নেত্রকোনা এস এসসি পরিক্ষার্থী মুক্তি বর্মন এর হত্যার প্রতিবাদে বরিশালে জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাউসী ইউনিয়নের এসএসসি মেধাবী পরিক্ষার্থী। মুক্তি রানী বর্মন কে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার দৃষ্টান্ত মূলত শাস্তির ফাঁসির দাবিতে। বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ এর সারাদেশব্যাপী শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন এর অংশ হিসেবে। ৫ ই মে  শুক্রবার সকাল ১০ ঘটিকার সময় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ বরিশাল জেলা কমিটির আয়োজনে  বরিশাল নগরীর সদর রোড অশ্বিনী কুমার টাউন হল  প্রাঙ্গণে এক শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন পালন করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ এর বরিশাল জেলার সভাপতি সাংবাদিক পলাশ চন্দ্র দাস এর নেতৃত্বে শান্তি পূর্ণ মানববন্ধনে অংশগ্রহন করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ বরিশাল  জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক রাম কুমার দাস।সহ সভাপতি বিপ্লব দাস, প্রধান উপদেষ্টা সঞ্জীব চন্দ্র, অনুরুদ্র মিত্র। সাংগঠনিক সম্পাদক সাংবাদিক অপূর্ব বাড়ৈ, সহকারি আইন বিষয়ক সম্পাদক সাংবাদিক রুপন কর অজিত।

ক্রিয়া বিষয়ক সম্পাদক নির্মল বর্নিক, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক শেখর দাস প্রচার সম্পাদক কিশোর বিশ্বাস, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক  চয়ন রায়। সদস্য রিপন দাস প্রদিপ বিশ্বাস,পার্থ দাস,প্রদিপ দাস,হৃদয় বালা সহ সংগঠনের সকল সদস্যবৃন্দ। এসময় বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ এর সভাপতি পলাশ চন্দ্র দাস বলেন। সারা বাংলাদেশ সংখ্যালঘু নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এ দেশের সংখ্যালঘুদের ওপর কোন আইন পাস করা হয়নি। তিনি আরো বলেন নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলা মুক্তি রানী বর্মন প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায়। একই এলাকার হত্যাকারি মোঃ কাওসার এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই। ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাসংঘ এর দাবী অপরাধীকে বাংলাদেশ আইনের সর্বোচ্চ শান্তি মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হোক।

বাগেহাটের রামপালে নদীতে ঝাপ দিয়ে ভ্যান চালক নিখোঁজ

এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেহাটের মোংলা-ঘোষিয়াখালী চ্যানেলের বগুড়া পয়েন্টে নদীতে ঝাপ দিয়ে আবু হানিফ (৩৫) নামের এক ভ্যান চালক নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ওড়াবুনিয়ার পার্শ্ববর্তী মোংলা ঘোষিয়াখালী চ্যানেলে।

বাগেরহাটের ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং রামপাল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ হানিফকে উদ্ধারের জন্য অভিযান পরিচালনা করেছে। খবর পেয়ে রামপাল থানার ওসি এস, এম আশরাফুল আলম ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠিয়েছেন। নিখোঁজ হানিফের পিতা ইলিয়াস শেখ জানান, বৃহস্পতিবার দিনগত রাত ৩ টার সময় আবু হানিফ নদীতে ঝাপ দেয়।

এরপর তাকে ফেরাতে ডাকাডাকির এক পর্যায়ে সে পানিতে ডুবে যায়। পরে শুক্রবার ভোরে রামপাল থানা ও রামপাল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। ফায়ার সার্ভিস বাগেরহাটের উপপরিচালক মো. গোলাম সরোয়ার জানান, খবর পেয়ে রামপাল স্টেশনের ও খুলনার ডুবুরি দল নিখোঁজ হানিফকে নদী থেকে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।

জীবিত বা মৃত্যু বডি না পাওয়া পর্যন্ত আমরা উদ্ধার অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখবো। পুত্রকে হারিয়ে পিতা-মাতাসহ আত্মীয় স্বজনেরা বুক ফাটিয়ে চিৎকার করে বাতাস ভারী করে তুলেছেন।#

অভয়নগরে ভৈরব নদীতে ডুবে এক স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যু

মোঃ শফিকুল ইসলাম পিকুল, বিশেষ প্রতিনিধি‍ঃ

অভয়নগরে ভৈরব নদীর পানিতে ডুবে কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ২ টার দিকে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত কিশোর শুভ উপজেলার মহাকাল দত্তপাড়া এলাকার সুব্রত দত্তের ছেলে। ওই কিশোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র ছিল।

এলাকাবাসী জানান, শুভ বন্ধুদের সাথে মহাকাল খেয়াঘাটে গোসল করতে যায়। পানিতে খেলা করার সময় হঠাৎ শুভকে ডুবে যেতে দেখে মাঝি সঞ্জয় উদ্ধার করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে পরিবার ও স্থানীয়রা পানিতে খুঁজতে থাকে এবং নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়।

নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের (সাব অফিসার) মেজবাহূল ফকিরের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট নিয়ে ঘটনাস্থানে হাজির হন এবং লাশ উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যায়। পরে খুলনা ডুবরী দলের প্রধান সাইদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি টিম ঘটনাস্থানে হাজির হয়ে ১ ঘন্টা ১০ মিনিটের ভিতরে নদীর তল থেকে থেকে লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের (সাব অফিসার) মেজবাহুল ফকির ও ডুবরী দলের প্রধান সাইদুল ইসলাম লাশটিকে নওয়াপাড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তানভীর হোসেন তানুর উপস্থিতিতে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেন। শুভর এমন অকাল মৃত্যুতে ওই এলাকাবাসীর মাঝে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নওয়াপাড়া ফায়ার সার্ভিসের (সাব অফিসার) মেজবাহূল ফকির ও খুলনা ডুবরী দলের প্রধান সাইদুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পেয়ে লাশ বিকাল সাড়ে ৪ টায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়।

পটুয়াখালীতে জমি জমার বিরোধ নিয়ে আপন জামাতার হতে শ্বশুর-শ্বাশুরী লাঞ্চিত

//মোঃ তুহিন শরীফ, পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি//

পটুয়াখালীর বাউফল  উপজেলাধীন আদাবাড়িয়া ইউনিয়নে  জমি জমা নিয়ে বিরোধের জেরে আপন জামাতার হাতে শ্বশুর – শ্বাশুরী লাঞ্চিত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে ভুক্তভোগী ও এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে জানা যায়,আদাবাড়িয়া  ইউনিয়নের হাজিরহাট বাজারের বাসিন্দা আলহাজ্ব   মোঃ নুর হোসেন  (৮০) তার চতুর্থ মেয়েকে  একই বংশের  মৃত জয়নাল আবেদিন খানের পুত্র মোঃ আজাহার খান খোকন এর সাথে বহু বছর পূর্বে সামাজিক ভাবে বিয়ে দেন,। কিন্তু  জামাতা আজাহার খাঁ লোভি প্রকৃতির হওয়ায় বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে শ্বশুর আলহাজ্ব মোঃ নূর হোসেন কে  টাকা পয়সা ও জমি জমা লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে,কিন্তু শ্বশুর আলহাজ্ব মোঃ নূর হোসেন এর কাছ থেকে নানান কৌশলে বহু বার  এড়িয়ে গেলেও ১ বছর পূর্বে  হাজিরহাট বাজার থাকা মূল্যবান ২ কাঠা জমি লিখে দিতে বাধ্য হন। উক্ত ২ কাঠা জমি নিয়ে জামাতা খান্ত হন নাই, বাজার থাকা শ্বশুরের বাকী সম্পতিটুকু নেওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে।

চাপ দিয়েও স্বার্থ উদ্ধার করতে না পেরে গত ২৬/০৪/২০২৩ তারিখ বিকেল আনুমানিক ৩ টার সময় স্থানীয় কিছু সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে জামাতা আজাহার খাঁ তার শ্বশুর আলহাজ্ব নূর হোসেনের বসত ঘরে  হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে ও ঘরে তা টাকা পয়সা, স্বর্ণ অলংকার   নিয়ে যায় ও বিভিন্ন দামী আসবাব পত্র ভাংচুর করে।

জামাতা এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে  বাঁধা দিতে গেলে শ্বশুর নুর হোসেন (৮০) ও শ্বশুরী আম্বিয়া বেগম (৭৫) কে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।

ভিক্টিমদের ডাক চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে জামাতা আজাহার ও সন্ত্রাসী বাহিনী পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত শ্বশুর -শ্বাশুরীদের চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।

তারা বর্তমানে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ওয়ার্ডের ২৬ ও B ব্লোকের ৯ নং বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

উল্লেখ্য যে,জামাতা আজাহার খাঁ বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানা সহ দেশের বিভিন্ন থানায়  ডাকাতি,চাদাবাজী,মাদক,প্রতারণা সহ ৭/৮টি মামলা এজাহার ভুক্ত হয়ে কোর্টে চলমান আছে।

মাগুরার মহম্মদপুরে ব্যবসায়ীকে মারধর অতঃপর টাকা ছিনতাই

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি //

মাগুরার মহম্মদপুরে তারিকুল ইসলাম (৩৭) নামে এক ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি পেটা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় তার সাথে থাকা নগদ বিশ হাজার টাকা নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বুধবার বিকালে উপজেলার কাশিপুর গোরস্তানের উত্তরপাশে রাস্তার উপর এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে তাকে মহম্মদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে বলে জানা যায়।

তারিকুল ইসলাম গ্যাসের চুলার মালামালের ব্যবসা করে এবং উপজেলার  সিন্দাইন গ্রামের মৃত আলম মোল্যার ছেলে।

ডুমুরিয়ায় বরযাত্রী বহরের মাইক্রোবাস ও বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ৬ জন আহত

বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা :

ডুমুরিয়ার খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের  খর্নিয়া ইউনিয়নে পরিষদের সামনে বরযাত্রী বহরের মাইক্রোবাস ও বাসের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ ৬ জন আহত হয়েছে।

জানা গেছে ২৬ এপ্রিল বুধবার  বিকাল ৪টার দিকে  সাতক্ষীরা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রী বাহী বাস ঢাকা মেট্রো-জ ১৪-২৬১৪ সাথে বরযাত্রী বহরের মাইক্রোবাস  চট্ট মেট্রো ছ-১১-১১৪৫ খর্নিয়া বাজারের সড়কের উঠার সময় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে । এসময়  মাইক্রোবাসের ড্রাইভার সহ ৬ জন বরযাত্রী  আহত হয়।

আহত হলেন বরুনা গ্রামের আজিজুর রহমান (২৬) আকলিমা খাতুন(৩২) আফরোজা আক্তার আঁখি(২৩) রিনা সুলতানা (৩৫) ইমন আলী (৪৫) ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চিকিৎসাধীন। অপর আহত অজ্ঞাতনামা মাইক্রোবাসের ড্রাইভার কে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন‍্য প্রেরন করা হয়েছে । বাস ও মাইক্রোবাসটি খর্নিয়া হাইওয়ে থানায় পুলিশ হেফাজতে ।

রামপালে ইসলাম ধর্মের অবমাননাকারী হিন্দু যুবক সজীব বিশ্বাস’র বিরুদ্ধে মামলা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি||

বাগেরহাটের রামপালে ইসলাম ধর্ম ও মাহে রমজানকে নিয়ে কটুক্তি করায় যুবকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় মনিরুজ্জামান গোলদার নামের এক ব্যক্তি রামপাল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হুড়কা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া জগারহুলা গ্রামের গোলক বিশ্বাসের ছেলে সজীব বিশ্বাস (দোদো) গত ১৯ এপ্রিল সন্ধ্যায় চাড়াখালী দারুল নাজাত হিফজুল কুরআন ক্যাডেট মাদরাসার সামনে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ইসলাম ধর্ম, মাহে রমজানের তাৎপর্য ও ঈদ-উল ফিতর নিয়ে ধর্ম বিরোধী বিদ্রুপ মন্তব্য করতে থাকে। এসময় মনিরুজ্জামান অভিযুক্ত সজীবকে ধর্ম বিরোধী মন্তব্য করতে নিষেধ করলে উল্টো তার উপর চড়াও হয়ে তাকে জীবন নাশের হুমকি দেয়।

বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা উত্তেজিত হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও চেয়ারম্যান তপন গোলদারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার মামলার ৬ দিন অতিবাহিত হলেও এখনো অভিযুক্ত সজীবকে আটক করতে না পারায় স্থানীয় মুসলমানদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা অতিদ্রুত ওই অভিযুক্ত সজীবকে আইনের আওতায় আনার জোর দাবী করেছেন। সজীব একজন সন্ত্রাসী ও উগ্রবাদী বলে স্থানীয়রা দাবী করেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

এবিষয়ে রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুদ্দিন মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের জানান, হুড়কা ইউনিয়ন হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা। সবাই মিলেমিশে বসবাস করে। কিন্তু ইসলাম ধর্ম ও পবিত্র মাহে রমজানকে নিয়ে সজীব বিশ্বাস বিদ্রুপ মন্তব্য করলে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক সেখানে পুলিশ পাঠানো হয় এবং স্থানীয়দের সাথে কথা বলে সবাইকে শান্ত থাকার অনুরোধ করছি। আমরা অভিযুক্ত সজীবকে আটক করতে জোর চেষ্টা চালাচ্ছি।

বাগেরহাটের কচুয়ায় পুলিশ সদস্যের উপর হামলা

শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট প্রতিনিধি॥

বাগেরহাটের কচুয়ায় ঈদের ছুটিতে বাড়ি আশার পথে হামলাল স্বীকার হয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। এঘটনা ঘটেছে শুক্রবার রাতে কচুয়া বাজারে রুহুলের কফি হাউজের সামনে। আহত সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সদস্য মোঃ রাজীব মীর(৩২)কে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এঘটনায় কচুয়া থানা পুলিশ ২ জনকে আটক করেছে। আটক কৃতরা হলেন রুম্মান শেখ ও শাহারিয়ার ইসলাম।

উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের নুরুল ইসলাম মীরের পুত্র পুলিশ সদস্য রাজীব মীর জানান, তার কর্মস্থাল  সাতক্ষীরা থেকে ঈদের ছুটিতে বাড়ি আশার পথে শুক্রবার রাতে কচুয়া বাজারে রুহুলের কফি হাউজের সামনে পৌছালে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে কচুয়া সদরের ডলার শিকদারে পুত্র নওরেশ শিকদার (৩৫) ও পিয়াস শিকদার(২৫),আব্দুল হাকিম শেখের পুত্র রুম্মান শেখ(২৪) ও টেংরাখালী গ্রামের শহিদুল ইসলামের পুত্র শাহারিয়ার ইসলাম(২২) তার পথরোধ করে এলোপাথাড়ি মারধর করে ও হত্যার উদ্ধেশ্যে ছুরি দিয়ে মাথায় আঘাত করে মোবাইলফোন, নগদ টাকা ও হাতঘড়ি নিয়ে যায়। এসময় তার ডাকচিৎকারে লোকজন ছুটেএলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। শনিবার রাজীবের পিতা নুরুল ইসলাম মীর বাদী হয়ে ৪ জনের নাম উল্লেখ করে কচুয়া থানায় একটি মামলা করেছে যার নং ০৬/৩৯।

এব্যাপারে কচুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, থানায় একটি মামলা হয়েছে। দুই জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য আসামীদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।#

 

বাগেরহাটের রামপালে মৎস্যঘেরে আগুন// মাছ লুটের অভিযোগ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালের মুজিব নগর গ্রামে গোলাম মওলা নামের এক মৎস্য খামারির ঘেরের মাছ লুট ও বাসা ঘরে আগুন দিয়ে ভষ্মিভূত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গোলাম মওলা দুই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে দাবি করে রামপাল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে জানা গেছে, মুজিব নগর গ্রামে গোলাম মওলার সাড়ে ৬ একরের একটি মৎস্য ঘের রয়েছে। সে গত ২ বছর ধরে জমির মালিকদের হারির টাকা পরিশোধ করে মৎস্য চাষ করে আসছে। গত ২০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ১০ টায় একই গ্রামের শেখ তরিক, শেখ রফিক, বিল্লাল হোসেন, মাদারতলা গ্রামের শেখ পিয়ার, শেখ মোজাফফর, শেখ মোতালেব, শেখ সুমনসহ ৮/১০ জন দুষ্কৃতকারী ওই ঘেরে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বাগদাসহ অন্যান্য মাছ লুটে নেয়। এরপর যাওয়ার সময় বাসা ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয় বলে লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ সময় তারা ঘেরের বেড়িবাঁধ কেটে দেয় এবং মাছ ধারার সরঞ্জাম নদীতে ফেলে দেয়। এতে মওলার আড়াই লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। মওলা বলেন লোন করে, দায় দেনা করে ঘেরে মাছ ছেড়েছি। এখন সব মাছ লুটে নেওয়ায় আমি সর্ব শন্ত হয়ে গেছি। ওয়ার্ড সদস্য সরোয়ার হোসেন বলেন, একটা কুচক্রী মহল আমাদের পিছনে লেগেছে। তারা আমাদের ক্ষতি করার চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত শেখ তরিকুল, শেখ রফিকুল, শেখ বিল্লাল, শেখ পেয়ারসহ অন্যদের সাথে কথা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাদের জমিতে আমরা দুই বছর ধরে ঘের করতে পারছি না। মওলা ঘের দখল করেছে। তার বাসাঘর কারা পুড়িয়েছে তা আমরা জানিনা।

এ বিষয়ে রামপাল থানার ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এ সংক্রান্ত দুইটা অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

রামপালে সন্ত্রাসীদের জিম্মিদশা থেকে মুক্তি চায় ১০ গ্রামের মানুষ

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

বাগেরহাটের রামপালে ১০ গ্রামের বাসিন্দা সন্ত্রাসীদের কবল থেকে মুক্তি পেতে চান। তারা বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপার ও রামপাল থানা পুলিশের জোর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। গ্রাম গুলো হলো মিত্রাবাদ, বড়দিয়া, তালবুনিয়া, ইসলামাবাদ, চন্ডিতলা, কিসমত চন্ডিতলা, দেয়ালডাঙ্গা, মুজিব নগর, সুন্দরপুর ও গিলাতলা। গ্রামবাসী বহু আবেদন নিবেদন করার পরেও সন্ত্রাসীরা একের পর এক হামলা, মারপিট করে আহত করছে গ্রামের মানুষদের। সন্ত্রাসীরা আধিপত্য বিস্তার, ঘের দখল ও জমি দখলকে কেন্দ্র করে এ সব অপকর্ম নির্দিধায় চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের শেখ আবু জাফরের পুত্র ২ টি হত্যা মামলা, বোমা হামলা, নরী অপহরণসহ অর্ধডজন মামলার আসামি মাছুম বিল্লাহ বাড়িতে এসেই একটি অপরাধ জগৎ গড়ে তুলেছেন। তার সহযোগীরা হলো, ইসলামাবাদ গ্রামের আবু তালেব, মারুফ শেখ, মাসুম শেখ, মোস্তাফিজ শেখ, বাকি বিল্লাহ, শরাফত কাজী, খোকন শেখ, পলাশ শেখ, নাহিদ শেখ, আসাদ শেখ সহ প্রায় দুই ডজন ব্যক্তির সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরা ইতিমধ্যে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মাদরাসা শিক্ষক কুদরতি এনামুল বাশার বাচ্চু, সাবেক ইউপি সদস্য ও যুবলীগের সভাপতি মল্লিক মিজানুর রহমান, ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম সোহাগ, ইউপি সদস্য শেখ রাসেল, সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল কুদরতি, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শেখ আব্দুল্লাহ আজমি, রামপাল উপজেলা বিএনপি নেতা ফকির শাহাদাত হোসেন, ফকির আবু জাফরসহ শতাধিক মানুষ কে মারপিট করে গুরুতর আহত করেছেন। এ ছাড়াও সরকারী কাজে বাঁধা প্রদান করে এসি ল্যান্ডের গাড়ি চালক কোহিনূরকে মারপিট করে আহত করছেন। অনেকে এ সব নিয়ে মামলা ও করতে পারেননি। সন্ত্রাসী মাছুম বিল্লাহ বিএনপি নেতা ও জনপ্রিয় চেয়ারম্যান সরদার হাবিবুর রহমানকে এবং সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী জামায়াত নেতা গাজী আবু বকারকে নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যার ঘটনার মামলার আসামি। এদের বিরুদ্ধে রামপাল থানার মামলা নং- ০৩, তারিখ ০১-০৪-২০২৩, রামপাল থানার মামলা নং ২০, তারিখ -২৫-০৫-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -১৭, তারিখ -২০-১১-২০২২, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৬, তারিখ – ০৩-০৬-২০০৩, রামপাল থানার মামলা নং ০৬, তারিখ – ০৬-০২-২০০৪, রামপাল থানার মামলা নং -০৫, তারিখ -০৯-০৯-১৯৯৭, জিআর মামলা নং – ১৮০/০৩, সিআর মামলা নং -৯২/২০০৪, তারিখ – ০৫-০৩-২০০৪, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং ৩১৪, তারিখ – ০৭-০৭-০৬, খালিশপুর থানার ডাইরি নং -৩৩৫, তারিখ – ০৮-০৬-২০০৭, খালিশপুর থানার মামলা নং ২৪, তারিখ -১১-০১-২০০৮, রামপাল থানার সাধারণ ডাইরি নং – ৯৫৯, তারিখ – ২৪-০৯-২০২১, রামপাল থানার জিডি নং- ১৩২৪, তারিখ – ২৬-০৮-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং -৩১৯, তারিখ -০৮-০১-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং – ৪৪৪, তারিখ – ১১-০৪-২০২২, রামপাল থানার জিডি নং ৬৯০, তারিখ – ১৪-০৮-২০২২। এসব মামলা বা অভিযোগের বাইরে তাদের বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা দাবী করেন। এত সব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাছুম বিল্লাহ, মারুফ, মাসুমের কাছে জানতে চাইলে তারা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গ্রাম্য দলাদলির কারণে অসত্য, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছে। মামলা ও জিডির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, আমাদের মারপিট করে উল্টো আমাদের নামে মামলা করেছে ও জিডি করেছে। অনেক মামলা থেকে আমরা খালাস পেয়েছি। ভুক্তভোগীরা রামপাল থানা ও বাগেরহাট জেলা পুলিশ সুপারের আশু সমাধান কামনা করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে চাই। সন্ত্রাসীদের থামানো না গেলে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন।