র‌্যাবের অভিযানে পাথরঘাটায় আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য গ্রেফতার

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার পাথরঘাটায় র‌্যাব-৮ এর পটুয়াখালী ক্যাম্প এর বিশেষ অভিযানে ১০ কোটি টাকা মুল্যের ভারতীয় শাড়ী পাচারের মামলায় অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্য মোঃ জামাল হোসেন (৪৩) কে গ্রেফতার করা হয়েছে।

র‌্যাব পটুয়াখালী কার্যালয় সুত্রে জানা যায়,র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল ০৫/১০/২০২২ইং তারিখে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, গত বছর ২৪/১১/২০২১ইং তারিখ কোস্টগার্ড ভোলা সদর মডেল থানাধীন তুলাতলিস্থ মেঘনা নদীর মধ্যে একটি বাল্কহেড সার্চ করলে বিপুল পরিমান প্লাস্টিক এবং পাটের বস্তাভর্তি অবৈধ ভারতীয় চোরাচালানকৃত কাপড়ের গাইট পায় যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং ভোলা জেলার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে।

কয়েকজন আসামী ধরা পড়লেও কিছু আসামী পলাতক ছিল।পলাতক আসামীকে ধরার জন্য র‌্যাবের একটি টিম দীর্ঘদিন যাবত ছায়া তদন্ত করতে থাকে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ০৫/১০/২০২২ ইং আনুমানিক ১৪:৪০ ঘটিকার সময় জানতে পারে যে,বরগুনা জেলার পাথরঘাটা থানাধীন বড় পাথরঘাটার মাষ্টার বাড়ী এলাকায় (ভোলা জেলার সদর মডেল থানার মামলা নং-৫২, তারিখ ২৪/১১/২০২১ইং) প্রায় ১০ কোটি টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি পাচারের মামলায় অভিযুক্ত আন্তর্জাতিক চোরাচালন চক্রের অন্যতম সক্রিয় সদস্য অবস্থান করছে।
প্রাপ্ত সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের আভিযানিক দল আনুমানিক ১৭:৩০ ঘটিকায় উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে ঘেরাও পূর্বক ০১জন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেন। গ্রেফতারকৃত আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে তার নাম মোঃ জামাল হোসেন (৪৩), পিতা-মৃত নাজেম গোলদার,সাং-বড় পাথরঘাটা,থানা-পাথরঘাটা, জেলা-বরগুনা বলে জানায়। গ্রেফতারকৃত আসামী স্বীকার করে যে,চোরাচালানের অভিযোগে ভোলা সদর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত আসামীকে ভোলা জেলার সদর মডেল থানায় (মামলা নং-৫২, তারিখ ২৪/১১/২০২১ইং) জিডি মূলে হস্তান্তর করা হয়েছে।

 

আমতলীতে প্রতারণা মামলার আসামি র‌্যাবের হাতে আটক

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//
বরগুনার আমতলীতে প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত ০১ জন পলাতক আসামীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

আজ বুধবার সকালে র‌্যাব-৮, সিপিসি-১ (পটুয়াখালী ক্যাম্প) এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া নামক এলাকায় অভিযান শুরু করে।

র‌্যাব ইউনিয়নের বিভিন্ন স্হানে অভিযান চালিয়ে দুপুর ১২টার দিকে উক্ত স্থানে উপস্থিত হলে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাকালে ঘেরাও করে মো: আমিনুল ইসলাম নামের এক যুবককে আটক করেছেন পটুয়াখালী র‌্যাব ৮। গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ আমিনুল ইসলাম(২৭), পিতা-মৃত- আঃ বারেক হাওলাদার, সাং-হাওলাদার বাড়ী,কলাগাছিয়া,০৩নং ওয়ার্ড, থানা-আমতলী,জেলা-বরগুনার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে আমতলী থানায় মামলা (জিআর নং-৩৮৮/২০ রয়েছে।

 

অভয়নগরে দুই শিশু কন্যাকে যৌন হয়রানির অভিযোগ

//মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

যশোরের অভয়নগরে দু’টি শিশু কন্যাকে যৌন হয়রানি করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ২ অক্টোবর (রবিবার) ভোর আনুমানিক ৬.৩০ টায় উপজেলার মহাকাল এলাকার ভাঙ্গাগেট বাজার মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
হয়রানির শিকার শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গাগেট বাজার মসজিদে নূরানী আরবি শিক্ষা কার্যক্রমে প্রতিদিন বেশ কিছু শিক্ষার্থী ফজর নামাজ শেষে পড়তে আসে। ঘটনার দিন ভোরে কলোনি এলাকার ৭ ও ৮বছরের দুইটি শিশু কন্যা আরবি শিখতে আসে। মসজিদের বারান্দায় বসে থাকা মশরহাটি গ্রামের মৃত ইয়াকুব আলী শেখের পুত্র হাবিবুর রহমান (৬০) শিশু দুইটিকে অর্থের লোভ দেখিয়ে যৌন কাজের আহ্বান জানালে তারা ভয় পেয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাড়িতে গিয়ে অভিভাবকদের জানালে তারাসহ এলাকাবাসী এসে অভিযুক্তকে নিয়ে জনসম্মুখে একটি খুঁটিতে বেঁধে রাখে। ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ঘটনাস্থলে এসে এলাকাবাসির সাথে আলোচনায় বসেন।আলোচনার প্রাককালে হয়রানির শিকার অভিভাবকদের ওই দিন এশাবাদ বসে সুষ্টু বিচারের আশ্বাস দিয়ে অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। শিশু দুইটির অভিভাবক বলেন, ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ওইদিন রাতে এশাবাদ বসাবসির কথা থাকলেও কেউ আমাদের জানায়নি কখন কোথায় বসাবসি হবে। অবশেষে কি বিচার করা হয়েছে সেটা ও আমরা জানিনা।
মহাকাল এলাকার কওসার বলেন, অভিযুক্ত হাবিবুর একটা বাজেলোক ইতিপূর্বে একই ঘটনা ঘটালেও হয়রানির শিকার পরিবারগুলি ভয়ে থানায় অভিযোগ না করায় পার পেয়ে যাচ্ছে হাবিবুর। এলাকার কাউন্সিলর ঘটনার সত‍্যতা স্বীকার করলেও এখন নিরব ভূমিকা পালন করছেন ।
অভিযুক্ত হাবিবুরের কাছে এ প্রতিনিধি জানতে চাইলে ঘটনার বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং সবাই মিথ‍্যা বলছে বলে জানান তিনি।
মশরহাটি এলাকার জুয়েল বলেন,ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে একটি মহল অর্থের বিনিময়ে ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তানভীর হোসেন তানুর মাধ্যমে অভিযুক্তকে ছাড়িয়ে নেয়।
নওয়াপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তানভীর হোসেন তানু বলেন, বিষয়টি তেমন কিছু না, কিছু কুচক্রী মহল ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করছে।
অভয়নগর থানার ডিউটি অফিসার এসআই শহীদুল ইসলাম বলেন, দুইটি কন‍্যা শিশু যৌন হয়রানি হয়েছে এই মর্মে কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি, পেলে আইনগত ব‍্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

 

কচুয়ায় নিরাপত্তাহীনতায় হত্যা মামলার বাদীর পরিবার  

কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় হত্যা মামলার আসামীর জামিনে মুক্তি, মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি। নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছে  বাদীর পরিবার, মামলা সিআইডিতে হস্তান্তরের দাবি।

উপজেলার বারুইখালী গ্রামের মিঠু শেখের স্ত্রী পরশমনি বেগম জানান, তার স্বামী মিঠু শেখকে  বারুইখালী সাহাদাৎ হাওলাদারের চা-পানের দোকানের সামনে হতে ২৫ নভেম্বার ২০২১ সন্ধায় বাগেরহাট সদর থানার জয়গাছি গ্রামের আনোয়ান হোসেন গাজীর পুত্র আছাদ গাজী সহ কয়েজনে ডেকে নিয়ে যায় এর পর ২৭ নভেম্বার ২০২১সকালে কচুয়া উপজেলার হাজরাখালী গ্রামের  হাসেন আলী খানের পুত্র মোস্তাফা খানের মালিকানাধীন বারুইখালী গ্রামের মাছের ঘের আছাদ গাজী বর্গা নেয়। ওই বর্গা ঘেরের পানির মধ্যে তার স্বামীর মৃত দেহ পায়। এঘটনার পর আছাদ গাজী ও মিঠু গাজী সহ অজ্ঞাতনা ৩/৪ জনকে আসামী করে কচুয়া থানায় জিআর ১০৩/২১ একটি হত্যা মামলা করে।

এর কিছুদিন পর মিঠু গাজীকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে পাঠা য়সম্প্রতি জেল হাজত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এসে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের ভয় ভিতি সহ হুমকি প্রদান করিতেছে।এঘটনার পর নিহরে স্ত্রী মামলাটি সিআইডিতে হস্তান্তর ও পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের নিকট আবেদন করেছে।

এব্যাপারে পুলিশ সুপার এ কে এম আরিফুল হক (পি পিএম)জানান,বিষয়টি সঠিক তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

কচুয়ায় মহিলা কলেজে প্রভাষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

কচুয়া (বাগেরহাট) প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় প্রধান মন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা কল্যান ট্রাষ্ট্রের ছাত্রীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে ।

জানা গেছে, বাগেরহাটের কচুয়া সরকারি শহিদ শেখ আবু নাসের মহিলা ডিগ্রী কলেজের প্রভাষক অনুপ কুমার পালের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছে কয়েক জন ছাত্রী। এর পর বেরিয়ে আসছে বিভিন্ন তথ্য। মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের হস্তক্ষেপে ১২ জন ছাত্রী ফেরৎ পেয়েছে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৯শত টাকা। সহকারী অধ্যাপক মৃনাল কান্তি সাহাকে প্রধান করে প্রভাষক ইকবাল হোসেন ও সমির কান্তি বাড়ৈর নাম উল্লেখ করে তিন সদস্য বিশিষ্ট দায় সারা তদন্ত কমিটি করেছেন অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হর প্রসাদ মিস্ত্রী। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হর প্রসাদ মিস্ত্রী ও প্রভাষক অনুপ কুমার পাল যোগসাযোসে এ কাজ করেছেন বলে কথিত আছে। উপবৃত্তির আবেদনে প্রতি ছাত্রীর নিকট থেকে নেওয়া হয়েছে ২ শত টাকা।

২০২০-২০২১একাদশ শ্রেনীতে ভর্তির পরই ২১৩ ছাত্রীর নিকট থেকে আবেদন খরচ ২ শত টাকাসহ জন্মনিবন্ধন, মোবাইল নাম্বর সহ মোবাইল ব্যাংকিং ও পিন কোড সহ সিমকার্ড জমা নেয়। এর পর ১৮৮ জনের নামে উপবৃত্তির তালিকা প্রকাশ সহ টাকা বরাদ্দ হয়। এর মধ্যে কয়েক জন ছাত্রী অভিযুক্ত প্রভাষক কর্তৃক টাকা উত্তোলোনের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার কে জানালে তার হস্তক্ষেপে ওই প্রভাষক নিজেই উত্তোলন কৃত টাকার মধ্যহতে গত ২৯/০৬/২২ তারিখ চার জন ছাত্রীর ৩৬,৬০০ টাকা ০৩/০৭/২২ইং তারিখ চার জন ছাত্রীর ৩৯,৬০০ টাকা, ০৫/০৭/২২ ইং তারিখ তিন জন ছাত্রীর ১৭,৯০০ টাকা ফেরত দিয়েছেন।

সহকারী অধ্যাপক আশুতোষ হালদার সহ কয়েক জনে জানান, অধ্যক্ষ হর প্রসাদ মিস্ত্রী কলেজের উপবৃত্তি সহ সকল প্রকার অনলাইনের কাজ প্রভাষক অনুপ কুমার পালকে দিয়ে করিয়ে থাকেন। এই সুবাদে অনুপ কুমার পাল ছাত্রীদের উপবৃত্তির অনলাইনে ফরম পূরনের জন্য প্রতি ছাত্রীর নিকট থেকে দুই শত টাকাসহ মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব নাম্বর ও পাসওয়ার্ড রেখে দেন। এমনকি কৌশলে অনেকের মোবাইল সিমও রেখেছেন। তাদের টাকা উত্তোলন করে নিজে হাতে রেখে বিভিন্ন কথা বলে অত্মসাৎ করে। এছাড়া ২০২১-২০২২ শিক্ষা বর্ষের ২৩৪ জন ছাত্রী ভর্তি হয়। এদের মধ্যে ২২৯ জন ছাত্রীর নামে উপবৃত্তির টাকা আশে। এদের মধ্যে কয়েকজন ছাত্রী টাকা পেয়েছে। বাকি ছাত্রীদের প্রাপ্য ১২ লক্ষাধীক টাকা প্রভাষক অনুপ কুমার পাল নিজেই উত্তোলন করেছেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত প্রভাষক অনুপ কুমার পাল বলেন, উপবৃত্তির সর্ম্পকে এমুহুর্তে কিছু বলতে পারছি না সকল তথ্য অধ্যক্ষ স্যার বলতে পারবেন। ছাত্রীদের নিকট থেকে উপবৃত্তির আবেদনের জন্য কোন টাকা নেওয়া হয় না। উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের কোন সুযোগ আছে কি? এছাড়া মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সামনে  উত্তোলন কৃত টাকার মধ্যে হতে কয়েক জন ছাত্রীকে স্বাক্ষর করে টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যপারে বলেন,শিক্ষা অফিসার কি লিখেছে তা সে জানেন।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে ২০২১-২০২২ শিক্ষা বর্ষের কয়েক জন ছাত্রী জানান,তাদের নিকট থেকে উপবৃত্তির ফরম পূরনের জন্য তাদের নিকট থেকে দুই শত টাকা নেওয়া হয়েছে। এপর্যন্ত তারা কোন টাকা পায়নি। এছাড়া আরো এক জন ছাত্রী কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, তার পিতা দিন মজুর বর্তমানে কাজ না থাকায় সে অর্থের অভাবে কলেজে যেতে পারছে না। উপবৃত্তির টাকা পেলে উপকার হতো এবং কলেজে যেতে পারতো।

অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) হর প্রসাদ মিস্ত্রী বলেন, আমি দায়িত্ব পাওয়ার আগের থেকেই কলেজের অন-লাইনের সকল কাজ প্রভাষক অনুপ কুমার পাল করে আসছেন অন্যকেহ এসব কাজ করতে পারে না। তাই তাকে দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। কত জন ছাত্রী উপবৃত্তি পেয়েছে তা অনুপ কুমার পাল বলতে পারবে, কারন সে কাজ করে। তাকে উপবৃত্তির আবেদনের জন্য পারিশ্রমিক বাবদ এক শত ৫০ টাকা নিতে বলেছি। কিন্তু সে দুই শত টাকা নিয়েছে। কয়েকজন ছাত্রীর টাকা উত্তোলন করেছিল সে টাকা আবার শিক্ষা অফিসারের সামইে ছাত্রীদের ফেরত দিয়েছে।

প্রভাষক ইকবাল হোসেন বলেন, প্রভাষক অনুপ পালের বিরুদ্ধে অভিযোগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ স্যার সহকারী অধ্যাপক মৃনাল সাহাকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করে আমাদের উপর তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা তদন্ত করছি। কিন্তু আমি অনলাইন সম্পর্কে কিছু বুঝিনা  প্রভাষক যা বলে তাই শুনছি  দেখা যাক কি করা যায়।

এব্যাপরে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন,জুন/২০২২ মাসে কচুয়া উপজেলায় যোগদানের পর সরকারি শহিদ শেখ আবু নাসের মহিলা ডিগ্রী কলেজের বেশ কিছু ছাত্রী আমার অফিসে অভিযোগ করে যে, তারা কোন উপবৃত্তির টাকা পাচ্ছে না। উপবৃত্তি প্রকল্পের সফটওয়্যারে সার্চ দিয়ে দেখতে পাই অভিযোগকারীর অধিকাংশ ছাত্রীর নামে উপবৃত্তির টাকা প্রকল্প হতে প্রেরণ করা হয়েছে। কিন্তু ওই টাকা ছাত্রীদের দেয়া মোবাইল একাউন্টে না প্রবেশ করে অন্য অজানা কোন মোবাইল একাউন্টে ক্যাশইন হয়েছে। ওই নাম্বারে ফোন করলে সর্বদাই বন্ধ পাওয়া যায়। এই কাজ গুলি যেহেতু  প্রভাষক অনুপ কুমার পাল করেছেন তাই তাকে দায়িত্ব নেয়ার কথা বলা হয়। দায়িত্ব না নিলে তাকে দায়ী করা হবে বললে সে এক পর্যায়ে স্বীকার করেন এবং অভিযোগকারী ছাত্রীদেরকে আমার অফিসে ডেকে এনে তন্মধ্যে ১২ জনের উপবৃত্তির টাকা বাবদ মোট এক লক্ষ পাঁচ হাজার নয়শত টাকা  আমার উপস্থিতিতে প্রভাষক অনুপ কুমার পালের নিজ হাত দিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে ফেরত দেয়া হয় ও তাদের স্বাক্ষর গ্রহণ করা হয়। এরূপ আরো অনেক শিক্ষার্থী এখনো অপেক্ষায় রয়েছে। প্রভাষক অনুপ কুমার পাল এখন আর কোন টাকা দিতে রাজী হচ্ছেন না। বিধায় অনেক শিক্ষার্থী বাববার কলেজে যাচ্ছে উপবৃত্তির টাকা পাবার আশায়। বিষয়টি তিনি জেলা শিক্ষা অফিসার,বাগেরহাট মহোদয়কে লিখিতভাবে অবগত করেছেন।

এ ব্যাপারে কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম তারেক সুলতান বলেন,এটা জেলা পর্যায়ের বিষয় আমার কাছে কোন তথ্য নেই এটা জেলা থেকে ম্যানেজ হচ্ছে,আমার কোন ষ্ট্রেটমেন্ট নেই, আমার কোন একশান ও নেই, বক্তব্য ও নেই।

আমতলীতে গরু চোর চক্রের তিন সদস্য গ্রেফতার

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে তিন গরু চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এসময় তাদের কাছ থেকে তিনটি চোরাই গরু উদ্ধার করা হয়েছে।

আটকরা হলো, আঃ জব্বার হাওলাদার (৪২),জলিল হাওলাদার (৫২) ও রিয়াজ গাজী (৩৫) ।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিন তক্তাবুনিয়া (মোল্লাপাড়া আবাসন) সামনের উত্তর ভিটিতে বসবাস করেন মৃত্যু জয়নাল হাওলাদারের পুত্র মামলার বাদী মো. মামুন হাওলাদার। গত ২৭ অক্টোবর দিবাগত রাত অনুমান ১০টা থেকে ২টার মধ্যে ১টি গাভীন গরু, ২টি বাছুর তাঁর বসত ঘরের পাশে গরুর খর থেকে চুরি করে নিয়ে যায় চোরের দল।

বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করে গরুগুলো না পেয়ে বাড়ীতে ফিরে আসে। গত ২৯ অক্টোবর রাত অনুমান ৮টার দিকে আসামি জব্বার হাওলাদারকে চলাফেরায় সন্দেহ হলে স্থানীয় লোকজন তাকে আটক করে জিজ্ঞাষাবাদ করে। এসময় তিনি গরু চুরি করার কথা স্বীকার করেন। পরে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে চোর জব্বার হাওলাদারকে তাদের হেফাজতে নেয়। পরে পুলিশের জিজ্ঞাষাবাদে চোর জব্বার হাওলাদার চুরি যাওয়া গরু ৩টি উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামে তাঁর বড় ভাই জলিল হাওলাদারের বাড়ী রেখেছে বলে জানায়। পরে ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ৪টার দিকে গরু ৩টি উদ্ধার করে ওই ঘটনার সাথে জড়িত থাকায় পুলিশ জলিল হাওলাদারকে ও রিয়াজ গাজীকে গলাচিপা পুলিশের সহায়তায় উপজেলার পক্ষিয়া গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে।

এর আগে গরু চুরির ঘটনায় ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে মামুন হাওলাদার বাদী হয়ে আঃ জব্বার হাওলাদার, জলিল হাওলাদার, রিয়াজ গাজী ও বশির মাতুব্বর এবংন অজ্ঞাত২/৩ জনকে আসামি করে আমতলী থানায় একটি চুরি মামলা দায়ের করেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) রনজিৎ সরকার বলেন, আমতলী ও গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে গরুসহ চিহ্নিত চোর চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

বাগেরহাটের রামপালে পুলিশের অভিযানে হেরোইনসহ গ্রেফতার দুই

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে হেরোইন সহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে পুলিশ।  শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসআই দেলোয়ার ও ওসি তদন্ত রাধেশ্যাম সরকারের নেতৃত্বে মাদকগুলো জব্দ ও আসামীদের আটক করা হয়।

আটক মাদক ব্যবসায়ীরা হলেন উপজেলার মানিকনগর গ্রামের শহিদ মোড়ল এর পুত্র বিল্লাল মোড়ল (৩৫) ও হালিম শেখ এর পুত্র জসিম শেখ (২৫) রামপাল থানার (ওসি) মো. সামসুদ্দিন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলে উপজেলার উজলকুড় ইউনিয়ের মানিকনগর গ্রামে অবস্থান নেয় পুলিশ।

এ সময় সংবাদ আসে ১নং আসামীর বাড়ির সামনে মাদক কেনাবেচা চলছে এসময় সেখানে অভিযান চালিয়ে আসামি বিল্লাল এর শরীর তল্লাশি করে ২৫০ পুরিয়া এবং জসিম এর শরীর তল্লাশী করে ৫০পুরিয়া (যাহার ওজন ২০ গ্রাম) হেরোইন পাওয়া যায় যাহার আনুমানিক মূল্য ৪৫০০০ হাজার টাকা।

ওসি সামসুদ্দিন বলেন, ‘আটককৃতরা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। আটককৃতদের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। তাদের শনিবার (০১ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্সনীতি এবং অভিযান অব্যাহত থাকবে।

এস এস সি প্রক্সি দিতে এসে কারাগারে

//শ্যামল বিশ্বাস, বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

মাগুরার মহম্মদপুরে অন্যের হয়ে এসএসসি পরীক্ষার প্রক্সি দিতে এসে আটক হয়েছেন মো. পিকুল শেখ (১৮) নামের এক যুবক। এ ঘটনায় তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে মহম্মদপুর সদরের সরকারি আর.এস.কে.এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে তাকে আটক করা হয়।

আটক পিকুল একই উপজেলার বাঔজানি গ্রামের মৃত লুৎফর শেখের ছেলে। তিনি বীরেন শিকদার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র মো. আবু ওবাইদার হয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন। আবু ওবাইদা সদরের তেলিপুকুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে। ঘটনার পর থেকে সে পলাতক।

জানা গেছে, শুক্রবার সকাল ১১টা থেকে যশোর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে স্থগিত হওয়া বাংলা দ্বিতীয় পত্রের বহুনির্বাচনি (এমসিকিউ) অংশের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসময় সন্দেহ হলে কক্ষ পরিদর্শক শামীম আহমেদ প্রক্সি দিতে আসা পিকুলকে কেন্দ্র সচিবের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে পিকুলকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। পরে মহম্মদপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বাসুদেব কুমার মালো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে পিকুলকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।

আর.এস.কে.এইচ ইনস্টিটিউশন মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ.কে.এম নাসিরুল ইসলাম বলেন, পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে আটক ব্যক্তির উত্তরপত্র বাতিল করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে পুলিশ  আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কমিটির অজান্তে অর্থের বিনিময় নিয়োগ সম্পন্ন তালতলীর মাদ্রাসায়

//সাইফুল্লাহ নাসির, বরগুনা প্রতিনিধি//
বরগুনার তালতলীতে অর্থের বিনিময় গোপনে সিনিয়র মাদরাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নিয়োগ বানিজ্যের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগে মাদরাসার গভর্নিং বডি’র দুই তৃতীয়াংশ (তিন ভাগের দুই ভাগ) সদস্য মঙ্গলবার সাংবাদিকদের কাছে সম্মতি দিয়ে পৃথক পৃথক ভাবে স্বাক্ষাতকার দিয়েছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, উপজেলার তালতলী ছোটভাইজোড়া ছালেহিয়া আলিম মাদরাসায় অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর ২টি, অফিস সহকারী কাম-হিসাব সহকারী-১টি ও নৈশ প্রহরী ১টি পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য থাকা ৪টি পদের ১টিতে অধ্যক্ষের স্ত্রীকে নিয়োগ দেয়া ও বাকী ৩টি পদে নিয়োগ দেয়ার জন্য প্রায় ২০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওঃ আবু জাফর মোঃ ছালেহ। মোটা অংকের টাকা নিয়ে নিয়োগ দেয়ার ঘটনাটি অনেকটা জানাজানি হলে গোপনে অপরিচিত পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে প্রায় ২০দিন আগে থেকেই অধ্যক্ষ ছালেহ গাঁ ঢাকা দিয়েছেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ামতে গত ২৬ সেপ্টেম্বর মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েব সাইডে মহা পরিচালক কে,এম, রুহুল আমীনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে ডিজি প্রতিনিধি হিসাবে মাহফুজা ইয়াসমিন সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) নিয়োগের তথ্য প্রকাশ হয়। এতে এলাকার লোকজনসহ মাদরাসার গভর্নিং বডি’র সদস্যরা চমকে ওঠে।
মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওঃ আবুল কালাম বলেন,মাদ্রাসার গভর্নিং বডিতে অধ্যক্ষ বাদে ৫জন সদস্যের মধ্যে ৪জনেই এ নিয়োগের কোন খবর জানিনা। মাদ্রাসার রেজুলেশন বহি আমার কাছে। এতে নিয়োগ সংক্রান্ত কোন রেজুলেশন হয়নি।

মাদ্রাসার গভর্নিং বডি’র সভাপতি মোঃ আলী আকবর হাওলাদার মোবাইল ফোনে বলেন, এবারে সভাপতি হওয়ার পরে নতুন নিয়োগের জন্য কোন রেজুলেশন বহিতে স্বাক্ষর দেইনি। নিয়োগের ব্যাপারে অধ্যক্ষ সাহেব কোনো আলোচনাও করেনি, সভাও ডাকেনি।গভর্নিং বডি’র আরেক সদস্য আঃ সালাম বলেন, নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে অধ্যক্ষ সাহেব প্রায় ২০লক্ষ টাকা নিয়ে ৩টি পদে ও তার স্ত্রীকে ১টি পদে গোপনে নিয়োগ দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। অধ্যক্ষ যদি একাই নিয়োগ দিতে পারে তাহলে সরকার প্রতিষ্ঠানে কি জন্যে ম্যানেজিং কমিটি গঠন করে তাহা আমার বোধগম্য নহে।

 

মাগুরা মহম্মদপুরের রাড়ীখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত

//শ্যামল বিশ্বাস বিশেষ প্রতিনিধি মাগুরা//

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলার রাড়ীখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ’কে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি’র সকল সদস্যদের সাথে মতবিনিময় পূর্বক রেজুলেশন এর মাধ্যমে আজ ২৫-০৯-২২ ইং রবিবার অত্র প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারী ও ম্যানেজিং কমিটির উপস্থিতিতে অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি আঃ সালাম সর্দার স্বাক্ষরিত চিঠির মাধ্যমে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এসময় প্রতিষ্ঠান প্রধান উপস্থিত না থাকায় বিদ্যালয়ের
সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু জাফর বিশ্বাস সাময়িক বরখাস্তের চিঠি গ্রহণ করেন।
তাকে সাময়িক বরখাস্ত করায় যেহেতু প্রধান শিক্ষকের পদ খালি হয় সেহেতু সহকারী প্রধান শিক্ষক আবু জাফর বিশ্বাস কে আজ থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।