Category: স্বাস্থ্য
Health
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা মেনে চলুন সুস্থ্য থাকুন
ডায়াবেটিস রোগীর খাদ্য তালিকা:
বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটায় এরকম প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম।
পৃথিবীতে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষ মারা যায় এবং প্রতি ১০ সেকেন্ডে দুইজন ডায়াবেটিস রোগী সনাক্ত করা হয়। তবে সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খেলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগীকে খাবার নিয়ে কিছু মিথ বা ভুল ধারনা–
ডায়াবেটিস রোগীকে খাবার নিয়ে কিছু ভুল ধারনা
আমাকে সব ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে
না, আপনি সবসময়ই আপনার প্রিয় চিনি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারবেন কিন্তু পরিমিত ভাবে ও বুঝে শুনে। যেমন, আপনি চাইলেই মিষ্টি দই বা কাস্টারড ইচ্ছে মত খেতে পারেন না। খেতে পারবেন, কিন্তু খেয়াল রাখবেন যাতে এটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তালিকার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
আপনাকে শর্করা খাবার বাদ দিতে হবে
কি পরিমাণ শর্করা খাচ্ছেন তা খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখবেন পাতে যেন পাউরুটি, চাল বা ভাত, পাস্তা, ওটস ইত্যাদি স্টার্চ সমৃদ্ধ খাবার এর বদলে বার্লি, বাদামি বা লাল চালের ভাত, গম বা গম জাতীয় শস্য দানা ভুক্ত খাবার থাকে। কারণ শস্য দানা জাতীয় খাবার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি ভূমিকা রাখে।
আমাকে স্পেশাল ডায়াবেটিক খাবার খেতে হবে
পুষ্টিকর খাবারের মূলমন্ত্র সবার জন্যই প্রযোজ্য, আপনি ডায়াবেটিক বা নন ডায়াবেটিক হন না কেন, দামি ও স্পেশাল ডায়াবেটিক খাবার ( যা বাজারে পাওয়া যায়) খুব একটা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেনা।
বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি ভাল
সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার বিশেষ করে প্রাণীজ প্রোটিন ইনসুলিন রেজিস্ট্যন্স এ ভূমিকা রাখে অর্থাৎ শর্করা নিয়ন্ত্রণের মূল হরমোন এর কর্মক্ষমতা হ্রাস করে। মূল কথা হল– শর্করা, আমিষ, ও চর্বি জাতীয় খাবার যাই খান না কেন তার সুষম বণ্টন কাম্য।
বিশেষত– প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি খাবার বা আন–প্রসেসড ফুড বা অপ্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্যাকেটহীন খাবার ডায়াবেটিস সুরক্ষা বান্ধব।
ডায়াবেটিস রোগ হলে কি খাবার বেশি খাবেন ?
উপকারী চর্বি যেমন, বাদাম, অলিভ ওয়েল, মাছের তেল ইত্যাদি।
শাক সবজি ও ফলমূল– মূলত পরিষ্কার, টাটকা ও রঙিন শাকসবজি ভাল। জুসের থেকে ফল বেশি খেতে হবে।
দেশজ মাছ ও মুরগি।
ভাল প্রোটিন জাতীয় খাবার– যেমন, ডিম, অল্প চর্বি জাতীয় দুধ, টক দই ইত্যাদি।
ডায়াবেটিস রোগ হলে কি খাবার কম খাবেন?
ডিপ ফ্রাই খাবার বা অতিরিক্ত রান্না করা খাবার
প্যাকেটজাত ফাস্ট ফুড, বিশেষ করে যাতে চিনি, বেকিং করা খাবার, মিষ্টি, ডেজারট, চিপস ইত্যাদি থাকে।
সাদা পাউরুটি, চিনিযুক্ত সেরিয়াল, প্রক্রিয়াজাত পাস্তা বা চাল
প্রক্রিয়াজাত মাছ বা মাংস
উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার ও স্লো রিলিজ কার্বোহাইড্রেট
আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট এর বিশাল ভূমিকা রয়েছে, এটি শরীরের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, এমন কি এটির ভূমিকা চর্বি বা প্রোটিনের তুলনায় বেশি। সুতরাং কি ধরনের শর্করা জাতীয় খাবার খাচ্ছেন এ ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত।
প্রক্রিয়াজাতকরণ শর্করা যেমন, সাদা পাউরুটি, চিনিযুক্ত সেরিয়াল, প্রক্রিয়াজাত পাস্তা বা চাল ছাড়াও সোডা, মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার যাতে চিনি যুক্ত থাকে ইত্যাদির ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিতমনযোগী হতে হবে স্লো রিলিজ কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চ আঁশযুক্ত খাবারের প্রতি এগুলো ধীরে ধীরে শরীরে রক্তের সাথে মিশে যা ধীরে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট এবং খাদ্য তালিকা

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে আমাদের অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। তাদের জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবার নিয়ে অনেকের মনেই নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।
আজকে আমরা আলোচনা করব ডায়াবেটিস রোগীদের আদর্শ খাদ্য তালিকা এবং ডায়েট চার্ট নিয়ে।
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হল এমন একটি রোগ যা আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সাথে অনেকাংশে নির্ভরশীল। জানা যায় যে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তির হৃদ রোগজনিত সমস্যা, মানসিক রোগ, যেমন- ডিপ্রেশন এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা– নন ডায়াবেটিক এর থেকে প্রায় দ্বিগুণ।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ( যাতে ইনসুলিন লাগেনা, শুধুমাত্র ওষুধে চিকিৎসা দেয়া হয় ) নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে – এমন না যে, সব ধরনের খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে বা মজার খাবার খাওয়া যাবেনা এর মানে হল, সব খাবারই খাওয়া যাবে, কিন্তু পরিমিত মাত্রায়, যাতে আপনার মুড ও শক্তির সমন্বয় ঘটে।
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য শর্করা জাতীয় খাবার ক্ষতিকর কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাই খাবারে শর্করা জাতীয় খাবার কমাতে হবে। কিছু শর্করা জাতীয় খাবার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা তাড়াতাড়ি বাড়ায় যেমন, চিনি, মিষ্টি, বেশি ছাঁটা চালের ভাত, ময়দার রুটি, সেগুলো কম খেতে হবে।
লাল চালের ভাত (ব্রান সহ), গমের আটার রুটি (ব্রান সহ), সবজি, বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্য রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায় তাই এই খাবার গুলি বেশি খেতে হবে। তবে ক্যালরির হিসেব রাখতে হবে অবশ্যই।
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মোট ক্যালরির ২০% আসবে আমিষ থেকে, ৩০% আসবে ফ্যাট থেকে এবং ৫০% আসবে শর্করা থেকে। এখানে একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ১৬০০ কিলোক্যালরির চাহিদার একটি স্যাম্পল ডায়েট চার্ট বা খাবারের মেন্যু দেয়া হল।
আসুন মনোযোগ দিয়ে একটু দেখে নেই ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট এবং খাদ্য তালিকা।
ডায়াবেটিস রোগীর সকালের নাস্তা

সকালের নাস্তায় ফল থাকাটা খুব জরুরী। ফল শরীরে ক্যালরির অভাব পূরণ করে কোন ক্ষতি ছাড়াই। কলা, আপেল, কমলা, মাল্টা, স্ট্রবেরি এসব ফল স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি।
টক দই
নাস্তায় টকদই অথবা চিনি ছাড়া ফ্যাট ফ্রি ঘরে পাতা দই যোগ করতে পারেন। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরে ক্যালসিয়াম এর অভাব পূরণ করে।
ডিম এবং সুগার ফ্রি ব্রাউনব্রেড
টমেটো, পেঁয়াজ দিয়ে একটি ডিম অলিভ অয়েল এ ভেজে নিন। সাথে নিতে পারেন ফ্যাট ফ্রি চিজ এবং সুগার ফ্রি ব্রাউনব্রেড।
মিক্সড ব্রেকফাস্ট
ফ্যাট ফ্রি টকদই, মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস, বাদাম, ওয়াল নাটস, কর্ণফ্লেক্স মিক্সড করে খেয়ে নিতে পারে। এটা পুষ্টিকর এবং উপকারি।
ওটসমিল
রান্না করা ওটসমিল, বাদাম, সিনামন আর মিষ্টির জন্য চিনির বদলে অন্য কিছু মিলিয়ে মিক্সচার তৈরি করে নিন। এরপর লো ফ্যাট দুধের সাথে এটি খেয়ে নিতে পারেন।
কর্ণফ্লেক্স এবং ক্রিম চিজ খুব তাড়াহুড়ো থাকলে কর্ণফ্লেক্স এর সাথে লাইট ক্রিম চিজ মিলিয়ে দুধের সাথে খেয়ে নিতে পারেন। চটপট নাস্তাও হয়ে যাবে সাথে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সকালের নাস্তা (সকাল ৭.৩০ – ৮ টা)
রুটি (১ সারভিং) ১ টা গমের আটার রুটি (মিডিয়াম)
দুধ (১ সারভিং) ১ গ্লাস ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্ক
ডিম (১ সারভিং) ১ টা মুরগী অথবা হাঁসের ডিম (সিদ্ধ অথবা ভাঁজি)
শাক সবজি (১ সারভিং) ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক বা ১/২ কাপ সবজি
ডায়াবেটিস রোগীর দুপুরের খাবার
স্যালাদ: বিভিন্ন ধরণের সবজি যেমন শসা, টমেটো, লেটুস পাতা, পার্সলে পাতা, গাজর সব মিলিয়ে একটি স্যালাদ অবশ্যই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখতে হবে।
মাছ বা মাংস: এক টুকরো মাছ অথবা মাংস খাবার তালিকায় রাখবেন। কিন্তু রেড মিট একেবারেই খাবেন না। মুরগির এক বা দুই পিস এবং যেকোন মাছ থাকতে পারে। ভাত খাওয়া উচিত নয়। আর খেলেও মেপে এক কাপ এর বেশি না।
ফল: হালকা কিছু ফল খাবার পর খেতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে
শাক-সবজি ও ডাল খাবার তালিকায় বিভিন্ন রকমের ডাল এবং সবজি রাখতে হবে। তবে খুব বেশি ঝাল মশলা দিয়ে না। দুপুরের খাবারে লাল শাক, পালং শাক,পুঁই শাক ইত্যাদি নানা ধরণের শাক থাকতে পারে।
দুপুরের খাবার (দুপুর ১.৩০ – ২ টা
ভাত (৩ সারভিং) দেড় কাপ ভাত
মাছ অথবা মাংস (২ সারভিং) ৬০ গ্রাম পরিমাণ রান্না করা মাছ বা মাংস (ফ্যাট ছাড়া)
শাক সবজি (৪ সারভিং) ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক খাকবে অবশ্যই, বাকী দেড় কাপ অন্যান্য সবজি
ডাল (১ সারভিং) ১ কাপ মাঝারি ঘন ডাল
ডায়াবেটিস রোগীর বিকেলের নাস্তা
ডায়াবেটিস রোগীদের কিছুক্ষণ পর পরই হালকা কিছু নাস্তা করা উচিত। যেমন, চিনি ছাড়া বিস্কিট, ব্রেড,মুড়ি ইত্যাদি। বিকেলের নাস্তায় তাই হালকা কিছু খাবার রাখা যেতে পারে।
চা: গ্রিন টি অথবা মশলা চা চিনি ছাড়া খেতে পারেন। সাথে বিস্কিট, মুড়ি বা টোস্ট।
হালুয়া: ক্যাল ফ্রি দিয়ে গাজর বা সুজির হালুয়া খেতে পারেন। বুটের হালুয়াও বেশ স্বাস্থ্যকর।
শরবত ঘরে বিভিন্ন ফলের শরবত চিনি ছাড়া বানিয়ে নিন।
বিকেলের নাস্তা ( বিকেল ৫.৩০ – ৬ টা)
সিজনাল ফল (১ সারভিং) পছন্দমত ১ সারভিং সিজনাল ফল
বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্য (১ সারভিং) ১/৪ কাপ বাদাম বা বুট বা কলাই জাতীয় খাদ্য
ডায়াবেটিস রোগীর রাতের খাবার
রাতের খাবার চালের অথবা আটার রুটি
রাতে ভাত খাওয়াটা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য একেবারেই উচিত না। তাই চাল, গম অথবা আটার পাতলা ৩টি থেকে ৪টি রুটিই রাতের জন্য যথেষ্ট।
সবজি
রাতে রুটির সাথে হালকা সবজি খাওয়া যেতে পারে। পেটে গ্যাসের সমস্যা হলে ফল খাওয়ার দরকার নেই। মাছ রাতে মাংস না খাওয়াই ভাল। এক পিস মাছ খাওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে, প্রতিদিন হাঁটতে যেতে হবে। কিছু হালকা ব্যায়ামের সাথে ওষুধ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
রাতের খাবার (রাত ৯ টা – ৯.৩০)
রুটি অথবা ভাত (১ সারভিং) ১/২ কাপ ভাত অথবা ১ টা আটার রুটি
মাছ অথবা মাংস (২ সারভিং) ৬০ গ্রাম পরিমাণ রান্না করা মাছ বা মাংস (ফ্যাট ছাড়া)
শাক সবজি (২ সারভিং) ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক খাকবে অবশ্যই, বাকী আধা কাপ অন্যান্য সবজি
সিজনাল ফল (১ সারভিং) ১ সারভিং সিজনাল ফল
ডায়াবেটিস রোগী কি খাওয়া উচিত ও কি খাওয়া উচিত না
খাবারের কালিকা ভিডিওটিতে দেখে নিন..
https://youtu.be/m6idhPV9QA4
অধিক চিনি যুক্ত খাবার, বেশি তেলে ভাজা পোড়া খাবার, মিষ্টি জাতীয় পানীয়, ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার, প্রানিজ ফ্যাট, রিফাইন্ড করা বা চকচকে সাদা ময়দার তৈরি খাবার, মধু বা সিরাপ জাতীয় খাবার, মিষ্টি জাতীয় শুকনা ফল এবং প্রক্রিয়া জাত করা স্নাক ফুড কখনই খাবেন না।
ডায়াবেটিক রোগীদের আঁশবহুল খাবার যেমন ডাল, শাক, সবজি, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, গমের আটার রুটি, টকফল বেশি খেতে হবে। কারণ আঁশ জাতীয় খাদ্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে ক্ষতিকর লিপিড এবং কলেস্টোরেলের মাত্রাও কমিয়ে দেয়।
রসালো ফল যেমন, আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, আঙ্গুর, তরমুজ, পেঁপে, আনারস এসব ফল সীমিত পরিমাণে খেতে কারণ এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। টক ফলে শর্করা কম থাকে। ডায়াবেটিক রোগীর উপকারী ফলের তালিকায় থাকবে লেবু, আমলকী, সবুজ আপেল, বাতাবি লেবু। এ তালিকার নিচে থাকবে কলা, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি। অপকারীর তালিকার দুটি ফল হল কামরাঙা ও আঙ্গুর।
প্রাণীজ চর্বির পরিমাণ কমিয়ে উদ্ভিজ চর্বির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। সম্পৃক্ত চর্বি যেমন- ঘি, মাখন, চর্বি ডালডা, চর্বিযুক্ত মাংস ইত্যাদি কম খেতে হবে। এর পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন- উদ্ভিজ তেল অর্থাৎ সয়াবিন তেল, সরিষার তেল এবং মাছ খেতে হবে। ডিমের হলুদ অংশে কলেস্টোরেল বেশি থাকে তা কম খাওয়া উচিত।
// দৈনিক বিশ্ব স্বাস্থ্য টিপস//
বাগেরহাটের রামপালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ জলিলের রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন
খুলনার ডুমুরিয়ায় স্বাস্থ্য কমিটি সমন্বয় সভা
বাগেরহাটের রামপালে র্যাবের ভ্রাম্যমান আদালতে ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ ২ চিকিৎসককে জরিমানা
বাগেরহাটের রামপালে দুই চিকিৎসক এবং এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে জরিমানা করেছেন র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিকেলে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, ভঙ্গুর অবকাঠামো এবং লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ থাকার অপরাধে রামপাল উপজেলার ফয়লাহাটে নিউ এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
আইন বহির্ভূতভাবে নামের পিছনে ডাক্তার লেখা ও ইখতিয়ার বহির্ভূত প্র্যাকটিস করার অপরাধে কামরুন নাহার মাহফুজা নামের এক মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে ১০ হাজার এবং মা মেডিকেল হলের প্রোপাইটর মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

র্যাবের সহযোগিতায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আজিজুল কবির ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক হিসেবে এই অর্থ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দণ্ডাদেশ প্রাপ্ত চিকিৎসক কামরুন নাহার মাহফুজা নিউ এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে ডাক্তার লিখে প্রচার-প্রচারণা, জটিল রোগ দেখা ও নিয়ম বহির্ভূত পরামর্শ প্রদানের অপরাধে র্যাব-৬ এর সদস্যরা এই নারী চিকিৎসক ও
মা মেডিকেল হলের প্রোপাইটর মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট নারায়ণ চন্দ্র মণ্ডলকে আটক করে র্যাব সদস্যরা।
অন্যদিকে নিউ এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. মানছুর গা ঢাকা দেওয়ায় তার স্ত্রী হাবিবা সুলতানাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। র্যাবের অভিযানের সময় বাগেরহাট সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার ডা. সুব্রত কুমার দাস উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, জরিমানার আওতায় আনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি কোনো প্রকার নিয়ম কানুন না মেনে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। একটি কক্ষকে রান্না ঘর ও পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহার করা হত। সেন্টারে একটি এক্সরে মেশিন থাকলেও মেশিনটি খুবই পুরাতন ও ভঙ্গুর। ১০ ইঞ্চি পুরু দেওয়াল ও এক দরজা বিশিষ্ট কক্ষে এক্সরে মেশিন রাখার কথা থাকলেও কক্ষটির অবস্থা অনেক খারাপ।
দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত দুই চিকিৎসক দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম বহির্ভূতভাবে প্র্যাকটিস করে আসছিল। চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীদের ঠকিয়ে আসছিল। ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও দুই চিকিৎসককে জরিমানার পাশাপাশি সতর্ক করা হয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার আজিজুল কবির বলেন, ভোক্তা অধিকার আইন-২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক দুইজন চিকিৎসকে ৬০ হাজার টাকা এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
র্যাব-৬ এর কর্মকর্তা পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম বলেন, জন মানুষের সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য র্যাব বদ্ধ পরিকর। এর অংশ হিসেবে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রামপাল উপজেলার ফয়লাহাট বাজারস্থ নিউ এপোলো ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান চালানো হয়। সেখানে নানা অব্যবস্থাপনা ও লাইসেন্স না থাকার মত অপরাধ পাওয়া যায়।
এছাড়া দুইজন চিকিৎসককে প্রতারণার আশ্রয় গ্রহণ করে সেবা নিতে আসা রোগীদের ঠকানোর অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়। এসব অপরাধে চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়েছে। র্যাব-৬ এর এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
এ এইচ নান্টূ, বিশেষ প্রতিনিধি//
ঝালকাঠিতে লঞ্চে ভয়াবহ আগুন, ৩৯ লাশ উদ্ধার
আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ আই কেয়ার সেন্টার’র উদ্বোধন
মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি।।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল পৌর শহরের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় রোডে (২২ ডিসেম্বর বুধবার)আধুনিক চক্ষু চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যে গ্রামীণ আই কেয়ার সেন্টার’র উদ্বোধন করা হয়েছে।
এ উপলক্ষে এদিন ওই কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আ’লীগ সভাপতি অধ্যক্ষ সইদুল হক, পৌর মেয়র মোস্তাফিজুর রহমান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ আব্দুস সামাদ চৌধুরী, পৌর আ’লীগ সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ও প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম।
এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে ওই কেন্দ্রের ডিজিএম মাইনুল হাসান, পরিচালক গোপাল চন্দ্র রায়, ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল প্রমুখ।গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা থেকে সরাসরি ভার্চুয়াল সংযোগে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামসুল হক। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে রাণীশংকৈলে এ চক্ষু চিকিৎসা কেন্দ্রকে স্বাগত জানিয়ে এর সফলতা কামনা করেন।
ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নেতার ছেলে অসুস্থ থাকায় এমপি সালাম মুর্শেদীর খোঁজখবর
আ:রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো:
খুলনা জেলার রুপসা উপজেলার শ্রীফলতলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো: রবিউল ইসলাম বিশ্বাস এর একমাত্র ছেলে মো: ইবনে সামস পিয়াল (২০) গত ১৬ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাত ৯ টার দিকে এক সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অবস্থায় খুলনা গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার আরো অবনতি হওয়ায়। খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদী বিষয়টি জানতে পেরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
আব্দুস সালাম মূর্শেদী এমপি আজ মঙ্গলবার (২১ ডিসেম্বর) দুপুরে রবিউল ইসলাম বিশ্বাস এর ছেলের খোঁজখবর নিতে স্কয়ার হাসপাতালে গিয়ে ডাক্তারদের সাথে কথা বলেন এবং তার চিকিৎসার সর্বাত্মক সহযোগীতার আশ্বাস প্রদান করেন।
.নগদে টাকা না পাওয়ায় পেটে টিউমার রেখেই সেলাই
গতকাল মানিকগঞ্জ জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ডাক্তারের টাকা দিতে বিলম্ব হওয়ায় টিউমার অপারেশন করতে এসে পেটের টিউমারটি বের না করে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার ভোরে মানিকগঞ্জ জেলা শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এ অমানবিক ঘটনার শিকার হয়েছেন আফরোজা আক্তার নামের এক গৃহবধূ। রোববার ভুক্তভোগী রোগী ও তার স্বজনরা এ অভিযোগ করেন।
অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. খায়রুল হাসান বলেন, একটি অপারেশন করতে গিয়ে আরেকটি অপারেশন প্রয়োজন পড়লে তার জন্য বাড়তি তিন হাজার টাকা ফি দাবি করেছি। টাকা চাওয়াটা তো আমার ভুল হয়নি। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর আবারো অজ্ঞান করা লাগতে পারে; অথবা অন্যকোনো সমস্যা হতে পারে- এমন ভাবনা থেকেই আমি আর টিউমার অপসারণের অপারেশনটি করিনি। অপারেশনটি পরে করলেও চলবে।
অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে জেলার সাটুরিয়া উপজেলার নয়াডিঙ্গী গ্রামের দরিদ্র পরিবারের গর্ভবতী ওই গৃহবধূকে ভর্তি করা হয় ওই হাসপাতালে। প্রসব যন্ত্রণা উঠায় রাত ২টার দিকে তাকে নেওয়া হয় অপারেশন থিয়েটারে।
অপারেশন করতে আনা হয় ডা. খায়রুল হাসান এবং অজ্ঞানের চিকিৎসক ডা. আশিককে। গর্ভবতী ওই নারীকে ৪৫ মিনিট পর্যবেক্ষণের পর তারা অপারেশন শুরু করেন। একটি সুস্থ কন্যাশিশু হয় তার। অপারেশন শেষে ওই নারীর পেটে একটি টিউমার দেখতে পান চিকিৎসকরা। তিন হাজার টাকা দিলে তিনি অপারেশন করে টিউমার অপসারণ করবেন বলে রোগীর স্বজনদের জানান। কিন্তু এ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় তিনি পেটের মধ্যে টিউমার রেখেই সেলাই করে চলে যান।
ওই নারীর স্বামী বলেন, আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমি গরিব মানুষ। আমার গর্ভবতী স্ত্রীকে নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায়, অন্য হাসপাতাল থেকে চিকিৎসক ডেকে আনা হয়। অপারেশন শেষে পেটে টিউমার ধর পড়ার পর চিকিৎসক টিউমার অপসারণ করতে তিন হাজার টাকা চান। আমি তার প্রস্তাবে রাজি হই এবং টাকাটা নগদ তাকে দিতে চাই কিন্তু ভোরে বিকাশের দোকান বন্ধ থাকায় এবং টাকাটা সংগ্রহ করতে একটু দেরি হওয়ায় তিনি পেটের মধ্যে টিউমার রেখেই সেলাই করে চলে যান। আমিসহ আমার পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার অনুরোধ করি। হাসপাতালের লোকজনও তাকে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি কারও অনুরোধই রাখেননি। একজন চিকিৎসক যদি এতটা অমানবিক হয়, তাহলে আমাদের মতো নিরীহ মানুষ কোথায় যাবে?
ভুক্তভোগী ওই নারী বলেন, আমার পেট থেকে সন্তান বের করার পর কমপক্ষে আধাঘণ্টা আমাকে সেখানে পেট কাটা অবস্থায় ফেলে রাখে। তারপর পেটে টিউমারটি রেখেই সেলাই করে দেয়। এ টিউমার অপসারণ করতে আবার পেট কাটতে হবে। মাত্র তিন হাজার টাকার জন্য তিনি আমার সঙ্গে এমন করলেন, তিনি কেমন ডাক্তার?
ওই হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমান বলেন, আমাদের হাসপাতালে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সার্বক্ষণিক থাকলেও সার্জারির চিকিৎসক অধিক রাতে থাকেন না। এ কারণে বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে সার্জারির চিকিৎসকদের ডেকে এনে অপারেশন করাই। ডা. খায়রুল হাসানকে ডাকলে তিনি অজ্ঞানের চিকিৎসককে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত চলে আসেন। তাকে রাতের ডাক্তারও বলা হয়।
তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে আমার শরীরটা খারাপ থাকায় আমি একুট আগেই শুয়ে পড়ি। তিনি অপারেশন শুরু করার পর রোগীর লোকজন আমাকে ফোন করে আসতে বলেন। আমি চিকিৎসককে অনুরোধ করে বলি, রোগী টাকা না দিলে আমি তাকে টাকা দেব। কিন্তু তিনি তা না করে, পেটের মধ্যে টিউমার রেখে সেলাই করে চলে যান। এটি অত্যন্ত অমানবিক। এতে আমার হাসপাতালেরও সুনাম নষ্ট হয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. লুৎফর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে আমি বিষয়টি অবগত হয়েছি। এটা অত্যন্ত অমানবিক। এ ধরনের একজন, দুজন চিকিৎসকের অমানবিক আচরণের কারণে গোটা চিকিৎসক সমাজের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। ভুক্তভোগীর স্বজনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।
//অনলাইন নিউজ//
‘বঙ্গবন্ধু’ ছবিটিতে শেখ হাসিনা চরিত্রে নুসরাত ফারিয়া: কি বললেন
খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিস- আরো যা বলল মেডিক্যাল বোর্ড
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার লিভার সিরোসিসের কারণে ব্লিডিং হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তার চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরা।
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি নেত্রীকে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র বা জার্মানির বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সুপারিশ করেছেন তারা।
বিএনপি নেত্রীর যকৃত বা লিভারে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে উল্লেখ করে চিকিৎসকরা জানান, একবার এই রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়া গেছে। তবে এখন তার যে অবস্থা, সেটি দ্বিতীয়বার সামাল দেওয়া কঠিন হবে।
বাংলাদেশে দুই থেকে তিন বার রক্তক্ষরণ সামাল দেওয়ার কারিগরি সুযোগ নেই দাবি করে চিকিৎসকরা তাকে যত দ্রুত সম্ভব দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন।
গুলশানে বিএনপি নেত্রীর বাসভবন ফিরোজায় ব্রিফিংকরে বিএনপির নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসকরা এসব তথ্য জানান।
বিএনপি নেত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের গঠন করা মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান এফ এম সিদ্দিকী ব্রিফিংয়ে তার রোগ নিয়ে প্রাথমিক একটি বর্ণনা দেন।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পেট থেকে চাকা চাকা রক্ত যাচ্ছে উল্লেখ করে এফ এম সিদ্দিকী জানান, ইউনাইটেড হাসপাতালে একবার রক্ত দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া গেছে। কিন্তু এই ধরনের রোগীকে বারবার রক্ত দেওয়া সম্ভব নয়।
আবার ব্লিডিং হলে বিএনপি নেত্রীর মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
//অনলাইন নিউজ//
ওমিক্রন ঠেকাতে কমিটির দেওয়া যে ৪ সুপারিশ
জগন্নাথপুরে ফকির একলাগাজী স্মরণে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান
মাগুরায় সেবা প্রার্থীদের জন্য কুইক সার্ভিস ডেলিভারি পয়েন্টের উদ্বোধন
যশোরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে নির্বাচনী ব্রিফিং
ইসরাইল দ: আফ্রিকাসহ ৫ দেশে ওমিক্রন শনাক্ত
করোনাভাইরাসের রূপান্তরিত নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন শনাক্ত হয়েছে ইসরাইলসহ পাঁচ দেশ ও অঞ্চলে ।
ইউরোপে সর্ব প্রথম করোনার এই ধরন শনাক্ত হয়েছে বেলজিয়ামে। এছাড়া ১৯৬৬ সালে ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করা আফ্রিকার ছোট দেশ বোতসোয়ানা এবং এশিয়ার দুই দেশ ইসরাইল ও হংকংয়েও সন্ধান মিলে এ ভ্যারিয়েন্টের।
ইতোমধ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, করোনাভাইরাসের নতুন এই ধরনটি মূল ভাইরাস ও তার অন্য রূপান্তরিত ধরনগুলোর চেয়ে অনেক দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়তে বা মানুষকে আক্রান্ত করতে সক্ষম।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক যেসব তথ্য পাওয়া গেছে সেসব পর্যালোচনা করে বোঝা যাচ্ছে- করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে ওঠা ব্যক্তিরাও ওমিক্রনে আক্রান্ত হতে পারেন।
২৫ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম শনাক্ত হয় বি.১.১৫২৯ নামের এই রূপান্তরিত ধরনটি, পরে গ্রিক বর্ণমালা অনুসারে যার নাম দেওয়া হয় ওমিক্রন। ইতোমধ্যে এই ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকার বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।
যদি দ্রুত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা না হয়, সেক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে এটির ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ প্রায় অসম্ভব হবে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাজ্যের সরকারি স্বাস্থ্য নিরাপত্তা সংস্থা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নতুন শনাক্ত হওয়া রূপান্তরিত ধরনটির স্পাইক প্রোটিন মূল করোনাভাইরাসের চেয়ে অনেকটাই ভিন্ন।
ফলে, মূল করোনাভাইরাস থেকে এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অনেক বেশি- এমন শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়ার উপায় নেই।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ও তার আশপাশের দেশগুলো থেকে ফ্লাইট আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
পাশাপাশি, যে ব্রিটিশ যাত্রীরা গত কয়েকদিনের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা বা তার পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে ফিরেছেন, তাদের কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
//অনলাইন নিউজ//
গ্লোব বায়োটেক বঙ্গভ্যাক্স টিকা মানবদেহে পরীক্ষার অনুমতি পেয়েছে
বাংলাদেশে তৈরি করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন বঙ্গভ্যাক্সের মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বঙ্গভ্যাক্স টিকার ট্রায়াল প্রাণিদেহে সফল হওয়ায় মঙ্গলবার এই অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি)।
বিএমআরসির পরিচালক ডা. রুহুল আমিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ফেজ-১ (প্রথম ধাপ) এর পরীক্ষার জন্য অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এখনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। বাকি বিষয় ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর দেখবে।
ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান গ্লোব ফার্মার সহযোগী গ্লোব বায়োটেক দেশে করোনাভাইরাসের মহামারি শুরুর পর গত বছরের ২ জুলাই করোনা টিকা তৈরির কাজ শুরুর কথা জানায়।
পরে বানরের দেহে বঙ্গভ্যাক্স টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ফলাফল নিয়ে প্রতিবেদন গত ১ নভেম্বর বাংলাদেশ মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিলে (বিএমআরসি) জমা দেয় করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির লড়াইয়ে থাকা বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিষ্ঠান গ্লোব বায়োটেক লিমিটেড।
গ্লোব বায়োটেক লিমিটেডের কোয়ালিটি অ্যান্ড রেগুলেটরি বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন সেদিন যুগান্তরকে বলেছিলেন, যে কোনো টিকা তৈরির পর ধাপে ধাপে নানা পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সর্বশেষ মানবদেহে পরীক্ষামূলক প্রয়োগে তা নির্দিষ্ট রোগ প্রতিরোধে অ্যান্টিবডি তৈরিতে সফলতার মুখ দেখলে তা টিকা হিসাবে স্বীকৃতি পায়।
//অনলাইন নিউজ//
খুলনায় আড়ুয়া আতাই নদীর উপর সেতু নির্মাণে স্পেন প্রতিনিধির সাথে সালাম মূর্শেদী এমপির বৈঠক
