গণ ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামীকে ২৪ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করলো র‌্যাব

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনা সদর উপজেলার চাঞ্চল্যকর ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার পলাতক প্রধান আসামি খলিল ও বশির’কে ২৪ ঘন্টার রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ এর যৌথ আভিযানিক দল।

র‌্যাব এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,বরগুনা জেলা সদর এলাকায় বসবাসকারী বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দম্পতি বরগুনা সদরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। তাদের সংসারে ১৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দম্পতি প্রায়ই তাদের মেয়ে ভিকটিম (১৫)’কে বাসায় রেখে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য বেরিয়ে যেত। একই এলাকায় বসবাসকারী মোঃ খলিল (৩৮), মোঃ বশির (৩৫), মোঃ কামাল (৪০), মোঃ দুলাল (৪২) এবং আকলিমা বেগম (৩৩) তাদের প্রতিবেশী হওয়ায় তাদের সবার সাথে ভিকটিমের পরিবারের সু-সম্পর্ক ছিল। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১০/০২/২০২৪ ইং তারিখ বুদ্ধি প্রতিবন্ধী দম্পতি তাদের মেয়ে ভিকটিম (১৫)’কে বাসায় রেখে ভিক্ষাবৃত্তি করার জন্য বাসা থেকে বের হয়। অতঃপর খলিলের স্ত্রী ভিকটিমকে ডেকেছে বলে খলিল ভিকটিমকে তার বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে গিয়ে খলিল ভিকটিমকে বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয়-ভীতি দেখিয়ে ভিকটিমকে জোর পূর্বক একই দিনে দুইবার ধর্ষণ করে। দুলাল ভিকটিমকে ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে, যার ফলে ভিকটিম ভয়ে ঘটনাটি কাউকে জানায়নি।

গত ১৫/০২/২০২৪ খ্রিঃ তারিখ ভিকটিমের অপর প্রতিবেশী দুলাল তার স্ত্রীকে মাটির চুলা সরাতে সাহায্য করার জন্য দুলালের বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। ভিকটিম দুলালের বাসায় গিয়ে দেখে দুলারের স্ত্রী বাসায় নেই। অতঃপর দুলাল ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে তার বাসার ভিতরে নিয়ে যায়। উক্ত বাসার ভিতরে পূর্ব হতে বশির ও কামাল উপস্থিত ছিল। ভিকটিম তাদেরকে দেখে ডাক-চিৎকার করার চেষ্টা করলে দুলাল, বশির ও কামাল সবাই মিলে ভিকটিমের মুখ চেপে ধরে ভিকটিমের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোর পূর্বক তাকে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে। আসামিরা ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে প্রাণনাশের হুমকিসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের দৈহিক পরিবর্তন পরিলক্ষিত হওয়ায় ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে তাদের পাশ্ববর্তী মা ও শিশু ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ভিকটিম অন্তঃসত্তা বলে জানায়। অতঃপর ভিকটিমের পরিবারের লোকজন ভিকটিমকে জিজ্ঞাসা করলে ভিকটিম তার পরিবারকে ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়।

উক্ত ঘটনায় ভিকটিমের দাদী বাদী হয়ে বরগুনা জেলার বরগুনা সদর থানায় ধর্ষক খলিল, দুলাল, বশির, কামাল ও ধর্ষণে সহযোগীতা করায় খলিলের স্ত্রী আকলিমাসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে একটি গণধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-০১/১২৪, তারিখ-০১/০৫/২০২৪ ইং, ধারা-নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সং/০৩) এর ৯(১),৯(৩)/৩০। মামলা রুজুর বিষয়টি জানতে পেরে সকল আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়।

উক্ত গণধর্ষণের ঘটনাটি জানতে পেরে র‌্যাব-১০ ও র‌্যাব-০৮ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল চাঞ্চল্যকর ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত সকল আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত ৭ মে ২০২৪ খ্রিঃ তারিখ সন্ধ্যা  ০৬:০০ হতে ৮ মে দুপুর ১৩:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত র‌্যাব-৮ ও র‌্যাব-১০ এর উক্ত যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানী ঢাকার ডেমরা থানাধীন মোস্ত মাঝির মোড় ও একই থানাধীন ডেমরাঘাট এলাকায় একাধিক যৌথ অভিযান পরিচালনা করে চাঞ্চল্যকর বরগুনার সদর এলাকায় ১৫ বছরের কিশোরীকে গণধর্ষণ মামলার এজাহারনামীয় পলাতক প্রধান আসামি ১। মোঃ খলিল (৩৮), পিতা-মোঃ শাহজাহান, ২। মোঃ বশির হোসেন (৩৫), পিতা-মোঃ আফজাল, উভয় সাং-পিটিআই সড়ক, থানা-বরগুনা সদর, জেলা-বরগুনা’দ্বয়কে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, গ্রেফতারকৃত আসামিরা উক্ত গণধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি  বলে স্বীকার করেছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এক নারীর সাথে ভাইরাল তালতলীর সেই চার রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে গণ ধর্ষণ মামলা

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা প্রতিনিধি//

বরগুনার তালতলীতে এক নারীর সাথে চার রাজনৈতিক ও জনপ্রতিনিধি’র সাথে আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল হওয়া সেই চারজনের বিরুদ্ধে গণ ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন,তালতলী উপজলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল কবির জোমাদ্দার, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচু,পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠু।

বুধবার বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ মশিউর রহমান খাঁন মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত পুর্বক সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন। তিন চেয়ারম্যানর বিরুদ্ধ মামলা হওয়ায় উপজেলা চাঞ্চল্যের সষ্টি হয়ছ।

মামলার বিবরন সুত্রে জানাগেছে,তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচু মিয়ার সঙ্গে মামলার বাদীর কন্যার মোবাইল ফোনে প্রেম হয়। এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান বাচ্চু মোল্লা বিয়ের প্রলোভন দেখিয় দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এখন চেয়ারম্যান তাকে বিয়ে করা নিয়ে টালবাহানা করতে থাকে। ধর্ষিতা বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করলে চেয়ারম্যান তাকে বিয়ে করবে বলে স্ট্যাম্পে লিখিত দেয় এবং বিভিন স্হানে নিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষিতার অজান্তে গোপনে মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারণ করে। ওই ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে মামলার ২ নং আসামী পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদারের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক করতে বাধ্য করেন। চেয়ারম্যান রাজ্জাকও তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন এবং তিনিও মোবাইলে নগ্ন ছবি ধারন করে রাখে। পরে পঁচাকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ওই কন্যাকে ব্লাকমেইল করেন এবং তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি উপজলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের সঙ্গে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলত বাধ্য করে। তার কথা না শুনল তাকে জীবন নাশের হুমকি দেন। নিরুপায় হয়ে ধর্ষিতা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রেজবি-উল কবির জোমাদ্দারের সঙ্গেও দৈহিক সম্পর্কে বাধ্য হয়। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানও ওই কন্যাকে বিভিন্ন হোটেল ও লঞ্চে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করছে বলে দাবী করেন মামলার বাদী। তাদের হাত থেকে রক্ষা পেতে ধর্ষণের শিকার ওই মেয়ে তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করবো বলে হুমকি দেয়। এমন খবর পেয়ে তিন চেয়ারম্যান ও ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক মিলে ওই ধর্ষিতার বিরুদ্ধে উল্টো পর্নোগ্রাফি আইনে মামলা দেয়। ওই মামলায় ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ওই মামলার ধর্ষিতা জেল হাজতে রয়েছ। এ ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা বুধবার বরগুনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তালতলী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ জবি-উল কবির জোমাদ্দার, নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ড. কামরুজ্জামান বাচ্চু,পচাঁকোড়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল আবেদীন মিঠুর বিরুদ্ধে গণধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফী আইনে মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মোঃ মশিউর রহমান খাঁন মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন।

তালতলী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ রেজবি উল কবির জোমাদ্দার বলেন,নির্বাচনকে সামনে রেখে আমার বিরুদ্ধে আমার প্রতিপক্ষরা ষড়যন্ত্রমুলুক এ মামলা দায়ের করছে।এ ঘটনার সঙ্গে আমি ও অন্য দুই চেয়ারম্যানর কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। আমি আইনগতভাব মোকাবেলা করবো।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবি মোঃ আনিচুর রহমান মিলন বলন,আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী পিবিআইকে তদন্ত করে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছন।

রামপালে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রীনার বিরুদ্ধে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রামপাল উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা বেগমের অর্থ বাণিজ্য এখন তুঙ্গে। ভিডিপি কমান্ডার আবজাল ও আনসার কমান্ডার আ. হাকিমের মাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলে এমন অর্থ বাণিজ্য করে আসছেন ওই কর্মকর্তা রীনা। এতে গোটা উপজেলার সহাস্রাধিক আনসার ও ভিডিপি সদস্য ওই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে সাধারণ আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা রামাপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের তদন্তসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

জানা গেছে আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা বেগেম রামপালে যোগদান করার পর আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগসুবিধা পেতে উৎকোচ গ্রহন করতে থাকেন। কেউ কোন প্রতিবাদ করলে ভিডিপি আবজাল ও হাকিমের মাধ্যমে তাকে সায়েস্তা করেন। এদের সায়েস্তা করতে সদস্যের দিয়ে সহি করিয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর চিঠি দেন।

অভিযোগে জানা গেছে গত জাতীয় নির্বাচনে এ উপজেলায় ৪৮ টি ভোট কেন্দ্রে ৪৮ টি দল দেয়া হয়। ৪৮ দলে ১২ জন করে মোট ৫৭৬ আনসার ও ভিডিপি সদস্য দেয়া হয়। তাদের প্রতিজনের কাছ থেকে ৪০০ টাকা করে মোট উৎকোচ নেন ২ লক্ষ ৩০ হাজার ৪০০ টাকা। এর বাইরে প্রতিজন আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে তোলে ওই সিন্ডিকেটের সদস্যরা। তাতে প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ থেকে সাড়ে ৬ লক্ষ টাকা মাঠ পর্যায় থেকে আদায় করেন।

চলতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবারো ওই সিন্ডিকেট মেতে উঠেছে অর্থ বাণিজ্যে। এবার তারা ৪৯ টি ভোট কেন্দ্রে ৪৯ টি দল গঠন করেছে। প্রতি দলে ১৩ জন করে মোট ৬৩৭ জন সদস্যকে বাছাই করা হয়েছে।

আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা প্রতিজনের কাছ থেকে ৩০০ টাকা করে মোট টাকা ১ লক্ষ ৯১ হাজার ১০০ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এর বাইরে আবজাল, হাকিম, ও মোস্তফাগংয়েরা  সিন্ডিকেট করে প্রতিজন আনসার সদস্য নিয়োগের বিপরীতে ৮ শ টাকা থেকে ১৫ শত টাকা করে হাতিয়ে নিয়েছেন। এভাবে আরো ৫ লক্ষ টাকারও বেশী পিসি এপিসিরা হাতিয়ে নিয়েছেন। সাধারণ আনসারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। তারা জানান, আমরা কোন কথা বললে আমাদের আর কোন দিন ডিউটিতে পাঠাবে না।

আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা এখানে যোগদান করার পর স্বভাবসুলভভাবে একের পর এক দুর্নীতি করেই চলেছেন। একবার এক মহিলা সদস্য ওই রীনাকে ৩ হাজার টাকা স্বামীকে ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ বাবদ উৎকোচ দেওয়ার সময় গোপনে ভিডিপি করেন। এরপর থেকে ওই অফিসে কোন আলোচনা করার পূর্বে বিশেষ করে নির্বাচন ডিউটি বিষয়ে টাকা পয়সার আলোচনা করার সময় সবার মোবাইল ফোন জব্দ করে রেখে তারপর আলোচনা করেন। কেহ কোন কথা সাংবাদিক বা কোন কর্তৃপক্ষের কাছে ফাঁস করলে তাকে হয়রানির শিকার হতে হয়।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা রীনা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রুপ কমান্ডররা টাকা নেয়। আমি কোন টাকা পয়সা কারো কাছ থেকে নেইনি। মোস্তফা, ফরিদ, ফাতেমা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে এসব রটাচ্ছে। এরপরে আনসার কর্মকর্তা রীনা সাংবাদিকদের আবার তার কার্যালয়ে ডেকে নেন। কথার ফাঁকের এক পর্যয়ে তিনি নিউজ না করার অনুরোধ করে তার পার্স ব্যাগ থেকে টাকা বের করে সাংবাদিকদের ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা এর মুঠোফোনে বিষয়টি অবগত করে দৃষ্টি আকর্শন করা হলে তিনি হতবাক হয়ে যান। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।

রামপাল উপজেলা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি এ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন শেখসহ নেতৃবৃন্দ উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তদন্তসহ আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জোর দাবী জানিয়েছেন।

আটক করা হয়েছে মিল্টন সমাদ্দারকে- সব অপরাধের বিচার হবে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার-  আশ্রমের চেয়ারম্যান আটক মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বুধবার রাতেই মিরপুর মডেল থানায় এসব মামলা হবে বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মিরপুর মডেল থানায় তিনটি অভিযোগে মামলা হবে মিল্টনের বিরুদ্ধে। মামলাগুলো এজাহারভুক্ত হওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল আটক করে মিল্টন সমাদ্দারকে।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অজস্র অভিযোগ। তার বাড়ি বরিশালের উজিরপুরে। তিনি তার বাবাকে পেটানোর কারণে এলাকাবাসী তাকে এলাকাছাড়া করে। এরপর ঢাকায় চলে আসেন।

তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে তার স্ত্রীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং একাধিক মামলা হবে। তার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা জঘন্য অপরাধ। প্রমাণ মিললে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ডিবিপ্রধান বলেন, মিল্টনের বিরুদ্ধে মানবপাচার, শিশুদের ওপর হামলা, আত্মীয়-স্বজন গেলে তাদের মারপিট এবং তার টর্চার সেল, সব কিছুই মামলার মধ্যে আসবে।

হারুন অর রশীদ আরও বলেন, মিল্টন ঢাকায় এসে শাহবাগের ফার্মেসিতে কাজ শুরু করেন। সেখানে ওষুধ চুরি করে ব্রিক্রির কারণে মিল্টনকে বের করে দেওয়া হয়। এরপর একজন নার্সকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ স্থাপনের জন্য স্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেন।

এর আগে মিল্টন সমাদ্দারের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। মুখ খুলতে থাকেন ভুক্তভোগীরাও। যদিও কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন মিল্টন সমাদ্দার।

বাবার বাড়ি যাওয়ায় স্ত্রী’র শরীরের ২৮ স্হানে কোপালো স্বামী

মাহমুদুল হাসান, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

বাবার বাড়িতে বেড়াতে যাওয়ায় স্বামী মাহাতাব ও তার সহযোগীরা স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (৩৫) হত্যার উদ্দেশ্য শরীরের ২৭ স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছে।ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) ভোররাতে বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামে।

ঘটনাস্থল থেকে আমতলী থানা পুলিশ গৃহবধূকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।গৃহবধুর অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

জানা গেছে, উপজেলার ঘোপখালী গ্রামের মাহতাব হাওলাদারের স্ত্রী তিন সন্তানের জননী শাহনাজ বেগম গত মঙ্গলবার বাবার বাড়ীতে বেড়াতে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয় স্বামী মাহতাব। বুধবার গভীর রাতে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, মুখমন্ডল,হাত,পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২৭টি কোপ দেয়। পরে মৃত্যু ভেবে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়।

শাহনাজের ডাক চিৎকারে খবর পেয়ে তার স্বজনরা ছুটে আসে এবং থানায় খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে ঘাতক স্বামী মাহতাবকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং গুরুতর আহত স্ত্রী শাহনাজকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে।

আহত শাহনাজের মামা নাসির হাওলাদার বলেন,আমার ভাগ্নি তার বাবার বাড়ীতে বেড়াতে যায়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে স্বামী মাহতাব ও তার সহযোগীরা ঘুমন্ত অবস্থায়  ভাগ্নি শাহনাজকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা,মুখমন্ডল, হাত,দা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ২৭ টি কোপ দিয়ে ফেলে রাখে।

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুনা বিনতে হক বলেন,ওই নারীর মাথা,মুখমন্ডল, হাত,পাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহৃ রয়েছে। তার অবস্থা সংঙ্কটজনক হওয়ায় বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমতলী থানার ওসি কাজী সাখাওয়াত হোসেন তপু বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে মাহাতাবকে আটক করা হয়েছে।

এক নারী বিপুল পরিমান জাল টাকাসহ আটক

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

খুলনার রূপসা এলাকার সেলিনা আক্তার তিশা (২৫) নামের এক নারী প্রতারক কে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে এক লক্ষ পনের হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত তিশা খুলনা জেলার পূর্ব রূপসার বাগমারা গ্রামের মৃত আজিজ মোল্লার মেয়ে এবং বশির মিয়ার স্ত্রী।

আটক তিশা কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

খুলনা গোয়েন্দা পুলিশ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, বুধবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় ডিবির একটি চৌকস টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে খুলনা সদর থানার ১নং কাস্টম ঘাটের জেলা স্কুল মোড়ের জনতা ব্যাংক পিএলসি শাখার বিপরীত পাশে রাস্তার উপর থেকে সেলিনা আক্তার তিশা (২৫) কে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে দীর্ঘদিন যাবৎ খুলনা মহানগর এলাকায় জাল টাকা ক্রয়-বিক্রয়ের কাজ করে আসছে।
আটক তিশার বিরুদ্ধে খুলনা সদর থানায় ১৯৭৪ সালের স্পেশাল পাওয়ার এ্যাক্টস্ এর ২৫-A ধারায় মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ)সর্ম্পকে ফেজবুকে কটুক্তি কারীর ফাঁসির দাবিতে বাগেরহাটের কচুয়ায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমবেশ

//শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট//

বিশ্ব মনবতার মুক্তির দূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ও চার খলিফানিয়ে  ফেজবুকে কটুক্তি করায় মুরাদ নামে এক যুবক ফাঁসির দাবীতে বাগেরহাটের কচুয়ায় প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমবেশ করেছেন ধর্মপ্রান মুসলমানরা।

প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমবেশে কচুয়া উপজেলা ইমাম ওলামা পরিষদের সেক্রেটারি জেনারেল মুক্তি সরদার ইমরান হুসাইন  কর্মসুচি ঘোষনা করেন বলেন, সে আইনের ফাকফোকর দিয়ে মুক্ত বাতাসে বের হওয়ার সুযোগপেয়েছে এতে মমিনে রক্ত খরনেন কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। তিনি আরোও বলেন, দেশের প্রতলিত আইনে ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়ার ব্যাপারে সর্বোচ্ছ শাস্তি বিধান রেখে ব্লাসফেমি আইন প্রনায়ন করকে হবে।

বুধবার সকাল ৯টায় কচুয়া ডিগ্রী কলে গেটে কচুয়া প্রেক্লাবের সাধারন সম্পাদক কাজি ছাইদের সঞ্চালনায় বক্তার বলেন, নাস্তিক মুরাদ নামের এক যুবক মুসলিম জাতির হৃদয়ের স্পন্দন প্রিয় মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) ও চার খলিফাকে নিয়ে কটুক্তি করে ফেজবুকে স্টাটাস দেয় তা ভাইরাল হয়। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে জেল হাজতে পাঠায়। সম্প্রতি তার জামিন হয়। ওই জামিনের আদেশ প্রত্যহার করে পুনরায় গ্রেফতারের  দাবি  করেন।

বক্তারা হলেন, কচুয়া সদর ইউপি চেয়ারম্যান  শিকদার হাদি উজ্জামান ,কচুয়া কাওমী মাত্রাসার নায়েবে মোহতামিম মাওলানা মঈনুল ইসলাম, বাজার জামে মসজিদের খতিব মোঃ সাহ্ আলম, হাজরাবাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মোঃ মাসুম বিল্লাহ। এমসয় বিভিন্ন মসজিদের পেশ ইমাম, মাদ্রাসার শিক্ষক, হাফেজ ও রসূল প্রেমি মুসলিম জনতা উপস্থিত ছিলেন।

আমতলীতে যত্রতত্র গড়ে ওঠা ৪৫টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

আমতলী পৌর শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী এ,কে স্কুল চৌরাস্তা এলাকা থেকে ৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বুধবার বিকেলে এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেছেন।

জানাগেছে,পৌর শগরের অভ্যন্তরে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের একে স্কুল চৌরাস্তা এলাকায় প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের জায়গা দখল করে ৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করে।এতে মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল।আজ বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম এ সকল অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন,স্থানীয় প্রভাবশালীরা নিজেদের জোর খাটিয়ে মহাসড়কের পাশে বেশ কিছু জায়গা দখল করে এ সকল  স্থাপনা নির্মাণ করেছিল। ওই স্থাপনাগুলো উপজেলা নির্বাহী অফিসার উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। তারা আরো বলেন,সেই সাথে  মহাসড়কের পাশে সাপ্তাহিক হাটও উচ্ছেদ করেছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন,মহাসড়কের ১০ মিটারের মধ্যে নির্মাণ করা ৪৫ টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫ টি ঘর ও ৩০ টি আংশিক ঘর ছিল।

খুলনায় এস আই আনিছুরের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক সহ তিন কার্যালয়ে অভিযোগ

//খুলনা ব্যুরো//

বাংলাদেশ পুলিশের উপ পরিদর্শক আনিসুর রহমান এবং কনস্টেবল নুরুজ্জামান নান্নুর  বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে অযথা শরূীর তল্লাশি, বিভিন্ন প্রকার অশালীন কথাবার্তা, ভয়-ভীতি প্রদর্শন সহ সামাজিক হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ এনে খুলনা জেলা প্রশাসক, খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ও রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ৮ এপ্রিল সোমবার  এসকল অভিযোগ দায়ের করেন খুলনার রূপসা উপজেলার আইচগাতীর যুগিহাটি এলাকার মোঃ সোহান মোড়ল সহ আরো ১০ জন ব্যক্তি।  এস আই  আনিসুর রহমান এবং কনস্টেবল নুরুজ্জামান নান্নু বর্তমানে খুলনার রূপসা উপজেলার ১নং আইচগাতীর পুলিশ ফাড়িতে কর্মরত আছেন।

এসব অভিযোগে তারা উল্লেখ্য করেন, এস আই আনিছুর রহমান ও কনস্টেবল নুরুজ্জামান নান্নু  পুলিশে চাকরি করার সুবাদে এলাকার সাধারণ নিরীহ মানুষদের এবং বিভিন্ন সময়ে- অসময়ে সামাজিক ও বংশীয় লোকদের দাঁড় করিয়ে অযথা শরীর তল্লাশির নামে বিভিন্ন প্রকার অশালীন কথাবার্তা এমনকি ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে সামাজিক মান সম্মান ও  হেয় প্রতিপন্ন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি করে আসছে।

এছাড়া আরো উল্লেখ্য করেন, এইভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ তারা এই ইউনিয়নে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে নিরীহ লোকদের হয়ারনী করে আসছে। এতে করে শান্তিপ্রিয় মানুষের শাস্তি শৃঙ্খলার বিঘ্ন ঘটছে।

এবিষয়ে খুলনা  জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ সুপার ও রূপসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করা

মোঃ সোহান মোড়ল  জানান, এস আই আনিছুর রহমান ও তার সহযোগী কনষ্টেবল নুরুজ্জামান নান্নু আমাদের গ্রামে এসে আমাকে সহ এলাকার অনেককেই মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখায়।তাই বাধ্য হয়ে আমি সহ আমরা ১০ জন লিখিত অভিযোগ করেছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছি।

যদিও এসকল অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের উপ পরিদর্শক আনিছুর রহমান বলেন, বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যানুযায়ী অভিযোগকারী ব্যাক্তি মাদক ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িত। তাই তাকে তল্লাশি করা হয়। কিন্তু তিনিই আবার এখন আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা এবং আমাকে ফাঁসানোর জন্যই  এমনটা করেছে বলে তিনি জানান।

ভিজিডির চাল নিতে যাওয়া খলিলকে চড় থাপ্পর মারল চেয়ারম্যানের লোকজন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার বামনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের অনুসারীর বিরুদ্ধে খলিল নামের এক দিনমজুরকে লাথি মারার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও স্থানীয় লোকজন এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে ওই ইউপি চেয়ারম্যান ও তার কয়েকজন অনুসারী সটকে পড়েন।

শনিবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, দুপুরে ভিজিডির চাল দেওয়ার সময় দিনমজুর খলিলকে কে বা কারা লাথি মেরেছে, তা আমার জানা নাই। তবে-ওই সময়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সুমন পাটোয়ারী ও তার অনুসারী তুহিন বিধিবর্হিভূতভাবে পরিষদে প্রবেশ করে হট্টগোল করেন। এ সময় দলের নেতাকর্মীদের চালের কার্ড না দিলে কয়েকজন কর্মীকে দিয়ে আমাকে লাঞ্ছিত  করলে ঘটনাস্থলে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। এখন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছি। আমি এসব ঘটনা প্রধানমন্ত্রী, এমপি গোলাম ফারুখ পিংকু ও নয়ন ভাইকে জানিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি নেব।

ভুক্তভোগী দিনমজুর খলিলের অভিযোগ, তার কাছে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরিত দুটি টোকেন ছিল। ওই টোকেনগুলো নিয়ে তিনি চাল নিতে পরিষদে যান। দুটি টোকেন দেখেই চেয়ারম্যানের নির্দেশে তার দুইজন অনুসারী ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে চড়থাপ্পড় মারেন। শত শত লোকজনের সামনে তাকে ‘চাল চোর’ বলেও অপমান করেছেন। তিনি এ ঘটনার বিচার চান।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে ভিজিএফের আওতায় ইউনিয়নের দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। এর আগে দুস্থদের মাঝে ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেনের স্বাক্ষরিত টোকেন সরবরাহ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, একাধিক টোকেন নিয়ে যে কেউ চাল নিতেই পারে। পাড়া প্রতিবেশীদের চাল একজনে গিয়ে পরিষদ থেকে নিয়ে আসে। ওই দিনমজুর একাধিক টোকেন নিয়ে চাল নিতে গিয়ে কোনো অন্যায় করেননি।

বামনী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহবায়ক সুমন পাটোয়ারী বলেন, কোনো অসহায় লোকের গায়ে হাত তোলা অপরাধ। ইউপি চেয়ারম্যানের লোকজন কাজটি ঠিক করেননি। বিষয়টি নিয়ে আমরা প্রতিবাদ জানিয়েছি। এ সময় অবস্থা বেগতিক দেখে চেয়ারম্যান অসুস্থ দেখিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বলছেন।

ইউপি চেয়ারম্যান তাফাজ্জল হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে একজন ১০ কেজি করে চাল পাবেন। কিন্তু ওই দিনমজুর দুই-তিনটা টোকেন নিয়ে আসছিল। সে চাল নিয়ে যাওয়ার সময় কে বা কারা আটকিয়েছে। এতে সুমন পাটোয়ারী ও তুহিনসহ দলের কয়েকজন কর্মী আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ করে লাঞ্ছিত করেছে। আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের কাছে এখনো বিচার পাইনি। আমার প্রতিপক্ষ ষড়যন্ত্র করছে।

বামনী ইউনিয়নের ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম বলেন, ভিজিডির কার্ড ও চাল বিতরণ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও তাদের দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা দেখা দেয়। তাৎক্ষণিক পিআইওসহ চারজন কর্মকর্তা ও পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।