নানা কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে বরগুনায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

‘শিক্ষকের কন্ঠস্বর, শিক্ষায় একটি নতুন সামাজিক অঙ্গীকার’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বরগুনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হলো বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বরগুনা জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় শনিবার সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি র‍্যালি বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর জেলা প্রশাসনের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। অতিরিক্ত জলা প্রশাসক( সার্বিক) শুভ্রা দাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম,  বিশেষ অতিথি ছিলেন বরগুনা পুলিশ সুপার মো: ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডা: প্রদীপ কুমার মণ্ডল, বরগুনা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো: মতিউর রহমান।

আলোচনা সভায় শিক্ষকবৃন্দ তাদের বক্তৃতায় বলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে প্রায় ৫ লাখ বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারী রয়েছেন। এ শিক্ষকরা অত্যন্ত মানবেতর  জীবনযাপন করছেন। বর্তমানে শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় শতকরা ৯৭ ভাগ পরিচালিত হয় বেসরকারি খাতে। মাধ্যমিক স্তরে একজন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকের বেতন স্কেল ১২ হাজার ৫০০ টাকা। এ শিক্ষকরা ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা আর ১ হাজার টাকা বাসা ভাড়া পান, যা দিয়ে বর্তমান সময়ে ব্যয় নির্বাহ একেবারেই অসম্ভব। চাকরি করতে গিয়ে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন অনেকে। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের চাকরি ক্ষেত্রেও কোনোরকম নিরাপত্তা নেই। চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করার পর অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা পেতে প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হয়। যার ফলশ্রুতিতে অনেক শিক্ষক-কর্মচারী অর্থাভাবে চিকিৎসা না করাতে পেরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করেন। শিক্ষকদের মানুষ গড়ার কারিগর বলা হলেও বিভিন্ন সময় সেই শিক্ষকরাই লাঞ্ছিত হচ্ছেন চরমভাবে।

প্রধান অতিথি বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম তার বক্তৃতায় বলেন, সম্মানিত শিক্ষকদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক। তাদের এই দাবিগুলো জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরা হবে।

রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফ্রিডম ফাউন্ডেশন স্টেম এন্ড আইসিটি স্কিলস ফর দ্যা গার্লস অফ কোস্টাল এরিয়া (STEM & ICT Skills for the Girls of Coastal Area-SISGCA) শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় খুলনার রূপসা উপজেলার কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট স্কুল ও নৈহাটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের মেয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স, বিজ্ঞান ও গণিতের উপর দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করে প্রতিষ্ঠানটি। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাস্তবিক সমস্যা সমাধানে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানকে কাজে লাগানোর মনোভাব সৃষ্টি ও প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রের জন্য দক্ষ হয়ে গড়ে ওঠার উৎসাহ দিতে গত ৩ অক্টোবর দিনব্যাপী শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞান ভিত্তিক প্রোজেক্ট প্রদর্শনী, স্ক্র্যাচ প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, রোবটিক্স প্রতিযোগিতা, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, মেয়ে শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল সাক্ষরতা, জ্ঞান, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, প্রশিক্ষণ, সচেতনতা তৈরীতে বিভিন্ন কার্যক্রম কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণপূর্বক ডিসপ্লে পরিদর্শন অনুষ্ঠিত হয়।

রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

উল্লেখিত প্রকল্পের নির্ধারিত দুটি স্কুল ছাড়াও রূপসা উপজেলার আরো ৮টি স্কুল এই ফেস্টে অংশগ্রহণ করে। যথাক্রমে- আজগড়া উচ্চ বিদ্যালয়, নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজদিয়া সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাজদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বেলফুলিয়া ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, শিয়ালি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, নৈহাটি গার্লস স্কুল ও কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট গার্লস স্কুল। এরপর অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ
রূপসায় শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন- উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনুর জাহান।

সভায় অলিম্পিয়াডের সভাপতি ও বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক মুনির হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন- শাখিরা আফরোজ দিপা। এ সময়  বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন- ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কম্পিউটার সার্ভিসেস লিমিটেড মখলুক সাবির আহমেদ, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেকাট্রনিক্স বিভাগের প্রধান ডঃ মো. হেলাল আল নাহিয়ান, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ মো. গালিব, সিনিয়র ডিরেক্টর কনা সফটওয়্যার ল্যাব লিঃ জাহিদুল আমিন, এক্সিকিউটিড সদস্য বিডিওএমএন নাসির খান সৈকত, কমরেড রতন সেন কলেজিয়েট স্কুলের সাবেক সভাপতি এসএম রোমিও হোসেন পিয়াস প্রমূখ।

রূপসায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

“শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতিসহ সহকারী শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারন করতে হবে”। প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রানের দাবী আদায়ের লক্ষ্যে এক দফা একদাবীতে মানববন্ধন শেষে স্বারকলিপি প্রদান করা হয়। বৈষম্য নিরসনের প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ আয়োজনে গত ২ আক্টোবর বিকেলে উপজেলা পরিষদ সমূখে এ মানববন্ধ অনুষ্ঠিত হয়।

মানবন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন মো. আব্দুস সাত্তার। সভায় মো. রবিউল ইসলামের সভাপতিত্বে বক্তৃতা করেন- মো. মারুফ মোড়ল, শ্যামল দাস, লুৎফর রহমান, মো. তারিকুল ইসলাম চৌধুরী, শাবানা, রোজিনা খানম, আয়শা সিদ্দিক, মাহমুদা আক্তার প্রমূখ।

ডুমুরিয়ায় পদোন্নতিসহ সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারন এর দাবীতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতিসহ সহকারি শিক্ষকদের ১০ম গ্রেড এবং প্রধান শিক্ষকদের ৯ম গ্রেডে বেতন নির্ধারন এর দাবী আদায়ের লক্ষ্যে ২রা অক্টোবর  বুধবার বিকেলে ডুমুরিয়ায় বৈষম‍্য নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এর আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বরে স্মারকলিপি প্রদান ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

বৈষম‍্য নিরসনে প্রাথমিক শিক্ষক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ এর আয়োজনে মানববন্ধন কর্মসূচিতে শিক্ষক শফিকুল  আলমের পরিচালনায় বক্তব্য দেন সমন্বয়ক জাহাঙ্গীর আলম, মো: রাকিবুজ্জামান , মোঃ মনিরুল হক, মো: রবিউল ইসলাম, মোঃ জিন্নাত হোসেন, আব্দুল্লাহ আল কবির, সুনিল মন্ডল, ঝর্না খানম, মনিকা কুন্ডু, আমিনুল ইসলামসহ শিক্ষকবৃন্ধ।

সভায় শিক্ষকবৃন্দ এই বৈষম্য দুর করতে প্রধান উপদেষ্টার দৃষি আকর্ষন করে শিক্ষকদের পাশে থাকার উদাত্ত আহবান জানান সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমিন এর নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন।

ডুমুরিয়ায় মাধ্যমিক ও মাদ্রাসা শিক্ষক পরিবারের মানববন্ধন স্মারকলিপি প্রদান

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

বৈষম্য দূরীকরনে মাধ্যমিক স্তরের বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করন, জাতীয়করনে পূর্ব পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পদে সরকারী স্কুলের শিক্ষকদের পদায়ন বন্ধ ও শিক্ষা সংষ্কার কমিশন গঠনের দাবীতে ২৪ সেপ্টেম্বর  মঙ্গলবার সকালে ডুমুরিয়া উপজেলার বেসরকারী মাধ্যমিক (স্কুল ও মাদ্রাসা) শিক্ষা পরিবারের আয়োজনে বাসষ্টান্ডে প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে।

ঘন্টাব্যাপী মানবন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি বীরেশ্বর বৈরাগী, সাধারন সম্পাদক জিএম শফিকুল ইসলাম, প্রধান শিক্ষক আইয়ুব হুসাইন, স.ম আব্দুর রাজ্জাক,শেখ সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা মাদ্রাসা শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিলায়েত হোসেন, সাধারন সম্পাদক মোল্যা কবির হোসেন, সেলিম হালদার, আইয়ুব আহম্মদ, জাহাঙ্গীর আলম, হাবিবুর রহমান,আরশাফুল আলম, জিএম আকরাম হোসেন,সুপার মাওঃ শহিদুল ইসলাম, মাওঃ আছাবুর রহমান, প্রমুখ। মানবন্ধন কর্মসূচি শেষে উপজেলা নির্বাহী আফিসার কার্যলয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

 

আমতলী ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজের নতুন এডহক কমিটি গঠন

//মাহমুদুল হাসান, আমতলী, বরগুনা//

বরগুনার আমতলী উপজেলার ইউনুস আলী খান ডিগ্রি কলেজের নতুন এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে মোঃ জহিরুল ইসলামকে সভাপতি ও তারিকুল ইসলাম টারজানকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য করা হয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরের অনুমোদন ক্রমে গতকাল ২৪ শে সেপ্টেম্বর কলেজ পরিদর্শক আব্দুল হাই সিদ্দিক সরদার স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে এ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

কলেজের নবগঠিত এডহক কমিটির সভাপতি সৈয়দ জহিরুল ইসলাম জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। একই কমিটির বিদ্যুৎসাহী সদস্য তারিকুল ইসলাম টারজান ছাত্রদলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন শেষে বর্তমানে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল আমতলী উপজেলা শাখার আহ্বায়ক ও আমতলী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতীয়তাবাদী রাজনীতির দুই শীর্ষ নেতা কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি ও বিদ্যুৎ সাহী সদস্য মনোনীত হওয়ায় কলেজের সংশ্লিষ্টরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

দীর্ঘ আওয়ামী দুঃশাসনে নাকাল আমতলীর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো। তাই বর্তমান কমিটিতে মেধাবী ও বিচক্ষণ দুই নেতা উপজেলার অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এডহক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ায় বিএনপি সহ আমতলী বাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

এলাকাবাসী মনে করছেন অবহেলিত কলেজেটিতে  শিক্ষিত,মার্জিত ও বিচক্ষণ দুই নেতা এডহক কমিটির দায়িত্ব পাওয়ায় কলেজের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।

ডুমুরিয়ায় ব্র্যাক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ  ও বনজ বৃক্ষ বিতরণ করে

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় ডুমুরিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইয়ুথ সদস্য শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ  ও বনজ বৃক্ষ প্রদান করা হয়েছে।

ডুমুরিয়ায় ব্র্যাক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ফলজ  ও বনজ বৃক্ষ বিতরণ করে

সংস্থার অধিকার এখানে এখন প্রকল্পের সহযোগিতায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অনুযায়ী সাহস নোয়াকাঠী  মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাজিডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, গুটুদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়,  মির্জাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শেখ আমজাদ মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সাহস ইউনিয়নের কমিউনিটি সেন্টার,  উপজেলার সদর পোস্ট অফিস ও ব্র্যাক অফিসের সদস্যদের মাঝে ১হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের জেলা যুব সমন্বয়কারী শিখা রানী, ব্র‍্যাকের এরিয়া ম্যানেজার (দাবি )দেবদাস, ব্র‍্যাক উপজেলা শাখার  ম্যানেজার শিবদাস, ম্যানেজার (প্রগতি) নাজনীন নাহার, স্ব স্ব স্কুলের শিক্ষক মন্ডলী, ইয়ুথ সদস‍্য বৃথি, আরদীন, রাব্বী, রুপা, সুচিত্রা, আকাশ, নয়ন, বিদুৎ, জয়, আলামিন, মহুয়া প্রমুখ।

মেধাবী ছাত্রী চৈতির অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী শিক্ষক; ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

//এম মুরশীদ আলী, রূপসা//

রূপসা উপজেলার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেনীতে পড়ুয়া মেধাবী ছাত্রী ফাইরুজ মাহমুদ নিদ (চৈতি)। তার অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ী নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমান ও তার স্ত্রী সোনিয়া সুলতানা এবং শিক্ষিকা কাকলি গাইন সহ দোষীদের ফাঁসির দাবিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০ টায় বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য- রূপসার নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহাবুবুর রহমানের প্রেমের ফাঁদে পড়ে গত জুলাই মাসের ২৪ তারিখে চৈতি নিজ বাড়িতে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে প্রয়াত ছাত্রী চৈতীর মাতা নুরনাহার বাদী হয়ে আদালতে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

ঘটনার পর থেকে বিদ্যালয়ের উক্ত শিক্ষক পলাতক রয়েছেন বলে জানা যায়।

নৈহাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী ও এলাকাবাসী আয়োজিত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন- ফাইরুজ মাহমুদ চৈতীর পিতা ফিরোজ পাশা, মাতা নুর নাহার শেখ, ইউপি সদস্য রেশমা আক্তার, আশরাফ আলী রাজ, হুমায়ূন কবীর রাজা, নিজাম উদ্দীন, মনিরা বেগম, হাফিজুর রহমান, পিয়াস শেখ, সাব্বির শেখ, হাসান মল্লিক, সাদমান, মো. সিদ্দিক, মো. তুহিন, আরমান শেখ, রেজাউল করিম, ফারুক, জনী, শফিক, হিরা শেখ, সুমন ঘোষ, প্রিন্স শেখ, আঃ হালিম, রিয়াদ শেখ, সৌমিত্র দেবনাথ, ওবায়দুল্লাহ মল্লিক, শিক্ষার্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- রাসেল হাওলাদার, মো. ইউসুফ, ইব্রাহিম খলিল, মো. সিয়াম, লাবন্য আক্তার জ্যেতি, সুমাইয়া আক্তার ফাতেমা, সাদিয়া আক্তার লামিয়া, মারুফা, সুমাইয়া সুলতানা, মুন্নী খাতুন, সাহারা আক্তার তৃষা, শান্তনা দাস, জ্যেতি রানী পাল, সুমা খাতুন, আসাদুজ্জামান রাফি, রাহুল কুমার দাস, অর্পন পাল, আজিম শিকদার, রাজ্জাক প্রমূখ।

স্বাস্থ্য শিক্ষায় ভারতের শিক্ষার্থীরা কেন বাংলাদেশে পড়তে আসে

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

বাংলাদেশে, বিশেষ করে স্বাস্থ্যশিক্ষা বিষয়ে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রয়েছে। সাম্প্রতিক আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতে বাংলাদেশ থেকে ভারতে ফিরে আসা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটা জানা গেল।

সম্প্রতি বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসা ১০ জন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা হয়। তাঁরা বলেন, এখন ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন। তবে পশ্চিমবঙ্গ, কাশ্মীর ও উত্তর-পূর্ব ভারত থেকে যাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের সুদীপ্ত মাইতি। তিনি বছর চারেক আগে বাংলাদেশে পড়তে যান। সে সময় যত ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে ছিলেন, তার চেয়ে এখন সংখ্যাটা বেড়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ধারণা, সংখ্যাটা বেশ কয়েক হাজার হতে পারে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ভারতীয় সংসদে জানান, ৯ হাজার ভারতীয় শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়ছেন। বাংলাদেশে উদ্ভূত পরিস্থিতে তাঁদের বড় অংশই গত জুলাইয়ে ভারতে ফিরে এসেছেন।

সুদীপ্তর মতে, এই ভারতীয় শিক্ষার্থীর বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার একটি প্রধান কারণ যাওয়া-আসার সুবিধা।

সুদীপ্ত বলেন, ‘এই গন্ডগোলের সময়েও আমরা আখাউড়া থেকে আগরতলা হয়ে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কলকাতায় চলে এলাম। সেখান থেকে আমার বাড়ি মেদিনীপুরে পৌঁছাতে আরও কিছুটা সময় লাগল। এটা অন্য দেশ হলে সম্ভব হতো না।’

অন্য দেশ বলতে রাশিয়া, ইউক্রেন, চীনসহ মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কথা বুঝিয়েছেন সুদীপ্ত। এসব দেশেও পড়তে যান ভারতের শিক্ষার্থীরা। এসব দেশেও পড়ার খরচ অপেক্ষাকৃত কম। কিন্তু এসব দেশের ক্ষেত্রে এত দ্রুত যাওয়া-আসা করা যায় না।

সুদীপ্তর কথায়, অন্যত্র যাওয়া-আসার অসুবিধার পাশাপাশি ভাষার সমস্যাও রয়েছে। আর খাওয়াদাওয়ার সমস্যা তো আছেই। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগব্যবস্থা এখন এতই ভালো যে প্রায় সব জায়গা থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফিরে আসা যায়। সম্ভবত এ কারণে ভারত থেকে এত শিক্ষার্থী বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

বাংলাদেশে পড়াশোনা প্রসঙ্গে কাশ্মীরের এক ছাত্রী, যিনি নিজেকে শুধু ‘কাজি’ নামে পরিচয় দিতে ইচ্ছুক, তিনি বললেন, ‘পড়ার সুযোগ ও খরচ—দুটিই আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

এমবিবিএসের পঞ্চম বর্ষের ছাত্রী কাজি বললেন, ‘আমি ২০১৯ সালে ঢাকার আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজে পড়ার জন্য বাংলাদেশে যাই। তখন কাশ্মীরে মাত্র দুটি সরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। আর কোনো প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এখানে ছিল না। কিন্তু বাংলাদেশ সে সময় অনেকগুলো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ছিল। যে কারণে আমি ও আমার অনেক বন্ধু বাংলাদেশে পড়তে যাই।’

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে ভর্তিতে সহায়তা করেন কলকাতার শিক্ষা পরামর্শদাতা কাজী মহম্মদ হাবিব। তাঁর সংস্থা চেকমেট ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশের বিভিন্ন বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেয়। তাঁদের পড়তে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তৈরি করাসহ কলেজ পর্যন্ত যেতে প্রয়োজনীয় দায়িত্ব পালন করে।

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ রয়েছে। দেশটিতে দ্রুত বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বেড়েছে, বাড়ছে। ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার অন্যতম একটি কারণ বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বৃদ্ধি। তবে দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে আগামী কয়েক বছর হয়তো বেসরকারি মেডিকেল কলেজ তৈরি হওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে এই দুই সংকট কাটলে আবার বেসরকারি মেডিকেল কলেজের সংখ্যা বাড়বে। তখন দেশটিতে ভারতীয় শিক্ষার্থী যাওয়ার প্রবণতা আরও বাড়বে।

বড় কারণ খরচ কম

বাংলাদেশে পড়তে যাওয়ার বড় কারণ হিসেবে কম খরচের বিষয়টি উল্লেখ করেন কাশ্মীরের ছাত্রী কাজি ও তাঁর আরেক বন্ধু।

কাজি বলেন, ভারতে বেসরকারি মেডিকেল কলেজে পড়তে এক কোটি রুপির মতো খরচ পড়ে। আর আনুষঙ্গিক সব খরচ ধরলে ব্যয় কোটি রুপি ছাড়িয়ে যায়। কিন্তু বাংলাদেশে সব মিলিয়ে মোটামুটিভাবে ৪০ থেকে ৫০ লাখ রুপি সমমানের খরচে পড়াশোনা শেষ করা যায়।

সুদীপ্ত বলেন, ঢাকার মতো প্রধান শহরের বাইরে ছোট উপশহরে এই খরচ দাঁড়ায় ৩০-৩৫ লাখ রুপির সমপরিমাণ।

কিশোরগঞ্জের রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজে সুদীপ্তর চেয়ে এক বছরের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসিত আনোয়ার। তাঁর ভাষ্য, মূলত খরচ কম বলেই ভারতীয় শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যান। কিন্তু তার মানে এই নয় যে সেখানে পড়াশোনার মান খারাপ।

একজন ভারতীয় শিক্ষার্থী যদি বিদেশে মেডিকেল অধ্যয়ন সম্পন্ন করেন, তাহলে দেশে ফিরে তাঁকে চিকিৎসক হিসেবে কাজ করার জন্য ফরেন মেডিকেল গ্র্যাজুয়েশন এক্সামিনেশন (এফএমজিই) পাস করতে হয়। ইউরোপ-আমেরিকা থেকে পড়ে এলে এ ক্ষেত্রে কিছু ছাড় দেওয়া হয়।

যেসব শিক্ষার্থী মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বা রাশিয়া থেকে পড়ে আসেন, তাঁদের চেয়ে বাংলাদেশ থেকে পড়ে আসা শিক্ষার্থীরা অনেক বেশি সংখ্যায় এফএমজিই পাস করেন বলে জানান বাসিত। তাঁর মতে, এর একটি সম্ভাব্য কারণ হলো উভয় দেশের পাঠ্যক্রম মূলত একই। ভারতে তাঁরা যে বই পড়েন, বাংলাদেশে অধিকাংশ ক্ষেত্রে একই বই পড়তে হয়। শিক্ষকদের অনেকে ভারতে পড়েছেন। তাঁরা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন সম্পর্কে সচেতন। তাঁরা জানেন, ভারতীয় শিক্ষার্থীদের দেশে ফিরে এফএমজিই পরীক্ষায় বসতে হবে। ভারতে প্র্যাকটিস করার জন্য। ভারতের চাহিদা সম্পর্কে এই সচেতনতার কারণে এখানকার ছেলেমেয়েরা অনেকেই বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া পছন্দ করেন।

এফএমজিই পরীক্ষায় পাস করাটা অবশ্য খুব একটা সমস্যার নয় বলে মনে করেন বাসিত। মোট ১৯টি বিষয় নিয়ে ৩০০ নম্বরের পরীক্ষা দিতে হয়। পরীক্ষায় ১৫০ নম্বর পেলেই চিকিৎসক হিসেবে গণ্য করা হয়।

বাসিত জানান, এখানে কোনো নেগেটিভ নম্বর দেওয়া হয় না। এটা অন্য সব প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মতো নয়, যেখানে যাঁরা বেশি নম্বর পাবেন, তাঁরাই পরবর্তী পর্যায়ে যেতে পারবেন। এখানে ১৫০ নম্বর পেতে হবে। তাহলেই একজন চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন। এই ব্যবস্থা রাখার প্রধান কারণ দেশে চিকিৎসকের সংখ্যা কম। তাই এটি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা নয়। আর একেকজন অনেকবার এফএমজিই দিতে পারেন। ফলে শেষ পর্যন্ত পাস করাটা খুব সমস্যা নয়।

তবে এ ক্ষেত্রে অন্য একটি সমস্যা রয়েছে বলে জানালেন বাসিত। তাঁর ভাষ্য, ‘আমাদের যে অংশটা থিওরি (তত্ত্ব), সেই অংশটা প্রায় পুরোপুরি ভারতের পাঠ্যক্রমের মতো। তবে প্র্যাকটিক্যাল (ব্যবহারিক) অংশটায় কিছু সমস্যা আছে। এখানে হয়তো কিছুটা কম সময় দেওয়া হয়, যার ফলে বিষয়টা পুরোপুরি বুঝে ওঠা সম্ভব হয় না। তবে ভারতে ফিরে এফএমজিই দিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী কোনো মেডিকেল কলেজে ইন্টার্নশিপ করতে শুরু করেন, তখন এই ঘাটতিটা পুষিয়ে নেওয়া যায়।’

বাসিতের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হলেন তাঁর অন্য বন্ধুরাও।

‘বেশি শিক্ষার্থী ভারতের’

মহম্মদ হাবিব বলেন, বাংলাদেশে ৭০টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় ৩ হাজার ১০০ আসন আছে। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ বিদেশি শিক্ষার্থী রয়েছে। এই বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ভারতের।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে মোট ১ হাজার ৬৭ জন ভারতীয় শিক্ষার্থী সে দেশে মেডিকেলে পড়তে গেছেন। নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান থেকে গেছেন যথাক্রমে ২৬৪ জন, ১২ জন ও ২ জন। ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা ও ফিলিস্তিন থেকে গেছেন একজন করে শিক্ষার্থী। বাংলাদেশের সরকারি মেডিকেল কলেজে সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ২২০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ২২ জনকে পাঠাতে পারে ভারত।

মহম্মদ হাবিব মনে করেন, বাংলাদেশে প্রাইভেট মেডিকেল কলেজের বিস্তারের ফলে সার্কভুক্ত দেশের যেমন লাভ হয়েছে, তেমনি লাভ হয়েছে বাংলাদেশেরও। সে দেশে এমবিবিএস পড়ার খরচ পড়ে ৩০ থেকে ৫০ লাখ রুপির সমপরিমাণ। সুতরাং ভারতীয় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটা ভালো অঙ্কের অর্থ আয় করছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের মেডিকেলে ভারতীয় শিক্ষার্থী যখন বাড়ছে, তখন আবার বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি রোগী ভারতে চিকিৎসার জন্য আসছেন। কেন এমনটা হচ্ছে, এটা একটা বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের উত্তরে মহম্মদ হাবিব বলেন, এখানে একটা দিক হলো চিকিৎসা অধ্যয়ন, অপরটি হলো চিকিৎসাসেবা। বাংলাদেশে বিশেষত চিকিৎসাশিক্ষার উন্নতি হয়েছে। কিন্তু চিকিৎসাসেবায় তারা এখনো পিছিয়ে আছে। এ কারণে বাংলাদেশি রোগীরা ভারতে আসেন।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি অন্য বিষয়েও ভারতীয় শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশে পড়তে দেখা যাচ্ছে। যেমন পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউটের কথা বলা যায়। এই প্রতিষ্ঠানটি ফটোগ্রাফি, ভিডিও, টেলিভিশন, ফিল্ম আর্টের চর্চা করে। এখানে ছয় মাসের কোর্স করে দেশে ফিরেছেন পশ্চিমবঙ্গের সুপর্ণা নাথ। তিনি বলেন, পাঠশালা একটি ভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান। তাই প্রতিষ্ঠানটির প্রতি বিদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ছে।

ভারতীয় শিক্ষার্থীসহ বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশে বেসরকারি শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বেড়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে উঠছে বাংলাদেশ। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশে পড়তে যাচ্ছেন।

ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বাংলাদেশে পড়ালেখা করার ক্ষেত্রে তাঁরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে এসেছেন। তাঁরা আন্তরিক উষ্ণতা পেয়ে এসেছেন। এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে সাম্প্রতিক আন্দোলনের জেরে তাঁদের যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। রাতের অন্ধকারে দেশে ফেরার জন্য তাঁদের অ্যাম্বুলেন্স করে বিমানবন্দরে ছুটতে হয়েছিল। পথে নানান মর্মান্তিক দৃশ্য চোখে পড়েছে। তবে তাঁরা এখন আশা করছেন, শিগগিরই বাংলাদেশের পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে। তাঁরা বাংলাদেশে গিয়ে আগের মতো স্বাভাবিকভাবে পড়াশোনা শেষ করতে পারবেন।

Daily World News

প্রথম আলো

প্রাথমিক বিদ্যালয় কবে খুলবে জানা যাবে আজ

//দৈনিক বিশ্ব নিউজ ডেস্ক //

কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে সৃষ্ট সহিংসতার কারণে ১৭ জুলাই দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকার। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোও অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। তবে চলতি সপ্তাহে প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেয়া হতে পারে।

আজ এ নিয়ে বৈঠক করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। শনিবার বিকালে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ফরিদ আহাম্মদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘চলতি সপ্তাহের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বিদ্যালয় কবে খুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রোববার মিটিং হবে। মিটিংয়ে এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।’

উল্লেখ্য, ১৭ জুলাই রাতে দেশের আটটি সিটি করপোরেশন এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের প্রাথমিক বিদ্যালয় চালু ছিল। ২৪ জুলাই সারা দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।