকরণ) দাবিতে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষকেরা। বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির ডাকে ১১ জুলাই থেকে এই কর্মসূচি চলছে।

গত দুই সপ্তায় যারাই প্রেসক্লাবের সামনে গিয়েছেন, তারা দেখেছেন ক্লাসরুমের শিক্ষকরা রাজপথে স্লোগান দিচ্ছেন। শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ থেকে শুরু করে কঠোর হওয়ার কথা জানালেও সাড়া দেননি বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এই শিক্ষকেরা। তাঁরা বলেছেন, এবার জাতীয়করণের সুস্পষ্ট ঘোষণা না আসা পর্যন্ত, কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ না পাওয়া পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চলবে।

এর আগে আন্দোলনরতদের ফেরাতে ক্লাসে অনুপস্থিত শিক্ষকদের তালিকা প্রতিদিন মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে তালিকা পাঠানোর জন্য জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে নির্দেশনা গেছে। বাতিল করা হয়েছে গ্রীস্মকালীন ছুটিও। কিন্তু তবু শিক্ষকদের টলানো যায়নি।

আন্দোলনের ১৬তম দিনে ২৬ জুলাই বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ কাওছার আহমেদ শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনির উদ্দেশে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ এই আন্দোলনকে বিভিন্নভাবে কটাক্ষ করে আপনি যেভাবে উসকে দিচ্ছেন, দয়া করে আর কোনো অস্তিত্বে আঘাত না দিয়ে শান্তিপূর্ণ অবস্থান থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করেন। না হয়, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষে যাবো না।’

তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই বলে শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছেন। ১৯ জুলাই তিনি আন্দোলনরত শিক্ষক ও অন্যান্য শিক্ষকসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে (জাতীয়করণ) আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই। তবে জাতীয়করণের যৌক্তিকতা আছে কি নেই, সেটাসহ শিক্ষা, শিক্ষকদের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একটি কমিটি জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মান্নোয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে গবেষণা করবে। আরেকটি কমিটি আর্থিক বিষয়টি নিয়ে কাজ করবে। গবেষণাভিত্তিক এই দুই কমিটির প্রতিবেদনের পর এ নিয়ে পরবর্তী সময়ে করণীয় ঠিক করা হবে।

এর আগে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতেও বেসরকারি শিক্ষা জাতীয়করণের দাবিতে ১৫ দিন অনশন করেছিলেন বেসরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকেরা। ওই সময়ও শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণসহ কয়েক দফা দাবিতে শিক্ষকেরা আন্দোলনে নেমেছিলেন শিক্ষা জাতীয়করণ লিয়াজোঁ ফোরামের নামে। কিন্তু কেন বারবার এই জাতীয়করণের আন্দোলন?

প্রায় দুই বছর করোনার অতিমারিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় লেখা-পড়ার অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে। এই অবস্থায় শিক্ষকেরা ক্লাসরুমের বদলে কেন রাজপথে? জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো প্রতিশ্রুতি পেতেই কী এই চাপ? আর প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজশিক্ষক, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদেরও কেন সুযোগ সুবিধার জন্য এখানে আন্দোলন করতে হয়?

বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে মাধ্যমিকে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ১ লাখ ৯০ হাজার ২২। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আছে ২০ হাজারের বেশি। এর মধ্যে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৬৮৪টি। বাকিগুলো বেসরকারি। মোট শিক্ষক আছেন পৌনে তিন লাখের মতো। বেসরকারি

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই এমপিওভুক্ত। এর মানে হলো, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে বেতনের মূল অংশসহ কিছু ভাতা পান। তবে সার্বিকভাবে তাদের সুযোগ-সুবিধা খুবই কম।

সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা একই সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের পড়ান। কিন্তু তাঁদের বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা এক নয়। এমপিওভুক্ত বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সরকার থেকে মূল বেতন পুরোটাই পান। কিন্তু বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা ও উৎসব ভাতার ক্ষেত্রে আকাশ-পাতাল ফারাক।

সরকারি শিক্ষকেরা মূল বেতনের ৪৫ থেকে ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া পান। আর এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা পান মাত্র এক হাজার টাকা। সরকারি শিক্ষকেরা উৎসব ভাতা পান মূল বেতনের সমান। বেসরকারি শিক্ষকেরা পান মাত্র ২৫ শতাংশ। চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় মাত্র ৫০০ টাকা। তাদের কোন পেনশন নেই, বদলি নেই।

এ তো গেল শুধু মাধ্যমিকের কথা। মাধ্যমিকের প্রায় ২০ হাজার প্রতিষ্ঠান ছাড়াও নয় হাজারেরও বেশি মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত যেখানে এক লাখেরও বেশি শিক্ষক আছেন। কলেজ আছে অন্তত চার হাজার। সব মিলিয়ে দেশে প্রায় ৪০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেখানে পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষক একই ধরনের বৈষম্য নিয়ে আছেন। এই বৈষম্য দূর করা প্রয়োজন।

আন্দোলনকারী শিক্ষকরা বলছেন, সরকার এমপিওভুক্তি বাবদ এখন বছরে এক হাজার ৪২৫ কোটি টাকা দেয়। জাতীয়করণ করলে আড়াই হাজার কোটি টাকা খরচ হবে। কিন্তু এর বিপরীতে শিক্ষার্থীর ফি থেকে শুরু করে নানাভাবে যে আয় আসবে তাতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। সরকার নিশ্চয়ই বিষয়গুলো বিবেচনা করবে।

এটি সত্যি, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষা খাতে বাংলাদেশে বরাদ্দ যেমন কম, তেমনি কম শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও। এসব কারণেই এখানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মেধাবীরা এখন শিকক্ষতা পেশায় আসেন না, বিশেষ করে বেসরকারিতে। তবে বাংলাদেশের বেসরকারি শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়াটাও যথেষ্ট ত্রুটিপূর্ণ। বিশেষ করে এমপিওভুক্তির নামে অনিয়মের উদাহরণ তো ভুরি ভুরি। এ প্রসঙ্গে সংস্কৃতি বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের কথাগুলো মনে করা যেতে পারে।

২০১৮ সালের ২৭ জুলাই তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, ”আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংসের জন্যে এমপিওভুক্তি চরমভাবে দায়ী। এমপিওভুক্তি যতটা না উপকার করেছে, তার চেয়ে বেশি করেছে অপকার। গণহারে স্কুল তৈরি ও শিক্ষক নিয়োগ হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের যোগ্যতা বিবেচনা করা হয়নি। কতটুকু মান অর্জন করলে সরকার বেতন ভাতা দেবে তার একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার দরকার ছিল। সেটি না করায় এর কুফল আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে।”

এই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় সময় এসেছে এমপিওভুক্তি কতোটা অবদান রেখেছে তা নিয়ে গবেষণা জরুরী। বেতন ও সুযোগ সুবিধা কমন সেটা না হয় বোঝা গেল, কিন্তু বাংলাদেশের মাধ্যমিক স্কুলগুলোর মান কেমন? কতোগুলো প্রতিষ্ঠান আছে যেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, শিক্ষা উপকরণ, লাইব্রেরি, বা গবেষণাগার আছে?

একই প্রশ্ন উঠতে পারে প্রাথমিক থেকে শুরু করে সব পর্যন্ত জন্য। শিক্ষার মান নিয়ে তো প্রশ্নের শেষ নেই। তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে কারিগরী শিক্ষা বা দক্ষ জনগোষ্ঠী গড়ার বদলে শুধুমাত্র জিপিএ-৫ নির্ভর বা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাগুজে সনদ নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা কতোটা জরুরী? এমপিওভুক্তি, সারাদেশের কলেজগুলোতে গণহারে অনার্স চালুর পর এখন আবার জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় করা কতোটা সঠিক তা নিয়ে গবেষণা জরুরী।

মুক্তিযুদ্ধের পর কথা ছিল বাংলাদেশের শিক্ষা হবে একমুখী,সর্বজনিন ও অবৈতনিক। ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্টেও তা উল্লেখ ছিল। অথচ দেশে নানামুখী শিক্ষাব্যবস্থা। ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। আর মাধ্যমিক স্তর হবে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এ জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু শিক্ষানীতির এসব আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সব স্তরের শিক্ষকদের জন্য পৃথক বেতনকাঠামো প্রণয়ন করার কথা বলা হয়েছিল। শিক্ষানীতি প্রণয়নের ১৩ বছর হতে চলল। এগুলো বাস্তবায়নে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। এমনকি শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে যে আইন করার কথা ছিল, সেটাও হয়নি। বরং জোড়াতালি দিয়ে সব চলছে।

প্রশ্ন হলো চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা কেমন হবে, কারা শিক্ষক হবেন, তাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া কী হবে, কোন ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় জাতি আগাবে সেসব নির্ধারণ জরুরী। সবাইকে বিশ্ববিদ্যাালয়ে পড়তে হবে, সবাইকে সনদ নিতে হবে, এই ধারণা থেকে এখন বেরিয়ে আসা জরুরী। এখন সনদ নয় বরং দক্ষতাই জরুরী। কারিগরি, ব্যবসায়িক ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার উন্নয়ন ছাড়া দেশ আগাতে পারবে না। অথচ বাংলাদেশ লাখ লাখ ছেলেমেয়ে সনদ নিয়ে বের হচ্ছে যারা একটা চাকুরির জন্য হাহাকার করছে।

গবেষণা সংস্থা বিআইডিএসের বছর দুয়েক আগের এক জরিপে উঠে এসেছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক পাস শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬৬ শতাংশই বেকার। ফলে চাহিদার তুলনায় কর্মসংস্থান কম থাকায় শিক্ষিতদের বড় একটি অংশ হতাশায় ভুগছেন। অনেকে আবার আত্মহননের মতো ভয়ঙ্কর সিদ্ধান্তও গ্রহণ করেছেন।

তথ্য বলছে, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতে এখন মোট শিক্ষার্থী আছেন ২০ লাখের মতো, আর সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে অধিভুক্ত কলেজ আছে ২ হাজার ১৫৪টি। এগুলোর মধ্যে ২৭৯টি সরকারি কলেজ। সম্মান পড়ানো হয় এ রকম সরকারি-বেসরকারি কলেজের সংখ্যা ৫৫৭।

শুধু জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নয়, দেশে প্রতিনিয়ত সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ছে। ১০ বছর আগেও বছরে দুই থেকে আড়াই লাখ শিক্ষার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পাস করে চাকরির বাজারে যুক্ত হতেন। এখন সেই সংখ্যা বেড়ে চার-পাঁচ লাখে উন্নীত হয়েছে। আমাদের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশির ভাগ শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী শহর ও শোভন কাজ করতে চান। কিন্তু শহরে যত চাকরিপ্রার্থী প্রতি বছর তৈরি হচ্ছে, সেই পরিমাণ চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে না।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপে দেখা গেছে, দেশে শিক্ষিত মানুষের মধ্যেই বেকারের হার বেশি। ৪৭ শতাংশ শিক্ষিতই বেকার। দেশে প্রতিবছর শ্রমশক্তিতে যোগ হচ্ছে ২০ লাখ মানুষ। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মসংস্থান হচ্ছে না। ফলে বড় একটি অংশ বেকার থেকে যাচ্ছে। কাজেই শিক্ষা নিয়ে আমাদের সত্যিকারভাবে ভাবতে হবে। শুধুমাত্র সনদধারী গ্রাজুয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি না করে দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষিত জনবল গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

উন্নত দেশগুলোর দিকে তাকালে দেখা যাবে তারা শিক্ষায় যতটা উন্নত, তার চেয়ে বেশি উন্নত যুগোপযোগী শিক্ষায়, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায়। সুইজারল্যাণ্ড, জার্মানি, জাপান, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া, চীন, দক্ষিণ কোরিয়ায় অধিকাংশ মানুষ আমাদের মতো মূল ধারার বদলে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত ও দক্ষ। অথচ বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের তথ্যমতে, ২০১৮ সালে কারিগরি শিক্ষার হার ১৪ শতাংশ। তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা বাড়াতে গেলে সমাজে কারিগরি শিক্ষা নিয়ে যে সামাজিক ট্যাবু আছে সেটি ভাঙতেই হবে।

জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুযায়ী, প্রাথমিক শিক্ষা যদি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত হয় এরপর কারিগরী শিক্ষার দিকে একটা বড় অংশ চলে যেতে পারে। এখানেও দক্ষ শিক্ষক জরুরী। দক্ষ শিক্ষক থাকলে দক্ষ তরুণ প্রজন্ম তৈরি হবে যারা দেশে ও বিদেশে সব জায়গাতেই নিজেদের প্রমাণ করতে পারবেন।

এখানে প্রবাসী কর্মীদের বিষয়টি চলে আসে। বাংলাদেশের এক কোটিরও বেশি লোক প্রবাসে। কিন্তু এদের বেশিরভাগই অদক্ষ। ফলে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি করে বাংলদেশিরা। অন্যদিকে তুলনামূলক দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করায় বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের প্রবাসী আয়ের পরিমাণ অনেক বেশি। ভারতের মতো বাংলাদেশও যদি দক্ষ লোক পাঠাতে পারতো তাহলে বছরে ৩৫ থেকে ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রবাসী আয় আসতে পারে যেটি এখন ২০ থেকে ২২ বিলয়নে আটকে আছে।

আবার দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরির পাশাপাশি দক্ষ উদ্যোক্তাও তৈরি করতে হবে যাতে একজন উদ্যোক্তা অনেক মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারেন। এ জন্যও যথাযথ প্রশিক্ষণ দরকার। আসলে সত্যিকারের শিক্ষক বা প্রশিক্ষক না থাকলে উন্নত জাতি গড়ে তোলা কঠিন। আর দক্ষ ও মেধাবী শিক্ষক পেতে হলে ভালো বেতন-ভাতা দিতে হবে যেন সবাই শিক্ষকতা পেশায় আসতে আগ্রহী হয়। এখানে যদি নানা ধরনের বৈষম্য থাকে আর সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে শিক্ষকরা ক্লাসরুমের বদলে রাজপথে থাকবেন যেটি দেশ জাতি কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।

শিক্ষাকে বলা হয় একটা জাতির মেরুদণ্ড। সেই মেরুদণ্ড ভালো না হলে দেশের অগ্রগতি কঠিন। কাজেই একটা দেশের প্রাথমিক থেকে শুরু করে মাধ্যমিক, কারিগরী বা উচ্চ শিক্ষাব্যবস্থা কী হবে, কতো ধরনের শিক্ষা একসঙ্গে চলবে নাকি একমুখী শিক্ষা হবে, কীভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হবে, তাদের বেতন কাঠামো কেমন হবে এগুলো ঠিক করা জরুরী।

অবার গণহারে মানহীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে এমপিওভুক্তি কিংবা জাতীয়করণে কী লাভ হয়, কলেজে কলেজে অনার্স আর জেলায় জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় খোলা জরুরী নাকি কারিগরী শিক্ষা, গণহারে জিপিএ-৫ বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে লাখ লাখ শিক্ষার্থীর কাগুজে সনদ কোনটা জরুরী সেগুলো ভাবতে হবে। সার্বিকভাবে জাতীয় শিক্ষানীতি অনুযায়ী শিক্ষার একটা টেকসই কাঠামো না দাঁড়ালে এমন সংকট চলতেই থাকবে। সবমিলিয়ে সরকারের এমন উদ্যোগ নেওয়া উচিত যাতে শিক্ষকদের কয়েক বছর পর আবার রাজপথে নামতে না হয়। আবার মানসম্মত শিক্ষা ও শিক্ষকেরও কথাও ভাবতে হবে। এই দুটোই যে পরষ্পরের পরিপূরক!

শিক্ষামন্ত্রী জাতীয়করণসহ শিক্ষা ও শিক্ষকদের মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা, যৌক্তিকতা ও করণীয় বিষয়ে যে গবেষণার কথা বলেছেন তাতে নিশ্চয়ই বিষয়গুলো উঠে আসবে। তবে এই মুহুর্তে সবার আগে জরুরি শিক্ষকদের ক্লাসে ফেরানো। আর সেই দায়িত্ব তো সরকারকেই নিতে হবে! সূত্র: ডিডাব্লিউ

Daily World News

১১ বছর/ মামলার ১০০তম ধার্য তারিখ আজ: সাগর-রুনী হত্যা

ডুমুরিয়ায়  দলিত-এর উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদৈর সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

ডুমুরিয়ায়  দলিত-এর উদ্যোগে এসএসসি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদৈর সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিত-এর উদ্যোগে গতকাল রবিবার চুকনগর দলিত হাসপাতাল মিলনায়তনে  এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ দলিত শিক্ষার্থীদের  এক সংবর্ধনা প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার  অনুষ্ঠিত হয় ।

দলিত এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস ধরা দেবী দাস-এর সভাপতিত্বে  সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলিত-এর, নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস,  আরো উপস্থিত ছিলেন দলিত এর স্পন্সরশীপ অফিসার অঞ্জনা দাস, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নেপাল চন্দ্র দাশ, বিপ্লব দাস, চিন্তা দাশ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপন করেন স্পন্সরশীপ অফিসার বিপ্লব মন্ডল। অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে উৎসাহ ও দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য প্রদান করেন।

এসএসসি পরবর্তীতে তারা কোথায় কি বিষয় নিয়ে পড়াশুনা করতে পারে সে বিষয়ে নির্দেশনা ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে দলিত এর বিভিন্ন কর্মএলাকার মধ্যে ২জন এ+ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীকে ক্রেষ্ট ও উপহার সহ মোট ১৩৫ জন ছাত্রছাত্রীকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

লাকসাম নরপাটি উচ্চ বিদ্যালয়-প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আর্থিক দূর্নীতি ও নারী কেলেংকারির অভিযোগ

//স্টাফ রির্পোটার//

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার ৮নং লাকসাম পূর্ব ইউনিয়নের নরপাটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম দূর্নীতিও নারী কেলেংকারির অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, তিনি বিগত বিএনপির খালেদা জিয়ার প্রথম আমলে (১৯৯১-৯৬) বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে হাইস্কুলের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

দ্বিতীয় আমলে (২০০১-২০০৬) কারচুপিও দূর্নীতি করে ডেইলি স্টার নামক ইংরেজি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সাথে নিজেকে পরিচয় দিলেও ভিতরে ভিতরে তিনি বিএনপির জন্য কাজ করেন বলেও একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য ও একজন বাজারের ব্যবসায়ী জানান, মাহবুবুর রহমান রাজনৈতিক এবং এলাকার প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের পরীক্ষার ফি,উপবৃত্তি, স্কুলের অবকাঠামোগত নির্মাণ বাণিজ্য, নিয়োগ বাণিজ্যসহ হাতিয়ে নিয়েছেন লাখ লাখ টাকা আর গড়ে তুলেছেন অবৈধ টাকার সাম্রাজ্য। নরপাটিতে তার রয়েছে বিলাসবহুল একটি বাড়ি ও জমি। বাড়িটির নির্মাণ খরচ কয়েক কোটি টাকা। মাঠে তার ক্রয়করা সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় কয়েক কানি ( এককানিতে ২০ গন্ডা),লাকসামের প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে তার সম্পত্তি।

সমাজে নিজেকে সুশীল দাবি করলেও আপাদমস্তক একজন লম্পট হিসেবে সচেতন মহল চিনেও জানে।একাধিকবার নারী কেলেংকারিতে ধরা খেয়ে রাতের আধারে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মীমাংসা করেন এ শিক্ষক নামধারী মাহবুব। জানা গেছে, তিনি স্কুলের মেধাবী শিক্ষকদের উপর প্রভাব খাটিয়ে ও ভয় দেখিয়ে কোনঠাসা করে রাখেন। তার উপর অর্পিত অভিযোগগুলো ধামাচাপা দিয়ে রাখেন তিনি। কেউ প্রতিবাদ করলেই তাকে সুকৌশলে চাকরিচ্যুত করেছেন বলে ও অভিযোগ রয়েছে। মাহবুবুর রহমানের অনেক অপকর্মের কথা বর্তমান কেরানী যেন জনসম্মুখে প্রকাশ না করেন তার জন্য বারবার কেরানীকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন।

রাজনীতির ছত্রছায়ায় ম্যানেজিং কমিটিকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিয়ে জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানের লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে ধামাচাপা দিয়ে আসছেন বলে ম্যানেজিং কমিটির এক সদস্য অভিযোগ করেন। ম্যানেজিং কমিটির কার্যকরী পরিষদ তার বিরুদ্ধে সাড়ে ছয়লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার একটি প্রতিবেদন তারা প্রকাশ করেছে। ম্যানেজিং কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে মাহবুবুর রহমান হিসাব দিতে গড়িমসি করছেন। তিনি কালক্ষেপন করছেন পুরাতন কমিটির মেয়াদ আগামী দুই মাসে শেষ হলে নতুন কমিটি আসবে, আসলে তিনি বেঁেচ যাবেন।

আওয়ামীলীগের একজন নেতা জানান- ‘মাহবুবুর রহমান হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা দাবি করে। অথচ সে একজন হাইব্রিড আওয়ামীলীগার। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে,তখন তিনি সেই দলের বনে যান। তবে তিনি ভিতরে ভিতরে বিএনপির জন্য কাজ করেন বলেও জানান।’

এ বিষয়ে শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, মাহবুবুর রহমানের প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগটি  ভূয়া প্রমাণিত হলে চাকরিচ্যুত হওয়াসহ বিশাল অংকের জরিমানা দেওয়া লাগতে পারে। ’এলাকাবাসীর দাবি-সঠিক তদন্ত করে এ শিক্ষকের কঠিন শাস্তিসহ বিচার দাবি করেন।

তবে মাহবুবুর রহমানের সাথে কথা বললে, তিনি জানান- এগুলো মিথ্যা, গুজব। আমি এগুলোর সাথে জড়িত নই।”

রামপালে সুপিয়া বেগম মাদরাসা আবারও সেরা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপালে আলহাজ্ব সুপিয়া বেগম দাখিল মহিলা মাদরাসা আবারও বাগেরহাট জেলার মধ্যে সেরা হয়েছে। গত ২০১৮ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে দাখিল পরীক্ষায় দুর্দান্ত সাফল্য ধরে রেখেছে।

এ বছর রামপাল উপজেলা থেকে মোট ১৭ টি মাদরাসার ৪২৪ জন দাখিল পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহন করে। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ২০ জন। কৃতকার্য্য হয়েছে ৩৯৫ জন। অকৃতকার্য্য হয়েছে ২৯ জন। পাশের হার ৯৩.১৬ ভাগ। কয়েকটি মাদরাসার শতভাগ পাশ করলেও বাইনতলা দাখিল মাদরাসার ১৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬ জন অকৃতকার্য্য হয়েছে।

জিপিএ-৫ পাওয়া মাদরাসা গুলোর মধ্যে সুপিয়া বেগম দাখিল মহিলা মাদরাসায় ৭ জন, গোবিন্দপুর এ জে এস ফাজিল মাদরাসায় ১ জন, মল্লিকেরবেড় মাদরাসায় ২ জন, সোনাতুনিয়া আজিজিয়া ফাজিল মাদরাসায় ৩ জন ও ইসলামাবাদ সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসার ২ জন।

ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রাখার বিষয়ে কথা হয় সুফিয়া বেগম মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার আলহাজ্ব মো. খলিলুর রহমানের সাথে। তিনি জানান, আমাদের তরুণ কিছু চৌকশ শিক্ষকদের সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো হয়। লেখাপড়ার পাশাপাশি তাদের ফলোআপ করা হয়। যে কারণে ধারাবাহিক সফলতা আসছে।

এ এছাড়াও অভিভাবক, এলাকাবাসী ও ম্যানেজিং কমিটির বিশেষ সহায়তায় সাফল্য মিলছে। এ জন্য তিনি সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ধন্যবাদ জানান।

ডুমুরিয়ায় পল্লী জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এর বিদায় সংবর্ধনা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ার পল্লী জাগরণী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অশোক কুমার বিশ্বাসের বিদায় উপলক্ষে ২৬ জুলাই বুধবার সকালে  স্কুল ম‍্যানেজিং কমিটি ও বিদ‍্যালয়ের  আয়োজনে  এক  সংবর্ধনা  প্রদান  করা হয়েছে।

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শোভা রানী হালদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে  প্রধান অতিথি ছিলেন ভান্ডারপাড়া ইউনিযন পরিষদের   চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দে, বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ‍্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি বীরেশ্বর রায়, সহ সভাপতি চন্ডী দাস মন্ডল, বিদ‍্যালয়ের সাবেক সভাপতি গৌউর রায়, কমিটির সহ  সভাপতি সুশান্ত মন্ডল,  ইউপি সদস‍্য সঞ্জয় মন্ডল, বিনিতা মন্ডল, আইয়ুব হোসেন মোল্ল‍্যা, শিক্ষক শেখর রজ্ঞন ও রজ্ঞন ঢালী সহ সুধি শিক্ষকমন্ডলী শিক্ষার্থী অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন ।

নিয়মবহির্ভূত মাদ্রাসা বন্ধ রাখার অভিযোগ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে

//নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা প্রতিনিধি//

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে নিয়মবহির্ভূত মাদ্রাসা বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে তিলিপ ছুফিয়া নুরিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।

জানা যায়, রোববার শিক্ষার্থীরা মাদ্রাসায় ক্লাস করতে আসলে কোন কারণ ছাড়াই প্রথম ঘন্টা শেষ করে ক্লাস ছুটি দিয়ে মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি সোমবার মাদ্রাসা বন্ধ থাকবে মর্মে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়। এই ব্যাপারে উদ্বিগ্ন অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা।

একাধিক অভিভাবক বলেন, এভাবে  কোন কারণ ছাড়া দু’দিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বড় ধরনের ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদ্রাসা অধ্যক্ষ সালেহ আহমেদ ভূইয়া বলেন, সোমবার রিজার্ভ বন্ধ দেওয়া হয়েছে। আর রোববার বিশেষ কারণে মাদ্রাসা বন্ধ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ কারণ কি? সেটা জানতে চাইলে তিনি তা বলতে রাজি হয় নি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাছির উদ্দিন বলেন, মাদ্রাসার অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ে নিয়ে ঝামেলা হচ্ছে বলে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে, এবং ক্লাস করা নিরাপদ মনে না করায় মাদ্রাসা বন্ধ করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় শিক্ষক – কর্মচারী ঐক্যজোটের স্মারকলিপি প্রদান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় শিক্ষক – কর্মচারী ঐক্যজোটের কেন্দ্রিয় কর্মসূচীর অংশ হিসাবে ২৪ জুলাই  সোমবার সকাল ১১ টায় বেসরকারী শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করন,পূর্নাঙ্গ উৎসব ভাতা, বাড়ীভাড়া, জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষন ও মহানগর শিক্ষকদের মহানগর ভাতা প্রদানে দাবীতে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী বরাবর ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক – কর্মচারী ঐক্যজোটের জেলা শাখার সভাপতি অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম বাবুল, সাধারন সম্পাদক বায়জিদ হুসাইন, ঐক্যজোট নেতা অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, প্রভাষক মঞ্জুর রশিদ, মাও: বেলায়েত হোসেন, মাষ্টার আইয়ুব আহম্মেদ, প্রভাষক নিয়ল মন্ডল, মাও: জাকির হোসেন, মাও: আব্দুল মালেক, ফারুক হুসাইন, হাবিবুর রহমান, বোরহান উদ্দিন, মাও: মতিউর রহমান প্রমুখ।

অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতির বৃক্ষরোপণ ও সম্প্রীতি সফর

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

“গাছ লাগাও পরিবেশ বাঁচাও ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতি উপজেলার সকল কলেজে বৃক্ষরোপণ ও সম্প্রীতি সফরের অংশ হিসেবে ২৩জুলাই রবিবার উপজেলার সুন্দলী সৈয়দপুর ট্রাস্ট স্কুল এণ্ড কলেজ ও গাবখালী মাগুরা ইউনাইটেড কলেজে সম্প্রীতি সফর ও বৃক্ষ রোপন করে।

এ সময় কলেজগুলির শিক্ষক- কর্মচারীদের সংগে তাদের সার্বিক সুবিধা অসুবিধার বিষয়ে খোঁজ খবর নেন সমিতির নেতৃবৃন্দ। শিক্ষার গুনগত মান উন্নয়নে ও সমিতির সাংগঠনিক কাঠামো মজবুত করতে শিক্ষকদের সংগে মতবিনিময় করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অভয়নগর কলেজ শিক্ষক সমিতির সভাপতি,সুন্দলী এসটি স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল লতিফ,পায়রাহাট কলেজের অধ্যক্ষ সেলিম ইকবাল,আব্দুল ওহাব কলেজের অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম,মহাকাল পাইলট স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ ফাইসাল রশিদ, পল্লীমঙ্গল কলেজের অধ্যক্ষ খায়রুল বাসার, গাবখালী কলেজের অধ্যক্ষ রিফাত জাহান খান,সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার বিশ্বাস,পায়রাহাট কলেজের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান, গাবখালী কলেজের সেলিম হোসেন, পল্লীমঙ্গল কলেজের হোসেন আলী,মহাকাল পাইলট স্কুল এণ্ড কলেজের মোঃ আবুল হোসেন গাজী।

আরোউপস্থিত ছিলেন উদয় শংকর, শ্যামল কুমার, পার্থ গাইন,আব্দুর রাজ্জাক,হযরত আলী, প্রমুখ।