রামপালে গাঁজাসহ কারবারী আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

রামপাল থানা পু্লিশ অভিযান চালিয়ে আ. কাদের জিলানী (২১) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করেছে। এ ঘটনায় দুই কারবারীর বিরুদ্ধে রামপাল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আটক কাদের উপজেলার পেড়িখালী গ্রামের আবু্ল কালাম শেখের পুত্র।
পু্লিশ জানায়, উপজেলার সিকিরডাঙ্গা গ্রামের সবুর শেখের পোল্ট্রি ফার্মের সামনের তিন রাস্তার সামনে (২৪ আগষ্ট) রাত সোয়া ১০ টায় এসআই শেখ আসগর আলী অভিযান চালান। এ সময় আ. কাদের কে ৫০ গ্রাম গাঁজাসহ আটক করেন। ওই সময় কাদেরের সহযোগী অপর আসামী রাজু ইজারদার (৪৪) পালিয়ে যায়।

পলাতক রাজু একই গ্রামের মৃত কালাম ইজারদারের পুত্র। শুক্রবার (২৫ আগষ্ট) বেলা ১১ টায় আটক কাদেরকে বাগেরহাটের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

খুলনার সুন্দরবন ফার্ম কি আসলে হালাল নাকি টাকা আত্মসাতের ফাঁদ

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

খুলনায় নামসর্বস্ব কিছু প্রতিষ্ঠান ও সমিতি নানা কৌশলে সরলপ্রাণ মানুষের কষ্টের টাকা আত্মসাৎ করছে। সুদবিহীন হালাল বিনিয়োগের কথা বলে জনগণের পকেট থেকে প্রায় ছয় কোটি টাকা উঠিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। স্থানীয় প্রশাসনসহ সরকারি দপ্তরগুলোকে ম্যানেজ করেই এমন প্রতারণা চলছে।

মঙ্গলবার রাতে খুলনার স্থানীয় বাসিন্দা শাহাদাত হোসেন বাবুলের মোবাইল ফোনে একটি খুদে বার্তা আসে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১০০ শতাংশ সুদবিহীন হালাল বিনিয়োগ করুন এবং প্রতিমাসে বুঝে নিন ২০-২৫ শতাংশ লভ্যাংশ। জিরো পয়েন্ট, খুলনা। সঙ্গে একটি ওয়েবসাইটের অ্যাড্রেস দেওয়া হয়।

ওই ওয়েবসাইটে ঢুকে দেখা যায়, সুন্দরবন ফার্ম নামে প্রতিষ্ঠানের বর্ণনা সংবলিত এক পাতা লেখা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ‘সুন্দরবন ফার্ম’ নামে একটি সাইট ও ফেসবুক লিংক দেওয়া রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সংক্ষিপ্ত বিবরণীতে উল্লেখ রয়েছে, ‘২০১৬ সাল থেকে সুন্দরবন ফার্ম সুনামের সঙ্গে কৃষি ক্ষেত্রকে উন্নত ও আধুনিকায়ন করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতাকে আরও গতিশীল করতে সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে স্বল্পসংখ্যক শেয়ারহোল্ডার বা বিনিয়োগকারীর সন্ধান করছি, যারা আমাদের প্রতিষ্ঠানে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ বিনিয়োগ করে আকর্ষণীয় মুনাফা অর্জন করতে পারবেন। আপনি আগ্রহী হলে ফর্মটি পূরণ করুন। আমরাই আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করব।’ এরপর নিচে একটি ফর্ম দেওয়া।

শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমি ওয়েবসাইটে থাকা একটি নম্বরে ফোন করে বিস্তারিত জানতে চাই। আমাকে বিনিয়োগ করতে বলা হয়। এভাবে অসংখ্য মানুষের কাছে মেসেজ এসেছে। আমি জেনে-বুঝে দেখলাম এটি প্রতারণার ফাঁদ। তাহলে যারা সচেতন নয়, তারা তো টাকা দেবে অনায়াসে। দুদিন পর এই টাকা নিয়ে চক্রটি পালিয়ে যাবে। এসব মেসেজ প্রশাসন কেন চোখে দেখে না।’

এমন তথ্য পেয়ে জিরো পয়েন্ট এলাকায় ওই অফিসে গিয়ে দেখা যায়, মূল সড়ক থেকে প্রায় দুই-আড়াই কিলোমিটার ভেতরে রাস্তার পাশে একটি টিনশেড ঘরে অফিস করা হয়েছে। তিনটি কম্পিউটার নিয়ে বসে আছেন প্রতিষ্ঠানের মালিক মুজাহিদুল ইসলাম। পেছনের দেওয়ালে টিন, ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সের কপিগুলো টানানো। পাশের একটি কক্ষে বেশকিছু কৃষি যন্ত্রপাতি রাখা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মিনি ট্রাক্টর, ঘাস ও ধান কাটার মেশিন উল্লেখযোগ্য। জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে বিনিয়োগ করা শুরু করেছেন মানুষ। ইতোমধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা মাঠ থেকে উঠিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

টাকা নেওয়ার এমন কৌশলের বিষয়ে জানতে চাইলে মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কৃষি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সেক্টরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বিক্রি করি। চায়না থেকে এগুলো আমদানি করা হয়। জনগণের কাছে বিক্রি করি। আমাদের মূলধন ক্যাপাসিটি কম। তাই জনগণের কাছ থেকে বিনিয়োগ আশা করছি। আমদানি করা পণ্য বিক্রিতে আমাদের ৪০/৫০ শতাংশ লাভ হয়। এর মধ্য থেকে ২০/২৫ শতাংশ লভ্যাংশ আমরা বিনিয়োগকারীদের দিলে তো আমাদের ক্ষতি নেই।’

এভাবে শেয়ার নেওয়ার বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে মানুষ চাইলে আমানত সংগ্রহ করতে পারে। অবৈধতার কিছু নেই। আমরা তো চুপিসারে করছি না। প্রকাশ্যে করছি, তাহলে অসুবিধা কোথায়।’

এ বিষয়ে বটিয়াঘাটা উপজেলার এসি ল্যান্ড ও নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ আহমেদ বলেন, ‘এমনভাবে টাকা নেওয়ার বৈধতা নেই। এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। সত্যি হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

খুলনা জেলা প্রশাসনের এনডিসি রূপায়ণ দেব বলেন, ‘ব্যক্তিগত ট্রেড লাইসেন্সের বিপরীতে জনগণের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা অভিযান চালিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এদিকে তিন মাসে খুলনা থেকে এমন নামসর্বস্ব আরও দুটি প্রতিষ্ঠান কয়েক কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে। নগরীর নিরালা নাজিরঘাট এলাকায় জনসেবা শ্রমজীবী সমবায় সমিতি নামে সংগঠন পরিচালনা করতেন মাসুদ ইয়াদ। তিনি বুধবার সমিতির সব আসবাবপত্রসহ প্রায় ১ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। এ সমিতির গ্রাহক প্রায় ৭শ। তারা খুলনা সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এছাড়া নগরীর পিটিআই মোড়ে অবস্থিত স্যাংগুইন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতির চেয়ারম্যান আহসাবুর রহমান প্রায় তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। ওই সমিতির অন্তত দেড় হাজার গ্রাহক এখন থানায় দ্বারস্থ হয়েছেন টাকা ফেরত পেতে।

সমিতির ব্যবস্থাপক ও মাঠকর্মী আবু ছাত্তার সানা বলেন, স্যাংগুইন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতিটি সমবায় দপ্তর থেকে রেজিস্ট্রেশন নেওয়া। সমিতিটির চেয়ারম্যান শেখ আহসাবুর রহমান। ব্যবস্থাপনা পরিচালক তার ছেলে শেখ মেহেদী হাসান। ফিক্সড ডিপোজিট করার অনুমোদন না থাকলেও চেয়ারম্যান নিজে অবৈধভাবে বিভিন্ন মানুষের কাছ থেকে বেশি মুনাফা দেওয়ার লোভ দেখিয়ে টাকা জমা রাখতেন।

এভাবে সমিতির নামে অর্থ আদায়ের বিষয়ে খুলনা জেলা সমবায় কর্মকর্তা বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে তাদের কোনো নিবন্ধন নেই। কেউ কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবেই প্রতারণা করতে মাঠে নামে। এজন্য সবার সচেতন হওয়া জরুরি।

Daily World News

রূপসায় সড়ক ধ্বসে পুকুরের মধ্যে দূর্ঘটনার আশঙ্কা পথচারিদের

ভূমি দস্যুতার অভিযোগে নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহান এখন কাঠগড়ায়

স্টাফ রিপোর্টার:

সরকারী পদ পদবী ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা, দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোট উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শাহজাহান এখন আদালতের কাঠগড়ায়।

দীর্ঘ ১৫ বছর যাবৎ রহস্যজনক কারনে তিনি একই পদে নাঙ্গলকোট উপজেলায় কর্মরত। বহুবার বদলীর আদেশ তিনি আলাউদ্দিন চেরাগের বলে পাল্টিয়ে ফেলে আবার বহাল তবিয়তে।

এর মধ্যে নাঙ্গলকোটে নামে বেনামে বহু কোটি টাকার সম্পদের মালিক। বিরোধপূর্ণ কোন জায়গায় খবর পেলেই বায়না করেন। তারপর প্রশাসনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে স্বার্থসিদ্ধি করেন।

সম্প্রতি নাঙ্গলকোট পৌরসবাস্থ ৩ নং ওয়ার্ডের পূর্ব দৈয়ারা গ্রামে প্রবীণ অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেন ভূইয়ার বাড়ী সংলগ্ন একটি জায়গা ক্রয় করেন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহজাহান।

গত ১ মে ২০২৩ সকালে শুরু করেন দখল অভিযান। প্রধান শিক্ষকের বাড়ী ঘর জোর পূর্বক ভাংচুর, হামলা ও দখলের মিশনে লিপ্ত হন এই সরকারী কর্মকর্তা।

নাঙ্গলকোট এ আর হাই স্কুলের এই শিক্ষক বাড়ী ঘর ভাংচুর ও দখলের প্রতিকারের জন্য ৯৯৯ এ ফোন করেন। পুলিশ ঘটনা স্থলে আসে। থানা মামলা হয়।

কিন্তু পরবর্তীতে শালিসের আশ্রয় নিয়ে এই প্রবীণ শিক্ষককে থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। তাকে বিভিন্ন ভাবে হয়রানী, হত্যার হুমকি প্রদান করা হয়।

বাধ্য হয়ে তিনি পরবর্তীতে কুমিল্লা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কোর্টের ৫নং আমলী আদালতে মামলা করেন। যাতে শাহজাহান ছাড়াও আসামী করা হয় মাহফুজ, শাহজাহান ভূইয়া, মিজানুর রহমান ও সাকিবকে।

ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদালতে ডিবিকে নির্দেশ দেন। যা ডিবির এসআই মিজানুর রহমানের তদন্তাধীন।

এলাকাবাসী প্রবীণ এই শিক্ষককের বাড়ী ঘরে হামলা, ভাংচুরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। সেই সাথে এই সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাটেরহাটের কচুয়ায় ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক -৩

//কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি//

বাটেরহাটের কচুয়ায় ১০ পিচ ইয়াবা ও ৫৫ গ্রাম গাঁজাসহ ৩ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে  গিমটাকাঠী বায়তুল নুর জামে মসজিদের সামনে থেকে গিমটাকাটি গ্রামের মনি শেখের ছেলে মোঃ ইয়াসিন শেখ(৩০) কে ১০ (দশ) পিচ ইয়াবা ট্যাবলেট  সহ আটক করা হয়। এছাড়া উপজেলার লড়ারকুল গ্রামস্থ লড়ারকুল সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে লড়ারকুল গ্রামের খলিল মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লা(২৫) ও সাইফুল মোল্লার ছেলে আল আরাফাত মোল্লা(২০)নামের দুই জনকে ৫৫ (পঞ্চান্ন) গ্রাম গাঁজা আটক করা হয়েছে।

কচুয়া থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মনিরুল ইসলাম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে ইয়াবা ও গাঁজাসহ আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ডিজির ঠিকাদারের কাছে কোটি টাকা ঘুস দাবি

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের অধীন বিজি প্রেসের জন্য সিক্সকালার প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ে প্রতিষ্ঠানটির মহাপরিচালকের (ডিজি) বিরুদ্ধে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে কোটি টাকা ঘুস দাবির অভিযোগ উঠেছে। ওই প্রতিষ্ঠান এত টাকা ঘুস দিয়ে মেশিন বিক্রয়ে অপারগতা প্রকাশ করলে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে একই মেশিন ক্রয়ে তিনি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস দাবি করেন। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৭৫ লাখ টাকা ঘুস দিতে রাজিও হয়। এই আলোচনার মধ্যেই তৃতীয় প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে আরও বেশি পরিমাণ ঘুস নিয়ে প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

এখানেই শেষ নয়।

সরকারি বিভিন্ন প্রকাশনা ও বই কিংবা ম্যাগাজিন ছাপার কাজের জন্য সিক্সকালার প্রিন্টিং মেশিনটির বাজার মূল্য সাড়ে ৭ কোটি টাকা। সেই মেশিন ক্রয়ে সরকারি বরাদ্দ প্রায় ১৬ কোটি টাকা। সর্বনিম্ন দরদাতার দরপ্রস্তাব ছিল ১৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। ডিজি যে প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন তাদের দরপ্রস্তাব হচ্ছে ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন দরদাতার চেয়ে ৪০ লাখ টাকা বেশি মূল্যে মেশিনটি ক্রয়ের উদ্যোগ নেন তিনি। ঘুস দাবি এবং সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে না কিনে বাড়তি ৪০ লাখ টাকা দিয়ে মেশিন কেনার উদ্যোগ নেওয়াসংক্রান্ত অভিযোগটি মন্ত্রণালয়ের কানে গেলে তা তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, বিজি প্রেস একটি সিক্সকালার প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ের জন্য চলতি বছরের ৮ এপ্রিল টেন্ডার আহ্বান করে। এতে দুটি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। এগুলো হলো-কেবিএ এবং জিসান ইন্টারন্যাশনাল। আর টেন্ডারে অংশ নেওয়ার আগেই হাইডেল বার্গ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মেশিন ক্রয় করার জন্য আলোচনা করেন মহাপরিচলক। তাদের কাছে এক কোটি টাকা ঘুস দাবি করেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠানটি ঘুস দিতে রাজি হয়নি। পরে তারা টেন্ডার প্রক্রিয়া থেকে সরে যায়।

পরে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কেবিএ’র কাছ থেকে মেশিন ক্রয়ে ৭৫ লাখ টাকা ঘুস চান ডিজি। তাদের সঙ্গে ঘুসের টাকার লেনদেন নিয়ে আলোচনার সময় জিসান ইন্টারন্যাশনালের কাছ থেকে মের্শিন ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেন মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের একেএম মাসুদুজ্জামান।

সূত্র জানায়, এ পর্যায়ে সর্বনিম্ন দরদাতা হওয়া সত্ত্বেও কাজ না পেয়ে কেএবি’র চেয়ারম্যান আলী আমজাদ হোসেন ক্ষুব্ধ হয়ে জনপ্রশাসন সচিব ও সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) কাছে প্রতিকার চেয়ে অভিযোগ করেন। এরপরই বিষয়টি জানাজানি হয়। এ পর্যায়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে সিপিটিও এই কার্যাদেশ বাতিল করে দেয়।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে গিয়ে ডিজিকে পাওয়া যায়নি। পরে তার ব্যক্তিগত ও দাপ্তরিক ফোন নম্বরে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। খুদেবার্তা দিলেও তিনি সাড়া দেননি। গত দুদিন ধরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা কিংবা বক্তব্য নেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা করা হয় যুগান্তরের পক্ষ থেকে। কিন্তু তিনি সাড়া দেননি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী রোববার যুগান্তরকে বলেন, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের ডিজিসহ কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে কাজ চলছে।

ডিজির বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ে আরও বেশ কিছু অভিযোগ জমা পড়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে রয়েছে গভর্মেন্ট প্রিন্টিং প্রেসে শাখার অব্যবহৃত কোটি টাকা মূল্যের পিএস প্লেট উচ্চমূল্যে বিক্রি করেন তিনি। কিন্তু কাগজপত্রে নামমাত্র মূল্যে বিক্রয় দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। বিশেষ সুবিধার বিনিময়ে প্রতিষ্ঠানটির যেসব পদে ওভারটাইম রয়েছে ওই পদে চিহ্নিত দুর্নীতিবাজদের বদলি করেন। যেসব ক্যাডার কর্মকর্তা তার কাজে দ্বিমত পোষণ করেন তাদের রাতারাতি অন্যত্র বদলি করেন। সংস্থাটির লাখ লাখ টাকা মূল্যের পুরনো আসবাবপত্র মাত্র ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার অফিস সরঞ্জাম, কাজগপত্র, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহৃত যাবতীয় স্টেশনারিজ কেনাকাটা হয়। সব শাখার কেনাকাটায় ১৫ শতাংশ কমিশন আদায়ের মৌখিক নির্দেশ দেন মহাপরিচালক। তার এমন অন্যায় আদেশের সঙ্গে তাল মেলাতে না পেরে সংস্থা থেকে স্বেচ্ছায় বদলি হয়ে যান উপপরিচালক (উপসচিব) হাসিনা বেগম। সংস্থাটির আরেক উপপরিচালক ব্রেনজন চাম্বুগং মহাপরিচালকের অন্যায় আবদারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করায় তাকেও বদলি করা হয়। অবশ্য পরে বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ইস্কাটন নাভানা টাওয়ারে একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট রয়েছে মহাপরিচলক একেএম মাসুদুজ্জামানের। ওই ফ্ল্যাটের যাবতীয় আসবাবপত্র তিনি বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে উপহার হিসাবে নিয়েছেন। সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে তিনি ১৬ কোটি টাকা লেনদেন করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, কয়েক মাস আগে এমআইসিআর চেক বই প্রিন্টিং মেশিন ক্রয়ে সর্বনিম্ন দরদাতাকে কাজ না দিয়ে সর্বোচ্চ দরদাতাকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। বিষয়টি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে তদন্ত করছে বলে জানা গেছে। সূত্র: যুগান্তর

Daily World News

দেশকে পাকিস্তানি পন্থায় পরিচালনা করতে ২১শে আগষ্টের গ্রেনেড হামলা চালানো হয়: সালাম মূশের্দী এমপি

শেখ হাসিনা হেরে গেলে বাংলাদেশ দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার সম্মুখীন হতে পারে: দ্য হিন্দু

এমটিএফই হাতিয়ে নিয়েছে হাজার কোটি টাকা// ফাঁদে পড়েছে হাজারো যুবক

//অনলাইন নিউজ ডেস্ক//

যুবক, ডেসটিনির পর এবার এমএলএম ব্যবসার নামে প্রায় হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই)। এমএলএম কম্পানির এই প্রতারণায় জড়িয়ে সর্বস্বান্ত দেশের লক্ষাধিক যুবক।

দুই সপ্তাহ আগে তথাকথিত সিস্টেম আপগ্রেডের মাধ্যমে সমস্যার শুরু। এর পর থেকে ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি থেকে কোনো টাকা তুলতে পারছিলেন না।

গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় সব ব্যবহারকারীর ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট ঋণাত্মক দেখানো শুরু করে অ্যাপটি। গ্রাহকদের পক্ষে স্বয়ংক্রিয় লেনদেনের পর বিপুল লোকসান হয়েছে বলে দাবি করেছে অনিয়ন্ত্রিত এই সংস্থা।

এমটিএফই দাবি করেছিল, তারা কানাডায় নিবন্ধিত সংস্থা। এর কার্যক্রম শ্রীলঙ্কা, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান ও ভারতেও ছড়িয়ে ছিল।

এসব দেশের ব্যবহারকারীদেরও পরিণতি একই।

সূত্র জানায়, ক্রিপ্টো, বৈদেশিক মুদ্রা, পণ্য, এমনকি বিদেশি স্টক পর্যন্ত নিজের ছায়া প্ল্যাটফরমে ট্রেড করার সুযোগ দিয়ে এই অ্যাপ সম্প্রতি অবিশ্বাস্য রকমের জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। ট্রেডিং থেকে উপার্জন এবং অর্থ পরিশোধের কথা বলে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের অবিশ্বাস্য সহজ পথে অর্থ আয়ের আমন্ত্রণ জানায়।

বাংলাদেশে মোট কতজন এই স্কিমের প্রতারণার শিকার হয়েছেন, এর কোনো স্পষ্ট তথ্য নেই।

তবে গ্রাহকদের বিভিন্ন দলের নেতারা অনুমান করছেন, এই সংখ্যা এক লাখ থেকে পাঁচ লাখ হতে পারে। তাঁদের ধারণা, এই কাণ্ডে প্রায় হাজার কোটি টাকা খুইয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, এমএলএম ব্যবসা পরিচালনা এবং ক্রিপ্টো কারেন্সিতে লেনদেন অবৈধ ও নিষিদ্ধ। এর পরও কমপক্ষে ৫০০ ডলার বিনিয়োগ করলে দিনশেষে পাঁচ হাজার টাকা লাভ হবে—এমন কল্পিত মুনাফার লোভে শত শত মানুষ বিনিয়োগ করেছিলেন এই কম্পানিতে। অনেকে গয়না ও মূল্যবান সামগ্রী বন্ধক রেখেও বিনিয়োগ করেছিলেন।

অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং বা বাইন্যান্সের মাধ্যমে তারা টাকা নিত। পরে স্থানীয় এজেন্টরা সেটি বাইরে পাচার করত। বাংলাদেশে শিক্ষার্থীদের মুনাফার লোভ দেখিয়ে টার্গেট করা হতো।

সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এই কম্পানির লেনদেন বা ট্রেড হতো সপ্তাহে পাঁচ দিন বাংলাদেশি সময় সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১টা পর্যন্ত। প্রতি সোমবার থেকে শুক্রবার সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ট্রেড হলেও সিইওদের জন্য লেনদেন হতো শনিবারসহ সপ্তাহে ছয় দিন। রবিবার বন্ধ থাকত। ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা যায়।

জানতে চাইলে বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত নিয়মে এমএলএম ব্যবসা অবৈধ। যে প্রতিষ্ঠানটি এই প্রতারণার সঙ্গে জড়িত, সেটি দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানও নয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমএলএম নিয়ে কাজ করে না। ডিজিটাল কমার্স নিয়ে কাজ করছে। তবে বিটিআরসি, বাংলাদেশ ব্যাংকের  বাংলাদেশ ফিন্যানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট বিষয়টি দেখভাল করে থাকে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান মোহাম্মদ সাঈদ আলী বলেন, ‘এমএলএম বাণিজ্যে তদারকি নিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলাদা কর্তৃপক্ষ নেই। তবে কোনো অভিযোগ পেলে আমরা বিটিআরসিকে বলে কার্যক্রম বন্ধ করে দিই।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা যায়, মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি অনুবিভাগ এমএলএম আইন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। তবে এই বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুর রহিম খানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাইবার বিশ্লেষকরা বলছেন, দুবাইভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠান মাল্টিলেভেল মার্কেটিং বা এমএলএম পঞ্জি মডেলে ব্যবসা করত। ভারত ও বাংলাদেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিনিয়োগকারী ছিল। তবে বেশির ভাগই বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী।

যা বলছেন বিনিয়োগকারীরা

কুমিল্লার মুরাদনগরে এমটিএফই বিদেশি অ্যাপের খপ্পরে ফেলে অর্ধশতাধিক যুবকের কাছ থেকে প্রায় এক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারকচক্র।

প্রথমে এই অ্যাপ নিয়ে আসেন মুরাদনগর উপজেলার ধামগড় ইউনিয়নের ধামগড় গ্রামের আবু ইসার ছেলে আহমেদ বিন শামীম। তিনি এই অ্যাপের টিম লিডার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন গুঞ্জোর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে গোলাম মাওলানা টিটুকে। পরে এ উপজেলায় টিটুর নেতৃত্বে এমটিএফইতে কাজ করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র।

এই প্রতারকচক্র গ্রাহকদের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলে নানা তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে অ্যপটি পরিচালনা করত।

মুরাদনগরের ভাঙ্গরা, পাইয়ব, নহল চৌমুমনি, পিংলাবাড়ি গাইতুলি এলাকাসহ বিভিন্ন গ্রামে এই অ্যাপ যুবসমাজের মধ্যে ঝড় তোলে।

ধামগড় গ্রামের ভুক্তভোগী রমজান ও নাহিদ হাসান বলেন, আমরা এই অ্যাপ সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। আমাদের এই অ্যাপের সঙ্গে পরিচয় করিয়েছিলেন আহমেদ বিন শামীম। তখন তিনি বলেন, এখানে বিনিয়োগ করলে লোকসান হওয়ার আশঙ্কা নেই। এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে প্রতিদিন দুই হাজার টাকা লাভ থাকবে। এই অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করি, কিন্তু কয়েক মাস না যেতেই আমাদের ব্যালান্স শূন্য হয় যায়।

তবে গোলাম মাওলা টিটুর ভাষ্য, ‘আমি এই অ্যাপের মালিক নই, অ্যাপটি একটি বিদেশি কম্পানির। যারা করেছে তারা বুঝেশুনেই করেছে। সব ব্যবসায় লাভ-ক্ষতি আছে।’

এদিকে এক মাস আগে এক লাখ ১০ হাজার টাকা বিনিয়োগ করা কালাম নামের এক যুবক বলেন, আক্তার নামের এক ব্যক্তির কথায় বিশ্বাস করে তিনি এই অ্যাপে টাকা বিনিয়োগ করেন।

 

খুলনায় অস্ত্রসহ দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ

//আ: রাজ্জাক শেখ, খুলনা ব্যুরো//

খুলনায় অস্ত্রসহ ২ যুবককে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন নগরীর চানমারি ৩য় লেন, মাজার গলি এলাকার মৃত: জাহিদুল ইসলাম বুলু’র ছেলে জনি মোল্যা (২০) এবং চাঁনমারি বাজার এলাকার মোঃ আবু ছালেহ স্বপনের ছেলে মোঃ সাব্বির (২২)।

এ সময় তাদের কাছ থেকে পিস্তল, গুলি, ম্যাগাজিন ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে খুলনা থানাধীন চাঁনমারী এ্যাপ্রোচ রোডস্থ চাঁনমারী বাজার এলাকা থেকে তাদেরেক আটক করা হয়। এ সময় তাদের দেহ তল্লাশি করে একটি সচল পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, তিন রাউন্ড গুলি এবং একটি রেজিস্ট্রেশন বিহীন  এ‍্যাপাচী মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

আটক জনি মোল্যার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে একটি হত্যা মামলাসহ দুইটি মামলা রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে খুলনা থানার মামলা দায়ের করা হ য়েছে, যার নং-২৫,

দুর্নীতি দমন কমিশনের তথ্য চুরি করে প্রতারণা করা ৪ প্রতারক রিমান্ডে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওয়েবসাইট থেকে তথ্য চুরি করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে দুদক কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোন করে ঘুষ চেয়ে বিপুল টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিল একটি প্রতারক চক্র।

গত রোববার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর রমনা থানায় এ সংক্রান্ত একটি মামলা হয়।

পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিম গত সোমবার যাত্রাবাড়ী, মুগদা ও এয়ারপোর্ট এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে চক্রটির চারজনকে গ্রেপ্তার করে। গতকাল বুধবার থেকে তারা তিন দিনের পুলিশ রিমান্ডে আছেন।

আজ বৃহস্পতিবার ডিবি লালবাগের ডিসি মশিউর রহমান এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, দুদকের ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির নামে অভিযোগ গঠন, অভিযোগ হতে অব্যাহতি, দায় মুক্তি সংক্রান্ত তথ্য চুরি করে কিছু কনস্ট্রাকশন ঠিকাদার ও ভুয়া সাংবাদিক মিলে বিভিন্ন পৌরসভার মেয়র, সংসদ সদস্য, চেয়ারম্যান, ওয়ার্ড কাউন্সিলর, নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ফোন করে দুদকের মহাপরিচালক, পরিচালক ও উপ-পরিচালকদের নামে প্রচুর টাকা ঘুষ হিসেবে হাতিয়ে নিচ্ছিল। গত রোববার রমনা থানায় এ সংক্রান্ত মামলা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. সেলিম ওরফে তানভীর ইসলাম ওরফে শফিকুর রহমান (৩৯), মো. সোহাগ পাটোয়ারী (৩৮), আব্দুল হাই সোহাগ (৩৮) ও মো. আজমীর হোসেন (৩৭)। তাদের হেফাজত থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি মোবাইলফোন, ১০টি সিম, কর্ডলেস মাউথপিস, পত্রিকা, মানবাধিকার কমিশন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের সাতটি ভুয়া আইডি কার্ড, দুদক কর্তৃক বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ অনুসন্ধানের প্রতিবেদন ১২টি এবং বিভিন্ন ব্যক্তির ফোন নম্বর লেখা তিনটি নোটবুক উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি জানায়, এর আগে গত জুনে আরেকটি মামলায় তিনজন প্রতারকের সঙ্গে দুদকের একজন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় প্রতারকরা দুদকের যে উপ-পরিচালকের নাম ব্যবহার করেছিল তার বা তার আত্মীয়দের সঙ্গে প্রতারকদের সম্পর্ক আছে কি না ডিবি পুলিশ তা খতিয়ে দেখবে।

বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

//বিশেষ প্রতিনিধি//

বাগেরহাটের শরণখোলায় সন্ধ্যায় ঘরে ঢুকে একই সঙ্গে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামে।

নিহত পাপিয়া বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে সাওদা জেমীকে (৫) ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেয়েটি। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা মা পাপিয়াকে উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ রাত ৯টার দিকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। তবে কি কারণে এবং কে বার কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ স্বপন কুমার বালী জানান, খবর পেয়ে পাপিয়া বেগমকে তার ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় বাড়ির কিছু দূরে পড়ে থাকা অবস্থায় মেয়ে সাওদা জেমীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে জানানো হয়।

গ্রাম পুলিশ স্বপন ঢালী জানান, পাপিয়ার স্বামী আবু জাফর হাওলাদার কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তার ছেলে জিহাদ (১৫) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে একটি দোকানে কাজ করে। মেয়েকে নিয়ে পাপিয়া বাড়িতে থাকতেন। কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা জানান, তার ইউনিয়নের ১নম্বর উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডে মা-মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। পারিবারিক কারণে এটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশফাক হোসেন জানান, পাপিয়া বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম পাওয়া গেছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

বাগেরহাটের কচুয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান জামাইয়ের জেল, শাশুড়ির জরিমানা

কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

কচুয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান চালিয়ে বাল্যবিবাহের অপরাধে জামাইয়ের ১ মাস জেল ও শাশুড়িকে ২০হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত) মো.জাকির হোসেন এ রায় দেন।

দন্ডপ্রাপ্ত জামাই সাতক্ষিরা জেলার কাশিমপুর এলাকার আকবার আলীর ছেলে মাসুদ হাসান (৩১)ও শাশুড়ি উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের মন্টু শেখের স্ত্রী হালিমা বেগম(৩৮)।

কচুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ভারপ্রাপ্ত)মো.জাকির হোসেন বলেন, ১৪ বছরের স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে বিয়ে করার অপরাধে জামাই মাসুদ হাসানকে এক মাসের কারাদন্ড দেয়া হয়েছে। এছাড়া অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে বিয়ের সহায়তার অপরাধে মেয়ের মা হালিমা বেগম এর ২০হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।