রামপালে জাতীয় পর্যায়ে ইসলামাবাদ মাদরাসা শ্রেষ্ঠ হওয়ায় সিটি মেয়রকে সংবর্ধনা

এ এইচ নান্টু, বিশেষ প্রতিনিধি ||

জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ ২০২৩ এ বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ইসলামাবাদ ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা দেশ সেরা হওয়ায় এবং মাদরাসা সভাপতি তালুকদার আ. খালেক ৩য় বারের মত খুলনা সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ও সূধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১ টায় ইসলামাবাদ ছিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসা মাঠে এ সংবর্ধনা ও সুধী এ সমাবেশে অনুষ্ঠিত হয়। মাদরাসার সহসভাপতি মো. নুরুজ্জামান মন্জুর সভাপতিত্বে ও সহকারী অধ্যাপক মো. বজলুর রহমানের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, ওই মাদরাসার সভাপতি ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আ. খালেক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় পরিচালক শেখ হারুন অর-রশিদ, রামপাল উপজেলা চেয়ারম্যান সেখ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান নুরুল হক লিপন, ওসি এস, এম আশরাফুল আলম, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোল্লা আ. রউফ, স্বাগত বক্তব্য দেন মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. মকবুল হোসেন খান, আওয়ামীলীগের উপজেলা সভাপতি শেখ আ. ওহাব, অধ্যাপক মোতাহার রহমান, বাশতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি হাওলাদার আবু তালেব, সাধারণ সম্পদক কুদরতি এনামুল বাসার বাচ্চু, জেলা পরিষদ সদস্য ও রামপাল উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পদক মনির আহমেদ প্রিন্স, এস, এম নুরুল হক কচি, এস, এম নাজমুল হুদা রুহিত, শেখ সাইফুজ্জামান প্রমুখ।

সংবর্ধনা সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, মাদরাসা শিক্ষক, সুধী,  এলাকাবাসী ও অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

ডুমুরিয়ায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিতের স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র বার্ষিক সমন্বয় সভা

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

ডুমুরিয়ায় বেসরকারী স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দলিতের উদ্যোগে ২০ জুলাই  বৃহস্পতিবার সকালে অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে দলিত স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটি’র বার্ষিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। দলিতের প্রোগ্রাম অর্গানাইজার মিসেস ধরা দেবী দাস- এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন কৃষি অফিসার ইনসাদ ইবনে আমিন, সমাজসেবা অফিসার সুব্রত দাস, যুব উন্নয়ন অফিসার এসএম কামরুজ্জামান, ইনস্ট্রাকটর মোঃ মনির হোসেন, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা  রীনা মজুমদার।

প্রোগ্রাম অর্গানাইজার চিন্তা দাসের সঞ্চালনায় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন দলিতের স্পন্সরশীপ অফিসার বিপ্লব মন্ডল, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার বিপ্লব দাস নিরব, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান বিপ্লব। স্কুল ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন কার্ত্তিক চন্দ্র দাস, সুনীল মন্ডল, উত্তম দাস নগেন্দ্রনাথ দাস প্রমুখ। অতিথিবৃন্দ দলিত স্কুল সমূহ সঠিকভাবে পরিচালনা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ সহ বিভিন্ন দপ্তরের সুযোগ সুবিধা ও সেবাসমূহ তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে দলিতের ১২টি স্কুলের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতিকে একটি করে ব্যাগ প্রদান করা হয়।

ডুমুরিয়ায় এনজিসি এন্ড এনসিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎযাপন সফল করার লক্ষ‍্যে শুভেচ্ছা র‍্যালী

//জাহিদূর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি //

ডুমুরিয়া এনজিসি এন্ড এনসিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উৎযাপন উৎসব সফল করা লক্ষে ১২ জুলাই  বুধবার সকালে উৎযাপন কমিটির আয়োজনে এক বর্ণাঢ্য র‌্যালী অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালীটি স্কুল প্রাঙ্গন থেকে শুরু হয়ে বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে শেষ হয়।

আগামী ২৬, ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ইং ২০২৩ এর জমকালো অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষর্থীদের সম্পৃক্ত করতে আয়োজিত এ র‌্যালীতে শিক্ষার্থীরা ভেপু ও বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি করে। এসময় অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীরা র‌্যালীতে বিভিন্ন ধরনের প্লেকার্ড প্রদর্শিত করে। র‌্যালী শেষে ডুমুরিয়া এন জিসি এন্ড এনসিকে মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেন, শতবর্ষ উৎযাপন কমিটির সদস্য সচিব প্রধান শিক্ষক মোঃ আইয়ুব হুসাইন, যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ, যুগ্ম আহবায়ক ড. গাজী মাহাবুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক মোস্তফা সরোয়ার, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ মকবুল হোসেন জোয়াদ্দার, হাজিডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ সিরাজুল ইসলাম, প্রভাষক ড. কামরুল ইসলাম, উপদেষ্টা শেখ আমজাদ হোসেন,  প্রচার উপ-কমিটির আহবায়ক এস এম জাহাঙ্গীর আলম, নিবন্ধন উপ-কমিটির আহবায়ক আব্দুর রব জোয়াদ্দার, সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির আহবায়ক হারুর অর রশীদ,  ক্রীড়া উপ-কমিটির আহবায়ক জামিল আক্তার লেলিন, প্রভাষক খান নুরুল ইসলাম, গাজী রকিবুল ইসলাম, জাকির হোসেন মোল্লা, বদরুদ্দোজা বাবলু, ওমর খৈয়াম, খন্দকার আলমগীর হোসেন, অভিজিত কুন্ডু টুটুল, বেনজির আহমেদ জুয়েল, মোঃ জাকির হোসেন, এসডি রাসেল, মনিরুল গোলদার, নজরুল সরদার, মহিদুল ইসলাম, সোহাগ খান, মনির খান প্রমুখ।

মাগুরায়”দ্য জিনিয়াস ক্লাব”এর গুনীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা

//সুজন মাহমুদ, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি//

আজ ১ জুলাই শনিবার সকাল ১০ ঘটিকায় মাগুরা মহম্মদপুর উপজেলাধীন বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দ্য জিনিয়াস ক্লাব কৃতক গুনীজন ও কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে।উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ গ্রুপের পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোঃ আলী আফজাল।বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,ড.আশরাফুল আলম,মোঃ বেলাল হোসাইন,মোঃ শফিকুল ইসলাম,মোঃ মফিজুর রহমান,জনাব শফিকুল ইসলাম।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বালিদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহফুজার রহমান। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়িত করেছেন সরকারি বীর মুক্তিযোদ্ধা আহাদুজ্জামান কলেজের প্রভাষক মোঃ ইলিয়াস হোসেন।অনুষ্ঠানটি সম্পাদনা করেন দ্য জিনিয়াস ক্লাব এর সভাপতি মোঃ মিশর মিয়া ও সাধারণ সম্পাদক শামীমা ইয়াসমিন শান্তা।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন কৃতি শিক্ষার্থী মোঃ তাওফিক কালাম অভি,দূর্জয় সাহা।এসময় আমন্ত্রিত অতিথি বৃন্দ,বিশেষ অতিথি বৃন্দ ও সম্মানিত প্রধান অতিথি কৃষিবিদ ড. আলী আফজাল মূল্যবান বক্তব্য প্রদান করেন এবং কৃষিবিদ গ্রুপের পক্ষ থেকে দ্য জিনিয়াস ক্লাব এর মাধ্যমে সবসময় এলাকার মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করবেন ও সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।এসময় তিনি তরুণ প্রজন্মের সকলকে মোবাইল ফোনে আসক্ত না হয়ে সঠিকভাবে শিক্ষা গ্রহণ করে দেশের সম্পদ হিসেবে নিজেদেরকে গড়ে তুলতে অনুরোধ করেন।এসময় কৃষিবিদ গ্রুপের ডাইরেক্টর মোঃ গাজী শাহিদ সংক্ষিপ্ত ভাবে কৃতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শিক্ষামূলক বক্তব্য প্রদান করেন।

আজকের অনুষ্ঠানে স্থানীয় কয়েকজন গুনী কৃষকের মাঝে দ্য এশিয়ান এন্ড প্যাসিফিক সীড এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে বীজ ও জৈবসার প্রদান করা হয়েছে।

খুলনার ডুমুরিয়ার অদম‍্য মেধাবী হতদরিদ্র আম্বিয়ার  শিক্ষার সহায়তায় পাশে দাড়ালেন উপজেলা প্রশাসন ও শেয়ার বাংলাদেশ

//জাহিদুর রহমান বিপ্লব, বিশেষ প্রতিনিধি//

অভাবী পিতার  সংসার নুন আনতে পান্তা পোহায়।  তাই সকল অভিমানের সঙ্গে লড়াই করে অদ‍ম‍্য ইচ্ছা শক্তি ও  নিজের একক প্রচেষ্টায় ভালো ফলাফল করা যায় তারাই  অনন‍্য দৃষ্টান্ত ডুমুরিয়া উপজেলা কাঞ্চননগর গ্রামের মেধাবী আম্বিয়া খাতুন।

সৈয়দ ঈসা ট‍েক‍্যনিকাল কলেজ এন্ড বিজনেস কলেজে থেকে মানবিক বিভাগ থেকে এবছর জিপিএ -৫ পেয়ে সাফল‍্যের সাথে উর্ত্তীন হয়েছে। জীবন সংগ্রামী আম্বিয়ার সকল কষ্টের মাঝে একটি স্বপ্ন ছিল মানব সেবা সরকারী নার্সিং এ পড়ার। কিন্ত  প্রবল ইচ্ছা শক্তি যেন  চান্স না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা গ্রস্থ। অর্থের অভাবে ভার্সিটি কোচিং এবং ফরম পুরুন করে পারেনি। একদিকে ঘরে একমাত্র আয়ক্ষম ব‍্যক্তি পিতা অসুস্ত হয়ে ঘরে বসে আছে ।

ইউনিয়ন পরিষদের মাধ‍্যমে জানতে পেরে পিতার জন‍্য সমাজসেবা দপ্তরের প্রতিবন্ধী সনাক্ত কার্যক্রমের প্রতিবন্ধী জন‍্য আবেদন করা হয়। যাছাই বাছাই প্রক্রিয়ার সময় আম্বিয়ার অসায়ত্বের কথা  সমাজসেবা কর্মকর্তা সূব্রত বিশ্বাসের  নিকট তুলে ধরেন। তিনি আম্বিয়াকে ইতি বাচক প্রতিশ্রুতি প্রদান করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আসিফ রহমানকে অবগত করেন। পরবর্তীতে  শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি এনজিও প্রশাসনের আহবানে সাড়াদিয়ে মেধাবী আম্বিয়ার   শিক্ষা সহায়তা হিসাবে ভর্তির জন‍্য মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কক্ষে নির্বাহী কর্মকতা শরীফ আসিফ রহমানের উপস্থিতে ৫  হাজার টাকা প্রদান করেন।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা কর্মকর্তা সুব্রত বিশ্বাস, শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি এরিয়া কোঅডিনেটর সরকার রজারুনা, জুনিয়ার কোঅডিনেটর শামীমা সুলতানা আম্বিয়া খাতুন ও তার মা শিরিনা বেগম।

জীবন সংগ্রামী আম্বিয়া সাথে কথা বলে জানা গেছে,   অশিক্ষিত পিতার স্বপ ছিল মেয়েকে লেখাপড়া শিখিয়ে বড় করার  । দিন মজুর পিতা অন‍্যের বাড়িতে বিশুদ্ধ পানি সরবারাহের যত সামান‍্য আয় ও পাশাপাশি  ভ‍্যান গাড়ী চালিয়ে তাদের সংসার চলতো। সে লক্ষ‍্য নিয়ে যাত্রা শুরু বেতাগ্রাম সরকারী প্রাইমারী থেকে প্রাথমিকে ৩.৯২গেড, এরপর বেতাগ্রাম  মাধ‍্যমিক বিদ‍্যালয় হতে ৮ম শ্রেনীতে ৪.৫০ একই বিদ‍্যালয় হতে এসএসসিতে  ৪.৮৩ গ্রেড পেয়ে আঠারো মাইল সৈয়দ ঈসা টেক‍‍নিক‍্যাল বিজনেস কলেজে ভর্তি হই। পিতার অর্জিত আয়ে ৪জনের সংসারে চলছিল এমন সময় পিতা আ: রব শেখ এক দুঘটায় পড়ে পা ভেঙ্গে অসুস্থ হয়ে পড়ে ।

সকলে সহযোগিতা ও এক খন্ড জমি বিক্রি করে চিকিৎসা করা হয়। কিন্ত পা আগের মতো হলো না। ঘরে বসেই কাটতে লাগলো। পিতা মাতার ও ছোট ভাই  কষ্টের সংসার চলে না তাই কলেজের একাদশে ভর্তি হয়ে আয়ের সন্ধ‍ানে ঢাকা একটি গার্মেন্টস ফ‍্যাক্টরী কাজ করতে  গিয়ে ছিলাম তিন মাস করার পর কলেজ কর্তৃপক্ষ কলেজে না যাওয়া আমার সাথে কথা বলেন। এর পর ফিরে এসে নিজে কঠোর পরিশ্রম করে লেখাপড়ায়  মনোযোগী হয়ে  পরীক্ষা জিপিও -৫ পেয়ে উর্ত্তীণ হলাম।  ভাল কলেজে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন ছিল কিন্ত সাধ আছে সাধ‍্য নেই  তাই ঐই  ভাবনার দিকে না তাকিয়ে  সরকারী নার্সিং  এ পড়ার বাসনা নিয়ে ফরম পুরন করি। চান্স হয়নি তাই আপেক্ষটা কষ্টের।

অনার্সে ভর্তি হতে না পেরে বাড়িতে বসে আছি। পিতাকে প্রতিবন্ধী জন‍্য আবেদন করি উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরে। সনাক্তের সময় কর্মকতার কাছে আমাদের অসহাত্বের কথা জানাই এরপর  ইউএন ও সারের মাধ‍্যমে শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি প্রকল্পের আপারা আমাকে ডেকে এনে  ভর্তি ফি বাবদ ৫ হাজার টাকা দিয়েছেন এবং উচ্চ শিক্ষার জন্যে আরো খরচের জন‍্য প্রতিমাসে পাচ শত টাকার আশ্বাস প্রদান করেন।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা  সুব্রত বিশ্বাস বলেন এ ঘটনা জানার পর নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ আসিফ রহমান স‍্যারের  পরামর্শে   শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি নামের একটি এনজিওকে বললে তারা এগিয়ে আসে। এ ছাড়া উপজেলা সমাজ সেবা দপ্তরের মাধ‍্যমে শিক্ষা ভাতা ও তার পিতার চিকিৎসা জন‍্য অনুদানের জন‍্য ব‍্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে ।

এ বিষয়ে শেয়ার বাংলাদেশ জিইপি প্রকল্পের এরিয়া কো-অর্ডিনেটর সরকার রজা রুনা জানান, জিইপির উদ‍েশ‍্য  সুবিধা বঞ্চিত হত দরিদ্র পিছিয়ে পড়া শিশুদের (মেয়ে) উচ্চ শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তিতে রুপান্তিত করা এবং তাদের জীবন মান উন্নত করা।

ডুমুরিয়ায় দলিতের উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ণরত ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক উপবৃত্তি প্রদান

বিশেষ প্রতিনিধি খুলনা //

খুলনার ডুমুরিয়ায় বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবি সংস্হা দলিত-এর উদ্যোগে উচ্চশিক্ষায় অধ্যয়ণরত ছাত্র-ছাত্রীদের মাসিক উপবৃত্তি প্রদান ও দিক নির্দেশনামূলক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৪ জুন বুধবার দুপুরে চুকনগরস্হ দলিত হাসপাতাল মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন দলিত এর নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোঃ শরীফুর রহমান।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন দলিত এর প্রধান অর্থ কর্মকর্তা শিবপ্রসাদ দাস, নিতাই চন্দ্র দাশ (প্রোগ্রাম হেড, হেলথ এন্ড লাইভলিহুড), প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিসেস ধরা দেবী দাস, অডিট ম্যানেজার ও মনিটরিং অফিসার উত্তম কুমার দাস, স্পন্সরশীপ অফিসার অঞ্জনা দাস, প্রোগ্রাম অর্গানাইজার নেপাল চন্দ্র দাশ, বিপ্লব দাস, চিন্তা দাশ প্রমুখ। অতিথিবৃন্দ ছাত্রছাত্রীদের উদ্দেশ্যে উৎসাহ ও দিকনির্দেশনামুলক বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া আইন সংক্রান্ত বিভিন্ন পরামর্শ ও সেবা সম্পর্কে অবহিত করেন।

স্পন্সরশীপ অফিসার বিপ্লব মন্ডলের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে দলিত এর বিভিন্ন কর্মএলাকার ১৮০ জন ছাত্র-ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।

খুলনার রূপসায় ৫জন শিক্ষার্থী গরম সইতে না পেরে পরীক্ষার মধ্যে অচেতন; হাসপাতালে ভর্তি

//এম মুরশীদ আলী//

খুলনার রূপসায় বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে অতিরিক্ত গরম ও বিদ্যুৎ না থাকার কারণে ৫জন পরীক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের রূপসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জানা যায়, রূপসা উপজেলা সদরস্থ কাজদিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে আজ ১৩ জুন পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে বিদ্যুৎ না থাকায় অতিরিক্ত গরম সইতে না পেরে ৫জন পরীক্ষার্থী জ্ঞান হারায়। ছাত্রীরা হলো— ১০ম শ্রেণীর মুনিয়া ইংরেজী ২য় পত্র বিষয়ে পরীক্ষা দিচ্ছিল। তাছাড়া— ৬ষ্ঠ শ্রেণীর মূল্যায়ন পরীক্ষায় অংশগ্রহনকারী ছাত্রীদের মধ্যে তনুসকা শীল, বৈশাখী, রেক্সনা, সানজিদা প্রমূখ।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা চাঁদ সুলতানা বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় ও তীব্র গরমে পরীক্ষার হলে হঠাৎ এক এক করে পরীক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে ঘুরে পড়েতে শুরু করে। এমতাবস্থায় তাৎক্ষনিক অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তখন জরুরী বিভাগে কর্মরত চিকিৎসক অক্সিজেন এবং স্যালাইন পুশের মাধ্যমে পরীক্ষার্থীদের ভর্তি করে নেয়। পরে অসুস্থ শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিষয়টি জানানো হয়।

আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা: পিকিং সিকদার বলেন, অতিরিক্ত গরমের পাশাপাশি পরীক্ষার চাপ থাকায় মানসিক ও শারীরিক ভাবে তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।

রূপসা পল্লী বিদ্যুৎ ব্রাঞ্চের প্রধান মো. এ হালিম খান বলেন, ঘটনার সময়ে ওই এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ চলমান ছিল। ঘটনার পর জানতে পারলাম ওই এলাকার সংযোগ ফিউজটি কেটে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

খুলনার ডুমুরিয়ায় হিট স্ট্রোকে স্কুল ছাত্রের মৃত‍্যু – এলাকায় শোকের ছায়া

//বিশেষ প্রতিনিধি ডুমুরিয়া//
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার রংপুর কালীবাটী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া স্কুল ছাত্র সুরজিত বসাক পরীক্ষা দিতে এসে শ্রেণী কক্ষে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আকষ্মিক মৃত্যু হয়েছে ।
ঘটনা ঘটেছে ১৩ জুন  মঙ্গলবার সকাল ১০ টায়।
নিহত ছাত্রের পরিবার ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার রংপুর কালিবাটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্র ও রংপুর বকুল তলা গ্রামের অনুপতি বসাকের ছেলে সুরজিত বসাক মঙ্গলবার সকালে মুল্যায়ন পরীক্ষা দেয়ার জন্যে স্কুলে আসে।
সকাল ১০ টায় পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগে সুরজিত হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় তার সহপাঠি বন্ধুরা এবং স্কুলের শিক্ষকরা দ্রুত তার চিকিৎসার জন্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে তার মৃত্যু ঘটে।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহিতোষ কুমার জানান,সুরজিতের পূর্ব থেকে এ্যাজমা বা শ্বাসকষ্ট রোগ ছিলো। প্রচন্ড গরমে স্কুলে এসে সে অজ্ঞান হয়ে পড়লে আমরা তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথিমধ্যে সে মারা গেছে। ডাক্তাররা জানিয়েছেন স্ট্রোকে তার মৃত্যু হয়েছে।
তার এ অকাল মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক,  শিক্ষার্থী ও এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এদিকে সুরজিতের মৃত‍্যুর খবর শুনে শোকাহত পরিবারের কাছে ছুটে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম‍্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ,  রংপুর ইউপি চেয়ারম‍্যান অধ‍্যক্ষ সমারেশ মন্ডলসহ রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ। উপজেলা  পরিষদের চেয়ারম্যান তাৎক্ষণিক ভাবে উপজেলা মাধ‍্যমিক শিক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন।

বাগেরহাটের কচুয়ায় কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

।শুভংকর দাস বাচ্চু, কচুয়া, বাগেরহাট।।

কচুয়া স্কুলগামী কিশোরীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষন আন্ধারমানিক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ও মসনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিআরডিবির ইরেসপো প্রকল্পের আওতায় অনুষ্ঠানে কিশোরীদের বাল্যবিবাহের কুফল, বয়সন্ধিকালীন বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে বিশদ ধারনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কচুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ জিনিয়া ফেরদৌস।

এছাড়া প্রশিক্ষনে আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার শেখ বজলুর রহমান, প্রধান শিক্ষক পিটুন মিত্র, আশিষ কুমার দাস, সহকারী পল্লী উন্নয়ন অফিসার প্রবীর কুমার মন্ডল ও স্কুলের অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ।

প্রশিক্ষন শেষে দুই শত জন কিশোরীদের মাঝে বিনামূল্যে স্যানিটারী ন্যাপকিন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরন করা হয়।

রূপসায় মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করছে একটি কু—চক্রী মহল

রূপসা প্রতিনিধি :

শিক্ষার্থীর কাছে বিদ্যুৎ বিল চাওয়াকে কেন্দ্র করে অভিভাবক এবং শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষুব্দ—প্রতিক্রীয়া দেখা দিয়েছে। পরবর্তীতে অভিভাবক জোরপূর্বক টিসি নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে কু—চক্রীমহলদ্বারা অপপ্রচার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মান ক্ষুন্ন করার ঘটনা ঘটেয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি রূপসা উপজেলার ঘাটভোগ ইউনিয়ন আলাইপুর গ্রামে। ১৯৬৫ সনে প্রতিষ্ঠিত হয় আলাইপুর ইউনাইটেড মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি। এরপর থেকে সু—দক্ষ শিক্ষক ও পরিচালনা পরষদ দ্বারা স্কুলটি পরিচালিত হয়ে আসে। এভাবে বিদ্যালয় চলতে চলতে এক পর্যায়ে পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের সৃষ্টি হয়। এ বিষয় নিয়ে গ্রামে গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা ক্ষুব্দ—বিবেদে জড়িয়ে পড়ে। সম্প্রতি রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে আবারও দুটি পক্ষ।

সরেজমিনে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অবসরে গেলে, পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে বিউটি পারভীন (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব—ভার গ্রহন করাকে মেনে নিতে পারছে না বিদ্যালয়ের একটি পক্ষ। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে শুরু হয়েছে শিক্ষকদের মধ্যে তুমুল কাদা ছুড়াছুঁড়ি। তাই কিছু শিক্ষক মিলে প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ঘোলাটে করছে। বিভক্ত হওয়া শিক্ষকরা বিভিন্ন গ্রুপে যোগ দিয়ে জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে না আসলেও তারা বিদ্যালয়ের তথ্য গোপনে গোপনে বহিরাগতদের মাঝে পাচার করে এলাকার পরিবেশ বিষিয়ে তুলছে। ইতিপূর্বে গ্রামের কিছু অভিভাবক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শিক্ষকদের লাঞ্চিত করেছে। এ কারণে আতংকে থাকতে হয় তাদের। কিছু বখাটেরা ছাত্র/ছাত্রীদের উত্যাক্ত করার কারণে পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের এ স্কুলে ভর্তি করতে চায় না। এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘ ৫/৬ বছর যাবৎ প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নেই। বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র শিক্ষক দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটি। একটি ভবন তাও জরাঝিন্ন অবস্থায়। স্কুল ফান্ডে জমা নেই তেমন কোন অর্থ। বিদ্যালয়ের উন্নয়ন নেই বললে চলে। এদিকে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সবকিছু জেনেও না জানার ভান করে আছে।

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) বিউটি পারভীন জানান, এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমানে সুবিধা রয়েছে অতুলনীয়। এখানে ভর্তি ফি নেই, সেশন ফি নেই, মাসিক বেতনও নেই। তাছাড়া প্রতিটি শিক্ষার্থী উপবৃত্তি এবং পাঠ্যবইয়ের সুবিধা বছরের শুরু থেকে পাচ্ছে। বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী ২০০জন। তাদের জন্য ক্লাস রুমে ২০টি সিলিং ফ্যান এবং ৫টি বাথরুমে পর্যাপ্ত পানি খরচ হয়ে থাকে। যে কারণে প্রতিমাসে ১হাজার/১২শ টাকা বিদ্যুৎ বিল দিতে হয়। যার জন্য ২০১৭ সালে রেজুলেশন করে বদ্যুৎ বিল বাবদ ১০ টাকা হারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হতো।

২০২৩ সালে বিদ্যুৎ দর বৃদ্ধি হওয়াতে বছরের প্রথম থেকে আরো ৫ টাকা বাড়িয়ে মোট ১৫ টাকা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপার নিয়ে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে পরাজিত হওয়া অভিভাবক মো. রবিউল সিকদার ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এসে শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাঁর মেয়ে ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী উর্মিলা আক্তার কারিমা কে এ প্রতিষ্ঠানে পড়াবে না বলে তাৎক্ষনিক টিসি দিতে বলেন। ৫ টাকার জন্য (ভার:) প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত হতে হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আইরিন পারভীন বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা করতে হলে অর্থের প্রয়োজন হয়। এ জন্য প্রতিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিকট হতে বেতন সহ কিছু অর্থ নেওয়ার নিয়ম আছে।