ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার উপরে পৃথিবীর কক্ষপথে থাকা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের মতো তা বহু দেশের সহযোগিতায় বানানো নয় অবশ্য। নতুন মহাকাশ স্টেশনটি বানাচ্ছে চিন। নাম— তিয়াংগং মহাকাশ স্টেশন।
চিনের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা চায়না ন্যাশনাল স্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বৃহস্পতিবার এই খবর দিয়েছে। জানিয়েছে, চিনা মহাকাশ স্টেশনে থাকবে তিনটি মডিউল বা অংশ। যা এ বছরেই ধাপে ধাপে ছ’টি অভিযানে পাঠানো হবে কক্ষপথে, মহাকাশ স্টেশনটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে। তিনটি মডিউলের মধ্যে একটিতে হবে গবেষণা, নানা ধরনের পরীক্ষানিরীক্ষা। এই মডিউলের নাম— ‘ওয়েনতিয়ান’।
সবক’টি মডিউলই পৃথিবীর কক্ষপথে পাঠানো হবে অত্যন্ত শক্তিশালী ‘লং মার্চ-৫বি’ রকেটে চাপিয়ে। মহাকাশ স্টেশনটি দেখতে হবে ইংরেজি ‘টি’ বর্ণের মতো। চিনা মহাকাশ স্টেশনের তিনটি মডিউলের মধ্যে দু’টির ওজন ২০ হাজার কিলোগ্রাম বা ৪৪ হাজার ১০০ পাউন্ড করে হবে। এই মহাকাশ স্টেশনেও অন্য দেশের বিজ্ঞানী, গবেষকরা কাজ করতে পারবেন। এর পর চাঁদের কক্ষপথে একটি ‘লুনার স্টেশন’ও বানাতে চলেছে চিন।
এ ছাড়াও এ বছরে ১৪০টি মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা হবে বলেও জানিয়েছে বেজিং।
Cyber Attack: মুহূর্তে অচল দেশের হাজার হাজার এটিএম! বৃহত্তম সাইবার হানায় ইউক্রেনে বিপর্যয়
এই ধরনের সাইবার হানাকে পরিভাষায় বলা হয় ‘ডিট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস’ (ডিডিওএস)’ ।
এর আগেও একাধিকবার ইউক্রেনে সাইবার হানা চালিয়েছে রাশিয়া বলে জানা যাচ্ছে।
কিন্তু এ বারে সাইবার হানার ব্যাপ্তি আরও ব্যাপক।
কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এত ব্যাপক সাইবার হামলায় বিপর্যস্ত কিয়েভ।
ব্যাঙ্কের সঙ্গে মূল সার্ভারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন। অচল এটিএম। দেশের ইন্টারনেট পরিষেবাও থমকে। বন্ধ সরকারি কাজকর্ম। বৃহত্তম সাইবার হানার কবলে পড়ল ইউক্রেন। সন্দেহের তির রাশিয়ার দিকে।
শিয়রে দাঁড়িয়ে রাশিয়া। যে কোনও মুহূর্তে হামলা হতে পারে। আপৎকালীন তৎপরতায় জনজীবন যতটুকু পারা যায় গুছিয়ে নেওয়ার মরিয়া চেষ্টা ইউক্রেনে। এটিএমের সামনে লম্বা লাইন। কিন্তু আচমকাই অচল সবকিছু। মোবাইলে ইন্টারনেট আছে কিন্তু তা দিয়ে কোনও কাজ করা যাচ্ছে না। এমনকি, স্তব্ধ দেশের প্রতিরক্ষা দফতরের সরকারি ওয়েবসাইটও। একাধিক ব্যাঙ্কে মূল সার্ভারের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন। এ যাবৎকালের বৃহত্তম সাইবার হানার মুখে পড়ল ইউক্রেন। প্রাথমিক ভাবে মনে করা হচ্ছে হ্যাকের পিছনে রয়েছে পুতিনের দেশ।
ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা দফতর জানিয়েছে, তাদের ওয়েবসাইটেও হানা হয়েছে। ফলে কোনও ভাবেই তাদের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে পারছেনা না কেউ। এই ধরনের সাইবার হানাকে পরিভাষায় বলা হয় ‘ডিট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস (ডিডিওএস)’। এর আগেও একাধিকবার ইউক্রেনে সাইবার হানা চালিয়েছে রাশিয়া বলে জানা যাচ্ছে। কিন্তু এ বারে সাইবার হানার ব্যাপ্তি আরও ব্যাপক।
এ দিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র জানান, দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রদেশের সেনা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট মহড়া শেষ হওয়ায় তারা নিজ নিজ ঘাঁটিতে ফিরে যাচ্ছে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রক একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা গিয়েছে, তাদের বাহিনী ইউক্রেন সীমান্ত ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে ঠিক বাহিনীর কত অংশ সরছে তার হিসেব দেয়নি পুতিন সরকার। এই ঘটনায় যুদ্ধের উত্তেজনা খানিকটা হলেও কমেছে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু ইউক্রেনে এমন সাইবার হানা ফের একবার উত্তেজনার পারদ চড়াতে পারে। সূত্র: আনন্দবাজার
মেমোরি কার্ড আবিষ্কারের পর মোবাইলসহ বিভিন্ন যন্ত্রে সেটি বসিয়ে তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। সেই কার্ড বানরের মস্কিষ্কে স্থাপনের পর মানুষের মগজেও বসানোর ঘোষণা দিয়েছিল মার্কিন ধনকুবের এলন মাস্কের প্রতিষ্ঠান নিউরোটেক স্টার্টআপ নিউরালিঙ্ক।
সম্প্রতি ব্রিটিশ সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট ও ইউএসএ টুডের প্রতিবেদনে সেই তথ্য জানানো হয়েছিল। তবে ১০ ফেব্রুয়ারি নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ওই পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষা চালানো মোট ২৩টি বানরের মধ্যে অন্তত ১৫টি মারা গেছে। বানরের মস্তিষ্ক ছেদ করে চিপগুলো লাগানো হয়েছিল। এতে সংক্রমণ ও মারাত্মক পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে বানরগুলো মারা যায়। ময়নাতদন্ত শেষে জানা গেছে, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে বানরগুলোর।
পশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ফিজিসিয়ানস কমিটি ফর রেসপন্সিবল মেডিসিন ৭০০ পাতার একটি রিপোর্ট তৈরি করেছে। এতে বলা হয়েছে, মস্তিষ্কে চিপ লাগানোর পর অসুস্থ হয়ে পড়েছিল বানরগুলো।
এ বিষয়ে মার্কিন কৃষি বিভাগে অভিযোগ দায়ের করেছে ওই সংগঠন। তাতে এলন মাস্ক ও ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলা হয়েছে।
নিউরোলিঙ্ক প্রকল্প শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালে। তখন বলা হয়েছিল, ব্রেন ডেথ ও মেরুদণ্ডে সমস্যা থাকলেও মানুষ চলাফেরা করতে পারবেন। ডিভাইস চালানো ছাড়াও অবসাদ ও মানসিক রোগের সঙ্গে লড়াই করতে সক্ষম হবে মস্তিষ্ক।
প্রথম দিকে নিউরালিংক ঘোষণা করে, ইঁদুর ও বানরের ওপর গবেষণা চালিয়ে সফল হওয়া গেছে। ব্রেইন চিপটি স্থাপনের পর বানর মন দিয়ে ভিডিও গেমস খেলতে পারছে, এমন একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকা যেসব ব্যক্তি ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী প্যারাসিটামল গ্রহণ করেন, তাদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়।
এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা বলছেন, যেসব রোগী দীর্ঘসময় ধরে প্যারাসিটামল গ্রহণ করছেন তাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়গুলো চিকিৎসকদের চিন্তা করা দরকার।
গবেষকরা বলছেন, মাথা ব্যথা ও জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল গ্রহণ করা যেতে পারে।
তবে অন্য গবেষকরা বলছেন, এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে জানার জন্য আরো বেশি মানুষের ওপর বেশি সময় ধরে গবেষণা চালানো প্রয়োজন।
শরীরের ব্যথার জন্য সারা বিশ্বে বহুলভাবে ব্যবহৃত হয় প্যারাসিটামল। তবে দীর্ঘস্থায়ী বা পুরনো ব্যথা উপশমের জন্যও প্যারাসিটামলের পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
তবে দীর্ঘ মেয়াদে প্যারাসিটামল ব্যবহারের কোনো উপকারিতা আছে কিনা, তা নিয়ে তেমন প্রমাণ নেই।
স্কটল্যান্ডে ২০১৮ সালে অন্তত ৫ লাখ মানুষকে প্যারাসিটামল খাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। এই সংখ্যা দেশটির জনসংখ্যার দশ শতাংশ।
রোগীদের যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে – যেই সমস্যায় যুক্তরাজ্যে প্রতি তিনজনে একজন ভুগে থাকেন – তাহলে তাদের আরো বেশি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে উঠে এসেছে গবেষণায়।
গবেষণার ট্রায়ালে ১১০ জন স্বেচ্ছাসেবীকে নেয়া হয়, যাদের টানা দুই সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ৪টি করে প্যারাসিটামল (১ গ্রাম) সেবন করতে দেয়া হয়।
এই ১১০ জন স্বেচ্ছাসেবীর দুই-তৃতীয়াংশ উচ্চ রক্তচাপ অথবা দুশ্চিন্তার কারণে প্যারাসিটামল নিচ্ছিলেন।
ট্রায়ালে উঠে এসেছে, ‘প্যারাসিটামলের কারণে তৈরি হওয়া উচ্চ রক্তচাপ’ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের অন্যতম প্রধান কারণ।
সার্কুলেশন জার্নালে সম্প্রতি প্রকাশিত হওয়া গবেষণাটিতে ‘কিছু শ্বেতাঙ্গ স্কটিশের রক্তচাপে ছোট কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হয়’ তবে এখনো এ সম্পর্কে ‘অনেক অজানা তথ্য’ রয়েছে, মন্তব্য করেন লন্ডনের সেইন্ট জর্জেস ইউনিভার্সিটির ফার্মাকোলজি ও থেরাপিউটিকসের শিক্ষক ড. দিপেন্দর গিল।
“প্রথমত, প্যারাসিটামল ব্যবহারের ফলে রক্তচাপ বাড়ার সমস্যা দীর্ঘ দিন টিকে থাকে কিনা, তা পরিষ্কার নয়”, বলেন ড. গিল।
“দ্বিতীয়ত, প্যারাসিটামলের জন্য বৃদ্ধি পাওয়া রক্তচাপের কারণে হৃদরোগ তৈরি হতে পারে কিনা, তাও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।”
যুক্তরাষ্ট্রের একটি ব্যাপকভিত্তিক গবেষণায় এর আগে উঠে এসেছিল যে দীর্ঘ মেয়াদে প্যারাসিটামল ব্যবহার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায় – তবে এই দু’টির মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক আছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এডিনবরার গবেষকরা বলছেন, প্যারাসিটামল কীভাবে রক্তচাপ বাড়ায় সে সম্পর্কে তারা পরিষ্কারভাবে ব্যখ্যা দিতে পারছেন না।
তবে তারা আশা প্রকাশ করেছেন তাদের গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্যারাসিটামল প্রেসক্রাইব করার বিষয়টি নিয়ে নতুন করে গবেষণা শুরু হবে।
গবেষণার অর্থায়ন করা সংস্থা ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন বলছে ডাক্তার ও রোগীদের প্রতিনিয়ত চিন্তা করা উচিত যে ‘প্যারাসিটামলের মত অপেক্ষাকৃত ক্ষতিহীন’ ওষুধও আমাদের গ্রহণ করা উচিত কিনা। সূত্র: বিবিসি।
কীভাবে স্মার্ট হওয়া যায়? বা স্মার্ট কাকে বলে? এমন প্রশ্ন থাকতেই পারে।
সাধারণত আমরা SMART এর Meaning দেখে নেই-
Specific, Measurable, Achievable, Relevant, and Time-Bound
স্মার্ট হবার বহু পথ। তন্মধ্যে কিছু নিম্নে দিলাম।
১. কথা বলার সময় অতিরিক্ত ভঙ্গিমা না দেখানো।
২. যখন সবাই চুপ করে কারও কথা মনোযোগ দিয়ে শুনছে তখন আপনি বেখেয়াল হয়ে বা ইচ্ছে করে সবার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য বা মনোযোগ নষ্ট করার জন্য এমন কিছু করতে পারেন না যা আপনাকে সবার কাছে বিরক্তিকর হিসেবে রিপ্রেজেন্ট করে।
৩. হুট করে ইংরেজি শব্দ দিয়ে কাউকে ছোট করতে চেষ্টা না করা।
৪. লেখার ক্ষেত্রে বানানের সঠিকতা মেনে চলা।
৫. চলার ক্ষেত্রে পুরো রাস্তা জুড়ে না হাঁটা বা অন্য কারও দিকে এমন ভাবে না তাকানো যা ওই পথচারীকে দ্বিধায় ফেলে দেয়।
৬. কারও অতি গোপনীয় বিষয় সবার সামনে জানতে চেষ্টা না করা।
৭. নিজেকে সবার চেয়ে ছোট মনে করা এবং সুযোগ পেলে নিজের অর্জিত জ্ঞানের মাধ্যমে সত্যকে রিপ্রেজেন্ট করা।
এছাড়াও, সত্যবাদী হওয়া, পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিধান করা, হাসি মুখে কথা বলা, সিরিয়াস কোনো ব্যপারে ফানি মোডে না থাকা ইত্যাদি বহু দিক আছে যা আপনাকে স্মার্ট করে তুলতে পারে। ধন্যবাদ।
বাগেরহাটের মোংলা বন্দর জেটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে জাহাজ ভিড়তে নতুন সরঞ্জাম স্থাপন করা হচ্ছে। আমদানি রফতানি বাণিজ্যে গতিশীলতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। এর ফলে বন্দরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর জেটিতে রাবার ফেন্ডার (শিপ ঢালাই প্লেট সিস্টেম) স্থাপন করা হবে।
রবিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এ লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের সভাকক্ষে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডের সাথে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার ও খুলনা শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর এম সামছুল আজিজ এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা শিপইয়ার্ডের ক্যাপ্টেন এম ফিদা হাসান, বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী (সিভিল ও হাইড্রোলিক্স) মো. শওকত আলী, পরিচালক (ট্রাফিক) মো. মোস্তফা কামাল, প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আবদুল্লা আল মেহেদি, বোর্ড ও জনসংযোগ বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাকরুজ্জামান ও বন্দর ব্যবহারকারী এইচ এম দুলাল।
বন্দরের ৭, ৮ ও ৯ নম্বর জেটিতে সংযোজন হতে যাওয়া রাবার ফেন্ডারটির ব্যয় ধরা হয়েছে আট কোটি ৫০ লক্ষ ৭১ হাজার টাকা। এটি সংযোজন হলে জেটিতে নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে দেশি বিদেশি ভিড়তে পারবে বলে জানান বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার।
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় বুধবার ১২ জানুয়ারি বিকেলে কেন্দ্রীয় হাইস্কুল মাঠে ২ দিন ব্যাপি বিজ্ঞান মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে । ৪৩ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে ইউএনও সোহেল সুলতান জুলকার নাইন কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।
বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহা, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিমউদ্দীন, সহকারি মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশাহ ইকবাল প্রমুখ। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিভিন্ন কর্মকর্তা, শিক্ষক – ছাত্র-ছাত্রী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথিসহ অন্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন। পরে তারা মেলার স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। মেলায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ১৭টি স্টল স্থান পেয়েছে। প্রসঙ্গত, গতকাল ১১ জানুয়ারি সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইন্দ্রজিৎ সাহার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে মেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহরিয়ার আজম মুন্না।
এ সময় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস চেয়ারম্যান শেফালী বেগম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তৈয়ব আলী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রাহিমউদ্দীন, প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক আনোয়ারুল ইসলাম, সহ-মৎস কর্মকর্তা আব্দুল জলিল, প্রধান শিক্ষক আবু শাহানশাহ ইকবাল, প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন ও ইউপি চেয়ারম্যান জমিরুল ইসলাম প্রমুখ।
মার্কিন প্রযুক্তিখাতের অন্যতম উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। বলা হয়, তিনি নাকি ভিনগ্রহের মানুষ। বিজ্ঞানমনস্ক এ উদ্যোক্তা মনেপ্রাণে যতটা আত্মবিশ্বাসী, ঠিক ততটাই শক্তিশালী মান নিয়েই বাজারে আনছেন স্মার্টফোন ‘পাই’। ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্যাটেলাইট ফোনটি হবে প্রযুক্তিযুগের অন্যতম চমক। দ্য গার্ডিয়ান।
মহাকাশে থাকা ইলন মাস্কের নিজস্ব স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সরাসরি ইন্টারনেট সংযোগ পাবে ‘পাই’। পৃথিবীর ইতিহাসে এটাই হবে প্রথম স্যাটেলাইট মোবাইল ফোন। প্রাথমিকভাবে গুজবের আকারে এ খবর ছড়িয়ে পড়লেও লোকজন বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন, ইলন মাস্কের দ্বারাই এ কাজ সম্ভব। কারণ বিশ্বে স্যাটেলাইটের অঘোষিত রাজা টেসলাই। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে টেসলার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ঘোষণা আসেনি।
টেসলার মডেল ‘পাই’ সুদর্শন। শোনা যাচ্ছে, শিগগিরই বাজারজাত হতে যাওয়া এ ফোনের সুবিধাগুলো রীতিমতো তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো। এর নেটওয়ার্ক সুবিধা স্যাটেলাইট থেকে বলে মঙ্গল গ্রহেও নেটওয়ার্ক পাবে এটি। কথা বলা যাবে নির্বিঘ্নে। বন, পাহাড়, সাগর যেকোনো দুর্গম এলাকায় এটি থাকবে সক্রিয়। স্যাটেলাইটকে পৃথিবীর আবহাওয়া সংক্রান্ত কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না বলে, দিন-রাতের তফাতেও কোনো হেরফের হবে না এ ফোনের যোগাযোগে। এমনকি বাজ পড়লেও নির্বিঘ্নে চলবে এর নেটওয়ার্ক।
নিউরালিংক প্রযুক্তিও ফোনটির সঙ্গে যুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। নিউরালিংক হচ্ছে মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটারের সংযোগ। অর্থাৎ এ প্রযুক্তি থাকলে অনেক কাজের জন্য শুধু চিন্তা করেই নির্দেশ দেওয়া যাবে। উদাহরণ হিসাবে বলা যায়, কেউ চাইল ইউটিউবে ভিডিও দেখে সময় কাটাবেন। তবে এজন্য হাতে অপারেট করতে হবে না। ইচ্ছা প্রকাশ করলেই ফোনে চলতে থাকবে।
ফোনটির শরীরের ওপর এমন একটি বিশেষ আবরণ আছে যা পরিবেশ বদলের সঙ্গে সঙ্গে মিল রেখে রং পরিবর্তন করবে। চার্জ হবে সূর্যকিরণে। পাই ফোনের পেছনে থাকবে ৪ লেন্সের ১০৮ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা। তারাভরা আকাশের ছবি তোলা যাবে কোনো ধরনের লং এক্সপোজার ছাড়াই। জ্যোতির্বিজ্ঞানমনস্ক কিংবা সৌখিন ফটোগ্রাফারদের জন্য এটি হতে পারে সবচেয়ে প্রিয় বস্তু। এর চার হাজার রেজ্যুলেশনের স্ক্রিনটি হবে সাড়ে ৬ ইঞ্চি। ফোনের স্টোরেজ বা মেমরি হবে ২ টেরাবাইট! মোটামুটি গড়পড়তা বলা যায় দুটো কম্পিউটারের সমান স্মৃতিশক্তি থাকবে ফোনটিতে।
আনুষ্ঠানিকভাবে ফোনটি বাজারজাতের কোনো তথ্য কোম্পানির পক্ষ থেকে না এলেও নেটিজেনদের চর্চায় ভাসছে এখন থেকেই। এর দাম হবে পারে ৮০০ থেকে ১২০০ মার্কিন ডলার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ২৬ হাজার টাকা। যদি ফোনটি বাজারে আসে তবে বাজারে প্রচলিত স্মার্টফোনের কপাল পুড়তে প্রভাবক হিসাবে কাজ করবে।
বর্তমান বিশ্বে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বিশ্বে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু ঘটায় এরকম প্রধান পাঁচটি কারণের মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম।
পৃথিবীতে প্রতি ১০ সেকেন্ডে একজন ডায়াবেটিস আক্রান্ত মানুষ মারা যায় এবং প্রতি ১০ সেকেন্ডে দুইজন ডায়াবেটিস রোগী সনাক্ত করা হয়। তবে সঠিক নিয়ম মেনে খাবার খেলে এই রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ করা সম্ভব।
ডায়াবেটিস রোগীকে খাবার নিয়ে কিছু মিথ বা ভুল ধারনা–
ডায়াবেটিস রোগীকে খাবার নিয়ে কিছু ভুল ধারনা
আমাকে সব ধরনের মিষ্টি জাতীয় খাবার বাদ দিতে হবে
না, আপনি সবসময়ই আপনার প্রিয় চিনি সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারবেন কিন্তু পরিমিত ভাবে ও বুঝে শুনে। যেমন, আপনি চাইলেই মিষ্টি দই বা কাস্টারড ইচ্ছে মত খেতে পারেন না। খেতে পারবেন, কিন্তু খেয়াল রাখবেন যাতে এটা স্বাস্থ্যসম্মত খাবার তালিকার অন্তর্ভুক্ত থাকে।
আপনাকে শর্করা খাবার বাদ দিতে হবে
কি পরিমাণ শর্করা খাচ্ছেন তা খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখবেন পাতে যেন পাউরুটি, চাল বা ভাত, পাস্তা, ওটস ইত্যাদি স্টার্চ সমৃদ্ধ খাবার এর বদলে বার্লি, বাদামি বা লাল চালের ভাত, গম বা গম জাতীয় শস্য দানা ভুক্ত খাবার থাকে। কারণ শস্য দানা জাতীয় খাবার রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে বেশি ভূমিকা রাখে।
আমাকে স্পেশাল ডায়াবেটিক খাবার খেতে হবে
পুষ্টিকর খাবারের মূলমন্ত্র সবার জন্যই প্রযোজ্য, আপনি ডায়াবেটিক বা নন ডায়াবেটিক হন না কেন, দামি ও স্পেশাল ডায়াবেটিক খাবার ( যা বাজারে পাওয়া যায়) খুব একটা ডায়াবেটিক নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখেনা।
বেশি প্রোটিন জাতীয় খাবার বেশি ভাল
সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, অতিরিক্ত প্রোটিন জাতীয় খাবার বিশেষ করে প্রাণীজ প্রোটিন ইনসুলিন রেজিস্ট্যন্স এ ভূমিকা রাখে অর্থাৎ শর্করা নিয়ন্ত্রণের মূল হরমোন এর কর্মক্ষমতা হ্রাস করে। মূল কথা হল– শর্করা, আমিষ, ও চর্বি জাতীয় খাবার যাই খান না কেন তার সুষম বণ্টন কাম্য।
বিশেষত– প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি খাবার বা আন–প্রসেসড ফুড বা অপ্রক্রিয়াজাত খাবার এবং প্যাকেটহীন খাবার ডায়াবেটিস সুরক্ষা বান্ধব।
ডায়াবেটিস রোগ হলে কি খাবার বেশি খাবেন ?
উপকারী চর্বি যেমন, বাদাম, অলিভ ওয়েল, মাছের তেল ইত্যাদি।
শাক সবজি ও ফলমূল– মূলত পরিষ্কার, টাটকা ও রঙিন শাকসবজি ভাল। জুসের থেকে ফল বেশি খেতে হবে।
দেশজ মাছ ও মুরগি।
ভাল প্রোটিন জাতীয় খাবার– যেমন, ডিম, অল্প চর্বি জাতীয় দুধ, টক দই ইত্যাদি।
ডায়াবেটিস রোগ হলে কি খাবার কম খাবেন?
ডিপ ফ্রাই খাবার বা অতিরিক্ত রান্না করা খাবার
প্যাকেটজাত ফাস্ট ফুড, বিশেষ করে যাতে চিনি, বেকিং করা খাবার, মিষ্টি, ডেজারট, চিপস ইত্যাদি থাকে।
সাদা পাউরুটি, চিনিযুক্ত সেরিয়াল, প্রক্রিয়াজাত পাস্তা বা চাল
প্রক্রিয়াজাত মাছ বা মাংস
উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার ও স্লো রিলিজ কার্বোহাইড্রেট
আমাদের শরীরে কার্বোহাইড্রেট এর বিশাল ভূমিকা রয়েছে, এটি শরীরের চিনির মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, এমন কি এটির ভূমিকা চর্বি বা প্রোটিনের তুলনায় বেশি। সুতরাং কি ধরনের শর্করা জাতীয় খাবার খাচ্ছেন এ ব্যাপারে খেয়াল রাখা উচিত।
প্রক্রিয়াজাতকরণ শর্করা যেমন, সাদা পাউরুটি, চিনিযুক্ত সেরিয়াল, প্রক্রিয়াজাত পাস্তা বা চাল ছাড়াও সোডা, মিষ্টি, প্যাকেটজাত খাবার যাতে চিনি যুক্ত থাকে ইত্যাদির ব্যাপারে বিশেষ খেয়াল রাখা উচিতমনযোগী হতে হবে স্লো রিলিজ কার্বোহাইড্রেট ও উচ্চ আঁশযুক্ত খাবারের প্রতি এগুলো ধীরে ধীরে শরীরে রক্তের সাথে মিশে যা ধীরে ইনসুলিন নিঃসরণে সাহায্য করে।
ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট এবং খাদ্য তালিকা
ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট এবং খাদ্য তালিকা
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীদের খাদ্যব্যবস্থা নিয়ে আমাদের অনেকেরই ভুল ধারণা রয়েছে। তাদের জীবনযাপন এবং খাদ্যাভ্যাসে নিয়ম-শৃঙ্খলা মেনে চলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খাবার নিয়ে অনেকের মনেই নানা ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে।
আজকে আমরা আলোচনা করব ডায়াবেটিস রোগীদের আদর্শ খাদ্য তালিকা এবং ডায়েট চার্ট নিয়ে।
ডায়াবেটিস বা বহুমূত্র রোগ হল এমন একটি রোগ যা আমাদের খাদ্যাভ্যাসের সাথে অনেকাংশে নির্ভরশীল। জানা যায় যে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যাক্তির হৃদ রোগজনিত সমস্যা, মানসিক রোগ, যেমন- ডিপ্রেশন এ আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা– নন ডায়াবেটিক এর থেকে প্রায় দ্বিগুণ।
কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ( যাতে ইনসুলিন লাগেনা, শুধুমাত্র ওষুধে চিকিৎসা দেয়া হয় ) নিয়ন্ত্রণযোগ্য এবং কিছু ক্ষেত্রে নিরাময়যোগ্য। ডায়াবেটিস প্রতিরোধে – এমন না যে, সব ধরনের খাবার থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে বা মজার খাবার খাওয়া যাবেনা এর মানে হল, সব খাবারই খাওয়া যাবে, কিন্তু পরিমিত মাত্রায়, যাতে আপনার মুড ও শক্তির সমন্বয় ঘটে।
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য শর্করা জাতীয় খাবার ক্ষতিকর কারণ এটি রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়, তাই খাবারে শর্করা জাতীয় খাবার কমাতে হবে। কিছু শর্করা জাতীয় খাবার রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা তাড়াতাড়ি বাড়ায় যেমন, চিনি, মিষ্টি, বেশি ছাঁটা চালের ভাত, ময়দার রুটি, সেগুলো কম খেতে হবে।
লাল চালের ভাত (ব্রান সহ), গমের আটার রুটি (ব্রান সহ), সবজি, বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্য রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ায় তাই এই খাবার গুলি বেশি খেতে হবে। তবে ক্যালরির হিসেব রাখতে হবে অবশ্যই।
ডায়াবেটিস রোগীর জন্য মোট ক্যালরির ২০% আসবে আমিষ থেকে, ৩০% আসবে ফ্যাট থেকে এবং ৫০% আসবে শর্করা থেকে। এখানে একজন ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ১৬০০ কিলোক্যালরির চাহিদার একটি স্যাম্পল ডায়েট চার্ট বা খাবারের মেন্যু দেয়া হল।
আসুন মনোযোগ দিয়ে একটু দেখে নেই ডায়াবেটিস রোগীর ডায়েট চার্ট এবং খাদ্য তালিকা।
ডায়াবেটিস রোগীর সকালের নাস্তা
ডায়াবেটিস রোগীর সকালের নাস্তা
সকালের নাস্তায় ফল থাকাটা খুব জরুরী। ফল শরীরে ক্যালরির অভাব পূরণ করে কোন ক্ষতি ছাড়াই। কলা, আপেল, কমলা, মাল্টা, স্ট্রবেরি এসব ফল স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারি।
টক দই
নাস্তায় টকদই অথবা চিনি ছাড়া ফ্যাট ফ্রি ঘরে পাতা দই যোগ করতে পারেন। এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরে ক্যালসিয়াম এর অভাব পূরণ করে।
ডিম এবং সুগার ফ্রি ব্রাউনব্রেড
টমেটো, পেঁয়াজ দিয়ে একটি ডিম অলিভ অয়েল এ ভেজে নিন। সাথে নিতে পারেন ফ্যাট ফ্রি চিজ এবং সুগার ফ্রি ব্রাউনব্রেড।
মিক্সড ব্রেকফাস্ট
ফ্যাট ফ্রি টকদই, মিক্সড ড্রাই ফ্রুটস, বাদাম, ওয়াল নাটস, কর্ণফ্লেক্স মিক্সড করে খেয়ে নিতে পারে। এটা পুষ্টিকর এবং উপকারি।
ওটসমিল
রান্না করা ওটসমিল, বাদাম, সিনামন আর মিষ্টির জন্য চিনির বদলে অন্য কিছু মিলিয়ে মিক্সচার তৈরি করে নিন। এরপর লো ফ্যাট দুধের সাথে এটি খেয়ে নিতে পারেন।
কর্ণফ্লেক্স এবং ক্রিম চিজ খুব তাড়াহুড়ো থাকলে কর্ণফ্লেক্স এর সাথে লাইট ক্রিম চিজ মিলিয়ে দুধের সাথে খেয়ে নিতে পারেন। চটপট নাস্তাও হয়ে যাবে সাথে ডায়াবেটিসও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
সকালের নাস্তা (সকাল ৭.৩০ – ৮ টা)
রুটি (১ সারভিং) ১ টা গমের আটার রুটি (মিডিয়াম)
দুধ (১ সারভিং) ১ গ্লাস ফ্যাট ছাড়া দুধ বা স্কিম মিল্ক
ডিম (১ সারভিং) ১ টা মুরগী অথবা হাঁসের ডিম (সিদ্ধ অথবা ভাঁজি)
শাক সবজি (১ সারভিং) ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক বা ১/২ কাপ সবজি
ডায়াবেটিস রোগীর দুপুরের খাবার
স্যালাদ: বিভিন্ন ধরণের সবজি যেমন শসা, টমেটো, লেটুস পাতা, পার্সলে পাতা, গাজর সব মিলিয়ে একটি স্যালাদ অবশ্যই প্রতিদিনের খাবার তালিকায় রাখতে হবে।
মাছ বা মাংস: এক টুকরো মাছ অথবা মাংস খাবার তালিকায় রাখবেন। কিন্তু রেড মিট একেবারেই খাবেন না। মুরগির এক বা দুই পিস এবং যেকোন মাছ থাকতে পারে। ভাত খাওয়া উচিত নয়। আর খেলেও মেপে এক কাপ এর বেশি না।
ফল: হালকা কিছু ফল খাবার পর খেতে পারেন। এতে শরীর সতেজ থাকবে
শাক-সবজি ও ডাল খাবার তালিকায় বিভিন্ন রকমের ডাল এবং সবজি রাখতে হবে। তবে খুব বেশি ঝাল মশলা দিয়ে না। দুপুরের খাবারে লাল শাক, পালং শাক,পুঁই শাক ইত্যাদি নানা ধরণের শাক থাকতে পারে।
দুপুরের খাবার (দুপুর ১.৩০ – ২ টা
ভাত (৩ সারভিং) দেড় কাপ ভাত
মাছ অথবা মাংস (২ সারভিং) ৬০ গ্রাম পরিমাণ রান্না করা মাছ বা মাংস (ফ্যাট ছাড়া)
শাক সবজি (৪ সারভিং) ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক খাকবে অবশ্যই, বাকী দেড় কাপ অন্যান্য সবজি
ডাল (১ সারভিং) ১ কাপ মাঝারি ঘন ডাল
ডায়াবেটিস রোগীর বিকেলের নাস্তা
ডায়াবেটিস রোগীদের কিছুক্ষণ পর পরই হালকা কিছু নাস্তা করা উচিত। যেমন, চিনি ছাড়া বিস্কিট, ব্রেড,মুড়ি ইত্যাদি। বিকেলের নাস্তায় তাই হালকা কিছু খাবার রাখা যেতে পারে।
চা: গ্রিন টি অথবা মশলা চা চিনি ছাড়া খেতে পারেন। সাথে বিস্কিট, মুড়ি বা টোস্ট।
হালুয়া: ক্যাল ফ্রি দিয়ে গাজর বা সুজির হালুয়া খেতে পারেন। বুটের হালুয়াও বেশ স্বাস্থ্যকর।
শরবত ঘরে বিভিন্ন ফলের শরবত চিনি ছাড়া বানিয়ে নিন।
বিকেলের নাস্তা ( বিকেল ৫.৩০ – ৬ টা)
সিজনাল ফল (১ সারভিং) পছন্দমত ১ সারভিং সিজনাল ফল
বাদাম, বুট এবং কলাই জাতীয় খাদ্য (১ সারভিং) ১/৪ কাপ বাদাম বা বুট বা কলাই জাতীয় খাদ্য
ডায়াবেটিস রোগীর রাতের খাবার
রাতের খাবার চালের অথবা আটার রুটি
রাতে ভাত খাওয়াটা ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য একেবারেই উচিত না। তাই চাল, গম অথবা আটার পাতলা ৩টি থেকে ৪টি রুটিই রাতের জন্য যথেষ্ট।
সবজি
রাতে রুটির সাথে হালকা সবজি খাওয়া যেতে পারে। পেটে গ্যাসের সমস্যা হলে ফল খাওয়ার দরকার নেই। মাছ রাতে মাংস না খাওয়াই ভাল। এক পিস মাছ খাওয়া যেতে পারে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি প্রচুর পানি পান করতে হবে, প্রতিদিন হাঁটতে যেতে হবে। কিছু হালকা ব্যায়ামের সাথে ওষুধ এবং ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে।
রাতের খাবার (রাত ৯ টা – ৯.৩০)
রুটি অথবা ভাত (১ সারভিং) ১/২ কাপ ভাত অথবা ১ টা আটার রুটি
মাছ অথবা মাংস (২ সারভিং) ৬০ গ্রাম পরিমাণ রান্না করা মাছ বা মাংস (ফ্যাট ছাড়া)
শাক সবজি (২ সারভিং) ১ কাপ পাতা যুক্ত শাক খাকবে অবশ্যই, বাকী আধা কাপ অন্যান্য সবজি
সিজনাল ফল (১ সারভিং) ১ সারভিং সিজনাল ফল
ডায়াবেটিস রোগী কি খাওয়া উচিত ও কি খাওয়া উচিত না
খাবারের কালিকা ভিডিওটিতে দেখে নিন..
https://youtu.be/m6idhPV9QA4
অধিক চিনি যুক্ত খাবার, বেশি তেলে ভাজা পোড়া খাবার, মিষ্টি জাতীয় পানীয়, ট্রান্স ফ্যাট যুক্ত খাবার, প্রানিজ ফ্যাট, রিফাইন্ড করা বা চকচকে সাদা ময়দার তৈরি খাবার, মধু বা সিরাপ জাতীয় খাবার, মিষ্টি জাতীয় শুকনা ফল এবং প্রক্রিয়া জাত করা স্নাক ফুড কখনই খাবেন না।
ডায়াবেটিক রোগীদের আঁশবহুল খাবার যেমন ডাল, শাক, সবজি, ঢেঁকি ছাঁটা চাল, গমের আটার রুটি, টকফল বেশি খেতে হবে। কারণ আঁশ জাতীয় খাদ্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরে ক্ষতিকর লিপিড এবং কলেস্টোরেলের মাত্রাও কমিয়ে দেয়।
রসালো ফল যেমন, আম, কাঁঠাল, কলা, লিচু, আঙ্গুর, তরমুজ, পেঁপে, আনারস এসব ফল সীমিত পরিমাণে খেতে কারণ এতে শর্করার পরিমাণ বেশি থাকে। টক ফলে শর্করা কম থাকে। ডায়াবেটিক রোগীর উপকারী ফলের তালিকায় থাকবে লেবু, আমলকী, সবুজ আপেল, বাতাবি লেবু। এ তালিকার নিচে থাকবে কলা, আম, কাঁঠাল ইত্যাদি। অপকারীর তালিকার দুটি ফল হল কামরাঙা ও আঙ্গুর।
প্রাণীজ চর্বির পরিমাণ কমিয়ে উদ্ভিজ চর্বির পরিমাণ বাড়ানো উচিত। সম্পৃক্ত চর্বি যেমন- ঘি, মাখন, চর্বি ডালডা, চর্বিযুক্ত মাংস ইত্যাদি কম খেতে হবে। এর পরিবর্তে অসম্পৃক্ত চর্বি যেমন- উদ্ভিজ তেল অর্থাৎ সয়াবিন তেল, সরিষার তেল এবং মাছ খেতে হবে। ডিমের হলুদ অংশে কলেস্টোরেল বেশি থাকে তা কম খাওয়া উচিত।
বিশ্বজুড়ে সাড়ে ২২ কোটি পাসওয়ার্ড চুরি করে নিয়েছে হ্যাকাররা। এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনল ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (এনসিএ)। সংস্থাটি জানিয়েছে, ক্লাউড স্টোরেজ থেকে পাসওয়ার্ডগুলো হাতিয়ে নিয়েছিল হ্যাকাররা। যদিও সেগুলো উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি এনসিএ’র।
এনসিএ আরও জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া পাসওয়ার্ডগুলো ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ ডেটাবেসে মজুত করা হয়েছে। এনসিএ সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে এই বিপুল সংখ্যক পাসওয়ার্ড ক্লাউড স্টোরেজ থেকে হ্যাক করা হয়।
নিজের অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখতে আমরা মাঝেমধ্যেই তা পরিবর্তন করে থাকি। ব্যাঙ্ক এবং বিভিন্ন আর্থিক লেনদেনের প্রতিষ্ঠানগুলোও গ্রাহকদের পাসওয়ার্ড বদলানোর পরামর্শ দেয়। তবে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দুনিয়ায় পাসওয়ার্ড ভাঙা বা চুরি করা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। আমরা যতই ভাবি যে কঠিন কোনও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টকে নিরাপদ রাখব, আদতে হ্যাকাররা সেই তালা খোলার চাবিটা ঠিক খুঁজে বের করে নেয়।
সাড়ে ২২ কোটি পাসওয়ার্ড হ্যাক হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই মনের কোণে একটা সন্দেহ উঁকি দিতে শুরু করেছে, তাহলে চুরি হওয়ার তালিকায় আমারটাও নেই তো?
কীভাবে নিশ্চিত হবেন আপনার পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে নাকি হয়নি? এটা জানার জন্য ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখানে লগ ইন করার প্রয়োজন নেই গ্রাহকদের। কোনও মেইল আইডি’র পাসওয়ার্ড চুরি গিয়েছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখার জন্য ওই ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘পাসওয়ার্ড’ লেখা ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। সেখানে নিজের পাসওয়ার্ড দিতেই ওয়েবসাইট থেকে বার্তা দেওয়া হবে সেটি হ্যাক হয়েছে কিনা।
এনসিএ বলছে, ‘হ্যাভ আই বিন পনড’ ওয়েবসাইটটি নিরাপদ। সেখানে নিজের পাসওয়ার্ড দিয়ে পরীক্ষা করলে যদি জানা যায় সেটি চুরি গিয়েছে তাহলে তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট পাসওয়ার্ড বদলে ফেলতে হবে।