তিন সমন্বয়ক আসিফ, নাহিদ, বাকেরকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তিন সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ, নাহিদ ইসলাম ও আবু বাকের মজুমদারকে এবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থা থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার বিকেলে নাহিদের বাবা বদরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে এ অভিযোগ করার পর হাসপাতাল সূত্রেও খবরের সত্যতা মেলে।

তারা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার গণস্বাস্থ্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসি বাংলাকে জানান, একটি গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় দিয়ে তাদের “রিলিজ করিয়ে” নিয়ে যাওয়া হয়।

তিনি জানান, বিকেল চারটার দিকে কয়েকজন লোক এসে কর্তব্যরত নার্সের কাছে নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার লোক হিসেবে পরিচয় দেন। নিজেদের পরিচয়পত্রও দেখান।

“সিস্টারের কাছে এসে বলছে ওনাদেরকে রিলিজ দেয়ার ব্যবস্থা করেন। সিস্টার তখন বলেন, যে প্রফেসরের আন্ডারে আছে উনি না বললে তো আমি রিলিজ করতে পারি না,” যোগ করেন ওই কর্মকর্তা।

পরে সেই অধ্যাপকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।

“গুরুতর কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকায়,” সংশ্লিষ্ট অধ্যাপক রিলিজের অনুমতি দেন।

রিলিজ দিতে বাধ্য বা জোর করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে হাসপাতালের কর্মকর্তা বলেন, “কিছুটা ফোর্স তো করেছেই। কারণ আমরা তো রিলিজ দেই নাই, তাদের প্রয়োজনে দিতে হয়েছে।”

শুক্রবার বিকেলে নাহিদের বাবা বদরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে বলেন, হাসপাতাল থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে কোটা আন্দোলনের তিন সমন্বয়ককে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

সে সময় যোগাযোগ করা হলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান হারুন-অর রশীদ বিবিসি বাংলাকে বলেন, এ ব্যাপারে তারা কিছু জানেন না।

“সাদা পোশাকে তো যে কেউ নিতে পারে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

বিবিসি বাংলার কথা হয় আসিফ মাহমুদের বাবা বিল্লাল হোসেনের সঙ্গেও।

তিনি বলেন, শুক্রবার বিকেলে গণস্বাস্থ্যনগর হাসপাতাল থেকে আসিফ, নাহিদসহ আরেকজনকে তুলে নিয়ে গেছে।

“একবার নেয়ার পর চিকিৎসারত অবস্থায় কেন তারা আবার আটক করলো?” প্রশ্নও রাখেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলাম এর আগেও নিখোঁজ হয়েছিলেন।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকে নেতৃত্বের সামনের সারিতে দেখা গেছে তাদেরকে। ২৩ জন সমন্বয়ক থাকলেও যে কয়জন গণমাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছিলেন তাদের মধ্যে এই দু’জনও ছিলেন।

গত ২০শে জুলাই শুক্রবার মধ্যরাতে নন্দীপাড়ার এক বন্ধুর বাসা থেকে মি. নাহিদকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তার বাবা।

ওই রাতেই নিকেতন থেকে মহানগর আবাসিক এলাকার দিকে যাওয়ার পথে আসিফ মাহমুদকেও তুলে নিয়ে যাওয়া হয় বলে মুক্তি পাওয়ার পর দাবি করেন তিনি।

২২শে জুলাই রোববার খোঁজ মেলে নাহিদ ইসলামের।

‘মুক্ত হওয়ার পর’ নাহিদ ইসলাম জানান, তুলে নিয়ে যাওয়ায় সময় ওই বাসার নিচে পুলিশ ও বিজিবির গাড়িসহ তিন-চারটি গাড়ি ছিল। সেখানে থাকা একটি প্রাইভেট কার বা মাইক্রোবাসে তাকে ওঠানো হয়।

“সে সময় তিন থেকে চার স্তরের কাপড় দিয়ে আমার চোখ বাঁধা হয় এবং হ্যান্ডকাফ পড়ানো হয়। কিছু সময় পর গাড়ি থেকে নামিয়ে আমাকে একটি বাড়ির রুমে নেওয়া হয়। আমাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং পরবর্তীতে আমার উপর মানসিক ও শারীরিক টর্চার শুরু করা হয়,” যোগ করেন মি. ইসলাম।

তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। এরপর আমার কোন স্মৃতি নাই।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, “রোববার ভোরে চারটা থেকে পাঁচটার দিকে পূর্বাচল এলাকায় আমার জ্ঞান ফেরে। পরে আলো ফুটলে কিছু দূর হেঁটে একটি সিএনজি নিয়ে বাসায় চলে আসি।”

এরপর তিনি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন।

আঘাতের কারণে তার দুই কাঁধ ও বাম পায়ের রক্ত জমাট বেঁধে আছে বলে বিবিসিকে জানিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম।

ডিবি পরিচয়ে কোনো একটি ‘রাষ্ট্রীয় বাহিনী’ তুলে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

যদিও মি. ইসলামের এই অভিযোগের বিষয়ে বিবিসি বাংলার পক্ষ থেকে পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান যে তাকে আটক বা ছেড়ে দেয়া সম্পর্কে তারা কিছু জানেন না।

আগের দফায় আসিফের খোঁজ মেলে চারদিন নিখোঁজ থাকার পর।

ফিরে আসার পর আসিফ মাহমুদ অভিযোগ করেন, শুক্রবার রাতে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর আন্দোলন স্থগিতের ঘোষণা আদায়ের চেষ্টা করে আটককারীরা।

সেই বিবৃতি না পেয়ে তাকে চারদিন ধরে ‘ইনজেকশন’ প্রয়োগ করে অজ্ঞান করে রাখা হয়েছিল বলে বিবিসি বাংলার কাছে দাবি করেন মি. মাহমুদ।

এর আগে, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুইজন সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ ও মাহিন সরকার সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন তাদের চারজন সমন্বয়ক নিখোঁজ আছেন।

যে চারজন সমন্বয়কের নিখোঁজের কথা বলা হয়েছিল তারা হলেন আসিফ মাহমুদ, আব্দুল কাদের, রশিদুল ইসলাম রিফাত ও আবু বাকের মজুমদার।

তবে পরবর্তীতে একে একে সবার খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল।

তবে, এসব নিখোঁজের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ নাকচ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাউকে আটক করেনি। বরং ছাত্র নেতারা নিজেরাই আত্মগোপনে চলে যান।

সবার নিরাপত্তা দেয়ার ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকারের কথাও তুলে ধরেন তিনি। সূত্র: বিবিসি বাংলা

চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম আওয়ামী লীগের সভা শেষে ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার শরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ রবিউল ইসলাম রবি (৪৫) কে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার রাত ১০টার দিকে ডুমুরিয়া উপজেলার খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া ওয়াপদা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি ডুমুরিয়ার ভুলবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলাল করিমের ছেলে।

ডুমুরিয়া থানার ওসি সুকান্ত কুমার সাহা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিউল ইসলামের মৃতদেহ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক কনক হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় রবিউলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন, হাসপাতালে নেওয়ার বেশ আগেই মারা গেছেন তিনি।

রবিউল ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। পরপর তিনবার শরফপুর ইউনিয়নের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি। বাড়ি শরফপুর ইউনিয়নে হলেও পরিবার নিয়ে থাকতেন খুলনা নগরের নিরালা আবাসিক এলাকায়।

শনিবার বিকালে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিশেষ বর্ধিত সভায় যোগ দিতে গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথেই দুর্বৃত্তের হামলার শিকার হন তিনি।

ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগের আহ্বায়ক গোবিন্দ ঘোষ বলেন, বিকাল পাঁচটায় বিশেষ বর্ধিত সভা শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে শেষ হয় সেই সভা। এরপর রবিউল আরও কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বাজারে বসে আড্ডা দিয়েছিলেন। পরে খুলনায় যাওয়ার পথে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত হন।

খুলনার পুলিশ সুপার সাইদুর রহমান বলেন, কেন এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল তা তদন্ত ছাড়া বলা যাবে না। ঘটনার পরপরই আসামিদের ধরতে পুলিশের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ঋণ না পেয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে যুবকের আত্মহত্যার সংবাদ প্রকাশে আমতলীতে বিভ্রান্তি

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার আমতলীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে “সবাই আমাকে মাফ করে দিবেন, আমি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছি।  কিছুক্ষণ পরে আমি আত্মহত্যা করবো। আমি চার পাশে অনেক ধার দেনা হয়ে গেছি। নিজেকে আর সামলাতে পারছি না। একটা লোন হওয়ার কথা ছিল আজকে তা হলো না। আমি আমার বউয়ের সকল গহনাগাটি টাকা পয়সা খরচ করে পথের ভিখারী হয়ে গেছি। আমার বউ অথবা পৃথিবীর কারো দোষ নেই আমার মৃত্যুর জন্য। সকলে আমাকে মাফ করে দেবেন। মা, বাবা, ভাই ও বোন সকলে আমাকে মাফ করে দিবেন”। এমন স্টাটাস দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার সময়ে আমতলী পৌর শহরের ৪নং ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী খোকন কাজী আত্মহত্যা করে।

খোকন কাজীর এমন আবেগঘন ফেইসবুক স্ট্যাটাস দেখে স্বজনরা দ্রুত দোকানে চলে আসে। কিন্তু তারা এসে দেখতে পায় খোকন কাজী দোকানের ফ্যানের সঙ্গে গলায় রশি পেচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে দ্রুত উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কর্তব্য চিকিৎসক তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।

জানাগেছে, বরিশাল শহরের লাকুটিয়া খাশিপুর এলাকার বাসিন্দা ইয়াসিন কাজীর ছেলে খোকন কাজী ২০২০ সালে আমতলীতে এসে উপজেলা রেভিনিউ মসজিদের পাশে চায়ের দোকান দেয়। এ দোকানের ব্যবসায় তার সংসার ভালো চলছিল না। গত দুই বছর আগে জনসেবা নামক একটি স্থানীয় সংস্থা থেকে ঋণ নেয় খোকন। উক্ত ঋণের টাকা গত এক মাস আগে পরিশোধ করলেও ঐ সংস্থায় পুনরায় ঋণ নেওয়ার আবেদন করেনি খোকন কাজী। কিন্তু ফেইসবুক স্টাটাসে আত্মহত্যার করার আগে দেওয়া পোস্টের এক লাইনে লেখা ছিল আজকে একটা লোন হওয়ার কথা ছিল তাও হলোনা। খোকনের স্টাটাসে কোথাও লেখা ছিলনা কোন সংস্হায় ঋণের আবেদন করেছে এবং ঐদিন কোন সংস্হার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল? এসব না লেখা থাকলেও আগের নেওয়া ঋণ প্রদান সংস্হাকে জড়িয়ে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশে মৃত্যু খোকন কাজীর পরিবার ও আমতলীতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।

ঐ স্টাটাসের কারণে হয়তো কতিপয় অতি উৎসাহী লোকের দেওয়া বিভ্রান্তি মুলক তথ্য প্রদান বা আলোচনা করায় সংবাদ প্রকাশকারী মিডিয়ার স্হানীয় প্রতিনিধিরা উক্ত  সংস্থাকে জড়িয়ে সংবাদ প্রকাশ করে।

ঋণ নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ প্রসঙ্গে আমতলীতে বসবাস কারী খোকন কাজীর স্ত্রী ডালিয়ার ফুপাতো বোন আয়শা ফেরদৌসী বলেন, খোকন কাজী দীর্ঘদিন ধরে মানুষিক চাপে ভুগলেও ঋণ বা এ জাতীয় কোন বিষয় নিয়ে পরিবারের কারো সাথে কোন কিছু আলোচনা করতো না। জনসেবা সংস্থা থেকে ঐদিন ঋণ পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান সে আরও সংস্থা থেকে ঋণ নিলেও এসব নিয়ে পরিবার বা কারো সাথে কোন কিছু বলেনি।

জনসেবা ঋণ সংস্থার ম্যানেজার মোঃ রিয়াজুল হাসান বলেন,খোকন আমাদের সংস্থার সদস্য ছিল। এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে গত জুন মাসে তা পরিশোধ করে। কিন্তু নতুন করে ঋণ নেওয়ার আবেদন করেনি।তাই আমাদের সংস্থা থেকে আজকে ঋণ দেয়ার প্রশ্ন আসতেই পারেনা।

জনসেবা সংস্থার পরিচালক এসএম সোহেল মাহমুদ বলেন, ওই ব্যাক্তি আমাদের সংস্থায় ঋণের জন্য আবেদনই করেননি তো ঋণ দেব কিভাবে? আমাদের সংস্থা ঋণ দিবে বলে যে অপপ্রচার হচ্ছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা ও বানোয়াট।

বাস-ট্রাক সংঘর্ষে  ৫ জন নিহত হলো সকালবেলা

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

দিনাজপুর ফুলবাড়ি সড়কের পাঁচবাড়ি এলাকায় বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।

শুক্রবার (৫ জুলাই) সকাল ৬টার দিকে দিনাজপুর-ফুলবাড়ী মহাসড়কের পাঁচবাড়ী বাজার চকরামপুর (দইসই) এলাকায় আরিয়ান পেট্রোল পাম্পের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নাবিল পরিবহণের বাস ও দিনাজপুর থেকে ফুলবাড়ীর দিকে যাওয়া আমবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানা ওসি মো. ফরিদ হোসেন বলেন, হতাহতদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। রেকারের মাধ্যমে রাস্তা থেকে বাসটিকে পুলিশ লাইনে নেয়া হয়েছে এবং ট্রাকটিকে আরিয়ান পেট্রোল পাম্পের পাশে রাখা হয়েছে। বর্তমানে রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক আছে।

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও ভাংচুর, কলেজ ছাত্রী সহ আহত ৬

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি //

মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলাধীন নহাটা ইউনিয়ন দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসছে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।তারই ধারাবাহিকতায় আধিপত্য বিস্তার কে কেন্দ্র করে গতকাল ২ জুলাই ( মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নহাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান  তৈয়বুর রহমান তুরাপ এর সমর্থক মোহাম্মদ আলী ও  সাবেক চেয়ারম্যান আলী মিয়ার সমর্থক এবং ইউপি সদস্য খালিদ হোসেন টোকন এর বড় ভাই  কাসেদ মোল্লার চাকুলিয়া উত্তর পাড়া মোকারমের চায়ের দোকানে বাকবিতন্ডা হয়।এই ঘটনার জানাজানি হলে

বর্তমান চেয়ারম্যান তৈয়বুর রহমান তুরাপের লোকজন সংঙ্গবদ্ধ হয়ে ইউপি সদস্য টোকন মেম্বারের লোকজনের উপরে হামলা করে।সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, এসময় উভয় পক্ষের ৩৫ জন ব্যক্তির ১১ টি দোকান ঘর সহ অন্তত ৫০টি বাড়িঘর ভাঙচুর  ও লুটপাট করেছে।এছাড়াও ইউপি সদস্য খালিদ হোসেন টোকন এর ১ টি প্রাইভেট কার, ১ টি ট্রাক্টর গাড়ী ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়েছে।

এসময় উভয় পক্ষের ৬ জন লোক আহত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।আহতরা হলেন এইচএসসি পরীক্ষার্থী কলেজ ছাত্রী মোছাঃ অন্তরা (১৭) পিতা -হিরুন শেখ, ইমন শেখ (১৮) পিতা-খোকন শেখ,আজিজুল মোল্যা (১৬) পিতা- লিটন মোল্যা, কুদ্দুস শেখ (৭৫)  পিতা-মৃত কালু শেখ, মিনহাজ (১৮) পিতা-নজরুল মোল্যা,পলাশ (২৬) পিতা-ইশারত মোল্যা আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং অন্যান্যরা মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন তাদের পরিবার।

এই সময় নহাটা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে আমরা সাবেক চেয়ারম্যানের সাথে সামাজিক দল করি।কিন্তু কিছুদিন যাবৎ বর্তমান  চেয়ারম্যান তৈয়বুর রহমান তুরাপ  বিভিন্ন লোকজন দিয়ে তার দলে যোগ দেওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। তার দলে যোগ না দেওয়ার কারণে তিনি তার লোকজন দিয়ে আমার লোকদের উপরে হামলা করেছে।সাবেক চেয়ারম্যান আলী মিয়ার সমর্থক আবু সাইদ বলেন,আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিক ভাবে আমার মার্কেটে এসে একদল দুর্বৃত্ত কারী তান্ডব চালায় এতে আমার মার্কেট এর বেশ কয়েকটি দোকানঘর ভাংচুর হয়েছে এবং লুটপাট হয়েছে। আমি এর নায্য বিচার চাই।

এই বিষয়ে মহম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ বোরহান উল ইসলাম এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,ঘটনার খবর পেয়ে সাথে সাথে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই,ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সন্দেহে হামিদ নামের এক ব্যাক্তিকে আটক করা হয়েছে।এবিষয়ে মামলার প্রস্তুতি চলছে,উক্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে যাতে পরবর্তীতে আর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে তার জন্য ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তার পরেও যদি কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাহলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত- পাহাড়ধসের শঙ্কা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

গত দুই দিন ধরে চট্টগ্রামে একটানা বৃষ্টি হচ্ছে। মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকার পাশাপাশি সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে চট্টগ্রামে বৃষ্টিপাতে হচ্ছে। এ একটানা বৃষ্টিপাতের কারনে নগরীতে পাহাড়ধসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ মোহাম্মদ আলী আকবর খান বলেন, শনিবার ভোর ছয়টা থেকে রোববার ভোর ছয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে ২৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা  হয়েছে। এছাড়া রোববার (৩০ জুন) ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয় চট্টগ্রামে। এ সময়ে চট্টগ্রামে ৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এদিকে সকাল ৮টার দিকে নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার কলাবাগান এলাকায় দেয়াল ধসে জেসমিন আক্তার নামে এক মহিলা আহত হন। তিনি কলাবাগান এলাকার খলিল মিয়ার কন্যা। তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিস আগামী তিনদিন বৃষ্টি থাকতে পারে বলে জানিয়েছে। বৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা। রোববার সকাল নয়টায় আবহাওয়া অধিদপ্তর পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় চট্টগ্রামের তাপমাত্রাও কমতে পারে।

রোববার সকালে ভারী বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হওয়ায় তীব্র বৃষ্টির মধ্যে যানবাহন না পেয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দুর্ভোগে পড়েন । চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, নগরীতে ২৬টি ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় রয়েছে। এসব পাহাড়ের পাদদেশে অবৈধভাবে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি পরিবার বসবাস করছে। যেখানে শিশু, বৃদ্ধসহ বসবাসরত মানুষের সংখ্যা ৩০ হাজারের বেশি।

চট্টগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুইজনের মৃত্যু

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রামে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া আত্মহত্যা করেছেন এক ব্যবসায়ী। রোববার সকালে নগরীর আকবরশাহ থানার বাংলা বাজার টোল রোড এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মোঃ জামাল (৩৪) নামের এক যুবক মৃত্যুবরণ করেন। তিনি স্থানীয় মো. বদিউল আলমের পুত্র।

আকবরশাহ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোঃ আল মামুন বলেন, সকালে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে কাজ করার সময় ওই যুবক বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পুড়ে যান। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বন্দর ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে। অপরদিকে রোববার ভোরে উত্তর কাট্টলী চৌধুরী বাড়িতে মো. ওয়াহিদুজ্জামান রিপন (৩৭) নামের এক ব্যবসায়ী আত্মহত্যা করেছেন। তিনি চৌধুরী বাড়ী এলাকার মোঃ খাইরুল আলমের পুত্র। আকবরশাহ থানার এসআই মো. মহসিন জানান, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ী ফেড়ার পথেই মায়ের মৃত্যু, মোটর সাইকেল চালকেরও মৃত্যু

মাহমুদুল হাসান,আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ
সন্তানের লাশ নিয়ে বাড়ী ফেরার পথে মোটরসাইকেল ও এ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে মা পুস্প বেগমেরও (৬৫) মৃত্যু হয়েছে। সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক রুবেল সিকদার (৩২) মারা যায়। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনা জেলার আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্হানে। পুলিশ তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

জানা যায়,পার্শ্ববর্তী কলাপাড়া উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের নিশানবাড়িয়া গন্ডামারি গ্রামের আলম হাওলাদার (৪৫) দীর্ঘদিন লিভার সিরোসিস রোগে ভুগছিলেন। শনিবার রাতে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন।
মা পুস্প বেগম ছেলে আলম হাওলাদারের লাশ নিয়ে আজ রবিবার সকালে গ্রামের বাড়ী নিশানবাড়িয়া যাওয়ার পথে আমতলী-পটুয়াখালী মহাসড়কের ডাক্তার বাড়ী নামক স্থানে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটর সাইকেলের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্স খাদে পরে যায় এবং মোটর সাইকেল দুমড়ে-মুড়চে যায়। ঘটনাস্থলেই মোটর সাইকেল চালক রুবেল সিকদারের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে এলাকার লোকজন,পুলিশ ও দমকল বাহিনী খাদে পরা এ্যাম্বুলেন্স থেকে মৃত্যু ছেলে আলম হাওলাদার ও মা পুস্প বেগমের লাশ উদ্ধার করে। পরে তিনটি লাশকে পুলিশ থানায় নিয়ে আসে।

নিহত মোটর সাইকেল চালক রুবেল সিকাদারের বাড়ী আমতলী উপজেলার আঠারগাছিয়া ইউনিয়নের চাউলা গ্রামের আনসার সিকদারের ছেলে।
নিহত পুস্প বেগমের ভাই রহিম তালুকদার বলেন, আমার ভাগ্নে আলম হাওলাদার লিভার সিরোসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে শনিবার রাতে হাসপাতালে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যায়।ভাগ্নের লাশ নিয়ে বাড়ী খিড়ছিল আমার বোন বোন পুস্প বেগম।
পথেই মোটর সাইকেল ও লাশবাহী এ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংষর্ঘে আমার বোনের মৃত্যু হয়। তিনি বোনের লাশ ময়না তদন্ত ছাড়া তার কাছে হস্তান্তরের দাবী জানান।

নিহত মোটর সাইকেল চালক রুবেল সিকদারের স্বজন নাশির উদ্দিন বলেন,আমতলী থেকে বাড়ী আসার পথে এ্যাম্বুলেন্স ও মোটর সাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রুবেল নিহত হয়েছে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,নিহত দুইটি মরদেহসহ তিনটি মরদেহই থানায় নিয়ে আসাহয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আমতলীতে বাস চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

আমতলী-ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের উপজেলার মহিষকাটা নামক স্থানে হিমাচল সীমান্ত পরিবহনের  চাপায় মোটর সাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী মঞ্জু খাঁন নিহত হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে আজ শুক্রবার সকালে।

জানা গেছে,ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা হিমাচল সীমান্ত পরিবহন কুয়াকাটার উদ্দেশ্য আসছিল একই সময়ে ব্যবসায়ী মঞ্জু খান আমতলীর কুতুবপুর দরবার থেকে মোটর সাইকেল যোগে পটুয়াখালীতে ফিরছিল। বরগুনার আমতলী উপজেলার মহিষকাটায় মোটর সাইকেল ও পরিবহনের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহী ব্যবসায়ী মঞ্জু খান (৪৮) নিহত ও মোতালেব হাওলাদার (৫০) গুরুতর আহত হয়। খবর পেয়ে আমতলী উপজেলা ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনিরুজ্জামান খান তাদের বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরন করেছে। বরিশাল নেয়ার পথে ব্যবসায়ী মঞ্জু খান নিহত হয়। নিহত মঞ্জু খান পটুয়াখালীর হেতালিয়া বাঁধঘাট মাছের আড়ৎ এর  ব্যবসা করে। পুলিশ ঘাতক বাসটি ও মোটর সাইকেল উদ্ধার করে আমতলী থানায় নিয়ে আসে।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,ঘাতক বাস ও মোটর সাইকেল উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। দুর্গটনায় মঞ্জুখান নামের এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।

মোংলায় গ‍্যাসবাহী জাহাজের ধাক্কায় নিখোঁজ জেলের মরদেহ ১ দিন পর উদ্ধার

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের মোংলায় বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ ক্যানেলের জয়খাঁ এলাকায় লাইটার জাহাজের ধাক্কায় মাছ ধরার নৌকা ডুবে নিখোঁজ জেলে মহিদুল শেখ (২৫) এর লাশ ২৯ঘন্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত জেলে মহিদুল শেখ উপজেলার সোনাইলতলা ইউনিয়নের উলুবুনিয়া গ্রামের রশিদ শেখের ছেলে।

শুক্রবার (২৮ জুন) সকাল ৯টায় বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ ক্যানেলের পশ্চিম পাড় থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। মোংলা নৌ পুলিশের ইনচার্জ সৈয়দ ফকরুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

উলুবুনিয়ার এক বাসিন্দা জানান, আমরা ৪টি ট্রলার নিয়ে মহিদুলকে খুঁজতে থাকি। ২টি ট্রলার রামপালের দিকে আর ২টি ট্রলার মোংলার দিকে খুঁজতে থাকি। এমন সময় বঙ্গবন্ধু মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ ক্যানেলে লাশটি ভাসতে দেখি। পরে নৌ পুলিশ ও আমরা লাশটি উদ্ধার করি।

মোংলা নৌ পুলিশের ইনচার্জ সৈয়দ ফকরুল ইসলাম বলেন, সকালে মাদ্রাসা রোডের পশ্চিম দিকের মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ ক্যানেলে ভেসে উঠে। নিহতের ভাই মহিদুলের লাশের পরিচয় শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহযোগিতায় লাশটি উদ্ধার করা হয়। লাশটি ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট প্রেরণ করা হচ্ছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) ভোর রাত ৪টার দিকে মোংলা-ঘাষিয়াখালী আন্তর্জাতিক নৌ ক্যানেলের জয়খাঁ এলাকায় এলপিজি পরিবহনকারী একটি জাহাজের পাখার সাথে দঁড়ি পেচিয়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই সময় ট্রলারে থাকা জেলে তারিকুল সাঁতরিয়ে কুলে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন মহিদুল শেখ। নিখোঁজের সন্ধানে তল্লাশী অভিযান চালান থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।