বালিয়াডাঙ্গীতে ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিদ্যালয়ের ভিত্তিস্থাপন উদ্বোধনে এমপি দবিরুল

 

 ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে ৮০ লাখ টাকা ব্যায়ে দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের উর্দ্ধমূখী সম্প্রসারণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ মে) দুপুর ১২ টার সময় ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব দবিরুল ইসলাম উপজেলার চাড়োল ইউনিয়নের দোগাছী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন কাজের শুভ উদ্বোধন করেন। ভিত্তি প্রস্তর ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, চাড়োল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দিলিপ কুমার চ্যাটার্জীর , উপজেলা চেয়ারম্যান আলী আসলাম জুয়েল, জেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাজহারুল ইসলাম সুজন, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম, জেলা পরিষদ সদস্য মইনুল হক, দোগাছি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান, উপজেলা আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মমিনুল ইসলাম ভাষানী প্রমুখ ।

// মাহাবুব আলম, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//

 

 

কুমিল্লায় ২৯ কেজি গাঁজা, ১ টি প্রাইভেটকারসহ ৩ জন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

 

কুমিল্লায় ২৯ কেজি গাঁজা এন এর একটি বড় গ্যাং আটক হয়েছে। সারাদেশে মাদকদ্রব্য চোরাচালানের যে ভয়াবহতা লক্ষ করা যাচ্ছে তাতে মনে হয় আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকই গিলে খাবে। প্রতিদিনই দেশের কোথাও না কোথাও মাদকদ্রব্যসহ মাদক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের কাছে গ্রেফতার হচ্ছে কিন্তু মনে হচ্ছে মাদক ব্যবসায়ীরা যেন চক্রাকারে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আজও কুমিল্লা জেলা পুলিশের একটি বিশেষ টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পেয়ে ব্রাহ্মণপাড়া থানাধীন বিভিন্ন জায়গায় ৩ টি বিশেষ পরিচালনা করে-

১. ১ টি পুরাতন সাদা প্রাইভেটকারসহ পলাতক আসামি জাকির হোসেন/বাইট্টা জাকির(৪৮) ও ঢাকা মেট্রো- খ-১১-৪৩৬৩ এর ড্রাইভার ও অজ্ঞাতনামা আরো ২ জনের ফেলে যাওয়া ২৫ কেজি গাঁজা,

২. মোঃ বশির(৪৮) ও মোঃ সোহেল (১৯) -এর নিকট থেকে ২ কেজি গাঁজা এবং

৩. আব্দুল হক সাগর(৩৫) এর নিকট হতে ২ কেজি গাঁজাসহ গ্রেফতার করেন।

উক্ত অভিযান পরিচালনা করে সর্বমোট ২৯ কেজি গাঁজাসহ ৩ জনকে গ্রেফতার করে ব্রাহ্মণ পাড়া থানায় মাদকদ্রব্য চোরাচালান ও নিয়ন্ত্রণ আইনের আওতায় পৃথকভাবে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে শুধু পুলিশ প্রশাসনের উপর নির্ভর না করে তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলল হবে।মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করতে হবে আর তা হলে হয়তো মাদকদ্রব্য চোরাচালান ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।আর তা-না হলে এই ধরনের মাদকের চালান আসতেই থাকবে।

//নিজস্ব প্রতিবেদক//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী জমি দখল বানিজ্য বহাল : গ্রামের লোকজন জিম্মি

রাণীশংকৈলে ৬৮ বছরের বৃদ্ধাকে হুইলচেয়ার দিলেন ইউএনও স্টিভ কবির

 

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলায় ২৭ মে বৃহস্পতিবার খিরু বেওয়া (৬৮) নামে এক হতদরিদ্র অসুস্থ বৃদ্ধাকে হুইল চেয়ার প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল সুলতান জুলকার নাইন স্টিভ কবির।

খিরু বেওয়া উপজেলার ধুলঝাড়ি গ্রামের মৃত ধনজয় কুমারের স্ত্রী।এদিন দুপুরে ইউএনও’র প্রতিনিধি হিসেবে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা জাহেরুল ইসলাম অসুস্থ বৃদ্ধার বাড়িতে হুইল চেয়ারটি পৌছে দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন রাণীশংকৈলের কৃতি সন্তান ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী হল বাকৃবি’র ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক নাদিম আল মুন্না,বঙ্গবন্ধু শেখ ফজিলাতুন নেসা মুজিব হল শাখা, বাকৃবি’র সাংগঠনিক সম্পাদক এ জেড এম বর্ণী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মি রুবন ও রাণীশংকৈল জাতীয় শিশু কিশোর পরিষদের ক্রীড়া সম্পাদক আল মাসুম পারভেজ।হুইল চেয়ার পেয়ে সুবিধাভোগী খিরু বেওয়া ও তার ছেলে ইউএনও স্টিভ কবিরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

 //মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈ,ল ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী জমি দখল বানিজ্য বহাল : গ্রামের লোকজন জিম্মি

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী জমি দখল বানিজ্য বহাল : গ্রামের লোকজন জিম্মি

 

জগন্নাথপুরের কাজল বাহিনী দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে সনাতন ধর্মের ও সরকারী জমি বিক্রয় করা সহ নানান অপকর্ম করে যাচ্ছেন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়া। তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ সহ নানা অভিযোগ। সরজমিনে জানা যায়, ক্ষমতাসিন দল আওয়ামী লীগের নাম ভাঙ্গিয়ে গ্রামের নিরিহ জনসাধারনদের অত্যাচার ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী সহ তার বিরুদ্ধে রয়েছে জমি দখলের বিস্তর অভিযোগ।

এ নিয়ে সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়ার বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সহ জগন্নাথপুর থানা ও আদালতে রয়েছে ৮ এর অধিক মামলা। তার হাত থেকে রক্ষা পায়নি পুলিশও। থানা পুলিশের উপর হামলা করে আহত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে পুলিশের কর্তব্যকাজে বাঁধা প্রদানের অভিযোগে পুলিশ বাদি হয়ে মামলা করায় জেলও কেটেছেন তিনি। তারপরও একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করছেন নিরিহ গ্রামবাসীকে।

জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের রমাপতিপুর গ্রামের মৃত মুক্তার মিয়ার ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য কাজল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালি বাহীনি। তার বাহীনি দিয়ে গ্রামের নিরিহ লোকজনের জমি দখল, সনাতন ধর্মের পরিত্যক্ত ভূমি ও সরকারী জমি নানা কৌশলে দখল করে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে এলাকায় রাম রাজত্ব কায়েম করে যাচ্ছেন। তার অনিয়ম দূর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলে মিথ্যা মামলা ও হামলার শিকার হতে হয় জনসাধারনকে। এ ব্যাপারে গ্রামের ভুক্তভোগি আবুল মনাফ, সৈয়দ মিয়া, ছোরাব উল্লাহ, নাসির মিয়া, আনছার মিয়া, ফজলু মিয়া, হারুন মিয়া, আব্দুল মমিন, ফারুক মিয়া সহ শতাধিক লোকজন জানান, মোজাহিদপুর ও চৌকি মৌজার সরকারী জায়গা বিক্রয় করে টাকা আত্মসাৎ করেন।

গ্রামের লোকদের বিভিন্ন প্রলোভন ও ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন লক্ষ লক্ষ টাকা। ভূমি খেকো কাজল মিয়ার নেতৃত্বে হাতের লেখা স্টাম্প করে প্রতারনার মাধ্যমে ভূমিগুলো বিক্রয় করেছেন। এমনকি গ্রামের বায়তুন নুর জামে মসজিদ কমিটি ভেঙ্গে নিজে একাই দায়িত্ব নিয়ে কোন রকম হিসাব নিকাশ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে পকেটভারি করে যাচ্ছেন। যার কারনে দীর্ঘ ৫মাস ধরে মসজিদের ইমাম ও মোয়াজ্জিনের বেতন বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন তারা।

তার নিজস্ব বাহিনি দিয়ে বার বার হামলা চালিয়ে আতঙ্কে পরিনত করেছেন নিরিহ গ্রামবাসীকে। বর্তমানে কাজল বাহিনির ভয়ে গ্রামের লোকজন গ্রামের মসজিদে নামাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তার ভয়ে গ্রামবাসী গত ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন জগন্নাথপুর থানার এসআই সাফায়েত ও এসআই শামিম সহ একদল পুলিশি পাহারায়। গ্রামের রাস্তা ঘাটে চলা ফেরায় প্রতিবন্ধকতা সহ পার্শবতি শিবগঞ্জ বাজারেও আসতে পারছেন না গ্রামে নিরিহ লোকজন। বার বার অপরাধ করেও ছাড় পেয়ে যাচ্ছেন অদৃশ্য খুটির জোড়ে। এ নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের মধ্যে মিশ্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

কাজল ও তার বাহিনির হাত থেকে রক্ষা পাননি গ্রামের অসহায় মহিলাও। বার বার আক্রমের শিকার হলেও গ্রামের লোকজন তার বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না। সরকারী জায়গা থেকে মাটি উত্তোলন করে বিক্রি করলে গ্রামবাসী বাঁধা দেন এতে হামলার শিকার হন গ্রামের নিরিহ লোকজন। রমাপতিপুর গ্রামের সংযোগ সড়কের মুখে কাজল মিয়া তার নিজস্ব লোকের কাছে সরকারী জমি বিক্রয় করে গ্রামবাসীর চলাচলের রাস্তায় বাঁধার সৃষ্টি করেন। এ নিয়ে এলাকার গন্যমান্য লোকজন বার বার শালিসির চেষ্টা করলেও সুযোগ দিচ্ছেনা এই ইউপি সদস্য। এ দিকে সম্প্রতি গ্রামবাসী ও কাজল বাহীনির মধ্যে সংর্ঘষে ঘটনা ঘটে এতে উভয় পক্ষের প্রায় ২০জন আহত হন।

এ সময় কাজল মিয়ার লোকজন কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়। এ ব্যাপারে ভোক্তভোগী জনসাধারন কাজল মিয়া ও তার লোকদের হাত থেকে রক্ষা পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরিকল্পনামন্ত্রী সহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের সু-দৃষ্টি কামনা করেন। অভিযুক্ত কাজল মিয়ার সাথে মুঠোফোনের ৩টি নাম্বারে ০১৭১১-০১৭৮৫-০১৩১….নিউজ লেখার আগ মর্হূতে বার বার যোগাযোগ করা হলে মুঠোফোনটি বন্ধ থাকায় আলাপ করা সম্ভব হয় নাই এমনকি কাজলের ওয়াটসআপ নাম্বারে যোগাযোগ করলে ফোন রিসিভ করেন নাই। কাজলের লোকজনের সাথে আলাপ করার চেষ্টা করা হলে তারা মন্তব্য করতে নারাজ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান শাহান আহমদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এই গ্রামের বাসিন্দা আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবকে নিয়ে বারবার চেষ্টা করেছি। কিন্তু উভয় পক্ষের লোকজনের সম্মতি না থাকায় সমাধান করতে পারি নাই। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যারম্যান হাজী মখলিছ মিয়ার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রমাপতিপুরের দুই পক্ষের লোকজনের সমস্যার জন্য আমি সহ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে বার বার সমাধান করার চেষ্টা করেছি।

কিন্তু কোন পক্ষেই আমাদের বিচারের তারিখ দেয় নাই। আমাাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাহেব ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ আরো অনেকেই বহু চেষ্টা করে সমাধান করতে পারেন নাই। সহকারী পুলিশ সুপার জগন্নাথপুর (সার্কেল) কামরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অভিযোগ উভয় পক্ষেই দিয়েছে।

অভিযোগের আলোকে আইনআনুক ব্যবস্থা গ্রহন করতেছি। আসামী যাকে পাব থাকেই ধরবো আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

//মোঃ রনি মিয়া, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন।। স্বপ্ন নয় বাস্তব।। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

 

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ‘প্রত্যাখ্যান’ করল টাঙ্গাইলের শিক্ষার্থীরা

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি ফের বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে ‘প্রত্যাখ্যান’ করে টাঙ্গাইলে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আয়োজনে পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে তারা।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাখ্যান করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানোর পেছনে করোনা পরিস্থিতি ও টিকার অপর্যাপ্ততাকে দায়ী করেছে সরকার। অথচ এমন পরিস্থিতিতে কলকারখানা, অফিস, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, এমনকি গণপরিবহন কোনোকিছুই থেমে নেই। শুধু এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ আছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে অবিলম্বে ১ জুন থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ার দাবি জানান তারা। এছাড়া বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার কারণে বর্তমানে শিক্ষার্থীদের পরিস্থিতি প্রকৃতি ক্লাসের মাধ্যমে তুলে ধরেন তারা। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষামন্ত্রীবরাবর স্মারক লিপি প্রদান করা হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থী রিসা হায়দারের নেতৃত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন- নাফিস আরা রাফি, সানজিদা ইসলাম মীম, ইভানা জামান খান ঐশী, ফাতেমা রহমান বিথি, মো. ফাহাদুল ইসলাম প্রমুখ।

//মোঃ আল-আমিন শেখ, টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন।। স্বপ্ন নয় বাস্তব।। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

 

মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন।। স্বপ্ন নয় বাস্তব।। প্রধানমন্ত্রীর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন

 

মধুখালী টু মাগুরা রেল লাইন, মাগুরা শহর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিস্থাপন হয়েছে। আজ ২৭ মে বৃহস্পতিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাগুরায় সম্প্রসারিত নতুন ব্রডগেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন।

প্রায় ১ হাজার ২০২ কোটি ৪৯ লাখ ৩৫ হাজার টাকার এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে, বাংলাদেশ রেলওয়ের মধুখালী হতে কামারখালী হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত প্রায় ১৯ দশমিক ৯০ কিলোমিটার মেইন লাইন নির্মাণ, কামারখালী ও মাগুরা স্টেশন ইয়ার্ডে ৪ দশমিক ৯ কিলোমিটার লুপ লাইন নির্মাণ এবং কামারখালী ও মাগুরার উভয় প্রান্তে দুটি নতুন স্টেশন নির্মাণ।

এছাড়া এ রেলপথে ছোট-বড় মোট ৩০টি সেতু নির্মাণ কাজ রয়েছে এই প্রকল্পের মধ্যে। বেলা পৌনে ১২ টায় গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং অপর প্রান্ত মাগুরায় সদর উপজেলার রামনগর হাইস্কুল মাঠে সরকারের রেলওয়ে মন্ত্রী মো: নূরুল ইসলাম সুজন ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত হন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুজ্জামান শিখর, মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য বিরেন শিকদার, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মোহম্মদ ইসমাইল হোসেন, মাগুরা জেলা প্রশাসক ডক্টর আশরাফুল আলম, পুলিশ সুপার জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পঙ্কজ কুন্ডু, মাগুরা পৌর মেয়র খুরশীদ হায়দার টুটুল, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু নাসির বাবলু প্রমুখ।

বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মধুখালী থেকে কামারখালি হয়ে মাগুরা শহর পর্যন্ত নতুন রেললাইন নির্মাণের ফলে এই এলাকার মানুষের অনেক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি পাবে। মাগুরায় রেললাইন ছিলো না। আমরাই মাগুরায় রেল লাইন দিচ্ছি। রেল পণ্য পরিবহনে বিশেষ ভূমিকা রাখবে” । বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি জেলাকে রেল নেটওয়ার্কের আওতায় আনার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

লক্ষ বাস্তবায়নে মাগুরা জেলাকে নতুন করে রেল সংযোগের আওতায় আনার মধ্যদিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চালের জনপথকে রেলসেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। মাগুরা জেলাকে পদ্মা সেতুর মাধ্যমে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সাথে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে ব্যবসা বাণিজ্য এবং দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়।

 

//সুজন মাহমুদ , মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

শুনতে অবাক লাগলেও এবার পাখির বাসার ‘ভাড়া’ পেলেন বাগান মালিকরা

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বৌদ্ধ পূর্ণিমায় এমপির পরিদর্শণ ও শুভেচ্ছা বিনিময়

 

মহান বৌদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বৌদ্ধ বিহারে দু,দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠান মালার আয়োজন করা হয়। অনুষ্টানের মধ্যে ছিল পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহন, সমবেত প্রার্থনা ও বুদ্ধ ধাতু প্রদক্ষিণ।

 

বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বাঁশখালীর শীলকুপ জ্ঞানোদয় বিহার, কেন্দ্রীয় শীলকুপ চৈত্য বিহার, দক্ষিণ জলদী বিবেকারাম বিহার, জলদী ধর্মরত্ন বিহার, সংঘরাজ অভয়তিষ্য পারিজাত আরাম বিহার, পুইছড়ি চন্দ্রজ্যোতি বৌদ্ধ বিহার ও জলদী ধর্মচক্র প্রগতি বিহার পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

 

বাঁশখালী বৌদ্ধ সমিতির সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক কল্যাণ বড়ুয়ার সার্বিক তদারকিতে এমপি মহোদয় সহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত উপরোক্ত বৌদ্ধ বিহার গুলোতে গিয়ে বৌদ্ধ ধর্মাম্বলবীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত ও শুভেচ্ছা বিনিময়।

 

পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় কালে বাঁশখালীর সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী এমপি মহোদয়ের সাথে ছিলেন বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী মোহাম্মদ গালিব সাদলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী,থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সফিউল কবির, পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ আজিজুল ইসলাম,উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ সমরঞ্জন বড়ুয়া, বাহারছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাজুল্ ইসলাম,আওয়ামীলীগ নেতা জিল্লুল করিম শরীফি, যুবলীগ নেতা মো: হামিদ উল্লাহ সহ আরো অনেকে। এ সময় প্রধান অতিথি সাংসদ আলহাজ্ব মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী বাঁশখালীর প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে অনুদান ঘোষনা করেন এবং যে কোন সময় পাশে থাকার অঙ্গীকার করেন।

 

তিনি বলেন বর্তমান সরকারের সকল ধর্মের সমান অধিকারে বিশ্বাসী। তাই আজ বুদ্ধ পুর্ণিমা দিবসে সারা দেশে নানা আয়োজনে শান্তি পুর্ণ পরিবেশে আয়োজন সম্পন্ন হচ্ছে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন এবং এ সময় তিনি সকল বৌদ্ধ বিহারের জন্য আর্থিক অনুদান ঘোষনা করেন।

 

এদিকে মহান বুদ্ধ পুর্ণিমা উপলক্ষে জলদী ধর্মরত্ন বিহারে ভদন্ত ধর্মপাল মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে, শীলকুপ জ্ঞানোদয় বিহারে বাঁশখালী বৌদ্ধ সমিতির সভাপতি ভদন্ত রাহুলপ্রিয় মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে , দক্ষিণ জলদী বিবেকারাম বিহারে ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে,বাঁশখালী কেন্দ্রীয় শীলকুপ চৈত্য বিহারে কর্মবীর দেবমিত্র মহাস্থবিরের সভাপতিত্বে, কাহারঘোনা মিনজীরিতলা সংঘরাজ অভয়তিষ্য পারিজাত আরাম বিহারে ভদন্ত মৈত্রীজিৎ স্থবিরের সভাপতিত্বে, পুইছড়ি চন্দ্রজ্যেতি বিহারে ভদন্ত ধর্মপাল স্থবিরের সভাপতিত্বে ও জলদী প্রগতি বৌদ্ধ বিহারে ভদন্ত করুনানন্দ স্থবিরের সভাপতিত্বে ধর্মালোচনা সভা অনুষ্টিত হয় ।

// আবদুল জববার, চট্টগ্রাম//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

একজন ইমাম কেন কাউকে হত্যা করে ৬ টুকরা করেন: শুধুই পরকীয়া

বাঁশখালীতে দরিদ্র পরিবারের ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

একজন ইমাম কেন কাউকে হত্যা করে ৬ টুকরা করেন: শুধুই পরকীয়া

 

একজন ইমাম কেন মানুষ হত্যার মত অপরাধ করবে, পরকীয়া তাকে বিভস করে ফেলেছিল, হিতাহিত জ্ঞান ছিলনা । ইমাম আবদুর রহমান ও আসমা আক্তার এখন দেশজুড়ে আলোচিত নাম। রাজধানী ঢাকার দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহমানের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন আজহার উদ্দিন নামের এক পোশাক শ্রমিকের স্ত্রী আসমা আক্তার (২৬)।

 

তারপর  দুজনে  সুপরিকল্পিতভাবে আজহারকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা মতো তাদের বিয়ে হলে তা আবদুর রহমানের জন্য হতো দ্বিতীয়, আর আসমার চতুর্থ সংসার

 

হত্যাকারী আবদুর রহমানের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ৩৩ বছর ধরে দক্ষিণখান এলাকার মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছেন।

জিজ্ঞাসাবাদে আবদুর রহমান র‌্যাবকে জানিয়েছেন, তিনি আসমাকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তার কথা রাখতে গিয়ে আজহারকে হত্যা করেছেন। তা না হলে আসমা নিজেই আজহারকে হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। নিজেও মরবেন এবং তাকেও (আবদুর রহমান) মারবেন।

 

অন্যদিকে আসমা র‌্যাবকে জানিয়েছেন, আজহারের আচার-আচরণ তার ভালো লাগছিল না। এ কারণে তিনি পরকীয়ায় জড়ান।

 

র‌্যাব সূত্র জানায়, গত রমজানের আগেই আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। প্রথমে ভাড়াটে খুনির কথা ভাবা হয়। পরে আবদুর রহমান নিজেই হত্যার দায়িত্ব নেন। সে অনুযায়ী গত ১৯ মে তিনি আজহারকে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরা করে সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। এরপর সব ধুয়েমুছে মসজিদে নামাজ পড়ান। ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি চার দিন নামাজ পড়ান। এ সময় নামাজে প্রতিবারই তিনি ভুল করেন।

 

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গণমাধ্যমকে বলেন, “আবদুর রহমান ও আসমার বিয়ে করার কথা ছিল। আজহারকে হত্যা করতে দু’জন পরিকল্পনা করেন বলে তারা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।”

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

বাঁশখালীতে দরিদ্র পরিবারের ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

 

বাঁশখালীতে দরিদ্র পরিবারের ২-৫ বছর বয়সী শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ

 

বাঁশখালীতে দরিদ্র পরিবারের  মাঝে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও  ত্রান মন্ত্রনালয়ের উদ্যোগে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরী মানবিক সহায়তা হিসেবে  অসহায়  দরিদ্র পরিবার ২-৫ বছরের শিশুদের মাঝে  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত শিশু খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার  (২৭ মে)  দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা পরিষদ কার্যালয় থেকে বাঁশখালীর বিভিন্ন  ইউনিয়ন ও পৌরসভার ১শত ৩০ পরিবারের সাধারণ শিশুদের মাঝে শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। জনপ্রতি প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১ কেজি চিনি, সুজি ১ কেজি, মাক্স দুধ ৫০০ গ্রাম, সাগু ৫০০ গ্রাম , বাদাম ২৫০  গ্রাম ,মশর ডাল ৫০০ গ্রাম, সয়াবিন তেল ৫০০ গ্রাম, খেজুর, চিনি গুড়া চাল ৫০০ গ্রাম।

 

বাঁশখালী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম মিয়াজীর সভাপতিত্বে এ শিশু খাদ্য বিতরন অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শাকেরা শরীফ, বাঁশখালী পৌরসভার ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর রোজিয়া সোলতানা,দৈনিক দেশ রুপান্তর ও আজাদী প্রতিনিধি কল্যান বড়ুয়া মুক্তা,দৈনিক সংগ্রাম ও দিনকাল প্রতিনিধি আব্দুল জাব্বার,দৈনিক মানবকন্ঠ ও দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ প্রতিনিধি মুহা. মিজান বিন তাহের প্রমূখ।

 

এ ব্যাপারে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইদুজ্জামান চৌধুরী  বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও  ত্রান মন্ত্রনালয়ের অধীনে জেলা প্রসাশন উদ্যোগে করোনা ভাইরাস সংক্রমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় জরুরী মানবিক সহায়তা হিসেবে  অসহায়  দরিদ্র পরিবার  ২-৫ বছরের শিশুদের মাঝে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রদত্ত  উপহার সামগ্রী হিসেবে বাঁশখালীর বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌরসভার অসহায় দরিদ্র পরিবারের ১৩০ জন শিশুদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

//মোঃ আবদুল জববার, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি//

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দিল কে এই হুইপ

 

একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দিল কে এই হুইপ

 

একজন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার যিনি জীবন বাজি রেখে দেশকে শত্রুমুক্ত করতে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন সামছুদ্দিন আহম্মদ। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে দেশকে শত্রুমুক্ত করেছিলেন। চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার এবং আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদ। একজন ৮০ বছর বয়সী সেই মুক্তিযোদ্ধাকে লুঙ্গি খুলে পেটানোর হুমকি দিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ার সংসদ সদস্য সামশুল হক চৌধুরী। শুধু তা-ই নয়, তাকে লুঙ্গি খুলে বাজারে ঘোরানোর হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। তার দোষ তিনি হুইপ, তার ভাই ও ছেলের অপকর্মের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন ।

 

এই বৃদ্ধ বয়সে এসে এভাবে অপমানিত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদ। পটিয়ায় সরেজমিনে গেলে হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘হুইপ ও তার পরিবারের লোকজন মানুষের ওপর জুলুম করে। এসব নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আমাকে তার রোষানলে পড়তে হয়েছে। আমার ওপর নেমে এসেছে খড়্গ। আগে হুমকি দিত হুইপের ভাই মোহাম্মদ আলী নবাব। এখন হুইপ নিজেই হুমকি দিচ্ছেন। খুব আতঙ্কের মধ্যে আছি। হুইপ কখন কী করে, তার কোনো ঠিক নেই।’

 

সামছুদ্দিন আহম্মদ বলেন, ‘আসলে হুইপ সামশুল হক আওয়ামী লীগের লোক নন। তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। চট্টগ্রামের রিয়াজউদ্দিন বাজারের ভেতর নালার ওপরে ছোট্ট একটি দোকান করতেন। সেখান থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নাম লিখিয়ে রাতারাতি পাল্টে গেছেন। বিশেষ করে সংসদ সদস্য এবং হুইপ নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতি করে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছেন। যেন রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি। তিনি আগে কী ছিলেন, আর এখন কী হয়েছেন, পটিয়ার মানুষ সবই জানে।’

বয়োজ্যেষ্ঠ এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘আসলে পটিয়ার অবস্থা অনেক খারাপ। অনেক ভয়াবহ। এর একমাত্র কারণ হুইপ। পটিয়ায় তার কথাই চূড়ান্ত। এর বাইরে কারো কোনো কথা টেকে না। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী থেকে শুরু করে জনগণ, সবাইকেই তার নির্দেশ মেনে চলতে হয়। কেউ ভয়ে তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস করে না। আমি তার বিভিন্ন অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে রোষানলে পড়েছি।’

 

হুইপ সামশুল হকের সঙ্গে একসময় সুসম্পর্ক ছিল উল্লেখ করে মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন বলেন, ‘সংসদ সদস্য হওয়ার পর ২০১২ সাল থেকে হঠাৎ বদলে যান সামশুল। আওয়ামী লীগের জন্য বছরের পর বছর যারা নিবেদিত হয়ে কাজ করেছেন, প্রতিপক্ষের মামলা ও হামলার শিকার হয়েছেন, সেই ত্যাগী নেতাকর্মীদের দল থেকে সরিয়ে দিতে শুরু করলেন তিনি। পক্ষান্তরে জাতীয় পার্টি ও বিএনপির লোকজনকে আওয়ামী লীগে ঢোকাতে লাগলেন। আওয়ামী লীগের নির্যাতিত নেতাদের সরিয়ে দলের বড় পদে বসাতে শুরু করেন অনুপ্রবেশকারীদের।

 

 

 এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে গেলে হুইপ আমার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে যান। আমাকে শাসাতে থাকেন। পরবর্তী সময়ে আর এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। আওয়ামী লীগের নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে আমি এই অবিচারের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখি। এর পর থেকেই হুইপ আমার পেছনে উঠেপড়ে লেগেছেন।’ তিনি বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের শাসন চলছে, আর পটিয়ায় চলছে জিয়ার সেই বিচ্ছু সামশুর দুঃশাসন।

 

তিনি আরো বলেন, ‘হুইপের ভাই মোহাম্মদ আলী নবাব আমাকে লুঙ্গি খুলে জনসমক্ষে ঘোরানোর হুমকি দিয়েছেন। জীবনের শেষ সময়ে এসে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হবে, তা কখনো ভাবতেই পারিনি। এখন আমি পুরো পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় আছি। নিজেও ঘর থেকে বের হই না।

 

আমি এসব বিষয় নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। ১৯৬২ সাল থেকে আমি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছি আমরা। জিয়া ও এরশাদ সরকারের সময় কত নির্মম নির্যাতনের কবলে পড়েছি। তার পরও দলের আদর্শ ছাড়িনি। এখন শেষ বয়সে এসে আবার হুইপের নির্যাতনের কবলে পড়েছি। আওয়ামী লীগের লোক হয়ে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই নির্যাতন সহ্য করে চলতে হচ্ছে।’

 

তিনি জানান, এখানকার বালু, মাটি সব হুইপের নিয়ন্ত্রণে। পটিয়া-বোয়ালখালী রোডকে কেন্দ্র করেই কোটি কোটি টাকা আয় করেন হুইপ। এই রোডের কাজে তিনি কাউকে সম্পৃক্ত হতে দেননি। সব নিজে নিয়ন্ত্রণ করছেন। এ ছাড়া হুইপের একটাই কথা, ‘চেয়ারম্যান বানালে আমি বানাব। মেম্বার বানালে আমি বানাব।’ এসব কথা বলে গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বড় বাণিজ্য করেছেন।

 

হুইপের অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, সামশুল হক চৌধুরীর ভাইও এখানকার সব কাজে হস্তক্ষেপ করেন। হুইপ অবৈধ সব কাজ-কর্ম তাঁর ভাইকে সামনে রেখে করান। পটিয়ায় মাটি কাটা থেকে শুরু করে সব কাজে হুইপের ভাই নবাবকে টাকা দিতে হয়। সরকারি-বেসরকারি সব কাজেই টাকা দিতে হয়।

 

টাকা না দিলে কাজ হয় না। এসব কারণে পটিয়ায় রাস্তাঘাটসহ সরকারি বিভিন্ন কাজ নির্ধারিত সময়ে হয় না। এক বছরের কাজ শেষ করতে দু-তিন বছরও লেগে যায়। এর কারণ হলো হুইপ ও তাঁর ভাইয়ের অত্যাচার। পটিয়ায় কোনো শান্তি নেই?। হুইপ সামশুল হক তাঁর ইচ্ছা অনুযায়ী পটিয়াকে চালাচ্ছেন। পুরো পটিয়াকে তাঁর পৈতৃক সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন।

 

হুইপের অতীত স্মরণ করে এই মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘গ্রামে তাঁদের শুধু একটা মাটির ঘর ছিল। সেই ঘরে তিনটা রুম ছিল। এ ঘরেই তাঁরা চার ভাই, মা-বাবা ও বোনদের নিয়ে থাকতেন। তাঁদের তেমন সহায়-সম্পদ ছিল না। পরবর্তী সময়ে এরশাদের আমলে রিয়াজউদ্দিন বাজারে নালার ওপরে ছোট একটা দোকান দেন তাঁরা।

 

এ দোকানই তাঁদের মূল উপার্জনের পথ ছিল। এর আয় দিয়ে কোনোমতে তাদের পরিবার চলত। এই মাটির ঘরে থেকেই সংসদ সদস্য হন হুইপ। সংসদ সদস্য হয়েই তাদের উত্থান। রাতারাতি ওপরে উঠতে শুরু করেন সামশুল হক। ২০১০-১১-এর পরে তারা পুরো পটিয়ার নিয়ন্ত্রণ নেন। নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে হয়ে যান হাজার কোটি টাকার মালিক। এসব নিয়ে কথা বলায় একে একে আমাকে দলের সব পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলাম। সেখান থেকেও আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

 

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা সামছুদ্দিন আহম্মদ ১৯৭২ সালে ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি। ১৯৭৫ সালের পর হন পটিয়া আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। ২০১০ সাল পর্যন্ত ছিলেন পটিয়া থানা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে। ২০১৩ সাল পর্যন্ত ছিলেন পটিয়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার।

 

এই মুক্তিযোদ্ধা আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমার বয়স শেষ। বুড়ো হয়ে গেছি। এখন আর কোনো কিছু চাওয়া-পাওয়ার নেই। এখন শুধু একটাই চাওয়া, আমি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। দেখা করে হুইপের অপকর্মগুলো নেত্রীকে জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, নেত্রী সব জানলে হুইপের অপকর্মের দাগ আওয়ামী লীগের গায়ে লাগতে দেবেন না। কারণ তিনি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন। এটা আমি বিশ্বাস করি। এ জন্যই আমি নেত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চাই। নেত্রীর কাছে একটাই চাওয়া, পটিয়া আওয়ামী লীগকে রাহুমুক্ত করেন। পটিয়া আওয়ামী লীগকে তৃণমূলের কর্মীদের আওয়ামী লীগ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করুন।’

।। অনলাইন ডেস্ক ।।

পড়ুন দৈনিক বিশ্ব …

পটুয়াখালীতে প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ৩ ও দুই নারীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ