আমি কিন্তু গুলি করা মানুষ, রিভলবার ব্যাগে নিয়া হাঁটা মানুষ

 

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুন নাহার এবং অভিভাবক ফোরামের উপদেষ্টা মীর শাহাবুদ্দিন টিপুর একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়েছে। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। এতে অধ্যক্ষ ওই অভিভাবককে বলেন, ‘আমি কিন্তু গুলি করা মানুষ। রিভলবার নিয়া ব্যাগের মধ্যে হাঁটা মানুষ। আমার পিস্তল বালিশের নিচে থাকত। কোনো … বাচ্চা    যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু     ওর পেছনে লাগব, আমি শুধু ভিকারুননিসা না আমি দেশছাড়া করব।’ ফোনালাপের অডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের এই ফোনালাপ নিচে তুলে ধরা হলো-

কামরুন নাহার : লকডাউনের মধ্যে আমি অফিস করি কি না-করি কার বাপের কী? কোন … বাচ্চার কিছু যায় আসে?

টিপু : না …।

কামরুন নাহার : কোন … বাচ্চার যায় আসে কিছু? যদি আমি অফিস না করি? আমি জানতে চাই, কোন … পোলার কী যায় আসে?

 

টিপু : এইডি তো আপনার জিবির (গভর্নিং বডি) লোক।

 

কামরুন নাহার : কোন … পোলার কী যায় আসে? আমি রাজনীতি করা মেয়ে, আমি কিন্তু ভদ্র না।

 

টিপু : না।

 

কামরুন নাহার : আমি বলে দিলাম, আমি শিক্ষক। আমি প্রিন্সিপাল। আমি সেই দিকটায় আলাদা পরিচয়।

 

টিপু : এইডি তো আপনের।

 

কামরুন নাহার : ওই … পোলা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু তার গোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়ব।

 

টিপু : না, আপনের বোধহয় ওই যে জিবির মেম্বারে এইগুলা ছড়ায় কি না দেখেন।

 

কামরুন নাহার : কোন মেম্বার আর কোন মার ভাতার আমার দেখার কিন্তু বিষয় না। কোনো … বাচ্চা যদি আমার পেছনে লাগে আমি কিন্তু ওর পেছনে লাগব। আমি শুধু ভিকারুননিসা না, আমি দেশছাড়া করব।

 

টিপু : ঠিক আছে আপা। এইটা ভালো।

 

কামরুন নাহার : এবং আমি অনেক সহ্য করেছি। এই কালকে সচিবের কাছে বলে এসেছি। সচিব বলেছে, মন্ত্রী তোমাকে খুব ভালোবাসে। তুমি এই জায়গায় থাকবা। আমি বলেছি, স্যার… তুমি এইখানে থাকবা, তুমি যোগ্য, মন্ত্রী তোমাকে পছন্দ করেছে।

 

টিপু : আইচ্ছা।

 

কামরুন নাহার : আর কোনো … বাচ্চা তদন্ত কমিটি করলে আমি কিন্তু দা দিয়ে কোপাবো তারে, সোজা কথা।

 

টিপু : হা হা হা।

 

কামরুন নাহার : আমার … আছে। আমার বাহিনী আছে। আমার ছাত্রলীগ আছে, যুবলীগ আছে, আমার যুব মহিলা লীগ আছে।

 

টিপু : আফনে আবার…।

 

কামরুন নাহার : কিন্তু কিচ্ছু লাগবে না। কাপড় খুইলা রাস্তার মধ্যে পিটাব।

 

টিপু : আফনে আবার আগের চরিত্রে চইলা যাবেন মুকুল আফা। হা হা…।

 

কামরুন নাহার : হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ যাব। যাব। আমি কিন্তু একদম, আমি কিন্তু গুলি করা মানুষ। রিভলবার নিয়া ব্যাগের মধ্যে হাঁটা মানুষ। আমার পিস্তল বালিশের নিচে থাকত। সারা রাত পিস্তল আমার বালিশের নিচে থাকত। আমি কিন্তু…

 

টিপু : আমি নাজমারে (যুব মহিলা লীগের সভাপতি নাজমা আক্তার) ফোন করে কইতাসি মুকুল আফা চেইতা গেসে তুমি থামাও। তোমার জিএসরে (হাসি)।

 

কামরুন নাহার : হ্যাঁ। নাজমা আমারে বলসে। যে কেউ তরে ডিস্টার্ব করলে আমারে খালি বলিস। আমার নাজমাও লাগবে না। নাজমার গ্রুপের শুধু মেয়ে আমারে পরশু দিন অফিসে বসছিল, পরে আমারে বলতেছে আপা, আসবেন আমরা কাপড় খুইলা রাস্তার মধ্যে রাইখা পিটাব তারে। তার এত দুঃসাহস আপনার বিরুদ্ধে কথা বলে, আর আপনাকে ডিস্টার্ব করে। ঘরের থেকে টাইনা বাইর কইরা রাস্তার মধ্যে পিটাইয়া কাপড় খুইলা ফেলাব। আমার সম্পর্কে লেখে, আমার ঢাকা পতেঙ্গা ফেয়ারেল গলিতে চাইনিজ খাবার খাওয়াইসি। আর আমার সম্পর্কে লেখে, প্রিন্সিপাল অফিস করে না। কোন কুত্তার বাচ্চার মায়ের কোনে লিখেছি আমি। আমি আমার অফিস করি সচিবকে বইলা। করোনার মধ্যে, করোনার মধ্যে এই। করোনার মধ্যে আমার বারান্দার অফিসে আমি দরজা খুলে বসে থাকি, আমার চেয়ার টেবিল নিয়ে। আমি অফিসে গিয়ে রাউন্ড দিয়ে চলে আসি কর্মচারীরা ঠিকমতো আছে কি না। করোনার মধ্যে অফিসের নিয়ম নাই। আমাকে নিষেধ করছে, সারা বাংলাদেশ যে করোনার মধ্যে তোমরা লকডাউনের মাঝে অফিস খোলা রাখবে না, তাহলে করোনা ছড়াবে। কোন … বাচ্চার কী যায় আসে? কোন … বাচ্চার কী যায় আসে? আমি অফিসে না গেলে …বাচ্চারা … বাচ্চারা কি আমার জায়গাটায় মজা পায়? কোন … বাচ্চারা চায় যে আমি অফিসে বইসা অফিস করি, তাদের অফ করেন। …….. বাচ্চা।

 

টিপু : ঠিক আছে আপা।

 

কামরুন নাহার : আমি রাজনীতি করা মেয়ে।

 

টিপু : আমি তো আছি, আফনে এত…।

 

কামরুন নাহার : আমি কিন্তু শিক্ষা ক্যাডারে আসছি বলে কিন্তু…।

 

টিপু : আফনের চাইর নাম্বার গেইটের অপজিটে হইল আমার বাসা। এত চিন্তা করেন ক্যান?

 

কামরুন নাহার : আমি কোনো চিন্তা করি না। কারণ, আমি নিজেই শক্তিশালী। কোনো… কথায় আমি চলি না। কোনো… বাচ্চার কথায় আমি চলি না। আমি নিজেই কিন্তু শক্তিশালী। দলটার আমি প্রেসিডেন্ট ছিলাম। মনে রাইখেন এই দলটা এখন সরকারে। যত দিন এই দলটা আছে তত দিন আমার পাওয়ার আছে। আমি কিন্তু … বাচ্চাদের লেংটা করে রাস্তার মইধ্যে পিটাইতে পারব। আমার লাগবে না আমার দলের মেয়েদের ডাকলে দলের ছেলেও লাগব না। মেয়েরাই ওর চুল-দাড়ি ছিঁড়া প্যান্ট খুলে নামাইয়া দিবে। আমার সামনে তিন সপ্তাহ যেন দাঁড়াতে সাহস না পায়। আমি কিন্তু কোনো অন্যায়ের সাথে বসবাস করি না, এইডা মনে রাইখেন।

 

টিপু : তয় নাসির যে…।

 

কামরুন নাহার : আমার নামে যে লেখে … বাচ্চারে আমি অনেক সহ্য করছি।

 

টিপু : তয় নাসির যে…।

 

কামরুন নাহার : সচিব স্যারকে বলছি, অসভ্যরা আমার পেছনে লাগে, আমারে আপনি ঢাকা বোর্ডে পোস্টিং দিয়ে দেন। স্যার বলছে, মন্ত্রী তোমাকে পছন্দ করে। আমাকে যেহেতু ধরতে গেলে থাকতেই হবে তাহলে কুত্তার বাচ্চাদের সাথে লইড়াই আমি থাকব।

 

টিপু : না… নাসির যে এত চিল্লাচিল্লি করল আপনি নাসিররে কিছু কইলেন না ক্যান?

 

কামরুন নাহার : কোনো নাসিররে আমি চিনি না। নাসিররে কী বলব তা আমি বুঝি। কেউ যেন আমার পেছনে লাগে না আপনি নিষেধ কইরে দিয়েন। আপনার সঙ্গে যারাই বলবে নিষেধ করে দিবেন।

 

টিপু : না, তা তো বলবই। আফনে রোববারে ইস্কুলে আইলে আমারে একটু ফোন কইরেন।

 

কামরুন নাহার : স্কুল করব কি না করব তা আমার এখতিয়ার, আমি বসব কি না বসব। আমি সচিবকে বলছি, সচিব স্যার- আমি বাসায় বসে অফিস করি। বলে, যে বাসাটা দেওয়া হইসে বাসায় বইসা অফিস করবা। যখন সুবিধা অফিসে যাবা এখন করোনার মধ্যে। তুমি এই নিয়া চিন্তা কইরো না। আমরা অফিস করি না মাসে একবার-দুবার আসি জরুরি মিটিং থাকলে। আর … বাচ্চারা সারাক্ষণ কয় আমি অফিসে যাই না, অফিসে যাই না।

 

অধ্যক্ষ কামরুন নাহার গতকাল প্রতিবেদককে বলেন, অভিভাবক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে বেশকিছু অনৈতিক কাজে সায় দিতে চাপ দিয়ে আসছিল। শিক্ষার্থী ভর্তি করানো, ফুল ফ্রি-হাফ ফ্রি ইত্যাদির দাবি ছিল তাদের কিন্তু আমি তাদের অনৈতিক কাজে সায় দেইনি। এ জন্য আমাকে বিভিন্ন হুমকি দিয়েছে তারা। শিফটিং বদলি ও শিক্ষার্থী ভর্তিতে অতীতে অনেক বাণিজ্য করেছে এই সিন্ডিকেট। কিন্তু আমার কাছে এমন সুবিধা নিতে পারেনি তারা। অধ্যক্ষ বলেন, অভিভাবক ফোরামের নেতারা আমাকে মা-বাপ তুলে গালিগালাজ করেছেন। কেউ কেউ আমার কাপড় খুলে নিতে চেয়েছে। ফাঁস হওয়া ফোনালাপে আমার বক্তব্য এডিট করা হয়েছে। কামরুন নাহার বলেন, অভিভাবক ফোরামের নেতারা আমার চেয়ারে, আমার রুমের দরজায়ও লাথি মেরেছে। এই সিন্ডিকেটের ষড়যন্ত্রের কারণে অতীতে কোনো অধ্যক্ষ টিকতে পারেননি। আসলে অভিভাবক ফোরাম অনৈতিক সুবিধা নিতে না পেরে পাগল হয়ে গেছে। প্রতিষ্ঠানকে বাঁচাতে এই সিন্ডিকেট ভাঙতে সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানান অধ্যক্ষ।

 

মীর শাহাবুদ্দিন টিপু গতকাল প্রতিবেদককে বলেন, গত ১০ জুনে অধ্যক্ষের সঙ্গে এই কথোপকথন হয়। সেদিন ফোন করে তার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে অতর্কিতভাবে নানা অশ্লীল, অশ্রাব্য ভাষায় এই গালিগালাজ করেন। টিপু বলেন, অধ্যক্ষ ভিকারুননিসা ক্যাম্পাসের ভিতর টাকা নিয়ে ঈদের আগে গরুর হাট বসিয়েছিল। আমি এই হাট উৎখাত করি। এতে অধ্যক্ষ আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়। এ ছাড়া করোনার কারণে মারা যাওয়া অভিভাবকের সন্তানদের ফুল ফ্রি, হাফ ফ্রির আবেদন জানালেও অধ্যক্ষ এতে সায় দেয়নি। অধ্যক্ষের বিতর্কিত নানা কর্মকান্ডের জন্য তার অপসারণ দাবি করে (more…)

করোনায় বরিশাল ৫নং ওয়ার্ড আ’লীগ সভাপতির মৃত্যু

//পলাশ চন্দ্র দাস ::বরিশাল //

বরিশাল মহানগরীর ৫ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মাদ আলী হাওলাদার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না….. রাজিউন)। আজ সোমবার (২৬ জুলাই) বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু ঘটে তার। তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও মেয়ে রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, কিছুদিন আগে মোহাম্মাদ আলী হাওলাদার করোনা পজেটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। এরপর থেকে বাসাতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। আজ সোমবার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে শেবাচিম এ নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানের করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকালে মৃত্যুবরণ করেন তিনি

অভয়নগরে শশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে জামাতার রহস্যজনক মৃত্যু

যশোরের অভয়নগর উপজেলায় শশুর বাড়িতে বেড়াতে এসে শরিফুল ইসলাম (৩৫) নামের এক জামাতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ২৬ জুলাই (সোমবার) সকালে উপজেলার ৫নং শ্রীধরপুর ইউনিয়নের শংকরপাশা গ্রামের শাহিনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। সে শার্শা উপজেলার জামতলা সামটা গ্রামের হানিফ মোড়লের ছেলে ।

এ ঘটনায় নিহত শরিফুলের স্ত্রী শিল্পী বেগম (২৫) এ দৈনিক বিশ্ব প্রতিনিধিকে জানায়, বিয়ের পর গর্ভবতী থাকাকালীন আমার স্বামী দীর্ঘ আট বছর যাবত মালয়েশিয়ায় এক কোম্পানীতে টাইলস মিস্ত্রী হিসাবে কাজ করতেন, ঈদের ছুটিতে তার নিজ গ্রামের বাড়ি আসেন ৷ ঈদের পরের দিন বাড়ি থেকে নিজ পিত্রালয়ে বেড়াতে আসলে দুজনের মধ্যে পারিবারিক বিষয়ে কিছু কথা কাটাকাটি হয় ৷ এর জের ধরে তিনি আত্মহত্যা করেন ৷

গ্রামবাসি সূত্রে জানা যায়, নিহত শরিফুল মালয়েশিয়া থাকাকালীণ টাকা-পয়সাকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারের মধ্যে সব সময় ঝগড়া বিবাদ লেগে থাকতো ৷

উল্লেখ্য নিহত শরিফুলের ৭ বছরের একটি সন্তান আছে ,  নাম সিয়াম ৷

একে কেন্দ্র করে হয়তো তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আমাদের ধারনা ৷ এ ব্যাপারে অভয়নগর থানার ওসি শামীম হাসান  জানান, লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছি ৷ ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে হত্যা নাকি আত্মহত্যা ৷ ভিকটিমের পরিবার অভিযোগ করলে তদন্তপূর্বক পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

// মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

যশোরে মৈত্রী ভলান্টিয়ার্সদের দুঃসাহসীক মানবিক অভিযান

 

 

কীর্তনখোলা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

 //পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল//

বরিশাল নগরী সংলগ্ন কীর্তনখোলা নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। রোববার সকাল পৌনে ১১টার দিকে সদর নৌ থানা সংলগ্ন লঞ্চঘাটের পূর্ব পাশে মাঝ নদীতে ভাসমান অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল সদর নৌ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাসান জামান জানিয়েছেন উদ্ধারকৃত মৃতদেহের বয়স আনুমানিক ৫০ বছর হবে। পরনে লুঙ্গি ও গায়ে গেঞ্জি রয়েছে। তিনি বলেন সকালে কীর্তনখোলা নদীর মাঝে লাশটি ভাসতে দেখে জেলেরা থানায় খবর দেয়। পরে নৌ-পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শেবাচিম হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। ওসি বলেন, ‘মৃতদেহের শরীর থেকে চামড়া খসে গেছে। ধারনা করা হচ্ছে ৪-৫ দিন পূর্বে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হতে পারে। তবে লাশটি কোন দিক থেকে ভেসে এসেছে সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া

আইসিইউ শয্যা তালিকায় যা আছে বাস্তবে তা নাই

আইসিইউ শয্যা করোনা চিকিৎসা তথা ডেল্টা ভেরিয়েন্টের চিকিৎসার জন্য একটা বিশেষ বিষয় । দেশে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের ভয়াবহ সংক্রমণে করোনা মহামারি প্রকট রূপ ধারণ করেছে। আক্রান্ত রোগীর বড় অংশই ফুসফুসে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন। যাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতে আইসিইউর (ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট) প্রয়োজন হয়। ইতোমধ্যে দেশের পূর্ণাঙ্গ (৬৬০টি) আইসিইউ শয্যা কোভিড রোগীতে পূর্ণ।

এমনকি জোড়াতালি দেওয়া নামমাত্র আইসিইউগুলোর শয্যাও আর ফাঁকা পাওয়া যাচ্ছে না। অথচ সরকারিভাবে বলা হচ্ছে-তালিকাভুক্ত ১৩২১ শয্যার মধ্যে ১০৭৬টিতে রোগী রয়েছে। সেদিক থেকে পূর্ণাঙ্গ ও অসম্পূর্ণ মিলিয়ে আইসিইউ শয্যার ৮০ শতাংশই রোগীতে পূর্ণ। এ ধরনের শয্যার হিসাব নিয়েও গোলমাল আছে। এখনো তৈরি হয়নি; কিন্তু ঘোষণা দেওয়া হয়েছে আইসিইউ বেড। এভাবে সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে নেই। এ পরিস্থিতিকে চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারিভাবে কোভিড আইসিইউর তালিকা কাজির গরুর মতো। তালিকায় আছে বাস্তবে নেই।

 

সরকারের তালিকায় সারা দেশে ১৩২১টি কোভিড আইসিইউ সমমানের শয্যা থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ফাঁকা আছে ২৪৫টি। অথচ মাত্র এক সপ্তাহ আগে শয্যা দেখানো হয়েছে ১২৫৯টি এবং এ মাসের শুরুতে দেখানো হয়েছিল ১১৬৫টি। এত স্বল্প সময়ে শতাধিক আইসিইউ শয্যা কীভাবে স্থাপন হলো, সে বিষয়ে খোদ চিকিৎসকদের মধ্যেই সন্দেহ রয়েছে। রাজধানীর ১৬টি সরকারি হাসপাতালের মধ্যে ১০টিতে এবং বেসরকারি ২৮টি হাসপাতালের ৮টিতে ফাঁকা নেই কোনো আইসিইউ শয্যা। করোনা রোগীর জন্য নির্ধারিত সাধারণ শয্যারও সংকট তৈরি হচ্ছে। রোগী বাড়লেই তীব্র হবে সাধারণ শয্যার অভাব।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, দেশে যে পরিমাণ আইসিইউ আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রকৃত চিত্র সেরকম নয়। সরকারিভাবে আইসিইউ উপযোগী শয্যাগুলোকে আইসিইউ হিসাবে উল্লেখ করা হচ্ছে। অথচ প্রকৃতপক্ষে স্বয়ংসম্পূর্ণ আইসিইউ আরও অনেক কম। তারা বলেন, রাজধানীর জাতীয় হৃদ্রোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কোভিড আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১০টি। কিন্তু এর মধ্যে ভেন্টিলেশন সুবিধা আছে মাত্র ৪টিতে।

 

একই অবস্থা খুলনার অন্যতম চিকিৎসাসেবা কেন্দ্র শেখ আবু নাসের হাসপাতালে। সেখানে ১০ শয্যার আইসিইউর মধ্যে চারটিতে সেবা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি রাজধানীর একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে শয্যা ফাঁকা দেখে অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সেখানে রোগী পাঠান; কিন্তু হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেছে কোনো আইসিইউ শয্যা ফাঁকা নেই। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত শয্যাও তালিকাভুক্ত হিসাবে দেখানো হয়।

তারা আরও জানান, কোথাও কোথাও শয্যার সঙ্গে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, বিপ্যাপ বা সিপ্যাপ সংযোগ থাকলেই সেটা আইসিইউ বলা হচ্ছে, যা প্রকৃতপক্ষে আইসিইউ নয়। এসব শয্যার কতগুলোয় শুধু উচ্চমাত্রায় অক্সিজেন সরবরাহ করা সম্ভব। কতগুলোয় নন-ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন সুবিধা দেওয়া যাবে। অর্ধেকেরও কম পরিমাণ শয্যায় ইনভেসিভ ভেন্টিলেশন সুবিধা রয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য মোট আইসিইউ শয্যা রয়েছে ১৩২১টি। এর মধ্যে রাজধানীর ১৬টি সরকারি হাসপাতালে ৩৯৩টি। ২৮টি বেসরকারি হাসপাতালে ৫০৫টি। ঢাকা শহরসহ ঢাকা জেলায় মোট আইসিইউ সমমানের শয্যা আছে ৯৬১টি। চট্টগ্রাম বিভাগের সব জেলা ও উপজেলায় ১০৭টি। ময়মনসিংহ বিভাগে ২২টি, রাজশাহী বিভাগে ৫৮টি, রংপুর বিভাগে ৪৪টি, খুলনা বিভাগে ৭৪টি, বরিশাল বিভাগে ৩৩টি এবং সিলেট বিভাগে ২২টি।

এর মধ্যে সিলেটে বর্তমানে কোনো আইসিইউ শয্যা খালি নেই।

বরিশালে খালি আছে ১১টি, খুলনায় ১৬টি,  রংপুরে ২০টি, রাজশাহীতে ১৪টি, চট্টগ্রামে ২২টি,  ময়মনসিংহে ৮টি এবং ঢাকায় ১৫৪টি।

এ প্রসঙ্গে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান যুগান্তরকে বলেন, কোভিড চিকিৎসায় আমরা আইসিইউর প্রাধান্য দিচ্ছি না। যে শয্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। রোগী বাড়লে সংকট সৃষ্টি হবে। চাইলেই আইসিইউ করা যায় না, অনেক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত নার্স, চিকিৎসক প্রয়োজন। তাই যেসব স্থানে আইসিইউ স্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না, সেসব স্থানে হাই ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলার ব্যবস্থা করতে হবে।

জেলা-উপজেলায় সিলিন্ডারের মাধ্যমে অক্সিজেন সরবরাহ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দ্রুত সব জেলায় আইসিইউ করতে অবশ্যই সেটি করতে হবে। আইসিইউর যেসব ঘাটতি রয়েছে, সেগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে। ব্যবহার উপযোগী করতে হবে। একটি শয্যাও যেন অব্যবহৃত না থাকে, সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।

বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত আইসিইউ বিশেষজ্ঞরা জানান, একজন মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসায় অবশ্যই কার্যকর আইসিইউ প্রয়োজন। আইসিইউ শুধু একটি শয্যা নয়, রোগীর চিকিৎসায় এর সঙ্গে আরও অনেক যন্ত্রপাতি প্রয়োজন। কিন্তু বেশির ভাগ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউ  স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। অনেক আইসিইউতে নেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভেন্টিলেটর সুবিধা। অনেক আইসিইউতে নেই সিরিঞ্জ পাম্প, এবিজি মেশিন বা ডিফেব্রিলেটর। ফলে রোগীকে আইসিইউতে নেওয়া হলেও তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয় না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিদের্শনা মতে, একটি আদর্শ আইসিইউর জন্য বেশকিছু জিনিস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেমন-আইসিইউ শয্যা, আইসিইউ ভেন্টিলেটর, ইনফিউশন পাম্প বা সিরিঞ্জ পাম্প, নেবুলাইজার মেশিন, পেশেন্ট মনিটর, পালস অক্সিমিটার, সাকশন মেশিন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সূত্র জানায়, দেশে বর্তমানে ১৩২১টি আইসিইউ শয্যা রয়েছে। কিন্তু জীবনরক্ষাকারী ভেন্টিলেটর মেশিন রয়েছে ৬৬০টি। অর্থাৎ, অর্ধেক শয্যায় এ গুরুত্বপূর্ণ মেশিনটি নেই। ২৯৮টি ভেন্টিলেটর মেশিন কোভিড শুরুর আগেই ছিল। দেশে কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ১০০টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হয়। অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্টের (এইচএসএম) পক্ষ থেকে ১০০টি কেনা হয়।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে কেনা হয় আরও ১৪৪টি এবং ইউনিসেফের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে ১৮টি। অর্থাৎ কোভিডকালীন আইসিইউ শয্যা বাড়ানো হলেও সেগুলোকে পরিপূর্ণ রূপ দেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া অনেক বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে নামমাত্রই সুবিধা দেওয়া হয়। বেসরকারি পর্যায়ের অনেক হাসপাতালে শুধু শয্যা ছাড়া আর কিছুই থাকে না।

//অনলাইন নিউজ//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পীরগঞ্জে ইএসডিও মাইক্রোফিন্যান্স কর্মসূচির উদ্যোগে অক্সিজেন কনসেনট্রেট হস্তান্তর

গাজীপুরে পোশাক কারখানা চালু রাখায় ১ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায়

 

লঘুচাপের প্রভাবে রামপালের নদীতে ২১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলের নদী ও খালের পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। লঘুচাপের প্রভাবে রামপালের নদীতে ও বেড়েছে  পানি। পানি বাড়ায় বাগেরহাটের এ উপজেলার উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মোংলা-ঘাষিয়াখালী আর্ন্তজাতিক নৌ চ্যানেলে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২১ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এতে নদীর সংযোগ খালগুলো দিয়ে ভিতরের নিচু এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে তলিয়ে গেছে খালের পাড় ও রাস্তাঘাট। নদীর দুই পাড়ে খননকৃত বালুর বিশাল স্তুপ থাকায় নদীর পানিতে সংলগ্ন এলাকা প্লাবিত না হলেও খালের পানিতে প্লাবিত হয়েছে বিভিন্ন এলাকা। উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিকিরডাঙ্গা গ্রামের কাটাখালের পানিতে আশপাশের বাড়ীঘর তলিয়ে গেছে। খালের পাশের রাস্তাটি কোমর সমান পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

সিকিরডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা হিমেল রাব্বী সোহান বলেন, জোয়ারের পানি বাড়ায় খাল আর রাস্তা বুঝাই যাচ্ছেনা। খালের পানি বাড়ায় এখানার কয়েকটি ঘেরের বাঁধ উপচে পানি ঢুকছে। কয়েক জায়গায় পানির চাপে ভাঙ্গনের উপক্রম হয়েছে। ঘের মালিকেরা লোকজন নিয়ে বাঁধ উচুর কাজ করছেন।

এছাড়া গৌরম্ভা, হুড়কা, বাশতলী, কালিগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছে চিংড়ি চাষীরা। বিশেষ করে খালের পাশের ঘেরগুলো রয়েছে বেশি ঝুঁকিতে। বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী বিশ্বজিৎ বৈদ্য বলেন, একদিকে লঘুচাপ অপরদিকে পূর্ণিমার ভরা গোন তাই নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে প্রায় ২১ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এর আগে শুক্রবার বেড়েছিল ১৫ সেন্টিমিটার। লঘুচাপ ও চলতি গোন ( তেজ কটাল) শেষ না হওয়া পর্যন্ত পানির এ চাপ আরো কয়েকদিন থাকার আশংকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ এইচ নান্টূ, বিশেষ প্রতিনিধি ||

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

চট্টগ্রামে গত ৪ দিনে করোনায় ১৮ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৯৭০

 

বাগেরহাটের ফকিরহাটে পিকআপের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৬ যাত্রী নিহত

আজ সকালে বাগেরহাটের ফকিরহাটে মিনি পিকআপের ধাক্কায় ইজিবাইকের ৬ যাত্রী নিহত । ট্রাকের চালক পালিয়ে যায়। বাগেরহাট থেকে ৭জন যাত্রী নিয়ে ফকিরহাট আসার পথে বিপরীত দিক থেকে আসা পিক আপের ধাক্কায় ৬ যাত্রী ঘটনা স্থলে মারা যায় আহত একজনকে খুলনা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে ।

বিস্তারিত আসছে…..

 

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাগেরহাটে ঈদের দিন আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেল দিনমজুরের বাঁচার স্বপ্ন

বাগেরহাটে ঈদের দিন আগুনে পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেল দিনমজুরের বাঁচার স্বপ্ন

 

বাগেরহাট জেলার সদর থানাধীন কাড়াপাড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ওই কাড়াপাড়া গ্রামেরই  শওকত হোসেন নামক এক ব্যক্তির বসত ঘর আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

জানা যায় ঈদের দিন দুপুর বেলা তার বসত ঘরে আগুন লাগে। আগুনের লেলিহান তাণ্ডবে ভষ্মীভূত হয়েছে দিন মজুর শওকত হোসেনের তিলে তিলে গড়া স্বপ্ন মাথা গোজাঁর ঠাঁই এবং অনেক কষ্ট করে সে গরু পুষেছিলেন, গরু লালন পালন করে এই কোরবানির হাটে বিক্রয় করে,সেই বিক্রয়লব্দ প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকা তার ঘরের ভিতরে ছিল। শুধু তাই নয় ঘরের চাউল,ধান ,গোয়ালের গরুও বাদ পড়েনি আগুনের এই নৃশংশতা থেকে।এ সময় তাদের পরিবারের কেউই বাড়িতে ছিলেন না।

এলাকার লোকজন খবর পেয়ে ছুটে যেয়ে পাশের পুকুর থেকে পানি দিয়ে ১ ঘন্টা পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্ত এর ভিতরই সক কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। কিছু টাকা অবশিষ্ট আছে যার আংশিক পুড়া এবং আংশিক ভালো। শওকত হোসেন জ্ঞান হারিয়ে পাশে পড়ে আছে।

এ অবস্থায় এলাকাবাসীর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি, অন্তত যে টাকাগুলি আংশিক পুড়ে গেছে কিন্তু সিরিয়াল নম্বর বিদ্যমান আছে  সেই টাকাগুলির  বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগাযোগের মাধ্যমে টাকা গুলো যাতে পেতে পারে সেই বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে, এই নিঃস্ব পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাউফলে প্রবাসী স্বামীর অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্ত্রী শ্রীঘরে

 

বাউফলে প্রবাসী স্বামীর অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় স্ত্রী শ্রীঘরে

পটুয়াখালীর বাউফলে অর্থ-সম্পদ, স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে প্রবাসী স্বামীর দায়ের করা মামলায় স্ত্রীকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছে পুলিশ। উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের সৌদি প্রবাসী মো. করিম মৃধা পটুয়াখালী জেলা আদালতে ওই মামলা দায়ের করেন।বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) তাকে পটুয়াখালী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বুধবার রাতে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জাানায় পুলিশ।মামলা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের আ. কাদের মৃধার ছেলে আ. করিম মৃধার (৪০) সাথে কেশবপুর ইউনিয়নের মো. মোসারেফ মৃধার মেয়ে মোসা. শাহরিয়া আক্তারের (২৬) বিয়ে হয়ে।

দীর্ঘ সময় স্বামীর দেশে না থাকার সুযোগে শাহরিয়া আক্তার বেপরোয়া হয়ে উঠে। খালাতো ভাই নাহিদ খাঁ (৪০) এর সাথে অবৈধ সর্ম্পকে জড়িয়ে পড়ে।স্বামীর পাঠানো প্রায় ৩৬ লাখ টাকা, প্রায় ১০লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার ও বাড়ি ভাড়ার ৬ লাখ টাকা টাকা নাহিদকে নিয়ে আত্মসাৎ করেন শাহরিয়া।এদিকে স্ত্রীর কথাবার্তায় সন্দেহ হলে সৌদি থেকে দেশে ফিরে আসেন প্রবাসী করিম মৃধা। স্বামী আসার খবর পেয়ে দুই সন্তান রেখে বাবার বাড়িতে চলে যায় শাহরিয়া।

এনিয়ে সালিস বৈঠক হলে আত্মসাৎকৃত টাকা নাহিদের কাছ থেকে উত্তোলন করে দিবেন বলেন স্বীকার করে। কিন্তু যথাসময় টাকা না দিলে শাহরিয়া আক্তার ও নাহিদকে আসামী পটুয়াখালী আদালতে মামলা আ. করিম মৃধা। এ মামলা পুলিশ শাহরিয়াকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।

মো. করিম মৃধা বলেন, সৌদিতে আমি একটা কোম্পানীতে চাকুরি করতাম। আমার আয় করা সকল টাকা শাহরিয়ার একাউন্টে পাঠানো হয়েছে। যার ব্যাংক বিবারণী আমার কাছে রয়েছে। এছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার ও বাড়ি ভাড়ার টাকা আত্মসাত করে আমার সাথে ঘর সংসার করবে না বলে জানায়।

দুই শিশু সন্তানকে রেখে বাবার বাড়িতে চলে যায়। নাবালক ওই দুই সন্তানেরও খোঁজ নেয় না।তিনি আরও বলেন,‘ সালিস বৈঠকে আমার আত্মসাতকৃত টাকা ফেরত দিলে বলে জানালেও ১মাস অতিবাহিত হলেও টাকা নিয়ে প্রতারণার আশ্রয় নেয়।

এবিষয়ে বাউফল থানা ওসি আল মামুন বলেন, ‘শাহরিয়া ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী। তাকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 //ইমাম হোসেন মনা, বাউফল//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবককে আটকে নারী লেলিয়ে টাকা ছিনতাই

 

বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবককে আটকে নারী লেলিয়ে টাকা ছিনতাই

বরিশালে আবাসিক হোটেলে যুবককে আটকে মারধর করাসহ নারী ফিটিং দিয়ে তার অর্থ কেড়ে নেওয়া হয়। এমনকি ঘটনা ফাঁস করা হলো তাকে হত্যারও হুমকি দেওয়া হয়েছিল। বুধবার রাতে শহরের মহশিন মার্কেটের সম্মুখে ‘ভোলা বোর্ডিং’র এই ঘটনায় কোতয়ালি পুলিশ যুবকের টাকা উদ্ধার করে দিয়েছে।

কিন্তু রহস্যজন কারণে জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করায় নানান প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। রনি মিয়া নামের যুবক জানায়, বরিশালে চিকিৎসা করাতে এসে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় লঞ্চঘাটে হোটেলে খুঁজতে থাকলে এসময় এক যুবক এসে ভোলা হোটেলে নিয়ে যায়। এবং রুম ভাড়া ২০০০ টাকা দাবি করলে দরাদারি করে ১২ ০০টাকায় চুক্তি হয়।

কিছুক্ষণ পরে আকস্মিক এক তরুণীকে রুমে ঢুকিয়ে বাইরে থেকে দরজা লাগিয়ে দেওয়া হয়। ওই তরুণী কিছু না বলেই শরীরের পোষাক খুলতে থাকে। এবং যুবককে মারধর করাসহ তার ম্যানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে তার কাছে থাকা ৩৫০০ টাকা নিয়ে যায়। যুবক আরও জানান, সব টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরে হোটেল ম্যানেজার দরজা খুলে তরুণীকে বের করে দিয়ে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন।

এবং ঘটনাটি কাউকে বললে খুন করাসহ লাশ গুমের হুমকি দেয়। এসময় কান্নাকাটি করলেও তাকে সকালের আগে ছাড়া যাবে না বলে জানিয়ে দেয়। পরবর্তীতে যুবক কৌশল নিয়ে তার চাচার কাছে যাওয়ার কথা বললে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরক্ষণে যুবক কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে গিয়ে একটি পুরো ঘটনা তুলে ধরে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই ঘটনাস্থলে থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মেহেদী হাসান সর্ঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ছুটে যান।

কিন্তু এর আগেই তরুণীকে হোটেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। রনি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রথমে তাদের আটক করার কথা বললেও পরবর্তীতে হোটেলে গিয়ে একজনের সাথে একান্তে আলাপের পরে কিছুটা নমনীয় হয়ে যায়। পরে হোটেলের লোকজনের কাছ থেকে ৩৫০০টাকার ৩২০০ উদ্ধার করে দিলেও কাউকে আটক করেনি। পুলিশের এই ভূমিকায় যুবক বিস্মিত হলেও কিছু বলার সাহস দেখাননি।

বিস্ময়কর বিষয় হচ্ছে, যুবক হোটেল ভাড়াসহ ৩৫’শ টাকা নেওয়ার তথ্য দিলেও পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলছেন, নিয়েছিল মাত্র ১২০০, টাকা। সেখান থেকে ৩০০ টাকা ভাড়া দেওয়ার পরে বাকি ৯০০, টাকা উদ্ধার করে দেওয়া হয়েছে। এদিকে বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে হোটেলের ম্যানেজার কালামের মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

অপরাধের সাথে জরিতদের কাউকে আটক করেননি কোতয়ালি থানা পুলিশ।

 //পলাশ চন্দ্র দাস, বরিশাল প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

আজ যশোরে করোনা সংক্রমনে সর্বনিম্ন মৃত্যু ও সনাক্ত

২৩ জুলাই শুক্রবার থেকে শুরু হচ্ছে কঠোর লকডাউন