বাগেরহাটের রামপালে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী ৩ জন নিহত

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেলের তিন আরোহী মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) রাত সোয়া ৯টার দিকে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের তেতুলিয়া ব্রিজ এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন-রামপাল উপজেলার বেলাই গ্রামের মোতাচ্ছের হোসেনের ছেলে আরিফ (২৭),একই উপজেলার শংকর নগর গ্রামের বাসার হোসেনের ছেলে এনামুল (২৬), ফকিরহাট উপজেলার লখপুর গ্রামের শুকুর হাওলাদারের ছেলে সাইদুল (২৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আশরাফুল আলম।

নিহত তিনজনই ফয়লাহাট এলাকার সেলিম পাটোয়ারীর চিংড়িঘেরে কর্মরত ছিলেন।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, রামপাল উপজেলার ফয়লা বাজার এলাকা থেকে মোটরসাইকেল যোগে চিংড়ি ঘেরে যাওয়ার সময় খুলনা-মংলা মহাসড়কের তেতুলিয়া ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক তাদেরকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই  তিনজন মারা যায়।

মরদেহ উদ্ধার করে বাগেরহাটের কাটাখালি হাইওয়ে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

রামপাল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ব্রাদারসহ পৃথকভাবে ২ জনের আত্মহত্যা

জেনিভা প্রিয়ানা, ষ্টাফ রিপোর্টার ||

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সহকারী নার্স (পুরুষ ব্রাদার) শেখ ইলিয়াস কবির (৫৫) ‘র আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার (২৩ আগষ্ট) সকাল সাড়ে ৭ টায় উপজেলার কামরাঙ্গা গ্রামে তার নিজ বাড়ীতে ঘরের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় রামপাল থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাহারিমা খাতুনের দায়ের করা অভিযোগে জানা গেছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৮ টায় সহকারী নার্স (ব্রাদার) ইলিয়াস কবিরকে তার স্বজনেরা হাসপাতালে নিয়ে আসলে পরীক্ষান্তে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। এরপরে রামপাল থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

জানা গেছে, নিহত ইলিয়াস কবির শান্ত স্বভাবের ও হাসিখুশী মানুষ ছিলেন। হটাৎ করে কেন তিনি আত্মহত্যা করলেন সেটি স্পষ্ট নয়। তবে পু্লিশ প্রাথমিকভাবে নিহতের স্ত্রী ঝর্ণা বেগমের সাথে কারো কোন অনৈতিক সম্পর্ক আছে কি না, হটাৎ করে নিহত ইলিয়াস ব্যাংক থেকে বেশ কিছু টাকা তুলেছেন, স্বজনরা নিহত ইলিয়াস কবির কিভাবে মৃত্যুবরণ করেছে সেটি গোপন করার কারণ এবং পাশাপাশি অন্য কোন সমস্যা আছে কি না সেটি খতিয়ে দেখছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার (২২ আগষ্ট) রাত পৌনে ১ টায় বৃদ্ধ সন্তোষ কুমার মন্ডল (৬৪) রোগ যন্ত্রনা সইতে না পেরে বিষ পানে আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই ঘটনায় ও মৃতের পুত্র রামপাল থানায় বুধবার (২৩ আগষ্ট) সকালে একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছে। মৃত সন্তোষ উপজেলার ছোট সন্নাসী গ্রামের মৃত শরৎ মন্ডলের পুত্র। এজাহারে পুত্র সুমন মন্ডল উল্লেখ করে, তার বাবা দীর্ঘ দি অসুস্থ ছিলেন। মঙ্গলবার রাতে বাড়ীতে রাখা বিষ পান করে সে আত্মহত্যা করেন।

এ বিষয়ে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ডাক্তার সুকান্ত কুমার পাল বলেন, আত্মহত্যা না কি অন্য কোন কারণে ষ্টাফ ইলিয়াস কবির মারা গেছেন বুঝতে পারছি না, তবে পু্লিশ তদন্ত করলে বা ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়া গেলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম জানান, পৃথক দুইটি ঘটনায় দুইজন আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তবে অধিকতর তদন্তের স্বার্থে দুই জনের লাশের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করে বাগেরহাট হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্যে পাঠানো হয়েছে এবং পাশাপাশি মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

খুলনায় ইঁদুর মারার ফাদে পড়ে প্রাণ গেল দুই কৃষকের

//আ: রাজ্জাক শেখ,খুলনা ব‍্যুরো//

খুলনার রূপসায় ইঁদুর মারার ফাঁদে পড়ে প্রাণ গেল দুই কৃষকের। ঘটনাটি রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে।

নিহছতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আনন্দনগর এলাকার সৈয়দ আলী মোল্লার ছেলে জের আলী মোল্লার মাছের ঘেরের শসা খেতে ইদুর মারার জন্য বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রাখেন গতকাল ( ২১আগস্ট) সোমবার ।

একই গ্রামের ইকবাল শেখ(৩৫) নামের কৃষক তার মাছের ঘেরে কাজ শেষ করে ঐদিন সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে পড়ে থাকেন।

পরবর্তীতে ইকবাল বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন রাত সাড়ে দশটায় দিকে ইকবালের ভাই মোদাচ্ছের কে ফোন দিয়ে বলেন তিনি মাছের ঘরে কাজ করতে গেছে এখনো বাড়ি আসে নাই।

মোদাচ্ছের শেখ মাছের ঘেরের ঘরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে সেই সূত্র ধরে ভাই ইকবালকে খুজতে বের হয়।

পথিমধ‍্যে দেখতে পাই জের আলী মোল্লার ঘেরের পাড়ে ইকবাল পড়ে আছে। তখন মোদাচ্ছের তার ভাই ইকবালকে স্পর্শ করলেই তাকেও বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়। এ সময় মোদাচ্ছের এর স্ত্রী রুমা বেগম পিছনে আসার কারণেই তিনি ঘটনাটি দেখতে পায়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।

পরবর্তীতে তার চিৎকারে আশেপাশে লোক এসে তাদেরকে উদ্বার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এ নিয়ে আসলে চিকিৎসক তাদের মৃত্যু ঘোষণা করেন। নিহত কৃষকের লাশ ময়নতন্ত্রের জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

নিহতের ঘটনায় একমাত্র আয়কর ব‍্যক্তিকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পরিবার। শোকাহত এলাকাবাসী।

থানার ওসি মো: শাহিন জানান, ইদুর মারার জন‍্য ঘেরের পাড়ে দেওয়া বিদ্যুৎ স্পৃষ্ট হয়ে দুই কৃষক মারা গেছে শুনে ঘটনাস্থলে যায়। ময়না তদন্তের জন‍্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়েছে।

রূপসায় গোসল করতে গিয়ে শিশুর মৃত‍্যু

//খুলনা ব্যুরো//

খুলনার রূপসায় হোসেন আলী (৬) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। সে নৈহাটী ইউনিয়নের ইলাইপুর মোমিনবাগ এলাকার মনিরুল ইসলামের শিশুপুত্র।

গোসল করতে গিয়ে পানিতে ডুবে যায় পরে এলাকার লোক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে।

স্থানীয়রা জানায়, আজ (২০ আগস্ট) দুপুরে শিশুটি পুকুরে গোসল করতে যায়। এসময় পুকুরের স্যাতস্যাতে থাকায় সিঁড়িতে পা দিলে পিছলে পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা যাচ্ছে।

রূপসা থানা অফিসার ইনচার্জ মো: শাহিন জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় বজ্রপাতে এক মৎস্য চাষীর মৃত্যু

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ার মির্জাপুর গ্রামের সাধন  বিশ্বাস (৪৪)নামের  এক মৎস‍্য চাষী  ১৬ আগস্ট বুধবার দুপুরে বজ্রপাতে  মারা গেছে।

স্থানীয়  ইউপি সদস্য দেবাশীষ বিশ্বাস  জানান, ডুমুরিয়া সদর ইউনিয়নের মির্জাপুর  গ্রামের প্রহ্লাদ বিশ্বাসের ছোট  ছেলে সাধন বিশ্বাস প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল  সকাল ৮টার দিকে খাবার খেয়ে নিজেদের ঘের পরিচর্যার জন্য মির্জাপুর উত্তর  বিলে যায়।দুপুরে  বাড়ী ফিরতে দেরি  দেখে বড় ভাই  সুশান্ত বিশ্বাস তাকে মৎস্য ঘেরে খুঁজতে যায়। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর বিকাল প্রায়৫টার দিকে ঘেরের পাশে থাকা  একটি তেঁতুল গাছের নীচে পানি থেকে তাকে মৃত্যু  অবস্থায়  উদ্ধার  করা হয়।

এসময়  তার সমস্ত শরীরের চামড়া কালো বর্ণের দেখা যায়।  মৃত‍্যের প্রতিবেশি এক চাচাতো ভাই আশুতোষ বিশ্বাস জানান,বেলা ২টার দিকে আকাশ ঘন কালো মেঘ হয়ে  বজ্র বৃষ্টি  হচ্ছিল ।

ঘের থেকে তার মরাদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে আনা হয়। এসময় স্ত্রী সন্তান পরিবারের লোকজনের কান্নায় শোকের ছায়া নেমে আসে।

আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী আজ বিএসএমএমইউ তে মারা গেছেন

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক//

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ড পাওয়া দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী মারা গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আজ সোমবার রাত ৮ টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

বিএসএমএমইউর হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক এস এম মোস্তফা জামান সাঈদীর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ছেলে মাসুদ সাঈদী আজ রাতে বলেন, তাঁর বাবা সকালের দিকে ভালো ছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করে স্বাস্থ্যের অবনতি হয় এবং রাত ৮ টা ৪০ মিনিট মারা যান।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হলে গতকাল রোববার বিকেলে কারাগার থেকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজধানীর বিএসএমএমইউয়ে নেওয়া হয়।

কাশিমপুর কারা কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড পেয়ে দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-১-এ বন্দী ছিলেন জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী। সেখানে থাকা অবস্থায় গতকাল রোববার বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি বুকের ব্যথায় অসুস্থ হয়ে পড়েন।

মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের আদেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ২০১০ সালের ২৯ জুন ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হন সাঈদী। পরে ২ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

বাগেরহাটের শরণখোলায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা

//বিশেষ প্রতিনিধি//

বাগেরহাটের শরণখোলায় সন্ধ্যায় ঘরে ঢুকে একই সঙ্গে মা ও মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের উত্তর রাজাপুর গ্রামে।

নিহত পাপিয়া বেগম (৩৫) ও তার মেয়ে সাওদা জেমীকে (৫) ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। ঘটনাস্থলেই মারা যায় মেয়েটি। গুরুতর অবস্থায় স্বজনরা মা পাপিয়াকে উদ্ধার করে রাত ৮টার দিকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পুলিশ রাত ৯টার দিকে মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করেছে। তবে কি কারণে এবং কে বার কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ।

স্থানীয় গ্রাম পুলিশ স্বপন কুমার বালী জানান, খবর পেয়ে পাপিয়া বেগমকে তার ঘর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় বাড়ির কিছু দূরে পড়ে থাকা অবস্থায় মেয়ে সাওদা জেমীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশকে জানানো হয়।

গ্রাম পুলিশ স্বপন ঢালী জানান, পাপিয়ার স্বামী আবু জাফর হাওলাদার কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন। তার ছেলে জিহাদ (১৫) পিরোজপুরের মঠবাড়িয়াতে একটি দোকানে কাজ করে। মেয়েকে নিয়ে পাপিয়া বাড়িতে থাকতেন। কি কারণে এই ঘটনা ঘটেছে তা বোঝা যাচ্ছে না।

রায়েন্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজমল হোসেন মুক্তা জানান, তার ইউনিয়নের ১নম্বর উত্তর রাজাপুর ওয়ার্ডে মা-মেয়ের জোড়া হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে। পারিবারিক কারণে এটি ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

শরণখোলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশফাক হোসেন জানান, পাপিয়া বেগমকে হাসপাতালে আনার আগেই মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম পাওয়া গেছে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকরাম হোসেন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বলেন, মা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভেড়ামারায় সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক নিহত হবার পর চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে হানিফ – ইনুর লোকজন- নির্বাচনে প্রার্থীতা নিয়ে চাপ হতেপারে ইনুর

//দৈনিক বিশ্ব ডেস্ক নিউজ//

রাজনৈতিকভাবে নানা কারণে আলোচিত কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ ও জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বাড়ি এ উপজেলায়। ১৪ দলীয় জোটের শরিক হলেও এই দুদল এখন চরম দ্বন্দ্ব-সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে।

গত ৫ বছরে জাসদ নেতাকর্মীদের হাতে আওয়ামী লীগের দুজন নেতা খুন হয়েছেন। আহত হয়েছেন অনেকে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুদলের মধ্যে বেশ কয়েকবার সংঘর্ষ হয়েছে। সর্বশেষ জাসদের যুবসংগঠন যুবজোট নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত হন স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা আহ্বায়ক সঞ্জয় কুমার প্রামাণিক।

২ আগস্ট তাকে কোপানো হয়। বুধবার তিনি ঢাকায় মারা যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভেড়ামারা এখন উত্তপ্ত। ক্ষুব্ধ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা জাসদ সমর্থিত কয়েকজনের বাড়িঘর ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেন।

আধিপত্য বিস্তার নিয়ে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে উপজেলার চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমানকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যা করে জাসদ নেতাকর্মীরা। ওই ঘটনায় জাসদের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলিম স্বপন ও তার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপনসহ দলটির নেতাকর্মীদের আসামি করে মামলা হয়।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর জাসদ ও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ঐক্যে ফাটল ধরে। এক দল অন্য দলের বিরুদ্ধে মিছিল-সমাবেশ করে। হত্যাকাণ্ডের জের ধরে আওয়ামী লীগের লোকজন জাসদ নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা ও লুটপাট চালায়।

এছাড়া উপজেলা, পৌরসভা ও ইউপি নির্বাচনে জাসদের ভরাডুবির কারণে দ্বন্দ্বে আলাদা মাত্রা যোগ হয়েছে। স্থানীয় সরকারের তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-জাসদ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। সংঘর্ষ হয় অনেকবার। মামলা হয়েছে একাধিক।

অপরদিকে ভেড়ামারার পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলেন জাসদ নেতা আব্দুস সালাম। গত বছরের ১১ মে সন্ধ্যায় আল্লারদরগা এলাকায় আব্দুস সালামকে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এতে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি রেজাউল হক চৌধুরীর পরিবারের ৬ জনসহ ২১ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা হয়।

এসব ঘটনায় কুষ্টিয়া-২ আসানের বর্তমান সংসদ-সদস্য হাসানুল হক ইনুকে বেকায়দায় ফেলেছে। আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পেতে তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের চরম বিরোধিতার মুখে পড়তে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। কারণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অনেক অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।

তাদের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী-সমর্থকদের ভোটে ইনু এমপি নির্বাচিত হলেও তাদের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক রাখেন না। উলটো তার দলের নেতাকর্মীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম, হত্যা, নির্যাতন চালাচ্ছে।

মিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কামারুল আরেফিন বলেন, তিনটা নির্বাচনে ইনু সাহেবের পক্ষে মাঠে নেমে কাজ করেছি। এমপি হয়ে উনি (ইনু) আমাদের কথা ভুলে যান। উলটো আমাদের ওপর প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করেন। এবার নির্বাচনে নেতাকর্মীরা ভোট দিলেও সাধারণ মানুষ তাকে ভোট দেবেন বলে মনে হয় না।

উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামীমুল হক বলেন, ‘জাসদ নেতাকর্মীরা এখানে অস্ত্রের রাজত্ব কায়েম করেছে। তারা বারবার আমাদের দলের নেতাদের ওপর হামলা করছে, মামলা দিচ্ছে। এতে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ক্ষুব্ধ।’

২০০৮ সালের আগের প্রায় সব সংসদ নির্বাচনেই মশাল নিয়ে পরাজিত হন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। এরপর মহাজোটের প্রার্থী হিসাবে টানা তিনবার কুষ্টিয়া-২ আসন থেকে সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। জোটের স্বার্থে ইনুকে আসনটি ছেড়ে দিয়ে ২০০৮ সালের পর তিনবারই কুষ্টিয়া-৩ সদর আসনে নির্বাচন করেন মাহাবুবউল আলম হানিফ।

এ সম্পর্কে ভেড়ামারা উপজেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আনসার আলী বলেন, ‘কয়েকটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনার সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত কারণে এসব ঘটতে পারে। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জাসদের সম্পর্ক আগের থেকে ভালো।’

জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক আবদুল আলিম স্বপন বলেন, ‘ভেড়ামারায় যত ঘটনা ঘটেছে, তা স্থানীয় ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত। এমনকি পাড়া-মহল্লার বিরোধে মারামারি-খুন হয়। এতে রাজনৈতিক কোনো বিষয় থাকে না। যদিও আওয়ামী লীগের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা কুচক্রী মহল এটাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করে।’

এ বিষয়ে জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু এমপি বলেন, ‘২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা বিএনপির ধানের শীষে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই অংশটা (আওয়ামী লীগ নেতা) সব সময় এসব মারামারির পেছনে ইন্ধন জোগায়। যে কোনো আঞ্চলিক মারামারি, পারিবারিক শত্রুতা বা গোষ্ঠীগত শত্রুতাকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করে।

স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতার শেষকৃত্য সম্পন্ন : ভেড়ামারা প্রতিনিধি জানান, যুবজোট নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা সঞ্জয় প্রামাণিকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্থানীয় মহাশ্মশানে সমাধি স্থাপনের মাধ্যমে তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

এর আগে বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকা থেকে সঞ্জয়ের লাশ ভেড়ামারা শহরে গোডাউনমোড় এলাকায় বাড়িতে পৌঁছায়। রাতেই লাশ দেখতে যান আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি সঞ্জয়ের বাবা দুলাল প্রামাণিককে সান্ত্বনা দেন। এ সময় তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের সংঘাতে না জড়িয়ে শান্ত থাকার আহ্বান জানান।

আর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মানব চাকী জানিয়েছেন, সঞ্জয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। জড়িতদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশ অব্যাহত থাকবে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

যুবজোট নেতা শোভন বহিষ্কার : সঞ্জয় প্রামাণিক নিহত হওয়ার ঘটনায় কুষ্টিয়া জেলা যুব জোটের ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান শোভনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক শাহজামাল পিন্টু স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শোভনকে অব্যাহতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

Daily World News

অনাস্থার জবাবি বক্তৃতার পর লোকসভায় বিরোধীশূন্য জয় হলো নরেন্দ্র মোদী সরকারের

অনাস্থার জবাবি বক্তৃতার পর লোকসভায় বিরোধীশূন্য জয় হলো নরেন্দ্র মোদী সরকারের

//আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক//

বিরোধীদের আনা অনাস্থা প্রস্তাবে বিরোধীশূন্য লোকসভায় ধ্বনিভোটে জয় হল নরেন্দ্র মোদী সরকারের। আর বৃহস্পতিবার সেই অনাস্থা বিতর্কের জবাবি বক্তৃতায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রচারের সুর বেঁধে দিলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। বস্তুত, মোদীর ২ ঘণ্টা ২০ মিনিটের বক্তৃতার বড় অংশ জুড়েই ছিল নিজের সরকারের ‘সাফল্যের’ দাবি এবং জওহরলাল নেহরু থেকে মনমোহন সিংহ পর্যন্ত কংগ্রেসের প্রধানমন্ত্রীদের জমানার ‘ব্যর্থতার’ প্রসঙ্গ। মোদীর বক্তৃতায় ১ ঘণ্টা ৩২ মিনিট পর্যন্ত অনাস্থা প্রস্তাবের মূল আলোচ্য মণিপুরের প্রসঙ্গ না ধৈর্যচ্যূত বিরোধীরা অধিবেশন থেকে ওয়াকআউট করেন। আর তার পরেই কার্যত বিরোধীশূন্য সভায় বিনা বাধায় মণিপুর-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা-পর্ব থেকে ইউপিএ জমানা পর্যন্ত উত্তর-পূর্বের প্রতি ‘কংগ্রেসের বঞ্চনা’ নিয়ে তাঁর বক্তব্য সভার কার্যবিবরণীতে নথিভুক্ত করান। দাবি করেন, শুধু মণিপুর কেন উত্তর-পূর্বাঞ্চল নিয়ে কিছু বলারই অধিকার নেই কংগ্রেসের।

‘ইন্ডিয়া’র দাবি ছিল, মণিপুর নিয়ে সংসদে যাতে প্রধানমন্ত্রী মুখ খোলেন, সেই উদ্দেশ্যেই অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়েছে। বস্তুত, গত ২০ জুলাই থেকে শুরু হওয়া বাদল অধিবেশনে বিরোধীদের বার বার দাবি সত্ত্বেও এক বারও মণিপুরের গোষ্ঠীহিংসা নিয়ে মুখ খোলেননি প্রধানমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার যখন তিনি মুখ খুললেন, প্রশ্ন তোলার জন্য সভায় ছিলেন না বিরোধীরা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ বলেছেন, পরিকল্পনা মাফিক বক্তৃতায় প্রথম দেড় ঘণ্টায় এক বারও মণিপুর প্রসঙ্গ না তুলে বিরোধীদের অধৈর্য করে তুলেছেন মোদী। তাঁর লক্ষ্য ছিল, পরবর্তী সময় কার্যত বিরোধীশূন্য পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করা। এবং সেই লক্ষ্যে তিনি সফল।

বক্তৃতায় গোড়াতেই আত্মবিশ্বাসী মোদী বলেছেন, ‘‘ভগবান চান এনডিএ ২০২৪ সালেও সরকার গঠন করুক ভারতে। তার জন্যই তিনি বিরোধীদের অনাস্থা প্রস্তাবের মধ্যে দিয়ে এই সুযোগ করে দিয়েছেন আমাদের।’’ আর সমাপ্তিপর্বে অনাস্থা প্রসঙ্গে বিরোধীদের কটাক্ষ করে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আপনাদের ধন্যবাদ। আমার একটা কথা অন্তত শুনেছেন। ২০১৮ সালে আমি আপনাদের বলেছিলাম ২০২৩-এ অনাস্থা আনার জন্য।’’ প্রসঙ্গত, প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের জুলাই মাসে সংসদের বাদল অধিবেশনেই মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছিল চন্দ্রবাবু নায়ডুর তেলুগু দেশম পার্টি (টিডিপি)। সেই প্রস্তাবকে সমর্থন জানিয়েছিল কংগ্রেস-সহ কয়েকটি বিজেপি-বিরোধী দল। বিজেপির সংখ্যাধিক্যের জোরে বিরোধীদের আনা প্রস্তাব খারিজ হয়ে গিয়েছিল।

২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জয়ের হ্যাটট্রিক করবে বলেও দাবি করেছেন মোদী। সেই সঙ্গে বিরোধীদের ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন ২০১৮ সালে ফের অনাস্থা প্রস্তাব আনার। বস্তুত বৃহস্পতির বিকেলে তাঁর বক্তৃতায় ছত্রে ছত্রে ছিল বিরোধীদের প্রতি শ্লেষ। কখনও ট্রেজারি বেঞ্চের উদ্দেশে বলেছেন, ‘‘আপনাদের একটা গোপন কথা বলি, ঈশ্বরের কাছে এক অদ্ভুত বর পেয়েছেন বিরোধীরা। ওঁরা যাঁদেরই খারাপ চেয়েছেন, তাদেরই ভাল হয়েছে।’’ কখনও আবার বিরোধী বেঞ্চের দিকে তাকিয়ে তাঁর খোঁচা, ‘‘বিশ্ব জুড়ে ভারতের ধন্য ধন্য হচ্ছে তাতে যাতে কারও ‘নজর’ না লেগে যায় তার ব্যবস্থা করেছেন বিরোধীরাই। বিরোধীরা কালো কাপড় পরে এসে ভারতের গায়ে কালো টিকা লাগিয়ে দিয়েছেন।’’

অনাস্থা বিতর্কে বিরোধীদের নানা ‘ক্ষমতার’ কথাও বলেন মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘ওঁদের এক অদ্ভুত চৌম্বকশক্তি আছে। ভারতের নামে দুনিয়ায় যে যেখানে যা-ই নেতিবাচক বলুন, তা ওঁরা সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বাস করে নেন। শুধু তা-ই নয়, সেই অভিযোগ যত ছোটই হোক না কেন, তার হয়ে প্রচারও চালান।’’ বিরোধীদের ‘ক্ষমতা’র কথা বলতে গিয়ে তিনটি উদাহরণও দেন তিনি— ১. প্রতিরক্ষা বাহিনীর জন্য হেলিকপ্টার বানাতো এইচএএল, সেই সংস্থা বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা করেছিল এই বিরোধীরা। সেই এইচএএল এখন আরও উন্নতি করে ফুলে ফেঁপে উঠেছে। ২. বিরোধীরা এলআইসির নামে খারাপ কথা বলেছিল। সেই এলআইসিও সঙ্কট কাটিয়ে উঠেছে। ৩. ২০১৮ সালে বিরোধীরা এনডিএ সরকার পড়ে যাবে বলেছিল। তার পর আরও বেশি ভোট পেয়ে এনডিএ সরকার আবার ক্ষমতায় এসেছে।

মণিপুরে মানা গান্ধীর ছবিতে!

নেহরু, ইন্দিরা, মনমোহনের জমানায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রতি ধারাবাহিক বঞ্চনা হয়েছে দাবি করে মোদী বৃহস্পতিবার তাঁর আমলের ‘উন্নয়নের খতিয়ান’ পেশ করেন। তার তা করতে গিয়ে অক্লেশে মনমোহন জমানায় কাজ শুরু হওয়া আগরতলা রেল প্রকল্পের পুরো কৃতিত্বও দাবি করেন মোদী। ইউপিএ সরকারের আমলে মণিপুরে ধারাবাহিক জঙ্গি হানার ঘটনা ঘটত এমনকী সরকারি দফতরে মহাত্মা গান্ধীর ছবির টাঙানো যেত না বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সমালোচনা করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর বুধবারের সেই মন্তব্যের— ‘‘মণিপুরে ভারতমাতাকে আপনারা হত্যা করেছেন।’’ মোদীর দাবি, ‘‘ওঁদের যা মনে আছে, সেটাই বলে ফেলেন। ওঁরা ভারত মাতাকে তিন টুকরো করেছেন।’’ এমনকি, ভারতকে ‘টুকড়ে টুকড়ে’ করার চক্রান্তকারীদের সঙ্গে বিরোধীরা হাত মিলিয়ে শিলিগুড়ির  ‘চিকেন নেক’ বিচ্ছিন্ন করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই ভারত থেকে আলাদা করতে চায় বলে দাবি করেন তিনি। যদিও কেন ৩ মে থেকে মণিপুরে হিংসা শুরু হলেও তিনি কেন সে রাজ্যে যাননি, তার ব্যাখ্যা দেননি মোদী।

উত্তর-পূর্বে ‘কংগ্রেসের অত্যাচার’

মোদীর দাবি ১৯৬৬ সালের ৫ মার্চ কেন্দ্রের কংগ্রেস সরকার মিজোরামে অসহায় মানুষের উপর বায়ুসেনার বিমান পাঠিয়ে বোমাবর্ষণ করিয়েছিল। যদিও ইতিহাস বলছে, সে সময় চিনের মদতেপুষ্ট মিজো বিদ্রোহীদের ঘাঁটির উপর হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী। ১৯৮৪ সালে পঞ্জাবের স্বর্ণমন্দিরে ঘাঁটি গড়া খলিস্তানী জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনার ‘অপারেশন ব্লু স্টার’কে বৃহস্পতিবার ‘অকাল তখতের উপর হামলা’ বলেছেন তিনি। ১৯৬২ সালে চিনা হামলার সময় প্রধানমন্ত্রী নেহরুর রেডিয়ো ভাষণকেও কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘নেহরু সে সময় তাঁদের (অসম-সহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নাগরিক) ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন। সমাজবাদী পার্টিকে খোঁচা দিয়ে মোদীর মন্তব্য, ‘‘রামমনোহর লোহিয়া বলেছিলেন নেহরু ইচ্ছা করেই উত্তর-পূর্ব ভারতের উন্নয়ন করছেন না।’’ এমনকি, ইন্দিরা গান্ধীর সময় বেআইনি ভাবে ভারত মহাসাগরের কচ্চাতিভু দ্বীপ শ্রীলঙ্কাকে দিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্বে শীর্ষ পাঁচে ভারত

অনাস্থা বিতর্কে মোদীর মন্তব্য, ‘‘কংগ্রেসের সময় ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বে ১১ কিংবা ১২ নম্বরে ছিল। আমাদের সরকার দেশকে বিশ্বে শীর্ষ পাঁচের তালিকায় টেনে তুলেছে, বললেন মোদী। ওঁরা হয়তো ভাবেন, এ সব এমনি এমনি হচ্ছে। যেমন ওঁরা নিজেদের শাসনকালে বসে থাকতেন, আর ভাবতেন সব নিজে থেকে হয়ে যাবে। কিন্তু আমরা যা করেছি, তা সম্ভব হয়েছে কঠোর শৃঙ্খলা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে।’’

Daily World News

শেখ হেলাল উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে কচুয়ায় ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্প

বাগেরহাটের কচুয়ার মোটরসাইকেলের ধাক্কায় কৃষক নিহত

//বাচ্চু দাস, কচুয়া, বাগেরহাট//

বাগেরহাটের কচুয়ার দেপাড়া-চিতলমারী সড়কের ফুলতলা নামক স্থানে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ইব্রাহিম শেখ(৫০)নামের এক কৃষক নিহত হয়েছেন।

গজালিয়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, শনিবার সন্ধ্যায় দেপাড়া থেকে চিতলমারীগামী একটি মোটরসাইকেল ধাক্কায় ইব্রাহিম গুরুত্বর আহত হয়। আহত অবস্থায় ইব্রাহিমকে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মোটরসাইকেল চালক শাকিল শেখ আলীপুর এলাকার শহিদুল শেখের ছেলে। তবে ঘটনার পর থেকে শাকিল আত্মগোপনে রয়েছেন।

নিহত ইব্রাহিম শেখ কচুয়া উপজেলার উদানখালী গ্রামের মৃত আহমদ আলী শেখের ছেলে।