রাজবাড়ীতে পূর্বশত্রুতার জেরে ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা

রাজবাড়ীতে সুজন তালুকদার (২৮) নামে এক বালু ব্যবসায়ীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় আহত হয়েছেন রিমন ও একরামুল নামে আরও দুজন।

সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিজানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদপুর গ্রামের রেললাইনের পাশে ভাদালের মাঠে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সুজন তালুকদার মিজানপুর ইউনিয়নের গঙ্গাপ্রসাদপুর এলাকায় গিয়াসউদ্দিন তালুকদারের ছেলে।  তিনি পেশায় বালু ব্যবসায়ী।

হাসপাতালে ভর্তি আহত একরামুল ইসলাম বলেন, সোমবার ইফতার ও মাগরিবের নামাজ শেষে গঙ্গাপ্রসাদপুর রেললাইনের ওপর বসেছিলাম আমি, সুজন ও রিমন। এ সময় হঠাৎ ৭-৮ জনের একদল দুর্বৃত্ত মুখে কাপড় বেঁধে  আমাদের তিনজনকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই সুজন মারা যায়।

এ ঘটনায় আহত দুজনকে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে  রিমনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী সালমা বেগম  বলেন, পূর্বশত্রুতার জেরে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। সন্ত্রাসীরা এর আগেও আমাদের বাড়িতে হামলা করে ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছিল।

রাজবাড়ী থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় সুজন তালুকদার নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তাদের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।  পূর্বশত্রুতা নাকি অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

থাই সীমান্তের কাছে মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর একটি চৌকিতে তীব্র  লড়াই

 

থাইল্যান্ড সংলগ্ন মিয়ানমারের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের কাছে সেনাবাহিনীর একটি চৌকিতে তীব্র লড়াই শুরু হয়েছে।

মঙ্গলবার ভোর থেকে মূলত বিদ্রোহী কারেন আর্মির নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকাটিতে দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই শুরু হয়। কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়ন বলছে, তীব্র লড়াইয়ের মধ্যে দিয়ে তারা সেনাবাহিনীর অবস্থানটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এমন খবর দিয়েছে।

মিয়ানমারের ১ ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে এটি সবচেয়ে তীব্র লড়াইগুলোর মধ্যে একটি।

দেশটিতে সহিংসতা বন্ধে তারা জান্তার সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছেন, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার নেতারা এমন কথা বলার কয়েকদিনের মধ্যে এ লড়াই।

থাইল্যান্ডের সালউইন নদীর দুই পাড়ের গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, সূর্য ওঠার আগে থেকেই ব্যাপক গোলাগুলি শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ভিডিওতে বন ঘেরা পাহাড়ের একপাশে আগুন ও ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।     

কারেন ন্যাশনাল ইউনিয়নের (কেএনইউ) বাহিনীগুলো স্থানীয় সময় ভোর ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সীমান্ত চৌকিটি দখল করে নেয়।

শিবিরটি দখল করে সেটি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কতোজন হতাহত হয়েছে কেএনইউয়ের সদস্যরা তা পরীক্ষা করে দেখছে।

স্থানীয় মিডিয়া গোষ্ঠী ‘কারেন তথ্য কেন্দ্র’ জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর ঘাঁটিটি ছারখার করে দেওয়া হয়েছে। গ্রামবাসীরা সৈন্যদের দৌঁড়ে পালাতে দেখছেন বলে জানিয়েছে তারা।

কারেনদের এসব দাবির বিষয়ে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

মিয়ানমারের ওই ঘাঁটির সৈন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা থাইল্যান্ডের গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কেএনইউয়ের বাহিনীগুলো এই ঘাঁটিটি ঘেরাও করে রেখেছিল তাই সেখানে পর্যাপ্ত খাবার ছিল না।

//অনলাইন ডেস্ক//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীকে জরিমানা : কারণ মাস্ক না পরা

 

একটি জরুরি বৈঠকে মাস্ক না পরায় থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথ চান-ওচাকে ছয় হাজার বাথ (১৯০ মার্কিন ডলার) জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার সকালে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।  প্রায়ুথ তার ফেসবুকপাতায় বৈঠকের একটি ছবি পোস্ট করেন। যেখানে দেখা যায়, মাস্ক ছাড়াই তিনি বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন।  যদিও ছবিটি পরে সরিয়ে নেওয়া হয়।  খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।

ওই ছবি প্রকাশের পর প্রায়ুথকে জরিমানা করা হয় বলে জানান ব্যাংককের গভর্নর অশ্বিন ওয়ানমুয়াং।

রাজধানী ব্যাংককসহ থাইল্যান্ডের ৪৮ প্রদেশে মাস্ক পরার বাধ্যবাধকতার সময় বাড়ানো হয়েছে এবং নিয়ম আরও কঠোর করা হয়েছে।

সেখানে এখন একমাত্র বসতবাড়ির ভেতর ছাড়া সব জায়গায় মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এমনকি ব্যক্তিগত গাড়িতে একজনের বেশি আরোহী থাকলেও মাস্ক পরতে হবে।

সোমবার থেকেই নতুন এই নিয়ম কার্যকর হয় এবং প্রধানমন্ত্রী প্রায়ুথই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ওই আইনে প্রথম জরিমানা দিতে যাচ্ছেন। যদিও এ অপরাধে সর্বোচ্চ জরিমানা ২০ হাজার বাথ (৬৩৯ মার্কিন ডলার)।

ব্যাংককের গভর্নর সোমবার তার অফিসিয়াল ফেসবুকপাতায় এ তথ্য জানিয়ে লেখেন, আমি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছি— এটি কোভিড ১৯-এর বিরুদ্ধে আরোপিত স্বাস্থ্যবিধির লঙ্ঘন।  তিনি জরিমানা দিতে রাজি হয়েছেন।

//আন্তর্জাতিক অনলাইন ডেস্ক//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

চাঁদপুরে নৌ-পুলিশের বিশেষ ঝটিকা অভিযান : ১ কোটি ২ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল, নৌকা সহ আটক-৬

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের হরিনা নৌ- পুলিশ ফাঁড়ির বিশেষ ঝটিকা  অভিযানে ১ কোটি ২ লক্ষ  মিটার কারেন্ট জাল ও একটি নৌকা সহ ৬ জেলেকে আটক করা হয়েছে।

হরিনার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এস আই গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেন-এর নেতৃত্বে চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নের লক্ষীপুর ঘাট থেকে ঝাটকা ইলিশ  নিধনকালে বিশেষ অভিযানকালে ১ কোটি ২ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল ও একটি নৌকা সহ ৬ জেলে আটক করেছে হরিনা নৌ- পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ  সদস্যগন।

ফাঁড়ির ইনচার্জ গোলাম মোহাম্মদ নাসিম হোসেনের সাহসীকতার আলোকে ও তার নেতৃত্বে সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে  বহরিয়া লক্ষিপুর মেঘনা নদীতে  সফল ঝটিকা অভিযান পরিচানায় এযাবৎ কালের সবচেয়ে আলোচিত অভিযান তিনি পরিচালনা করতে সক্ষম হন।    

চাঁদপুরে নৌ-পুলিশের বিশেষ ঝটিকা অভিযান: ১ কোটি ২ লক্ষ মিটার কারেন্ট জাল,

২৬ এপ্রিল সোমবার বিকাল থেকে এঅভিযান শুরু হয়। অভিযান শেষে  চাঁদপুর অঞ্চলের নৌ- পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান ও মৎস্য কর্মকর্তার নির্দেশ মোতাবেক হরিনা নৌ- পুলিশ ফাঁড়ি সম্মুখের মাঠে জব্দকৃত ১ কোটি ২ লক্ষ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে আটককৃত ৬  আসামীর বিরুদ্ধে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় মৎস্য আইনে  মামলা রুজু পক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানাযায়।

//মোঃ হোসেন গাজী, চাঁদপুর সংবাদদাতা //

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

চট্টগ্রামে ঊর্ধ্বমুখী চালের বাজার।। নিম্ন- মধ্যবিত্তের নাভিশ্বাস

 

 মহামারী করোনা ভাইরাসের প্রার্দুভাবে চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেনীর মানুষ। খেটে খাওয়া এ সকল মানুয়ের এখন শ্যাম রাখি না কুল রাখি অবস্থা। করোনার কারনে নিম্ন আয়ের মানুষের রোজগার বলতে গেলে শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। অথচ জীবন ধারনের প্রয়োজনীয় জিনিষ পত্রের মূল্য লাগামহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। চাল তার অন্যতম।

 

চাল এমন একটি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিষ, যা ছাড়া মানুষ একদিনও কল্পনা করতে পারে না। সে চালের বাজারে চলছে অস্তিরতা। চালের বাজারের লাগাম টেনে ধরতে সরকার আমদানী শুল্ক কমিয়ে দিলেও তার প্রভাব চট্টগ্রামের চালের বাজারে নেই।

১৪ এপ্রিল সারা দেশে লকডাউন শুরুর পর থেকে চালের বাজারে অস্তিরতার নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। গত ১৪ দিনে চট্টগ্রামের পাইকারী বাজারে চালের দাম বেড়েছে বস্তা প্রতি আড়াই থেকে তিন শত টাকা। আর খুচরা বাজারে বেড়েছে বস্তাপ্রতি চার থেকে পাঁচ শত টাকা।

 

লকডাউনের আগে থেকে চট্টগ্রামে চালের দাম বাড়তে শুরু করে। সে সময়ে হঠাৎ করে চালের দাম বস্তা প্রতি চার থেকে পাঁচ শত টাকা করে বেড়ে যায়। সে বিষয়ে পাইকারী বিক্রেতারা মিল মালিকদের দোষ দিয়ে বলে মিল মালিকদের মওজুদের কারনে বাজারে চালে ঘাটতি দেখা দেয়ায় চালের দাম বাড়তি। অন্যদিকে মিল মালিকদের ভাষা ভিন্ন। তারা বলেন, বৈশ্বিক বাজারের মূল্য রৃদ্ধি ও আমদানীর অসামজস্যতা কারনে চালের দাম বেড়ে চলেছে।

 

চট্টগ্রামের চালের পাইকারী বাজার খাতুনগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, গত ১৪ দিনের ব্যবধানে জিরা সিদ্ধ চালের দাম ৫০ কেজির বস্তা ৩০০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচেছ ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। পারি সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, স্বর্ণ সিদ্ধ ৩০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৪০০ টাকায়, মিনিকেট সিদ্ধ ২০০ টাকা বেড়ে ২ হাজার ৬০০ টাকায়, কাটারী সিদ্ধ (২৫ কেজির বস্তা) এক হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি হচেছ।      

 

অন্য দিকে বেতি আতপ ২ হাজার ৪০০ টাকার পরিবর্তে (৫০ কেজির) বস্তা ২ হাজার ৭ শত টাকায়, মিনিকেট ২ হাজার আট শত টাকার পরিবর্তে ৩ হাজার এক শত টাকায়, ইরি আতপ ১ হাজার ৮ শত টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ১ শত টাকায় বিক্রি হচেছ।

 

অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানীকৃত বেতির কস্টিং মূল্য কম হলেও বর্তমানে একই মানের চাল বিক্রি হচেছ ২ হাজার ৪ শত টাকা থেকে ২ হাজার ৭ শত টাকায়। নাজির সিদ্ধ (২৫ কেজির) বস্তা বিক্রি হচেছ ১ হাজার ২ শত টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৪ শত টাকায়। পাইকারী বাজারে চালের এই অবস্থা হলেও খুচরা বাজারের অবস্থা বর্ণনাতীত। খুচরা বাজারে প্রতি বস্তা চাল পাইকারী বাজারের ৪ থেকে ৫ শত টাকা বেশি দামে বিক্রি করা হচেছ।

 

এ ব্যাপারে নগরীর কালা মিয়া বাজারের বাসিন্দা আবদুল মোতালেব জানান, তিন মাস আগে বাসমতি চাল কিনেছি (৫০ কেটি বস্তা) ২ হাজার ২ শত টাকায়, একই চাল এখন কিনতে হচেছ ৩ হাজার ২ শত টাকায়। যা ছয় মাসের ব্যবধানে ১ হাজার টাকা বেশি।

 

এ দিকে খাদ্য বিভাগের তথ্য মতে গত বছরের ৭ নভেম্বর থেকে দেশে আমন সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরের ১৫ মার্চ পর্যন্ত-  ৭০ হাজার ১৩৬ টন আমন সিদ্ধ চাল, ৪ হাজার ৮ শত ৬৩ টন আতপ চাল এবং ১২ হাজার ৩ শত ৪২ টন আমন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে সরকারী পর্যায়ে চাল সংগ্রহ করা হয়েছে ৮২ হাজার ২ শত ২ টন। সরকারী পর্যায়ে গত কয়েক মৌসুম ধরে লক্ষমাত্রা অনুযায়ী চল সংগ্রহ করতে পারে নি।

২০২০ সালে বোরো মৌসুমে ১৮ লাখ টন চাল সংগ্রহের লক্ষ মাত্রা থাকলেও সরকার ১০ লাখ টনের বেশি চাল সংগ্রহ করতে পারে নি।  এর মধ্যে সরকারী চালের মজুদ ৫ লাখ টনের নিচে নেমে আসলে বেসরকারী ভাবে চাল আমদানীর সুযোগ দেয়া হয়। এ দিকে চালের এই লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধিতে নিম্ন- মধ্যবিত্ত লোকজন সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে। সরকার চালের মূল্য বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরতে না পারলে জনগনের জীবন যাত্রার মান কোথায় গিয়ে দাড়াবে তা ভেবে দেখা দরকার।  

// আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো //

 

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সর্বসাধারণের মাঝে যুবলীগ নেতা মকছুদের ইফতার বিতরণ

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে পবিত্র মাহে রমযান উপলক্ষে উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মকছুদ মাসুদের উদ্যোগে সর্বসাধারণের মাঝে ইফতার বিতরণ আয়োজন করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) উপজেলার বৈলছড়ি ইউনিয়নের চেচুরিয়া বাজারে ইফতার পূর্ব মূহুর্তে কয়েক শত পথচারী, এতিম শিক্ষার্থী, পরিবহন যাত্রীসহ সর্বসাধারণের মাঝে এ ইফতার বিতরণ করা হয়।

 

এ প্রসঙ্গে  বাঁশখালী উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মকছুদ মাসুদ  বলেন- ‘রমজান আত্মশুদ্ধি, সাম্য ও মানবিকতা চর্চার মাস। আমরা আজ মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পথচারী ও এতিম শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইফতার বিতরণ আয়োজন করেছি। পবিত্র মাসের শিক্ষা ও ঐতিহ্য সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ুক।’

 

এতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্রলীগ নেতা মহিম আজম, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সদস্য মহসিন সিরাজ, বাঁশখালী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা সৈয়দ সাকিব সামদুন প্রিতম, নুরুল কাদের সিজান, ওবাইদুল কাদের জিল্লু, আরিফুল ইসলাম, মুহাম্মদ ফয়সাল, নুরুল হুদা নাঈম, ইমতিয়াজুল হক, মুহাম্মদ ওয়াসিফ, মুহাম্মদ সাজ্জাদ, মুহাম্মদ তানভীর প্রমুখ।

//আবদুল জব্বার, বাশখলী, চট্রগ্রাম প্রতিনিধি//

 

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

গাজীপুরে নকল,নিম্নমানের ও ভেজাল কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে জরিমানা আদায়

 

বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে রূপচর্চার জন্য প্রসাধনীর কোন বিকল্প নেই। ছেলে- মেয়ে উভয়ই কমবেশি রূপের সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য নামীদামী ব্রান্ডের কসমেটিক ব্যবহার করে।কিন্তু এই নামী-দামী ব্রান্ডের অন্তরালে দেশীয় ভেজাল কসমেটিক বিক্রি করেন অনেক অসাধু ব্যবসায়ী। ভোক্তাদের ফাঁকি দেওয়ার এই প্রবণতা দেখা যায় অহরহ।

আর তাই ভোক্তাদের অধিকার রক্ষায় আজ ২৬ এপ্রিল -২০২১ রোজ সোমবার সকাল ১০ঃ০০ টা থেকে দুপুর ১ঃ০০ টা পর্যন্ত গাজীপুর জেলার সৈয়দ আলী সুপার মার্কেট, চান্দনা চৌরাস্তা এবং নিউ চকবাজার মার্কেটের কসমেটিকসের পাইকারী ও খুচরা দোকানে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

মোবাইল কোর্ট পরিচালনা কালে দেখা যায় দোকান সমূহে নকল, অতি নিম্নমানের ও ভেজাল কসমেটিকস- এ সয়লাব। এই নকল নিম্নমানের ভেজাল কসমেটিকস বিক্রির অপরাধে দুই মার্কেটের ০৬ টি দোকানের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের অধীনে ৪২,৫০০/-( বিয়াল্লিশ হাজার পাঁচশত) টাকা জরিমানা করা হয়।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

নীলফামারীর ডোমার  উপজেলায় ট্রাক্টরের অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ

 

আজ সোমবার ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষেরা জানান, ডোমারের ইউনিয়ন গুলোতে দিন রাত সর্বক্ষন শহরে গ্রামে রাত দিন ট্রাক্টর চলাচলের অত্যাচারে অতিষ্ট সাধারন মানুষ,এতে করে সড়ক গুলো যেমন ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে তেমনি ছোটখাট দূর্ঘটনা সহ হতাহতের ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।  উপজেলার বিভিন্ন  ইউনিয়ন গুলোতে দিন রাত যে ভাবে উচ্চ শব্দে ব্যালেন্সহীণ ভাবে চলছে ট্রাক্টর,বিশেষ করে ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে যে ভাবে টাক্টর চলাচল করছে তাতে সাধারন মানুষ ও এলাকা বাসি পাড়া মহল্লার সড়ক গুলোর যে অবস্থা হচ্ছে তাতে যান চলাচলে সৃষ্টি হচ্ছে চরম ভোগান্তি।

ডোমারউপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের দাবী পর্যায়ে ট্রাক্টর চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হোক ও উপজেলা আইনশৃঙ্খলা বাহীনির মাধ্যমে ডোমার উপজেলার সকল সড়কের উপর দিয়ে দিনেরবেলা ট্রাক্টর চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।

জানা যায় যান্ত্রিক দানব খ্যাত এ ট্রাক্টর যন্তটি মূলত একটি কৃষি যন্ত্র হিসেবে কৃষকদের জন্য স্বল্প শুল্কে এদেশে কৃষি কাজের জন্য আমদানি করা হয়,এই যানবাহনটি জমি চাষের জন্যে  ব্যাতিত সড়কে চলাচলের কোন প্রকার সরকারি অনুমতি নেই। সময়ের পরিক্রমায় এটি দিয়ে বাসা বাড়ি নির্মানের কাজ সহ সকল ধরনের স্থাপনা নির্মানের কাজে ব্যবহৃত মালামাল বহনের জন্য ট্রাক্টর বাহন হিসেবে দাঁড়িয়েছে।

এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ট্রাক্টর মালিকরা ব্যবসার কাজে লাগিয়ে ট্রাক্টর ব্যবহার করে আসছে,ট্রাক্টর শুধুমাত্র কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এটি সড়কের উপর ব্যবহার করার জন্য অনুমোদিত নয়। ডোমার উপজেলার ঘাতক ট্রাক্টর গুলো অনেক তাজা প্রাণ কেরে নিয়েছে। অত্যান্ত দ্রুত গতীতে এটি সড়কে চলাচল করে সম্পূর্ন ব্যালেন্সহীন ভাবে। সকল শ্রেণী পেশার মানুষ চায় এটি নিষিদ্ধ করা হোক তাই ডোমারে ট্রাক্টর নিষিদ্ধের ব্যপারে জোর দাবি জানান এলাকাবাসি।

ট্রাক্টরের চাপায় পৃষ্ট হয়ে ঘটে যাওয়া নৃশংস হত্যাকান্ড গুলোর কোন বিচার হয় না বলে,ঘটনা ঘটার সাথে সাথে চালক পালিয়ে যায়। এই অবৈধ যানটি যেন বৈধ যানবাহনের মতো চলতে থাকে কোন প্রকার আইনি পদক্ষেপ না থাকায় ট্রাক্টর চালকরা হয়ে উঠেছে বেপরোয়া?মালিকরা অধিক লাভের আশায় অদক্ষ চালক দিয়ে মাটিকাটা শ্রমিকদের দিয়ে ট্রাক্টর চালাতে বাধ্য করছে-এতে করে প্রতিদিন গড়ে ছোটখাট দূর্ঘটনা সহ ঘটে যাচ্ছে বড় ধরনের প্রাণ হাণির ঘটনা।

ডোমার উপজেলার সকল ইউনিয়নের সড়ক সহ অনেক গ্রামের পাড়া মহল্লায় দিন রাত ট্রাক্টর চলাচল করে রাস্তাগুলো অল্প সময়েই ধ্বংস করে দিচ্ছে এখন উক্ত সড়ক গুলোতে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে,সে ক্ষেত্রে এলাকা এবং উপজেলা ইউনিয়নের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে তারা।সেই সাথে এসব যানের কোন ব্যালেন্স নেই অত্যান্ত তীব্র গতীতে ছুটে চলে একের পর এক ঘটিয়ে চলছে দূর্ঘটনা উপজেলার সকল সড়কের উপর দিয়ে ট্রাক্টর চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক ।

সোনারায় ইউনিয়ন বাসির প্রত্যাশা হলো সাধারণ মানুষের জনস্বার্থের কথা ভেবে এলাকার রাস্তা এবং উপজেলার সড়ক রক্ষায় ট্রাক্টর গুলোকে সড়কের উপর দিয়ে চলাচলের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হোক।

//স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান//

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

 

 

পটুয়াখালী মাদারবুনিয়ায়  ভদ্দর ডাক্তার ও তার ছেলে তুহিন এর নেতৃত্বে সন্ত্রাসী হামলা

 

পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নে ডাক্তার মোতাহার হোসেন ভদ্দর এর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সরকারি খাল দখল করা, ছেলে দিয়ে বাহিনী তৈরি করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, চাঁদাবাজি সহ নানান অভিযোগ উঠেছে।

জানাগেছে মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড মাদারবুনিয়া বাজারে গত ২৪-এপ্রিল ডাক্তার ভদ্দরের নেতৃত্বে তার ছেলে তুহিন স্থানীয় ও বহিরাগত সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালিয়ে তিন জনকে আহত করে।এসময় দুটি এন্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও টাকা পয়সা ছিনতাই এর ঘটনা ঘটায়।এনিয়ে ঐদিন পটুয়াখালী সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযুক্তরা হলো, (১). মোতাহার হোসেন ভদ্দর (৫৮), (২). তুহিন সিকদার (২৫), পিতাঃ মোতাহার হোসেন ভদ্দর, (৩). আল-আমিন সিকদার (৩৮), পিতাঃ আব্দুল খালেক সিকদার, (৪). ফারুক সিকদার (৫৫), পিতাঃ মৃত আঃ রহমান সিকদার, (৫). আব্দুল খালেক সিকদার (৪৮), পিতাঃ মৃত মুনসুর আলী সিকদার, (৬). খালেক সিকদার (৫৫), পিতাঃ মৃত কেরামত আলী সিকদার সহ অজ্ঞাত।

অভিযোগ সুত্রে জানাগেছে, একটি কুচক্রী মহলের লোকজন মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ছোইলাবুনিয়া সরকারি খালে অবৈধভাবে বিভিন্ন স্থানে বাঁধ প্রদান করে ব্যাক্তি সার্থে মৎস্য চাষ করছে দীর্ঘদিন আর এর নেতৃত্বে রয়েছেন ডাক্তার মোতাহার হোসেন ভদ্দর ও তার ছেলে তুহিন সিকদার।স্থানীয় কৃষি আবাদে সমস্যা হওয়ায় এলাকায় সাধারন জনগন বাঁধ কেটে দিয়ে খাল উন্মুক্ত করে দেয়।এরই জের ধরে গত ২৪ এপ্রিল সকাল ৯ টার সময় মাদারবুনিয়া বাজারে তুহিন সিকদার তার বাহিনী মিলে দেশীয় অস্ত্র রামদা, বাংলা দাও, লোহার রড হকিষ্টিক নিয়ে হামলা চালায়। এসময় সন্ত্রাসীরা তিন জনকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। আহতরা হলেন, আব্দুল্লাহ আল-মামুন সিকদার (৩৬), ফেরদৌস সিকদার, উভয় পিতাঃ সোবাহান সিকদার ও মিজানুর সিকদার, পিতাঃ আবুল কাশেম সিকদার।পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে আহত অবস্থায় পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন বর্তমানে আহতরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভর্তি রয়েছেন।

এবিষয়ে আহতরা বলেন, কোন কিছু বুজে ওঠার আগেই ১০-১২ জন মিলে আমাদের এলোপাতাড়ি ভাবে পেটাতে থাকে এতে আমরা গুরুত্বর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যাই তখন সন্ত্রাসীরা আমাদের পেটাতে থাকে এবং আমাদের সাথে থাকা মোবাইল ফোন টাকা পয়সা ছিনিয়ে নেয়।আমাদের ডাকচিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।তারা বলে সরকারি খাল দখল করে রাখায় এলাকার কৃষি আবাদ, জলাবদ্ধতা, খেরকুটা আনা নেয়া সহ নানাবিধ সমস্যার কারনে এলাকাবাসী বাঁধ আংশিক কেটে দেয় এবং বাঁধের উপরে আমাদের গাছ লাগানো ছিলো তা কেটে নিতে বলে আমরা গাছ কেটে নিয়েছে বলেই পরিকল্পিত ভাবে আমাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে।এবিষয়ে আহত আব্দুল্লাহ আল-মামুন বাদী হয়ে আইনের সহযোগিতার জন্যে সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যাক্তি ডাক্তার মোতাহার হোসেন ভদ্দর তার ছেলে তুহিন সহ সকলের সঙ্গে মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করে ও তাদের পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি আকতার মোর্শেদ বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে তারা অপরাধী প্রমান মিললে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানান।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

ভবহের জলাবদ্ধতা…

আরও পড়ুন…

বিশুদ্ধ পানির জন্য RO Filter ব্যবহার করুন…

সারাদেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির শুধু জলাবদ্ধ হয়ে আগাছায় ভরে আছে ভবদহের ২১ টি বিল

 

গ্রীষ্মের দাবদাহে যখন সারাদেশের মাঠঘাট ফেটে চৌচির, নদ-নদী খাল-বিল পানি শূন্যতায় ভুগছে, ভরা বৈশাখে রৌদ্রের দহনে ধরনী ও ধরনীর মানুষ যখন দিশেহারা,সমগ্র বাংলাদেশের কৃষক তাদের উৎপাদিত স্বপ্নের ফসল বোরোধান ঘরে তোলার কাজে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেনতখন ভবদহ এলাকার হাজার-হাজার কৃষক অনাবাদি বিলের দিকে তীর্থের কাকের মতো তাকিয়ে বসে আছে।

আজ যখন সারাদেশের কৃষক যখন মনের আনন্দে তাদের উৎপাদিত ফসল ঘরে তোলার কাজে ব্যস্ত তখন তারা অনাবাদি বিলগুলির দিকে চেয়ে চেয়ে চোখের জল ফেলছে।কারণ গত কয়েক বছর কৃষকের ঘরে কোন নতুন ফসল ফলেনি কিন্তু এবছর অনেক স্বপ্ন নিয়ে দেশের সরকার,স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বিএডিসি-এর ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে পরিচালিত সেচ প্রকল্পের দিকে চেয়েছিল। কিন্তু আশায় গুড়ে বালি ঢেলে ভবদহ এলাকার হাতে গুণা কয়েক বিলে ফসল উৎপাদিত হলে ২৭ টি বিলের  মধ্যে ২১ বিলের অনাধিক ৪০ হাজার হেক্টর জমি পানির নিচেয় তলিয়ে আছে।

 

 বিলগুলি হলো-বিল কেদারিয়া, বিল গান্ধী মারী, চাতরার বিল, নুনের বিল, বিল ঝিকরা, ধলের বিল,ডুমুরের বিল, শালিখার বিল,ফাহালের বিল, ভায়নার বিল,মাঠের ডাঙার বিল, বিল পায়রা, বিল কপালিয়া,আড়পাতার বিলের ৩০ হাজার হেক্টর জমি ও কেশবপুর উপজেলার বক উড়ার বিল,বাগডাঙার বিল, ভাটবিলার বিল, নড়ের বিল, জিয়লদহের বিল, বিল খুকশিয়া, বিল ভায়নাসহ অনেকগুলি কুড় বিলের ১০ হাজার হেক্টর জমি।বিলগুলি অধিকাংশ  মনিরামপুর,অভয়নগর ও কেশবপুর উপজেলার অবস্থিত।

উল্লেখ যশোর সদর, মনিরামপুর,অভয়নগর, কেশবপুর ও খুলনা জেলার ডুমুরিয়া ও ফুলতলা উপজেলার  এই ২৭ টি বিল মুক্তেশ্বরী, টেকা,হরি,আপারভদ্রা,হরিহর ও বুড়িভদ্রা নদী দ্বারা বেষ্টিত।এই অঞ্চলের বৃষ্টির ও উজানের পানি উপরে উল্লেখিত নদী ও বিলের সাথে সংযুক্ত খালের মাধ্যমে নিষ্কাশিত হতো।

কিন্তু সমুদ্রের লবণাত্মক পানি যাতে জোয়ারের সময় বিলগুলিতে প্রবেশ করতে না পারে এবং কৃষিযোগ্য চাষের পানি ধরে রাখার জন্য ষাটের দশকে অভয়নগরের সীমান্তবর্তী ভবদহ নামক স্থানে  হরি ও টেকা নদীর উপরে ২১, ০৯ ও ০৬ ভেন্ট স্লুইসগেট তৈরি করা হয়। ষাট থেকে আশির দশক পর্যন্ত এই স্লুইজগেটের সুবিধা পাওয়া যায়।

 

মুক্তেশ্বরী- টেকা- হরি-আপারভদ্রা ও বুড়িভদ্রা নদী গুলোর মূল উৎস পদ্মা। এই নদীগুলোর পানির মূল উৎস পদ্মার পানি প্রবাহে বাঁধার সৃষ্টি হওয়ায় উজানের পানিতে আসা পলি নদী ও খালের তলদেশে পড়ে ভরাট হতে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে পলির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় খুব দ্রুত সময়ের মধ্য নদীও খালগুলি ভরাট হতে হতে স্থায়ী জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়।

 আর এই জলাবদ্ধতা দূরীকরণের জন্য সরকারের পানি উন্নয়ন বোর্ড অপরিকল্পিত ও কল্পনা প্রসূত কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যার ফলাফল শূন্য।

এবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে অলীক সেচ প্রকল্প নিয়ে  যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ(বিএডিসি)। ষাট লক্ষ টাকা খরচ করে ১৩ টি সেচ পাম্পের মাধ্যমে ভবদহ এলাকার ২৭ টি বিলের পানি অপসরণের অপচেষ্টা। এই সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে দেখা গেল কিছুদিন চলার পর নদীতে পানি না থাকায় বন্ধ রাখা,পর্যাপ্ত লোকবল,বিদ্যুৎ সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূলতা।

ফলাফল ২৭ টি বিলের কয়েকটি বিলের উঁচু জমিতে বোরোধান উৎপন্ন করা গেলেও বাকি ২১ বিলের জল অপসরণ না হওয়ায় স্থায়ীভাবে এখন জলাবদ্ধতায় মগ্ন।

 বিলগুলির উঁচু অংশের পানি কমলেও অধিকাংশ বিলের জমিগুলিতে কোমর সমান পানি।আর বিলগুলিতে এখন নৌকা চলছে।আর বিলের জমিতে শাপলা-শালুকসহ নানারকম আগাছা জঙ্গলে ভরে আছে। যেহেতু বিলগুলি জলাবদ্ধ তাই আগামী বর্ষাকালে যে আবারও স্থায়ী জলাবদ্ধতার বিভৎস্যরূপ নিবে এই চিন্তায় ভবদহ এলাকার জনগণ চিন্তিত ও শঙ্কিত। 

ভবদহ এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রথমে দরকার পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রকল্পের বাইরে রেখে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী দিয়ে নদনদী,খালবিল গুলি খনন,অব্যাহতভাবে নদী ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা, পর্যায়ক্রমে ২৭ টি বিলে পরিক্ষিত টিআরএম( টাইডার রিভার্স ম্যানেজমন্ট) চালু রাখা এবং পার্শ্ববর্তী নওয়াপাড়ার ভৈরব নদ খনন করে আমডাঙ্গা খালের সাথে সংযুক্ত করা।

 

অন্যদিকে এই বিলগুলির কিছু বিলে ব্যক্তি মালিকানায় মাছের চাষ হচ্ছে।আর মাছ চাষ করে জমির মালিকদের যত সামান্য টাকা দিয়ে ব্যক্তি বিশেষ লাভবান হচ্ছে।ফলে জোঁক গল্পের ন্যায় এখানেও অত্র এলাকার কৃষকদের রক্ত চোষার ন্যায় শোষণ করা হচ্ছে ।শুধু শোষণ করেই ক্ষান্ত নেই অনেক সময় কৃষকের পাওনা টাকাটাও ঠিক মতো দেয় না।

এমনকি চুক্তির মেয়াদ শেষ হলেও ঐসব মালিকেরা তাদের বিলের জমি ছেড়ে দিতে তালবাহানা করে এবং গ্রামের সাধারণ কৃষকদের হুমকি ধামকি দেয়।যা দেখার জন্য স্থানীয় জনপ্রশাসন থাকলেও টাকার কাছে বিক্রি হয়ে যায়।

অনেক সময় দেখা যায় এই সব মৎস্য ব্যবসায়ীরাও  তাদের মাছ চাষের সুবিধার্থে চায় না বিলগুলি জলাবদ্ধতা মুক্ত হোক।আর তাই তারা স্থায়ী সমাধানের  জন্য এলাকার সাধারণ মানুষের প্রস্তাবিত সুনির্দিষ্ট কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি প্রশাসনকে কব্জা করে নেয়।

 

 যদি কৃষকদের নিয়ে সমবায় সমিতি গঠন করা যায় এবং  সরকারের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মৎস্য চাষের উপর কৃষকদের প্রশিক্ষণসহ সরকারি ঋণদিয়ে মৎস্যচাষে উদ্ধুদ্ধ করা যায় তাহলেও সাধারণ কৃষকের কিছুটা হলেও উপকার হতো এবং রক্তচোষাদের হাত থেকে বাঁচাতে পারতো।

//নিজস্ব প্রতিবেদক।স্বীকৃতি বিশ্বাস//