ডুমুরিয়ায় সড়ক দুঘটনায় নছিমন চালকের মৃত্যু

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ার  খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের  জিলেরডাঙ্গা নামক স্থানে ২ অক্টোবর  বুধবার ভোরে ট্রাক ও নসিমনের সংঘর্ষে নসিমন চালক ইমরান গাজী (২৭) নিহত হয়েছে। সে উপজেলার  গোনালী  গ্রামের আজিজুল গাজীর ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কে ডুমুরিয়ার গুটুদিয়া ইউনিয়নের জিলেরডাঙ্গা নামক স্থানে সবজীবাহী নসিমন খুলনা যাওয়ার পথে জিলেরডাঙ্গার মাঝামাঝি স্থানে রাস্তা খারাপ থাকায়  সবজি বোঝাই নসিমন নিয়ন্ত্রন  হারিয়ে দাড়িয়ে থাকা  ট্রাকের পিছনে আঘাত করে। এতে ঘটনা স্থলেই নসিমনের ড্রাইভার ইমরান গাজী (২৭) মৃত্যুবরন করেন। পরবর্তীতে ট্রাকটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। নসিমন ড্রাইভার ইমরান এর মৃতদেহ স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে তার নিজ বাড়িতে নিয়ে যায়। ইমরানের মৃত্যুর খবর পেয়ে একনজরে দেখার জন্য আত্মীয় স্বজন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মেম্বার তার বাড়িতে যান। স্ত্রী ও শিশু পুত্র কান্নায় এক বেদনা বেধুর পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

ডুমুরিয়ার গুদিয়ায় ট্রাক চাপায় নারী পুলিশ সদস্য নিহত

//বিশেষ প্রতিনিধি//
খুলনায় ফারজানা নামে এক নারী পুলিশ সদস্য সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হলেও অক্ষত রয়েছে ছেলে ও ভাই।
পুলিশ সদস‍্য ডুমুরিয়া থানায় কর্মরত ছিলেন। রোববার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮ টায় খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের গুটুদিয়া এলাকার এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানায়, খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দিয়ে মোটরসাইকেল যোগে খুলনা থেকে ডুমুরিয়া আসার পথে গুটুটিয়া এলাকায় আসলে রাস্তার মাঝে গর্তে ধাক্কা খেয়ে ফারজানা মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়েন রাস্তার উপর।
পিছন দিক থেকে আসা ডাম্পার ট্রাক (খুলনা মেট্রো- ১১-০৪৪৫) এর চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

নিহত ফারজানা তার ভাইয়ের মোটরসাইকেল যোগে খুলনা থেকে ডুমুরিয়ায় আসার পথে ঘটনাটি ঘটে।

মোটরসাইকেলে থাকা তার ভাই এবং ছেলে অক্ষত রয়েছেন। তবে ট্রাকটিকে পুলিশ আটক করলেও ট্রাকের ড্রাইভার এবং হেলপার পলাতক রয়েছে।

বনগ্রামে আগুন লেগে বসত বাড়ি ভষ্মিভূত

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বনগ্রাম ইউনিয়নে আগুন লেগে একটি বসত বাড়ি ভষ্মিভূত হয়েছে। পুটিয়া গ্রামের কালা চাঁদ মুখার্জী  ছেলে রমেশ চন্দ্র মুখার্জীর বসত বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ততখনে সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

জানাগেছে, বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পুটিয়া গ্রামের রমেশ চন্দ্র মুখার্জীর বসত বাড়িতে দিবাগত রাতে আগুন লেগে ঘরটি সম্পূর্ন পুড়ে যায়। ঘরের থাকা মালামাল ও নগদ ২৫ হাজার টাকাসহ প্রায় ৩লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়। এব্যাপারে গত ১৯ সেপ্টম্বর ২৪ মোড়েলগঞ্জ থানা ৯৫২ নং একটি সাধারন ডায়রী করা হয়েছে।

দোকানে ফেরা হলোনা কাসেমের, কুপিয়ে হত্যা করে নিয়ে গেলো সাথে থাকা ৬ লক্ষ টাকা

//মাহমুদুল হাসান,আমতলী, বরগুনা//

বরগুনার আমতলীতে এক বিকাশের এজেন্ট ব্যবসায়ী আবুল কাসেমকে কুপিয়ে হত্যা করে কাছে থাকা টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা।

ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দশটার দিকে। নিহত ব্যবসায়ী আবুল কাসেম (২৩) উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কলাগাছিয়া গ্রামের মোঃ নুর উদ্দিন মোল্লার ছেলে। বৃহস্পতিবার রাত দশটার দিকে দোকান থেকে নিহত কাসেম বাড়িতে ফিরছিল বাড়ীর কাছাকাছি সড়কের পাশে ধান ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত্যু ঘোষণা করে।

জানা যায়,আবুল কাশেম কলাগাছিয়া বাজারে বিকাশ,ফ্লেক্সিলোড ও ইলেকট্রনিক্স মালামালের ব্যবসা করতেন। বাজারের দোকান বন্ধ করে রাত দশটার দিকে ব্যবসার টাকা ব্যাগে নিয়ে বাড়ি কাছাকাছি পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে বাড়ির পাশে ধান খেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। এবং সাথে থাকা টাকাও নিয়ে যায়।

নিহতের মামাতো ভাই সাইদুল বলেন,আমার ফুপি আমাকে ফোন দিয়ে বলে কাশেম এখনো বাড়ি আসে নাই,দেখতো কাশেম বাজারে কিনা। কাশেম যেসব দোকানে বসে সেইসব দোকানে খুঁজেও কাশেমকে পাওয়া যাচ্ছিল না। কাশেমকে খুঁজতে খুঁজতে যখন বাড়ি যাই, রাস্তার উপর আমার ফুপিকে দেখতে পাই। বাড়ির সামনে একটু গিয়ে দেখি আমার ভাই ধান ক্ষেতের ভিতরে পড়ে আছে, চিৎকার দিয়ে আমি আর আমার ফুফু সেখানে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে যাই। তিনি আরো বলেন,ঘটনার দিন আমার ভাই কাসেম পটুয়াখালী ব্যাংক থেকে টাকা তুলেছিলেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৬ লক্ষের মতো টাকা ছিল বলে দাবি করেন তার মামাতো ভাই সাইদুল।  আমরা এই ঘটনার বিচার চাই। যারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।

আমতলী থানার অফিসার ইনচার্জ কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন,ঘটনা শুনে ঘটনাস্থানে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান অব্যাহত আছে।

মেধাবী ছাত্রী চৈতির অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী শিক্ষক; ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী ফাইরুজ মাহমুদ নিদ (চৈতি)। তার অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী সোনিয়া সুলতানা এবং শিক্ষিকা কাকলি গাইন সহ দোষীদের ফাঁসির দাবিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য- রূপসার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের প্রেমের ফাঁদে পড়ে গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে চৈতি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে প্রয়াত ছাত্রী চৈতীর মাতা নুরনাহার বাদী হয়ে আদালতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের উক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।

নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ফাইরুজ মাহমুদ চৈতীর পিতা ফিরোজ পাশা, মাতা নুর নাহার শেখ, ইউপি সদস্য রেশমা আক্তার, আশরাফ আলী রাজ, হুমায়ূন কবীর রাজা, নিজাম উদ্দীন, মনিরা বেগম, হাফিজুর রহমান, পিয়াস শেখ, সাব্বির শেখ, হাসান মল্লিক, সাদমান, মো. সিদ্দিক, মো. তুহিন, আরমান শেখ, রেজাউল করিম, ফারুক, জনী, শফিক, হিরা শেখ, সুমন ঘোষ, প্রিন্স শেখ, আঃ হালিম, রিয়াদ শেখ, সৌমিত্র দেবনাথ, ওবায়দুল্লাহ মল্লিক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রাসেল হাওলাদার, মো. ইউসুফ, ইব্রাহিম খলিল, মো. সিয়াম, লাবন্য আক্তার জ্যেতি, সুমাইয়া আক্তার ফাতেমা, সাদিয়া আক্তার লামিয়া, মারুফা, সুমাইয়া সুলতানা, মুন্নী খাতুন, সাহারা আক্তার তৃষা, শান্তনা দাস, জ্যেতি রানী পাল, সুমা খাতুন, আসাদুজ্জামান রাফি, রাহুল কুমার দাস, অর্পন পাল, আজিম শিকদার, রাজ্জাক প্রমূখ।

পিকআপ-ইজিবাইক সংঘর্ষে নারী সহ ৪ জন নিহত হয়েছে বাগেরহাটে

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিকআপ ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ ইজিবাইকের চার যাত্রী নিহত হয়েছে। এসময় আরো ৩ যাত্রী আহত হয়েছে।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফকিরহাটের কাটাখালী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, বাগেরহাটের মুনিগঞ্জ এলাকার নোমান শেখের স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা নিপা বেগম (২৮), রামপাল উপজেলার নবাবপুর এলাকার রাজমিস্ত্রি মো. মাসুম (৩৩), একই এলাকার রাজমিস্ত্রি শওকত আলী (৪০)। নিহত অপর জনের নাম ঠিকানা অজ্ঞাত।

এসআই মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাটাখালী থেকে যাত্রীবাহী এক ইজিবাইক টাউন নওয়াপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে ইজিবাইকটির সংঘর্ষ হয়। এতে ইজিবাইকে থাকা স্কুল শিক্ষিকাসহ তিনজন ঘটনাস্থলে নিহত হন। এসময় ৩ যাত্রী আহত হন। এদের মধ্যে আহত দুইজনকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাসেলুর রহমার জানান, খুলনা মেডিকেলে নেওয়ার পর সেখানে আরও একজন নিহত হয়েছেন। তার নাম ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

কাটাখালী হাইওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে। তবে ঘটনার পর ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দ্রুত পালিয়ে গেছে।

“বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে চলে গেলাম” চিরকুট লিখে স্কুল শিক্ষকের আত্মহত্যা

মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধিঃ

“বউয়ের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে চলে গেলাম” এমন চিরকুট লিখে আম গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে নজরুল ইসলাম নামের এক শিক্ষক আত্মহত্যা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামে শনিবার সকালে। নজরুল ইসলাম আমতলী সদর ইউনিয়নের উত্তর টিয়াখালী ছোবাহান বিশ্বাস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ছিলেন।

জানাগেছে, উপজেলার হরিদ্রাবাড়িয়া গ্রামের মোঃ খালেক খাঁনের ছেলে নরজরুল ইসলামের সঙ্গে গত দের বছর আগে একই গ্রামের দুলাল ভুইয়ার মেয়ে খাজিদার বিয়ে হয়।  বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল এমন দাবী তার পরিবারের। ওই দম্পতির এক বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। শুক্রবার দিবাগত রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্ধ হয়। শনিবার সকালে স্ত্রী খাজিদা বেগম তার ভাসুর ফেরদৌস খাঁনের সঙ্গে বলেন আমি আমার বাবার বাড়ী চলে গেলাম আপনার ভাই আমাকে মারধর করেছে। এ কথা বলে স্ত্রী খাজিদা  বেগম বাবার বাড়ী চলে যায়। ওই দিন বেলা সাড়ে ১০ টার দিকে স্থানীয়রা শিক্ষক নজরুল ইসলামকে একটি আম গাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেয়া অবস্থায় দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে । পরে ময়না তদন্তের জন্য তার মরদেহ বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে প্রেরন করেছে। ওই সময় পুলিশ নজরুলের পরিধানের কাপড়ে পেঁচানো একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে। এ ঘটনায় আমতলী থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ঘটনার পরপর স্ত্রী খাজিদা বেগম গা-ঢাকা দিয়েছেন।

নিহতের বড় ভাই ফোরদৌস খাঁন বলেন, আমার ভাইকে তার স্ত্রী বিয়ের পর থেকেই নানাভাবে নির্যাতন করে আসছে। তার নির্যাতন সইতে না পেয়ে আমার ভাই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।  আমি আমার ভাইয়ের হত্যাকারীর শাস্তি দাবী করছি।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়।

কচুয়ায় গলায় ওরনা পেচিয়ে এক গৃহবধুর আত্মহত্যা

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ায় রান্না ঘরে গলায় ওরনা পেচিয়ে এক গৃহবধুর আত্মহত্যা করেছে। নিহত গৃহবধুর নাম ফারিয়া মুসলিমা শেফা (২০) তার ৮মাস বয়সের একটি মেয়ে শিশু সন্তান রয়েছে। উপজেলার বাধাল ইউনিয়নের রঘুদত্তকাঠী গ্রামে রবিবার রাতে এঘটনা ঘটেছে। পারিবারিক কলহের জেরে এঘটনা ঘটেছে বলে প্রথমিক ভাবে ধারনা করছে এলাকাবাসী। নিহত গৃহবধু রঘুদত্তকাঠী গ্রামের ফেরদাউস শেখের স্ত্রী।

নিহতের স্বামী ফেরদাউস শেখ বলেন, দুই বছর তিন মাস পূর্বে তার বিবাহ শেফার সাথে তার বিবাহ হয়। তাদের ৮মাস বয়সের একটি মেয়ে শিশু সন্তান রয়েছে। ঘটনা দিন রাতে খাবার খেয়ে এক সাথে বিছানায় শুয়ে পড়ে এর মোবাইল ফোন দেখাকে কেন্দ্র করে দু‘জনের মধ্যে একটু কথা কাটাকাটি হয়। এরপর শেফা বাথরুমে  যাওয়ার কথা বলে বিছানা থেকে উঠে য়ায়। এসময় তাদের শিশু কন্যা ঘুম থেকে উঠে কাঁদছিল এবং প্রসাব করে ফেরদাউস পরিস্কার করে উঠে দেখ রুমের বাহির থেকে দরজা দেওয়া কোভাবে খুলে তাকিয়ে রান্না ঘরে দরজা খোলা দেখে লাইট জালিয়ে গলায় ওরনা পেচানো অবস্থায় শেফাকে ঝুলন্ত দেখে শেফা শেফা বলে চিৎকার করে শেফাকে জাগিয়ে ধরে।

কচুয়া থানা পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনা স্থলে গিয়ে ফারিয়া মুসলিমা শেফার মৃত দেহ উদ্ধার করে আইন হত ব্যবস্থা গ্রহন করেছে।

 

কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে মারা হয় চিকিৎসক মৌমিতাকে

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার নারী চিকিৎসককে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বহিরাংশে ১৬টি ও ভেতর ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে।

৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে এই ময়নাতদন্ত করা হয়। আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই এই ময়নাতদন্ত করেন। আজ সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে খবর প্রকাশ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাক-মুখ বন্ধ করে শ্বাস রোধ করার কারণেই (ওই চিকিৎসকের) তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। হত্যার ধরনটি নরহত্যার পর্যায়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গে কোনো কিছু জোর করে প্রবেশের আলামত পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, সম্ভবত তাঁকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল।

গাল, ঠোঁট, নাক, ঘাড়, বাহু, হাঁটু ও যৌনাঙ্গে বাহ্যিক ক্ষত পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষত পাওয়া গেছে ঘাড়, মাথার ত্বক ও অন্যান্য অংশের পেশিতে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সব আঘাত মৃত্যুর আগের। এর অর্থ হলো, মারার আগে তাঁকে সীমাহীন কষ্ট দেওয়া হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আরজি কর হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক অপূর্ব বিশ্বাস, একই হাসপাতালের একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিনা দাস এবং এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মলি ব্যানার্জি।

গত শুক্রবার উত্তর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন শেষে ওই দিন রাতে তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সী ওই শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসকের মরদেহটি ছিল রক্তাক্ত, শরীরের নানা জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় কলকাতার পাশাপাশি ভারতজুড়ে চিকিৎসকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এখনো আন্দোলন চলছে।

প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। তাঁদের তদন্ত সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর তা ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

চট্টগ্রাম কারাগারে বিদ্রোহ, ব্যাপক গোলাগুলি 

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদীরা বিদ্রোহ করেছেন বলে জানা গেছে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাবার বুলেটে ও ফাঁকা গুলি ছুড়েন কারারক্ষীরা। এতে কয়েকজন কয়েদি আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিক ভাবে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিক ভাবে কতজন আহত হয়েছেন তা জানা যায়নি। বর্তমানে কারাগারে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছে। শুক্রবার (৯ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টা থেকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কারাগারে অবস্থান করছে সেনাবাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে, দুপুর ২টার দিকে হঠাৎ কারাগারের ভেতরের সাঙ্গু ভবনের দেয়াল কুঁচিয়ে ইট বের করে কয়েদিরা। তারপর ইট গুলো গুড়ি করে কারারক্ষীদের দিকে ছুঁড়তে থাকে। সাঙ্গু ভবনের বর্তমানে ৯০০ কয়েদি অবস্থান করছেন। একই সময়ে সব ভবনে থাকা কয়েদিরা পালিয়ে যাওয়ার জন্য বিদ্রোহ ঘোষণা করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কারা কতৃপক্ষ সেনাবাহিনীর সহযোগিতা চান। তাৎক্ষণিক একদল সেনাবাহিনীর মাত্র ৫ জন সদস্য কারাগারে প্রবেশ করে চেষ্টা করেন পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে আনতে। এ সময় কারারক্ষীরা ১৫/২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়েন। পরে সব কয়েদিদের মারধর করে স্ব স্ব ভবনের রুমে প্রবেশ করাতে সক্ষম হন তারা। কয়েদীরা সাঙ্গু ভবনসহ অনেক ভবনের রুমের লোহার গেইট ভাঙতে চেষ্টা করেন কয়েদিরা। এতে নড়েবড়ে হয়ে গেছে অনেক লোহার গেইট। সেনাসদস্য ও জেলা কারাগার কতৃপক্ষের ৩০ মিনিটের চেষ্টায় পরে শান্ত  হয় চট্টগ্রাম জেলা কারাগারের পরিবেশ।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গেটের দায়িত্বে থাকা আক্তার জানান, দুপুরে নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের একাধিক ভবনে কয়েদিরা বিদ্রোহ শুরু করেন। আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়েছে। কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। আমাদের কারারক্ষীদের সঙ্গে এখনো আমরা যোগাযোগ করতে পারিনি। আমাদের অনেক কারারক্ষী আহত হয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীর জানান, জুমার নামাজের পর হঠাৎ কারাগারের ভেতর থেকে বিকট আওয়াজ ও গোলাগুলির শব্দ আসে। এ সময় লালদীঘির চারপাশে রাস্তায় গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। চট্টগ্রাম জেল সুপার মঞ্জুর হোসেন জানান , জুমার নামাজের পরে কিছু কয়েদি বিদ্রোহ করে বিক্ষোভ শুরু করে। এ সময় কারাগারে পাগলা ঘণ্টা বাজানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের পক্ষ থেকে ফাঁকা গুলি করা হয়। এখন পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কতজন

আহত হয়েছেন তা এখনো বলা যাচ্ছে না। কারাগারের ভেতরে সেনাবাহিনী প্রবেশ করেছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সবসময় কারাগারে সেনাবাহিনী রাখার অনুরোধ জানিয়েছি।

চট্টগ্রাম কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. ইব্রাহিম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কারাগারে সেনাবাহিনী ও বিজিবি পৌঁছেছে। কোন বন্দি পালাতে পারেনি। কোন বহিরাগত কারাগারের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে নি। এ ঘটনা কেন ঘটেছে সেটি আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখছি।