কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর শ্বাস রোধ করে মারা হয় চিকিৎসক মৌমিতাকে

//দৈনিক বিশ্ব আন্তর্জাতিক ডেস্ক//

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার নারী চিকিৎসককে শ্বাস রোধ করে মারা হয়েছিল। তাঁর শরীরের বহিরাংশে ১৬টি ও ভেতর ৯টি ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। যৌন নির্যাতনেরও আলামত পাওয়া গেছে।

৯ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিট থেকে ৭টা ১০ মিনিটের মধ্যে এই ময়নাতদন্ত করা হয়। আরজি কর হাসপাতালের চিকিৎসকেরাই এই ময়নাতদন্ত করেন। আজ সোমবার ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন নিয়ে খবর প্রকাশ করে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নাক-মুখ বন্ধ করে শ্বাস রোধ করার কারণেই (ওই চিকিৎসকের) তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। হত্যার ধরনটি নরহত্যার পর্যায়ে পড়ে। ভুক্তভোগীর যৌনাঙ্গে কোনো কিছু জোর করে প্রবেশের আলামত পাওয়া গেছে। চিকিৎসকদের ধারণা, সম্ভবত তাঁকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছিল।

গাল, ঠোঁট, নাক, ঘাড়, বাহু, হাঁটু ও যৌনাঙ্গে বাহ্যিক ক্ষত পাওয়া গেছে। অভ্যন্তরীণ ক্ষত পাওয়া গেছে ঘাড়, মাথার ত্বক ও অন্যান্য অংশের পেশিতে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়, সব আঘাত মৃত্যুর আগের। এর অর্থ হলো, মারার আগে তাঁকে সীমাহীন কষ্ট দেওয়া হয়েছে।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন আরজি কর হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন ও টক্সিকোলজি বিভাগের অধ্যাপক অপূর্ব বিশ্বাস, একই হাসপাতালের একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক রিনা দাস এবং এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মলি ব্যানার্জি।

গত শুক্রবার উত্তর কলকাতার আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে এক নারী চিকিৎসকের মরদেহ পাওয়া যায়। দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন শেষে ওই দিন রাতে তিনি সেখানে বিশ্রাম নিতে গিয়েছিলেন। ৩১ বছর বয়সী ওই শিক্ষানবিশ নারী চিকিৎসকের মরদেহটি ছিল রক্তাক্ত, শরীরের নানা জায়গায় জখমের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় কলকাতার পাশাপাশি ভারতজুড়ে চিকিৎসকেরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এখনো আন্দোলন চলছে।

প্রাথমিকভাবে এই ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কলকাতা পুলিশকে। তাঁদের তদন্ত সমালোচনার মুখে পড়ে। এরপর তা ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (সিবিআই) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্বাস্থ্য শিক্ষায় ভারতের শিক্ষার্থীরা কেন বাংলাদেশে পড়তে আসে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বাংলাদেশে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসা ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, এখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের সুদীপ্ত মাইতি। তিনি বছর চারেক আগে বাংলাদেশে পড়তে যান। সে সময় যত ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ছিলেন, তার চেয়ে এখন সংখ্যাটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ধারণা, সংখ্যাটা বেশ কয়েক হাজার হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ভারতীয় সংসদে জানান, ৯ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ছেন। বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতে তাঁদের বড় অংশই গত জুলাইয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন।

সুদীপ্তর মতে, এই ভারতীয় শিক্ষার্থীর বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ যাওয়া-আসার সুবিধা।

সুদীপ্ত বলেন, ‘এই গন্ডগোলের সময়েও আমরা আখাউড়া থেকে আগরতলা হয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় চলে এলাম। সেখান থেকে আমার বাড়ি মেদিনীপুরে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগল। এটা অন্য দেশ হলে সম্ভব হতো না।’

অন্য দেশ বলতে রাশিয়া, ইউক্রেন, চীনসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কথা বুঝিয়েছেন সুদীপ্ত। এসব দেশেও পড়তে যান ভারতের শিক্ষার্থীরা। এসব দেশেও পড়ার খরচ অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু এসব দেশের ক্ষেত্রে এত দ্রুত যাওয়া-আসা করা যায় না।

সুদীপ্তর কথায়, অন্যত্র যাওয়া-আসার অসুবিধার পাশাপাশি ভাষার সমস্যাও রয়েছে। আর খাওয়াদাওয়ার সমস্যা তো আছেই। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা এখন এতই ভালো যে প্রায় সব জায়গা থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরে আসা যায়। সম্ভবত এ কারণে ভারত থেকে এত শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে পড়াশোনা প্রসঙ্গে কাশ্মীরের এক ছাত্রী, যিনি নিজেকে শুধু ‘কাজি’ নামে পরিচয় দিতে ইচ্ছুক, তিনি বললেন, ‘পড়ার সুযোগ ও খরচ—দুটিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী কাজি বললেন, ‘আমি ২০১৯ সালে ঢাকার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য বাংলাদেশে যাই। তখন কাশ্মীরে মাত্র দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। আর কোনো প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এখানে ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ সে সময় অনেকগুলো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। যে কারণে আমি ও আমার অনেক বন্ধু বাংলাদেশে পড়তে যাই।’

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তিতে সহায়তা করেন কলকাতার শিক্ষা পরামর্শদাতা কাজী মহম্মদ হাবিব। তাঁর সংস্থা চেকমেট ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাঁদের পড়তে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করাসহ কলেজ পর্যন্ত যেতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করে।

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। দেশটিতে দ্রুত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়েছে, বাড়ছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি। তবে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আগামী কয়েক বছর হয়তো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে এই দুই সংকট কাটলে আবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়বে। তখন দেশটিতে ভারতীয় শিক্ষার্থী যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।

বড় কারণ খরচ কম

বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে কম খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেন কাশ্মীরের ছাত্রী কাজি ও তাঁর আরেক বন্ধু।

কাজি বলেন, ভারতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়তে এক কোটি রুপির মতো খরচ পড়ে। আর আনুষঙ্গিক সব খরচ ধরলে ব্যয় কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সব মিলিয়ে মোটামুটিভাবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ রুপি সমমানের খরচে পড়াশোনা শেষ করা যায়।

সুদীপ্ত বলেন, ঢাকার মতো প্রধান শহরের বাইরে ছোট উপশহরে এই খরচ দাঁড়ায় ৩০-৩৫ লাখ রুপির সমপরিমাণ।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজে সুদীপ্তর চেয়ে এক বছরের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিত আনোয়ার। তাঁর ভাষ্য, মূলত খরচ কম বলেই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেখানে পড়াশোনার মান খারাপ।

একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী যদি বিদেশে মেডিকেল অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন, তাহলে দেশে ফিরে তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েশন এক্সামিনেশন (এফএমজিই) পাস করতে হয়। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে পড়ে এলে এ ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।

যেসব শিক্ষার্থী মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বা রাশিয়া থেকে পড়ে আসেন, তাঁদের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পড়ে আসা শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সংখ্যায় এফএমজিই পাস করেন বলে জানান বাসিত। তাঁর মতে, এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো উভয় দেশের পাঠ্যক্রম মূলত একই। ভারতে তাঁরা যে বই পড়েন, বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই বই পড়তে হয়। শিক্ষকদের অনেকে ভারতে পড়েছেন। তাঁরা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন। তাঁরা জানেন, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে এফএমজিই পরীক্ষায় বসতে হবে। ভারতে প্র্যাকটিস করার জন্য। ভারতের চাহিদা সম্পর্কে এই সচেতনতার কারণে এখানকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া পছন্দ করেন।

এফএমজিই পরীক্ষায় পাস করাটা অবশ্য খুব একটা সমস্যার নয় বলে মনে করেন বাসিত। মোট ১৯টি বিষয় নিয়ে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় ১৫০ নম্বর পেলেই চিকিৎসক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাসিত জানান, এখানে কোনো নেগেটিভ নম্বর দেওয়া হয় না। এটা অন্য সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো নয়, যেখানে যাঁরা বেশি নম্বর পাবেন, তাঁরাই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে পারবেন। এখানে ১৫০ নম্বর পেতে হবে। তাহলেই একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা রাখার প্রধান কারণ দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তাই এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়। আর একেকজন অনেকবার এফএমজিই দিতে পারেন। ফলে শেষ পর্যন্ত পাস করাটা খুব সমস্যা নয়।

তবে এ ক্ষেত্রে অন্য একটি সমস্যা রয়েছে বলে জানালেন বাসিত। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের যে অংশটা থিওরি (তত্ত্ব), সেই অংশটা প্রায় পুরোপুরি ভারতের পাঠ্যক্রমের মতো। তবে প্র্যাকটিক্যাল (ব্যবহারিক) অংশটায় কিছু সমস্যা আছে। এখানে হয়তো কিছুটা কম সময় দেওয়া হয়, যার ফলে বিষয়টা পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। তবে ভারতে ফিরে এফএমজিই দিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করতে শুরু করেন, তখন এই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।’

বাসিতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেন তাঁর অন্য বন্ধুরাও।

বেশি শিক্ষার্থী ভারতের

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৩ হাজার ১০০ আসন আছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ভারতের।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ১ হাজার ৬৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী সে দেশে মেডিকেলে পড়তে গেছেন। নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান থেকে গেছেন যথাক্রমে ২৬৪ জন, ১২ জন ও ২ জন। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফিলিস্তিন থেকে গেছেন একজন করে শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ২২০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে পাঠাতে পারে ভারত।

মহম্মদ হাবিব মনে করেন, বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের বিস্তারের ফলে সার্কভুক্ত দেশের যেমন লাভ হয়েছে, তেমনি লাভ হয়েছে বাংলাদেশেরও। সে দেশে এমবিবিএস পড়ার খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৫০ লাখ রুপির সমপরিমাণ। সুতরাং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা ভালো অঙ্কের অর্থ আয় করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মেডিকেলে ভারতীয় শিক্ষার্থী যখন বাড়ছে, তখন আবার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী ভারতে চিকিৎসার জন্য আসছেন। কেন এমনটা হচ্ছে, এটা একটা বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ হাবিব বলেন, এখানে একটা দিক হলো চিকিৎসা অধ্যয়ন, অপরটি হলো চিকিৎসাসেবা। বাংলাদেশে বিশেষত চিকিৎসাশিক্ষার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবায় তারা এখনো পিছিয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে আসেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি অন্য বিষয়েও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে দেখা যাচ্ছে। যেমন পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের কথা বলা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি ফটোগ্রাফি, ভিডিও, টেলিভিশন, ফিল্ম আর্টের চর্চা করে। এখানে ছয় মাসের কোর্স করে দেশে ফিরেছেন পশ্চিমবঙ্গের সুপর্ণা নাথ। তিনি বলেন, পাঠশালা একটি ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।

ভারতীয় শিক্ষার্থীসহ বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এসেছেন। তাঁরা আন্তরিক উষ্ণতা পেয়ে এসেছেন। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের জেরে তাঁদের যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। রাতের অন্ধকারে দেশে ফেরার জন্য তাঁদের অ্যাম্বুলেন্স করে বিমানবন্দরে ছুটতে হয়েছিল। পথে নানান মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়েছে। তবে তাঁরা এখন আশা করছেন, শিগগিরই বাংলাদেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। তাঁরা বাংলাদেশে গিয়ে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন।

Daily World News

প্রথম আলো

ডুমুরিয়ায় শিক্ষকদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতা মূলক সেমিনার

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

জীবন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য এই প্রতিপাদ‍্যকে সামনে রেখে খাদ‍্য মন্ত্রণালয় উদ্যোগে ও বাংলাদেশ  নিরাপদ খাদ‍্য কর্তপক্ষের আয়োজনে  ১৮ জুলাই  বৃহস্পতিবার  ডুমুরিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের নিয়ে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক সচেতনতা মূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা প্রশাসনিক ভবনে সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার  শেখ অহিদুল আলম,  বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ হাবিবুর রহমান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ হাবিবুর রহমান, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রহমান জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার মোকলেচুর রহমান।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন  উপজেলা নির্বাহি অফিসার মোহাম্মদ আল-আমিন। প্রধান শিক্ষক এস এম রবিউল ইসলাম এর পরিচালনায়  আরো বক্তব‍্য দেন ইন্সট্রাক্টর মো: মনির হোসেন, শিক্ষক আব্দুস ছালাম, শহিদুল ইসলাম প্রমুখ। সেমিনারে উপজেলা প্রাথমিক বিদ‍্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকগন উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রামে কিডনি চুরির অভিযোগে চিকিৎসক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে মামলা

//আবুল হাসেম, চট্টগ্রাম ব্যুরো//

কিডনি চুরির অভিযোগে চিকিৎসক পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। অভিযুক্তরা হলেন- আন্তর্জাতিক চক্ষু বিশেষজ্ঞ ও চট্টগ্রাম আই ইনফার্মারি অ্যান্ড ট্রেনিং কমপ্লেক্সের (সিইআইটিসি) প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন, তার ছেলে ডা. রাজীব হোসেন ও স্ত্রী খালেদা বেগম। রোববার (১৪ জুলাই) মো. আবু বক্কর নামে ভুক্তভোগি এক ব্যক্তি চট্টগ্রামের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত জাহান জিনিয়ার আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল হক হেনা বলেন, ভুক্তভোগী আবু বক্কর সরল বিশ্বাসে অভিযুক্ত ডা. রবিউল হোসেনকে সহযোগিতার জন্য সিঙ্গাপুর গিয়েছিলেন। সেখানে কৌশলে তার ডান কিডনি চুরি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১২ সালে ডা. রাজীব হোসেনের অনুরোধে তার বাবা ডা. রবিউল হোসেনের চিকিৎসার জন্য রোগীর অ্যাটেনডেন্টস হিসেবে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে যান অভিযোগকারী। ঐ বছরের ১০ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি অভিযুক্ত তিনজনের সঙ্গে সিঙ্গাপুরে অবস্থান করেন। এ সময় ডা. রাজীব হোসেন জানান তার বাবার অবস্থা ভালো নয়, তাকে সুস্থ করতে কিছু টিস্যু দিতে হবে। টিস্যু নিতে গেলে ছোট একটি অপারেশন করাতে হবে। ভুক্তভোগী সরল বিশ্বাসে অপারেশনের জন্য রাজি হন। ৩ এপ্রিল মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালেই অপারেশন সম্পন্ন হয়। ডা. রবিউল হোসেনের জীবন বাঁচানোর কৃতজ্ঞত স্বরূপ বাদীকে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু ২০১৭ সালের জানুয়ারি মাসে ভুক্তভোগী আবু বক্করকে শারীরিকভাবে অক্ষম দেখিয়ে সেই চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। ওই ঘটনার দীর্ঘদিন পর বাদী শরীরে অসুস্থতা বোধ করতে থাকেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ২১ মে চট্টগ্রামের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শারীরিক পরীক্ষায় জানা যায়, সার্জারির মাধ্যমে বাদীর ডান কিডনি নেওয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী মো. আবু বক্কর বলেন, চিকিৎসকের কাছ থেকে বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক আমি ডা. রবিউল হোসেন ও ডা. রাজীব হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করি। কিন্তু তারা এ বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হয়নি। পরে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রস্তাব দেওয়া হয়। কিন্তু গত ১৩ জুন কথা বলতে তাদের স্টাফ কোয়ার্টারে গেলে আমাকে গালিগালাজ করে এবং হুমকি দেয়।

মামলার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে অভিযুক্ত ডা. রাজীব হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী মো. আবু বক্করের অভিযোগ, সর্বশেষ ১৩ জুন অভিযুক্তরা চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টারে অবস্থান করছিলেন। এরপর থেকে পিতা-পুত্র দুইজনের মুঠোফোন তিনিও বন্ধ পাচ্ছেন।

Daily World News

ডুমুরিয়ায় ইউপি চেয়ারম‍্যান রবিউল ইসলাম হত‍্যার প্রতিবাদে বাজার কমিটির প্রতিবাদ সভা

পাকা পেঁপে খুা উপকারী কিন্তু এর সাথে কিকি খাবার খেলে বিপদ জেনে নিনৃ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

হজমের গোলমাল কমানো ও প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় পেঁপে। ত্বকের জেল্লা বাড়াতে পেঁপের জুড়ি নেই। পেঁপে শরীরকে টক্সিনমুক্ত করে। তবে কিছু খাবার পেঁপের সঙ্গে খেলে উপকার তো হবেই না, তা বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। দেখা যাক এ বিষয়ে কি পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।

পেঁপের মধ্যে রয়েছে ‘প্যাপেইন’ এবং চা, কফির মধ্যে ‘ক্যাফিন’। এই দু’টি উপাদান একসঙ্গে শরীরে নানা রকম জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। যাদের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য এই দুই খাবারের যোগ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। পেঁপে ও চা-কফি একসঙ্গে খেলে হজমের সমস্যা হতে পারে।

প্রোটিন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী। প্রোটিনের অভাবে নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিন্তু পেঁপের সঙ্গে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার একেবারেই খাবেন না। তাতে পেটের গোলমাল দেখা দিতে পারে। পাকা পেঁপের সঙ্গে মাংস, ডিম-এ ধরনের খাবার খাবেন না। এমনকি, একই দিনে এসব খাবার একসঙ্গে না খাওয়াই ভাল।

সাইট্রাস জাতীয় ফলের মধ্যে লেবু আমাদের প্রতিদিনের খাবারে থাকে। পেঁপের সঙ্গে ভুলেও লেবু খাবেন না। এই দু’টি ফল একসঙ্গে খেলে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা কমে যেতে পারে। পেটের নানা সমস্যা হতে পারে।

দই খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারি, তবে পেঁপের সঙ্গে একেবারেই নয়। শুধু দই নয়, দুগ্ধজাত যে কোনো খাবারই পেঁপের সঙ্গে খেতে নিষেধ করেছেন পুষ্টিবিদরা।

পেঁপের সঙ্গে যদি ক্রিম, চিজের মতো উচ্চমাত্রার ফ্যাট যুক্ত খাবার খান তাহলে হজমে সমস্যা হবে। পেট ভার, পেট ফাঁপা হতে পারে।

ডুমুরিয়ায় আবাসনে শিশু খাদ‍্য বিতরন

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ার উপজেলা  প্রশাসনের উদ‍্যেগে সাহস ও ভান্ডারপাডা ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্পে বসাবসরত পরিবারের মাঝে  ৭০ প্যাকেট শিশু খাদ্য ও ৫৬ বান্ডেল ঢেউটিন বিতরন করা হয়েছে।

১৪ জুন   শুক্রবার সকালে উপজেলা ভান্ডারপাড়া ও সাহস ইউনিয়নের আবাসনে শিশু খাদ্য ৭০ প্যাকেট বিতরন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আল আমিন, এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো: আশরাফ হোসেন, ইউপি চেয়ারম্যান গোপাল চন্দ্র দে, ইউপি সদস্য শেখ মাহাবুর রহমান,সাহস ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো: সিরাজ সরদার প্রমুখ।

এ ছাড়া বৃহস্পতিবার ৫৬ ব্যান্ডেল ঢেউটিন বিতরন করা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্রান পূর্নবাসন অফিস সুত্রে জানা গেছে ।

রূপসায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল পেল ২৫,৬২৯ জন

//এম মুরশীদ আলী//

আপনার শিশুকে “ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান” এই প্রতিপাদ্য সঙ্গে নিয়ে খুলনা জেলার রূপসায় গত ১ জুন সকাল ৮ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত শিশুদের বিনামূল্যে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়।

খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ শেখ সফিকুল ইসলাম রূপসা উপজেলার কয়েকটি কেন্দ্র পরিদর্শন এবং নিজ হাতে শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান।

রূপসায় ভিটামিন 'এ' ক্যাপসুল পেল ২৫,৬২৯ জন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মো. মাসুদ রানা জানান, সমগ্র রূপসায় যাদের বয়স ৬ মাস থেকে ১ বছর হয়েছে এমন শিশুর সংখ্যা- ৩৬৫৫ জন। তাদের ‘নীল’ রঙ্গের একটি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।

তাছাড়া ১ থেকে ৫ বছর এর মধ্যে শিশুর সংখ্যা- ২২৩১৮ জন। তাদের ‘লাল’ রঙ্গের একটি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। শিশুরা যাতে সহজে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেতে পারে তার জন্য উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ১টি স্থায়ী কেন্দ্র করা হয়েছে। তাছাড়া- প্রতিটি ইউনিয়ন পর্যায়ে ২৪ টি করে অস্থায়ি মোট- ১২০ টি (ইপিআই) কেন্দ্রের মাধ্যমে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে মোট- ২৫৬২৯ জন শিশুকে।

ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের উপকারিতা সম্পর্কে মেডিকেল অফিসার ডাঃ ফারজানা  বলেন, ভিটামিন ‘এ’ খাওয়ানোতে শিশুরা কয়েকটি রোগ থেকে মুক্ত থাকবে। যেমন- রাতকানা রোগ প্রতিরোধ, শিশুদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে ভিটামিন ‘এ’ গুরত্বপূর্ণ অনুপুষ্টি। তাই শিশুকে নিকটস্থ ইপিআই কেন্দ্রে নিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান।

রামপালে চক্ষুশিবিরে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশনের জন্য ৫০০ রোগী বাছাই 

জেনিভা প্রিয়ানা, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বরাবরের মত এ বছরও চোখের ছানি অপারেশন ও লেন্স সংযোজনের জন্যে ৫ শতাধিক রোগী বাছাই সম্পন্ন হয়েছে।

রামপাল-মোংলার রোগীসহ আশপাশের জেলা ও উপজেলার রোগীরা চোখ অপারেশন ও লেন্স সংযোজনের সুযোগ পাচ্ছেন। উপজেলার বড়দিয়া হাজী আরিফ মাদরাসা মাঠে শুক্রবার (১৭ মে) দিনব্যাপী ঢাকা মেগা সিটি লায়ন ক্লাব ও দৃষ্টি উন্নয়ন সংস্থা (ডাস) ঢাকা এবং লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের সহযোগীতায় এ কার্যক্রম চলেছে। ঢাকা লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা বিনামূল্যে চোখের চিকিৎসা ও ছানী অপারেশনের রোগী বাছাই করা হয়েছে। শুধুমাত্র বাছাইকৃত ছানি পড়া রোগীদের ঢাকা লায়ন্স চক্ষু হাসপাতালে লেন্স সংযোজনের মাধ্যমে অপারেশন করা হবে।

এ বিষয়ে লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানান, মানুষের সেবার মধ্যদিয়েই যেন আমার মৃত্যু হয় এবং এ কাজের মধ্যে দিয়ে মানুষের মাঝে বেচে থাকতে চাই।

উল্লেখ, মানব সেবার উদ্দেশ্যে ২০০৯ সাল থেকে লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ব্যতিক্রমী সেবার মধ্যদিয়ে ইতিমধ্যে মোংলা-রামপালের ৫ হাজার ৯০০ জন মানুষকে বিনামূল্যে অপারেশন করেছেন। ওই সময় প্রায় ৫০ হাজার রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ঔষধ প্রদান করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, ব্যারিস্টার জাকির হোসেন, ফকিরহাট উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. কামরুল ইসলাম গোরা। চক্ষু শিবির পরিচানায় ছিলেন খান আলী আজমসহ নেতৃবৃন্দ।

চরম গরমে তৃষ্ণা নিবারণে শিয়ালীতে পথচারীদের জন্য কোমল পানীয় বিতরণ

//তরুন কান্তি পাইক, নিজস্ব প্রতিবেদক//

খুলনা-৪ আসনের তৃতীয় বারের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম মূর্শেদীর পক্ষ থেকে রূপসার ঘাটভোগ ইউনিয়ন এর শিয়ালী বাজারে ঘাটভোগ ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইরান মোল্লার নেতৃত্বে ও এডভোকেট বিশ্বজিৎ তরফদারের পরিচালনায় পথচারীদের মাঝে কোমল পানীয় বিতরণ।

সারাদেশ জুড়ে চলমান তীব্র তাপদাহে জনজীবন বিপর্যয়ের মুখে। দেশে গড়ে প্রায় ৪২.০ তাপমাত্রা রয়েছে। তীব্র তাপদাহে মানুষের কাজকর্মে যেমন ব্যাঘাত হচ্ছে তেমনি থমকে যাচ্ছে দিনমজুর পেশার মানুষের জীবন।

এরই মধ্যে মানুষকে স্বস্তি দিতে নিজ উদ্যোগে যুবলীগ নেতা ইরান মোল্লার সহযোগিতা পথচারীদের মাঝে কোমল পানীয় বিতরণ এর কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসছে সাধারণ জনগণের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি নিয়ে।

তীব্র প্রবাহে তৃষ্ণার্ত পথচারী ও দিনমজুর মানুষের মাঝে ১লা মে শিয়ালী বাজার পথচারীদের মাঝে কোমল পানীয় বিতরণ করেন।

উক্ত পথচারীদের মাঝে কোমল পানীয় বিতরণ এর মাধ্যমে মো. ইরান মোল্লা, ৫নং ঘাটভোগ ইউনিয়ন বাসীকে জানান দিচ্ছেন যে, আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে নিজেকে ইউনিয়ন বাসীর কাছে তুলে ধরছেন।

ডুমুরিয়ায় তৃষ্ণার্তদের মানুষের মাঝে বিষ্কুট, খাবার স‍্যালাইন, শরবত বিতরন

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায়  ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড হেলথ কেয়ার সোসাইটির আয়োজনে   ১ মে বুধবার সকাল ১১টায় ডুমুরিয়া চৌরঙ্গী মোড়ে প্রচন্ড তাপহাহে তৃষ্ণার্ত ভ‍্যান চালক, শ্রমজীবি  পথচারী নারী পুরুষ ও শিশুদের  মাঝে খাবার  স্যালাইন, শরবত পানি, বিস্কুট  বিতরণ  করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা  মহিলা ভাইন্স চেয়ারম্যান শারমীনা পারভীন রুমা, সদর ইউপি চেয়ারম্যান গাজী হুমাউন কবির বুলু, সংগঠনের সভাপতি প্রভাষক মুফতি আলহাজ্ব আব্দুল কাইয়ুম জমাদ্দার,  সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কার মোল্লা, সহ সভাপতি  সিরাজুল ইসলাম,   কোষাধক্ষ্য জি এম নাজিম উদ্দিন, সমাজ সেবক ও ব‍্যবসায়ী শাাহাজান  জমাদ্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক শুকুর আলী, ইসলামাবাদ কলেজিয়েট স্কুলের প্রিন্সিপাল আরিফ বিল্লাহ, উপজেলা  চেয়ারম‍্যান প্রার্থী মুমিনুর রহমান নয়নসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।